Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    সৌরভ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶

    হলাহল বিষভাণ্ড – ১০

    ।। ১০।।

    কলিযুগে ফিরে এল সবাই। এক প্রাচীণ অরণ্য। অরণ্যের যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে সবাই। অরণ্যে অবিরত একটা ঘণ্টাধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আশেপাশে নিশ্চয়ই কোনো মন্দির আছে। এ যে পৃথিবীতেই অবস্থিত কোনো স্থান তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নয়! রামানুজ পকেট থেকে মোবাইল বের করল। নেটওয়ার্ক নেই। এটা যে অঞ্চলই হোক না কেন তাতে মোবাইল কাজ করছে না। ফলে বাকিদের ফোন করে নিজের অবস্থান জানানো সম্ভব নয়। বাকিরাও নিজের নিজের মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা করে। কিন্তু কারও পক্ষেই সম্ভব হয় না।

    গায়ের ধুলো ঝেড়ে সবাই উঠে দাঁড়ায়। অরণ্যের একেবারে উপরিভাগ থেকে একটা ইগল উড়ে যাচ্ছিল। ইগলের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে বোঝা যাচ্ছে, একটা প্রাচীন মন্দিরকে ঘিরে রেখেছে এই অরণ্য। সে এক বিশালাকায় মন্দির। যেন কোনো এক গূঢ় রহস্য বুকে নিয়ে অবহেলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। মন্দির গাত্রে শ্যাওলার পুরু আস্তরণ জমে থাকায় মন্দিরের আসল রং বোঝা যায় না বললেই চলে। আর মন্দিরের চারিদিকের গাছপালা শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে মন্দিরটিকে এমনভাবে ঢেকে রেখেছে যে খুব মন দিয়ে লক্ষ না-করলে বাইরে থেকে মন্দিরটির অস্তিত্ব বোঝা কষ্টসাধ্য কাজ।

    এই মন্দিরের চারদিকেই অনতিদূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে সবাই। কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছে না যদিও। শুধু বুদ্ধি করে ঘণ্টাধ্বনি শুনে এগিয়ে গেলে সবাই এক জায়গায় মিলিত হবে। অদৃশ্য-কৈটভ সবার আগে মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দিল। বৃশ্চিক আর বিবস্বানও তাই করল। ক্লোন-কৈটভও নিজের অগ্রগতি জানান দিল চিৎকার করে। গুরুদেবের কষ্ট হচ্ছিল, যেহেতু এখন তাঁর পায়ে শেকল। রামানুজের দলও একই পথ অবলম্বন করল। সবাই নিজের নিজের মতো এগোতে লাগল। যত তারা এগোতে থাকল ততই ঘণ্টাধ্বনির শব্দ তীব্রতর হতে লাগল। সেই শব্দকে ব্রহ্ম হিসেবে জ্ঞান করেই পথ খুঁজতে লাগল সবাই। মাঝে মাঝে কেউ-না-কেউ একজন আর একজনের নাম ধরে ডাকছে।

    “রামানুজদা।”

    “দুর্গা।”

    “দাসবাবু।”

    “বিবস্বান।’

    “বৃশ্চিক।”

    “গুরুদেব।”

    কৈটভকে সকলে এতই ভয় পায় যে তার আপনজন বলে কেউ নেই। সবাই জানে কেউ না-পৌঁছালেও কৈটভ সঠিক স্থানে ঠিক পৌঁছে যাবে। আর ঘটলও তাই। মন্দিরের সামনে ক্লোন-কৈটভ আর অদৃশ্য-কৈটভই সবার আগে পৌঁছাল। সেখানে পৌঁছে তারা যে দৃশ্য দেখল তাতে তাদের মতো ঠান্ডা মাথার শয়তানেরও চোখ বিস্ফারিত হল।

    মহাবিষ্ণুর অবতার দাঁড়িয়ে আছেন মন্দিরের মাঝখানে। তাঁর পায়ের কাছেই রাখা আছে শেকলাবৃত হলাহল বিষভাণ্ড। শেকলে বাঁধা সেই বিষভাণ্ড থেকে গরম হলকা বেরোচ্ছে যেন। সেই বিষ এখন আয়তনে বেড়েছে। সেই বিষ রীতিমতো ফুটছে। মহাবিষ্ণুর অবতারের কটিদেশে শাড়ির ঝলকে মোহিনীকে মনে করায়। সেই মোহিনী যিনি দেবতাদের অমৃত পান করিয়েছিলেন। বিষ্ণুর মোহিনী রূপের ঝলকও রয়েছে এই অবতারের মধ্যে

    কৈটভের পর এসে পৌঁছাল দুর্গা। কৈটভ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না-করে এগিয়ে গেল হলাহল পান করতে। কিন্তু ক্লোন-কৈটভ মন্দিরের সিঁড়িতে পা রাখামাত্র সঙ্গে সঙ্গে গর্জনটা ভেসে এল। ক্লোন-কৈটভ সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ট্রান্সপেরোমিটারে আবৃত করে নিল। ফলে সে স্বচ্ছ হয়ে গেল। এক অতিকায় বাঘ বেরিয়ে এল মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে। তার গর্জনে পুরো অরণ্য কাঁপতে লাগল। সে তার সম্মুখভাগের পায়ের থাবায় জিভ বোলাচ্ছে। জিভের কাটাগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তার চোখে শুধু শিকারের নেশা। কৈটভ বাঘের সামনে দাঁড়িয়ে। তার পেছনে দুর্গা। বাঘটি এক লাফে কৈটভের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কিন্তু কৈটভ ট্রান্সপারেন্ট অবস্থায় থাকায় বাঘ গিয়ে পড়ল দুর্গার সামনে। দুর্গা ভয় পেলেও নিজের রিফ্লেক্স ভুলে যায়নি। আশ্রমে প্রাপ্ত শিক্ষা কাজে লাগিয়ে চেষ্টা করল বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করার। কিন্তু বাঘটি এতই বিশালাকার এবং শক্তিশালী যে, দুর্গা তার সঙ্গে পেরে উঠল না। তার গায়ে বাঘের থাবার দগদগে ক্ষত বাড়তে লাগল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে দুর্গা মাটিতে পড়ে ব্যথায় ছটফট করতে লাগল। চারদিক রক্তে ভরে গেল। বাঘ তার শিকারের ওপর শেষ থাবাটি মারতে উদ্যত হল। বাঘের খিদে পেয়েছে। জলজ্যান্ত মানুষকে সে খায়নি বহুকাল হয়েছে। ঠিক এমন মোক্ষম সময়ে রামানুজ এসে বাঘের ওপর লাফিয়ে পড়ল। ফরেস্টে বহুকাল কাটানোর ফলে বন্য প্রাণীদের সঙ্গে লড়াইয়ের একটা অভিজ্ঞতা তার আগেই ছিল। কিন্তু বাঘের সঙ্গে কোনোদিন মোকাবিলা হয়নি। আর অতিকায় এরকম কোনো প্রাণীর সঙ্গেও তো একেবারেই না। তবু নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাল সে।

    বাঘের শক্তির সঙ্গে সাধারণ মানুষের পেরে ওঠার কথা নয়। তাই সে কিছু টেকনিকের সাহায্য নিল। কৈটভের এসবে মন নেই। সেস ইতিমধ্যে পৌঁছে গেল হলাহলের কাছে। তাকে আটকাবার কেউ নেই। ক্লোন-কৈটভ আগে শেকলগুলো ভাঙছে। এত অগুনতি শেকল লাগানো যে সেগুলো না-ভেঙে হলাহল পান করা সম্ভব নয়। চারদিকে শেকলের জাল। বাঘের সঙ্গে মহারণ লড়ছে রামানুজ। কিন্তু কোনোভাবেই পেরে উঠছে না। পেরে ওঠা সম্ভব নয়। রামানুজ ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। কাঞ্চন চলে এসেছে। কিন্তু তার পক্ষেও এই বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভব নয়। সে চিৎকার করল, “রামানুজদা বাক্সের বৃদ্ধকে ডাকো।”

    রামানুজ শুনতে পেল। কিন্তু বাঘকে কোনোক্রমে ঠেকিয়ে রাখার পাশাপাশি বাক্সকে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটাও ঠিক যে তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এই যুদ্ধ। এ এক অসম যুদ্ধ। আর কিছুক্ষণ এভাবে চললে সে বাঘের হাতে নির্ঘাত মারা পড়বে। বাঘটা রামানুজের বাঁ হাত কামড়ে ধরল। রামানুজ আর্তনাদ করে উঠল। আর তখনই আগ্নেয়াস্ত্রের শব্দ হল। দাসবাবু গুলি চালিয়েছেন বাঘের ওপর। বাঘ গুলির আঘাতে ছিটকে পড়েছে। দাসবাবু দৌড়ে গেলেন রামানুজের দিকে।

    “স্যার, স্যার? আপনি ঠিক আছেন?”

    “আমি ঠিক আছি। আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন এই যাত্রায়।”

    “আরে এবার আমি বাঁচালাম, আগামিবার আপনি আমাকে বাঁচাবেন এভাবেই চলবে। নিন উঠুন।”

    “ঠিক আছে। এখন ওদিকে গিয়ে তোমরা কৈটভকে আটকাও। আমি উঠতে পারছি না। তোমরা যাও তাড়াতাড়ি।”

    বাঘটা তখনও রীতিমতো কাতরাচ্ছে। কৈটভ ভেঙে ফেলেছে বহু শেকল। বিবস্বান আর বৃশ্চিক সবেমাত্র পৌঁছেছে মন্দিরে। গুরুদেব এখনও আসেননি। তাঁর নিশ্চয়ই হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। কাঞ্চন আর দাসবাবু এগিয়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল কৈটভের ওপর। কিন্তু ট্রান্সপেরোমিটারের কারণে কৈটভকে কেউ ছুঁতেও পারল না। রামানুজ নিজে উঠতে না-পারলেও দুর্গার দিকে একটা টেস্টটিউব গড়িয়ে দিল।

    “এটা কৈটভের ওপর ফেলো। তাতে ট্রান্সপেরোমিটার অকেজো হয়ে যাবে। কর্কট আমাকে এটা দেবার মুহূর্তে বলেছিলেন যে টেস্টটিউব যেন সরাসরি ট্রান্সপেরোমিটার যার ওপর ক্রিয়াশীল তার গায়েই ভাঙা হয়। তাড়াতাড়ি করো।”

    দুর্গার সামনে এসে থেমেছে টেস্টটিউবটা। দুর্গা নিজেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে আছে। বাঘের আঁচড়ে ইতিমধ্যে রক্তপাত হয়েছে অনেক। তবু দেহের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে উঠে দাঁড়ায় দুর্গা। এক মুহূর্ত দেরি না-করে টেস্টটিউবটা মাটি থেকে তুলে ক্লোন-কৈটভের দিকে দৌড়ায় সে। পথে একবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়, তবু টেস্টটিউবটা হাত থেকে ফেলে দেয় না। আবার উঠে দাঁড়ায়। ততক্ষণে বিবস্বান আর বৃশ্চিক, কাঞ্চন আর দাসবাবুকে ধরে ফেলেছে।

    দুর্গা কালবিলম্ব না করে ক্লোন-কৈটভের গায়ে সরাসরি ছিটিয়ে দিল টেস্টটিউবের তরল। সঙ্গে সঙ্গে কৈটভ আবার সাধারণ রক্ত মাংসের মানুষ হয়ে গেল। স্বচ্ছতা দূর হয়ে গেল। দুর্গা এই কাজটি সেরে সেখানেই লুটিয়ে পড়ল। অদৃশ্য হয়ে আসল-কৈটভ সব দেখছিল। কিন্তু কোনো উচ্চবাচ্য করছিল না। চুপচাপ সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। ধূর্ত শেয়াল যেভাবে সময়ের জন্য অপেক্ষা করে সেভাবেই সে তক্কে তক্কে ছিল সঠিক সময়ের জন্য।

    ট্রান্সপেরোমিটার অকেজো হয়ে গেলেও ক্লোন-কৈটভের উদ্যমে কোনো কমতি ছিল না। সে তার উদ্দেশ্যে অনড়। তার লক্ষ্য একমাত্র হলাহল বিষভাণ্ড। সেটা যতক্ষণ না করায়ত্ত হচ্ছে সে থামবে না।

    দেখতে-দেখতে ক্লোন-কৈটভ অনায়াসেই হলাহলের কাছে পৌঁছে গেল। রামানুজ অসহায়ের মতো দেখছে সব। কিছুই করার নেই। রামানুজ শুধু ভাবছে কৈটভ যদি কোনোভাবে কলিপুরুষে রূপান্তরিত হয় তাহলে এই কলিযুগে ঠিক কী ঘটতে পারে? একটা যুগ সম্পূৰ্ণ হবার নির্দিষ্ট সময়ের আগে তার সংহারকের জন্ম হলে সৃষ্টির বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। এবার কি সেটাই হতে চলেছে?

    ক্লোন-কৈটভ হলাহল বিষভাণ্ডের কাছে পৌঁছে গেল। মহাবিষ্ণু মূর্তি স্বয়ং বসে আছেন সেখানে। তাঁর পায়ের কাছে টগবগিয়ে ফুটছে কলিপুরুষের ধাত্রী এই হলাহল বিষ। কৈটভ একটা পাত্র বের করল। এই পাত্র সেই পদার্থে তৈরি যে পদার্থ দিয়ে মেল্টারো ধারণ করার টেস্টটিউব তৈরি হয়। বৃশ্চিক তাকে এই পাত্রটি দিয়েছিল। সেই পাত্ৰ হলাহল বিষে পূর্ণ করতে লাগল। কিন্তু এই কাজ সে অতি সাবধানে করছে। সে জানে অর্ধনারীশ্বর মূর্তির সাবধানবাণী। এক ফোঁটাও যদি এখন মহাবিষ্ণু অবতারের ওপর পড়ে অনর্থ হয়ে যাবে। খুব ধীরেসুস্থে সে পাত্রে হলাহল নিচ্ছে। বৃশ্চিক আর বিবস্বান মিলে দাসবাবু আর কাঞ্চনকে রোখার চেষ্টা করছে। রীতিমতো হাতাহাতি হচ্ছে তাদের সঙ্গে। দুর্গা রক্তাক্ত অবস্থাতেও উঠে দাঁড়িয়েছে। দুর্গা ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাদের ওপর। দুর্গার শারীরশিক্ষা পুরুষদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তাই বিবস্বান আর বৃশ্চিক রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে দুর্গাদের সামলাতে। তবে দুর্গা যেহেতু বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে ক্লান্ত তাই তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

    রামানুজ কোনোক্রমে উঠে গুরুদেবের কাছে গেল। তার মুখের স্বয়ংক্রিয় বাঁধন খুলে দিল মেল্টারো ব্যবহার করে। বাঁধন গলে গেল মেল্টারোর প্রভাবে। ওদিকে দুর্গার কারণে এরকম এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হল যে বৃশ্চিক আর বিবস্বান দুজনেই দুর্গাকে আটকাতে লাগল। দুর্গার খেয়ালের জন্য কাঞ্চন রয়ে গেল। কিন্তু মুক্ত হয়ে গেলেন দাসবাবু। আর মুক্ত হয়েই মন্দিরের ভেতরে ছুটলেন। কৈটভ তখন হলাহল নিচ্ছে পাত্রে। এমন সময়ে দাসবাবু তাকে জাপটে ধরলেন। কৈটভের হাত গেল কেঁপে। আর তখনই পাত্র থেকে হলাহল ছলকে উঠল। ছিটকে পড়লও কয়েক ফোঁটা। আর গিয়ে পড়ল মহাবিষ্ণু মূর্তিতে। রামানুজ দূর থেকে দেখেই কপালে হাত দিল। অদৃশ্য-কৈটভও চিন্তায় পড়ল। চারদিকে এত দৌড়ঝাঁপ চলছে যে এটা হবারই ছিল। এবার কার জন্ম হবে? কী ঘটবে এই মন্দিরের গর্ভগৃহে?

    কেউ কোনোকিছু ভাবার আগেই দড়াম করে একটা শব্দ হল। যে যেখানে ছিল চুপ করে দাঁড়িয়ে গেল। রামানুজ-সহ সবাই অপার বিস্ময়ে ওপরের দিকে তাকাল। পুরো মন্দির গাত্র ভীষণ জোরে কেঁপে উঠল যেন! এক বিশাল কম্পাঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে মন্দিরের ভিতরে।

    মহাবিষ্ণু মূর্তিটি কাঁপছে। প্রথমে ধীরে ধীরে, তারপর রীতিমতো জোরে কম্পিত হচ্ছে মূর্তিটি। অল্প অল্প করে ফাটল ধরছে মূর্তির গায়ে। একসময় একেবারে সশব্দে ফেটে গেল মূর্তিটি। মাথাটা সবার প্রথমে ফাটল। যে যেখানে ছিল কয়েক পা পিছিয়ে এল। মহাবিষ্ণুর মাথাটা ভূ-পতিত হয়ে ভেঙে গেল। হলাহলের বিষের বিষবাষ্পের প্রভাবে সকলের চোখ-মুখ জ্বলছে। নেশাগ্রস্ত লাগছে। মূর্তিটি ভূ-পাতিত হওয়ায় আচমকাই ধুলোয় ঢেকে গেল চারদিক। সবাই চোখ ঢাকল। ঠিক এই সময়ে মস্তকহীন বাকি মূর্তিটা পদ্মফুলের মতো চারদিক দিয়ে ভাঙতে শুরু করল।

    বিবস্বান চিৎকার করল, “বৃশ্চিক, কৈটভ পালাও। মূর্তি ভেঙে তোমাদের উপরে পড়বে।”

    বৃশ্চিক ও কৈটভ তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে ঝাঁপ দিল। দাসবাবুও কাছেই ছিলেন। রামানুজ চিৎকার করল, “দাসবাবু, দূরে চলে আসুন।”

    দুর্গা, কাঞ্চন, রামানুজ, গুরুদেব ইতিমধ্যে কিছুটা দূরেই ছিলেন। তবু যে যেখানে পারল দৌড়ে নিজের মাথাটা বাঁচাল। এত বিশাল মূর্তি ভেঙে মাথায় পড়লে কেউই বাঁচার কথা নয়। একটা বৃহদাকার কাঁটাওয়ালা লেজ সবার আগে বেরিয়ে এল সেই মূর্তির ভেতর থেকে। সকলেই দৌড়াচ্ছিলেন। রামানুজ আর গুরুদেব তফাতে ছিলেন বলে সমস্তটাই নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন। কাঁটাওয়ালা লেজটা সবার আগে এলোপাথাড়ি ছুটল চারিদিকে। আর তাতেই ঘটে গেল এক নিদারুণ অঘটন। লেজের তীক্ষ্ণ ফলা সোজা গিয়ে বিধল দাসবাবুর পিঠে। বেরিয়ে এল বুক দিয়ে। সেই লেজ দাসবাবুকে গেঁথে আবার পিছিয়ে গেল।

    রামানুজ চিৎকার করে উঠল, “দাসবাবু।”

    কিন্তু ততক্ষণে যা ঘটার ঘটে গেছে। দাসবাবু ছটফট করার সময় অবধি পেলেন না। তিনিও সিনহা সাহেবের মতো বুঝে উঠার আগেই ইহলোক ত্যাগ করলেন। একটু আগেই মানুষটা রামানুজকে বলেছিলেন যে তাঁর খারাপ অবস্থায় রামানুজ নিশ্চয়ই তাকে বাঁচাবেন। কিন্তু তাঁকে বাঁচাবার সময়টুকু রামানুজ পেল না। চোখের পলক পড়ার আগেই দাসবাবু নেই হয়ে গেলেন। রামানুজ দৌড়ে সেদিকে যেতে চাইল। গুরুদেব বাধা দিলেন, “এখন আবেগে কাজ করলে চলবে না। এই যুদ্ধে তোমার প্রয়োজন সর্বাধিক। অপেক্ষা করো।”

    রামানুজ জিজ্ঞেস করল, “এ কী ধরনের জীব?”

    গুরুদেব মাথা নাড়লেন, “জ্ঞানত এরকম কিছু আমি দেখিনি আগে।”

    ওদিকে বৃশ্চিক বিবস্বানকে বলল, “আমি এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম।”

    বিবস্বান একটা থামের আড়ালে লুকিয়েছে, “প্ল্যান বি তৈরি আছে তো?”

    বৃশ্চিকও থামের পেছনে লুকিয়ে পড়েছে। সে আশ্বস্ত করে বলল, “হ্যাঁ। এই কৈটভ আসল নয়, ক্লোন। আশা করছি ক্লোন-কৈটভ এই জীবকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।”

    ক্লোন-কৈটভ এভাবে পেছন ফিরে পালাতে চাইল না। সে একটু সময় দাঁড়িয়ে গেল। আর সেই লেজওয়ালা প্রাণীটির জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। ধীরে ধীরে সবাই দেখল তীক্ষ্ণ নখরযুক্ত বিশালাকার দুটো পা বেরিয়ে এল। তারপর ধীরে ধীরে ডিম ফুটে বাচ্চা হবার মতো মহাবিষ্ণু মূর্তির থেকে বেরোল এক ভয়ংকর জীব। তার নাম কেউ জানে না। সাধারণ মানুষের হাতের সাইজের যে নখর তার অঙ্গে বর্তমান তাতে মানুষ তো বটেই বাঘ ভাল্লুককেও চিরে ফেলা সম্ভব অনায়াসেই। সেই প্রাণীর মুখের অংশটি অদ্ভুত। ব্যাখ্যা করা যাবে না এত বীভৎস সেই মুখ। এ রাক্ষস না সরীসৃপ না কী তা এই মুহূর্তে কেউ ভেবে পেল না।

    তার গর্জনে টেকা যাচ্ছিল না। কানের পর্দা ফেটে যাচ্ছে এত শব্দ। ক্লোন-কৈটভ এগিয়ে গেল। প্রাণীটি মন্দিরের গা ভেঙে এগিয়ে আসতে লাগল। ক্লোন-কৈটভ তার দেহের সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল প্রাণীটির উপর। সেই রাক্ষস কৈটভকে প্রতিহত করার কথা ভাবেনি। ফলে ক্লোন-কৈটভ সজোরে তার পায়ের ওপর লাফিয়ে আঘাত করতে পারল। দেখে মনে হল না যে সেই প্রাণীর এতটুকু লেগেছে। প্রাণীটি ইতিউতি তাকাতে লাগল আর গর্জন করতে লাগল। কৈটভকে প্রাপ্য সম্মানটুকু পর্যন্ত দিল না।

    রামানুজ নিজে ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছে না। গুরুদেব তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দুর্গা ও কাঞ্চন একদিকে লুকিয়ে রয়েছে। বিবস্বান আর বৃশ্চিকও লুকিয়ে পড়েছে স্তম্ভের পেছনে। অদৃশ্য কৈটভ সব দেখছে। এই মুহূর্তে প্রকট হবার প্রশ্ন তার মনে নেই। শুধু ক্লোন-কৈটভ প্রাণীটির সঙ্গে যুদ্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে চলেছে। ক্লোন-কৈটভ একটি টেস্টটিউব বের করল এবং তা ছিটিয়ে দিল পর্বতসম প্রাণীটির গায়ে। হিসেব মতো প্রাণীটির শরীর জ্বলে যাবার কথা। কিন্তু ছিটিয়ে দেবার বেশ কিছুটা সময় পরেও কিছুই হল না। প্রাণীটি মন্দিরের একদিক প্রায় ধসিয়ে দিল। এই মুহূর্তে কীভাবে হলাহল সংগ্রহ করে এই স্থান ত্যাগ করা উচিত তা কারও মাথায় আসছে না। মন্দির যদি আরও ধসে যায় সেক্ষেত্রে মন্দির সম্পূর্ণ মাথায় ভেঙে পড়বে। মন্দির ছেড়ে পালানো উচিত।

    ক্লোন-কৈটভ একটি ভাঙা পাথরের বড়ো চাঁই তুলে ছুড়ে মারল প্রাণীটির দিকে। তা গিয়ে লাগল প্রাণীটির চোখের কাছে। এতে কিছুটা কাজ হল মনে হয়! অন্তত প্রাণীটি ক্লোন-কৈটভকে দেখতে পেল। প্রাণীটি দিগবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ধেয়ে এল ক্লোন-কৈটভের দিকে। কৈটভ এবার তৈরিই ছিল। প্রাণীটার মেরুদণ্ড খুবলে নেওয়ার চেষ্টায় লাফ দিল কৈটভ। প্রাণীটি তার তীক্ষ্ণ নখরযুক্ত হাতে কৈটভকে শূন্যতেই ধরে ফেলল। তারপর সবাইকে আশ্চর্য করে কৈটভকে দুই টুকরো করে ফেলে দিল। এক ভাগ পড়ল বৃশ্চিকের ওপরে, আর একভাগ পড়ল দুর্গাদের ওপরে। ক্লোন-কৈটভের এই পরিণতি দেখে উপস্থিত সকলে ভয়ে সিঁটিয়ে গেল। বিশেষত রামানুজরা এই ঘটনায় খুশি হবে নাকি দুঃখ পাবে তাই বুঝতে পারল না বেশ কিছুক্ষণ।

    অদৃশ্য-কৈটভ এই ঘটনায় তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। শত হোক তার ক্লোনকে কেউ এভাবে ছিঁড়ে ফেলে দেবে তা সে সহ্য করতে পারল না। কিন্তু তার মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী সে অদৃশ্যই থেকে গেল। রামানুজ বুঝল এই যাত্রায় বেঁচে ফিরতে হলে কার প্রয়োজন। সে সামনে পড়ে-থাকা একটি তীক্ষ্ণ পাথরে নিজের বাঁহাতের তর্জনী কেটে ফেলল। তারপর পকেট থেকে বের করল সেই বাক্স। বাক্সের ওপর কয়েক ফোঁটা রক্ত ফেলতেই বাক্সটি বড়ো হয়ে গেল। সেই বাক্স থেকে একটা টেস্টটিউব বের করে মাটিতে ফেলে ভেঙে দিল। আর তারপরেই সবাইকে আশ্বস্ত করতে সেখানে সৃষ্টি হল সেই অমিতশক্তিধর বৃদ্ধের, যার পীঠে রয়েছে অসংখ্য উপাঙ্গ।

    রামানুজ আঙুল নির্দেশ করে প্রাণীটির দিকে দেখাল বৃদ্ধকে।

    “এই প্রাণীটিকে হত্যা করো।”

    প্রাণীটি এখন হলাহল বিষভাণ্ডের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। সে এই বিধ্বংসী বিষের রক্ষক। সময়ের আগে কলিপুরুষের সৃষ্টি সে হতে দেবে না। বৃদ্ধ এগিয়ে গেল প্রাণীটির দিকে। বৃদ্ধকে এগিয়ে আসতে দেখে প্রাণীটা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকে দেখল। তারপর একটা বড়ো নিশ্বাস ত্যাগ করল বৃদ্ধের দিকে তাগ করে। বৃদ্ধ তৎক্ষণাৎ কয়েক হাত দূরে ছিটকে গিয়ে পড়ল। রামানুজ দেখল প্রাণীটির নিশ্বাসের সঙ্গে আগুন বেরোচ্ছে।

    এই দৃশ্য দেখে রামানুজেরও মনে একটা ভয় ঢুকল। এবার কি হবে যদি এই বৃদ্ধ অবধি হেরে যায়? আর তো কিছুই বাকি নেই। হঠাৎ তার মনে পড়ল কর্কটের দেওয়া শঙ্খের কথা। সময় নষ্ট না-করে সে শঙ্খ বের করল। তাতে ফুৎকার দিল। কিন্তু কোনো শব্দ বেরোল না। পারিপার্শ্বিকের কম্পাঙ্ক আর শঙ্খের কম্পাঙ্ক সমান হচ্ছে না। এদিকে বৃদ্ধ কিন্তু কয়েক কদম পিছিয়ে গেলেও সজোরে লাফ দিয়ে ফিরে এল। নিজের তীক্ষ্ণ উপাঙ্গে ভর করে সোজা লাফ দিল প্রাণীটির গায়ে। এত জোরে আঘাত করল যে প্রাণীটি কয়েক কদম পিছিয়ে তো গেলই তীক্ষ্ণ উপাঙ্গের আঘাতে, ফালাফালাও হল তার শরীর। প্রাণীটি এই প্রথমবার হলাহল বিষভাণ্ড ফেলে বৃদ্ধের সঙ্গে সম্মুখ সমরে এল। শুরু হল এক মহাযুদ্ধ। কেউ কারও থেকে কম যায় না। দু-জনেই নিজেদের তীক্ষ্ণ অস্ত্রাদি যথা নখর ও উপাঙ্গ দিয়ে একে অপরকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

    রামানুজ গুরুদেবকে নিয়ে কোনোক্রমে দুর্গা আর কাঞ্চনের কাছে পৌঁছেছে। কাঞ্চন জিজ্ঞেস করল, “এখন কী করা যায় রামানুজদা?”

    রামানুজ বলল, “আমাদের এবারের অভিযান কিন্তু সফল। কারণ কৈটভ আর নেই। কৈটভ ছাড়া কলিপুরুষ হবার মতো কেউই নেই আর। সুতরাং এবার সময়চক্রযানে চড়ে আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত।

    দুর্গা জিজ্ঞেস করল, “বিবস্বান এবং বৃশ্চিককে নিয়ে কী করা উচিত? ওদের কি আমরা এভাবেই ছেড়ে দেব!”

    রামানুজ বলল, “কৈটভ জীবিত না-থাকলে ওরা কখনও আমাদের কাছে থ্রেট নয়।”

    গুরুদেবের স্মৃতি নষ্ট করা হয়েছে। তবু গুরুদেবের মনে হচ্ছিল এমন কিছু কথা এই মুহূর্তে তাঁর বলা দরকার যা তিনি মনে করতে পারছেন না। রামানুজ গুরুদেবকে জিজ্ঞেস করল, “তাহলে আমরা সময়চক্রযানকে আহ্বান করি গুরুদেব? আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। পবন কুমার প্রদত্ত সময়চক্রযান একটি নির্দিষ্ট কালের পর আর কাজ করবে না। আমরা যেহেতু যুগান্তরে যাত্রা করেছি তাই অতি অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এবার যথা সময়ে যথাস্থানে ফেরা আশু প্রয়োজন।”

    কাঞ্চন এরই মধ্যে একবার জিজ্ঞেস করল, “আর দাসবাবু?”

    রামানুজ তাকাল সেই প্রাণীটার দিকে। সে এখনও বৃদ্ধ মানুষটির সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে। কিন্তু তার লেজে এখনও গেঁথে আছেন দাসবাবু।

    “দাসবাবুর আত্মার শান্তি কামনা করি। আমি পারলাম না আপনাকে বাঁচাতে। বন্ধুদের বাঁচাতে আমি বারবার ব্যর্থ হয়েছি।”

    রামানুজের চোখ জলে ভিজে ওঠে। বাকিদেরও তাই। কাঞ্চন তার পিঠে হাত রাখে। চোখের জল মুছে রামানুজ জানায়, “হলাহল দিয়ে আমরা কী করব? থাকুক এখানেই। এখানে উপস্থিত অন্য কেউ হলাহল গ্রহণ তো দূর ছুঁয়ে টিকে থাকতেও পারবে না। প্রকৃত কলিপুরুষ সৃষ্টিতে হলাহল প্রয়োজন হবে। আর এই দুটো জীব এখানে লড়াই করুক।”

    গুরুদেব বললেন, “বিবস্বান আর বৃশ্চিক যদি আবার ফিরে আসে?”

    রামানুজ বলল, “তারা ফিরে আসলে আমরাও প্রস্তুত থাকব। কৈটভ যখন নেই তখন এদের নিয়ে আমি চিন্তার কিছু দেখছি না।”

    গুরুদেবেরও মনে হল এই সময়ে এখানে থাকা নিরর্থক। বরং এখানে থাকলেই প্রাণহানির সম্ভাবনা বেশি। তিনি বললেন, “বেশ। সময়চক্রযানকে আহ্বান করো।”

    রামানুজ সময়চক্রযানকে আহ্বান করল টেস্টটিউবের তরলের মাধ্যমে। সময়চক্রযান উপস্থিত হল। একে একে সকলে তার ভেতর ঢুকলেন। রামানুজ নিজেও ঢুকে গেল এর ভেতরে। বিবস্বান আর বৃশ্চিক এই ঘটনা দেখেও নিরুত্তাপ থাকল। ওরা তো চায়ই যে বাকি সবাই চলে যাক। তাহলে তাদের কাজে সুবিধা হবে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে একটা কাণ্ড ঘটল। বৃদ্ধকে এত জোরে ধাক্কা দিল প্রাণীটি যে সে উড়ে গিয়ে ধাক্কা খেল হলাহল বিষভাণ্ডের সঙ্গে। এত প্রবল জোরে ধাক্কা খাওয়ার পর বিষভাণ্ডে থাকা বিষ ছলকে উঠল। ভাণ্ডটিও নিজের জায়গা থেকে স্থানচ্যুত হল। অধিকাংশ বিষ ছড়িয়ে গেল মন্দিরের মেঝেতে। শেষমেষ নড়তে নড়তে ভাণ্ডটিও এক মুহূর্তে উলটে পড়ল মন্দিরের মেঝেতে।

    এতক্ষণ ধরে অদৃশ্য-কৈটভ যে কাঙ্খিত বস্তুর জন্য অপেক্ষা করছিল সেই বস্তুর এরকম পরিণতিতে হাউহাউ করে উঠল তার মন! তাকে যে কলিপুরুষ হতেই হবে। এক্ষুনি পান করতে হবে এই অমূল্য হলাহল বিষ। নইলে এত ভীষণ যুদ্ধের পরিণাম যে শূন্য হয়ে যায়। সমস্ত পরিশ্রম বিফলে যাবে। কৈটভ আর অদৃশ্য থাকতে পারল না। সে তার আসল রূপে ফিরে এল এবং হলাহল যেখানে পড়েছে সেই দিকে দৌড় লাগাল। ইতিমধ্যে হলাহল মেঝেতে পড়ে চারদিক ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে গেছে। মেঝেতে যেখানে লাগছে সেখানটাই পুড়ে যাচ্ছে এতই তার তেজ। উপস্থিত সবার চোখ জ্বলছে।

    কাঞ্চনই প্রথম কৈটভকে দৌড়োতে দেখল। সে আর্তনাদ করে উঠল, “রামানুজদা, কৈটভ? ওই দ্যাখো। সে বেঁচে আছে।”

    রামানুজ-সহ বাকি সকলে দেখল কৈটভ দৌড়োচ্ছে।

    “এটা কীভাবে সম্ভব?”

    রামানুজ এর ব্যাখ্যা পেল না। দৃশ্যটি গুরুদেবের নজরেও পড়েছে। গুরুদেবের মস্তিষ্কে এক আলোড়ন চলছে। আর তখনই গুরুদেবের স্মৃতি অল্প অল্প ফিরে আসতে শুরু করেছে যেন। তিনি বললেন, “আগেরটা ক্লোন ছিল। বৃশ্চিকের আবিষ্কার। আসল-কৈটভ এটাই।

    আমার আবছা আবছা মনে পড়ছে। ওরা সম্ভবত আমার ওপর কোনো আবিষ্কারের ব্যবহার করে আমাকে এসব ভুলিয়ে দিয়েছিল। সম্ভবত এই মেডিসিনের প্রকোপ কমে আসছে বলেই আমি আস্তে আস্তে মনে করতে পারছি সব।”

    রামানুজ কালবিলম্ব না-করে সময়চক্রযান থেকে বেরিয়ে এল।

    ততক্ষণে সময়চক্রযান তার যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। গুরুদেব আর্তনাদ করলেন, “ফিরে এসো রামানুজ। তুমি একা পারবে না।” কাঞ্চন আর দুর্গা চিৎকার করে উঠল, “দাদা? যেয়ো না। চলে এসো।”

    রামানুজ সোজা এক দৌড় লাগাল। যাবার সময় শঙ্খটা ছুঁড়ে দিল কাঞ্চনদের লক্ষ করে।

    “উপায়ান্তর দেখলে শঙ্খটা বাজাস।”

    রামানুজ ওদের দিকে না-তাকিয়েই কথাটা বলল দৌড়োতে দৌড়োতে। রামানুজ দেখতেও পেল না যে শঙ্খটা কাঞ্চনের হাতে পৌঁছায়নি। রামানুজের রোখ চেপেছে। এত পরিশ্রমের পর কৈটভকে এখন আটকাতেই হবে। ওদিকে কাঞ্চন সময়চক্রযান থেকে বেরোবার চেষ্টা করল শঙ্খটা ভূমি থেকে তুলে নেবার জন্য।। কিন্তু সেই চেষ্টা পূরণ হবার আগেই সময়চক্রযান সবাইকে নিয়ে অন্তর্হিত হল।

    পুরোনো ভাঙা মন্দিরে একদল শত্রু, লোভী-কৈটভ আর এক নাম-না-জানা হিংস্র প্রাণীর মধ্যে ঘিরে একা কুম্ভ আগলে রয়ে গেল রামানুজ। রামানুজের কাছে কোনো অস্ত্র নেই, শস্ত্র নেই। তবু রামানুজের এই সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই সততাকে অস্ত্র করে জারি থাকল।

    একদিকে কৈটভ দৌড়াচ্ছে হলাহলের দিকে, অন্যদিকে রামানুজ দৌড়াচ্ছে কৈটভের দিকে। চারদিক হলাহল বিষের বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ। পায়ের তলায় যেখানে যেখানে হলাহল লাগছে সেখানে তৎক্ষণাৎ পুড়ে যাচ্ছে। প্রাণী দুটো এখনও লড়াই করেই চলেছে। বিবস্বান আর বৃশ্চিক হলাহলের প্রকোপে অচৈতন্য প্রায়। রামানুজ কৈটভকে ধাক্কা দিল। দুজনে ছিটকে গিয়ে পড়ল হলাহল বিষের ওপর। দু-জনের শরীরে বিষ লাগল। বিষে মাখামাখি হল শরীর। দু-জনের মুখে বিষ ঢুকল প্রায় সমপরিমানে। দু-জনেই সংজ্ঞা হারাল। দুইদিকে পড়ে রইল কৈটভ আর রামানুজ। মাঝখানে উলটে পড়ে আছে হলাহল বিষভাণ্ড।

    এবার দেখা যাক কে কলিপুরুষে পরিণত হয়? রামানুজ নাকি কৈটভ!

    * * * * *

    মন্দিরের বাইরে সূর্য অস্ত যেতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। গোধুলি লগ্ন উপস্থিত। যে জঙ্গলটা এতক্ষণ ধরে আপাত নিরীহ ছিল সেই জঙ্গলের গাছগুলো ধীরে ধীরে নড়াচড়া করতে শুরু করেছে। এই জঙ্গলে প্রবেশ করা ইস্তক কোনো বন্যপ্রাণী দেখা যায়নি। কারণ এই জঙ্গলের গাছগুলো মাংসাশী। দিনের বেলায় সাধারণ গাছের মতো হলেও রাতের বেলায় গাছগুলো মাংসাশী গাছে পরিণত হয়। যদি তিনটি অস্ত্রের সমন্বয়ে ওরা না-পৌঁছাত তাহলে এই জায়গার হদিশ কখনোই পেত না। আর যদিও-বা পেত, তাহলে এই বিশাল ঘন জঙ্গলের ঠিক মাঝখানে মন্দিরের কাছে আসার আগেই কোনো এক রাতের বেলায় গাছের শিকারে পরিণত হত।

    বাইরে যেখানে গাছগুলো মাংসাশী গাছে পরিণত হচ্ছে সেখানে মন্দিরের ভেতরের দৃশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুটো প্রাণী এতক্ষণে হলাহলের মারাত্মক প্রভাবে অচৈতন্য। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিছু মানুষ। তারাও মৃতপ্রায়। শুধু কৈটভ আর রামানুজ হলাহলের প্রভাব নিজেদের শরীরে নিতে পেরেছে। তাদের গায়ে গোল গোল চাক চাক দানার সৃষ্টি হচ্ছে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কলিপুরুষের গুণাবলি বিকশিত হচ্ছে। কিন্তু দু-জনের মধ্যে একজনই হতে পারবে কলিপুরুষ। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আর বিশেষ দেরি নেই।

    চারদিক বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ। সাধারণ মানুষ ধোঁয়ায় বাঁচতে পারবে না। বিবস্বান আর বৃশ্চিক নিজেদের গোলকে আবদ্ধ করেও এই ধোঁয়া থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারেনি। হলাহলের তেজ এতই বেশি যে গলে গেছে তাদের আত্মরক্ষাকারী গোলক। এরকম এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গোধূলি লগ্নে হঠাৎ মন্দিরের গর্ভগৃহ আলোয় পরিপূর্ণ হতে লাগল। সমস্ত অন্ধকারকে দূর করে একটি উজ্জ্বল চক্রের আবির্ভাব হল। চক্রটি লম্বালম্বি ঘুরছে। সেই চক্রের ভেতর থেকে একটি উজ্জ্বল পথের সৃষ্টি হল। সেই চক্রের অন্তস্থল থেকে ধীরে ধীরে আবির্ভূত হলেন এক দিব্য পুরুষ। দিব্য পুরুষ মন্দিরে পা ফেলা মাত্র হলাহলের তীব্রতা, ঝাঁঝালো গন্ধ আর ধোঁয়া প্রশমিত হল। তিনি চারদিকের পরিস্থিতি জরিপ করলেন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু মানুষ। এই মানুষদের তিনি চেনেন। কুরুক্ষেত্রে দূর থেকে দেখেছিলেন।

    দিব্য পুরুষ দেখলেন মাটিতে পড়ে আছে একটা শঙ্খ। মুখে স্মিত হাস্য নিয়ে তিনি এগিয়ে গেলেন শঙ্খটির কাছে। যত্ন সহকারে তুললেন শঙ্খটিকে। শঙ্খ তাঁর বড্ড প্রিয়। পেছনে এখনও চক্রটি ঘুরছে। মন্দিরজুড়ে আলোর রোশনাই। হলাহল বিষভাণ্ডটি পড়ে আছে মেঝেতে। দু-দিকে দুই কলিপুরুষের জন্ম হচ্ছে। কলির রাক্ষস কলিপুরুষ। যুগের নিয়ম বিঘ্নিত হয়েছে। কালের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী রূপ ধারণ করছে। বিনাশ রুখতে হলে অন্তত একজনের কলিপুরুষ হওয়া আটকাতে হবে।

    দণ্ড দেবার আগে তিনি প্রত্যেকটা মানব সন্তানকে ক্ষমা করলেন। তারপর এই কাহিনির পরবর্তী সূত্র নির্মাণে উদ্যোগী হলেন। নিজের ডান হাত ওপরে তুললেন। ঘূর্ণায়মান চক্রটি ধীরে ধীরে তাঁর কছে সরে আসতে লাগল। চক্র বেষ্টিত আলোক জ্যোতি ঘিরে ধরল তাঁকে। চক্র এসে অধিষ্ঠান করল হাতে। কক্ষের তাপমাত্রার পারদ বাড়তে লাগল। মন্দির গাত্রে কম্পনের সৃষ্টি হল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি কর্কট নির্মিত শঙ্খে দিলেন ফুৎকার। শঙ্খ আগে অনেকবারের চেষ্টাতেও ধ্বনির সৃষ্টি করেনি। কিন্তু এইবার শঙ্খধ্বনি হল। গমগম করে উঠল মন্দির চত্বর।

    শ্রীকৃষ্ণ যেন রণক্ষেত্রে পাঞ্চজন্যে ফুৎকার দিচ্ছেন। মৃতকৈটভের কাহিনি ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে কলিপুরুষ পর্বে। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সুদর্শন চক্রটির একটি অংশ রেখে যাবেন এই যুগে। সভ্যতার বিনাশ রুখতে হলে খুঁজতে হবে সেই অংশ। ধীরে ধীরে জেগে উঠছে কৈটভ। সে আর মানুষ নয়। সে রাক্ষস। তার সঙ্গে মৃতকৈটভ রয়েছে। যোগ হচ্ছে অমিতশক্তিধর বহু অস্ত্রাদি।

    ধীরে ধীরে জাগছে রামানুজ। সে-ও আর মানুষ নয়— কলির রাক্ষসে পরিণত হচ্ছে সে। শঙ্খনাদই পারে তাকে আবার মনুষ্যরূপে ফিরিয়ে আনতে। আজকের ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। রামানুজ কে? কীভাবে হলাহলের তীব্রতা সে সহ্য করতে পারল? এই উত্তর শ্রী কৃষ্ণ জানেন। তাই শঙ্খের নিরাময়ী শক্তিকে আহ্বান করেছেন

    এই মন্দিরের উদ্দেশ্য সমাধা হয়েছে। বাইরে অরণ্য সম্পূর্ণ মাংসাশী গাছে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। আর কিছু মুহূর্তেই এই মন্দির ধ্বংস হয়ে পাতালে আশ্রয় নেবে। ধূলিসাৎ হবে মন্দির পুরী। শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের বাইরে এক কোণে বসলেন। কোমর থেকে বের করলেন তাঁর প্রিয় বাঁশি। বাজাতে শুরু করলেন প্রিয় সুর।

    মৃতকৈটভ পর্বের পরিসমাপ্তি ঘটল। শুরু হতে চলল কলিপুরুষ পর্বের।

    মন্দিরটি অল্প সময়ের মধ্যেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। জন্ম হল দুই রাক্ষসের। দুই কলিপুরুষ।

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    Related Articles

    সৌরভ চক্রবর্তী

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }