Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী

    কোয়েল তালুকদার এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৃত কৈটভ ১.৩

    (৩)

    গ্রামটা এমনিতেই অন্ধকারে ডুবে থাকে। তার উপর অমাবস্যার রাত হলে তো আর কথাই নেই। চারদিকে জনপ্রাণী বিশেষ কেউ থাকে না। এই গ্রামে আলাদাভাবে নজরদারি করার কেউ নিযুক্ত নেই। আর যদি থেকেও থাকে এই ক্রিয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কেউ কিছু বুঝতেই পারবে না।

    গ্রামবাসীরা একে একে নিজের কুড়ে ঘড় ছেড়ে বেরিয়ে আসতে লাগল। রাত তখন তিনটে। গ্রামের ঠিক মাঝখানের অংশটায় একটা অগ্নিকুণ্ড জ্বলছে। অগ্নিকুণ্ডের সামনে আসনে বসে আসেন এই গ্রামের হামন্তাই। হামন্তাই শব্দের অর্থ যিনি পুজো করবেন। শুভ্র সাদা বসনে তিনি যজ্ঞ কুণ্ডের আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছেন। ঠিক সামনেই রয়েছে এই গ্রামের আরাধ্য দেবতার মন্দির।

    একে একে গ্রামবাসী এসে জড় হতে শুরু করল। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ওরা এবার সমগ্র পূজা পদ্ধতির প্রয়োগ দেখবেন।

    হামন্তাই তার সামনে পোঁতা বিভিন্ন গাছের ডালের পুজো শুরু করেছেন। দু-জন সহকারী রয়েছে হামন্তাইয়ের পাশে। সে মাঝে মাঝে শিঙার মতো দেখতে একটা বাদ্যযন্ত্রে ফুঁ দিচ্ছে। ফলে তা থেকে জোরালো শব্দ বেরুচ্ছে। অপর সহকারী একইরকম দেখতে আরেকটি যন্ত্রে ফুঁ দিচ্ছে, তা থেকে আগুনের শিখা বেরুচ্ছে।

    এর মাঝেই হামন্তাই তার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার গাছেদের পূজার্চনা করছে। পূজোপকরণে রয়েছে ঘি, মধু, দুধ, ফল, বনজ ফুল এবং বিভিন্ন প্রকার গাছের ডাল।

    কিছু সময় পর গ্রামের অন্য প্রান্ত থেকে কিছু মানুষ এসে উপস্থিত হল। তাদের বেশভূষা সৈনিকদের মতো। ওদের হাতে রয়েছে অস্ত্র শস্ত্র। কারো হাতে কুঠার, কারো হাতে তীর ধনুক, কারো হাতে ধারালো অস্ত্রাদি। ওরা জঙ্গলের দিকে মুখে করে এবং অস্ত্র তাগ করে দাঁড়িয়ে রইল।

    ওদের উদ্দেশ্য ঠিক কী, কাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে ওরা উপস্থিত তা বোঝা গেল না। ওরা আসতেই গ্রামবাসীরা কয়েক কদম পিছিয়ে গেল।

    সকলের নজর তখন হেমন্তাই-এর উপর। তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। তিনি যখন ফিরে এলেন তখন তার হাতে একটা ছোট ঝুড়ি। ঝুড়ির মুখ বন্ধ। সহকারিরা ততক্ষণে তড়িদগতিতে শিঙায় ফুঁ দিচ্ছে। অগ্নি এবং শব্দ তেজিয়ান হচ্ছে। যজ্ঞের আগুনের লেলিহান শিখা ততক্ষণে প্রায় দশ ফুট উপরে উঠে গেছে।

    শীতের রাতেও হেমন্তাই সহ সকলে দরদর করে ঘামছেন। সিপাহীরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ চোখ রেখেছেন জঙ্গলের দিকে।

    ঠিক এমনই এক সময়ে হামন্তাই ঝুড়ির ঢাকনা খুলে দিলেন এবং অগ্নিকুণ্ডে ঝড় ঝড় করে কিছু একটা পড়ল। পটপট শব্দ হতে লাগল অগ্নিকুণ্ড থেকে। অগ্নিশিখা আরও বড় আকার নিল। রুক্ষ্ম দৃষ্টি নিয়ে হামন্তাই তাকিয়ে রইলেন শিখার দিকে।

    কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটা তীব্র ঝাঁঝাল গন্ধে চারদিক ভরে উঠল। সমস্ত গ্রামবাসী নিজের নাক চেপে ধরল। সৈনিকেরা তাদের শিরস্ত্রানের সঙ্গেই একটি কাপড় বেঁধে এনেছিলেন। সেটা দিয়েই নাক ঢেকে নিলেন। এরপর শুধু অপেক্ষা করতে লাগলেন সবাই।

    কীসের অপেক্ষা কেন অপেক্ষা বোঝা গেল না। হেমন্তাই মন্দির কক্ষের বাইরে একটা পাথরের তৈরি উঁচু আসনের উপর বসলেন। তার সহকারিরা আগের মতোই শিঙায় ফুঁ দিতে থাকল।

    এভাবে কেটে গেল প্রায় আধ ঘণ্টা সময়। আগুনের রেখা ধীরে ধীরে নীচে আসছে। গন্ধও প্রায় সহ্য হয়ে এসেছে সবার। তবুও কেউ মুখে থেকে কাপড় সরায়নি। অমাবস্যার নিশুতি রাতকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠানের উপাচার এক অন্য মাত্রা যোগ করছে।

    গ্রামের বাচ্চাদের ঝিমুনি আসছে। কিন্তু তাদেরকে মাতা পিতারা কাছ ছাড়া করছে না। সবাই অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর মুহূর্তের। এই মুহূর্ত কেটে গেলে আবার অনেক দিনের শান্তি।

    আগুনের শিখার তেজ কমে আসায় হেমন্তাই তাঁর জায়গা থেকে উঠলেন। কাঠের বড় হাতা দিয়ে ঘি ঢাললেন আগুনে। পোড়া কাঠগুলো আবার ঘিয়ের ছোঁয়া পেয়ে জ্বলে উঠল। সহকারীরা তাতে নতুন জ্বালানি কাঠ দিলে সে আগুন আবার তেজ ফিরে পেলো।

    আর ঠিক তখনই জঙ্গল কাঁপিয়ে শব্দটা হল।

    শব্দটা হতেই গ্রামবাসীরা ভয়ে আরও কয়েক কদম পিছিয়ে গেল। চোখ বড় বড় হয়ে গেল অভিজ্ঞ বর্ষীয়ান গ্রামবাসীদের। তারা জানে আগামী কয়েক মুহূর্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। শব্দটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। একদল মানুষ যেন গোঙাচ্ছে। খুব জোরে এই গোঙানি, কিন্তু আর্তনাদ নয়। ক্ষিদে পেলে যেরকমভাবে কোনো জানোয়ার সেই ক্ষিদে প্রকাশ করে, লড়াই শেষে যেভাবে যুদ্ধ জয়ী খুশিতে চিৎকার করে উঠে সেরকম মিশ্র এই গোঙানি।

    যেন কোনো বোবা জানোয়ার এই প্রথম একসঙ্গে অনেক শিকার দেখতে পেয়েছে। যত মুহূর্ত এগল, তত এই শব্দ বাড়তে থাকল।

    সিপাহীরা ততক্ষণে তীর ধনুক থেকে শুরু করে বর্ষা, তলোয়ার যার কাছে যে অস্ত্র আছে তা উঁচিয়ে ধরেছে।

    হেমন্তাই মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে তাদের দেবতার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েছেন।

    সহকারীদ্বয় শিঙা রেখে দু’টো তলোয়ার নিয়ে মন্দির দ্বারের কাছে পাহারায় ব্যস্ত। আর যাই হোক, নিরস্ত্র হেমন্তাই-কে বাঁচাতেই হবে। তার কিছু হয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গ্রামে পুজো বিধি আর কেউ জানে না।

    হেমন্তাই এই পুজো শেষে পুজো বিধি কাউকে শিখিয়ে তারপর চিরতরে বিশ্রামে যাবেন। পুরো জীবনে এই পুজো একজন একবারেই করতে পারে। আর পুজো শেষের আগে এই বিধি কাউকে শেখানো যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে এই পুজোর গুণ নষ্ট হবে অভীষ্ট কখনোই পূর্ণ হবে না।

    এদিকে শব্দ বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছেছে। যে কোনো সময় দেখা যাবে এই তীব্র গোঙানির উৎস। আর বেশি অপেক্ষা করতে হল না।

    উপস্থিত হল শব্দের উৎসরা। একজন দু-জন নয়। বারোজন উৎস, বারোজন মানুষ। আদৌ মানুষ ওরা!

    জঙ্গলের এক কোণায় এসে জমা হয়েছে ওই প্রাণীগুলো। দেখতে অবিকল মানুষের মতো। দুটো হাত, দুটো পা, দুটো চোখ ইত্যাদি। শুধু ভাবখানা পশুর মতো। পরনে এক খণ্ড কাপর, সাদা রঙের। সাদা আলখাল্লাটাকে এরকমভাবে পরেছে ওরা যেন ডান হাতটা উন্মুক্ত থাকে।

    চোখ মুখে ওদের জান্তব অভিব্যক্তি। প্রত্যেকে প্রায় পশুর মতো তাকিয়ে আছে সমস্ত গ্রামবাসীর দিকে।

    সিপাহীরা সবাই ততক্ষণে ওদের সামনে গিয়ে হাজির হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ওরা মানুষের রক্ত পান করতে ইচ্ছুক। সিপাহীরা সে কাজে বাঁধা দিতে গেছে দেখে ওরা গোঙানি বাড়িয়ে দিল। লাল বিস্ফারিত চোখ থেকে যেন রক্তের মতো জল গড়াচ্ছে।

    হাত-পাগুলো সাদা সাদা ছোপ ছোপে ভর্তি। ওদের মস্তক সম্পূর্ণ মুণ্ডিত। বীভৎস লাগছে ওদের দেখতে। শরীর মুচরে ওরা এগিয়ে আসছে সামনে।

    হেমন্তাই মন্দিরের ভিতর থেকে চিৎকার করে উঠলেন, “নিধন।” সিপাহীরা যেন এই নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে হই হই চিৎকার করে ওরা এগিয়ে গেল ওই মনুষ্যরূপী শয়তানগুলোর দিকে।

    বারোজনের চারজন তীরে বিদ্ধ হল। তীরগুলো লাগল মাথার ঠিক মাঝখানে। লুটিয়ে পড়ল চারজন। বাকি আটজনের গায়ে তীর লাগল, মাথায় লাগল না। ওদের কিছুই হল না সেরকম। শুধু যন্ত্রণায় তীব্রভাবে চিৎকার করে সামনে যে সিপাহীদের পেল তাদের আক্রমণ করল ওরা।

    তলোয়ার দিয়ে দু-জন সিপাহীর মাথা কেটে ফেলল বটে, কিন্তু তৃতীয়জনের মাথা কাটার আগেই তার গলায় কামড় বসিয়ে দিল একটা জানোয়ার।

    এক সিপাহীর বর্ষা কেড়ে নিয়ে তার বুকেই ঢুকিয়ে দিল অন্য এক মনুষ্যবেশী জানোয়ার। তারপর মাটিতে বসে তার ঘাড়ে কামড় বসাল সে। এরই মধ্যে অন্য একজন সিপাহী এসে তার মাথা বরাবর ঢুকিয়ে দিল একটা বর্ষা। সে বর্ষা শয়তানের মুণ্ডিত মস্তক ভেদ করে পৌঁছালো নীচে কামড়ে ধরা সিপাহীর চোখে। চিৎকার করে উঠল দু-জনেই। মানুষ সিপাহীর মৃত্যু ঘটল তৎক্ষনাৎ।

    জানোয়ারটা কাতড়াতে কাতড়াতে ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকল চার সিপাহী আর এক শয়তান। অন্য এক সিপাহী বেঁচে ছিল কিন্তু ঘাড়ে অসহ্য কামড় নিয়ে মাটিতে পড়ে রইল।

    যে শয়তানটা বেঁচে গেল সে জঙ্গলের সীমা টপকে গ্রামের সীমায় প্রবেশ করল। চারজন সিপাহী দৌড়ে এসেও তাকে ধরতে পারল না। গ্রামবাসী ভয়ে অনেকটা পিছিয়ে গেল। হেমন্তাই চিৎকার করে বললেন, “কেউ হুলস্থুল করবেন না। সব মরেছে, এটাও মরবে।”

    শয়তানটা ঠিক মন্দিরের সামনে এসে থামল। হেমন্তাই উঠে দাঁড়ালেন। মন্দিরের পাহারায় থাকা দুই সহকারি তলোয়ার উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    শয়তান এবার স্থির হল। চারদিকে তাকাল সে। যারা জীবনে প্রথম এই দৃশ্য দেখছে তারা দেখল এ মধ্যবয়সী এক মনুষ্যই বটে। তবে এর আচরণ আর বোধবুদ্ধি অন্য মানুষের মতো নয়। এ যেন এক যন্ত্রমানব। এর নিয়ন্ত্রক আর সেই মস্তিষ্ক নয় যে মস্তিষ্ক নিয়ে সে জন্মেছিল। এর নিয়ন্ত্রক এখন অন্য কেউ। তাই এই সম্পূর্ণ মানুষটা পালটে পরিণত হয়েছে শয়তানে। এর চোখে মণি সাদা, এর শরীর হাড়গোড় প্রায় সমস্তই ভাঙা। তবুও এ দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টিশক্তিহীন হয়েও এ সমস্ত দেখছে। এর গায়ের জোর এতক্ষণ সবাই দেখেছে।

    বাকি শয়তানদের থেকে এ অনেক বেশি সুচতুর। প্রায় সমস্ত সিপাহীর মৃত্যুর কারণ এই শয়তানটাই। সবাইকে শেষ করে এ এখন হেমন্তাইকে মারার কথা ভাবছে। তাতে আগামীদিনে আর কেউ তাদের উপর নিয়ন্ত্রণের কথা চিন্তাও করতে পারবে না।

    ক্রিয়া চলাকালীন হেমন্তাইয়ের মৃত্যু মানে এই শয়তানদের অমর হয়ে যাওয়া।

    শয়তানটা ইলাস্টিকের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে চারদিক দেখে নিল। সিপাহীরা একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তার দিকে এগিয়ে আসছে। সবার হাতেই তলোয়ার। তীর ধনুক বা বর্ষাধারী সকলেরই মৃত্যু ঘটেছে। এখনও সবাই নাকে মুখে কাপড় দিয়ে রেখেছে। গ্রামবাসীরাও সারা মুখে কাপড় জড়িয়ে রেখেছেন।

    গ্রামবাসীদের দিকে চেয়ে-থাকা অবস্থাতে ঠিক উলটোদিকে যেখানে মন্দিরের ভিতর হেমন্তাই আছে সেদিকে লাফ দিল শয়তানটা। সহকারীদ্বয় বুঝতেও পারল না। কারণ ওরা ভাবছিল শয়তানটা গ্রামবাসীদের দিকে তাকিয়ে আছে। রবারের মতো উলটোদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে যে তাদের আক্রমণ করবে তা ওরা মুহূর্তের অসতর্কতায় ধরতে পারেনি। তারই খেসারত দিতে হল একজনকে।

    মুহূর্তের মধ্যে একজনের তলোয়ার ছিনিয়ে নিয়ে তা ঢুকিয়ে দিল অন্যজনের গলা বরাবর। কণ্ঠনালী দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় চিৎকার অব্দি করতে পারল না সে। মন্দির প্রাঙ্গণে পড়ে কাতরাতে লাগল। অসহনীয় দৃশ্য!

    অন্যজন নিরস্ত্র অবস্থায় ছিল। সিপাহীরা ছুটল তাকে বাঁচাতে। ওদিকে হেমন্তাই তখন একা মন্দিরের ভিতরে। দ্রুততার সঙ্গে তিনি মন্দিরের লোহার দরজাটা লাগানোর চেষ্টা করলেন। এখন বীরত্ব দেখানোটা মূর্খামি হবে সেটা তিনি জানেন। কোনো কারণে তিনি আহত হলে, সমস্ত কিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে। শয়তানটা সেদিকেই ধেয়ে গেল।

    দ্বিতীয় সহকারী কোনো উপায়ান্তর না দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও জড়িয়ে ধরল শয়তানটাকে। গ্রামবাসীদের অনেকে চিৎকার করে উঠল, “ধরো না ওকে, ধরো না ওকে।” কিন্তু হেমন্তাইকে বাঁচাতে হলে শয়তানকে আটকানো জরুরি ছিল। ততক্ষণে সিপাহীরা চলে এল। শয়তান ঘাড় ঘুরিয়ে প্রথমেই সহকারীর মাথায় তলোয়ার দিয়ে আঘাত করল। সে তার শেষ কার্যটি সুষ্ঠুভাবে সমাধা করে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। আঘাতে মৃত্যু হল তার। ততক্ষণে সিপাহীরা আর কাল বিলম্ব না করে শয়তানের মাথায় আঘাত করল। পরপর চারটে তলোয়ার কোপ এসে পড়ল মাথায়। মস্তক চারভাগ হয়ে তরমুজের মতো ছড়িয়ে পড়ল। সগর্বে চিৎকার করে উঠল সিপাহীরা। গ্রামবাসীরাও উল্লাসে ফেটে পড়ল। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন হেমন্তাই। কিন্তু খুশির দমকে গা ভাসালেন না। মন্দিরের লোহার দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে এলেন তিনি। প্রাঙ্গণে পড়ে-থাকা রক্তাক্ত একটা তলোয়ার তুলে নিলেন।

    একবার তাকালেন মাটিতে পড়ে থাকা শয়তানটার দিকে। সাদা পোশাকের উপর টাটকা রক্তের দাগ মিশে গিয়ে অদ্ভুত দেখাচ্ছে মৃতদেহটা। অগ্নিকুণ্ডের আলো পিছলে পড়ছে সেই রঙে। তলোয়ার হাতে চারদিকে তাকালেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে সমস্ত মৃতদেহ।

    গ্রামবাসীদের চোখে এখন খুশির ঝলক। তাদের উদ্দেশ্যে হেমন্তাই বললেন, “বিজয়ম।”

    ব্যস, আর দেখতে হল না। পুরো গ্রাম একত্রে হুল্লোর করে উঠল। গর্জন উঠল গ্রামে।

    “বিজয়ম, বিজয়ম, বিজয়ম।”

    সবাই গর্জে ওঠার পর হাত দেখিয়ে থামতে বললেন হেমন্তাই। তারপর ধীরে ধীরে হেঁটে হেঁটে সমস্ত মৃতদেহের সামনে গেলেন তিনি। প্রত্যেকটা মৃতদেহ পরখ করে দেখবেন এখন। পরখ করতেই করতেই বললেন, “কেউ মুখ থেকে কাপড় সরাবেন না। শয়তানগুলো মরেছে, জীবাণু মরেনি। ডোমদের ডাকুন আর যারা পরিষ্কার করবেন জায়গাগুলো তারাও এগিয়ে আসুন। আপনাদের জন্য বরাদ্দ পোশাক পরিধান করে এগিয়ে আসুন।”

    কথা বলছেন আর একটা একটা করে মৃতদেহ উলটে পালটে দেখে অপরটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

    পিছন পিছন সিপাহীরাও যাচ্ছে তাঁর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে। হেমন্তাই বললেন, “সিপাহীরা, তোমরা হচ্ছ এই যুদ্ধে সবচেয়ে সাহসী যোদ্ধা। তোমরা আছো বলেই আমরা আছি। কিন্তু এই যুদ্ধের শেষে আমাকেও কিছু অপ্রীতিকর কাজ করতে হয়। তোমরা যারা বেঁচে আছো তারা একটু নিজের শরীর পরীক্ষা করো। কোথাও কোনো কাটা বা ক্ষত আছে কি? থাকলে আমাকে জানাও, আমাকে দেখাও। তলোয়ারের ক্ষত হলে কিছু হবে না, শয়তানগুলোর দাঁত বা নখের আঁচড়ের ক্ষত থাকলে আমাকে দেখাও। শুশ্রূষা করে দিচ্ছি।” সিপাহীরা প্রত্যেকেই একবার করে নিজের সর্বাঙ্গ দেখে নিল।

    তারপর জানাল, “না হেমন্তাই। আমাদের গায়ে জানোয়ারগুলোর দাঁত বা নখের কোনো ক্ষত নেই। যে ক্ষতগুলো আছে সেগুলো যুদ্ধকালীন তলোয়ার বা বর্ষা লাগার ক্ষত। সেগুলো আমাদের নিজেদের অস্ত্রের দ্বারা হয়েছে।”

    হেমন্তাই নিশ্চিন্ত হলেন। কিন্তু তখনই কিছু দূরে শুয়ে থাকা এক সিপাহী, যাকে একটা শয়তান কামড়ে দিয়েছিল সে অনেক কষ্টে কথা বলল, “হেমন্তাই, আমার শুশ্রূষা করুন। আমাকে কামড়েছে ওরা।”

    হেমন্তাই সজাগ হলেন। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলেন তার দিকে। বাকিরাও এগিয়ে গেল। সত্যিই খুব বাজেভাবে কামড়ে দিয়েছে ওই শয়তানগুলো ওকে। গল গল করে রক্ত বেরুচ্ছে ক্ষতস্থান দিয়ে। হেমন্তাই তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “শরীরে কীরকম অনুভূতি হচ্ছে তোমার?”

    সেই সিপাহী তার বুজে আসা গলায় বলল, “মাথাটা ঘুরছে। মনে হচ্ছে রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে আমার।”

    “হুম! তোমার ওষুধের প্রয়োজন। তুমি কি উঠতে পারবে নিজে থেকে নাকি কেউ ধরলে সুবিধে হবে!”

    “চেষ্টা করছি হেমন্তাই, একা উঠতে চেষ্টা করছি।”

    “হ্যাঁ, আসলে তুমি ওদের সংস্পর্শে এসেছো তো, তাই তোমাকে এই মুহূর্তে ছোঁয়াটা উচিত হবে না।”

    হেমন্তাই কথা শেষ করে অপেক্ষা করতে লাগল। সিপাহী অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালো। তার কাঁধ অনেকটি বেঁকে গেছে। তার যে কষ্ট হচ্ছে উঠে দাঁড়াতে তা বোঝা যাচ্ছিল। ঘাড়ের অনেকটা অংশ জুড়ে দাঁতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

    সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “চলুন হেমন্তাই।”

    হেমন্তাই গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে ফিরে তাকালেন। তারপর বললেন, “সবাই শুনুন। যদি কখনো কোনো শয়তান দুর্ভাগ্যবশত আপনাকে কামড়ে দেয় বা তাদের রক্ত আপনাদের কারো রক্তে মিশে যায় তবে তৎক্ষনাৎ বাকিরা তাকে এই শুশ্রূষাটা দেবেন যেটা আমি এখন আমাদের এই বীর সিপাহীকে দেবো। মনে রাখবেন এটাই একমাত্র শুশ্রূষা। এর বাইরে আর কোনো ওষুধ কাজ করবে না।”

    গ্রামবাসীরা এক বাক্যে বলে উঠল, “ঠিক আছে হেমন্তাই।” ক্ষত চিহ্ন নিয়ে সিপাহীটি পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিল এসব।

    জীবনে প্রথমবার তাকে দেখিয়ে কেউ কিছু নির্দেশ দিচ্ছে দেখে গর্বে তার বুকটা বড় হচ্ছিল। ব্যথা সহ্য করে সে সোজা হয়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করছিল হাসি হাসি মুখ করে।

    কিন্তু হাসিটা ঠিক মতো ঠোঁটে আনার আগেই হেমন্তাইয়ের ধারালো তলোয়ারের আঘাতে তার মাথাটা ধর থেকে ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। ধর ধীরে ধীরে হাঁটু ভেঙে শুয়ে পড়ল মাটিতে।

    এক ঝটকায় সম্পূর্ণ গ্রাম আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই, সামান্য আবেগটুকুও আসার অবকাশ মিলল না। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল এই বিপর্যয়, তাও খোদ হেমন্তাইয়ের হাতে। হেমন্তাই তলোয়ারটা রেখে দিলেন মাটিতে। তারপর বললেন, “তাহলে বোঝা গেল শুশ্রূষা! শয়তানের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত যেকোনো মানুষের একটাই শুশ্রূষা, তাকে যথা শীঘ্র মস্তক ছেদন করে হত্যা করো। না হলে সেও একটা শয়তানে পরিণত হবে। আর এই পরিবর্তন খুব তাড়াতাড়ি হয়। এই জীবাণু একবার কারো রক্তে প্রবেশ করলে সেই ব্যক্তিকে আমরা মৃত বলে ধরে নেবো। তখন তাকে মারতে আমাদের আর হাত কাঁপবে না। আর যদি আমরা তা না করতে পারি, এই গ্রাম হোক বা এই শহর বা এই মানবসভ্যতা —কোনোটাই শেষ হতে বেশি দেরি লাগবে না। আমি কি তোমাদের বোঝাতে পেরেছি।”

    হেমন্তাই কথা শেষ করার পরেও গ্রামবাসী আগের মতো উচ্ছ্বাস আর দেখাতে পারল না। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রত্যেকের মনই উদ্বেল হয়ে পড়েছে। আবেগশূন্য দৃষ্টি নিয়ে শুধু মাথা নাড়ছে সবাই। হেমন্তাই ব্যাপারটা ধরতে পেরে এবার গর্জন করে উঠলেন, “এবার সম্পূর্ণ বিজয়ম।”

    এবার সকলের সম্বিত ফিরল। সকলে তারস্বরে গর্জন করলেন, “বিজয়ম। বিজয়ম। বিজয়ম।”

    হেমন্তাই মন্দিরে ফিরে গেলেন। পরবর্তী দু-ঘণ্টায় ডোমেরা প্লাস্টিকের পোশাকে এসে দাহ কার্য শুরু করল।

    গ্রাম পরিষ্কারের দায়িত্ব যাদের হাতে তারা প্লাস্টিকের পোশাক এবং মুখোশ পরে গ্রাম পরিষ্কার শুরু করলেন। ততক্ষণে প্রায় ভোর হয়ে এল।

    যখন শ্মশানে প্রায় সমস্ত চিতা জ্বলে উঠল হেমন্তাই পুনরায় গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, “এবারে সময় উপস্থিত। ওদের নিয়ে আসুন।”

    শ্মশানক্ষেত্র খুব দূরে নয়। গ্রামেরই এক অংশে এই শ্মশান। এতগুলো মৃতদেহ চিতায় জ্বলছে। ফলে চারদিকে ধোঁয়া বাড়তে লাগল।

    এরই মধ্যে হেমন্তাইয়ের নির্দেশ পালনের প্রস্তুতি শুরু হল। ইতিমধ্যে বারোজন উপজাতি তাদের স্বদেশীয় বেশভূষায় উপস্থিত হল।

    কটিদেশে রামধনু রঙের বস্ত্র, উর্ধাঙ্গে উপবীতের মতো পরিহিত এক খণ্ড বস্ত্র, হাতে বাজুবন্ধ, গলায় মালা, মাথায় ময়ূরপঙ্খী টুপি।

    হেমন্তাই সবাইকে দেখে নির্দেশ দিল, “আমাদের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, তাদের সসম্মানে এখানে উপস্থিত করো। আজই ওদের আমাদের সঙ্গে শেষ রাত। মায়ার বন্ধন ত্যাগ করে ওদের যেতে হবে। ওদের প্রাপ্য সম্মানে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। যাও ওদের নিয়ে এসো।”

    বারোজন উপজাতি পুরুষ গ্রামের উত্তরদিকে রওনা হল। প্রায় কুড়ি মিনিট হেঁটে যাবার পর একটা আবাসগৃহ চোখে পড়ল।

    সেখানে একজন গুরুদেব অপেক্ষায় ছিলেন। মুণ্ডিত মস্তক সেই গুরুদেব বারোজন উপজাতিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন।

    তারপর বললেন, “আপনারা যাদের নিতে এসেছেন তারা তৈরি। সমস্ত শিক্ষায় ওরা শিক্ষিত ও পারদর্শী। ওদের সসম্মানে নিয়ে যান।”

    বারোজন উপজাতির প্রত্যেকের কাছে একটি বাদ্যযন্ত্র ছিল। ছোট একটি ড্রাম ও বাঁশি। ওরা সেগুলো বাজাতে আরম্ভ করলেন। একই সুর একই তালে বাজতে লাগল প্রত্যেকের বাদ্যযন্ত্র।

    শব্দ হবার মিনিটখানেকের মধ্যে আবাসন থেকে বেরিয়ে এল বারোজন যুবক।

    ওদের হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে যে শয়তানদের কিছুক্ষণ আগে হত্যা করা হল ওরা যেন তারাই।

    সেই মুণ্ডিত মস্তক, সেই সাদা আলখাল্লা, একটা নিরাভরণ। শুধু পার্থক্য এই যে ওরা সম্পূর্ণ মানুষ আর শয়তানগুলো ছিল রাক্ষস।

    ওদের বরং যুব সাধকদের মতো দেখাচ্ছে।

    একেকজন উপজাতির কাছে একেকজন মুণ্ডিত মস্তক যুব সাধক এসে দাঁড়ালেন। আবাসনের গুরুদেব এসে সবাইকে একে একে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

    তারপর সবার উদ্দেশ্য বললেন, “শুভ মস্তু।”

    একেকজন উপজাতি একেকজন যুব সাধককে সসম্মানে সঙ্গে নিয়ে সারা রাস্তা ড্রাম ও বাঁশি বাজাতে বাজাতে নিয়ে এল।

    রাস্তার দু-ধারে গ্রামের মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওরা এই বারোজন যুব সাধকের উপর পুষ্পবৃষ্টি করতে লাগল।

    যতক্ষণ তারা রাস্তায় হেঁটে হেমন্তাইয়ের কাছে পৌঁছালেন ততক্ষণ বাজনা ও পুষ্পবৃষ্টি চলতে লাগল।

    হেমন্তাই ওদের দেখে খুশি হলেন। প্রাণ ভরে ওদের দেখতে লাগলেন। ওরা এসে হেমন্তাইয়ের সামনে অগ্নিকুণ্ডের কাছে পাতা বারোটি আসনে বসল।

    তারপর হেমন্তাই উঠে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষণ ধরে বারোজনকে প্রদক্ষিণ করলেন এবং মন্ত্রোচ্চারণ করতে লাগলেন। একসময় মন্ত্রোচ্চারণ শেষ হতে অগ্নিকে ঘৃতাহুতি দিলেন।

    আগুন পুনরায় বলবান হয়ে উঠল। লাল শিখা নিয়ে জ্বলতে লাগল আগুন। হেমন্তাই নির্দেশ দিলেন, “ভোজনম।”

    এই নির্দেশেরই অপেক্ষায় ছিল যেন সকলে। থরে থরে সাজানো থালা এসে হাজির হতে লাগল যুব সাধকদের সামনে।

    বারোজনকে বারোটি থালা দেওয়া হল। একেকটি থালার ব্যসার্ধ যেন পূর্ণিমার চাঁদের থেকেও বড়। কী ব্যঞ্জন নেই সেই থালায়।

    নিরামিষ, আমিষ, ফল, মিষ্টান্ন- পৃথিবীর প্রায় সমস্ত খাবার সেখানে উপস্থিত। পরবর্তী এক ঘণ্টা ওদের খাওয়ার সময় নির্ধারিত হল।

    যতক্ষণ ওরা খেল ততক্ষণ হেমন্তাই মন্ত্র পড়লেন এবং পুজো দিলেন। দেবতাকে খুশি করতেই এই সমস্ত আয়োজন।

    দেবতার গ্রাস ও যুব সাধকদের গ্রাস প্রায় একত্রে সম্পন্ন হল। হেমন্তাই আবার নির্দেশ দিলেন, “মিলনম।”

    এবার এই পর্বের সবচেয়ে দুঃখজনক ধাপের শুরু হল। এই বারো যুব সাধকের পরিবারের সকলে এসে একে একে দেখা করতে লাগল এদের সঙ্গে।

    প্রত্যেকেই প্রায় ছলছল নয়নে ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে এই জীবনের শেষ আবেগপূর্ণ কথাগুলো বললেন।

    বারোজন যুব সাধকদেরও দেখা গেল একটু আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছেন তারা। হেমন্তাই যখন এটা লক্ষ্য করলেন সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করলেন, “বিয়োগম।”

    হেমন্তাই জানেন সামনে কঠিন সংঘর্ষ। তাই যুব সাধকদের দুর্বল হতে দিলে চলবে না। বিয়োগম বলা-মাত্র পরিবারকে নিষ্কাশিত করা হল ওদের সামনে থেকে। এবার মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করলেন হেমন্তাই। বাইরে এসে দেখলেন বারোজন যুব সাধকের সামনে বারোটি হাড়ি এনে রাখা হয়েছে।

    তিনি নিজে একটি ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন মন্দির থেকে। হেমন্তাই প্রত্যেক হাড়ির সামনে গেলেন এবং তাতে মিশিয়ে দিলেন ঝুড়ি থেকে বের করা এক মুঠো পদার্থ।

    এটা যে কী বস্তু তা একমাত্র হেমন্তাইয়েরাই জানেন। বারো হাড়িতে বারো মুঠো মিশিয়ে দেবার পর নিজে এগিয়ে গেলেন প্রত্যেকের কাছে এবং সেই হাড়ির জলে প্রত্যেককে স্নান করালেন নিজ হাতে।

    এই শীতের সাত-সকালে হাড়ির মিশ্রণে স্নান করে ভিজে একসা হয়ে গেল যুব সাধকেরা।

    তবুও ওদের দেখে মনে হল না ঠান্ডায় ওরা কষ্ট পাচ্ছে। এরকম আরও অনেক বিদ্যাই ওদের আবাসনে ওদের গুরুদেব ওদের শিখিয়েছেন।

    এর চেয়ে খারাপ অবস্থাতে থাকার বিদ্যেও এদের রপ্ত আছে।

    স্নান কর্ম শেষে হেমন্তাই বারোজনকে প্রণাম করলেন, “প্রস্থানম।” গ্রামবাসী সকলে উলুধ্বনি দিয়ে উঠল। বারোজন যুব সাধক পিছনে ফিরেও তাকাল না।

    নিজেদের আসন ত্যাগ করে সোজা জঙ্গলের দিকে রওনা দিলেন তারা।

    পিছন পিছন অনেকটা দূর অব্দি গ্রামবাসীরা এল, উলুধ্বনির শব্দ শোনা গেল পুরো জঙ্গল জুড়ে।

    একসময় জঙ্গলের এক কিলোমিটার অঞ্চল ওরা পেরিয়ে আরও ভিতরে প্রবেশ করল।

    ধীরে ধীরে সাদা ভিজে পোশাক পরিহিত যুব সাধকেরা জঙ্গলে হারিয়ে গেলেন। গ্রামবাসীরাও ফিরে এল গ্রামে।

    ফিরে এসে দেখল হেমন্তাই নিজের মাথার হেমন্তাই টুপি খুলে ফেলেছেন। তিনি আর হেমন্তাই রইলেন না। নতুন হেমন্তাইয়ের খোঁজ চলবে এবার।

    জঙ্গলের দেবতার সামনে প্রণিপাত হয়ে শুয়ে আছেন প্রাক্তন হেমন্তাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়াজাতক – অমৃতা কোনার
    Next Article মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    Related Articles

    কোয়েল তালুকদার

    দাঁড়াও সময় (কাব্যগ্রন্থ) – কোয়েল তালুকদার

    January 6, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    মাধবীরা কেউ নেই – কোয়েল তালুকদার

    January 5, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    শুক্লপক্ষের তারা – কোয়েল তালুকদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }