Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী

    কোয়েল তালুকদার এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤷

    মৃত কৈটভ ১.১

    (১)

    “জঙ্গলে বিষ আছে বাবু, এই জঙ্গলের খুব ভিতরে যেতে নেই।”

    খাঁটো ধুতি পরা লোকটা বারবার বোঝাবার চেষ্টা করছিল। কিন্তু যাদের প্রাণে মুক্তিযুদ্ধের আগুনের পরশ জ্বলছে তারা এসব শুনবে কেন?

    “কিছু হবে না। আমাদের পাশের দেশে যে বিষ ছড়িয়ে পড়েছে তার থেকে কম কিছুই হবে এই জঙ্গলের বিষ। আমাদের যেতে দাও। আর শোনো আমরা যে এসেছিলাম তা কাউকে বলবে না। এই নাও বকশিস।”

    একটা রূপোর বাটি হাতে ধরিয়ে দিয়ে চারজনের দলটা জঙ্গলের পথে পা বাড়ালো। এই জঙ্গল ভারতের অন্তর্ভুক্ত।

    সীমানা পেরিয়ে অনেকটা গেলে বাংলাদেশ। অন্তত একদিনের হাঁটা পথ তো বটেই।

    উপজাতি অধ্যুষিত জায়গা বলে এদিকে গা ঢাকা দিলে ধরা পড়ার ভয়টা তুলনামূলকভাবে কম।

    তাই এই জায়গার সন্ধান পেলে কিছু মুক্তিযোদ্ধা এদিকেই যাতায়াত করতে পারবে।

    এপারের কিছু বাঙালি যুবকের মাথায় ওপারের জন্য মমত্ববোধ জেগে উঠেছে। উঠবে না-ই বা কেন!

    এই কিছু বছর আগেও এক দেশ ছিল। ভাগাভাগির পর বাড়ির এক অংশ এপারে এক অংশ ওপারে হয়ে গেল।

    তাতে নাড়ীর টান কমবে কেন? তাই সেরকম কিছু যুবক আজ চলেছে ওপারের পথে। এই পথের হদিশ মুক্তিযোদ্ধাদের দিতে চলেছে ওরা।

    খবরটা ওপারে দিতে পারলে ধরা পড়ার ভয়টা কিছুদিনের জন্য অন্তত কেটে যাবে, কাজও এগোবে মসৃণ গতিতে। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা এখন অগ্নিগর্ভ।

    উত্তর-পূর্ব ভারত তুলনামূলক শান্তই বলা চলে।

    রূপোর বাটি হাতে নিয়েও উপজাতি লোকটা আর-একবার ভাঙা বাংলায় চেষ্টা করে, “আপনেরা না গেলেই ভালো করতেন?”

    যুবকদের মধ্যে যে দলনায়ক সে এবার এগিয়ে আসে। লোকটার কাঁধে হাত রেখে বলে, “তুমি শুধু কাউকে বলবে না যে আমরা এদিকে এসেছিলাম। বাকি আমরা সামলে নেবো।”

    চোখ তুলে একটা বাঁকা চাহুনি দেয় লোকটা, “কিন্তু বাবু, লোকে তো জানবেই।”

    এবার উপস্থিত সবাই চোখে চোখে কথা বলে নেয়। লোকটা কি সবাইকে জানাবার মতলব করছে নাকি! রূপোর বাসন নেবার পরেও!

    “কে জানাবে লোকেদের?”

    দলনায়ক বেশ গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে। লোকটা এবার একটু দমে গেল।

    তারপর রহস্য করে ইনিয়ে বিনিয়ে বলল, “সে আপনারাই জানাবেন। দেবতার জঙ্গলে ঢুকছেন যখন দেবতাই দেখবে আপনাদের। শুধু সাবধানে থাকবেন। কারণ জঙ্গলে বিষ আছে। আমরা কেউ গ্রামের সীমানা থেকে জঙ্গলের এক কিলোমিটার ডিঙিয়ে ভিতরে ঢুকিনি কোনোদিন। আর যারাই গেছে তারা আর সুস্থ হয়ে ফেরেনি বা মরেই ফিরেছে।”

    কথাগুলোর মধ্যে কোথাও পুলিশের নাম নেই শুনেই স্বস্তি পেল সকলে। দলনায়ক তরুণ এবং যুক্তিবাদী।

    মুচকি হেসে উপজাতি লোকটার পিঠে হাত বুলিয়ে বাকি তিনজনকে নিয়ে জঙ্গলের পথে পা দিল। পূর্ণিমার রাত। চারদিকে আলো ঝলমল করছে।

    উপজাতি লোকটা দেখল চারজন যুবক জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করছে। তাদের একজন সুন্দর শব্দ করে শিস দিচ্ছে।

    হয়তো কোনো মনোহর গানের কলি গাইছে এভাবে! সবার পিঠেই বেশ বড় বড় চামড়ার ব্যাগ। সবাই ধুতি আর পায়জামা পরে আছে।

    ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল ওরা। ওদের আর দেখতে পেল না উপজাতি লোকটা।

    গ্রামে ফিরে গেল সে।

    গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা মন্দির ছিল। এত রাতেও একটা বড় মোমবাতি জ্বলছে সেখানে। তবে একটা অস্থির হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

    বেশিক্ষণ টিকে থাকবে না এই মোমবাতি। অচিরেই নিভে যাবে। ইতিমধ্যে কাঁপছে আলো। তাই মন্দিরের বিগ্রহের চেহারা আর দেখা যাচ্ছে না।

    উপজাতি লোকটা রূপোর বাটিটা পাশে রেখে হাঁটু গেড়ে নমস্কার করল দেবতাকে।

    প্রণাম সেরে উঠে আনমনে বলল, “অনেক চেষ্টা করেছিলাম। আটকাতে পারলাম না। ভোগ গ্রহণ করুন।”

    আর তখুনি হাওয়ার বেগ বাড়ল। মোমবাতিটা এক ঝটকায় নিভে গেল। লোকটা তারপর কী করল আর দেখা গেল না।

    মন্দিরের ভিতরে বট-অশ্বত্থ গাছের জ্যামিতিক অন্ধকারে চাঁদের ঝলমলে আলো এদিকটায় আর পৌঁছয় না।

    জঙ্গলের ভিতরে হাঁটছে চার যুবক। মাথার উপরে পরিচ্ছন্ন মেঘ হাওয়ার দাপটে চাঁদের নীচে আসা যাওয়া করছে।

    তাতে পথ চলার সামান্যও অসুবিধে হচ্ছে না। এদিকে সমান্তরাল উদ্ভিদশ্রেণীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাওয়ার দাপটও একটা সময় অব্দি সেরকম কোনো সমস্যা তৈরি করল না।

    কিন্তু যত তারা ভিতরে প্রবেশ করল তত হাওয়ার দাপট বাড়তে থাকল। জঙ্গলের পাখিরাও আর নির্বিঘ্নে থাকল না। শুরু করল চেঁচামেচি।

    “কী রে ঝড় আসবে নাকি অমল?”

    দলনায়ক অমল হাঁটা না থামিয়ে বলল, “আসলে আসবে। ভিজবো বৃষ্টিতে।”

    অন্যজন বলল, “সে না হয় ভিজলাম। কিন্তু জঙ্গল তো আর কিছুটা গেলেই ঘন হয়ে আসবে। চাঁদের আলো অব্দি পৌঁছাবে না সেখানে। তখন ঝড়ের মধ্যে পড়লে তো কিছু করা যাবে না।”

    অমল বক্তার দিকে তাকিয়ে বলল, “সাধারণ অবস্থায় বৃষ্টি বা ঝড় না এলে কী করতিস?”

    “তাই তো পূর্ণিমা বাছাই করে বেরোলাম যাতে কিছু অন্তত দেখা যায়।”

    অমল বক্তার এই উত্তরে কিঞ্চিৎ হেসে উঠল, তারপর বলল, “বীর বাহাদুরেরা শোনো, তোমাদের এত চিন্তার কিছু নেই। একটা টর্চ জোগাড় করেছিলাম। কেনার টাকা ছিল না আর কেউ এমনিতে দিতেও চাইছিল না। চক্রবর্তীদের বাড়ি থেকে চুরি করে নিয়েছি। আপাতত সেটা জঙ্গলে ঢুকলে জ্বালাবো।”

    “অমলদা, এইটা তুমি আগে বলবে না?”

    একজন পরম নিশ্চিন্ত হয়ে গেল। বাকিরাও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। জোরে হাঁটতে হাঁটতে হাঁফ ধরে গেছিল সবার। সবাই দু-দণ্ড দাঁড়িয়ে গেল।

    অমল পকেট থেকে একটা আধ-খাওয়া বিড়ি বের করল। দেশলাই জ্বালাতেই জঙ্গলটা ক্ষণিকের জন্য আলোকিত হয়ে উঠল।

    সবাই সেই আলোয় জঙ্গলের চেহারা দেখে এই প্রথমবারের মতো ভয় পেল। দেশলাই কাঠিটাকে চারদিকে ঘুরিয়ে দেখতে লাগল অমল।

    কিন্তু সম্পূর্ণ জঙ্গল দেখার জন্য এটুকু আলো যথেষ্ট নয়। দলের মধ্যে একজন এবার বেশ শুকনো গলায় বলল, “অমলদা, টর্চটা জ্বালাও না।”

    দেশলাই কাঠি ততক্ষণে নিভে গেছে। চাঁদের আলো পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু নিজের স্নিগ্ধ আলোতে চাঁদ যেন এই জঙ্গলের বীভৎসতা আড়াল করার চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই যুবকদের ভুলিয়ে জঙ্গলের ভিতরে ঢোকানোই যেন তার উদ্দেশ্য।

    অমল তার ঠোঁটে সদ্য জ্বালানো বিড়িটায় টান দিল। আগুনের বলয় তেজিয়ান হল ঠোঁটের কাছে।

    তারপর চামড়ার ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনল একটা টর্চ। সামনে তাক করে জ্বালাবার চেষ্টা করল।

    কিন্তু টর্চ জ্বলে উঠল না। বারকয়েক টর্চের সামনে পেছনে থাপ্পড় মারল অমল। তাতেও কাজ হল না।

    আর তখনই প্রথমবার শোনা গেল শব্দটা। তিনজন আগেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিল, শুধু অমল টর্চটাকে জ্বালাবার বৃথা চেষ্টা করছিল। সেও এবার কান খাড়া করে স্থির হয়ে গেল।

    “এটা কীসের শব্দ অমলদা।”

    চারজনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট যে, সে প্রশ্নটা করল।

    “শশশ…”

    মুখে শব্দ না করার ইঙ্গিত করল অমল। মিনিট পাঁচেক কেটে গেল এভাবেই। আর কোনো শব্দ নেই।

    সবাই নিজের অস্তিত্বটাকেও যথাসম্ভব চেপে জঙ্গলের ঘাসে শুয়ে পড়েছিল। পাঁচ মিনিট কেটে গেলে অমলই প্রথম উঠে দাঁড়ালো।

    টর্চের বোতামটায় এবার চাপ দিতেই সেটা জ্বলে উঠল। এবার ধীরে ধীরে বাকিরাও উঠে দাঁড়াল।

    ঘন জঙ্গল ছাড়া এখানে আর কিছুই নেই। গ্রাম থেকে জঙ্গলের প্রথম কিলোমিটারের গণ্ডি শেষ হয়ে গেছে।

    চাঁদের আলো আর এখানে পৌঁছাতে পারবে না। দেখে মনে হয় জঙ্গলের দেবতা চাঁদকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতিটুকু অব্দি দেননি। পিছনে ফিরে তাকালো অমল।

    একটা অংশের পর আর চাঁদের আলো এগোতে পারেনি।

    দলের একজন শুকনো গলায় জিজ্ঞেস করল, “অমলদা, আজ বরং আমরা ফিরে যাই।”

    অমল বজ্রকঠিন গলায় বলল, “শুধু তুই কেন বাকিরা চাইলেও ফিরে যেতে পারিস। কিন্তু আমি আজ ফিরবো না। চারদিকে আমাদের বয়সী ছেলেরা কীভাবে রাইফেল বেয়োনেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে। আর আমি কিনা এই অন্ধকার জঙ্গলকে ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবো।”

    অন্য একজন অমলকে বোঝাবার চেষ্টা করল, “অমল ওখানে বিপদটা কী হবে আমরা জানি। গুলি খাবো মরে যাবো। কিন্তু এখানে সামনে কী আছে তার কোনো ঠিক নেই। টর্চের আলো একবার জ্বলছে একবার জ্বলছে না। হঠাৎ নিভে গিয়ে আর আদৌ জ্বলবে কিনা তার কোনো ঠিক নেই। আমরা বরং দিনের বেলা চুপিচুপি ঢুকে পড়বো এই জঙ্গলে।”

    অমল রেগে যায়, “কী আবোল তাবোল বলছিস। সামনে কী আছে তার ঠিক নেই এটার মানে কী? সামনে কি দত্যি দানো আছে নাকি? আর তাছাড়া দিনের বেলায়…”

    কথাটা শেষ করতে পারে না অমল। সেই পুরোনো শব্দটা আবার হল, সজোরে হল। কোনো গর্জন নয়, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অথচ তীব্র হুঙ্কার।

    “এ আবার কোন প্রাণী? কোন প্রাণী এভাবে ডাকে!”

    একজন জিজ্ঞেস করল। কারো কাছে কোনো উত্তর ছিল না। অমলের কপালেও এবার বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে।

    “না না, অমলদা তুমি থাকতে হলে থাকো, এগোতে হলে এগোও। আমরাও বাংলাদেশকে সাহায্য করতে চাই। বেঁচে থাকলে সাহায্যটা করতেও পারবো। এভাবে বেঘোরে মারা যাবার অর্থ নেই। তুমি থাকলে থাকো, আমি চলে যাচ্ছি।”

    অন্য একজনও এতে সায় দিল, “অমল, তুইও যাস না। ফিরে চল আমাদের সঙ্গে। কাল দুপুরের দিকে আবার আসবো আমরা। জেদ করিস না।”

    অমলের পিঠে হাত রেখে বুঝিয়ে কথাগুলো বলল তার বন্ধু। কিন্তু অমলের মাথায় রোখ চেপেছিল।

    সে ঝটকা মেরে সেই হাত নামিয়ে দিল, “ফিরে যা তোরা কাপুরুষের মতো। আমি একাই এগোচ্ছি।”

    টর্চ হাতে অমল এগিয়ে গেল জঙ্গলের দিকে। বাকিরা দেখল একটা টর্চের আলো ধীরে ধীরে গহীন অরণ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।

    বাকি তিনজন ফেরার পথ ধরল। বাকি পথটুকু সেই পাশবিক হুঙ্কারটা বারকয়েক তারা শুনতে পেল।

    পা চালিয়ে যত দ্রুত সম্ভব জঙ্গলের পথ শেষ করল তারা।

    জঙ্গল থেকে প্রায় যখন গ্রামে পৌঁছে গেছে ঠিক তখন শেষবারের মতো সেই হুঙ্কার শুনতে পেল তারা আর সেইসঙ্গে আরও একটা চিৎকার কানে এল তাদের।

    অমল গগনভেদী এক চিৎকার করে সম্ভবত চিরকালের জন্য শান্ত হয়ে গেল। জঙ্গলের ভিতর থেকে আর কোনো শব্দ ভেসে এল না।

    পরদিন বেলা বারোটায় আগের রাতের তিনজন দেখা করল। ত্রিপুরাতেও চারদিক থমথমে। বাংলাদেশের আঁচ প্রায় সরাসরি লেগেছে এই রাজ্যে।

    একটা শুনশান মাঠের এক কোনায় তিনজন গাছের ছায়ার নীচে বসে আছে। “রাজেশ, আমাদের মনে হয় একবার ফিরে গিয়ে দেখা উচিত।”

    রাজেশ মাথা নাড়ল। অমলের পর সেই এখন তেমাথা দলের নেতা। বলল, “সুখেন যাবি?”

    সুখেন সবার ছোটো। সে উৎসাহ দেখাল, “অমলদার খবর নিতে যাওয়া দরকার। অভিকদাও যখন বলছে চলো সবাই মিলে যাই।”

    রাজেশ মৃদু হেসে বলে, “সে যাওয়ারই যদি হতো তোরা সকালে সেটা ভাবলি না কেন! তাহলে আর ফিরে আসতাম না আমরা। ওখানে যেতেও লাগবে ঘণ্টা দু’য়েক সময়। বাসগুলো ওই জঙ্গলের দিকে এমনিতেই কম যায়। তার উপর এই যুদ্ধের সময়।”

    অভিক বলল, “সকালে আমাদের কারো মাথা কাজ করছিল না সম্ভবত।

    আচ্ছা, ওই হুঙ্কারটা কোন প্রাণীর? সেটা ভেবেছিস তোরা?”

    এবার স্পষ্ট ভয়ে ছায়া নামল সবার মুখে। সুখেন বলল, “প্রাণী নাকি কে জানে! অমলদার ওই বুক ফাটানো চিৎকারটা আমি শেষ রাতে ঘুমের মধ্যেও যেন শুনতে পাচ্ছিলাম।”

    থমথমে মুখ নিয়ে রাজেশ বলল, “আমরা ভাবতেই শিওরে উঠছি। অমলটা যদি সেই প্রাণীর সামনে পড়ে থাকে… নাহ আর ভাবতে পারছি না।”

    অভিক বলল, নাহ, চলো যাই একবার। ওইরকম ভয়ানক জঙ্গল দিয়ে আসা যাওয়া করার প্রয়োজন নেই মুক্তি যোদ্ধাদের।

    কিন্তু অমলকে খুঁজতে যেতেই হবে।”

    সবাই এক বাক্যে সায় দিল। শুধু রাজেশ একবার বলল, “কীভাবে যে অমলটা এই জঙ্গলের হদিশ পেল কে জানে। ওই গ্রামে বাপের জন্মে কখনো যাইনি। গ্রামটাও বড্ড অদ্ভুত!”

    আধঘণ্টার মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলগামী একটা বাসে উঠে পড়ল তিনজনে। পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় তিনটে বেজে গেল।

    গ্রামটা মূলত একটা পাহাড়ি টিলার উপরে অবস্থিত। এখানকার লোকজন মূলত উপজাতি গোষ্ঠীর।

    গ্রামে ঢোকার মুখে তারা দেখল জনাকয়েক যুবক চাষবাসের জন্য টিলার উপরের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। বারকয়েক রাজেশদের দিকে ফিরে তাকাল তারা।

    রাজেশরাও তাদের দিকে তাকাল। তারপর গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করল।

    এই এলাকা এমনিতেই থমথমে থাকে। কিন্তু আজ যেন একটু বেশিই থমথমে হয়ে আছে। খুব বড় এলাকা জুড়ে নয় এই গ্রাম।

    কিন্তু মোটের উপর আশেপাশে যে আর কোনো গ্রামাঞ্চল নেই তা রাজেশ-সুখেনরা বাসে করে আসার পথেই বুঝে গেছে।

    অমল থাকলে ভালো হতো। এই অঞ্চলটা সে আরও ভালো করে চিনতো। ওরা গ্রামের ভিতরে এগিয়ে গেল।

    কিছু দূর হাঁটার পর একটা জটলা দেখা গেল। তিনজনে এগিয়ে গেল সেই জটলার দিকে।

    জটলার কাছাকাছি গিয়ে যে দৃশ্য দেখল তাতে তারা চমকে উঠল। যে জায়গাটায় জটলা করা হয়েছে সেটা মূলত এই গ্রামের শ্মশান।

    মৃতদেহ পোড়াবার জন্যই যে এই জায়গাটা ব্যবহার করা হয় তাতে সন্দেহ নেই। সেখানে দাউ দাউ করে জ্বলছে দু’টো চিতা।

    এই অঞ্চলের উপজাতিদের অনেকেই হিন্দু মতে শেষ কৃত্য সম্পন্ন করে। তাই চিতা দেখাটা বিশেষ কোনো ঘটনা নয়।

    কিন্তু যারা চিতার কাছাকাছি রয়েছে, অর্থাৎ যারা ডোম তাদের পোশাক একদমই আলাদা। কালো রঙের প্লাস্টিকের পোশাক পরে আছে দু-জন ডোম।

    মুখ চোখ অব্দি রুমাল দিয়ে ঢাকা। শুধু তাদেরই নয়, উপস্থিত সকলেরই মুখ ঢাকা রুমাল বা গামছা দিয়ে।

    কোনো কোনো চাষী খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু মুখ, নাক, চোখে রুমাল দেওয়া। এই দৃশ্য স্বভাবতই খুব অদ্ভুত।

    একজন মহিলা অদূরে গাছের নীচে বসে কান্নাকাটি করছে। তাকে অন্যরা সান্ত্বনা দিচ্ছে। সম্ভবত ওর প্রিয়জন কেউ মারা গেছে।

    ঠিক এই সময় রাজেশ কাঁধে একটা হাতের স্পর্শ অনুভব করল।

    এমনিতেই হতবাক হয়ে গিয়েছিল ওরা, এই স্পর্শে সে চমকে পিছন ফিরল। একজন গ্রামবাসী দাঁড়িয়ে আছে।

    তিনটে গামছা ওদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “নাক, মুখ ঢেকে নিন।”

    সবাই গামছা দিয়ে নাক মুখ ঢেকে নিল ভালো করে। অভিক জিজ্ঞেস করল, “সবাই মুখ ঢেকে অন্ত্যেষ্টি দেখছে কেন?”

    গ্রামবাসী এবার হাতের ইশারায় তাদের ডাকল। তারা তার পিছু পিছু রওনা দিল।

    কিছু দূর একটা গাছ তলায় গিয়ে মুখ থেকে গামছা সরালো সেই গ্রামবাসী। এবার রাজেশ তাকে চিনতে পারল।

    এই লোকটাই তো গতকাল তাদের সাহায্য করেছিল।

    “না করেছিলাম বাবু, না করেছিলাম। জঙ্গলে যেতে বারণ করেছিলাম আপনাদের।”

    কেউ কোনো কথা বলল না। লোকটা নিজের খুঁতির কোঁচা একটু তুলে ধীর স্থির ভাবে বলল, “এই যে দেখছেন দু’টো লাশ, এর জন্য দায়ী আপনারা। নেহাত আমি মুখে কুলুপ এঁটে আছি তাই কেউ জানবে না। তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই গ্রামের দিকে আর আসবেন না।”

    রাজেশ আমতা আমতা করে বলল, “কিন্তু, আমরা তো ফিরে এসেছিলাম।”

    লোকটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসতে বসতে বলল, “তাতে কী? আপনার বন্ধু তো আর ফেরেনি।”

    সুখেন বলল, “হ্যাঁ, অমলদার জন্যেই তো আজ আমরা আবার এলাম। ওকে নিয়ে ফিরবো।”

    লোকটা এবার কোনো উত্তর দিল না।

    অভিক জিজ্ঞেস করল, “আপনি কী বলতে পারেন আমাদের বন্ধু কোথায়?”

    লোকটা এবার খুব ধীরে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

    রাজেশও সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল, “কোথায় সে?”

    এবার লোকটা আঙুল দিয়ে দেখাল। তিনজনেই তার আঙুলের দিক অনুসরণ করে আঁতকে উঠল। কী দেখাচ্ছে লোকটা!

    চিতার দিকে আঙুল দেখাচ্ছে সে।

    রাজেশ এবার এগিয়ে গেল, “কী আবোল তাবোল বলছেন! আমাদের বন্ধু কি চিতায় জ্বলছে নাকি!”

    লোকটা এতটুকু উত্তেজিত হল না। শান্তভাবে বলল, “হ্যাঁ। আপনাদের বন্ধুই চিতায় জ্বলছে।”

    রাজেশ, অভিক, সুখেনের অবস্থা আর তখন কহতব্য নয়। শোক নাকি রাগ, কীসের বহিঃপ্রকাশ হবে বোঝা যাচ্ছে না।

    অভিক লোকটাকে মাটি থেকে টেনে দাঁড় করালো। জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছিল অমলদার? আর

    জঙ্গলে কাল কোন প্রাণীর হুঙ্কার শুনেছিলাম আমরা?”

    লোকটা এবারেও শান্তভাবেই অভিকের বজ্র আঁটুনি থেকে নিজেকে মুক্ত করল। তারপর বলল, “বারণ করেছিলাম। বারবার বারণ করেছিলাম।”

    কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না দেখে রাজেশ জিজ্ঞেস করল, “যদি কিছু হয়েও থাকে, লাশটা আমাদের হাতে তুলে দিলেন না কেন আপনারা?” এবারেও লোকটা হেঁয়ালি করল, “কারণ জঙ্গলে বিষ আছে। সে বিষ ছড়ালে কেউ বাঁচব না আমরা। তাই তো লাশ পোড়াতে গিয়েও ওরা প্লাস্টিকের পোশাক পরে নিয়েছে। আমরা নাক মুখ ঢেকে দূর থেকে দেখছি।”

    কোনো প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া গেল না। শুধু লোকটা বলে চলেছে, “ফিরে যান আপনারা। আর কখনো ফিরবেন না আমাদের গ্রামে।”

    সুখেন শেষবারের মতো জিজ্ঞেস করল, “দু-টো চিতার অন্যটা কার? গাছতলায় সেই মহিলাই বা কে?”

    লোকটা এবার আর শান্ত রইল না। রক্তচক্ষু নিয়ে তাকাল তাদের দিকে। তারপর বলল, “এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন না আপনারা। এই মুহূর্তে চলে যান নইলে আমি সবাইকে ডেকে আপনাদের পরিচয় এবং কাল রাতের ঘটনা জানাতে বাধ্য হব।”

    কথাটা শেষ করেই গটগট করে বেরিয়ে গেল লোকটা। শ্মশানের ভিড়ে গিয়ে গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল। তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না।

    রাজেশ অভিকদের চোখে জল। অমলকে শেষ দেখাও আর দেখতে পেল না তারা।

    শুধু একরাশ দুঃখ, শোক আর এক অজানা রহস্য নিয়ে শহরের দিকে ফিরে এল ওরা।

    আর কখনো ওরা সেই গ্রামের পথে পা বাড়ায়নি।

    ওরা যখন শহরে ফেরার বাসে উঠছে তখন তাদের পিছনে এক ঝাঁক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে দু-টো চিতা দাউ দাউ করে জ্বলছে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়াজাতক – অমৃতা কোনার
    Next Article মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    Related Articles

    কোয়েল তালুকদার

    দাঁড়াও সময় (কাব্যগ্রন্থ) – কোয়েল তালুকদার

    January 6, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    মাধবীরা কেউ নেই – কোয়েল তালুকদার

    January 5, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    শুক্লপক্ষের তারা – কোয়েল তালুকদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }