Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী

    কোয়েল তালুকদার এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৃত কৈটভ ১.২

    (২)

    দিল্লি এয়ারপোর্টে বসে রামানুজ চারদিকে তাকাচ্ছে। সিকিউরিটিতে ঢোকা ইস্তক কেমন ঝিমুনি আসছিল। এক কাপ গরম কফি খাওয়ার পর সেটা অনেকটাই কেটেছে। ভোরবেলায় ফ্লাইট থাকলে এই ঝিমুনিটা আসে তার।

    এখন এক কোণে একটা বিন ব্যাগে বসে আশেপাশের ব্যস্ততার দিকে তাকিয়ে আছে। এ দৃষ্টি শূন্য নয়। শুধু চারদিকের লোকজন কী করছে, কীভাবে করছে এইসব অভিজ্ঞ চোখের ক্যামেরায় বন্দি করে নিচ্ছে সে। কখন কী কাজে লেগে যায় কে জানে!

    এবারের যাত্রাটা ক্যানসেল করে দেবে ভেবেছিল। কিন্তু ভবি ভোলার নয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বিশেষ সুপারিশ এল যে রামানুজকেই যেতে হবে। সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উপযুক্ত মনে হলে তবেই অনুমতি দেওয়া হবে। প্রোজেক্টটা কলকাতায় হলে তবুও ঠিক ছিল। ঘরের ছেলের ঘরে ফেরা হয়ে যেত। কিন্তু ত্রিপুরায় প্রোজেক্ট শুনে রামানুজ প্রথমেই আপত্তি জানিয়েছিল। সে সরাসরি তার ঊর্ধ্বতনকে বলেছিল, “স্যর, আপনি অন্য কাউকে পাঠিয়ে দিন। আমি ত্রিপুরায় কখনো যাইনি আর যাওয়ার ইচ্ছেটাও নেই। দিল্লিতে সবে স্যাটল করলাম। সামনে বিয়ে। আর এখন আপনি আমাকে আবার অন্য কোথাও পাঠাবার কথা বলছেন?”

    ঊর্ধ্বতন রাজীব ত্রিবেদী হেসেছিলেন। বললেন, “তা বিয়েটা আরও আগে করলে না কেন? আর কলকাতার ছেলে একবার নর্থ ইস্টে যাবে না তা হয় নাকি।”

    “কিন্তু আমি কেন স্যর? আরও তো অনেকে আছে?”

    “সবাই সবকিছুর যোগ্য হয় না। তোমার মতো ক-জন ফরেস্ট অফিসার এত কম সময়ে জঙ্গল ডিঙ্গিয়ে এসি লাগানো দশ তলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অফিসে পা দুলিয়ে স্যালারি নিচ্ছে? তুমি পেরেছ কারণ তুমি যোগ্য। সারা জীবন জঙ্গলে পড়ে থাকতে হয়নি। কিন্তু জঙ্গলের চাকরি তো, মাঝেসাঝে জঙ্গল আমাদের টানবেই। আমি পঞ্চাশ বছর বয়সেও একটা প্রোজেক্ট কমপ্লিট করে এসেছি। তোমার সবে পঁয়ত্রিশ। যাও যাও, ত্রিপুরায় সত্তর শতাংশ লোক বাংলায় কথা বলে। তোমার ভালো লাগবে রাজ্যটা। আর তাছাড়া, যে জঙ্গলটায় নিয়ে এত কথা, সেটাতে আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে দিয়ে ভরসা পাচ্ছি না।”

    এবার ভ্রু কোঁচকায় রামানুজ। বলে, “জঙ্গল নিয়ে এত কথা মানে? কীসের জঙ্গল?”

    ত্রিবেদী সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। বড় অফিস ঘরটায় পায়চারি করতে করতে বললেন, “খুব রহস্যঘন এই জঙ্গল। ওখানে একটা ট্রাইব থাকে। জঙ্গলের ভিতরে নয়, জঙ্গলের বাইরের একটা গ্রামে। অদ্ভুত গ্রাম। এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মূল শহর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকতেই ওরা ভালোবাসে। জঙ্গলেও কাউকে ঢুকতে দেয় না। বিভিন্ন কিংবদন্তি ছড়িয়ে আছে সেই জঙ্গলে। দেখো, ত্রিপুরা হচ্ছে রবার চাষ প্রধান একটা রাজ্য। এখন এত বড় অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত একটা জঙ্গল যদি রাজ্য সরকার রবার চাষের জন্য পেয়ে যায় সেক্ষেত্রে ওদিকটায় আরও উন্নতি হবে। চাকরি সংস্থান হবে। কিন্তু এই পার্মিশান শুধু রাজ্য সরকার দিলেই তো হবে না, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকেরও একটা ইনপুট এতে থাকবে। সেই ইনপুটটা তুমি আমাদের সরবরাহ করবে। সেই হিসেবে বাজেট করা হবে, লাইসেন্সিং হবে। কিন্তু তারও আগে দেখতে হবে সেই জঙ্গলে হাতি-ঘোড়া আছেটা কী যে কাউকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না ওরা। স্থানীয় অফিসারেরা সাহসও দেখায় না। যারা ভিতরে গেছে তাদের কোনোদিন খুঁজে অব্দি পাওয়া যায়নি। দেখো রামানুজ, আমি তোমাকে ভয় দেখাচ্ছি না। আমি তোমার কাজের পদ্ধতি জানি, তাই আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তোমাকেই এই কাজে নিয়োগ করতে চাই।”

    ত্রিবেদী নিজের চেয়ারে বসলেন। চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন। তিনি জানেন রামানুজকে এই প্রোজেক্টে ইন্টারেস্ট নিতে বাধ্য করার মতো লেকচারটা তিনি দিয়ে ফেলেছেন। এবার রামানুজের উত্তর শুনতে তিনি উদগ্রীব। রামানুজ কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে পেয়ালায় রাখা কফিতে শেষ চুমুকটা দিয়ে উঠে দাঁড়াল। বলল, “ঠিক আছে। ডিসেম্বরে ওদিকটাতেও খুব ঠান্ডা পড়ে শুনেছি। কিছু নতুন সোয়েটার কিনে আনি।”

    স্যালুট করে রামানুজ বেরিয়ে গেল। ত্রিবেদী সাহেব হাসলেন। ওষুধ ধরেছে ভালোই।

    এখন ত্রিপুরায় যাবার ফ্লাইটের অপেক্ষা করছে রামানুজ। দিল্লি থেকে কলকাতা, সেখান থেকে আধ ঘণ্টা পর আবার উড়ান। সরাসরি আগরতলা বিমানবন্দরে নামবে সে।

    ফ্লাইটের ঘোষণা হতেই ফ্লাইটের দিকে পা বাড়ায় রামানুজ। সে এখনও জানে না যে কতটা রোমাঞ্চকর হতে চলেছে তার এই যাত্রা।

    বেলা দু-টোর মধ্যে দুই বিমানবন্দরের সমস্ত কাজ সেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পাঠানো গাড়িতে উঠে পড়ল রামানুজ। সরকারের তরফে মিঃ দাসকে নিযুক্ত করা হয়েছিল রামানুজের সমস্ত যত্ন-আত্তির জন্য। মিঃ দাসই বিমানবন্দরে তাকে নিতে এসেছিলেন। দাসের হাতে সুন্দর ফুলের তোড়া। ফোন নম্বর আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই ওরা একে অপরকে চিনতে পারল। দাসবাবু কান থেকে মোবাইল রেখে সসম্মানে এগিয়ে এলেন, “আসুন স্যর আসুন…”

    রামানুজ হাসিমুখে ফুলের তোড়াটা হাতে নিয়ে চশমা নামাল। চারদিকে তাকিয়ে বলল, “এয়ারপোর্টটা দারুণ!” দাসবাবু ত্রিপুরার মানুষ। সগর্বে বললেন, “বছরখানেক হল এটা তৈরি হয়েছে। নর্থ ইস্টের বেস্ট এয়ারপোর্ট স্যর।” রামানুজ চারদিকের বাগান, বিমানবন্দরের ভিতরে বাঁশ বেতের অসাধারণ কারুকার্য দেখে মুগ্ধ। এতক্ষণের ধকল এই নয়নাভিরাম বাগান দেখলে পলকের মধ্যে কেটে যায়।

    আরেকবার সেই দৃশ্য মোবাইলে বন্দি করে গাড়িতে উঠে বসল সে।

    “কোথায় যাব এখন?”

    “স্যর বাংলোতে।”

    “ওই উপজাতি গ্রামটার কাছেই?”

    “হ্যাঁ স্যর। গ্রাম থেকে গাড়িতে মিনিট দুয়েকের রাস্তা।”

    “আর এখান থেকে যেতে কতক্ষণ লাগবে?”

    “ঘণ্টাখানেক তো লাগবেই। দেড় ঘণ্টাও লাগতে পারে।”

    “আপনি কি আমার সঙ্গেই থাকবেন?”

    “স্যর আমি আপনার সঙ্গেই আছি। বাংলোর একটা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে আমার। তবে মাঝে মাঝে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এলে আমি শহরে যাব। তাছাড়া আপনার সর্বক্ষণের সঙ্গী আমি।”

    রামানুজ ত্রিপুরায় এসে বাংলায় কথা বলতে পেরে বেশ খুশি হয়েছে। দিল্লিতে গিয়ে বাংলায় কথা একপ্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছে তার। শুধু হাঞ্জি আর হাঞ্জি!

    “এখানে কি সবাই আপনার মতো বাংলাতেই কথা বলে?”

    “হ্যাঁ স্যর। তবে আপনার বাংলা আর আমাদের কথ্য ভাষার বাংলায় অনেকটা তফাত আছে। স্থানীয়রা আমরা এই বাংলাটাকে বলি খাস বাংলা, ঢাকার বাংলার সঙ্গে মিল রয়েছে এই ভাষার। তবে মূল পার্থক্য যেটা সেটা হল অ্যাক্সেন্টে। আমরা যখন কলকাতার বাংলা বলি একটা টান থেকে যায়। হ্যাঁ, যারা অ্যাক্সেন্টে খুব ভালো তাদের ক্ষেত্রে বোঝা যায় না ঠিকই, তবে এই আমার মতো যাদের অ্যাক্সেন্ট এখানকার তাদের শুদ্ধ বাংলায় খাস বাংলা টানটা আপনি ঠিক ধরে ফেলবেন।”

    রামানুজ হাসল। বলল, “তা বটে। একটু কীরকমভাবে যেন বলছেন আপনি। তবু আমার ভালো লাগছে যে আপনারা এখানে বাংলায় কথা বলেন। হিন্দিতে কথা বলতে হবে না।”

    দাসবাবুও এবার হাসলেন। হেসে বললেন, “ও স্যর হিন্দি এখন সব জায়গায় কারণে অকারণে বলে বাঙালিরা। কলকাতায় এবার গিয়েও তাই দেখলাম আর আমাদের ত্রিপুরাতেও এখন এই উপদ্রব শুরু হয়েছে।”

    “উপদ্রব?”

    দাসবাবু এবার একটু লজ্জাই পেলেন বোধহয়। রামানুজই আবার বলল, “আসলে বাঙালি তো, বাঙালিদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে ভালো লাগে। কোনো ভাষাই উপদ্রব নয়, তবে মাতৃভাষার প্রতি সহজাত টানটা তো থাকবেই।”

    “তা তো ঠিকই স্যর।”

    রামানুজ বাকি রাস্তায় কিছুক্ষণ গান শুনল। মাঝে একবার জিজ্ঞেস করল, “শুনেছি গ্রামটা অদ্ভুত, আপনার কী মত দাসবাবু?”

    এই প্রথম রামানুজ লক্ষ্য করল হাসিখুশি দাসবাবুর মুখের রদবদল। একটা কালো ছায়া নেমে এল মুখের মধ্যে। বললেন, “গ্রাম, গ্রামের মানুষজন সবাই অদ্ভুত। মেরে কেটে হাজার লোকের বাস এই গ্রামে। মূল শহরের সঙ্গে তফাত মাত্র দেড় ঘণ্টা। অথচ আজকের দিনেও কেউ মূল শহরে এসে চাকরি বাকরি করে না। জুম চাষই মূল জীবিকা। উপজাতি সম্প্রদায় ভুক্ত ওরা। এই রাজ্যের বহু মানুষ উপজাতি। এটা আলাদা কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু ওই গ্রামের উপজাতিরা সাধারণ স্বাভাবিক মানুষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওদের রুচি সংস্কার সমস্তটাই অতীব তীব্র। এই ট্রাইবটা শুধু এই গ্রামেই রয়েছে, এর বাইরে আর কোথাও নেই। এত কুসংস্কারাচ্ছন্ন আর ভীতু গ্রামবাসী আমি জীবনেও দেখিনি।”

    “ভীতু?”

    “হ্যাঁ, জঙ্গলকে ওরা ভয় পায়। ভয় পায় ওদের দেবতাকে।”

    “কে ওদের দেবতা?”

    “জানা নেই। ওরা দেবতার মূর্তি দেখতে দেয় না।”

    “কী? কী দেবতা তবে কী করে বুঝব! কত যে গোপন কুসংস্কার বয়ে

    চলছে আদিবাসীরা!”

    দাসবাবু বলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ব্রেক কষে গাড়িটা থেমে গেল। ড্রাইভারকে দাসবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “কী অজিত, কী হল?”

    “লোকজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।”

    রামানুজ সঙ্গে সঙ্গে কথা থামিয়ে বাইরের দিকে তাকাল। কথার মাঝে দাসবাবু লক্ষ্যই করেনি যে সেই গ্রামের কাছে এসে পড়েছে ওরা। দাসবাবু একবার বাইরে তাকিয়ে বললেন, “আমরা প্রায় এসে গেছি স্যর। ওরা ওই অদ্ভুত গ্রামেরই বাসিন্দা। কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসার ওদের জঙ্গলের ভাগ্য নির্ধারণ করতে আসছে এটা ওরা জানে। তাই হয়তো…”

    রামানুজ এসব ঘটনা আগেও দেখেছে। তার কাছে এসব নতুন কিছু না। সে গাড়ির লক খুলে ফেলল। তা দেখে দাসবাবু ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, “আরে স্যর করছেন কী? ওরা ক্ষেপে আছে। আপনি গাড়ি থেকে বেরোবেন না।”

    রামানুজ খুব শান্তভাবে তাকে হাত দেখিয়ে নিজে গাড়ির দরজাটা খুলে ফেলল। বাইরে বেরিয়ে এল সে।

    শার্ট আর জিন্স পরা সরকারি ফরেস্ট অফিসারকে প্রথমবার দেখল এই গ্রামের অধিবাসীরা। তার জন্যই এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিল তারা। তারা শুনেছে এই অফিসারের কলমের উপরেই নাকি নির্ভর করছে তাদের জঙ্গলের ভবিষ্যৎ। এত সহজে যে তারাও তাদের আরাধ্য অরণ্যদেবকে দিয়ে দেবে না, তা বোঝাতেই এই রাস্তা ঘেরাও।

    রামানুজ গাড়ি থেকে বেরিয়ে কয়েক পা এগিয়ে গেল সামনে। বাধ্য হয়ে দাসবাবু আর ড্রাইভার অজিতও গাড়ির বাইরে এসে দাঁড়াল। রামানুজ এগিয়ে যেতে একজন গ্রামবাসী এগিয়ে এল। মাথায় উপজাতি টুপি, তাতে ময়ূরের পালক গোঁজা রয়েছে। দেহ নিরাভরণ, কটিদেশে সাদা ধুতি। গলায় বিভিন্ন রঙিন পুঁতির মালা।

    “ওয়েলকাম ওয়েলকাম।”

    রামানুজের চোখ ছোটো হল এই অভ্যর্থনায়। কিন্তু প্রথা মাফিক সে হাত জোর করে নমস্কার করল। লোকটাই সম্ভবত এই গ্রামের মোড়ল। মুখে চোখে উপজাতিদের সহজাত সৌন্দর্যের বদলে তার বলিরেখায় বীভৎসতাই প্রকট।

    “আপনারা কি আমার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন?”

    লোকটা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তারপর বলল, “হ্যাঁ স্যর, আপনার জন্যই আমরা জমায়েত হয়েছি। আমরা দেখতে চাইছিলাম আমাদের জঙ্গল, জঙ্গলের দেবতা আর আমাদের ভবিষ্যৎ কার হাতে নির্ভর করছে।”

    এবারে লোকটা কেটে কেটে কথাগুলো বলল। রামানুজ তার পিছনে ফুঁসে-ওঠা জনতার ভিড় দেখে নিল। তারপর বলল, “অকারণেই ব্যস্ত হচ্ছেন আপনারা। আমি সময় মতো নিজেই দর্শন দেব। রাস্তায় অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে ঘরে ঢুকে কথা বলে আসব। এখন রাস্তাটা ছাড়ুন।”

    লোকটা রামানুজের এরকম ডাকাবুকো উত্তর আশা করেনি। সে ভেবেছিল রামানুজ ভয় পাবে ভিড় দেখে। সে এবার অন্য রাস্তা নিল। “আমাদের তো সরিয়ে দেবেন। দেবতাকে তো সরাতে পারবেন না। জঙ্গল নিয়ে বেশি উৎসাহ দেখালে দেবতার ভোগে পরিণত হতে হয়।”

    রামানুজ এবার গলা ছেড়ে হেসে উঠল, যেন লোকটা খুব হাসির কথা বলেছে। তারপর হাসতে হাসতেই গাড়ির দিকে ফিরে গেল। দাসবাবুকে বলল, “চাবিটা দিন তো। আপনারা পিছনে বসুন। আমি এগোই।”

    দাসবাবু আমতা আমতা করছিলেন। রামানুজ এবার একটা ধমক দিল। “কই চাবি দিন।”

    অজিতকে ইশারা করতে সে চাবিটা এগিয়ে দেয়। রামানুজ গাড়িতে উঠে বসে। দাসবাবু আর অজিত পিছনে উঠে পড়ে। রামানুজ গাড়ি স্টার্ট করে। শান্ত পাহাড়ী রাস্তায় ইঞ্জিনের বিকট শব্দ হয়। তারপর গাড়িটাকে ব্যাক গিয়ারে নিয়ে একটু পিছনে যায় সে। গ্রামের মোড়ল স্থানীয় লোকটা ভ্রু কুঁচকে সমস্ত দেখছিল। বাকি গ্রামবাসীদের মধ্যেও ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। ওরা নিজেরা রাস্তা প্রায় আগলে দাঁড়িয়ে আছে। খেলনা গাড়িও গলার রাস্তা নেই।

    রামানুজ ইঞ্জিন চালু রেখেই গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে উচ্চ কণ্ঠে চিৎকার করে। “অ্যাম্বুলেন্স আর পুলিশ ফোর্সকে খবর দিয়ে দিচ্ছি। যারা আমার গাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকবেন তারা যদি কেউ চাপা পড়েন বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে অসুবিধা হবে না।”

    কথাটা শেষ করে আর দেরি করল না সে। গাড়ি সোজা চালিয়ে দিল। গ্রামবাসীর চোখ বড় বড় হয়ে গেল। মোড়ল একজন ফরেস্ট অফিসারের এহেন আচরণ আশা করেনি। গাড়ি এগিয়ে আসছে দ্রুত গতিতে। রাগে ক্ষোভে মোড়ল চোখ বন্ধ করে তড়িদগতিতে চোখ খুলল। নির্দেশ দিল, “রাস্তা ছেড়ে দাও।”

    গ্রামবাসীদের কেউ কেউ রুখে দাঁড়িয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু মোড়লের কথার উপর আর কথা চলে না। জায়গা ছেড়ে দিল ওরা। রামানুজের গাড়ি দ্রুতবেগে তাদের পেরিয়ে চলে গেল বাংলোর দিকে।

    মোড়ল রাস্তার উপর থুতু ফেলে নিজের ক্ষোভ মেটালেন।

    এদিকে দাসবাবুর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। রামানুজ কাচের মধ্যে এটা দেখে হেসে জিজ্ঞেস করল, “কী দাসবাবু, এতেই ঘেমে নেয়ে গেলেন?”

    দাসবাবু কষ্টে হাসলেন।

    “এসেই যা খেল দেখালেন! না এবার আমার বিশ্বাস হয়ে গেছে এই গ্রামবাসীদের খেল এবারেই খতম।”

    “অতি আত্মবিশ্বাসী হবেন না। ওরা ঠিক ছোবল মারবে আমাকে। যাই হোক আর কতটুকু?”

    “এই তো এসেই গেছি।”

    দাসবাবুর দেখানো একটা ডানহাতের মোড়ে মিনিট খানেক এগিয়ে গাড়ি থামল।

    ছিমছাম সরকারি বাংলো। গাড়ি ভিতরে ঢুকতেই দু-জন লোক এগিয়ে এল। একজন বাঙালি পুরুষ, পঞ্চাশের ওপারে বয়স। দাসবাবু বললেন, “ইনি হচ্ছেন রাধামাধব। দারুণ রান্না করেন।”

    রামানুজের চোখ ছিল অন্য লোকটার উপর। লোক না বলে যুবক বলাই ভালো। দাসবাবু বললেন, “এ হচ্ছে কাঞ্চন। এই গ্রামের প্রথম অধিবাসী যে গ্রামের জুম চাষের বাইরে কিছু করার কথা ভেবেছে। এই বাংলোর কেয়ার টেকার সে।”

    রামানুজ কাঞ্চনের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর দাসবাবুর দিকে তাকাল। দাসবাবু কিছুটা আন্দাজ করতে পারলেন বিষয়টা। “এই স্যরের লাগেজগুলো স্যরের রুমে দিয়ে আয়।” কাঞ্চনকে নির্দেশ দিয়ে রামানুজের কাছে এলেন তিনি। বললেন, “গ্রামবাসীদের মধ্যে থাকলেও ওদের মতো নয় সে। এখানের খবর ওখানে পাচার করবে না। বিশ্বস্ত ছেলে।”

    রামানুজ তখনকার মতো সম্মতি দিল মাথা নেড়ে। তারপর একটা সিগরেট জ্বালিয়ে বাংলোর চারদিক ঘুরে দেখতে লাগল। পিছনে দাসবাবু সমস্ত কাজকর্ম সমাধা করতে লাগলেন।

    রামানুজ দেখল বাংলোটা আসলে একটা উঁচু ঢিপি কেটে তৈরি করা হয়েছে। মূল রাস্তা থেকে তাই অনেকটা উঁচুতে রয়েছে এই বাংলো। যেখানে গ্রামবাসীরা পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল সেই জায়গাটাও এই উঁচু বাংলো থেকে কিছুটা দেখা যায়। গাছপালার ফাঁকে অবস্থানটা বোঝা যায়।

    রামানুজ লক্ষ্য করল কিছু গ্রামবাসী তার বাংলোর আশেপাশে ধীর পায়ে এসে তার দিকে লক্ষ্য রাখছে।

    “দাসবাবু, ও দাসবাবু।”

    দাসবাবু উপর থেকে নেমে এলেন। “বলুন স্যর।”

    “আমার যন্ত্রটা একটু দিন তো।”

    দাসবাবু অদ্ভুতভাবে তাকালেন তার দিকে।

    “কই দিন।”

    দাসবাবু দৌড়ে বাংলোর উপর তলায় উঠে গেলেন। তারপর নিয়ে এলেন যন্ত্রটা। রামানুজ সেটা হাতে নিলো। রামানুজের সার্ভিস রিভলভার।

    তারপর আকাশের দিকে উঁচু করে ফায়ার করল। গাছের ডালে যত পাখি ছিল সব ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে গেল।

    আর দৌর লাগাল বাংলোয় চোখ-রাখা কতিপয় গ্রামবাসী।

    “ওই দেখুন।”

    দাসবাবুকে আঙুল উঁচিয়ে দেখাল রামানুজ। আর সেই গুড়গুড়িয়ে গ্রামবাসীদের দৌড় দেখে তার কী হাসি। দাসবাবুও একসময় হেসে দিলেন।

    “স্যর আপনি পারেন বটে। নিন এখন চলুন, লাঞ্চটা করে নিন। রাধামাধবের হাতের রান্না খেলে ভুলবেন না কোনোদিন।”

    “চলুন চলুন।”

    বাংলোর দিকে মুখ করে ফেরাতেই কাঞ্চনকে দেখতে পেল তারা। অদ্ভুত চোখে তাদের দেখছে সে।

    মূলত কাঞ্চনের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে রামানুজের রিভলভারের দিকে।

    দাসবাবু অস্বস্তি কাটাতে বললেন, “দাঁড়িয়ে আছিস কেন? খাবারের ব্যবস্থা কর জলদি। স্যর খাবেন এখন।”

    সেদিনে আর কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল না। হঠাৎ ঝুপ করে সন্ধে নেমে গেল।

    সম্পূর্ণ পাহারি অঞ্চল কুয়াশার চাদরে ঢেকে এক সময় হারিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়াজাতক – অমৃতা কোনার
    Next Article মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    Related Articles

    কোয়েল তালুকদার

    দাঁড়াও সময় (কাব্যগ্রন্থ) – কোয়েল তালুকদার

    January 6, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    মাধবীরা কেউ নেই – কোয়েল তালুকদার

    January 5, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    শুক্লপক্ষের তারা – কোয়েল তালুকদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }