Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী

    কোয়েল তালুকদার এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৃত কৈটভ ১.৯

    (৯)

    উদয়পুর থেকে ফেরার পরেরদিনটা কাটল সাধারণভাবেই। সরকারের কিছু অনুমতি নেওয়ার জন্য ছুটোছুটি করতে হল সবাইকে। আগামীকাল জঙ্গল সার্চ হবে।

    কাজেই সুষ্ঠুভাবে এই কাজ সমাধা করতে চাই ফোর্স। দু-লরি বাহিনী আসবে। জঙ্গল অন্বেষণে এরা সিদ্ধহস্ত। সকলের কাছেই থাকবে আর্মস।

    গ্রামবাসী এদের দেখলে বাপ বাপ করে জায়গা ছেড়ে দেবে। আপাতত প্ল্যান এটাই। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু দপ্তরের অনুমতি লাগে।

    সিনহা আর রামানুজ সকাল থেকে সেসবের পিছনেই ছুটছে।

    দাসবাবু একবার কিছু রক্ষী নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন। আগামীকাল যে সরকারিভাবে সার্চিং হবে এ বিষয়ে গ্রামবাসীকে আরেকবার জানাতে আসাই উদ্দেশ্য যাতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়।

    দাসবাবু আজ এসে অবাক হলেন। হেমন্তাইসহ কোনো গ্রামবাসী আজ কোনো প্রতিরোধ বা সেরকম উত্তেজিত কোনো কথাবার্তাই বলল না।

    হেমন্তাই জিজ্ঞেস করলেন, “ক-টা নাগাদ আসবেন?”

    “ফার্স্ট হাফের শুরুতেই এসে পড়ব আমরা।”

    “বেশ বেশ। আসুন। গ্রামবাসী সকলের উদ্দেশ্যে বলছি, আগামীকাল সরকারিবাহিনী এলে সকলে সরকারকে সাহায্য করবেন।”

    গ্রামবাসীরাও বেশ বাধ্য ছেলের মতো মাথা নেড়ে তাতে সম্মতি দিল। দাসবাবুর এসব ভালো লাগছিল না। তিনি বেশ অবাক হলেন।

    একদিনে এ কেমন পরিবর্তন!

    তিনি রক্ষীদের নিয়ে ফিরে আসার উপক্রম করলেন। আর তখনই তার চোখ গেল জঙ্গলের দিকে।

    বড় বড় গাছগুলোতে কিছু গ্রামবাসী উঠে বসে কী যেন করছে। দাসবাবু কৌতূহলবশত এগিয়ে গেলেন। তার পিছন পিছন কিছু গ্রামবাসীও সেদিকে গেল। দাসবাবু দেখলেন প্রায় প্রত্যেকটা গাছের গায়ে ওরা কিছু একটা পদার্থ ঘষছে।

    একজন এক গাছ থেকে কাজ সেরে নেমে অন্য গাছে উঠে কোমরে ঝোলানো কৌটো থেকে একটা তরল পদার্থ বের করে সেই গাছের গায়ে মাখাচ্ছে।

    কালো রঙের পদার্থটা দূর থেকেও চকচক করছে।

    দাসবাবু একজন গ্রামবাসীকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, “ওরা কী করছে?”

    লোকটা হেসে বলল, “কিছু না। আমরা চাইছি কাল বৃষ্টি হোক।”

    দাসবাবুর ভ্রু কুঁচকে গেল। বললেন, “কাল বৃষ্টি চাওয়ার সঙ্গে গাছের মাথায় উঠে এসব করার অর্থ কী?”

    হেমন্তাই এগিয়ে এলেন। হেসে বললেন, “ও কিছু না। কাল বলব। আজ আসুন।”

    রহস্যটা বোঝা গেল না। দাসবাবু আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। সন্ধেবেলায় রামানুজ শহর থেকে ফিরলে দাসবাবু ব্যাপারটা তাকে বললেন।

    রামানুজ বলল, “ভগবান জানে এই গ্রামে কখন কী হয়!”

    সিনহা বললেন, “এবার কি ওরা প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টিপাতও ঘটাবে! গ্রাম নাকি নাসা!”

    রামানুজ বলল অন্য কথা, “উহু প্রশ্ন সেটা নয়, প্রশ্ন হল কেন ওরা বৃষ্টি চাইছে! নিশ্চয়ই এই উত্তরের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের সমাধান, যা এই মুহূর্তে আমরা বের করতে পারব না। চলুন কাল গিয়ে দেখা যাবে।”

    পরেরদিন বেলা দশটার মধ্যে রামানুজ, দাসবাবু, সিনহা সকলেই পৌঁছে গেলেন গ্রামে। পিছনে বাহিনী দাঁড়িয়ে আছে। রামানুজের হাতে মাইক।

    চারদিকে গ্রামবাসী নিজের নিজের উঠানে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ মন্দিরের সামনে এসে জমায়েত করেছেন। কিন্তু কেউই মারমুখী নয়।

    সকলেই চুপচাপ বসে বা দাঁড়িয়ে আছে।

    রামানুজ মাইকে ঘোষণা দিল, “এবার আমরা জঙ্গলে প্রবেশ করব। আমরা জানি এই জঙ্গল আপনাদের কাছে এক সংবেদনশীল বিষয়। কিন্তু যেহেতু এই গ্রাম সরকারের তাই সরকার যখন ইচ্ছে এই গ্রামে প্রবেশ করতে লোক পাঠাতে পারে। আমাদের সঙ্গে আপনাদের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। আমরা শুধু সরকারি আদেশনামা পালন করছি। আপনারা আমাদের এই কাজে সাহায্য করুন। আগামীদিনে সরকারও আপনাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে।”

    রামানুজ একটানা বলে থামল। ইচ্ছে করেই সে এক দুটো শব্দ এরকম বলেছে যাতে গ্রামবাসী উত্তেজিত হতে পারে।

    কিন্তু সে দেখল প্রায় সবাই নীরব হয়ে বসে আছে। নিজেদের মধ্যে কথা বলছে তারা কিন্তু রামানুজকে কোনো হুমকি দিচ্ছে না।

    রামানুজ বুঝল যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। সে সিনহা সাহেবের কাছে গেল। তিনি ফোর্সের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

    “আমি প্রায় নিশ্চিত যে ওরা কিছু একটা ভেবে রেখেছে আমাদের জন্য। সেটা জঙ্গলে ঢোকার আগে আমরা ধরতে পারব না। বাহিনীকে বলুন খুব সতর্ক হয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করার জন্য। যেকোনো দিক দিয়ে হামলা হতেই পারে। আমরা কাউকে হারাতে পারব না।”

    সিনহা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারলেন। তিনি বাহিনীর সকলকে বুঝিয়ে দিলেন পরিস্থিতি।

    হেমন্তাই ততক্ষণে এগিয়ে এসেছেন রামানুজের দিকে। বললেন, “গ্রামবাসী কেউ আপনাদের আটকাবে না। আপনি নির্দ্বিধায় ভিতরে জঙ্গলের প্রবেশ করুন।”

    রামানুজ তাকে বলল, “কী জাল বিছিয়ে রেখেছেন তাই ভাবছি। আজ যে আমরা ভিতরে পৌঁছাতে পারব না তা আমি এতক্ষণে বুঝে গেছি। শুধু সরকারি আদেশনামার সম্মান রক্ষার্থে এগোতে হবে।”

    হেমন্তাই হেসে বললেন, “আপনি আপনার কর্তব্য করছেন আর আমি আমার। তফাত নেই। এগিয়ে যান।”

    রামানুজ আর কথা বাড়াল না। সে বাহিনীকে আদেশ দিল এগিয়ে যেতে। নিজেও এগিয়ে গেল। বাহিনীর সকলের হাতে অটোমেটিক বন্দুক ছিল। সিনহা নিলেন রাইফেল।

    দাসবাবু আর রামানুজের হাতে চকচক করে উঠল পিস্তল। জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করলেন তারা।

    হেমন্তাইয়ের কাছে এসে একজন জিজ্ঞেস করলেন, “বৃষ্টি হবে তো!” হেমন্তাই আবাসনের গুরুদেবের দিকে তাকালেন। তিনিও এসেছিলেন আজ।

    একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। গুরুদেব ঘড়ি দেখলেন। তারপর মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। হেমন্তাইয়ের বুকে এখন ঢাক বাজছে।

    যদি আজ বৃষ্টি না হয় তাহলে অনর্থ হয়ে যাবে।

    বাহিনী ভিতরে দ্রুত প্রবেশ করতে লাগল। অদ্ভুত ছন্দে জঙ্গলের গাছপালাকে এড়িয়ে ওরা এগোতে লাগল।

    তাদের সঙ্গে রামানুজ আর সিনহা সাহেব পাল্লা দিয়ে এগোতে লাগলেন। তুলনায় দাসবাবু পড়লেন পিছিয়ে।

    তিনি একসময় বন্দুকে তাগ ছেড়ে দিয়ে শুধু দৌড়াতে লাগলেন যাতে একেবারে দলছুট না হয়ে পড়েন।

    আজ একটা অদ্ভুত কাণ্ড ঘটল। গ্রামবাসীদের কেউ রামানুজদের পিছন পিছন জঙ্গলে প্রবেশ করল না। রামানুজ এক আধবার পিছন ফিরে তাকাল।

    কেউ তাদের পিছনে আসছে না দেখে সে নিশ্চিত হল যে সত্যিই তাদের জন্য জাল পাতা হয়েছে।

    এবার শুধু বোঝার অপেক্ষা যে কী অপেক্ষা করছে অদৃষ্টে।

    হেমন্তাইসহ সকল গ্রামবাসী তাকিয়ে আছেন উপরে। হেমন্তাই আবার তাকালেন গুরুদেবের দিকে।

    গুরুদেব এবার ইশারা দিলেন, হেমন্তাই সেই ইশারা দেখে আবার উপরে তাকানোর আগেই বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা এসে পড়ল তার গায়ে।

    মুখে খুশির ঝলক দেখা দিল তার। এবার জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি। কাউকেই আর দেখা যাচ্ছে না সেখানে।

    এতক্ষণে নিশ্চয়ই অনেকটা এগিয়ে গেছে ওরা।

    রামানুজেরা এগোচ্ছিল ভালো গতিতে। হঠাৎ রামানুজের গায়েও বৃষ্টির ফোঁটা পড়ল। রামানুজ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। তার দেখাদেখি সিনহাও দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং বাহিনীকে দাঁড়াবার নির্দেশ দিলেন। আজ ঠান্ডা থাকলেও বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা ছিল না।

    অন্তত আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট দেখে তাই জানা গিয়েছিল। কিন্তু সেই বৃষ্টি হল। কেন হচ্ছে এই বৃষ্টি?

    উত্তর পেতে আর কয়েক মুহূর্ত শুধু অপেক্ষা করতে হল। প্রথম বিস্ফোরণটা ঘটল রামানুজ থেকে কয়েক ফুট দূরে। সে কেঁপে উঠল।

    ধীরে ধীরে বৃষ্টির বেগ বাড়ছে। আরও একটা বিস্ফোরণ, এবার বাহিনীর পায়ের সামনে। রামানুজের মাথাটা তখন খুলে গেছে।

    সে আন্দাজ করে ফেলেছে যে ঠিক কী হতে চলেছে। সে চিৎকার করে উঠল, “সকলে দৌড়াও। গ্রামের দিকে দৌড়াও। জঙ্গল থেকে বেরোও সবাই।”

    সিনহা সাহেব বুঝলেন আর বেশি সময় নেই। তিনি ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পেরে দৌড়ালেন।

    সকলের প্রতি চিৎকার করে বললেন, “জঙ্গল ছেড়ে বেরোও সবাই।”

    ফোর্স আর দেরি করল না। আবার উলটো পথে দৌড় শুরু করল। ততক্ষণে ছোট ছোট কিছু বিস্ফোরণও ঘটা শুরু হয়ে গেছে।

    দাসবাবু প্রমাদ গুনলেন।

    রামানুজ তাকে ছাড়িয়ে উলটোদিকে দৌড়বার সময় বলে গেছে, “পিছনে ঘুরুন। গ্রামের অভিমুখে দৌড়ান।”

    ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হল এবার। আর দেখতে দেখতে শান্ত জঙ্গল হয়ে উঠল অগ্নিগর্ভ।

    আক্ষরিক অর্থেই অগ্নিগর্ভ কারণ এখন জঙ্গলের চারদিকে বিস্ফোরণ শুরু হয়ে গেছে। কোনো বিস্ফোরণ বড় কোনোটা ছোট।

    কিন্তু পরপর চেইনের মতো চারদিকে বিস্ফোরণ ঘটছে। কোনোটা সাধারণ শব্দ বাজির মতো, কোনোটা অ্যাকশন মিনি বোমা।

    গ্রামবাসী সকলে জঙ্গলের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা এখন পলায়মান বাহিনী দেখতে এসেছেন। বাহিনীর অনেকেই এখন দৃশ্যমান। সকলেই প্রাণপণে দৌড়াচ্ছেন।

    বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন সকলে। বজ্রপাত সহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

    জঙ্গলের ভিতরে বিস্ফোরণের বাণ ডেকেছে যেন। সকলে সেই বিস্ফোরণের আঘাত থেকে বাঁচতে দৌড়াচ্ছে।

    কারো ডানদিকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ কারো বাঁ-দিকে, কারো একদম সামনে। বারবার দিকপথ পালটাতে হচ্ছে সকলকে। সোজা দৌড়ানো যাচ্ছে না।

    কোথাও বা বৃষ্টির জমে থাকা জল অব্দি বিস্ফারিত হয়ে ছিটিয়ে পড়ছে। সঙ্গে ছোট ছোট অগ্নি স্ফুলিঙ্গ।

    অদ্ভুত ভয়ংকর এক দৃশ্য, যেখানে এক দল মানুষ এর মজা নিচ্ছে অপরদল নিজেকে বাঁচাতে প্রাণপণ ছুটছে।

    একে একে সকলে এসে ঝাঁপিয়ে জঙ্গলের বাইরে এসে পড়ল। রামানুজ এসে ছিটকে পড়ল হেমন্তাইয়ের পায়ের কাছে। একে একে বাকিরাও।

    দাসবাবু সকলের শেষে। জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে তারা দেখল জঙ্গলের সমস্ত বিস্ফোরণের ফলে সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে।

    জঙ্গলের অভ্যন্তরে আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শুধু মাঝে মাঝে কিছু অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আর বীভৎস শব্দ কানে আসছে।

    এভাবে চলল আরও মিনিট পনেরো। তারপরেও বন্ধ হচ্ছে না।

    সিনহা বৃষ্টির মধ্যেই এসে হেমন্তাইয়ের সামনে রক্তচক্ষু আস্ফালন করলেন।

    “কী এসব? অন ডিউটি এতগুলো অফিসারকে মারার চক্রান্ত করেছিলেন আপনারা? এবার জেলে পঁচে মরুন।”

    হেমন্তাই শান্ত ধীর স্থিরভাবে বলল, “আমরা তো কিছু করিনি। বৃষ্টি হলে আমাদের জঙ্গলে মাঝে মাঝে এরকম বিস্ফোরণ হয়।”

    সিনহা রেগে বললেন, “কী ফালতু কথা বলছেন আপনি? আর এই বৃষ্টি তো আপনারাই করিয়েছেন।”

    হেমন্তাই হাসল, “এই যুক্তি আদালত মানবে তো?”

    সিনহার কপালের ভাঁজগুলো সোজা হয়ে গেল। সত্যিই, আদালত তো গাছের মাথায় উঠে কোনো পদার্থ লাগানোর ফলে বৃষ্টি হয়েছে এই যুক্তি মানবেই না।

    আর এই বিস্ফোরণ তো বৃষ্টি হবার পরেই শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা এতে নেই।

    রামানুজ উঠে দাঁড়িয়ে মুখ থেকে বৃষ্টির জল হাত দিয়ে পরিষ্কার করল। বৃষ্টি এখনও কমেনি, না কমেছে জঙ্গলের বিস্ফোরণ।

    কোথাও কোথাও অল্প আগুনও লেগেছে। সেই আগুন আবার বৃষ্টির কারণেই নিভে যাচ্ছে। এ কেমন বৃষ্টি আগুন লাগাচ্ছে, আবার আগুন নেভাচ্ছেও।

    এই মুহূর্তে যারা দৌড়াচ্ছে তাদের মাথায় এসব ঢুকছে না।

    রামানুজ এগিয়ে গেল হেমন্তাই-এর দিকে। তাঁর পাশে গুরুদেব দাঁড়িয়ে। রামানুজ বলল, “বৃষ্টির আহ্বান করতে নিশ্চয়ই দেবতার দেহ নিঃসৃত পদার্থের পরীক্ষালব্ধ ফল ব্যবহার করেছেন। তাই বৃষ্টি হবার জন্য আপনাদের জেলে ঢোকানো যাবে না। কিন্তু জঙ্গলে সোডিয়াম ছড়িয়ে রাখার জন্য গ্রেফতার করতেই পারি। কিন্তু খুব মজা পেলাম এই বুদ্ধিদীপ্ত শত্রুতার জন্য। সিনহাবাবু চলুন।”

    দাসবাবু এখনও হাঁপাচ্ছেন। সিনহা গিয়ে তাকে ধরলেন। ধরে ধরেই তাকে গাড়িতে তুললেন। বাহিনীও গিয়ে লরিতে চেপে বসল।

    রামানুজ গাড়িতে গিয়ে উঠার আগে হেমন্তাই তাকে ডাকলেন। রামানুজ ফিরে তাকাল।

    “আগামীকাল অমাবস্যা। আমাদের কাছে এই রাত প্রতি বারো মাসে একবার আসে। গ্রামের চৌহদ্দিতে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাতে পারব না। তবে সড়ক থেকে সম্পূর্ণ ক্রিয়া সুন্দরভাবে দেখা যায়। পারেন তো সেখান থেকে দেখবেন, আমি যা যা বলেছি তার সমস্ত কিছু সত্য। ভুল বলেননি আপনি, গণ্ডবেরুণ্ডা দেবের নিঃসৃত পদার্থের নির্যাস থেকেই ঠিক এই বৃষ্টি আহ্বায়ক পদার্থ সৃষ্টি করেছিলেন কিছু ছাত্র। বাকিটা বিজ্ঞান। সোডিয়াম ধাতু ছড়িয়ে রেখেছিলাম আমরা। বৃষ্টি জলের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় এই বিস্ফোরণ। আজ এত সব কিছু যে কারণে করছি সেই কারণটাই আগামীকাল জানতে পারবেন। চাক্ষুস দেখতেও পারবেন। আসবেন আগামীকাল।”

    রামানুজ উত্তর দিল না। আজকে যা হল তাতে সে ভয়ানক রেগে গেছে।

    এখন কিছু বললে ভুলভালই বলবে। তার থেকে আগামীকাল ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সে গাড়িতে উঠে বসল।

    গাড়ি ফিরে এল বাংলোতে।

    দাসবাবুকে বিছানায় শুইয়ে ডাক্তারের ব্যবস্থা করা হল। বাকদেরও অল্প বেশি কাটা ছেড়া আছে হাতে পায়ে।

    সরকারকে জানানো হল হঠাৎ জঙ্গলে দাবানল শুরু হওয়ায় আজকের তল্লাসি সম্পূর্ণ হয়নি। দাবানল যে খুব একটা সময় থাকেনি বৃষ্টির জন্য সেটাও জানানো হল। সঙ্গে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হল যে খুব শীঘ্রই আবার জঙ্গলে প্রবেশ করবে তারা।

    রাতের বেলায় সকলে মিলিত হল ব্যালকনিতে। দাসবাবু এখন অনেকটাই সুস্থ। আজ আবার আসর বসল। গ্রামের আবাসনের বুদ্ধির তারিফ করল প্রায় সকলেই। এইটুকু একটা গ্রাম একটা জঙ্গলকে বাঁচাতে জান প্রাণ দিয়ে দিচ্ছে, এই ব্যপারটার প্রশংসা সকলের মুখে ছিল আজ।

    তারপর রামানুজ তাদের জানালো, “আগামীকাল ক্রিয়াটা হবে। বারোজন বেরিয়ে আসবে জঙ্গল থেকে। লড়াইয়ের পর আবার নতুন বারোজন প্রবেশ করবে জঙ্গলে। সড়কের উপর দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ক্রিয়া দেখার আহ্বান এসেছে। কী করা উচিত।”

    দাসবাবু সবার আগে উত্তর দিলেন, “কী আবার! আমরা যাবো।” ভদ্রলোক আজকের ঘটনার পর যেন একটু বেশিই তেঁতে আছেন। এরকম সাহসী উত্তর আরও বেশ কয়েকবার দিয়েছেন তিনি।

    সিনহা বললেন, “এখানে একা যাওয়া ঠিক হবে না। আমি একটা ফোর্সকে এখান থেকে আগে যে বস ক্যাম্প আছে সেখানে ডেকে রাখছি। যদি অবস্থা বেগতিক দেখি ওদের আসতে পনেরো মিনিট সময় লাগবে। এখানে এসে এত ফোর্স নিয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না।”

    রামানুজ চুপ করে নিজের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছিল। সে মনে মনে একটা ভীষণ যুদ্ধ দেখতে পাচ্ছে। এই যুদ্ধটা কাদের সঙ্গে হবে এটা সে বুঝতে পারছে না। আগামীকাল রাতে গ্রামের ক্রিয়া দেখার মনস্থ করল সে।

    ওদিকে যুবক এখনও মাটিতে লুটিয়ে আছে। তার জ্ঞান ফেরেনি এখনও। তার থেকে অল্প দূরে পড়ে আছে মৃত শেয়ালটা। প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা হতে চলল। শেয়ালের রক্তের দাগ এই ঠান্ডায় জমে জঙ্গলের মাটিতে বসে গেছে।

    জঙ্গলের এই অংশ মূল গ্রাম থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এদিকটায় বৃষ্টি হয়নি। এদিকের গাছের মাথায় নির্যাস লাগানো হয়নি, তাই এদিকে বৃষ্টিপাত হয়নি। হলে এসব রক্ত ধুয়ে যেত, হয়ত যুবকের জ্ঞানও ফিরে আসত।

    এতক্ষণ ধরে খাবার না পেয়ে কারাগারের বন্দিরা একনাগারে গুঙিয়ে চলেছে। বীভৎস শব্দ হচ্ছে কারাগার থেকে। আর সবচেয়ে ভয়ানক ব্যপার হল, দেবতার জাগার সময় হয়ে এসেছে। আর একদিন মাত্র বাকি। যুবকের জ্ঞান ফেরাটা অত্যন্ত জরুরি।

    রাত্রি আরও গভীর হলে একসময় যুবকের হাতের আঙ্গুল নড়ে উঠল। মরার মতো পড়ে থাকা শরীর ভাঁজ হল। শরীরে একটা অস্বস্তি নিয়ে জ্ঞান ফিরলো তার। নিজেকে এভাবে মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করে প্রথমে খানিকটা অবাক হল। চারদিকে তাকিয়ে যখন মরা শেয়ালটাকে দেখতে পেল তখন স্মৃতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। কোনোক্রমে উঠে বসল সে।

    দেহ অসাড়, কিন্তু চেতনা ফিরে এসেছে। দুর্বলতা আছে কিন্তু এখন আর সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই। সে কোনোক্রমে হাঁটুতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল। দেবতার মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেল সে। যাবার পথে শেয়ালের ছেঁড়া মাথাটা তার পায়ের চাপে ভেঙে গেল।

    সারা শরীরে ঘাস লেগে আছে, লেগে আছে মাটি। ছেড়া ফাঁটা ময়লা লেগে থাকা সাদা বস্ত্রটি এখনও গায়ে ঝুলছে। বহু অংশে রক্তের দাগ শুকিয়ে বস্ত্রটাকে লাল করে তুলেছে। সে এসে দাঁড়াল দেবতার সামনে। গন্দবেরুন্দা নৃসিংহদেব। দেবতার খোলসটা ঔজ্জ্বল্য যেন এক রাতের দ্বিগুণ

    বেড়েছে। বাড়বে নাই বা কেন। দেবতার জাগ্রত হবার সময় হয়েছে তো।

    সে ভালো করে তাকাল দেবতার দিকে। দেবতা বসে আছে। তার দুই পা দু-দিকে সমান বিস্তৃত। পেশীবহুল শরীর গড়িয়ে পড়ছে তরল নির্যাস। উপরের দিকে তাকালো সে। ঘাড়ের উপরের অংশে দেবতার দুই মাথা। হঠাৎ দেখলে মনে ভয় জাগে। দু-টো বিকট ঈগলের মাথা। ভাবতে অস্বস্তি হয় যে প্রকৃত দেবতা একসময় এই খোলস ধারণ করতেন। কখনো কখনো মনে হয় এ যেন খোলস নয়, সত্যিই দেবতা এখানে বসে আছেন। আর সত্যিই তো, আর তো চব্বিশ ঘণ্টা। দেবতা জেগে উঠবেন। তাঁর চোখে যেন লাল আভার ছটা।

    যুবক সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করল দেবতাকে। তারপর উঠে দাঁড়াল। এবার তার চেহারা স্পষ্ট বোঝা গেল। ইতিমধ্যেই একটি চোখ সাদা হয়ে গেছে তার। খুব বেশি সময় বাকি নেই। শরীরের রক্ত এখন চঞ্চল। শরীরে আর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুতবেগে ভাঙন শুরু হবে। যুবক এবার এগিয়ে গেল পরীক্ষাগারের দিকে।

    পরীক্ষাগারের ভিতর ধোঁয়াটে অন্ধকারময়। নানা জায়গায় নানারকমের যন্ত্রাংশ। কোনোটায় কিছু ফুটছে, কোনোটায় আগুন জ্বলছে, কোনোটায় রঙিন তরল ভর্তি। বৈজ্ঞানিক পরিচিত যন্ত্রাবলির বাইরেও রয়েছে কিছু যন্ত্রাংশ যা সভ্য মানুষ কখনো দেখেনি। এক দিকে রয়েছে অনেকগুলো খাঁচা। সেখানে নানা বন্য প্রাণীদের ধরে তাদের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের দেহে পাঠানো হয়েছে নিঃসৃত পদার্থের থেকে তৈরি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ। বন্য ইঁদুর, গিনিপিগ, বাঁদুড়, জঙলি কুকুর, বানর থেকে শুরু করে কী নেই সেই খাঁচাগুলোতে। বেশিরভাগ প্রাণী নড়ছে না। হয়তো মরে গেছে আজ সকালেই। বিদঘুটে গন্ধ বেরোচ্ছে এখন। কিছু কিছু প্রাণী এখনও নড়ছে। লাশগুলোকে ফেলে যেগুলো বেঁচে গেল তাদের নিয়েই পরীক্ষা এগোবে।

    খাঁচার এলাকা ছাড়িয়ে যুবক প্রবেশ করল পরীক্ষাগারের অন্দরমহলে।

    একটা কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। এই কক্ষ তুলনামূলকভাবে অধিক শীতল। একটা বড় বাক্সের ঢাকনা খুলে ফেলল সে। ঢাকনা খুলতেই একটা ঠান্ডা হাওয়া এসে ধাক্কা মারল। বোঝা গেল এটা একধরনের ফ্রিজার। যুবক সেখানে হাত ঢুকিয়ে বের করল একটা কাচের কৌটো। ভিতরে উজ্জ্বল সবুজাভ হলুদ বর্ণের পদার্থ দেখা যাচ্ছে। ঢাকনা দেওয়া কৌটোটা খুলে ফেলল সে। পাশে পড়ে থাকা একটা সিরিঞ্জ সেই পদার্থে ডোবালো। পদার্থ উঠে এল সিরিঞ্জের সূঁচ বেয়ে। একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সিরিঞ্জের পদার্থ নিজের বাঁ-হাতের শিরায় চালান করে দিল যুবক।

    কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। তার শরীর কাঁপতে শুরু করল। শিরাগুলো দপ দপ করতে লাগল। বাইরে থেকেও দেখা যেতে লাগল যে তার শরীরের ভিতরের বিভিন্ন অংশে সবুজাভ হলুদ বর্ণের ছটার বাহার। গলার শিরাতে সেই বাহারি রঙ ছুটছে। হাতের পেশিগুলোর সঙ্কোচন প্রসারণ ঘটতে লাগল। শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা বেড়ে গেল। এই ঠান্ডার মধ্যেও ঘেমে উঠল সে। আর সহ্য করতে না পেরে বিকট চিৎকার করে উঠল সে।

    “আহ…হ…হ…হ”

    মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। শরীরের ভিতরকার বিচ্ছুরণ বন্ধ হল। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হল তার দেহ। উঠে দাঁড়াল সে। ফ্রিজারের কাছে রাখা কাচের কৌটোটা তুলে নিল হাতে। এবার স্পষ্ট দেখা গেল তাকে। তার যে চোখটা সম্পূর্ণ সাদা হয়ে গিয়েছিল সে চোখ এখন মণি ফিরে এসেছে। সে হাসিমুখে হাতের কৌটোটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এত বছরের সাধনার ফসল স্বরূপ তৈরি হয়ে গেল সেই মহৌষধ।

    সে চিৎকার করে উঠল, “মৃত কৈটভ… মৃত কৈটভ। উন্মাদ উচ্ছাসে ফেটে পড়ল সে। কিন্তু এখন শুধু উচ্ছাস দেখালেই হবে না। কিছু জরুরি কাজ বাকি আছে। সে কারাগারের উদ্দেশে হাঁটল। কারাগারের কাছাকাছি পৌঁছাতেই কানে এল বুভুক্ষু একদল জানোয়ারের গোঙানির তীক্ষ্ণ শব্দ। নিবিড় অরণ্যে এরকম শব্দ বুকে কাঁপন ধরানোর পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু যুবকের মধ্যে কোনো হেলদোল দেখা গেল না। সে এগিয়ে গেল কারাগারের প্রত্যেকটা কক্ষের সামনে।

    হাতে ধরে রাখা উজ্জ্বল বস্তুটা সবাইকে দেখাল। তারপর বলল, “মুক্তি চাস তোরা, মুক্তি? এই দেখ আমার হাতে এক কৌটো মুক্তি রয়েছে। আমরা সবাই চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সফল হলাম আমি। আর এই সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব আমার।

    বিচ্ছিরিভাবে হাসল সে। তারপর আবার বলল, “তোদের জন্যেও বরাদ্দ আছে এই মুক্তি। তোদের শরীরের রক্ত ছাড়া এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ হতো না আমার। কিন্তু শর্ত একটাই। যদি এই মুক্তি তোরা চাস, তবে আমার জন্য কাজ করতে হবে।”

    কথাটা বলেই তার মনে হল, ওরা তো কিছুই বুঝবে না এখন। ওদের

    বোঝাতে হলে শরীরের ভিতর এই পদার্থ ঢোকাতে হবে। সে আর দেরি করল না।

    ওদের খাওয়ার জন্য ঝুলিয়ে রাখা মুরগীগুলোর ভিতর পরিমাণ মতো মৃত কৈটভ মিশিয়ে সে ওদের খেতে দিল। কিছু সময়ের মধ্যেই মহৌষধীর কাজ শুরু হয়ে গেল। যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে সে নিজে গিয়েছিল ঠিক সেরকম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেল প্রত্যেকটা কারাবন্দি জানোয়ার। ওদের শরীরের শিরায় শিরায় দেখা গেল সবুজাভ হলুদের আভা, যেন বর্ণছটাসহ বিদ্যুৎ বয়ে যাচ্ছে একেকজনের শরীরে। অল্প সময়ের মধ্যেই শান্ত হল ওরা। আবার কিছুটা মনুষ্যত্ব দিতে এল ওদের চেতনায়। একটা চোখ স্বাভাবিক হয়ে গেল।

    এবার যুবক তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল আর দেখাল তার আবিষ্কার। “বন্ধুরা, এই দিনটার জন্যেই তো আমাদের স্বপ্ন দেখা, এত পথ চলা। সুস্বাগতম, পুনরায় চেতনায় ফিরে এসেছ তোমরা। সুস্বাগতম।”

    কারাগারের এগারো বন্দি তাদের বন্ধুর কথায় বেশ খুশি হল। তাদের শরীরে এখনও জীবানু রয়েছে। সেজন্যে তাদের অসুবিধেও হচ্ছে। একজন বলল, “এর চেয়ে ভালো কথা আর কি হতে পারে কৈটভ। কিন্তু তুমি আমাদের সম্পূর্ণ চেতনা ফেরালে না কেন?”

    এই প্রশ্নে আবার শব্দ করে হাসল যুবক, যার নাম কৈটভ। তারপর বলল, “কারণ আমি চাই না তোমরা সম্পূর্ণ চেতনায় ফিরে আসো। আমি চাই তোমাদের মধ্যে জানোয়ার সত্বাটা বিরাজ করুক। আমি চাই তোমরা আমার সিপাহীর মতো হয়ে থাকো। আমি চাই এই পৃথিবীতে রাজত্ব করতে। আর এতে একমাত্র তোমরাই আমাকে সাহায্য করতে পারবে। আর দেখো শুধু তোমাদের নয়, আমি নিজেকেও অর্ধেক শয়তানে পরিণত করে ফেলব যাতে আমার ভালো গুণগুলো আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। অনেক হয়েছে মানবসভ্যতার জন্য নিজেদের বলিদান, এবার মানব সভ্যতা আমাদের জন্য কিছু করুক। বন্ধুরা, শুধুমাত্র তোমাদের মাথা আর চোখ যতে ভালোভাবে কাজ করে তাই অর্ধেক মানুষে পরিণত

    করলাম তোমাদের। বাকি অর্ধেক আজীবন জানোয়ার থাকবে। মনে রেখো তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আমার কথা না শোনো তবে চিরতরে জানোয়ারে পরিণত হবে তোমরা। সেক্ষেত্রে বারো বছরের বেশি আয়ু নেই। হ্যাঁ, এই জীবানু যদি কারো দেহে প্রবেশ করে সে কোনোভাবেই বারো বছরের বেশি বাঁচবে না। কিন্তু সে যদি মৃত কৈটভ গ্রহণ করে এবং পুনরায় জীবানুর দ্বারা সংক্রামিত না হয়, তাহলে অমর হয়ে থাকবে। মৃত্যু ছুঁতেও পারবে না। একমাত্র পুনরায় এই একই জীবানুর দ্বারা সংক্রামিত হলে তবেই তোমাদের মৃত্যু সম্ভব। এর বাইরে তোমাদের কেউ কেটে ফেললেও তোমরা বেঁচে থাকবে। তবে হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে নিয়ম একটাই। পরিমাণ মতো প্রতিদিন মৃত কৈটভ গ্রহণ করতে হবে তোমাদের। নইলে আবার তোমরা পরিণত হবে জানোয়ারে। চিন্তা নেই, আমি তোমাদের পর্যাপ্তভাবে মৃত কৈটভের উপাদান সরবরাহ করবো।

    কৈটভ থামল। বন্দিদের মধ্যে এই মুহূর্তে জানোয়ার প্রদত্ত মন্দ গুণের আধিক্যই বেশি। তারা গোঙাতে লাগল। কিন্তু তারা আনন্দিত। এই গোঙানি আসলে কৈটভের জয়ধ্বনীর প্রতীক।

    একজন রুক্ষভাবে গোঙাতে গোঙাতে জিগ্যেস করল, “এই মহৌষধির নাম মৃত কৈটভ কেন রাখলি?”

    কৈটভ হাসল, “অনেক কারণ। প্রথম কারণ দেবতা নিঃসৃত নির্যাসের সঙ্গে তোদের মৃত রক্ত মিশিয়েছিলাম। দ্বিতীয় কারণ পৌরাণিক। মৃত সঞ্জীবনী যেভাবে মৃতের শরীরে প্রাণ সঞ্চার করে তেমনি মৃত কৈটভ তোদের মতো জানোয়ারকে আবার মানুষে পরিণত করে। আমি, আমার নাম কৈটভ। আমার নামের উপরেই তাই এর নামকরণ করেছি ‘মৃত কৈটভ’। শতাধিক বছরের তপস্যার ফল এই মহৌষধি। এর নাম এর স্রষ্টার নাম ছাড়া কার নামেই বা মানাবে। তোরা মনে রাখিস, এই ওষুধ বানাবার সমস্ত ফর্মুলা আছে আমার মাথায়। আমিই ভবিষ্যতে বানাবো অমরত্বের দাওয়াই। সুতরাং এখন থেকে এই গ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আমি।

    হেমন্তাই আর গুরুত্বপূর্ণ লোক নয়। বরং হেমন্তাই আমাদের শত্রু। সে আমাদের হত্যার ছক কষতে বসবে আজ।”

    কৈটভ কথা বলতে বলতে এগিয়ে এল বন্দিদের কাছে। তারপর একে একে সকলকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিল। বেরিয়ে এল একেকটা আধা মানুষ আধা শয়তান। সবাইকে কারাগারের সামনের প্রাঙ্গণে জড়ো করল কৈটভ।

    তারপর বলল, “এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম কাজ, হেমন্তাই হত্যা।”

    সকলের মুখে ফুটে উঠল ক্রুর হাসি। একসঙ্গে অদ্ভুতভাবে গর্জন করে উঠল সবাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়াজাতক – অমৃতা কোনার
    Next Article মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    Related Articles

    কোয়েল তালুকদার

    দাঁড়াও সময় (কাব্যগ্রন্থ) – কোয়েল তালুকদার

    January 6, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    মাধবীরা কেউ নেই – কোয়েল তালুকদার

    January 5, 2026
    কোয়েল তালুকদার

    শুক্লপক্ষের তারা – কোয়েল তালুকদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }