Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মূলধারা ’৭১ – মঈদুল হাসান

    মঈদুল হাসান এক পাতা গল্প317 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অধ্যায় ১৭: অক্টোবর

    অধ্যায় ১৭: অক্টোবর

    রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের যে সব উপদলীয় তৎপরতা সেপ্টেম্বরে প্রমত্ত হয়ে উঠেছিল, অক্টোবরের প্রথম দিকে তা মন্দীভূত হয়ে পড়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। সেপ্টেম্বরের শেষে ভারত-সোভিয়েট যুক্ত ঘোষণা সম্পর্কে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার বৈঠকে যে চুলচেরা আলোচনা হয়, তার ফলে যোগদানকারী কারো জন্যেই এ কথা দুর্বোধ্য ছিল না যে, মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের অনুকূলে মিত্রভাবাপন্ন বৈদেশিক শক্তিসমূহের সমঝোতা সম্পন্ন প্রায়। সম্ভবত তাঁদের মধ্যে এ উপলব্ধিও ঘটে যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনুকূলে সোভিয়েট ভূমিকাকে নিকটবর্তী করার জন্য ‘জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি’ গঠনের বিষয়ে তাজউদ্দিনের নেপথ্য উদ্যোগ অসঙ্গত ছিল না। এই সব আশাবাদ ও উপলব্ধির ফলে মন্ত্রিসভার কাজকর্মে এক নতুন গতি ও মতৈক্য পরিলক্ষিত হয়। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপর করে তোলা, নিয়মিত বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সৃষ্ট ব্যবধান হ্রাস করা, সরকারী প্রশাসনকে সংহত ও সক্রিয় করা, এমনকি যুদ্ধোত্তর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভার এই সব গঠনমুখী সিদ্ধান্ত থেকে প্রতীয়মান হয়, মন্ত্রিসভাকে বিভক্ত করার জন্য যে বৈদেশিক স্বার্থ পূর্ববর্তী কয়েক মাস যাবত সাতিশয় সক্রিয় ছিল, খোন্দকার মোশতাকের আমেরিকা গমনের অক্ষমতা প্রকাশ পাওয়ার পর সেই স্বার্থ অন্তত অন্তর্ঘাতী কার্যকলাপ পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্বাপেক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    নীতিগত কারণে তাজউদ্দিন-অনুসত পন্থার বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের বিরোধিতা খানিকটা হ্রাস পেলেও এই বিরোধিতার ব্যক্তিগত উপাদান সম্ভবত কারো কারো ক্ষেত্রে অটুট থাকে। অন্তত তাদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলগুলির প্রচারণার ধারায় তাজউদ্দিনবিরোধী উক্তির কোন ঘাটতি ছিল না। কিছু তারতম্য দেখা যায় কেবল অভিযোগের বিষয়বস্তুর

    বিভিন্নতায়। অক্টোবরের আগে অবধি তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধবাদীদের মূল প্রচারণা ছিল: তাজউদ্দিনের মুক্তিযুদ্ধের নীতি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত, ভারতের ভূমিকা অস্পষ্ট বা ক্ষতিকর এবং সোভিয়েট ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভারত-সোভিয়েট যুক্ত ঘোষণার প্রতি বাংলাদেশ মন্ত্রিসভার সমর্থনসূচক বিবতির পর এই প্রচারণার কার্যকারিতা যখন হ্রাস পায়, তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে তখন এই অভিযোগই বড় করে তোলা হয় যে, তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও প্রবাসী সরকারের সর্বস্তরে ‘আওয়ামী লীগের দলগত স্বার্থ নিদারুণভাবে অবহেলা করে চলেছেন’ এবং বঙ্গবন্ধুর মতাদর্শের প্রতি চরম উপেক্ষা প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তিদের জোরদার করছেন। এই অবস্থার প্রতিবিধানের জন্য আওয়ামী লীগ কার্যকরী সংসদের তলবী সভা অনুষ্ঠানের দাবী শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাজউদ্দিনকে অপসারণের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রকাশ্য আন্দোলনের আড়ালে১৭৯ বিভিন্ন উপদলের যোগসাজশ জোরদার হয়। বিভিন্ন উপদলের নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক সফর ও প্রচার অভিযানের ফলে বিস্তীর্ণ সীমান্ত অঞ্চল কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে।

    বিভিন্ন অঞ্চলে মন্ত্রীদের সফর জোরদার করার পক্ষে অক্টোবরের শুরুতে মন্ত্রিসভা এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় খোন্দকার মোশতাক নিজেও ৬ থেকে ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের সঙ্গে এবং সেক্টর কমান্ডারদের কারো কারো সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কোলকাতা ত্যাগ করেন। তাঁর এই সফর অপেক্ষাকৃত তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে এ কারণেও যে সমগ্র সফরকালের জন্য তাঁর সঙ্গী ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব আলম চাষী। যোগাযোগ ব্যবস্থাবর্জিত এই সব প্রত্যন্ত অঞ্চলে পররাষ্ট্র বিভাগের সদল দফতর থেকে প্রায় দু’সপ্তাহের জন্য মাহবুব আলমের অনুপস্থিতির কারণ মুখ্যতই রাজনৈতিক বলে প্রতীয়মান হয়। অন্তত বিভিন্ন আঞ্চলিক কাউন্সিলের নেতৃবর্গের সঙ্গে মোশতাকের আলাপ আলোচনার যে সব খবর কোলকাতা এসে পৌঁছাত, তা থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে নিদারুণ আশাভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর পদে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপার তখনও তিনি সবিশেষ আগ্রহী। তবে পুনরায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের আপোসহীন সমর্থক। এবং কেবল তার নেতৃত্বেই এই যুদ্ধ পূর্ণ স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে এই ধরনের একটি ভাবমূর্তি গঠনের জন্য পরিষদ সদস্য ও দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তার বক্তব্য দৃশ্যত গঠনমূলক হয়ে ওঠে। এমনকি তার এই সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভার কাছে লিখিত রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, ভারত সরকারের তুষ্টির কারণ হতে পারে, এমন কিছু মার্জিত মন্তব্য তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অবশ্য একই সঙ্গে তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে সেরনিয়াবাত-শেখ আজিজ নেতৃত্বাধীন গ্রুপ এবং শেখ মণি পরিচালিত ‘মুজিব বাহিনী’র প্রকাশ্য বিদ্রোহের পিছনে ইন্ধন যোগানের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ব-ভূমিকা অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এই সব উপদলীয় তৎপরতা দলের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিদের মাঝে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়। তা ছাড়া, আওয়ামী লীগের অস্থায়ী সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং অন্যান্য দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাজউদ্দিন কার্যকরী সংসদের সভা ২০শে অক্টোবর ধার্য করায় তলবী সভা আহ্বানের পক্ষে বিরোধী উপদলগুলির তোড়জোড়ও ভণ্ডুল হয়ে পড়ে।

    অক্টোবরের প্রথমার্ধে একমাত্র ‘মুজিব বাহিনী’র একাংশের কার্যকলাপে বরং অধিকতর বেপরোয়াভাব পরিলক্ষিত হয়। এই বেপরোয়াভাবের কতটা তাদের সংখ্যাবৃদ্ধির পরিচায়ক, কতটা পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার নির্দেশক অথবা কতটা তাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতাজনিত অধীরতার পরিমাপক, তা বলা কঠিন। অক্টোবরে বৈদেশিক ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে মিত্রভাবাপন্ন শক্তিসমূহের সমন্বয় এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রমবর্ধিত সমাবেশ কোন প্রত্যাসন্ন বোঝাপড়ার প্রস্তুতি, সে সম্পর্কে অনবহিত এই তরুণ নেতৃত্ব তখনও তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে তাদের পুরাতন প্রচারণায় মত্ত: ‘তাজউদ্দিনই বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার হওয়ার কারণ, তাজউদ্দিন যতদিন প্রধানমন্ত্রী, ততদিন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের স্বীকৃতিদান অসম্ভব, তাজউদ্দিন ও মন্ত্রিসভা যতদিন ক্ষমতায় আসীন ততদিন বাংলাদেশের মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। এই সব বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা, আওয়ামী লীগের একাংশের সঙ্গে তাদের সংঘাত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কোন কোন ইউনিটের সঙ্গে তাদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, এমনকি নৌকমান্ডোদের সাথে তাদের অসহযোগী আচরণের সংবাদ প্রচারিত হয়ে পড়ার দরুন রাজনৈতিকভাবে ‘মুজিব বাহিনী’ ক্রমেই বেশী অপ্রিয় ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে শুরু করে। তা ছাড়া মুজিব বাহিনী’র চার নেতাকেই তাদের পৃষ্ঠপোষকগণ উপমহাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতির আলোকে তাজউদ্দিন তথা মন্ত্রিসভাবিরোধী তৎপরতা থেকে বিরত হওয়ার পরামর্শ দান শুরু করেছেন বলে অক্টোবরের মাঝামাঝি ভারতীয় সূত্র থেকে আমাদের জানানো হয়। বাংলাদেশ সূত্র থেকে জানা যায়, কথিত পরামর্শের মুখে শেখ মণির ভূমিকা অপরিবর্তিত থাকলেও, ‘মুজিব বাহিনী’র দ্বিতীয় প্রধান নেতা হিসাবে পরিচিত সিরাজুল আলম খান তাজউদ্দিন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করায় এই দুই যুবনেতার মধ্যে মতপার্থক্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় ‘মুজিব বাহিনী’র নেতৃত্বের একাংশের পক্ষে অধীর হয়ে পড়া অস্বাভাবিক ছিল না; বস্তুত তাদের এই অধীরতার সহিংস প্রকাশ ঘটে তাজউদ্দিনের প্রাণনাশের অসফল প্রয়াসের মধ্য দিয়ে।

    ‘মুজিব বাহিনী’র সদস্য হিসাবে পরিচয়দানকারী এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্রসহ সহসা একদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতরে হাজির হয়ে জানায় যে, তাদের এক নেতা তাজউদ্দিনের প্রাণ সংহারের প্রয়োজন উল্লেখ করা মাত্র স্বেচ্ছায় সে এই দায়িত্ব নিয়ে সেখানে এসেছে, যাতে তাজউদ্দিনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়। তাজউদ্দিন তখন অফিসে সম্পূর্ণ একা। তাজউদ্দিন কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হয়ে এই যুবক তাকে আরো জানায় যে, এ বিষয়ে সে পূর্ণ স্বীকারোক্তি করার জন্য প্রস্তুত এবং কৃত অপরাধের জন্য কর্তৃপক্ষ যদি তার কোন শাস্তি বিধান করেনও, তবু তাতে তার কোন আপত্তি নেই। তাজউদ্দিন আরো কিছু প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের পর অস্ত্রসমেত যুবকটিকে বিদায় দেন। সেই সময় ‘মুজিব বাহিনী’র বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর কোন কোন ইউনিটের এবং আওয়ামী লীগের একাংশের ক্ষোভ ও বিদ্বেষ এতই প্রবল ছিল যে, এই ঘটনা প্রকাশের পর পাছে কোন রক্ষক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, তা রোধ করার জন্য তাজউদ্দিন ব্যাপারটিকে সম্পূর্ণ গোপন করেন। কিন্তু সম্ভবত এই ঘটনার পরেই তাজউদ্দিন মনস্থির করেন ‘মুজিব বাহিনী’র স্বতন্ত্র কমান্ড রক্ষার জন্য RAW-এর প্রয়াসকে নিষ্ক্রিয় করা এবং এই বাহিনীকে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে চূড়ান্ত চাপ প্রয়োগের সময় সমুপস্থিত।

    এই সব উপদলীয় প্রশ্ন নিয়ে সময়ের যথেষ্ট অপচয় ঘটত; অথচ মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান ও সংহত করার জন্য সময় সদ্ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল সবচাইতে বেশী। অক্টোবরের মাঝামাঝি পাকিস্তান ও ভারতের সৈন্য সমাবেশ সম্পন্ন হওয়ার ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি একটি নির্দিষ্ট পরিণতির দিকে দ্রুত ধাবমান। অথচ তখনও অন্তত ত্রিশ হাজার মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং প্রদান বাকী। আর যে পঞ্চাশ হাজার ইতিমধ্যে ট্রেনিং লাভ করেছে, তাদেরকে সক্রিয় করে তোলার লক্ষ্য তখনও অনায়ত্ত। রিক্রুটমেন্ট থেকে শুরু করে ট্রেনিং, সরবরাহ, শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রণ ও তৎপরতা-প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অজস্র সমস্যা প্রত্যহ চিহ্নিত হত, তার প্রশাসনিক সদুত্তর কাগজ কলমে খুঁজে পাওয়াও মাঝে মাঝে কষ্টকর হত, সেগুলি বাস্তবায়িত করা তো আরো বেশী অসুবিধার কথা। মুক্তিযুদ্ধ ব্যবস্থাপনার এই সব ছোট-বড় দৈনন্দিন সমস্যাবলী ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর রাজনৈতিক আদর্শ, এর আর্থ-সামাজিক লক্ষ্যের সঙ্গে সংগ্রামকে যুক্ত করার কাজটি ছিল আরও বেশী জটিল। কেবলমাত্র পাকিস্তানের সামরিক নির্যাতনের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্যই যে এই মুক্তিসংগ্রাম, অথবা উঠতি বাঙালী শাসকশ্রেণীর স্বতন্ত্র ক্ষমতাযন্ত্র সৃষ্টির জন্যই যে প্রচলিত সমাজব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখে পাকিস্তানের মত আর একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করা প্রয়োজন-এ কথা এত মানুষের দুঃখ-কষ্ট, নির্যাতন ভোগ এবং এত প্রাণ বিসর্জনের পর স্পষ্টতই যুক্তিসঙ্গত ছিল না। দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের মৌল প্রয়োজনের জন্য শিল্প জাতীয়করণের নীতি ইতিপূর্বেই মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে ঘোষিত হয়েছে এবং পরিকল্পনা সেল কিছু কিছু মধ্যমেয়াদী পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এই বৃহত্তর আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য অর্জন প্রচেষ্টার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ব্যবস্থাপনার দৈনন্দিন বিষয়গুলিকে গ্রথিত করার জন্য যে সংগঠন, পরিকল্পনা ও উদ্যমের প্রয়োজন ছিল, তা অংশত ব্যর্থ হয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির বিভিন্নতার কারণে এবং অংশত সময়ের অপচয়ে ও অভাবে।

    সময়ের প্রয়োজন সত্যই তীব্র ছিল। সময়ের প্রয়োজন ছিল যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্তব্যনিষ্ঠ অংশ ক্রমশ সক্রিয় ও সংহত হয়ে উঠতে পারে, যাতে কাজের মাধ্যমে তাদের ভিতর থেকে যোগ্যতর নেতৃত্বের উদ্ভব ঘটতে পারে, তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সহযোগিতার ঐক্যবন্ধন গড়ে উঠতে পারে, এবং যাতে দেশকে শত্রুমুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি আর্থ সামাজিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার ও পুনর্গঠনে নিযুক্ত হতে পারে। মাত্র দু-তিন সপ্তাহের প্রাথমিক সশস্ত্র ট্রেনিংয়ের পর এই বিচ্ছিন্ন, যুদ্ধঅনভিজ্ঞ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববিহীন তরুণদের প্রতিকূল অথবা অসংগঠিত অবস্থার মাঝে নিক্ষেপ করে, এত অল্প সময়ের মধ্যে তাদেরকে সংগ্রামের সুসংহত শক্তিতে পরিণত করা কোন মন্ত্রবলেই সম্ভব ছিল না। কিন্তু তাদের বিকাশের জন্য যতখানি সময়ের প্রয়োজন ছিল, তার পথে অন্তত দু’টি বাধা ছিল অতিশয় প্রবল। প্রথম সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে নব্বই লক্ষ শরণার্থীর দুর্বিষহ ভার বহনে ভারতের ক্রমবর্ধমান অক্ষমতা। দ্বিতীয় উত্তরের গিরিপথগুলি পরবর্তী বসন্তে তুষারমুক্ত হওয়ার আগেই উদ্ভূত সামরিক বিপদ নিষ্পত্তির জন্য ভারতের বোধগম্য ব্যগ্রতা। কাজেই, চূড়ান্ত লড়াই বড়জোর ফেব্রুয়ারী অবধি পিছিয়ে দেবার অবকাশ ছিল; যদিও অক্টোবরের মাঝামাঝি পাকিস্তানের সৈন্য সমাবেশ সম্পন্ন হওয়ার পর যুদ্ধ শুরুর ব্যাপারটি কেবল ভারত-বাংলাদেশের প্রয়োজন ও সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল ছিল না, তা সমভাবেই নির্ভরশীল ছিল পাকিস্তানের নিজস্ব প্রয়োজন ও সিদ্ধান্তের উপর।

    কিন্তু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে পাকিস্তানের যুদ্ধ যাত্রার আগেই যদি শীত এসে পড়ে এবং উত্তরের গিরিপথসমূহ তুষারবৃত হওয়ায় পরবর্তী এপ্রিল পর্যন্ত চীনের হস্তক্ষেপ অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে পাকিস্তানকে পরবর্তী এপ্রিল/মে পর্যন্ত যুদ্ধের উদ্যোগ গ্রহণ থেকে সম্ভবত বিরত থাকতে হত। পাকিস্তানের এই অক্ষমতা সাপেক্ষে শীতের শেষ দিকে চূড়ান্ত লড়াই পিছিয়ে দিয়ে দু’তিন মাস অতিরিক্ত সময় লাভ করা যায় কি না, সে সম্ভাবনাও বিবেচনা করে দেখা হয়। সেপ্টেম্বরে তাজউদ্দিন ও ডি. পি. ধর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি মৈত্রীচুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়ে কিছু আলাপ আলোচনা করেছিলেন। মুক্তাঞ্চল গঠনভিত্তিক পূর্ববর্তী রণনৈতিক চিন্তার অবাস্তবতা তখন উভয় পক্ষের কাছেই যথেষ্ট স্পষ্ট। তবে সেপ্টেম্বরেই এ জাতীয় মৈত্রীচুক্তি সম্পর্কে সম্মত হওয়া ভারতের জন্য একাধিক কারণেই অসম্ভব ছিল। তা ছাড়া উভয় পক্ষের জন্যই এরূপ চুক্তি সম্পাদনের সর্ববৃহৎ বিপদ ছিল এই যে, প্রস্তাবিত চুক্তি যেহেতু বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জ্ঞাপনের সমার্থক, সেহেতু এ কথা প্রকাশিত হলে তৎদণ্ডেই-অর্থাৎ উত্তরের গিরিপথসমূহ তুষারাবৃত হওয়ার আগেই পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা একরূপ অবধারিত ছিল। অবশ্য এই চুক্তিকে গোপন রেখে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ত্বরিত প্রতিক্রিয়া এড়ানো যেত। কিন্তু চুক্তির সম্ভাব্যতা নিয়ে ডি. পি. ঘরের আলোচনা সত্ত্বেও, এর পক্ষে বা বিপক্ষে ভারত সরকারের মনোভাব সুনির্দিষ্টভাবে ব্যক্ত হয়নি।

    বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে অক্টোবরে এমন আশাবাদ খুব অসঙ্গত ছিল না যে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হলে ভারত সরকারের স্বীকৃতি এবং সংগ্রামের চূড়ান্তপর্বে ভারতীয় সৈন্য নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশের আয়ত্তে আসবে। এহেন আশাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে নেতৃত্ব কাঠামোবিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের সংহত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার জন্য চূড়ান্ত সংগ্রাম যতদূর সম্ভব পিছিয়ে দিয়ে কয়েক মাস বাড়তি সময় সংগ্রহের চেষ্টা করা যুক্তিযুক্ত ছিল। দিল্লীতে ১৬ই অক্টোবর ডি. পি. ধরের কাছে এই বাড়তি সময়ের প্রয়োজন ব্যাখ্যাকালে আমি পাকিস্তানী দখল অবসানের পর সম্ভাব্য অরাজকতা ও সামাজিক হানাহানির চিত্র তুলে ধরি।

    কিন্তু কিছুদূর আলোচনার পরেই স্পষ্ট হয়, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে যে বিষয়টি নিয়ে তারা অধিকতর বিব্রত ও চিন্তান্বিত, তা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির বিষয়ে নয়, বরং স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে এই বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা কেন তখনও সক্রিয় নয়, তাই নিয়ে। তাদের প্রধান দুশ্চিন্তা মুক্তিসংগ্রামের এই নিশ্চলতা থেকেই উদ্ভূত মুক্তিযোদ্ধারা যদি দখলদার সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে না-ই ঘটাতে পারে, তবে কিভাবে একে বাংলাদেশের নিজস্ব মুক্তিযুদ্ধ হিসাবে বিশ্বের সম্মুখে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব? তৎসত্ত্বেও যদি ভারতীয় বাহিনীকে প্রত্যক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করতে হয় তবে কিভাবে দ্রুত বিজয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব? এবং যে যুদ্ধ বাংলাদেশের নিজস্ব মুক্তিযুদ্ধ হিসাবে বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভারতীয় বাহিনীর অভিযান যেখানে মন্থর ও বাধাগ্রস্ত, সেখানে কিভাবেই-বা বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ রোধ করা সম্ভব? তাদের অপর প্রধান উদ্বেগ ছিল বিগত কয়েক মাস ধরেই প্রায় অপরিবর্তনীয়-মুজিবনগর রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উপদলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বিশেষত তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে। এগুলির কোনটিরই যথার্থ সমাধান নির্দেশ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু এই সব সমস্যা উত্থাপনের মধ্য দিয়ে এই বিষয়টিই স্পষ্ট করা হয় যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে যদি না বাড়ে, তবে চূড়ান্ত সংগ্রামের কোন সময়সূচীই অনুসরণ করা সম্ভব নয়, এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন কার্যত অর্থহীন। তবে তিনি জানান, সমগ্র মুক্তিযোদ্ধাদের একটি জাতীয় কমান্ডব্যবস্থার অধীনে আনার জন্য এবং যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকৃত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করে সুচিন্তিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক; এবং এ বিষয়ে যদি তাদের কোন করণীয় থাকে তবে তারা তা পালন করতে সম্মত আছেন। দিল্লীতে দু’দিনে ডি. পি. ধরের সঙ্গে তিন দফা বৈঠকের পর সমস্যার উপলব্ধিকে গভীরতর করে যখন কোলকাতা ফিরে আসছিলাম তখন অধিকৃত এলাকায় ঝড়ের আগের স্তব্ধ মেঘের মত সমবেত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে হঠাৎ বাতাসের দোল শুরু হয়েছিল-বাইরে থেকে যা প্রথম বুঝতেই পাওয়া যায়নি।

    ২০শে অক্টোবর কোলকাতায় আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। ২০ ও ২১শে অক্টোবর দু’দিন এই বৈঠক চলার পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দিল্লীতে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার জন্য আমন্ত্রিত হওয়ায় (এবং সম্ভবত মন্ত্রিসভার সদস্যরাও তাদের সহগমন করায়) ২৭ ও ২৮শে অক্টোবর মুলতবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই মাসে শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটির প্রথম বৈঠকের প্রায় সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে কার্যকরী কমিটির এটা ছিল দ্বিতীয় বৈঠক। আওয়ামী লীগের কার্যকরী বৈঠক আরও ঘন ঘন হওয়া উচিত এই মর্মে এক দাবী আওয়ামী লীগের নেতৃমহলে বিরাজমান ছিল। কিন্তু ভারতে প্রবেশের পর থেকেই শেখ মুজিবের অনুপস্থিতির ফলে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, অন্তত চারটি উপদলের যুগপৎ বিরোধিতা, দলকে বিভক্ত করার জন্য বৈদেশিক শক্তির অন্তর্ঘাতী ভূমিকা এবং প্রকাশ্য ও গোপন বিদ্রোহের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আরও ঘন ঘন। কার্যকরী কমিটির বৈঠক আয়োজন করতে বা পার্টির কাজে আরও বেশী সময় বরাদ্দ করতে হয়ত তাজউদ্দিন পারতেন, কিন্তু তারপর প্রবাসী সরকারের সংগঠন ও পরিচালনার ব্যাপারে এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধে রণনৈতিক আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কতটুকু সময় তিনি দিতে পারতেন, অথবা মুক্তিযুদ্ধ তার ফরে কতখানি সাহায্যপ্রাপ্ত হত, তা পরিষ্কার ছিল না। কিন্তু অক্টোবরের কার্যকরী কমিটির বৈঠক শুরু হবার পর প্রথম দু’দিনের আলোচনা থেকে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের বক্তব্য এবং তাদের পরিবেশিত তথ্যাদি মুক্তিযুদ্ধের ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার পক্ষে সহায়ক ছিল। এতদিন যারা দলীয় ও সরকারী নেতৃত্ব থেকে তাজউদ্দিনের অপসারণের জন্য প্রাকশ্য প্রচার চালিয়ে এসেছেন, তাঁদের প্রতিনিধিরাও কার্যকরী কমিটির এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাজউদ্দিনের পদত্যাগ দাবী উত্থাপন থেকে বিরত থাকেন। তারা যে সংখ্যায় নিতান্ত অল্প, অন্তত এই উপলব্ধি থেকে কোন প্রকাশ্য আক্রমণ না চালিয়ে তারা কৌশলের পরিবর্তন করেন এবং একটি সাবকমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। ২০ ও ২১শে অক্টোবরের আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারের উপর আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ কতদূর সম্প্রসারিত করা যায়, তা নির্ধারণের দায়িত্ব জনাব কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত এই সাবকমিটির হাতে ন্যস্ত করা হয়।

    ২১শে অক্টোবর কার্যকরী কমিটির বৈঠকের পর সভা মুলতবি রেখে পরদিন বাংলাদেশ নেতৃবৃন্দ ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার জন্য দিল্লী যান। ২৪শে অক্টোবর থেকে ১৯ দিনের জন্য ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু করতে চলেছেন। এই সফরের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ইন্দিরা গান্ধী জানান যে, যদিও আসন্ন সফরের মাধ্যমে তিনি শান্তিপূর্ণ পথে বাংলাদেশ সমস্যার নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারসমূহকে সম্মত করানোর শেষ চেষ্টা করবেন, তবু তিনি এ সম্পর্কে বিশেষ আশাবাদী নন। তিনি আরও জানান, যদি কোন সুফল না পাওয়া যায়, তবে তার ফিরে আসার পর এবং বাংলাদেশে পথঘাট আরো শুষ্ক হওয়ার পর পাকিস্তানী দখলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে দেখা হবে। পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে অংশগ্রহণের পক্ষে ইন্দিরা গান্ধীর এরূপ স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল এই প্রথম। জানা যায়, তার মন্ত্রিসভার প্রবীণ সদস্যদের কাছেও তা গোপন রাখা হয়েছিল। কাজেই একাধিক কারণেই এ বিষয়ে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক ছিল। কিন্তু অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এই অতীব আনন্দের সংবাদ বাংলাদেশ মন্ত্রিসভার অপরাপর সদস্যদের অবহিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মনে করায় তার কাছ থেকে সমগ্র মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিসভা থেকে আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি এবং কার্যকরী কমিটি থেকে প্রায় সর্বসাধারণ্যে প্রচার হতে থাকে যে বিদেশ সফর থেকে ইন্দিরা গান্ধীর প্রত্যাবর্তনের পরই ভারত যুদ্ধ ঘোষণা করবে। এই প্রচারের অন্যতম ফল হিসাবে অবশ্য আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটির মুলতবি বৈঠকের আলোচনা আরও বেশী গঠনমূলক হয়ে ওঠে।

    দিল্লীতে সৈয়দ নজরুলের উপস্থিতিতে তাজউদ্দিন প্রথমবারের মত ইন্দিরা গান্ধীর কাছে RAW–এর সমর্থনের ফলে ‘মুজিব বাহিনী’ যে নানা বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে চলেছে তার উল্লেখ করেন। ইন্দিরা এই অবস্থার ত্বরিত প্রতিবিধানের জন্য সভায় উপস্থিত ডি. পি. ধরকে নির্দেশ দেন। ডি. পি. ধর ‘মুজিব বাহিনী’কে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করার জন্য মেজর জেনারেল বি. এন. সরকারকে নিয়োগ করেন। এই উদ্দেশ্যে যথাশীঘ্র কোলকাতায় এক বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তাজউদ্দিন ও কর্নেল ওসমানী, মুজিব বাহিনী’র পক্ষে তোফায়েল আহমদ, সিরাজুল আলম খান ও আব্দুর রাজ্জাক (আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও শেখ মণি অনুপস্থিত থাকেন) এবং ভারতের সামরিক বাহিনীর পক্ষে মেজর জেনারেল সরকার ও ব্রিগেডিয়ার উজ্জ্বল গুপ্ত উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার এক পর্বে একজন যুবনেতা দাবী করেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলার অধিকার একমাত্র তারই রয়েছে। এরপর আলোচনা আর এগুতে পারেনি। পরে বি. এন. সরকার কেবল যুবনেতাদের নিয়ে আলোচনার জন্য ফোর্ট উইলিয়ামে’ মধ্যাহ্ন ভোজনের আয়োজন করেন। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলার ‘একমাত্র অধিকারী’ সেই যুবনেতা ছাড়া আর কেউই হাজিন হননি। কয়েকদিন বাদে যেহেতু যুবনেতাদের সকলে আগরতলায় উপস্থিত থাকবেন, সেহেতু সেখানেই তাদের সঙ্গে বি. এন. সরকারের পরবর্তী বৈঠকের সময় স্থির করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ‘মুজিব বাহিনী’র সকল নেতা একযোগে অনুপস্থিত থাকেন; মেজর জেনারেল সরকারও এই পণ্ডশ্রম বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য জরুরী কাজে মনোনিবেশ করেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিতা ও পুত্র – ভেরা পানোভা
    Next Article প্রতিনায়ক : সিরাজুল আলম খান – মহিউদ্দিন আহমদ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }