Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃণ্ময়ীর মন ভালো নেই – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প118 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. শাহেদুর রহমানের সামনে ফরিদ

    শাহেদুর রহমানের সামনে ফরিদ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সংসার। চালানোর কিছু টাকা আজ লাগবেই। বাজার হবে না এমন অবস্থা। স্যারকে ব্যাপারটা যেভাবেই হোক বুঝিয়ে বলতে হবে। বুঝিয়ে বলাটা তার জন্যে কঠিন। সে কাউকেই বুঝিয়ে কিছু বলতে পারে না। মৃন্ময়ী ম্যাডামকেও সে বুঝিয়ে বলতে পারে নি যে রাত সাড়ে এগারোটার টেলিফোনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মৃন্ময়ী ম্যাডাম হয়ত ধরেই নিয়েছেন সে-ই টেলিফোন করে।

    শাহেদুর রহমান ফরিদের দিকে না তাকিয়েই বললেন, আমাকে কিছু বলতে এসেছ?

    ফরিদ বলল, জি স্যার।

    টাকা লাগবে। টাকা ছাড়া সংসার অচল। এই তো বলবে?

    জি স্যার!

    সামনের চেয়ারটায় বোস।

    স্যারের সামনে বসে ফরিদের অভ্যাস নেই। সে জড়সড় হয়ে বসল। তার মাথা আরও ঝুলে গেল।

    শাহেদুর রহমান বললেন, ফরিদ তুমি তাশ খেল?

    ফরিদ চমকে উঠে বলল, জি না স্যার!

    তাশ চিন তো? না কি তাশও চেন না?

    তাশ চিনি।

    শাহেদুর রহমান হাসি হাসি মুখে বললেন, তাশ আছে দুই রঙের কালো। এবং লাল। কালো হলো রাতের প্রতীক, লাল হলো দিনের। বুঝেছ?

    জি স্যার!

    তাশ চার ধরনের স্পেড়, ক্লাভস, ডায়মন্ড এবং হার্ট। এই চার ধরন হচ্ছে চার ঋতুর প্রতীক— শীত, গ্রীষ্ম, শরত, হেমন্ত। বুঝেছ?

    জি স্যার।

    প্রতিটি গ্রুপে তাশ আছে তেরোটা করে। এই তেরো হলে লুনার সাইকেলের প্রতীক। বত্সরে লুনার সাইকেল আছে তেরোটা। ঠিক আছে?

    জি স্যার!

    এখন তুমি ভাশের নাম্বারগুলি যোগ কর। গোলাম এগারো, বিবি বারো, সাহেব তেরো। যদি যোগ কর তা হলে যোগফল হবে ৩৬৫, একটা বৎসরে দিনের সংখ্যা হলো ৩৬৫। পুরো ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াল?

    ফরিদ কী উত্তর দিবে বুঝতে পারছে না। সংসার আটকে গেছে টাকার জন্যে, এখানে তাশের ভূমিকাটা কী?

    শাহেদুর রহমান বললেন, চেক বই আন। এখন চেক ফেরত আসবে না। ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ফরিদ পকেট থেকে চেক বই বের করল। শাহেদুর রহমান চেক বইয়ে দস্তখত করতে করতে বললেন, ব্যাংক থেকে টাকা আনার পথে এক প্যাকেট তাশ কিনে আনবে। গুনে দেখবে যোগ ফল ৩৬৫ হয় কি না।

    জি আচ্ছা স্যার!

    ফরিদের খুব ইচ্ছা করছে জানতে সমস্যার সমাধান কীভাবে হলো। বড় সাহেব কি ছেলেকে ক্ষমা করেছেন। ব্যাংকে টাকা জমা পড়েছে? ছোট মানুষের বড় বড় বিষয় জানতে চাওয়া উচিত না। কিন্তু ছোট মানুষরা তো হঠাৎ হঠাৎ অনুচিত কাজ করে ফেলে।

    শাহেদুর রহমান বই হাতে তার পড়ার চেয়ারে বসলেন। তাঁর হাতে নতুন একটা বই Diseases Treated with Fruits, লেখকের নাম Xiu Zongchang. ফলমূল দিয়ে অসুখ সারানোর কৌশল জানা থাকা ভালো।

    রাতকানা রোগ

    ক. প্রতিদিন সকালে একটা করে গাজর দশ দিন ধরে যেতে হবে।

    খ. পাঁচশ গ্রাম পালং শাক পিষে রস করে দিনে দুবার খেতে হবে। দশ দিন।

    প্রতিটি অষুধই দশদিন ধরে খাওয়ার বিধান কেন এটা নিয়ে শাহেদুর রহমান চিন্তা করছেন। দশ দিনের হিসাবটা বুঝা যাচ্ছে না। লোকজ চিকিৎসা চন্দ্র হিসেবে করা হয়। দশ দিন কোনো হিসাবেই যায় না।

    ব্যাংক থেকে টাকা পেতে ফরিদের সমস্যা হলো না। ইচ্ছা করলে সে ব্যাংক ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করতে পারত। জিজ্ঞেস করল না। তার টাকা তোলা দিয়ে কথা। সে টাকা তুলবে, এক প্যাকেট তাশ কিনে ঘরে ফিরবে। বসে বসে শুনবে। গুনে দেখবে ৩৬৫ হয়েছে। তার কাজ শেষ।

     

    মৃন্ময়ী তার মার ঘরে। মৃন্ময়ীর হাতে কফির কাপ। কফিতে সে চুমুক দিচ্ছে না। কফির তিতকুটে স্বাদ তার ভালো লাগে না। তবে কফির গন্ধ ভালো লাগে। মগভর্তি কফি হাতে বসে থাকলে মাঝে মাঝে কফির গন্ধ পাওয়া যায়।

    শায়লা আজ অনেক ভালো। তিনি তার ঘরের জানালা খুলে দিয়েছেন। ঘরে রোদ ঢুকেছে।

    মৃন্ময়ী বলল, মা শুনলাম বাবার টাকাপয়সা সমস্যার নাকি সমাধান হয়ে গেছে।

    জানি না।

    মৃন্ময়ী বলল, জানবে না কেন? অবশ্যই জান। আমার তো ধারণী কলকাঠি তুমিই নেড়েছ।

    শায়লা বললেন, তুই কি ঝগড়া করতে এসেছিস?

    মৃন্ময়ী বলল, ঝগড়া না, আমি জানতে এসেছি।

    শায়লা বললেন, তোর বাবা পাওয়ার অব এটর্নি পেয়েছে।

    মানে কী?

    এত কিছু ব্যাখ্যা করতে পারব না। আইনের সব কিছু আমি বুঝি না।

    মৃন্ময়ী বলল, তুমি যতটুক বুঝেছ ততটুক বল।

    শায়লা বললেন, কোর্ট একটা অর্ডার দিয়েছে। কোর্টের সিদ্ধান্ত হলো তোর দাদাজান মানসিকভাবে সুস্থ না। তিনি তাঁর বিরাট সম্রাজ্যের বিলিব্যবস্থা করতে অক্ষম। কাজেই উনার সবকিছু দেখাশোনার দায়িত্ব এখন তোর বাবার।

    মৃন্ময়ী বলল, কোর্ট কি দাদাজানের সঙ্গে কথা বলেছে?

    শায়লা বললেন, তুই আমার সঙ্গে চিৎকার করছিস কেন? আমি তো কোর্ট?

    আমি চিৎকার করছি না। তোমরা একজনকে পাগল বানিয়ে ফেললে?

    শায়লা বললেন, যে তোর বাবাকে পাতার পর পাতা গাধা লিখে পাঠায় সে পাগল না? তোর বাবা গাধা?

    দাদাজানের কাছে গাধা। একজন বাবার কাছে তার অতি বুদ্ধিমান পুত্রও গাধা হতে পারে।

    শায়লা বললেন, তোর সঙ্গে তর্ক করব না। যে মানুষ চেনে না জানে না এমন এক কাজের মেয়েকে বারিধারার চারতলা বাড়ি লিখে দেয় সে গাধা না?

    মৃন্ময়ী বলল, কাজের মেয়েকে না দিয়ে তিনি যদি কোনো ইউনিভার্সিটিকে লিখে দিতেন তাহলেও কি তাকে গাধা বলতে? না কি তখন তিনি আরেকটু উন্নত ঘোড়া বলতে?

    শায়েলা বললেন, তুই রেগে যাচ্ছিস। মানুষটার কাজকর্ম একটু চিন্তা করে দেখ, দিন-রাত নেংটি পরে বসে থাকে।

    উনি উনার নিজের জায়গায় নেংটি পরে থাকেন। নেংটি পরে তোমাদের

    কাছে আসেন না। মহাত্মা গান্ধীও কিন্তু নেংটি পরেই ঘুরতেন।

    মৃন্ময়ী তুই আমার সামনে থেকে যা। আমি তোর দাদাজানকে পাগল বলি নি। কোর্ট বলেছে। ডাক্তাররা সার্টিফিকেট দিয়েছেন। নিউরোলজিস্টরা রিপোর্ট দিয়েছেন। যে নিউরোলজিস্ট তার চিকিৎসা করছেন তাঁর রিপোর্ট আছে। প্রফেসর সালাম। তুই প্রফেসর সালামের সঙ্গে কথা বল।

    মৃন্ময়ী মায়ের সামনে থেকে উঠে গেল। তার অস্থির লাগছে। বাবার সঙ্গে এক্ষুনি সে কঠিন যুদ্ধে যাবে, না কি নিজেকে খানিকটা সামলে নেবে এটা বুঝতে পারছে না। সে প্রচণ্ড রেগেছে। এত রেগে থাকলে লজিক এলোমেলো হয়ে যায়। বাবা শান্ত লাজিকের মানুষ। মৃন্ময়ী দেরি করল না। চারতলায় উঠা শুরু করল। রান্নাঘর থেকে আরেক কাপ গরম কফি নিয়ে নিল। নিজের নার্ভ ঠাণ্ডা রাখার জন্যে তার কফির গন্ধ দরকার।

    শাহেদুর রহমান বই পড়ছিলেন। মেয়েকে দেখে হাত থেকে বই নামিয়ে আনন্দিত গলায় বললেন, হ্যালো বিবি।

    মৃন্ময়ী বলল, জ্ঞানচর্চা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা যায়?

    শাহেদুর রহমান, বললেন, জ্ঞানচর্চা বন্ধ রাখা অন্যায়, তবে আমার BB-র জন্য বন্ধ করা হলো। মা! বেগে আছ কেন?

    মৃন্ময়ী বলল, বাবা! দাদাজান কেমন মানুষ?

    শাহেদুর রহমান বললেন, অতি জটিল প্রশ্ন। প্রতিটি মানুষই একেক জনের কাছে একেক রকম। তোমার দাদাজান তোমার কাছে এক রকম, আমার কাছে আরেক রকম। আবার কাজের মেয়ে বিন্তির কাছে অন্যরকম।

    তোমার কাছে কেমন?

    আমার কাছে উনি ইন্টারেস্টিং একজন মানুষ। প্রচণ্ড ইচ্ছা শক্তি, জানার প্রচণ্ড আগ্রহ। ক্লাস এইটে পড়া বিদ্যা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন। টাকা রোজগারের ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনার দিকে নজর দিলেন। টিচার রেখে অবসর সময়ে পড়েছেন। আমি দিনরাত পড়ি, এই জিনিসটা উনার কাছ থেকে পেয়েছি।

    এই মানুষকে তুমি পাগল ডিক্লেয়ার করছ?

    শাহেদুর রহমান বললেন, সামান্য ভুল হলো মা। উনি নিজেই নিজেকে পাগল ডিক্লেয়ার করেছেন। তিনি যে দানপত্র করেছেন তার কপি আমার কাছে আছে, পড়লেই বুঝবে। পড়তে চাও?

    না।

    একটা কথা বলি— তিনি বেশ বড় অংকের টাকা রেখেছেন ঢাকা শহরকে ভিক্ষুক মুক্ত করার পরিকল্পনার জন্যে। তার প্রস্তাব ঢাকা শহরের সব ভিক্ষুককে ধরে বড় একটা জাহাজে করে বঙ্গোপসাগরের কোনো নির্জন দ্বীপে ছেড়ে দিয়ে আসা হবে। আর খোঁজখবর নেয়া যাবে না। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। প্রতি বছর জাহাজ যাবে। সব খরচ তোমার দাদাজানের। ঢাকা ভিখিরি মুক্ত হবার পর অন্যান্য বড় শহর একে একে ধরা হবে।

    উইলে এরকম আছে না কি?

    হ্যাঁ আছে। আমাকে উনি গাধা ভাবেন, অকর্মণ্য অলস ভাবেন তাতে কিছু যায়-আসে না। আমাকে গাধা-অকর্মণ্য-অলস উনি বানিয়ে রেখেছেন। তাঁর লক্ষ্য একটাই— আমি যেন কিছু করতে না পারি। গুলশানের জমি কিনলাম খুব আগ্রহ নিয়ে, একটা কাজ শুরু করব। কোর্ট ইনজাংশান দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিল। তার পেছনে কে? তোমার দাদাজান। উনাকে জিজ্ঞেস করলেই জানবে।

    মৃন্ময়ী বলল, তিনি তোমাকে দেখতে পারেন না কেন?

    একটা কারণ এই হতে পারে যে, আমি বাবার আত্মীয়স্বজনদের খোঁজ বের করার চেষ্টা করেছি। যাদের পেয়েছি চাকরি দেবার চেষ্টা করেছি। তোমার দাদাজান এটা একেবারেই পছন্দ করেন নি। ফরিদ ছেলেটার কথাই ধর। তোমার দাদাজানের আপন ভাইয়ের ছেলের ছেলে।

    এই ছেলে এটা জানে?

    জানে না। না জানাই ভালো।

    মৃন্ময়ী উঠে দাড়াল। শাহেদুর রহমান বললেন, মা রাগটা কি সামান্য কমেছে?

    মৃন্ময়ী জবাব না দিয়ে বের হয়ে গেল। শাহেদুর রহমান ডাকলেন ফরিদ। ফরিদ ঘরে ঢুকল। শাহেদুর রহমান বললেন, তাশের নম্বরগুলি যোগ করে দেখেছ কত হয়?

    ৩৬৪ হয় স্যার! ৩৬৫ হয় না।

    তাশের প্রতিটি প্যাকেটে একটা জোকার থাকে। জোকারের নাম্বার এক। ঐ একও যোগ করতে হবে।

    জি আচ্ছা স্যার!

    মৃন্ময়ী তার কফির মগ ফেলে গেছে। মগটা দিয়ে আসো।

    ফরিদ মগ নিয়ে বের হলো।

    মৃন্ময়ীর ঘরের দরজা পুরোপুরি বন্ধ না, সামান্য খোলা। ফরিদ দরজায় টোকা দিল। ভীত গলায় বলল, ম্যাডাম! আমি ফরিদ। আপনার কফির মগ ফেলে এসেছিলেন।

    ভেতরে আসন।

    ফরিদ মগ নিয়ে ঢুকল। মৃন্ময়ী বলল, ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বলুন। আমি দাদাজানকে দেখতে যাব।

    জি আচ্ছা! ম্যাডাম আমার একটা কথা ছিল আপনার সঙ্গে।

    বলুন।

    রাত সাড়ে এগারোটায় টেলিফোন করা বিষয়ে। আমি টেলিফোন করি না।

    একবার তো বলেছেন। আবার কেন?

    আপনি মনে হয় আমার কথা বিশ্বাস করেন নাই। এইজন্য আবার বললাম। আমি প্রমাণ দিতে পারি যে টেলিফোন আমি করি নাই।

    মৃন্ময়ী বলল, কী প্রমাণ?

    ফরিদ হড়বড় করে বলল, আমি যদি টেলিফোন করতাম তা হলে যেদিন আমাকে ধরলেন তারপর থেকে টেলিফোন করা বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু তারপর টেলিফোন করা বন্ধ হয় নাই।

    মৃন্ময়ী বলল, আপনি কীভাবে জানলেন টেলিফোন করা বন্ধ হয় নি?

    ফরিদের মাথা ঝুলে পড়ল।

    মৃন্ময়ী বলল, শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থাকবেন না। সামনে থেকে যান। ঐ দিনের মতো চৌকাঠে বাড়ি খাবেন না। সাবধানে যান।

    ফরিদ সাবধানেই বের হলো। তার মন খুবই খারাপ। টেলিফোন সে করে না। কী করে মৃন্ময়ী ম্যাডামকে এই কথাটা বুঝাবে? তার ইচ্ছা করছে দেয়ালে মাথা ঠুকে মাথা ফাটিয়ে ফেলতে। তাতে লাভ কী?

     

    আলিমুর রহমান আমবাগানে হাঁটাহাঁটি করছেন। আজ তাঁর গায়ে গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি। লুঙ্গির উপর পাঞ্জাবি পরেছেন। লুঙ্গির রঙও গেরুয়া। হাঁটার ভঙ্গিতে কোনো অস্থিরতা নেই। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে না তিনি চিন্তিত কিংবা বিষণ্ণ।

    মৃন্ময়ী অনেকক্ষণ হলো এসেছে। সে বাংলার বারান্দায় চেয়ার পেতে বসেছে। বারান্দায় দুটা চেয়ার মুখোমুখি। মাঝখানে টেবিল। ম্যানেজার কালাম পট ভর্তি চা রেখেছে। মৃন্ময়ী চা ঢালে নি। সে দাদাজানের জন্য অপেক্ষা করছে। মৃন্ময়ী যে এসেছে তিনি জানেন। দূর থেকে দেখেছেন। হাত নেড়েছেন। আলিমুর রহমানের নির্দেশ আছে আমবাগানে হাঁটাহাঁটির সময় কেউ তার কাছে আসতে পারবে না। এই সময় তিনি কিছু জটিল চিন্তা করেন।

    আলিমুর রহমানের জটিল চিন্তা মনে হয় শেষ হয়েছে। তিনি এগিয়ে আসছেন। তাঁর মুখ হাসি হাসি।

    মৃন্ময়ী আছিস কেমন? ভালো।

    তোর জন্যে আমি নতুন একটা নাম ঠিক করেছি মীন। মীন হলো মাছ। মৃন্ময়ী কঠিন নাম। মাছ অনেক সহজ। তোর বাবা যেন তাকে কী ডাকে?

    BB ডাকে। Blue Bird.

    গাধা তো! গাধা মার্কা নাম দিয়েছে।

    দাদাজান চা খাবে?

    হুঁ।

    মৃন্ময়ী চা ঢালতে ঢালতে বলল, আমবাগানে হাঁটতে হাঁটতে জটিল চিন্তা কী করলে?

    আলিমুর রহমান আনন্দিত গলায় বললেন, ঠিক করেছি বাকি জীবন ভিক্ষা করে পার করব। দুপুর বেলা এর-তার বাড়িতে থালা নিয়ে উপস্থিত হব। কান্নাকান্না গলায় বলব, মাগো চাইরটা ভাত দেন। তোদের বাড়িতেও একদিন যাব।

    তোমার ভিক্ষুক জীবন কবে থেকে শুরু হচ্ছে?

    যে কোনোদিন শুরু হয়ে যেতে পারে। আজ বিকেলেও বের হয়ে পড়তে পারি।

    মৃন্ময়ী চায়ে চুমুক দিতে দিতে বলল, তোমার মাথা তো আসলেই খারাপ।

    আলিমুর রহমান বললেন, এই দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের মাথাই খারাপ। কারোর এক দাগ খারাপ, কারোর দুই দাগ খারাপ। আমার পুরোটাই খারাপ।

    বাবা পাওয়ার অব এটর্নি বের করে খুব ভুল তাহলে করে নি?

    যা করেছে। ঠিকই করেছে। গাধাটা যে বুদ্ধি খাটিয়ে কাজটা করেছে এতেই আমি খুশি।

    মৃন্ময়ী বলল, দাদাজান তুমি কোর্টে যাও। আমি থাকব তোমার সঙ্গে। তোমার রোজগারে তোমার কোনো অধিকার থাকবে না এটা কেমন কথা?

    কোনো দরকার নাই। ঝোলা হাতে রাস্তায় নামব। ভাবতেই মজা লাগছে। কেউ কিছু বলতেও পারবে না, কারণ আমি পাগল মানুষ।

    মৃন্ময়ী বলল, তুমি সত্যি সত্যি ভিক্ষা করতে বের হবে?

    অবশ্যই। আমবাগানে হাঁটাহাঁটি করে এইটাই ভাবছিলাম। ভিক্ষা করার এই আইডিয়া কার কাছ থেকে পেয়েছি জানিস? ফজলুর কাছ থেকে।

    ফজলু কে?

    জহিরের আর্টিস্ট বন্ধু। যাকে চিকিৎসার জন্যে বাইরে পাঠানোর কথা। ভালো কথা, সব ব্যবস্থা করেছি। ঐ ছেলে হয়ত চলেও গেছে। ছেলেকে দেখতেও গিয়েছিলাম। বাঁচার কোনো কারণ নেই। দেশে মরার বদলে সে মরবে বিদেশে। এইটুকু যা লাভ।

    মৃন্ময়ী বলল, দাদাজান আমি কি তোমাকে একটা অনুরোধ করতে পারি?

    আলিমুর রহমান বললেন, পারিস।

    মৃন্ময়ী বলল, তুমি এইখানেই থাকবে। এখান থেকে বের হবে না। আমি এসে তোমার সঙ্গে বাস করব।

    আলিমুর রহমান শান্ত এবং স্পষ্ট স্বরে বললেন, না। গাধাপুত্রের দয়ায় আমি বাস করব না। মীন শোন, আমি এইমাত্র ঠিক করলাম আজ রাতেই গৃহত্যাগ করব। ভিক্ষার ঝুলি হাতে বের হব।

    মৃন্ময়ী বলল, ভালো।

    আলিমুর রহমান আনন্দের হাসি হাসতে হাসতে বললেন, পোষাকও ঠিক করে ফেলেছি। লুঙ্গি এবং একটা চাদর।

    মৃন্ময়ী উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, দাদাজান আমি এখন উঠব। তোমার উদ্ভট কথা শুনতে আর ভালো লাগছে না।

    ঢাকায় রওনা হবার আগে আগে মৃন্ময়ী ম্যানেজার কালামকে ডেকে বলল, আমি গেট দিয়ে বের হবার পর পর আপনি গেটে তালা লাগিয়ে দেবেন। দাদজান যেন বের হতে না পারেন। উনার মাথা এখন পুরোপুরি খারাপ। উনি ঠিক করেছেন পথে পথে ভিক্ষা করবেন। এটা করতে দেয়া যাবে না। আপনার প্রধান কাজ উনাকে এই কম্পাউন্ডে আটকে রাখা। ঠিক আছে?

    জি ঠিক আছে।

    সব সময় তাঁকে চোখে চোখে রাখবেন। যেন পালাতে না পারেন।

    আমি বুঝতে পরছি আপা।

    কোনো রকম সমস্যা হলে আমাকে টেলিফোন করবেন। কিংবা বাবাকে।

    জি আচ্ছা।

     

    আলিমুর রহমান সন্ধ্যাবেলা বের হতে গিয়ে বুঝতে পারলেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে।

    ম্যানেজার কালাম কাদো কাঁদো গলায় বলল, স্যার আপনি যা বলবেন তাই শুনব, কিন্তু গেট খুলব না।

    আমার হুকুম এখন আর চলবে না?

    স্যার! আপনার হুকুম অবশ্যই চলবে কিন্তু আমি গেট খুলব না।

    আলিমুর রহমান পুকুরঘাটে গিয়ে বসলেন। সারারাত বসে রইলেন। পরের দিনও বসে রইলেন। কিছুই খেলেন না। রাত আটটায় শাহেদুর রহমান এসে বললেন, বাবা গেট খুলে দিয়েছি আপনি যেতে চাইলে যান।

    আলিমুর রহমান বললেন, থ্যাংক য়্যু।

    শাহেদুর রহমান বললেন, আমার প্রতি কি আপনার কোনো আদেশ আছে?

    আলিমুর রহমান বললেন, মীনা নামের একটা মেয়ের জন্যে আমি দানপত্রে কিছু ব্যবস্থা করে রেখেছিলাম সে যেন তা পায়।

    শাহেদুর রহমান বললেন, বাবা আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন আপনার দানপত্র অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। শুধু ভিক্ষুক নিমূল পালন করা যাবে না, কারণ আপনিও তো ভিক্ষুক। তা হলে তো আপনাকেও জাহাজে করে দ্বীপে ফেলে দিয়ে আসতে হয়।

    আলিমুর রহমান বললেন, ভিক্ষুক দেখতে পারি না, কারণ আমার বাবা ছিলেন ভিক্ষুক। হাটবারে ভিক্ষা করতেন।

    শাহেদুর রহমান বললেন, আপনার সঙ্গে ভাত খেতে ইচ্ছা করছে। আর হয়ত আপনার সঙ্গে দেখা হবে না। ভাত দিতে বলি?

    দিতে বল। আর শোন জহির নামের যে আর্টিস্ট ছেলে আছে তার সঙ্গে মৃন্ময়ীর বিয়ে দেয়া যায় কিনা দেখিস। ছেলেটাকে কোনো কারণ ছাড়াই আমার পছন্দ হয়েছে।

    শাহেদুর রহমান বললেন, বাবা আপনার হাতটা একটু ধরি?

    আলিমুর রহমান বললেন, না।

    তিনি রাত এগারোটায় আনন্দের সঙ্গেই গৃহত্যাগ করলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাতাল হাওয়া – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article মৃন্ময়ী – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }