Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মুনলাইট সোনাটা – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প81 Mins Read0
    ⤶

    মুনলাইট সোনাটা – ৭

    ৭

    মনে আছে এরপর সুনন্দা মরমে মরে থাকল। সে আর কোথাও যেত না। জেলা উৎসব থেকে বাদ যাওয়া তাকে দমিয়ে দিয়েছিল। সে আর আমাদের অফিসার্স ক্লাবে কখনও গান গাইতে যায়নি। জেলা মেলায় বাদ, জেলা শাসকের বউ তার মধু মাখা গান পছন্দ করেন না, তা জেনে তার গানের অনুরাগীর সংখ্যাও কমতে লাগল একটু একটু করে। যতদিন ছিলাম এরপর আমার হাত থেকেও চলে যেতে লাগল ক্ষমতার দায়িত্বগুলি।

    মজুমদারকে আমি বললাম, সে তো নিজের জন্য গাইত।

    ওঁকে গাইতে হবে এবার, কী চমৎকার গলা ওঁর, মল্লিক সায়েব খুব পছন্দ করতেন ওঁর গান। অম্লান মুখে বলল মজুমদার। সে পুরোনো কথা সব ভুলে গেছে। বলছে, সায়েবরা হলেন গার্জেন, তাঁদের কথা মতো চললে কোনো অসুবিধা হয় না।

    আমি বললাম, অচিনপুর থেকে আসার পর সুনন্দা আর কখনও কোথাও গান শোনায় না।

    তা বললে হবে দাদা? সব কথা মনে রাখতে নেই। বউদি তো আসলে ভালো গাইতেন। মল্লিক সায়েব বলেছেন ওঁর কথা। তিনি বউদিকে মনে রেখেছেন এখনো, অচিনপুর বলতেই বড়ো ম্যাডামের গান, তারপর বউদির গান, আপনার বক্তৃতা, অনিকেত সান্যালের আবৃত্তি, প্রবীর রায়ের অভিনয়, সব মনে রেখেছেন। আমরা ওকে সংবর্ধনা দেব শুনে কী খুশি। বলেছেন সবাইকে হাজির করতে, প্রবীর রায় বেঁচে নেই শুনে কী দুঃখ করতে লাগলেন, গ্রেট ম্যান উনি, না হলে আমাদের কথা এমনভাবে মনে রাখতে পারেন।

    সুনন্দা নেমে এল চা নিয়ে। বসল হাসি মুখে, তারপর প্রস্তাব শুনে বলল, স্যরি, মজুমদারদা, আমি গান ছেড়ে দিয়েছি, এখন যা হবে সব বেসুরো।

    তাই-ই হবে ম্যাম, আপনি বেসুরো গাইতে পারেন না। সম্বোধন বারবার বদলে দিচ্ছে মজুমদার। আমার মনে পড়ছে সুনন্দাকে জেলা উৎসব থেকে বাদ দিয়ে মজুমদারের সেই ভঙ্গী। সব ভুলে গেছে মজুমদার। সায়েব আমার চাকরির ক্ষতি করে দিলেন তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাও! সে আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছিল। ডি.এম. যেমন বলেছিল ঠিক তেমন লিখেছিল। কী করে এল মজুমদার এই কথা নিয়ে? কী রকম নিষ্পাপ মুখ ওর! যেন অতীতে কিছুই হয়নি।

    আমি তো জানি কী হবে, আপনারা আর কাউকে ঠিক করুন। সুনন্দা তীক্ষ্ণ গলায় বলল।

    ঠিক তো হয়েই গেছে, লোকনাথ মল্লিক সায়েবই বলে দিয়েছেন, উনি এম. পি. ওঁর ইচ্ছাই তো শেষ কথা।

    সুনন্দা বলল, না কত বড়ো বড়ো গায়ক আছেন, উনি বললেই তাঁরা চলে আসবেন।

    সে তো জানি ম্যাম, কতজন ওঁর কাছে ঘুরঘুর করে, এই যে বিদেশে বঙ্গ-উৎসব হয়, উনি প্রায় সবকটির অ্যাডভাইসার, শুধু কি সিঙ্গার, রাইটার, অ্যাক্টর, সবাই ওঁর কাছে অবলাইজড, সকলে ওঁর পিছু পিছু ঘোরে। আর উনি যে কতজনকে বিদেশ ঘুরিয়ে এনেছেন।

    আমার সে লোভ নেই মিঃ মজুমদার। সুনন্দার সম্বোধন বদলে গেল।

    মজুমদারের উপর সন্তুষ্ট ছিল না সুনন্দা। অচিনপুরে কথা এখনো মনে পুষে রেখেছে। জেলা উৎসব থেকে বাদ দিয়ে এই লোকটা কী অনায়াসে বলে দিয়েছিল, হার হাইনেস শান্তিনিকেতনে পড়াশুনা করা, গানও ওখানে শেখা, তাঁর ডিসিশনই ফাইনাল, লিস্ট তিনি করেছেন,তার মতো কে পারবে? কেউ না। ডি.এম-এর বউকে যে হার হাইনেস বলতে হয় তা মজুমদারই জানিয়েছিল প্রথম। মিসেস মল্লিকের গাওয়া গানে রবীন্দ্রনাথের বাণীর ভুল পরিবেশন হচ্ছে, সুনন্দার তা বলা ঠিক হয়নি মজুমদারের কাছে। মজুমদার তা বলে দিয়েছিল বড়ো ম্যামের কাছে। বলে আরো বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছিল জেলা শাসকের স্ত্রী কাছে। জেলা শাসকের কাছেও। তার ক্ষমতাও বাড়ল তখন। হাঁটা চলা বদলে গেল, হাতে মাথা কাটতে পারত সে তখন। নানাজনকে নানা উপদেশ দিত, চাকরি কী ভাবে করতে হয় তা মজুমদার দেখিয়ে দিয়েছিল। আমি ওকে এড়িয়ে চলতাম।

    কিন্তু এই মজুমদারই তো অনেকদিন পরে আমার জমি পাওয়ায় সুবিধে করে দিয়েছিল। বলেছিল, দেখ বাসু, বেঁচে থাকা একটা লড়াই, কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেয় না, আমি যা করেছি, প্রয়োজনে করেছি, এখনো তাই-ই করছি, হ্যাঁ, তোমার জমি আমি বের করে দেব, বিনিময়ে কিছুই নেব না। সব হল বউদির জন্য, উনি অচিনপুর থেকে মন খারাপ করে ফিরেছিলেন। মজুমদার দুঃখ প্রকাশ করেছিল, যা হয়েছিল সব ভুলে যাও।

    একটা জীবন। ব্যাপ্তি এর বছর পঁয়তিরিশ, চাকরি জীবন তো ওইটুকুই। জীবন ভোগের সময়ও ওইটুকু। এই সময়েই যত ক্ষমতা, আর সেই ক্ষমতার নানারকম রূপ আস্বাদ। প্রয়োজনে ব্যবহার। জেলায় জেলায় ভ্রমণ। সম্পদ অর্জন, ভাগ্যের হাতে মার খাওয়া — সব।

    মজুমদার বলল, ওটা আমার অভ্যাস ছিল ম্যাম, আমি আমার বসকে সন্তুষ্ট করতে সব কিছু করতে পারি, করা উচিৎ। করলে সার্ভিস লাইফ ভালো হয়, আপনি চলুন। স্যার সকলকে সস্ত্রীক যেতে বলেছেন, খুব খুশি হবেন স্যার।

    উনি কি এখনও আপনার বস?

    বলতেই পারেন ম্যাম, বস তো বসই, এখন তিনি এম. পি. মোর পাওয়ারফুল।

    ওঁর চাকরির ক্ষতিও করে দিয়েছিলেন, সব কথা কি ভোলা যায়!

    সে বাদ দিন, দায়ী সেই রিপোর্টার।

    স্যরি আমি যেতে পারছি না, আমার গান আমার ছেলের জন্য, বউমার জন্য, গান গেয়ে গেয়ে ছেলেকে ঘুম পাড়াতাম। এখন তারা বিদেশে, আমার কিছুই ভালো লাগে না। কবে আমার নাতনিকে ঘুম পাড়ার গান গেয়ে গেয়ে, সেই দিন গুনছি।

    সুনন্দা গেল না। আমাকে যেতে হল মজুমদারের জন্য। গেলাম কৌতূহলে। আমার বস তো উনি এখন নন। দেখা যাক। পুরোনো অপমানটা ফিরিয়ে কি দিতে পারব? ছোটো এক এয়ার কন্ডিশনড হলে অনুষ্ঠান। দেখা হল কত পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে। তাদের অনেকে রিটায়ার করে গেছে আমার মতো। কারো কারো চাকরি রয়েছে এখনও বছর দেড় দুই। বস এলেন সস্ত্রীক। বুড়ো হয়েছেন, কিন্তু সব চুল ঘন কালো। যৌবন নেই, কিন্তু তাকে রক্ষা করার কী ব্যর্থ প্রচেষ্টা! মিসেস মল্লিকেরও তাই। বরং আরো বিসদৃশ তিনি। লোকনাথ মল্লিক মঞ্চে বসে একটি তালিকা খুললেন। যেন হাজিরা খাতা ধরে নাম ডাকতে লাগলেন। এই সব হল। সুনন্দা আসেনি শুনে তিনি বললেন, উচিত ছিল আসা, তিনি তো অচিনপুরের গায়িকা, আপনাদের ম্যামের গলা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আর গাইতে পারেন না। সি ইজ সাফারিং ফ্রম আ সিরিয়াস ডিজিজ। তার জায়গাটা কে নেবে, মিসেস বোসই গাইবেন ঠিক ছিল, কি মজুমদার, সবাইকে আনতে পেরেছ, পারনি তো?

    মজুমদার মাথা চুলকোতে লাগল আগের মতো। বলল, ডেপুটিরা সব এসেছে স্যার, অচিনপুরে আপনার সময় নেজারত ডেপুটি কালেক্টার ছিল সান্যাল, ওই যে স্যার।

    সান্যাল উঠে দাঁড়ায় অনুগতের মতো। সায়েব বললেন, ডিফালকেশন কেস থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম, মনে আছে, কয়েক লাখের হিসেব ছিল না।

    সান্যাল মাথা নামিয়ে নেয়। এত বছর বাদে তার বউ-এর সামনে না বললেই হত। কিন্তু অনেকে হে হে করে হাসতে লাগল। মজুমদার বলল, গুণধর মণ্ডলকে সেভ করলেন স্যার, মনে আছে তার কথা?

    এসেছে?

    না স্যার, মণ্ডল এখন সিঙ্গাপুরে।

    কাকে নিয়ে গেল আবার চাকরি দেওয়ার নাম করে? বলতে বলতে হাসতে লাগলেন বড়ো সায়েব, তেত্রিশ বছর আগের জেলা শাসক। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, মিসেস এল না যে, ভেবেছিলাম ওঁকে লানডানের বঙ্গ সম্মেলনে পাঠাব, মজুমদার তো যাবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে।

    কী রকম পাথরের মতো বসে আছেন বড়ো ম্যাডাম। উনিই বড়ো ম্যাডাম —ম্যাম। আর সবাই শুধু ম্যাম, উনি বসেই থাকলেন। একটি কথাও বললেন না। তাঁর রূপ ঝরে গেছে একেবারে। বুড়ি হয়ে গেছেন। স্যার আর ম্যাডামকে অনেক উপহার দেওয়া হল অচিনপুর প্রাক্তনীদের পক্ষ থেকে। ম্যাডাম শেষে দুটি কথা বললেন, ‘আমি সুনন্দা বসুর গান শুনতে এসেছিলাম!’

    কী ফ্যাঁসফেসে কন্ঠস্বর তাঁর। বোঝা গেল অসুখটা কী। তিনি আবার বললেন, অচিনপুর বড়ো সুন্দর ছিল, বড়ো নিষ্ঠুরও ছিল, তাই না?

    সকলে চুপচাপ। কেমন মনখারাপের বাতাস উড়ে এল দূর উত্তর থেকে। সেই জাহ্নবী নদীর কুল থেকে। আমার মনে পড়তে লাগল সব। কী নিষ্ঠুর অহঙ্কারী না ছিলেন ম্যাডাম মল্লিক। তার ফাই ফরমাস খাটত কী ভাবে আমাদের মজুমদার। গানের আসর, সাহিত্যের আসর বসাতে বসাতে হিমসিম। কলকাতা থেকে বড়ো কবি গায়ককে নিয়ে গিয়ে তাদের হাত-পা টেপাই ছিল যেন মজুমদারের কাজ। ম্যাডাম বললেই হল। মনে পড়ল তাঁর সেই কঠিন দৃষ্টি। সুনন্দা না গেলেও ম্যাডামের ডাকা কবিতা পাঠ, গানের আসরে আমাকে যেতে হত। কত দূরে পড়ে আছি। যত সময় স্বস্তিতে থাকা যায়। ডি.এম সায়েবের চেয়ে ম্যাডামের প্রতাপ সব জায়গায় বেশি। শোনা যায় আগের জেলা বীরভূমে একজনের চাকরি খাওয়ার ব্যবস্থা পাকা করে এসেছিলেন তিনি ডি.এম সায়েবকে দিয়ে। সেই তিনি কেমন স্থির হয়ে বসে আছেন। শান্ত দৃষ্টি। আজ ফিরেও তাকাচ্ছেন না মজুমদারের দিকে। ফিরে তাকাচ্ছেন না বত্রিশ বছর পিছনে। মজুমদার তাঁকে প্রায় কুর্নিশ করল। তিনি দেখেও দেখলেন না।

    আমার কানে মজুমদার গুনগুন করল, সুনন্দা ম্যাডামকে লনডন পাঠাতেন ওঁরা, এতবার আসতে বললাম, চান্স চলে গেল, বঙ্গ সম্মেলন বলে কথা।

    আমি বললাম, ওঁর জন্য সুনন্দা গানই বন্ধ করে দিল বলা যায়, এখন আর কেন, অনুগ্রহ নেবে কেন ও, সবাই তো অনুগ্রহ নিয়ে বাঁচে না মজুমদার।

    মজুমদার বলল, এঁদের কিন্তু অনেক ক্ষমতা, এখনও সেই আগের মতোই যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। গুণধর মণ্ডল কত বড়ো অন্যায় করেছিল বলো, চাকরি দেওয়ার নাম করে মেয়েটাকে নিয়ে জাহ্নবীর ডাক বাঙলোয়, তার গায়ে হাতই পড়ল না, অথচ এফ. আই. আর করেছিল মেয়েটার বাবা। বড়ো ম্যাডামই গুণধরকে বাঁচিয়েছিলেন, আর শুভময় সেন ফেঁসে গেল, জেল খাটল শুধু সায়েবের রোষে পড়ে, তোমরা অনেক পেতে পারতে, পাওনি।

    আমি চুপ করে থাকলাম। সবটা আমার জানা। ওই অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলাম আমি। তার কারণ সুনন্দার গান, সুনন্দার রূপ।

    সুনন্দা আসুন, তা বারবার বলে দিয়েছিলেন স্যার, বড়ো ম্যাডাম তাই চান, সব মনে আছে ওঁদের, যার এ.সি.আর খারাপ দিয়ে কেরিয়ার শেষ করে দিয়েছিলেন, সেই মানস কুণ্ডুর খোঁজ করছিলেন, কমপেনসেট করবেন বলে।

    ওসবের কোনো ক্ষতি পূরণ হয়? আমি বিনবিন করে বললাম, ও গান শোনে শুধু একা একা, সেতার সরোদ পিয়ানোর রাগরাগিনী, সোনাটা সিম্ভনি।

    তখন একজন আবৃত্তি করছেন, বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া অনিকেত সান্যাল। গলার সেই মাধুর্য আর নেই। অল্প বয়সে করত। তারপর ওসবের কাছে নেই। কিন্তু ম্যাডামের কথায় তাঁকে করতে হল, তা বললেন বারবার। আবেগে অনিকেত সান্যাল আপ্লুত।

    মঞ্চ থেকে মল্লিক স্যার আমাকে বললেন, মিসেসকে নিয়ে কবে আসবেন?

    কোথায়?

    আমাদের সল্টলেকের ফ্ল্যাটে, আপনাদের ম্যাডাম ওঁর গান শুনবেন, বঙ্গ সম্মেলনে যাওয়ার ইচ্ছে আছে?

    আমি বললাম, বলতে পারছি না, আমরা থার্ড উইকে সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া যেতে পারি, এর ভিতরে সময় হবে না।

    বলতে বলতে আমি দেখি বড়ো ম্যাডামের দুটি চোখ জ্বলে উঠল যেন। তিনি অনুগ্রহ বিলোতে এসে ব্যর্থ হয়ে ভিতরে ভিতরে জ্বলছেন। মজুমদার উঠে দাঁড়িয়ে বলছে, আমিই নিয়ে যাব স্যার, আমার উপর ভার থাকল।

    এরপর যেন সুর কেটে গেল। আমি বেরিয়ে পড়েছি একা। কাউকে কিছু না বলেই চলে এসেছি। পথে একবার মোবাইল বাজল, ধরিনি। বোধহয় মজুমদার। বাড়ি ফিরে দেখি সুনন্দা স্থির হয়ে কম্পিউটারের সামনে বসে। তার দু-চোখে দিয়ে নেমে আসছে জল। ইন্টারনেটে ফেসবুকে পাওয়া লিঙ্ক থেকে গান নিঃসৃত হচ্ছে। বাঁশির সুর। মনিটরে ভেসে উঠছে এক অকুল গাঙের দৃশ্য। ভেসে যাচ্ছে নৌকো। ভোরের গোলাপি আলোয় ভেসে আছে চরাচর। এ কার বাঁশি?

    এর নাম সংস অফ রিভার, নদীর গান, হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া। সুনন্দা আঁচলে চোখ মুছল। বলল, শুনতে শুনতে চোখে জল এসে যায়, এর চেয়ে সুন্দর কিছু হয়। চুপ করে শোনো, আমি প্রথম থেকে আবার বাজিয়ে দিই।

    নেটে পাওয়া?

    হ্যাঁ, এক বন্ধু পাঠিয়েছেন লিঙ্কটা, পৃথিবীটা শুধু মজুমদার, মল্লিক স্যারের শ্রীবাস্তবদের নয়, পৃথিবী আসলে এমন, আগে এসব শুনিনি কেন? বিড়বিড় করে বলল সুনন্দা।

    সন্ধ্যা আর ভোর বুঝি মিলেমিশে একাকার। সেই বাঁশির কী আকুল ডাক। অনন্ত আকাশের নীচে যে নদী, সেই নদীর বাতাসে বাতাসে বাঁশির সুর ছড়িয়ে যেতে লাগল। এক একবার তীব্র হয়ে তা অন্তরাত্মায় প্রবেশ করে ভাসিয়ে দিচ্ছে সব। সুরে ভেসে যেতে লাগল সব, অতীত, বর্তমান। কোথা থেকে নেমেছে নদী, কোন অনন্তের দিকে যাত্রা করেছে নদী, অজানা সমুদ্রে গিয়ে মিলবে … বেদনা উৎসারিত হচ্ছে সুরে সুরে। আবার বহমানতার আনন্দও। বাঁশির ডাকে চঞ্চল হয়ে উঠেছে পাখিরা, নদীর উপর দিয়ে তারা উড়ে যেতে লাগল নদীর গান নিয়ে। তাদের ডানায় লেগে গেল বাঁশির সুর। ডানার কাঁপনে সুর রং হয়ে ঝরে পড়তে লাগল ভোরের নদীতে। বহমান সেই নদী আমাকে স্মরণ করাতে লাগল আমার শৈশব আর যৌবনকালের কথা। আমাদের জীবন যে সব ভালো কিছু দিয়ে সুন্দর হয়েছিল কখনও কখনও তা মনে পড়ে যেতে লাগল। ভুলেই গিয়েছিলাম সব। মনে ছিল শুধু অনেক তিক্ততার কথা। খারাপ মানুষগুলোর কথা। অথচ সুন্দর সব মানুষের মুখোমুখি হয়েছি কতবার। সুনন্দার সঙ্গে আমি ধ্যানস্থ হয়েছি আশ্চর্য সেই বাঁশিতে। অনেক পরে তা থামল।

    সুনন্দা বলল, আমার অচেনা বন্ধু আমাকে প্রতিদিন ভোরে একটি করে গান পাঠিয়ে দেন, হারিয়ে যাওয়া গান, ভুলে যাওয়া গান, সেই পঞ্চাশ বছর আগের গান, তখন তোমার কৈশোর, আমার বালিকা বয়স, শুনবে?

    তুমি তো আমাকে বলনি?

    না বলিনি, নিজের কাছে রেখে দেখ ভেবেছিলাম, রেখে দিয়েও ছিলাম, কিন্তু আজ তুমি বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে মনে হতে লাগল আমি একা নেব কেন এই সুখ, আমার বন্ধুও তো ভোর রাতে উঠে নানাজনকে নানা গান উপহার দিয়ে দিয়ে সকাল শুরু করেন। তিনি বলেন, এই সুর তোমাকে শুদ্ধ করবে, নীরবতা দেবে এইসব সংগীত, সেই গান কি শুধু আমার হবে, গান আমার একার তো হতে পারে না, কিন্তু হলেই বা কী হতো, এতকাল পরে সংগীতের শুদ্ধতা অনুভব করতে পেরেছি, না গেয়েও মনে হয় যেন আমিই গাইছি, এ বাঁশির সুর আমার, নদীর গান আমার, আর তা সবাইকে বিলিয়ে দিলেই বুঝি জীবন সার্থক হতে পারে।

    তোমার বন্ধুটি কে?

    কে আমি তা জানি না, তাঁর নাম অনন্ত আকাশ, এই নামেই তাকে জানি, শুনেছি বাঙ্গালুরু থেকে একশো কিলোমিটার দূরে কর্নাটকের এক গাঁয়ে থাকেন, ফেসবুকে আলাপ।

    চমকে উঠি, কে সে, সুবীর ভদ্র? মেজমাসির বড়ো ছেলে? কিন্তু তিনি অনন্ত আকাশ নাম নিয়ে আসবেন কেন? সুনন্দা বলল, ওই নামেই তাঁর সহস্রাধিক বন্ধু তাঁকে চেনে, আমিও চিনি, ফেসবুকে আর কিছু চেনার দরকার হয় না, আলাপ হয়ে যায়, আমি লিখেছিলাম গান ভালোবাসি, উনি প্রতিদিন একটি করে গান আমাকে উপহার দিয়ে যান সেই কোন ভোরে, কোনো গান জানো, যে গান, ভুলে গেছে মানুষ সেই গান।

    আশ্চর্য, তাহলে কি সুবীরদাই সত্যি!

    সুনন্দা বলল, ইনি বহু দেশ ঘুরে এদেশের গাঁয়ের লোকের চিকিৎসা করছেন, কত বয়স, সাধুর মতো হয়ে গেছেন, আমরা কি করলাম সারা জীবন? বসো, তোমাকে আর এটাই শোনাই, বেটোফেন-এর মুনলাইট সোনাটাং … ফিল করো তুমি, আগে তো এসব শুনিনি।

    জ্যোৎস্না রাতের রূপ ফুটছে ধীরে। আমি যেন নীরবতাকে রূপ দেখতে পাচ্ছি একটু একটু করে। তার ভিতরে আবছা কলকল শোনা যাচ্ছে। অনন্ত আকাশ একা নন, যেন অনেক শিশুর সঙ্গে তিনি বেরিয়ে এসেছেন চাঁদের আলোর ভিতরে। ঘর ভরে উঠেছে তাদের কলধ্বনিতে। আমার কীরকম ছোটো লাগল নিজেকে, সমস্ত দুপুরটা কীভাবে কাটিয়েছি। কীভাবে সকলের সঙ্গে গিয়েছিলাম আনুগত্য প্রকাশ করতে। চুপ করে থাকলাম। মুনলাইট সোনাটা বাজতে লাগল। বেজে যাচ্ছে। আমাদের সেই অচিনপুরে জাহ্নবী নদীর তীরে চাঁদের আলো নিঃশব্দে নেমে এল অনন্ত আকাশ থেকে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএখন মৃত্যুর ঘ্রাণ – অমর মিত্র
    Next Article স্বাধীন বঙ্গভূমি গঠনের পরিকল্পনা : প্রয়াস ও পরিণতি – অমলেন্দু দে

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }