Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী

    কোয়েল তালুকদার এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৃত কৈটভ ১.৪

    (8)

    গতকাল বাংলোয় আসার পর থেকে এখনও অব্দি বেরোয়নি রামানুজ। দিল্লিতে গতকাল রাতেই কথা হয়েছে। কথা হয়েছে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গেও।

    এস পি রাকেশ সিনহা নিজে সরেজমিনে সাহায্য করবেন কথা দিয়েছেন। আজ সকাল থেকেই রামানুজের মেজাজটা বেশ ফুরফুরে হয়ে আছে।

    নিজের ফরেস্ট অফিসারের ইউনিফর্ম পরে বসে আছে সে। সামনে যতদূর চোখ যাচ্ছে সবুজের সমারোহ।

    ত্রিপুরাকে যে পার্বত্য রানি বলা হয়, সে কথা যে মিথ্যে নয় একদিনে বুঝে গেছে রামানুজ।

    বড়মুড়া পাহাড় রেঞ্জটা দিনে দিনে আরও ভালো করে দেখতে হবে। খুব সুন্দর এই অঞ্চল।

    তবে সমস্যা একটাই, মোবাইলের নেটওয়ার্ক সবসময় সমানভাবে থাকে না। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে অসুবিধা হচ্ছে।

    বাংলোর বাইরে ব্রেকফাস্ট টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই বসে আছে রামানুজ। দাসবাবুও চলে এলেন কিছুক্ষণের মধ্যেই।

    ভদ্রলোককে আসা ইস্তক ফর্মাল পোশাকেই দেখে আসছে রামানুজ। এত ফর্মালিটির মধ্যে থাকলে আসল কাজের ইনফরমেশন পেতে অনেক সময় দেরি হয়।

    তাই রামানুজ আজ কিছুটা হালকা চালেই কথা শুরু করে।

    “গুড মর্নিং দাসদা।”

    বসের মুখে দাদা শব্দ শুনে দাসবাবু কিঞ্চিৎ সংকুচিতই হয়ে গেলেন। বললেন, “গুড মর্নিং স্যর।”

    “অফ ডিউটি আমাকে রামানুজ বলতে পারেন, অসুবিধা নেই।” রামানুজ যতই আন্তরিকভাবে বলুক না কেন, দাসবাবু লজ্জায় জিভ কাটলেন।

    বললেন, “তা হয় না স্যর। আচ্ছা গতকাল খাবার দাবার ঠিক লেগেছে তো?”

    “দারুণ হয়েছিল। পাঁঠার ঝোলটা মুখে লেগে আছে।”

    “হ্যাঁ স্যর। এই অঞ্চলে কচি পাঁঠাই পাওয়া যায়। শুধু এখানে নয় পুরো ত্রিপুরাতেই। এখানে খাসির চল নেই বিশেষ।”

    “বাহ! তাহলে মাঝে মাঝেই এই ব্যবস্থাটা হোক। আর শুনুন, সারাদিন মানে বাড়িতে থাকলেও যে আপনাকে এরকম ফর্মাল পোশাকে আমার সামনে ঘুরতে হবে তার মানে নেই। অফিস আওয়ারের বাইরে আপনি স্বচ্ছন্দে বাড়ির পোশাক পরতে পারেন। আর এই কথাটাও যদি অনুরোধ করে বলছি মনে করেন তবে ভুল করবেন।”

    বলেই একটা কড়া চাহুনি দিল রামানুজ। তাতে দাসবাবু ঢোক গিললেন। দাসবাবুর চেহারা দেখে রামানুজ হাসি আটকাতে পারল না।

    হেসে উঠল দু-জনেই।

    ব্রেক ফাস্ট চলে এল। বেতের ঝুড়ি ভর্তি ডিম টোস্ট, সবড়ি কলা, গ্রীন টি, ক্রিমক্রেকার বিস্কুট। ডিম টোস্টটার স্বাদই আলাদা।

    সত্যি রাধামাধবের রান্নার হাত দারুণ!

    চা খেতে খেতে দাসবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “আজকের প্ল্যান অফ অ্যাকশান কী স্যর?”

    রামানুজ মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে বলল, “কিছু না। যাবো গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলবো। এটুকুই।”

    দাসবাবু কিন্তু রামানুজের এই উত্তরে সন্তুষ্ট হলেন না। গতকাল তিনি যা ট্রেইলার দেখেছেন তারপর থেকে ভয়ে আছেন যে সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র ঠিক কেমন হতে চলেছে।

    কিছুক্ষণের মধ্যে ওরা বাংলো থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল।

    “অজিতদাও বাংলোয় থাকছেন নাকি।” গাড়িতে উঠে জিজ্ঞেস করল রামানুজ।

    “হ্যাঁ, ওকেও থাকতে বলেছি নীচের ঘরে। আপনার কখন গাড়ির দরকার পড়ে তো বলা যায় না।”

    রামানুজ খুশি হল। বলল, “ভালো করেছেন।”

    মূল রাস্তা থেকে ডানদিকে মোড় নিয়ে গ্রামে ঢুকতে হল। এত বড় গাড়ি গ্রামের ভিতরে ঢোকা-মাত্র গ্রামবাসীরা যে যা কাজ করছিলেন তা থামিয়ে দিল।

    গাড়িটার দিকেই ওদের দৃষ্টি সন্নিবদ্ধ হল। রামানুজ সেসবকে বিশেষ পাত্তা না দিয়ে গাড়ি থেকে নামল।

    আজ তার কাঁধে একটা রাইফেলও আছে। সেটা সে গাড়ি থেকে নামার সময় কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়েছে।

    পরনেও খাঁটি কেমোফ্লাজ ফরেস্ট অফিসারের ইউনিফর্ম। এই বেশে তাকে দেখে গ্রামবাসীদের কৌতূহল হলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে এল না।

    সে তার নিজের মতো গ্রামের এ মাথা ও মাথা হেঁটে দেখতে লাগল। পিছন পিছন দাসবাবু হাঁটতে লাগলেন।

    রামানুজ দেখল গ্রামের ঠিক মাঝখানে অর্থাৎ নাভিস্থলে রয়েছে এক মন্দির।

    উচ্চতায় বড় জোর কুড়ি-পঁচিশ ফুট উঁচু, তাতেও একটা ছোট চূড়া বর্তমান।

    সম্পূর্ণ মন্দিরটা একটা বট বা অশ্বত্থ গাছের নীচে অবস্থিত। বট বৃক্ষটাই মন্দিরটার আচ্ছাদন। মন্দিরের সামনে একটা ছোট প্রাঙ্গণ। মন্দিরের রঙ লাল, এমনকি মন্দির প্রাঙ্গণের মেঝে থেকে শুরু করে সমস্তটাই লাল রঙের।

    মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেল রামানুজ।

    মন্দিরের গেট পেরিয়ে প্রাঙ্গণে ঢুকতে যাবে এরকম সময়ে কেউ একজন পিছন থেকে নির্দেশ দিল, “ভিতরে ঢুকবেন না।”

    রামানুজ থেমে গেল। পিছনে ফিরে তাকাল। তাকিয়ে দেখল সেখানে দাঁড়িয়ে আছে গতকালের মোড়ল-স্থানীয় লোকটা।

    হঠাৎ করে দেখলে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের ভিলেন ডেনি সাহেবের মতো দেখতে লাগে। শরীরটাও একইরকম পেটানো। সে এদিকেই এগিয়ে এল।

    তারপর আবার বলল, “আপনি মন্দিরে প্রবেশ করবেন না।”

    রামানুজ রোদ-চশমা নামিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কেন?”

    লোকটা যারপরনাই রুষ্ট হয়ে বলল, “আপনি গ্রামের কেউ নন। আমাদের গ্রামবাসী তথা আমাদের জাতের উপজাতি ভিন্ন আমরা দেবতার মুখ কাউকে দেখতে দিতে পারি না।”

    রামানুজ কথাটা হাসিতে উড়াবার কথা ভেবেও সংযত থাকল। হাজার হোক ডিউটিতে আছে এখন।

    বলল, “স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে এই দেবতা দর্শন পড়ে না?”

    লোকটা কথাটার উত্তর না দিয়ে বলল, “আপনার কাজের অংশ নিশ্চয়ই এটা নয়। কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার কাজ ভারত সরকার বা ভারতের সংবিধান করে বলে আমি জানি না।”

    রোদ-চশমাটা পুনরায় পরে ফেলল রামানুজ। ধর্মানুভূতির উপর কথা চলে না ভারতবর্ষে। এই একটা জায়গায় সবার হাত পা বাঁধা।

    সে বলল, “ঠিক আছে। সে না হয় না-ই বা দেখলাম। কিন্তু জঙ্গলটা তো দেখতে হবে। জঙ্গল পরিষ্কারও করতে হবে। সরকার তরফে এইটুকু করতে পারি?”

    শেষের কথাগুলো যে ব্যাঙ্গাত্মক তা একটা বাচ্চাও বুঝতে পারবে। মোড়ল আজ নিজেকে সংযত করে ফেলেছে গতকালের অভিজ্ঞতার পর।

    এই অফিসার যে আর যা-ই হোক বাকিদের মতো নয় বা একে যে ভয় দেখিয়ে কিছু করা যাবে না তা সে বুঝে গেছে।

    সে বলল, “জঙ্গলে ঢুকবেন না স্যর। তাতে আপনারই অমঙ্গল হবে।”

    রামানুজ হাত দেখিয়ে থামাল তাকে, “এটা কি হুমকি? তাও অন ডিউটি অফিসারকে?”

    “না স্যর, এটা আপনার খেয়াল রেখেই বললাম। আপনি আমাদের গ্রামে অতিথির মতো। আপনি আমাদের গ্রামের বিষয়ে কিছুই জানেন না। সে জায়গায় আপনাকে হুমকি দেওয়া আমার সাজে না। আপনি নিশ্চয়ই আপনার ঊর্ধ্বতনের আদেশ মোতাবেক আপনার কাজ করতে এখানে এসেছেন। স্থানীয় হিসেবে আমার দায়িত্ব আপনাকে সাহায্য করা। জঙ্গলে আপনাকে ঢুকতে দিলে, না আপনার সাহায্য হবে না আমাদের। তাই বারণ করছি।”

    মোড়ল থামলে রামানুজ গদগদ হয়ে বলল, “উফ দারুণ! এই না হলে আতিথেয়তা! আপনি যে আমার কথা এভাবে ভেবেছেন ভেবেই আপ্লুত হচ্ছি। কিন্তু আমাকে যে আমার কাজ করতেই হবে।”

    লোকটা এবার অনুনয় করতে শুরু করল, “স্যর এই কাজটা করবেন না। অনর্থ হয়ে যাবে। কেউ বাঁচবো না আমরা।”

    “তোমাদের কিছু হবে না। আমরা তোমাদের গ্রাম নেবো না। বরং তোমরা এখানে অনেক কর্মসংস্থান পাবে।”

    আপনির সহবত ছেড়ে এবার রামানুজ তুমিতে চলে এল। তার আর এসব কুসংস্কার ভালো লাগছিল না। কিন্তু লোকটা নাছোড়বান্দা।

    রামানুজ একটু জঙ্গলের দিকে মুখ করে হাঁটতেই লোকটা দৌড়ে সামনে চলে এল।

    হাত জোড় করে বলল, “স্যর, জঙ্গলে যাবেন না। বিপদ আছে।”

    “আরে মশাই আমাদের জঙ্গল নিয়েই কাজ। পশুপাখি কিছু এলে এই বন্দুক দিয়েই ঠান্ডা করে দেবো। কই দাসবাবু চলুন। একটু ভিতর থেকে ঘুরে আসি।”

    লোকটা এবার উপায়ান্তর না-পেয়ে রামানুজের পা ধরে ফেলল। গ্রামবাসীরাও পিছু পিছু আসছিল। ওরা এই দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠল।

    কয়েকজন স্বাস্থ্যবান উপজাতি গ্রামবাসী মন্দিরের পাশেই একটা কুঁড়ে ঘরের ভিতর প্রবেশ করল তৎক্ষণাৎ।

    “আপনি ভিতর যাবেন না স্যর। অনর্থ হয়ে যাবে। আমাকে ক্ষমা করবেন, কিন্তু আমি আপনাকে জঙ্গলের ভিতরে যেতে দিতে পারি না।”

    রামানুজ দেখল এত আজব সমস্যা। লোকটা পাগল নাকি! জঙ্গলে এরকম কী আছে যার জন্য এত তামাশা করছে লোকটা।

    এতে করে তার কৌতূহল আর জেদ আরও বেড়ে যাচ্ছিল। সে লোকটাকে দুই হাত দিয়ে টেনে উঠাবার চেষ্টা করে।

    “আপনি পা ছাড়ুন আমার। উঠুন আপনি। এসব কী করছেন! সরকারি কাজে এভাবে বাঁধা দেবেন না। এবার কিন্তু আমি আপনাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হবো।”

    “দয়া করে যাবেন না জঙ্গলে। দেবতা রুষ্ট হবেন। আমাদের মানবসভ্যতার বিনাশ হয়ে যাবে।”

    “কী আবোলতাবোল বলছেন। দাসবাবু ওকে তুলুন। নইলে আমি গুলি চালাতে বাধ্য হবো।”

    দাসবাবু এসে মোড়লকে অনেক অনুনয় বিনয় করে তোলার চেষ্টা করলেও তিনি অনড় থাকলেন। রামানুজের পা ধরে বসে রইলেন মাটিতে।

    রামানুজ এবার বাধ্য হল কাঁধ থেকে রাইফেল হাতে নিতে। মোড়লের দিকে তাগ করে বলল, “আপনি উঠবেন নাকি আমি আপনাকে ঘায়েল করবো?”

    “যা ইচ্ছে করুন, আমি আপনাকে জঙ্গলে যেতে দেবো না।”

    এদিকে মোড়লের উপর এভাবে বন্দুক তাগ করতে দেখে কয়েকজন শক্ত সামর্থ উপজাতি, যারা একটা কুঁড়ে ঘরের ভিতরে ঢুকেছিল চিৎকার করে এগিয়ে এল।

    মুহূর্তের মধ্যে ওরা ঘিরে ফেলল রামানুজকে। ওদের প্রত্যেকের হাতে তীর ধনুক।

    গোল বেষ্টনীর ঠিক মাঝখানে রাইফেল হাতে রামানুজ, তার পায়ে জড়িয়ে ধরা মোড়ল এবং কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দাসবাবু।

    গোল বেষ্টনী করা উপজাতি যুবকের তীরের ফলা তাগ করে আছে রামানুজের মাথা।

    মোড়ল চিৎকার করে বলল, “ওরে, তোরা কিছু করিস না।”

    কে শোনে কার কথা।

    “নিজের লোকেদের এভাবে লেলিয়ে দিয়ে ভালোমানুষি করার কী দরকার! অন ডিউটি অফিসারের গায়ে হাত দিচ্ছো তোমরা। পুরো গ্রাম জেলে পঁচবে।”

    রামানুজের হুঙ্কারে যুবকদের একজন বললেন, “আমাদের গ্রামের হেমন্তাইয়ের জন্য আমরা প্রাণ অব্দি দিতে পারি, প্রাণ নেওয়া এমন আর কি!”

    রামানুজ অবাক হল, “হেমন্তাই, মানে?”

    মোড়ল বলল, “ওরে তিনি এসব কিছু জানেন না। তোরা থাম। অস্ত্র সংবরণ কর।”

    কিন্তু মোড়লের কথাতে কোনো কাজ হল না। এ এক বিষম পরিস্থিতি।

    একদিকে পাঁচ উপজাতি যুবক তীর তাগ করে আছে রামানুজের দিকে, অন্যদিকে রামানুজ রাইফেল তাগ করে আছে মোড়লের দিকে, মোড়ল পা আঁকড়ে বসে আছে আর দাসবাবু চারদিকে তাকাচ্ছেন চোখে মুখে ভয় নিয়ে।

    ঠিক তখনই গুলির শব্দটা হল। ডুমুর গাছের মাথার উপর এক ঝাঁক পাখি বসেছিল, সবগুলো একত্রে উড়ে গেল। গ্রামবাসী চমকে উঠল।

    দাসবাবুর হৃদস্পন্দন প্রায় থেমে গেল।

    “তোমরা তীর ধনুক হাত থেকে ফেলে দাও। হেমন্তাই মহারাজ আপনি রামানুজবাবুর পা ছাড়ুন।”

    এস পি রাকেশ সিনহা ফোর্স নিয়ে এসেছেন। পুলিশ ফোর্স এসে উপজাতিদের তীর ধনুক কেড়ে নিল।

    মোড়ল লোকটাও এবার পা ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। রামানুজ রাইফেলটা পুনরায় কাঁধে চালান করল।

    “সরি স্যর, আমার আসতে দেরি হয়ে গেল।”

    রাকেশ সিনহা প্রথমেই ক্ষমা চাইলেন রামানুজের কাছে। তারপর বললেন, “এরা একটু স্পর্শকাতর নিজের দেবতা ও জঙ্গল নিয়ে। তাই এরকম ঘটনা আকছার ঘটে। তবে এভাবে আপনাকে ঘেরাও করবে জানলে আমি শুরু থেকেই ফোর্স মোতায়েন করে দিতাম। এক্সট্রিমলি সরি স্যর।”

    রামানুজের জীবনে এরকম ঘটনা প্রথম নয়। সে সামলে নিয়েছে। বলল, “এসব ছাড়ুন। জঙ্গলে ঢোকার প্ল্যান করছিলাম। ফোর্সও যখন এসে গেছে, চলুন ঢুকে পড়ি।”

    সিনহা সাহেব চারদিকে একবার চোখ বুলিয়ে রামানুজকে একটু কিনারে নিয়ে গেলেন, বাকিদের থেকে দূরে।

    তারপর বললেন, “হুট করে ঢুকে যেতেই পারি ভিতরে। কিন্তু স্যর, আজ হোক বা কাল এই প্রোজেক্ট করতে

    হলে গ্রামবাসীদের সাহায্য যে লাগবে আপনি তো জানেনই। আজকে এইরকম মারমুখী একটা ঘটনা ঘটে যাবার পর জঙ্গলের ভিতরে না-গেলেই ভালো।

    তবুও আপনি যদি নেহাত যেতে চান তবে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”

    রামানুজ কথাটা গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখল। তারপর ভাবল সিনহা কথাটা মন্দ বলেননি। এমনিতেও এখানে অনেকটা সময়ই থাকতে হবে। তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। যাওয়া যাবে আরেকদিন। সে বলল, “বেশ তবে আরেকদিনই যাবো না হয়।”

    সিনহা খুশি হলেন। হাসিমুখে বললেন, “চলুন আগরতলাটা ঘুরে আসি। এই অঞ্চলটাও একটু ঘুরে দেখুন। স্থানীয় অভিজ্ঞতা প্রয়োজনে কাজে লাগবে।”

    “চলুন।”

    গ্রাম থেকে বের হবার পথে রামানুজ দেখল মোড়ল আর উপজাতি যুবকদের পুলিশ এক কোনায় আটকে রেখেছে। সেদিকে এগিয়ে গেল রামানুজ।

    “ছেড়ে দিন ওদের। সব মিলিয়ে ঘটনাটা ঘটেছে। এক পক্ষকে দোষ দেওয়া উচিত হবে না।”

    রামানুজের এহেন কথায় শুধু এস পি নন, অবাক হল মোড়লও।

    সিনহা সতর্কবার্তা দিলেন, “স্যরের উপরে ভবিষ্যতে একটা ছোট আক্রমণও যদি হয় এই গ্রামের সবাইকে জেলে পুড়ব। কথাটা যেন মনে থাকে। তারপর সাধের জঙ্গল কে সামলাবে দেখব। কী হেমন্তাইজী, মনে থাকবে তো।”

    মোড়ল লোকটাই যে হেমন্তাই রামানুজ এতক্ষণে বুঝে গেছে। সে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।

    রামানুজ শুধু তার দিকে তাকিয়ে একটি কথাই বলল, “যদি সাহায্য করেন আমার তরফ থেকে সমস্ত সাহায্যের হাত বাড়ানো থাকবে। আর যদি না করেন, সেক্ষেত্রেও আমাকে দায়িত্ব করতেই হবে। আপনারা ভাবুন।”

    পরপর সমস্ত গাড়ি নিয়ে একে একে সবাই বেরিয়ে গেল। রামানুজ বেরোবার পথে দেখল গ্রামের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলোর কেয়ারটেকার কাঞ্চন।

    কাঞ্চনও তাকিয়ে রইল রামানুজের দিকে। ধুলো উড়িয়ে গাড়ি চলে গেল আগরতলার দিকে।

    রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে কথা হচ্ছিল। সিনহা সাহেব জাতে মণিপুরি।

    ঠোঁটের উপর হালকা গোঁফ ও সাবেকী কথাবার্তার ধরন জাতিগত পরিচয় বহন করে বৈকি। রামানুজ এটা খেয়াল করেছে।

    সিনহা সাহেব হালকা চালে বললেন, “চলুন ত্রিপুরা ঘুরে দেখি আমরা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বেরিয়ে পড়া যাক।”

    রামানুজ আগ্রহ দেখাল। বলল, “খুব ভালো হয়। আর কি বলুন তো, জায়গা শুধু দেখা নয়, আমার টান আছে সেই জায়গার ইতিহাস সম্পর্কে জানারও।

    সেরকম যদি কিছু জায়গা থাকে যার স্থান মাহাত্ম্য বা ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় তবে আমি সেইসব জায়গা ঘুরে দেখতে বেশি আগ্রহী।” দাসবাবুও এই গাড়িতেই উঠেছিলেন। বললেন, “তাহলে তো স্যর এখানে সেরকম অনেক জায়গাই আছে।

    ধীরে ধীরে দেখা যাবে না হয়। আপনি তো আছেন ক-টা দিন।”

    রামানুজ মাথা নাড়ল, “হ্যাঁ, তা তো যদ্দিন না সরেজমিনে তদন্ত করে একটু হেস্তনেস্ত করতে পারছি আছিই। আজকেই যা হল, তারপর মনে হচ্ছে এ অঞ্চলে কাজ করাটা সমস্যার। ধরুন আমি জঙ্গল দেখে সার্টিফাই করে দিলাম যে এই জঙ্গল উপযুক্ত। তারপর যেসকল কন্ট্রাক্টর জঙ্গল সাফ করতে আসবে, এরও অনেক পরে যেসব ব্যবসায়ী আসবে তাদেরও তো এইসব আদিবাসীরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে দেবে বলে মনে হয় না। আমি ত্রিপুরার প্রায় সমস্ত রবার বাগানের রিপোর্ট দেখেছি। এর চেয়ে নিরুপদ্রবে ব্যবসা আর কোথাও হয় না। কিন্তু এখানেই তো ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে যাবেন। ফলে আখেরে তো প্রোজেক্টটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অথচ মন বলছে এই অঞ্চল রবার চাষের অত্যন্ত

    উপযোগী। এত হাজার হাজার

    একর অরণ্য বছরের পর বছর নষ্ট হবে, নিদেনপক্ষে চাষবাসের উপযোগীও হবে না শুধুমাত্র অন্ধ কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে।

    না এরকমটা ঠিক হতে দেওয়া যায় না। আপনাদের কী মতামত?”

    রামানুজের বক্তব্য শেষে এস পি সিনহা মাথা নাড়লেন। বললেন, “আপনি যা বলছেন তা সর্বতোভাবেই সত্য। কিন্তু আমি আপনাকে বলি, সমগ্র ত্রিপুরায় শুধুমাত্র আমরা এই জঙ্গলটাতেই পেনিট্রেট করতে পারিনি। বাকি সমস্ত উপজাতিরা নিজেদের জায়গায় আমাদের সমস্ত সুবিধেসহ কাজ করতে দিয়েছে। কিন্তু এখানেই আমরা বাধা পেয়েছি। এরকম নয় যে বাধা পেয়ে আমরা দমে গিয়েছি। আমরা চোরাপথে জঙ্গলে ঢুকেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যারা ঢুকেছিলেন তাদের কাউকে আমরা আর নিজের চোখে দেখতে পাইনি। আর এখানেই এই গ্রামবাসীদের বক্তব্যকে সমর্থন করার মতো যুক্তি পাওয়া যায়।”

    রামানুজ কথার মাঝেই বললেন, “দাঁড়ান দাঁড়ান, এটা কীভাবে যুক্তি হতে পারে! যদি আমাদের ফোর্সের লোক নিখোঁজ হয়েই থাকেন তবে সেটা নিয়ে তদন্ত হল না কেন? এই গ্রামবাসীরাই তো খুনি সাব্যস্ত হতে পারে। তাই নয় কী!”

    সিনহা মাথা নাড়লেন। বললেন, “অত কাঁচা কাজ কী আমরা করবো? এই জঙ্গলের প্রথম কিলোমিটার অবধি অঞ্চলে যাওয়া যায়। তারপর থেকে যে অঞ্চল শুরু হয় সে অঞ্চল ভয়াবহ। এই দেখুন মানচিত্র।”

    সিনহা গাড়ির ভিতর থেকে একটা মানচিত্র বের করলেন। বড় গাড়ি। মানচিত্র মেলে ধরতে অসুবিধে হল না।

    “এই দেখুন এটা হচ্ছে গ্রাম। এই হচ্ছে জঙ্গল। জঙ্গলের এক অংশ গিয়ে ঠেকেছে বাংলাদেশে। কিন্তু সেই অংশ এবং বাংলাদেশ বর্ডারের মধ্যে দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটারের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে দেখলেও এই গ্রামের মতোই ব্যাপার। সাইডের অংশ স্বাভাবিক, ভয়-ডরহীন এলাকা। কিন্তু যেই জঙ্গলের গর্ভে আমরা প্রবেশ করি সঙ্গে সঙ্গে চারদিক দিয়ে

    অন্ধকার জাপটে ধরে। বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, যারা এক কিলোমিটার অঞ্চল পার হবার পর ফিরে আসতে পেরেছিলেন তাদের বক্তব্য সেখানে টর্চ কাজ করে না।

    মোবাইল অস্বাভাবিক আচরণ করে। তাই সমস্তটাই ধোঁয়াশা। সার্চ পার্টি যারা নিখোঁজ হয়েছিল তাদের খুঁজতে হলে একদম ভিতরে প্রবেশ করতে হতো।

    সেখানে ঢোকার সাহস দ্বিতীয় দল দেখিয়েছিল। কিন্তু তারাও নিখোঁজ হবার পর তৃতীয় দল সাফ ভিতরে ঢুকতে অস্বীকার করে।

    আর শুরুর এক কিলোমিটারে তাদের কোনো হদিশ আমরা পাইনি। গ্রামের লোক তখনও এক টানা বলে গিয়েছে যে অনর্থ হয়ে যাবে।

    আপনারা ভিতরে ঢুকবেন না।”

    সিনহা চুপ করল। রামানুজ মন দিয়ে মানচিত্র দেখছে। মাঝে জিজ্ঞেস করল, “এখান থেকে গ্রামবাসীরা কোনো অনৈতিক ব্যবসা বা কোনো র‍্যাকেট ইত্যাদি চালাতে পারে কি?

    সিনহা পত্রপাঠ মাথা নেড়ে অস্বীকার করল, “অসম্ভব। এদের প্রত্যেকে জুমচাষের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেকটা টিলা জমি আমাদের সরকারি বাংলোর আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ওদের যেন একটাই উদ্দেশ্য, এই জঙ্গলকে রক্ষা করা। নিজেরাও এই জঙ্গলে প্রবেশ করে না।”

    “ওদের কি একটা দেবতার ব্যাপারে শুনছিলাম গতকাল। আজ দেখতে গিয়ে দেখতেও পেলাম না। সে ব্যাপারে কিছু জানেন।”

    রামানুজের প্রশ্নে সিনহা বললেন, “জন্মেও নাম শুনিনি। এই অঞ্চলে এসেই প্রথম শুনেছিলাম- ‘গন্দবেরুন্দা’। দেবতা দেখতে গেলে ওরা দেখাবে না। প্রয়োজনে আজকের মতো সিন ক্রিয়েট করে ফেলবে, তবুও নিজেদের দেবতার ঘরে ঢুকতে দেবে না।”

    দাসবাবু এরই মাঝে বললেন, “গতকাল স্যরকে ওরা বলছিল, দেবতার ভোগে পরিণত হবে সবাই।”

    সিনহা হেসে বললেন, “ওদের বিশ্বাস জঙ্গলে ওদের দেবতা স্বয়ং অধিষ্ঠান করেন।”

    গাড়িতে উপস্থিত সকলে একপ্রস্থ হেসে নিল। এরকম কুসংস্কারকে আজকের দিনে মান্যতা দেবার মতো নির্বোধ ওরা নয়।

    গাড়ি এসে থামল আগরতলার প্রাণকেন্দ্র শকুন্তলা মার্কেটের কাছে। সিনহা বললেন, “চলুন আজকে আপনাকে আগরতলার অন্যতম প্রাচীন দোকানের মোঘলাই খাওয়াবো।”

    রামানুজ সাগ্রহে রাজি হল। এতক্ষণে তার ক্ষিদেও পেয়ে গিয়েছিল। দুপুরের দিকে লাঞ্চ টাইমে মোঘলাই দিল্লিবাসীদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার।

    গাড়ি থেকে নেমে ওরা এগিয়ে গেল সামনে।

    “এই হচ্ছে অশোকা রেস্টুরেন্ট।”

    ভিতরে প্রবেশ করল ওরা। রামানুজ দেখল হোটেলটা বেশ বড় আকারের। সামনেও বসার জায়গা রয়েছে, পিছনেও। পিছনের অংশগুলোতে আবার দুই ভাগ।

    সিঁড়ি দিয়ে উপরে গিয়েও চাইলে এখন বসা যায়। দিনের এই সময় খুব ভিড় না-হলেও মাঝামাঝি ভিড় লক্ষ্য করতে পারল রামানুজ।

    পিছনের দিকের ঘরগুলোর একটায় বসে দাসবাবু বললেন, “একটা সময় ছিল যখন আগরতলাবাসী যেখান থেকেই আসুক না কেন এই অঞ্চলে কেনাকাটা করতে আসাকে বলতো টাউনে যাচ্ছি। অথচ দেখবেন কাছের কোনো এলাকা থেকেই এসেছে ওরা। অথচ এটাই ছিল ওদের টাউন। বিশ তিরিশ বছর আগের কথা। যা-ই হোক, তখন এই এলাকায় এসে কেনাকাটা করে যাবার পথে অশোকার মোঘলাই না খেয়ে কেউ ফিরতো না। দামও ছিল তখনকার হিসেবে কম। এখন যে মোঘলাই দুশো আড়াইশো টাকা সেটাই তখন ছিল তিরিশ টাকা বা পঞ্চাশ টাকা। তখন এত শত রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এসব ছিল না।”

    সিনহা সম্মতি দিলেন। তারপর বললেন, “তখন অশোকাই ছিল। বন্ধুবান্ধব নিয়েও কত এসেছি। এর বাইরে ছিল উজ্জ্বলা বিরিয়ানি। বটতলা সুপারমার্কেটে ঢোকার রাস্তার মুখে। সেটাও একদিন নিয়ে আসবোখন।”

    অর্ডার দেওয়া হল। মোঘলাই চলে এল। রামানুজ খেয়ে বলল, “সত্যি

    দারুণ খেতে। এত সুস্বাদু মোঘলাই লখনউ বা দিল্লির বাইরে কোথাও পাওয়া যায় জানতাম না। কলকাতার মোঘলাই পরোটা খেয়েছি।

    ভালো লাগে না আমার।”

    “যাক, এত যে গুণগান করলাম, নাকটা কাটতে দেয়নি ওরা।” সিনহা সাহেবের কথায় সবাই হেসে উঠল।

    ফেরার পথে আগরতলা শহরের রাস্তাঘাট, নতুন তৈরি হওয়া ফ্লাইওভার, শহরের প্রাণকেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো ঘুরে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ দেখে বাংলোর পথ ধরল গাড়ি।

    “আজ পুলিশ কর্তা সমস্ত ফেলে আমাকেই সময় দিলেন সারাদিন। শহরে আশা করি লুটপাট কিছু হয়নি।”

    রামানুজের রসিকতা ধরতে পারলেন সিনহা। বললেন, “সরকারের আদেশ। আপনার সঙ্গে থাকার। এখন এটাই দায়িত্ব। বাকি শহর দেখার জন্য লোক তো রয়েইছে। সেরকম গুরুতর কিছু হলে না হয় আমিও যাবো।”

    “তাহলে আর কি, বাংলোতেই চলে আসুন। কাল রাতের দিকটায় বেশ বোর হচ্ছিলাম। কথাবার্তায় কেটে যাবে সময়। আর তাছাড়া জঙ্গলে পেনিট্রেট করার প্ল্যানও ছকে ফেলা যাবে।”

    রামানুজের প্রস্তাবে হাসলেন সিনহা। কিছু বললেন না। রামানুজ আন্দাজ করে বলল, “পরিবার! তা না হয় আমিও বাড়ি গিয়ে বউঠানদের সঙ্গে একটু আত্মীয়তা করে আসবো। আশা করি তারপর তিনি কয়েকদিনের জন্য আপনাকে এই অঞ্চলে পাঠাতে বারণ করবেন না।”

    সিনহাবাবু এবার লাজুক হাসি হাসলেন। বললেন, “আচ্ছা আমি দেখছি।”

    রামানুজ এবার একটা অন্য কথা বলল, “দাসবাবু, এই কাঞ্চন ছেলেটিকে আমার সুবিধের লাগছে না। আজকেও যখন গ্রাম থেকে আমরা বেরোলাম দেখলাম ও গ্রামে ঢোকার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।”

    দাসবাবু এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন না। চুপ করে বসে রইলেন।

    রামানুজের সন্দেহ হল। স্বভাবসুলভ মসকরা করা ঢঙে বলল, “দাসবাবু,

    ও দাসবাবু, কিছু কইবা?”

    ত্রিপুরায় ভাষাটা রামানুজের মুখে বেশ মিষ্টি শোনালো। দাসবাবু না হেসে পারলেন না।

    তারপর আমতা আমতা করে বললেন, “নিজের পিতার গায়ে কেউ রাইফেল ঠেকালে পুত্র সেখানে উপস্থিত না হয়ে পারে? তবুও তো সে আপনাকে এসে আটকায়নি, এটা ভাবুন।”

    রামানুজের মাথা এই এক কথাতেই ঘুরে গেল। সোজা টানটান হয়ে জিজ্ঞেস করল, “হোয়াট? কাঞ্চন ওই বুড়ো মোড়ল মানে ওই হেমন্তাই নাকি ওর ছেলে?”

    দাসবাবু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললেন।

    “মাই গড! আর আপনি এরকম একটা মানুষকে আমার বাংলোর কেয়ার টেকার করে রেখেছেন? আপনার কি মাথায় দোষ আছে? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!”

    দাসবাবু হাত নেড়ে বোঝাবার চেষ্টা করে, “আরে আপনি শুনুন না। ওকে গ্রামবাসীরা ভালো চোখে দেখে না।”

    রামানুজ এসব শুনতে রাজি নয়। সে বেশ নির্দেশ সুলভ কণ্ঠে বলল, “আমি এসব জানতে চাই না। ও বাংলোতে থাকলে আমার প্রোজেক্ট কমপ্রোমাইজ হতে পারে। আমি আমার সুরক্ষার কথা ভাবছি না, সে আমার কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু সে গ্রামে গিয়ে সরকারের প্ল্যান ফাঁস করতে পারে। এই রিস্ক আমি নিতে চাই না। এক্ষুনি বাংলোতে ফিরে আপনি ওকে বরখাস্ত করবেন। এটাই আমার অর্ডার।”

    দাসবাবু আরও কিছু বলে হয়তো বোঝাতেন রামানুজকে। কিন্তু এরপর আর কথা চলে না। তিনি হতাশ সুরে শুধু বললেন, “ইয়েস স্যর।”

    রামানুজ বাকি রাস্তায় আর বিশেষ কথা বলল না। গাড়িতে হঠাৎ করেই একটা থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হল।

    সিনহা সাহেব এটা আন্দাজ করেই গাড়িতে একটা গান চালিয়ে দিলেন। বাইরে হালকা হালকা বৃষ্টিপাতও শুরু

    হল। ঠান্ডাটা আজ জাঁকিয়ে পড়বে। গান বাজতে লাগল,

    “ইয়ে রাতে ইয়ে মোসম নদী কা কিনারা ইয়ে চঞ্চল হাওয়া।”

    লুপে চলতে লাগল গানটা।

    গাড়ি এগোতে লাগল পাহাড়ি পথে বৃষ্টি কেটে কেটে।

    বাংলোর গেটের সামনে যখন গাড়ি পৌঁছাল তখন মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। গানটা বন্ধ করলেন সিনহা সাহেব।

    রামানুজ এতক্ষণে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছেন এই পরিবেশ আর গান শুনে।

    মজা করে বললেন, “খুব রসিক মানুষ আপনি। ‘দিল্লি কা ঠগ’ সিনেমার গান চলিয়েছিলেন আমার জন্য। আসলে সব ঠগ বসে আছে ত্রিপুরাতেই। আর এটা কোনো পলিটিক্যাল জোকস নয়।”

    সবাই একত্রে হেসে উঠলেন। দাসবাবুর দমফাটা ভয়টাও উধাও হয়ে গেল নিমেষে। গাড়ি গেট দিয়ে ঢুকে লন বরাবর এগোতেই থেমে গেল।

    সিনহা সাহেব ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলেন, “গাড়ি থামালে কেন এখানে? এখানে নামলে তো সবাই ভিজে যাবো।”

    ড্রাইভার বলল, “মাটিতে কেউ একজন পড়ে আছে, সম্ভবত রক্তাক্ত অবস্থায়।”

    এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে রামানুজ এবং সিনহা নেমে পড়লেন গাড়ি থেকে। পিছন পিছন দাসবাবুও দৌড়ালেন।

    সবাই সামনে গিয়ে দেখল একজন মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে লনের মেঝেতে। বৃষ্টিতে গায়ের রক্ত ধুয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

    সিনহা মানুষটাকে উপুড় অবস্থা থেকে চিৎ করলেন এবং উপরে রামানুজের দিকে তাকালেন।

    রামানুজ বিস্ফারিত চোখে দেখতে পেল কেউ কাঞ্চনকে বেধড়ক মেরে বাংলোতে ফেলে দিয়ে গেছে। দেহে প্রাণ আছে কিনা কে জানে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়াজাতক – অমৃতা কোনার
    Next Article মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    Related Articles

    কোয়েল তালুকদার

    দাঁড়াও সময় (কাব্যগ্রন্থ) – কোয়েল তালুকদার

    January 6, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    মাধবীরা কেউ নেই – কোয়েল তালুকদার

    January 5, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    শুক্লপক্ষের তারা – কোয়েল তালুকদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }