মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ১৫
পনেরো
— মেডিলাইফে বেড পেলে খুব ভালো হত। এক জায়গায় আত্রেয়ী, মিহির আর তন্ময়।
অবনীশের কথায় মাথা নেড়ে সায় দিল সায়ন। বলল, ‘তদন্তটা অনেক তাড়াতাড়ি হত।’
— সেটাই। কেসটাও বেশ ছড়ানো।
— ওটাই তো ঝামেলা অবনীশবাবু। বোলপুর থানার আন্ডারে আত্রেয়ীর ঘটনা I সেটা ঘুরে এল আমার থানায় মানে বিধাননগর। আবার সেই সূত্র ধরেই বালিগঞ্জ।
— আমাদের সেম পেজে থাকতে হবে সায়নবাবু।
সায়ন একবার অবনীশের দিকে চেয়ে বলল, ‘কৃষ্ণপদ ঘোড়ুইয়ের সঙ্গে আলাপ আছে?’ ফিক করে হেসে ফেলল অবনীশ। বলল, ‘ফোনে একবার কথা হয়েছে। তবে যতটা শুনেছি ওঁর সম্পর্কে আমার সঙ্গে ততটা রুক্ষ হয়ে কথা বলেননি।’
— কারণ তখন উনি একটা বড়োসড়ো কেস খেয়ে আছেন তাই। মিহির জেল থেকে পালাবার পরেই কথা বলেছেন তো?
— না না। আত্রেয়ী সেনের ঘটনাটা ঘটার পরেই উনি ফোন করে ওঁর বাড়ির ওপর নজর রাখতে বলেন। আর ওপরমহল থেকেও নির্দেশ ছিল আত্রেয়ী সেনের বাড়িতে কে, কখন ঢুকছে সেটা খবর রাখার। তারপর আমরা যখন বুধুয়ার সঙ্গে কথা বলছি…
— ধানুয়া।
সায়ন ফস করে আর-একটা নাম বলে ওঠায় অবনীশের কথা থেমে গেল। বুঝতে পারল নামটা ভুল বলেছে অবনীশ। ‘ও হ্যাঁ, ওই ধানুয়ার সঙ্গে কথা বলছি তখন আবার লালবাজার থেকে ফোন। বলল যে, আত্রেয়ী সেনের বাড়িতে তালা দিয়ে দিতে। তা আমরা ধানুয়াকে ফিট করলাম। ওকে স্ট্রিক্টলি বলা ছিল এই বাড়িতে কেউ এলে যেন তৎক্ষণাৎ খবর দেয়। আত্রেয়ীর বাড়ির চাবিও আমাদের কাছে ছিল।
— তাহলে তন্ময় কীভাবে…?
— ওটাই তো ব্যাপার। ধানুয়াকে বলেছে থানা থেকে চাবি পেয়েছে। ডাহা ঢপ দিয়েছে। আসলে ওর কাছেই ডুপ্লিকেট চাবি ছিল।
— হতেই পারে। আত্রেয়ীর পেয়ারের লোক বলে কথা।
— হ্যাঁ সেটা হতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, তাহলে মিথ্যে বলবে কেন? বলতেই পারত যে আত্রেয়ী ওকেও এই বাড়ির আর-একটা চাবি দিয়েছে।
সায়ন নীরবে ঘাড় নাড়ল। অবনীশ বলল, ‘ডাল মে কুছ তো কালা হ্যায়। আবার অত দামি একটা হিরে বসানো প্ল্যাটিনামের হার পাওয়া গেল ওর পকেট থেকে। বোঝাই গেল চুরি করে কেটে পড়ার ধান্দায় ছিল। অন্যদিকে ধানুয়া সময় মতো খবর না দিলে আজ তন্ময়ও খুন হয়ে যেত।
— কিন্তু কেন? আপনি বিশ্বাস করুন অবনীশবাবু, মিহির সরখেল আমার আত্মীয় বলে বলছি না। যা যা ঘটনা যেমনভাবে একের পর এক ঘটেছে সেটা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে একা বা দোকা, যেভাবেই হোক করা সম্ভব নয়। ধরে নিলাম মিহির সরখেল সুপারম্যানের মতো লোহার গরাদ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু বিকেলের শেষ দিকে বোলপুর থেকে অতগুলো পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বেরোল। কৃষ্ণপদর কথা অনুযায়ী সময়টা সন্ধে সাড়ে ছ-টার আশেপাশে। তারপর কীভাবে, কীসে চড়ে রাত এগারোটায় বৃষভানুর বাড়ি পৌঁছে তাকে ওইভাবে খুন করল? একেবারে গলার হাড়গুলো গুঁড়িয়ে চিপসে দিয়ে মেরেছে।
— কলকাতা থেকে বোলপুর চার সাড়ে চার ঘণ্টাই লাগে সায়নবাবু।
তক্ষুনি সায়ন বলল, ‘যদি দুর্গাপুর হাই রোডে জ্যাম না থাকে। সেদিনই আমরা বিকেল সাড়ে চারটেয় রওনা দিয়ে রাত প্রায় সাড়ে দশটায় পৌঁছেছি। কারণ দুর্গাপুরে বেশ জ্যাম ছিল। খবর নিয়ে দেখেছি পরে সেই জ্যাম আরও বেড়ে যায়। আর ডট সাড়ে ছ-টার আশেপাশে একমাত্র সন্ধে ছ-টা চুয়াল্লিশে একটাই মাত্র এক্সপ্রেস ট্রেন যেটা রাত দশটা তেইশে হাওড়া ঢোকে। সেদিন সেটা রাত পৌনে এগারোটায় হাওড়া ঢুকেছে। এদিকে হিসেব মতো সেই সময়েই বৃষভানুর খুন হচ্ছে। তার মানে এই যুক্তিটাও খাটে না। মিহির তবে কীসে করে এল? হাওয়ায় ভেসে?
.
সায়নের যুক্তিগুলো অবনীশকে বেশ ভাবিয়ে তুলল। অবাক হয়ে বলল, ‘তাহলে?’ এবার বেশ গম্ভীর হয়ে সায়ন বলল, ‘মিহির সরখেলের গায়ে হাতির জোর কোনো কালেই ছিল না অবনীশবাবু। যে সে একটা মানুষকে তুলে ছুড়ে ফেলে দেবে। অথচ আমরা সেটাই স্বচক্ষে দেখেছি। মিহির তার স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলেকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। তাই দোতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে সুইসাইড করবে সেটাও রূপকথার গল্পের মতো অসম্ভব।’
অবনীশ কী বলবে ভেবে পেল না। সায়ন বলল, ‘আত্রেয়ী সেনের বাড়ি কাল সকালে আর-একবার যেতে হবে। খুব ভালো করে দেখতে হবে। আপনিও যদি থাকেন ভালো হয়।’
— নিশ্চয়ই। সেটা নিয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু এই ডাক্তার দুজন কোথায় গেল বলুন তো? সেই কখন তন্ময় আর মিহিরবাবুকে ভরতি করেছি। কী অবস্থা না অবস্থা কিছুই তো ..
কথা শেষ হবার আগে সায়ন নিজের মধ্যে ডুবে কী যেন একটা ভাবতে ভাবতে বলল, ‘আমাদের এখন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’
— মানে?
— আত্রেয়ী সেনের যা অবস্থা তাতে তিনি কথা বলার অবস্থায় নেই। এদিকে মিহির আর তন্ময়ও ভীষণভাবে ইনজিয়রড। মিহির আর তন্ময়ের সাক্ষ্য আমাদের ভীষণ জরুরি। ওদের মুখ থেকে কথা না বের করতে পারলে আমরা অথই জলে সাঁতার কেটেই যাব।
— আর এরাও যদি…
অবনীশকে থামিয়ে সায়ন বলে উঠল, ‘ওই তো ডক্টর বকশি আর ডক্টর চ্যাটার্জি আসছেন।’
.
ড্যাফোডিল সুপার স্পেশ্যালিটি হসপিটালের দুই নামকরা ডাক্তার চিরন্তন বকশি ও বিশাখ চ্যাটার্জি। দুজনের বয়সই পঞ্চাশের কাছাকাছি। চট করে কেউ এঁদের নাগাল পান না। কিন্তু এটা স্পেশ্যাল কেস তাই এঁরাই হাল ধরেছেন। উভয়পক্ষই খানিকটা করে এগিয়ে এল পরস্পরের দিকে। কাউকে প্রশ্ন করতে হল না। বকশি নিজেই বলতে শুরু করলেন, মিহির সরখেলের মাথা ফেটেছে। চেস্টে একটা রিব ভেঙেছে। বাঁ-পায়ের হাড় ডিসলোকেটেড হয়েছে। এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যেটা আমাদের ভাবাচ্ছে সেটা হচ্ছে ওঁর শরীরে ব্লাডের অভাব। রক্তশূন্য ঠিক বলব না। তবে ওইদিকেই গেছে ব্যাপারটা। ওঁর কি ব্লাডের কোনো সমস্যা আছে?’ অবনীশকে উদ্দেশ্য করেই প্রশ্ন করলেন ডক্টর। অবনীশ সায়নের দিকে তাকাতে সে বলল, ‘না ডক্টর, মিহির সরখেলের এরকম কোনোদিনই কোনো অসুখ ছিল না। নেইও।’
— শিয়োর?
— হ্যাঁ ডক্টর। আসলে উনি আমার আত্মীয়।
বকশি একটু থেমেই গেল। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ডক্টর চ্যাটার্জির মুখের দিকে চাইল। একজন আসামি পুলিশের আত্মীয় এই ব্যাপারটা ঠিক হজম হল না। অবনীশ অবস্থাটা বুঝতে পেরে বলল, ‘ডক্টর বকশি, যেভাবে হোক এই দুজনকে বাঁচাতে হবে।’ বকশি জানাল এখুনি বি-পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন। আজ রাতেরটা ওঁরাই ব্যবস্থা করেছেন। চিকিৎসা চলছে। তবে কাল থেকে রক্তের প্রয়োজন। এবার বিশাখ চ্যাটার্জি মুখ খুললেন, ‘শুধু মিহির সরখেলই নয়, তন্ময় হালদারেরও রক্তের প্রয়োজন। প্রচুর ইনজিউরি। অনেক রক্ত বেরিয়ে গেছে। ওঁর এবি পজিটিভ রক্ত। আমরা এখন সামলে নিচ্ছি। কাল থেকে আপনারা প্লিজ দেখুন।’ সায়ন বলল, শিয়োর। আমরা দেখছি।’
— আচ্ছা ওঁদের বাড়ির লোকদের কী খবর দেওয়া হয়েছে?’
সায়ন বলল, ‘আমরা ব্যবস্থা করছি। আপনারা যেভাবে হোক ওদের বাঁচিয়ে তুলুন।’
.
ভোরের আলো তখন কৈশোর সকালের বয়স ছুঁয়েছে। কিন্তু মৃন্ময়ীর ঘরের ভেতর ঘন তমসার আস্তরণ। জানলায় পেলমেটে ঝুলতে থাকা ভারী পর্দাগুলো টানা। তবু অন্যান্য দিন জানলার কাচ গলে পর্দা ছাপিয়ে সকালের আভাস রাত পেরোনো ঘরটাকে ছুঁয়ে যায়। আজ এক্কেবারে অন্যরকম। বাড়ির মধ্যে অবাস্তব কিছু কাণ্ড ঘটার পর ছেলেকে জড়িয়ে মৃন্ময়ী ঠিক যেভাবে ঘুমিয়েছে এখনও সেভাবেই ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ কলিং বেলটা বাজল। একবার, দু-বার, তিনবার। মৃন্ময়ীর ঘুম ভাঙল না। ছেলেটাও অকাতরে ঘুমোচ্ছে। খানিক বাদে হঠাৎ বিছানার মাথার দিকের জানলায় দুম দুম করে আঘাত। সেখানে দু-তিনবার শব্দ হতেই চমকে ঘুম থেকে জেগে ওঠে মৃন্ময়ী। প্রথমে ভাবল ভুল শুনছে। ছেলেকে বুকের কাছে নিয়ে মাথাটা বালিশ থেকে খানিকটা তুলে চুপ করে রইল। আবার জানলায় টোকা। সঙ্গে ডাক, ‘বউদিইইই, ও বউদিইইই।’ মহিলার গলা। চট করে মৃন্ময়ীর খেয়াল হয় ছেলের আয়া আসবে আজ থেকে। কাল রাতে সায়নের বাড়ি থেকে ফেরার পথেই খবর দিয়েছিল। তার তো সকাল আটটায় আসার কথা। পরক্ষণেই মনে হল, নাহ্! এখন তো আর সে সম্ভাবনাও নেই। খেয়ালই নেই। তাহলে কে এল এত সকালে? গলাটা কিছুটা চেপেই উত্তর দিল ‘আসছিইইই।’ ছেলেকে বুকের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে কোনোরকমে বিছানা ছাড়ল মৃন্ময়ী। ঘরের দরজা খুলে ডাইনিঙে গেল। আরও একটা দরজা খুলে বারান্দায় পৌঁছোল। মোটা কাচ-ঢাকা গেটটা খুলতেই হাঁ হয়ে গেল মৃন্ময়ী। ‘এ কী মুনাই! সায়ন তোমরা? কী হয়েছে?’ মুনাই বলল, ‘ভেতরে চলো।’ বুকের ভেতরে একটা গোপন ব্যথা চলকে উঠল মৃন্ময়ীর। ডাইনিঙে এসে সায়ন বলল, ‘গতকাল রাতে দাদাভাইকে ড্যাফোডিলে ভরতি করা হয়েছে।’
‘কীইইই? ওকে পেয়েছ তোমরা?’ মিহিরকে পাওয়া গেছে সেটাই যেন মৃন্ময়ীর কাছে অনেকখানি স্বস্তির। দু-হাত জড়ো করে কপালে ঠেকাল। মুনাই সায়নের দিকে তাকাল। সায়ন বলল, ‘পেয়েছি। তবে ইনজিয়োরড অবস্থায়।’ এবার মৃন্ময়ী ধাক্কা খেল। ‘মানে?’ মুনাই বলে উঠল, ‘বউদি, তুমি আর সোনাই এখুনি আমার বাড়ি চলো। এখানে থাকলে হবে না। দাদার রক্ত লাগবে।’ মৃন্ময়ী এবার বেশ গলা চড়িয়েই বলল, ‘তোমরা খুলে বলো না। কী হয়েছে ওর? নার্সিংহোমে কেন?’ বলেই মুখটায় আরও বেশি আতঙ্কের ছায়া টেনে বলল, ‘ও! তোমরা গুলি করেছ না?’
— কী বলছ বউদি?
মুনাই বলল। ‘কেউ কিচ্ছু করেনি। ঘটনা অনেক বড়ো। যেতে যেতে বলব। সায়ন সারা রাত হসপিটালে ছিল।’ সায়ন কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল তার মাঝেই মৃন্ময়ী অসহায় মুখে বলে ওঠে, ‘ও বেঁচে আছে তো সায়ন? সত্যি করে বলো।’ উফফফ বউদি! এসব কেন ভাবছ? দাদার রক্ত লাগবে। বি পজিটিভ। বেঁচে না থাকলে কেউ রক্ত দেয়?’ একদমে বলে গেল সায়ন। মুনাই ব্যস্ততা দেখিয়ে বলল, ‘আর দেরি কোরো না। চলো। সোনাইকে আমি তুলছি। তুমি যা যা নেবার নিয়ে নাও।’ বলেই ঘরে ঢুকে গেল মুনাই। ঢুকতেই খানিকটা থমকে গেল। ‘বাবা! ঘরটা এত অন্ধকার কেন? জানলার কাচ দিয়ে তো দিব্যি আলো আসত।’ বলে জানলার কাছে গিয়ে ভারী পর্দাটা এক টানে সরিয়ে দিল। এক ঝাঁক আলো ঢুকে মুনাইয়ের মুখ ছুঁয়ে ঘরের মেঝেতে লুটোপুটি খেল। মুনাই পেছন ফিরে খাটের দিকে যেতেই আঁতকে উঠল। ‘ও মা গো! এটা কী?’ সায়ন আর মৃন্ময়ী এগিয়ে এল। ‘কী হয়েছে?’ মৃন্ময়ী জিজ্ঞেস করল। মুনাই আঙুল তুলে শোকেসে টেডি বিয়ারটার দিকে দেখাল। সকালের আবছা আলোয় কালো গর্তের মতো চোখ নিয়ে বসে থাকা টেডিটাকে ভয়ংকর দেখাচ্ছে। সায়ন বলল, এটা তো আমরা দিয়েছিলাম।’ মৃন্ময়ী অবাক হয়ে বলল, ‘কাল মাঝরাতে ছেলেটা হঠাৎ এটা দেখিয়ে পরিত্রাহী কাঁদছিল।’ ‘হ্যাঁ কাঁদারই তো কথা। কী ভয়ানক!’ মুনাই বলল। মৃন্ময়ী বলল, ‘না গো মুনাই, কাল রাতে আমি নিজে আলো জ্বালিয়ে দেখেছি তখন এরকম ছিল না। একদম নরমাল। ও যে কেন কাঁদছিল কিছুই বুঝিনি। কিন্তু এখন দেখছি এটা এইরকম!’ কথাটা শেষ করেই থমকে যায় মৃন্ময়ী। মনে পড়ে কাল রাতে শোবার সময় ঘরে টিউবলাইটটা জ্বালিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে শুয়েছিল। কিন্তু সকালে উঠে তো সেটা নেভানো দেখল। আলোটা নেভাল কে?
.
সায়ন শোকেসের পাল্লা খুলে টেডিটাকে হাতে নিয়ে উলটে-পালটে দেখে। টেডিটার চোখের কালো গহ্বরদুটোর ওপর চোখ রেখে ভালো করে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুই বোঝে না। ‘এটাকে এখানে রেখো না। সিঁড়ির ঘরে ডাস্টবিনে রেখে দিয়ে আসছি। তোমরা তাড়াতাড়ি নাও।’ কথাগুলো বলে সায়ন ডাইনিং পেরিয়ে সিঁড়ির নীচের দরজা খুলে টেডিটাকে ছুড়ে ফেলে দিল। তারপর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে ঘরে ফিরে এল। মুনাই বলল, ‘বউদি পূর্ণিমাদিকে ফোন করে আসতে বারণ করো।’ মুখ চুন করে মৃন্ময়ী বলল, ‘আয়া সেন্টার থেকে ফোন করেছিল, ও আর কাজ করবে না। এই মুহূর্তে কেউ আর খুনির বাড়িতে কাজ করতে চাইছে না।’ মুনাই আর সায়ন একবার একে ওপরের দিকে চেয়ে নিল। হাতের কাছে যা পেল তাই ব্যাগে ভরে বাড়িতে তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়ল মৃন্ময়ী।
