Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    সৌরভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ব্রহ্মপদার্থ – ২

    (২)

    বেশ কয়েকটা ঈগল আকাশে উড়ছে। জঙ্গল এইদিকটায় অত্যন্ত ঘন। গাছের উঁচু উঁচু মাথাগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট হয়ে সূর্যালোক প্রায় ঢুকতেই দেয় না। হেমন্তাইয়ের জঙ্গলের সীমানা থেকে এই জঙ্গল প্রায় একশো কিলোমটার গভীরে। এইদিকে ত্রিপুরার রাজ্যবাসী দূরের কথা, ফরেস্ট অফিসারদের কেউই আসেন না। ক্বচিৎ যদিও-বা কেউ আসেন, এত গভীরে প্রবেশ করেন না।

    একটা ছোটো কুটির দেখা যাচ্ছে। বেতের বেড়া দিয়ে বানানো ছোটো কুঁড়ে ঘর। মাটির দাওয়া, টিনের চাল।

    কুটিরের ভেতরে একজন বসে আছেন। টেবিলে বসে তিনি কিছু একটা কাজ করছেন। তাঁর হাতে চৌকো মতো একটা বস্তু। অতি উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ব্যাটারির মাধ্যমে তিনি সেই বস্তুটিতে শক্তি উৎপন্ন করার চেষ্টা করছেন। কুঁড়ে ঘরটির ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে টেস্ট টিউব, বকনল। চারদিকে জারের মধ্যে টগবগ করে ফুটছে বিভিন্ন তরল। একটা ছোটোখাটো ল্যাবরেটরি বানানো হয়েছে এই কুঁড়ে ঘরের ভেতরে।

    লোকটি প্রায় বড়ো সিলিন্ডারের আয়তনের ব্যাটারির সাহায্যে চৌকো বস্তুটিকে দিনভর চার্জ করলেন। চার্জ হওয়ার সময়টায় তিনি দাওয়ায় রাখা খাটিয়াতে শুয়ে রইলেন। সূর্য অস্ত যাবার পর তিনি উঠলেন। কুঁড়ে ঘরের ভেতর থেকে তড়িৎ বিচ্ছুরণের শব্দ আসছে। তিনি উঠে গেলেন যন্ত্রটার কাছে। লাল রঙের বিচ্ছুরণ দেখা যাচ্ছে। এই সন্ধেবেলাতেও একটা সুন্দর লাল আভায় ঘরটা ভরে উঠেছে। এতই বেশি চার্জ হয়ে গেছে যে বস্তুটা লাফাচ্ছে। লোকটি তড়িঘড়ি গিয়ে চার্জ বন্ধ করলেন। তিনি বাক্সের মধ্যে রাখা এক জোড়া দস্তানা পরে নিলেন। তারপর সেই বস্তুটি হাতে তুলে নিলেন। দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি এই বস্তুটি তৈরির চেষ্টা করেছেন। বারবার ব্যর্থ হবার পর আজ বোধহয় সেই দিন। যেদিন শক্তি উৎপাদক স্বনিয়ন্ত্রিত এই যন্ত্র কাজ করা শুরু করবে।

    বস্তুটিকে হাতে নিয়ে খলখলিয়ে হেসে উঠলেন তিনি। এ হাসি আমাদের পূর্ব পরিচিত। কৈটভ হাসছে।

    জঙ্গলের ভেতরে কৈটভের এই হাসি হারিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ওখানে উপস্থিত যে কারও মনে ভয়ের সঞ্চার করতে এই হাসি যথেষ্ট।

    “দেবতার অকাল বোধন হবে।”

    বলেই আর প্রস্থ হাসি। তারপর নিজের দুই হাতে বস্তুটিকে ধরে কুঁড়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসে কৈটভ। সোজা হাঁটতে থাকে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। সন্ধে হয়ে এলেও চাঁদ এখনও পুরোপুরি উঠেনি। আর অল্প সময়ের অপেক্ষা। আজ পূর্ণিমা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদা আলোর দুধ সাদা ধারায় ধুয়ে যাবে জঙ্গল। কৈটভ হাঁটতে থাকে। জঙ্গলের আরও ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকে সে।

    জঙ্গলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে লাল আলোর আভা। দূর থেকে পুরো জঙ্গলটাকে লাল লাগছে।

    কৈটভ হাঁটতে হাঁটতে যেখানে এসে থামল সেখানে এক বিশাল গুহা। পাশে ঝরনার জল অবিরাম নীচে পড়ছে। পাহাড়ি অঞ্চল ত্রিপুরায় এরকম বেশ কিছু গুহা রয়েছে। বেশিরভাগ গুহাই আবিষ্কৃত হয়নি। যেগুলো হয়েছে সেগুলো টুরিস্টদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও রয়েছে প্রচুর পাহাড়ি গুহা। এ সেরকমই এক গুহা। তবে বাকি গুহাদের থেকে এই গুহার উচ্চতা অনেকটাই বেশি। হয়তো এই কারণেই কৈটভ এই জায়গাটা বাছাই করেছে।

    সেখানে পৌঁছে কৈটভ একটা বেদির মতো জায়গায় লাল আলো বিচ্ছুরণকারী বস্তুটা রাখল। তারপর গুহাদ্বারের দিকে এগিয়ে গেল। সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা দুটো চকমকি পাথর তুলে নিল। বারকয়েক পাথর দুটোতে ঘষামাজা করতেই আগুন জ্বলে উঠল। কৈটভ গুহার গায়ে লাগানো একটা মশাল তুলে নিল। পাথরঘষা আগুন দিয়ে মশাল জ্বালাল সে। তারপর পাহাড়ের গায়ে লাগানো আরও খান দশেক মশাল পরপর জ্বালিয়ে ফেলল সে। তাতে অন্ধকার একেবারেই দূর হল। এবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সব। গুহার ভেতরের অংশও এখন দেখা যাচ্ছে।

    একটি লাল মখমলের চাদর দিয়ে ঢাকা রয়েছে এক বিশাল এক স্তম্ভ। ভেতরে কী আছে তা বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে না। কৈটভ এগিয়ে গেল ঢাকা বস্তুটির দিকে। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল বস্তুটির দিকে। তারপর মশালটা গুহার গায়ে রেখে প্রণাম করল বস্তুটিকে। তারপর হ্যাঁচকা টানে লাল মখমলের চাদরটাকে টেনে ফেলে দিল। চাদর সরে যেতেই দেখা গেল গন্দবেরুন্দা দেবের মূর্তি বা খোলসটাকে। গ্রামবাসীদের আরাধ্য দেবতার খোলস নিয়েই পালিয়েছিল সে। দেবতার গা বেয়ে পড়ছে চটচটে পদার্থ। কৈটভের পায়ের নীচে থকথক করছে পদার্থটা।

    কৈটভ আবার মশালটা তুলে নিয়েছে। এ দৃশ্য সুখের নয়। এক বিরাটাকার দৈব খোলস মূর্তির সামনে অতি ক্ষুদ্র এক হিংস্র মানব। নিজের লোভ চরিতার্থ করতে এই ক্ষমতালিপ্স মানব এক দেবতার কাছে এসেছে বরদানের অভিলাষে। কিন্তু এখনও অনেক সাধনা বাকি।

    “গন্দবেরুন্দার জয় হোক।”

    কৈটভের কণ্ঠে গমগম করে উঠল গুহামুখ।

    “হে আরাধ্য, আমি আরও এগারো বছর অপেক্ষা করে থাকতে পারব না। আপনার জাগ্রত হবার কাল আরও এগারো বছর পর আসবে। আর ততদিন অপেক্ষা করে থাকলেও আপনি আমার ইচ্ছে পূরণ করবেন না। আমার ইচ্ছে এই পৃথিবীকে শুধু নয়, এই পৃথিবীর বাইরেও মানবজাতির অধিকার স্থাপন করা। আর এর জন্য আমাকে অতিমানব হতে হবে। আমার চাই দৈবিক শক্তি। এই শক্তি তখনই সম্ভব যখন আমি নিজে আপনাকে চালনা করতে পারব।

    কথাটা বলে দম নিল কৈটভ। তার গলার শিরা-উপশিরা ফুলে উঠেছে। শ্বাস পড়ছে জোরে জোরে। একটা অদ্ভুত গুমোট পরিবেশ হয়ে আছে চারদিকে। ঝিঁ পোকাগুলো অবধি ডাকছে না।

    আর তখনই কৈটভ তার চিরকালীন এক পেশে হাসিটা হাসল। গুহাবিদীর্ণ করে যেন সে শব্দ জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ল।

    “হে আরাধ্য, এই প্রথম কোনো ভক্ত তার আরাধ্যের জায়গা নিতে চাইছে। শিষ্য হয়ে গুরুহত্যার পাপ আমি আগেই করেছি। হেমন্তাই আর জীবিত নন। যে চক্রে আপনার আরাধনা করা হত সেই চক্রটিকে আমি ইতিমধ্যে ধ্বংস করেছি। সুতরাং এখন আর আপনার বারো বছরের অপেক্ষার কোনো কারণ নেই। না আছে গ্রামবাসী-সহ সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করার দায়বদ্ধতা। আমি আপনাকে সমস্ত কর্তব্য থেকে মুক্তি দিতে চাই।

    আবার থামল কৈটভ। তার কথাগুলো গুহার গায়ে ধাক্কা খেয়ে ফিরে ফিরে আসছে।

    কৈটভ আবার চিৎকার করে উঠে, “আপনি স্বয়ং বিষ্ণুর অবতার। তাই আপনার চেয়ে শক্তিমান কেউ নেই। আপনার ত্যাগ করা খোলসে তাই দৈবগুণ বর্তমান। কিন্তু যেহেতু আপনি পরিত্যক্ত খোলস তাই আপনি স্বয়ং বিষ্ণু নন। তাই আপনাকে যদি আমি বিজ্ঞান ও বুদ্ধির মাধ্যমে চালনা করতে পারি তবে আপনার সমস্ত শক্তিতে শুধু আমার অধিকার থাকবে। এই বিধ্বংসী শক্তিগুলোর সাহায্যে আমি সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড জয় করতে পারব। কিন্তু তার আগে আপনাকে জাগ্রত করতে হবে। দেবতাকে জাগ্রত করতে পারার মতো শক্তি আমি তৈরি করেছি। আপনাকে জাগ্রত করার জন্য চাই অসম্ভব শক্তিশালী এক যন্ত্র যার দ্বারা শক্তি বিচ্ছুরণে আপনি জেগে উঠবেন। সেই যন্ত্রের প্রোগ্রামিং করেছি আমি। যাতে আপনি জেগে উঠলে শুধুমাত্র অধিকার স্থাপন করা। আর এর জন্য আমাকে অতিমানব হতে হবে। আমার চাই দৈবিক শক্তি। এই শক্তি তখনই সম্ভব যখন আমি নিজে আপনাকে চালনা করতে পারব।

    কথাটা বলে দম নিল কৈটভ। তার গলার শিরা-উপশিরা ফুলে উঠেছে। শ্বাস পড়ছে জোরে জোরে। একটা অদ্ভুত গুমোট পরিবেশ হয়ে আছে চারদিকে। ঝিঁ ঝিঁ পোকাগুলো অবধি ডাকছে না।

    আর তখনই কৈটভ তার চিরকালীন এক পেশে হাসিটা হাসল। গুহাবিদীর্ণ করে যেন সে শব্দ জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ল।

    “হে আরাধ্য, এই প্রথম কোনো ভক্ত তার আরাধ্যের জায়গা নিতে চাইছে। শিষ্য হয়ে গুরুহত্যার পাপ আমি আগেই করেছি। হেমন্তাই আর জীবিত নন। যে চক্রে আপনার আরাধনা করা হত সেই চক্রটিকে আমি ইতিমধ্যে ধ্বংস করেছি। সুতরাং এখন আর আপনার বারো বছরের অপেক্ষার কোনো কারণ নেই। না আছে গ্রামবাসী-সহ সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করার দায়বদ্ধতা। আমি আপনাকে সমস্ত কর্তব্য থেকে মুক্তি দিতে চাই।

    আবার থামল কৈটভ। তার কথাগুলো গুহার গায়ে ধাক্কা খেয়ে ফিরে ফিরে আসছে।

    কৈটভ আবার চিৎকার করে উঠে, “আপনি স্বয়ং বিষ্ণুর অবতার। তাই আপনার চেয়ে শক্তিমান কেউ নেই। আপনার ত্যাগ করা খোলসে তাই দৈবগুণ বর্তমান। কিন্তু যেহেতু আপনি পরিত্যক্ত খোলস তাই আপনি স্বয়ং বিষ্ণু নন। তাই আপনাকে যদি আমি বিজ্ঞান ও বুদ্ধির মাধ্যমে চালনা করতে পারি তবে আপনার সমস্ত শক্তিতে শুধু আমার অধিকার থাকবে। এই বিধ্বংসী শক্তিগুলোর সাহায্যে আমি সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড জয় করতে পারব। কিন্তু তার আগে আপনাকে জাগ্রত করতে হবে। দেবতাকে জাগ্রত করতে পারার মতো শক্তি আমি তৈরি করেছি। আপনাকে জাগ্রত করার জন্য চাই অসম্ভব শক্তিশালী এক যন্ত্র যার দ্বারা শক্তি বিচ্ছুরণে আপনি জেগে উঠবেন। সেই যন্ত্রের প্রোগ্রামিং করেছি আমি। যাতে আপনি জেগে উঠলে শুধুমাত্র আমার আদেশ মান্য করতে পারেন। হ্যাঁ আদেশ। আজ থেকে আমি আপনাকে আমার আরাধ্য হিসেবে মানছি না। আমার শেষ প্রণাম গ্রহণ করুন। এবার আমি আপনাকে যন্ত্রে পরিণত করব।”

    কথাটা শেষ করা মাত্র কৈটভ মশালটা গুহার গায়ে আটকে দিল। নিজের সবসময়ের পরিধেয় অঙ্গবস্ত্রটি খুলে ফেলল। তারপর হাজির হল গন্দবেরুন্দা দেবের খোলসের সামনে।

    গুহার পাথুরে মেঝেতে গড় হয়ে সে প্রণাম করল। তারপর অনুচ্চ স্বরে বিড়বিড় করে মন্ত্রোচ্চারণ করল। তারপর তীব্র স্বরে, “জয় গন্দবেরুন্দা” বলে উঠে পড়ল। উঠে নগ্নবেশে গুহামুখের বাইরে চলে এল। ওখানে বেদির উপরে রাখা আছে লাল আলো বিচ্ছুরণকারী বস্তুটি।

    কৈটভ চারিদিকে তাকাল। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আকাশে বজ্র বিদ্যুতের খেলা। পূর্ণিমার চাঁদ তার স্নিগ্ধ আলোয় ভরিয়ে তুলেছে জঙ্গলমহলকে। এর সঙ্গে বস্তুটির লাল আলো মিশে চারদিক আলতা রঙা দেখাচ্ছে।

    এরই মাঝে এক নগ্ন উপজাতি পুরুষ তার নগ্ন সুঠাম দেহ নিয়ে প্রকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার অভিলাষ পূরণের আশায়। তার চোখ জ্বলজ্বল করছে। দেখতে দেখতে বৃষ্টিটা তেড়ে এল। দমকা হাওয়া ছুটল। বজ্র বিদ্যুতের মুহুর্মুহু ধ্বনিতে কানের পর্দা ফেটে পড়ার উপক্রম হল। কৈটভ ততক্ষণ অবধি দাঁড়িয়ে শুধু দেখল বস্তুটাকে। বস্তুটাও জলে ভিজছে। কিন্তু তাতে এর মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ উপায়ে তৈরি এই বস্তু জলের সংস্পর্শে এলেও কিছু হয় না।

    কৈটভের শরীর দিয়ে টপ টপ করে জল পড়ছে। টাক মাথা বেয়ে গায়ে নামছে জলের ধারা। এরই মধ্যে ধীরে ধীরে দস্তানাটা হাতে পরে নেয় সে। বস্তুটিকে হাতে তুলে নেয়। বজ্র বিদ্যুতের আলোয় দেখা গেল একটা চৌকো মতো যন্ত্র। বেশ কিছু দুর্বোধ্য ডিজিট দেখা যাচ্ছে তাতে। অবিরত শক্তি উৎক্ষেপণ করছে আর সঙ্গে সঙ্গে আলো বিচ্ছুরণ করছে। যন্ত্রটা কাঁপছে। যেন সংকুচিত প্রসারিত হচ্ছে এই যন্ত্র।

    কৈটভ একটা দীর্ঘ শ্বাস নিল। এবার সে যা করতে চলেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে কী ঘটবে তা সে জানে না। শুধুমাত্র নিজের পড়াশোনার উপর বিশ্বাস রেখে সে পরবর্তী কাজটি করতে চলেছে।

    কৈটভ এবার প্রক্রিয়াটি শুরু করে। একটা নির্দিষ্ট সরলরেখায় দাঁড়ায় সে, যে সরলরেখায় গন্দবেরুন্দার খোলস মূর্তি আর সে একই রেখায় থাকে। চারদিকে মশালগুলো থাকে তার সমান্তরালে। গুহামুখের বাইরে আকাশের দিকে যন্ত্রটি তুলে ধরে সে। যন্ত্রের মধ্যে থাকা ছোটো একটি বোতামে চাপ দিতেই যন্ত্রটি এবার কাঁপতে শুরু করে। এতক্ষণ ধরে যে যন্ত্রটি সাধারণ অবস্থাতেই শক্তি উৎপন্ন করছিল সেটি বোতামে চাপ পড়তেই আরও দ্রুত কাজ করতে শুরু করে। প্রথমেই গুহার গায়ে লাগানো মশালের আগুন নিজের দিকে টেনে নিতে থাকে এই যন্ত্র। সমস্ত মশাল থেকে আগুনকে একপ্রকার শুষে নেয় এই যন্ত্র। চুম্বক যেমন লোহাকে টেনে নেয় ঠিক তেমনি মশাল থেকে আগুন রেখার আকারে ধাবিত হতে থাকে যন্ত্রের দিকে। এ এক দৃশ্য বটে। সবগুলো মশাল নিভে গেল বটে, কিন্তু যন্ত্রটি আগুনের শক্তি শুষে নিয়ে হয়ে উঠল আরও ভয়ংকর। আগের চেয়ে অনেক বেশি লাল আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাতে থাকল এই যন্ত্র।

    কৈটভ কোনোক্রমে আঁকড়ে ধরে থাকল এই যন্ত্রটি। চারদিকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। গুহামুখে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবু কৈটভ দাঁড়িয়ে থাকল। মশালের আগুনের পর তার লক্ষ্য আরও বড়ো শক্তি। বজ্র বিদ্যুতের শক্তি।

    কৈটভ তার সমস্ত উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে শুধুমাত্র দুটো বুড়ো আঙুলের উপর ভর করে উঁচিয়ে ধরল যন্ত্রটিকে। ঠিক তখনই ইন্দ্রের বজ্রসম শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট একটি বাজ পড়ল। যন্ত্র তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে টেনে নিল এই বিদ্যুৎ। লোহার মতো বিদ্যুতও যেন এই যন্ত্র চুম্বকের টানে তার দিকে ধাবিত হল।

    কৈটভ আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। বজ্রাসনে বসে পড়ল পাথুরে জমিতে। আর তখনই সে যন্ত্রে লাগানো একটি হাতলে চাপ দিল। এবার দেখা গেল আরও অদ্ভুত এক দৃশ্য।

    এতক্ষণ যন্ত্র শুধু শক্তি আহরণ করছিল। তার নিজের মধ্যে জমা করছিল। এবার হাতলের চাপে যন্ত্রের অন্য অংশটি খুলে গেল। সেই অংশ থেকে একটি লাল রঙের অতি শক্তিশালী রশ্মি নির্গত হল। এই শক্তিশালী রশ্মিটি সরাসরি গিয়ে পড়ল গন্দবেরুন্দা দেবতা খোলসের উপর।

    নিরবচ্ছিন্নভাবে আকাশ থেকে বজ্র-বিদ্যুতের শক্তি নিতে থাকল সেই যন্ত্র। আর ততোধিক বেগে সেই শক্তি পাঠাতে লাগল গন্দবেরুন্দা দেবতার গায়ে। সূর্যের আলো যেমন আতস কাচের মাধ্যমে কাগজের উপর নিরবচ্ছিন্নভাবে ফেললে কাগজ জ্বলে উঠে, ঠিক সেভাবেই এই আলো খোলসের উপর পড়ার পর মূর্তিটির গায়ে এক গোলাকার আলোক বলয়ের সৃষ্টি হল। কৈটভ শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও সে উঁচিয়ে ধরে আছে যন্ত্রটিকে। যন্ত্রও তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে গন্দবেরুন্দার মধ্যে শক্তি সঞ্চার করে তাকে জাগিয়ে তুলতে। একমাত্র শক্তি সঞ্চারের মাধ্যমেই গন্দবেরুন্দার মূর্তিকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব। আর জগতে নতুন শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস দুটোই অসম্ভব। আর এই অসম্ভবকেই সম্ভব করার চেষ্টায় মেতেছে কৈটভ। প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাজেই তার আনন্দ।

    এভাবে প্রায় আধ ঘণ্টার যুদ্ধ চলল। গন্দবেরুন্দার গায়ে শক্তি সঞ্চারিত হতে শুরু করল। স্থির স্থিতধি গন্দবেরুন্দা দেবের আঙুলের সঞ্চালন সে লক্ষ করল। তার চোখ মুখ আনন্দে ভরে উঠল। সে দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে কাজটি করার চেষ্টা করতে থাকল। প্রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও সে যন্ত্রটিকে উঁচিয়ে ধরে রাখল। বাইরে সাদা রঙের বজ্র বিদ্যুতের যন্ত্রে আগমনের স্রোত আর যন্ত্র থেকে লাল রঙের শক্তি স্রোতের নির্গমন ঘটতেই লাগল। শক্তির সঞ্চারণে ধীরে ধীরে গন্দবেরুন্দার মূর্তিতেও সঞ্চালন সৃষ্টি হতে লাগল। যখন সমস্তই ঘটছিল কৈটভের অভিপ্রায় অনুসারে ঠিক তখনই তাল কাটল।

    কৈটভের হাতের মধ্যেই বিস্ফারিত হল যন্ত্রটি। কৈটভ এক ধাক্কায় উড়ে গিয়ে পড়ল গুহার গায়ে। গুহার গায়ে ধাক্কা খেয়ে সটান মাটিতে। যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেল। আগুন জ্বলছে যন্ত্রটির গায়ে। অন্ধকারে ঢাকা পড়ল গুহামুখ। সমস্ত আলোক স্রোত নষ্ট হয়ে গেল। সর্বোপরি গন্দবেরুন্দা আবার স্থির হয়ে গেলেন।

    কৈটভের পরীক্ষা আবার ব্যর্থ হল। কৈটভ যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকল। এ যন্ত্রণা দৈহিক নয়, মানসিক। এতদিন ধরে করা পরীক্ষার ফসল এই শক্তিশালী যন্ত্রটি ব্যর্থ হল। এ যে কী ব্যথা! একমাত্র লোভী কৈটভই তা জানে।

    বাইরে বৃষ্টি শিথিল হয়ে এসেছে। তবে এখনও মাঝে মাঝে বিদ্যুতের আলো দ্যুতি ছড়াচ্ছে। যন্ত্রটিতে লাগা আগুন ঝিমিয়ে পড়ে একসময় নিভে গেছে। শুধু কৈটভ এখনও নগ্ন অবস্থায় পাথুরে মেঝেতে পড়ে আছে। এই হারে সে ভেঙে পড়েছে। মৃত কৈটভের মতো শক্তিশালী নির্যাস যার মাধ্যমে দুনিয়ার উপর নিজের আধিপত্য কায়েম করা সম্ভব, সেই মৃত কৈটভের আবিষ্কর্তা মেঝেতে পড়ে ব্যর্থতায় ধুঁকছে। জীবনের চেয়ে বড়ো খেলোয়ার কেউ নেই। আজকের রাজা কাল ফকির।

    তবে জীবনের এটাও এক ধর্ম যে সে আবার সুযোগ দেয়। উঠে দাঁড়াবার সুযোগ কৈটভের কাছে হেঁটে এল।

    কৈটভ মেঝেতে পড়ে আবিষ্কার করল কেউ একজন গুহামুখের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। সে অস্পষ্ট তাকাল সেদিকে। তখনই একটা বড়ো বাজ পড়ল। সেই আলোয় কৈটভ দেখল একজন ধুতি পরা মানুষ গুহামুখে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কে?

    আবার বাজ পড়ল। এবারে সে আরও স্পষ্ট করে দেখল লোকটা পাঞ্জাবিও পরেছে। মাথায় ছাতা।

    “উঠে পড়ুন। আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।”

    কৈটভের ভ্রু কুঁচকে গেল। কে এসেছে তাকে নিয়ে যেতে? আর এই জঙ্গলের খোঁজ ওরা পেলই-বা কীভাবে। কৈটভ আর দেরি করল না। সে বুঝে গেছে যে তাকে বন্দি করে নিতে পাঠানো হয়েছে।

    এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সে উঠে দাঁড়াল। আর নিঃশব্দে অন্ধকারের মধ্যে আক্রমণ করল। শূন্যের মধ্যে লাফ দিয়ে কৈটভ এগিয়ে গেল তাকে মারতে।

    যিনি এসেছিলেন তিনি যেন এরকম কিছুর জন্য প্রস্তুতই ছিলেন। মাথা থেকে ছাতা না সরিয়ে শুধু এক কদম পেছনে গিয়ে তাইকুন্ডুর এক প্যাঁচে কৈটভকে ধরাশায়ী করলেন। মুখে বললেন,

    “আপনি খামোখাই এসব করছেন। আমি আপনার শত্রু নই। আমি আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি। এতে আপনার ইচ্ছেও পূরণ হবে আর আমাদের অভিষ্টও। আপনি আসুন।”

    কৈটভ বুঝতে পারল যে সে এখন ক্লান্ত। দেহ-মন অবসন্ন। এই লোকের সঙ্গে লড়াই করার মতো অবস্থা তার নেই। সে শুধু জিগ্যেস করল, “আপনি কে? আপনাদের অভীষ্ট কী?”

    “আমি একটি গোপন সংঘের সদস্য। আমাদের অভীষ্ট কী সে বিষয়ে বিশদে আমাদের অধিকর্তা আপনাকে জানাবেন। আপাতত বলতে পারি আপনাকে আমাদের চাই।”

    “চাই বললেই যেতে হবে নাকি? কী সংঘ, কে অধিকর্তা কিছুই জানি না।”

    “সব বললেও আপনি এখন বুঝবেন না। তার চেয়ে চলুন আমার সঙ্গে। ওখানে গিয়েই সব বুঝবেন। এই জঙ্গলে এতটুকু এসে যখন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, তখন বুঝতেই পারছেন যে এলেবেলে কেউ নই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। নইলে বারবার এরকম অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে থাকবে।

    আমাদের কাছে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আছে।”

    এবার কৈটভ ভ্রু কোঁচকায়। এটা সত্যি যে এখানে যে-কেউ এসে পৌঁছোতে পারবে না। এই লোক যখন এসেছে এবং তার উপর নজর রেখে চলেছে তবে ওর পেছনে বড়ো কোনো শক্তি নিশ্চয়ই আছে। কৈটভ উঠে দাঁড়ায়।

    মানুষটা ছাতা হাতে মাথায় দিয়েই এগিয়ে আসে। কৈটভের দিকে একটা প্যাকেট এগিয়ে দেয়।

    “এই নাও ধুতি আর পাঞ্জাবি। আমাদের সংঘে আমরা সবাই ধুতি আর পাঞ্জাবি পরি। পরে নাও।

    কৈটভ অবাক চোখে পরিধেয় বস্ত্র পরে নিল। সুঠাম গড়নের লোকটার সঙ্গে সে গুহামুখ থেকে অজানা এক পথের দিকে রওনা দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী
    Next Article এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }