মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ১৯
উনিশ
লালবাজারে কমিশনারের ঘরে থমথমে নীরবতা। কমিশনার আর সায়ন মল্লিকের মাঝে এক টেবিলের দূরত্ব। সায়ন চুপ করে কমিশনারের মুখের দিকে তাকিয়ে। কমিশনার খানিক চুপ করে ভেবে বলেন, ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না সায়ন। তুমি আমাদের ডিপার্টমেন্টের যথেষ্ট কর্মঠ, দায়িত্ববান, নিষ্ঠাবান একজন পুলিশ অফিসার। এখন সেই তোমার নামেই যদি ইরেস্পন্সিবিলিটির অভিযোগ ওঠে, ডিপার্টমেন্টের একজনের মৃত্যুর দায় ঘাড়ে চাপে তাহলে বুঝতে পারছ কী হবে?’
— আবদুলের মৃত্যুটাকে আপনাদের কী খুব সাধারণ খুন বলে মনে হয় স্যার? একজন মানুষের গায়ে কত জোর থাকতে পারে যে একটা মানুষের মাথা পুরো ওয়ান এইট্টি ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিতে পারে?
— কী বলতে চাইছ তুমি? এটা কোনো মানুষের কাজ নয়?
— বলতে চাইছি না স্যার, বলছি। আইন বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আমি নিজে সাক্ষী। আমার নিজের চোখকে কী করে অবিশ্বাস করব স্যার?
— কী দেখেছ তুমি?
— প্রথমে গাড়িতে পেছনের সিটে আমি কাউকে বসে থাকতে দেখেছি। ঘাড় ঘুরিয়ে যেই দেখলাম, কিচ্ছু নেই। তারপর আবদুলের মৃত্যুর পর রাস্তার উলটোদিকে একটা মানুষ দাঁড়িয়েছিল। তাকে আমি চিনতে পারিনি। শুধু তার দুটো সাদা ধবধবে রক্তশূন্য চোখ দেখেছি আমি। ঠিক যেটা দেখেছিল তেঁতুল।
— তেঁতুল?
আমার থানার আন্ডারে খাবারের দোকানের যে ছেলেটি হাইটেনশনের তার ছিঁড়ে মারা যায় তার নাম তেঁতুল। সেই আমাদের প্রথম ওরকম চোখের কথা বলে। আমরা মিহির সরখেলের ছবিতে ওইরকম চোখ বসিয়ে…
— রাইট রাইট রাইট…
.
সায়নের কথার ওপর দিয়েই বলে ওঠেন কমিশনার। ‘বাট সেটা লেন্স কিনা এখনও প্রমাণিত নয় সায়ন।
— আমরা তো মিহির সরখেলকে নার্সিংহোমে ভরতি করেছি স্যার। তার চোখে বা তার সারা শরীরের মধ্যে কোথাও আমরা কোনো লেন্সের হদিশ পাইনি। তা ছাড়া মিহির সরখেল একটা মানুষ, সে একটা ছেলেকে হাইটেনশনের তার ছিঁড়ে জড়িয়ে মারবে এটা অসম্ভব। আবার আবদুলকে অবিশ্বাস্যভাবে কেউ মেরে গেল, এটা কী করে সম্ভব স্যার আপনি বলুন। আর মিহির তো হসপিটালে। তাহলে এখন কে এই ঘটনা ঘটাল? তার থেকেও বড়ো কথা।’ সায়নের কথা থেমে যায়। কারণ ঠিক সে-ই সময় দরজায় এসে দাঁড়ায় আর-এক পুলিশ অফিসার। ‘মে আই কাম ইন স্যার?’ ভারী গলায় কমিশনার বলে ওঠে, ‘খুব আর্জেন্ট কী?’
— হ্যাঁ স্যার, আবদুলের কেসে সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি।’
— ওহ্! এসো।
.
অফিসার ঢুকে এসে বলে, ‘স্যার, বাইপাসের ধারের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে।’ সায়ন একটু নড়েচড়ে বসল। কমিশনার জিজ্ঞেস করল, ‘কী পেলে তাতে?’
— স্যার ঠিক কী বলব বুঝতে পারছি না। আপনি যদি একটু নিজের চোখে দেখেন খুব ভালো হয়।’
কমিশনার অবাক। খানিক মেজাজ নিয়েই বলেন, ‘আশ্চর্য! আপনারা দেখেননি?’
— হ্যাঁ স্যার দেখেছি। কিন্তু…
বলেই সায়নের দিকে একবার তাকিয়ে অফিসার বলল, ‘স্যার প্লিজ একটু চলুন।’ কমিশনার রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করে তার আসন ছেড়ে উঠলেন।
.
দেয়ালে ঝোলানো অনেক ক-টা এলইডি স্ক্রিন। সেখানেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়। কমিশনারসহ গোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের যাঁরা উপস্থিত আছে সবার চোখ স্ক্রিনের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। বুকের ওপর পাথর চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সায়ন। অফিসার কী ভয়ানক ছবি দেখাবে বলে ডেকেছে কে জানে? ফুটেজ দেখাবার আগে এক অফিসার কমিশনারের উদ্দেশ্যে বলল, ‘স্যার, এক্ষেত্রে আমরা দুটো সিসিটিভির ফুটেজ পেয়েছি। গাড়িটা যেখানে দাঁড়িয়েছিল ঠিক তার আগেই একটা পোস্ট ছিল। সেখানে সিসিটিভি ছিল। সেটা গাড়ি রাস্তার যে ফুটে দাঁড়িয়েছিল সেই ফুটেই। আর অন্যটা ঠিক উলটো ফুটে। জিপের পেছন দিকটায় বেশ খানিকটা তফাতে আর-একটা পোস্টে সিসিটিভি ছিল। ভারী গলাটা বলে উঠল, ‘বেশ দেখাও দেখি কী পেলে!’ অফিসার এক মহিলাকে বলল, ‘প্রিয়াঙ্গী ক্যাম টোয়েন্টি থ্রিটা চালাও আগে।’ বলামাত্রই প্রিয়াঙ্গী কি বোর্ডের স্পেসবার ক্লিক করল। ছবি চলছে বত্তিরিশ ইঞ্চি স্ক্রিনে। গাড়িটা গোত্তা খেতে খেতে এসে দাঁড়াল। আবদুল নামল। বনেট খুলল। পাশ দিয়ে হাই স্পিডে দুটো গাড়ি বেরিয়ে গেল। সিসিটিভির ফুটেজটা একটু কেঁপে উঠল। কমিশনারসহ সকলের ভ্রূতেই ভাঁজ পড়ল। সায়ন নামল গাড়ি থেকে। জিপের পেছনের অন্ধকারে হেঁটে গেল। আরও একটা গাড়ি ছুটে বেরিয়ে গেল। দু-মিনিটের মধ্যে রাস্তার আলোটা কমবেশি হতে লাগল। সিসিটিভির ফুটেজেও ঝিরঝিরে একটা অসুবিধে। একসময় পুরোটাই কালো। কমিশনার বলল, ‘এটা কী হল?’ অফিসার বলল, ‘এটাই তো বোঝা যাচ্ছে না স্যার। ঠিক তিন মিনিট বাদে ছবিটা আসবে দেখুন। এই প্রিয়াঙ্গী একটু ফরওয়ার্ড করো।’ খানিক এগিয়ে যাবার পর আবার সিসিটিভি চালু। ঠিক তখনই সেই বীভৎস দৃশ্য। আবদুলের পা দুটো মাটি ছুঁয়ে আছে। শরীরটা ঝুঁকে পড়েছে ইঞ্জিনের ভেতর। কমিশনার উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘এই একটু জুম করো দেখি।’ ছবিটা জুম হবার পরেই কমিশনারের মুখটা নারকীয় বীভৎসতায় কুঁচকে যায়। কে যেন আবদুলের মাথাটা কেটে পিঠের দিকে বসিয়ে দিয়েছে। সায়ন স্ক্রিনের ওপর থেকে চোখটা সরিয়ে নেয়। ঘরের মধ্যে ফিশফাশ ধ্বনি, ইসসস, কী বীভৎস।… নৃশংস!’ ইত্যাদি শব্দের হা-হুতাশ। ফুটেজে দেখা যায় কিছুক্ষণ পর সায়ন এসে দাঁড়ায়। চমকে উঠে ছিটকে যায়। এপাশ-ওপাশ পাগলের মতো কাউকে খোঁজে। তারপরেই কিছু একটা দেখে রাস্তার উলটোদিকে ছুটে যেতে যায়। দানবের গতিতে হঠাৎ করে ছুটে আসে একটা গাড়ি। ঠিক এইখানেই কমিশনার বলে ওঠে, ‘এই স্টপ স্টপ স্টপ!’ প্রিয়াঙ্গী থামিয়ে দেয়। কমিশনার বলেন, ‘একটু ব্যাক কর। আর-একটু…।’ খুব ভালো করে জুম করে ফুটেজটা দেখলেন। তারপর অবাক হয়ে বললেন, ‘আশ্চর্য! তোমরা ভালো করে খেয়াল করো তো, গাড়িটা আসছে কোথা থেকে?’ সকলেই ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে। এটা সায়নেরও অজানা ছিল। সে-ও দেখল রাস্তাটা যত দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে সেখানে কোনো গাড়ি নেই। হঠাৎ করেই মাঝরাস্তা ফুঁড়ে গাড়িটা যেন আবির্ভূত হল। এক মুহূর্তে সায়নকে পিষে দিতে চাইল কিন্তু একটু জন্য সেটা হল না। কমিশনারের গলার ভাঁজে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ডিপার্টমেন্টের সব পুলিশ অফিসার এ ছবি দেখে রীতিমতো স্তব্ধ। এর আগে কেউ এত্ত কিছু খেয়ালই করেনি। ফুটেজ আবার চলল। সায়ন ছুটে এপারে এল। কিন্তু কাউকেই পেল না। তারপর যা যা হল তা সায়নের মুখ থেকেই সকলে শুনেছে। কমিশনার সায়নকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সায়ন, তুমি যে বললে কাউকে দেখে দৌড়েছিলে। সারা ফুটেজে তো তার অস্তিত্বই নেই।’ গতকাল থেকে একটানা ধকল সামলে গলাটা এবার বিদ্রোহ ঘোষণা করছে সায়নের। ধরে এসেছে। ঘষঘষে গলায় সায়ন বলল, ‘কিন্তু আমি তাকে স্পষ্ট দেখেছি স্যার। একবার নয়, দু-বার। একবার গাড়িতে আর-একবার রাস্তায়।’ কমিশনার বললেন, ‘পরের ফুটেজটা চালাও তো দেখি।’ ফুটেজ চলল। সব একই ছবি। শুধু দিকটা আলাদা। ফুটেজটাকে বেশ খানিকটা জুম করে বারবার দেখল সবাই। খালি চোখে ঝট করে দেখলে জিপের উলটোফুটে কাউকেই চোখে পড়বে না। কিন্তু জুম করতেই একটা ঝুপড়ি দোকানের গা ঘেঁষে খুব হালকা একটা অবয়ব যেন ধরা পড়ছে। জল দিয়ে কোনো মানুষকে আঁকার পর যদি সেই আঁকা হালকা হয়ে যায় তাহলে যেমন দেখতে লাগে ঠিক তেমনি দেখতে লাগছে অবয়বটাকে। সায়ন সেই দিকেই ছুটেছিল। ফরওয়ার্ড-রিওয়াইন্ড করে বারবার খুঁটিয়ে দেখল সবাই। গাড়িটা সাঁ করে অন্ধকারের দিকে ছুটে চলে গেল। আর ঠিক তখনই জলীয় ছায়াময় শরীরটা মিলিয়ে গেল। কোনোভাবেই আর তাকে দেখা যায় না।
.
— এবার কী বলবেন স্যার?
সায়নের কথায় বেশ চিন্তায় পড়েন কমিশনার। ওপরমহলকে বোঝাবেন কী করে? এই ছবি কীসের? কেনই-বা একটা নির্দিষ্ট সময়ে সিসিটিভি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল? আর হলই যখন দুটোই হল না কেন? কমিশনার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সায়নের কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘কাল থেকে অনেক ধকল গেছে। বাড়ি গিয়ে রেস্ট করো। আবদুলের ব্যাপারটা আমরা দেখে নিচ্ছি।’ শিরদাঁড়া সোজা করে কমিশনারের চোখে চোখ রেখে সায়ন বলে, ‘বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই স্যার। কেঁচো নিয়ে খেলা করছি। মন বলছে খুব শিগগিরি কেউটেটাও বেরিয়ে আসবে। এখন থানায় ফিরে একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের ইন্টারোগেট করতে হবে। আর-একটা কথা, অলৌকিকত্বে আমিও বিশ্বাস করতাম না স্যার। কিন্তু তেরো নম্বর ফ্লোরের কেসটা আমার চোখ খুলে দিয়েছিল। বুঝেছিলাম, যুক্তি, তর্ক আর আধুনিক শিক্ষা দিয়ে এই পৃথিবীর সব কিছু জানা যায় না। সমাধানও হয় না। তাই হয়তো এই কেসটা কঠিন হলেও একমাত্র আমিই পারব এর সমাধান করতে। আবদুলের ঘটনাটা আমার চোখে আরও বেশি করে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল। আসছি স্যার।’ হাতে রাখা পুলিশের টুপিটা মাথায় দিয়ে স্যালুট করে সায়ন। মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল কমিশনারের। ভারী গলায় গমগম করে বেজে উঠল সায়নের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা, ‘বেস্ট অফ লাক।’
.
সায়ন থানায় ঢুকতেই সামনে এসে দাঁড়ায় সূর্য। উৎকণ্ঠা নিয়ে বলে, ‘সব ঠিক আছে তো স্যার?’ ভাঙা গলায় সায়ন বলে, ‘শুধু ঠিক নয়, ভীষণভাবে ঠিক আছে। তা তিনি কোথায়? এসেছেন?’ সায়নের প্রথম কথার মানে বুঝে ওঠার আগেই মস্তিষ্কে ঘা দিল দ্বিতীয় প্রশ্ন। সূর্য বলল, ইন্টারোগেশন রুমে বসে আছেন। খেপে বোম। সকাল এগারোটায় ডেকে বারোটা বাজিয়ে দিল। কারও কোনো পাত্তা নেই।’ সায়ন নরম হয়ে বলল, ‘স্বাভাবিক! চলো দেখি।’
— স্যার, খানিকক্ষণ রেস্ট নিয়ে তারপর যান না। লাঞ্চের টাইমও তো হয়ে গেছে। গতকাল সকাল থেকে একটানা আপনার চলছে।
— তোমারও তো চাপ চলছে। আমি ঠিক আছি। চলো, আর দেরি করা ঠিক হবে না।
কথা বলতে বলতেই সূর্যকে সঙ্গে নিয়ে সোজা ইন্টারোগেশন রুম। টেবিলের ওপর দুটো কনুই রেখে হাতের তালুতে মুখ ঢেকে বসেছিল বন্দনা।
.
নিস্তব্ধ ঘরে লোহার দরজাটা ধাতব শব্দ করে খুলে গেল। ঢুকতে ঢুকতেই সায়ন বলল, ‘এক্সট্রিমলি সরি বন্দনাদেবী। সঙ্গে সূর্য ও একজন মহিলা পুলিশের জুতোর শব্দ ফাঁকা ঘরটায় প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। বন্দনার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে অসম্ভব বিরক্ত সে। ‘না না, সরির কী আছে? আপনারা পুলিশ। যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন।’ শান্ত গলায় ক্ষোভ উগরে দিল বন্দনা। সায়ন বলল, ‘ক্ষোভ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি আবারও মাফ চাইছি। আসলে আমারও হাত-পা বাঁধা…’! থেমে গেল সায়ন। অবাক হয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘একী সূর্য, ওঁকে সোফা চেয়ার দাওনি কেন? বলে দিলাম যে।’ সূর্য বলে উঠল, ‘বলেছিলাম স্যার। উনিই রিফিউজ করেছেন।’ সায়ন ভ্রূ কুঁচকে বন্দনাকে বলে, ‘কেন? রিফিউজ করেছেন কেন?’ মুখের মধ্যে তাচ্ছিল্যের একটা হাসি এনে বন্দনা উত্তর দেয়, ‘আমাকে এই বিশেষ খাতিরের কারণটা ঠিক বুঝতে পারিনি, তাই।’ সায়ন কিছু বলল না। শুধু আড়চোখে সূর্য আর মহিলা পুলিশ অফিসারের দিকে তাকিয়ে হাসল। বন্দনার চোখ এড়াল না এই ঘটনা। টেবিলের আড়ালে কোলের ওপর রাখা হাতদুটো একবার কচলে নিল। ‘আপনি যদি সত্যিই এই চেয়ারে কমফর্টেবল হন তাহলে আমাদের কোনো প্রবলেম নেই।’ বন্দনার উলটোদিকের চেয়ারে বসে পড়ল সায়ন। বসতে বসতে আড়চোখে একবার মেপে নিল বন্দনার মুখ। সংশয়ের মেঘে কালো হয়ে আছে বন্দনা। ভ্রুতে বিরক্তি ফুটিয়ে অন্যদিকে চেয়ে আছে। এমন সময় সায়ন প্রশ্ন করল, ‘কী নাম আপনার?’
— হোয়াট?
বন্দনা ভেবলে গেল। তামাশা করছেন?’
— না না। এটা জাস্ট ফরমালিটি। নামটা বলুন।
— বন্দনা দত্ত।
— বাবার নাম?
— ঈশ্বর সমীর দত্ত। আর মায়ের নাম সুরভি দত্ত। কোনো ভাই-বোন নেই। আমিই একমাত্র সন্তান।
কথার ছত্রে ছত্রে বেরিয়ে আসছে বন্দনার মনের বিরক্তি। অসহ্য লাগছে তার।
— বাঃ! এই তো। সত্যি আপনার মতো সবাই যদি ইন্টারোগেশনে এমন করে সাহায্য করত তাহলে আর আমাদের খাটতে হত না। থার্ড ডিগ্রি-ফিগ্রি তো কবেই দেশ থেকে উঠে যেত। মানে? কী বলতে চাইছেন কী আপনি?’ বন্দনার গলার স্বরে এবার করাতে শান দেওয়ার শব্দ। সূর্য বলল, ‘আসলে যা জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে আপনি তার চেয়েও বেশি বলছেন কি না! তাই।’ ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ল বন্দনা। সায়ন টেবিলের ওপর ঝুঁকে নিজের মুখটাকে ওপর থেকে ঝোলানো আলোর তলায় রাখে। বন্দনার বুকটা অজানা কারণেই কেঁপে ওঠে। ঢোঁক গেলে। সায়নের দিকে তাকিয়েও চোখদুটো নামিয়ে নেয় বন্দনা। সায়ন ফস করে প্রশ্ন করে, ‘লাঞ্চে কী খাবেন?’ তিতিবিরক্ত হয়ে ওঠে বন্দনা। এটা কী রসিকতার সময়? কী বলবে ভেবে না পেয়ে বন্দনা বলে, ‘কী প্রশ্ন আছে তাড়াতাড়ি করুন। বাড়ি গিয়ে খাব।’
— সরি বন্দনা দেবী। এত তাড়াতাড়ি আপনাকে ছাড়া যাবে না।
— মানে?
— মানে আমাদের অনেক প্রশ্ন আছে। অনেক কিছু জানার আছে। আপনার কাছ থেকে কত গল্প শোনার আছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হয়ে যাবে। তাই বলছিলাম কী খাবেন বলুন ভালো জায়গা থেকে আনিয়ে দেব।
— আমি বাইরের খাবার খাই না।
সায়ন ভ্রূ তুলে সূর্যের দিকে চাইল। সূর্য বলল, ‘বেশ তো স্যার, লোক পাঠিয়ে ওঁর বাড়ি থেকে খাবার আনিয়ে নিচ্ছি। বন্দনাদেবী, আপনি বরং এক কাজ করুন, আপনার মা-কে একটা ফোন করে টিফিন কেরিয়ারে আপনার জন্য খাবার রেডি করে রাখতে বলুন। আমি এখুনি লোক পাঠিয়ে দিচ্ছি।’ বন্দনা এবার গলা চড়ায়, ‘দেখুন আমি বাড়িতে গিয়েই লাঞ্চ করব। সন্ধে অবধি থাকতে পারব না। প্লিজ আপনাদের যা প্রশ্ন আছে সেটা করুন।’ সায়ন গলা চড়াল না। এমনিতেই ভেঙে গেছে। শুধু গলাটা খাদে নামিয়ে বলে, ‘সোমদত্তা।’ ইয়েস স্যার।’ দু-পা এগিয়ে আসে মহিলা পুলিশটি। গায়ের রং হালকা চাপা। মাথার চুল ঢেউখেলানো। মাথার পেছনের খোঁপাটা দেখলে বোঝা যায় চুলের গোছটা বেশ ভালোই আছে।
— বন্দনা দেবীর মায়ের নম্বরটা জেনে ওঁকে ফোন করুন।
সায়ন নির্দেশ দিল।
— ওকে স্যার। নম্বরটা বলুন বন্দনাদেবী।
— প্লিজ আপনারা এই দেবী-দেবী বলাটা বন্ধ করুন তো।
সোমদত্তা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়, ‘বেশ, বন্দনা বলব। এবার নম্বরটা বলুন।’
— নাইন এইট থ্রি ডবল টু ওয়ান টু ওয়ান ডবল সিক্স।
বন্দনার চোয়ালদুটো ক্রমে শক্ত হয়ে উঠছে। সোমদত্তা ঘরের এক কোনে চলে গিয়ে সুরভির সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা সেরে টেবিলের কাছে ফিরে এল। ‘স্যার, উনি রেডি করছেন। আমি বরং তমালকে পাঠিয়ে দিচ্ছি হাইরাইজ সিটিতে।’ আবাসনের নাম শোনামাত্রই চমকে ওঠে বন্দনা। খেয়াল করে উপস্থিত সকলেই। সূর্য অমনি ফস করে বলে উঠল, ‘আঃ! সোমদত্তা। তুমি এবার ব্রেনোলিয়া খাও। হাইরাইজ সিটিতে তো তন্ময় হালদার মানে ওই আত্রেয়ী সেনের ডিওপি থাকেন। আর বন্দনা দেবীর, থুড়ি, বন্দনার ফ্ল্যাট তো কালিকাপুরের সাপুইপাড়ায়। কৃত্তিকা অ্যাপার্টমেন্ট। যদিও ব্যাপারটা একই। দূরত্বও বেশি না দুটো বাড়ির মধ্যে।’ কোলের ওপর বন্দনার হাত কচলানোটা একটু বেড়ে গেল। নজর এড়াল না সায়নের। সোমদত্তা ঘরেই রইল। সূর্য গেল লোক পাঠাতে। সোমদত্তা সায়নকে প্রশ্ন করল, ‘স্যার, সূর্য কী বলে গেল? তন্ময়ের বাড়ি আর বন্দনার বাড়ি এক! এর মানে কী?’ ঘাড়টাকে খানিকটা কাত করে ত্যারচা তীক্ষ্ণ চোখে বন্দনার দিকে তাকিয়ে সায়ন বলে, ‘সে তো ম্যাডামই ভালো বলতে পারবে।’ শরীরটাকে ঝপ করে বন্দনার মুখের সামনে এগিয়ে দিয়ে সায়ন জিজ্ঞেস করে, ‘কী ম্যাডাম, ম্যাডাম সম্বোধনে আপত্তি নেই তো?’
— আপনাদের কথার মাথামুণ্ডু আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।
সায়ন আবার চেয়ারে হেলান দিয়ে মুখটাকে বাংলার পাঁচ করে বলে ওঠে, ‘এই দেখুন, এই তো কী সুন্দর মেঘ না চাইতে জলের মতো উত্তর দিচ্ছিলেন। বেকার কেন হ্যাজাচ্ছেন আবার? সোজাসুজি বলে দিন দেখি, যে আপনি তন্ময় হালদারের বাড়িতে যান। শুধু যানই না। ঘন ঘন যান। আর শুধু ঘন-ঘনই যান না, গিয়ে রাতও কাটান।’
— শাট আপ ইনস্পেক্টর। কথা বলতে বলতে কোথায় থামতে হয় সেটাই আপনারা জানেন না। একজন একা মেয়েকে ডেকে এনে আপনাদের নোংরা কথাগুলো আমার মুখে বসাতে চাইছেন।
সায়নের চোখ পাথর। দুটো চোখের কোলই কুঁচকে আছে। ধনুকের ছিলা থেকে বাণ ছোড়ার আগে তিরন্দাজের চোখদুটো যেমন কুঁচকে ছোটো হয়ে যায় ঠিক তেমনিভাবে বন্দনার দিকে তাকিয়ে আছে সায়ন। সূর্য বুটের শব্দ তুলে ঢুকে আসে। বন্দনা গলা তুলে তড়পেই চলেছে, ‘কী ভেবেছেন কী? কাল বাড়ি গিয়ে ভুলভাল কিছু কথা বলে এলেন। আজ এখানে ডেকে চরম নোংরামির মধ্যে আমাকে ফাঁসাতে চাইছেন। আপনারা চানটা কী? আমি কী ক্ষতি করেছি আপনাদের?’ টেবিল চাপড়ে শেষ কথাটা বলার পরেই একটু হাঁফ ধরে বন্দনার। সায়ন গম্ভীর হয়ে বলে, ‘জল খাবেন?’ বন্দনা ঘাড় নেড়ে না বলে। চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ে সায়ন। বন্দনা অবাক। এত সহজে হাল ছেড়ে দিল নাকি? মনে মনে সেটাই চাইছে বন্দনা। সায়ন সোমদত্তাকে চোখের ইশারা করল। সোমদত্তা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানিয়ে ঘরের একপাশে রাখা একটা প্যাকেট নিয়ে এল। সায়ন খানিকটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখান থেকেই বলল, ‘সোমদত্তা চেয়ারে বসে কথা বলো।’ সোমদত্তা চেয়ারে বসে। বন্দনা ঘাবড়ে গিয়ে বলে, ‘আপনারা ঠিক কী করতে চাইছেন একটু খোলসা করে বলবেন কাইন্ডলি?’
— আপনি তন্ময় হালদারের বাড়িতে রাত কাটাননি?
সোমদত্তা শান্ত গলাতেই জিজ্ঞেস করল। বন্দনার সপাট জবাব, ‘না।’ বন্দনার দিকে তাকিয়েই সোমদত্তা বলল, ‘সূর্য, ব্রেনোলিয়া শুধু আমার নয়। বন্দনারও প্রয়োজন। একটা নয়, হাইরাইজ সিটির ফোর্থ ফ্লোরে তন্ময় হালদারের ফ্ল্যাটে রাতের পর রাত কাটিয়ে বেমালুম ভুলে গেছেন।’
—কী প্রমাণ আছে আপনাদের কাছে?
সোমদত্তা আর কথা না বাড়িয়ে টেবিলের ওপর রাখা প্যাকেট থেকে জিনিসগুলো একে একে বের করে বন্দনার সামনে সাজিয়ে রাখে। তন্ময় হালদারের আলমারি থেকে উদ্ধার হওয়া ব্রা আর প্যান্টি। সূর্য গুটিগুটি পায়ে সায়নের কাছে এগিয়ে যায়। ওইদিকটা একটু অন্ধকার। টেবিলের ওপর ঝোলানো আলোর আভা খুব অল্পই ঘরের দেয়ালে আর আশেপাশে পড়ছে। বন্দনা তুতলিয়ে ওঠে। চোখে তার আতঙ্ক। সায়নের অভিজ্ঞ চোখের সামনে বন্দনার কোনো অভিব্যক্তিই গোপন থাকছে না। ‘কা-কার এগুলো?’ বন্দনা বলে। টেবিলের উলটো প্রান্ত থেকে কড়া গলায় সোমদত্তার জবাব, ‘অনেক ন্যাকামো করেছেন বন্দনা। আমরাও আপনাকে অনেকটা সময় দিয়ে ফেলেছি। ইচ্ছে করেই দিয়েছি যাতে একটু হলেও মানসিক চাপটা কম পান।’ বন্দনা নির্বাক। সোমদত্তা তড়পে ওঠে, ‘বলুন জিনিসগুলো আপনার তো?’ বন্দনা উত্তর দেওয়াটা সবে শুরু করেছিল। ‘কী প্রম…’ বলেই থেমে গেল কারণ সূর্য আড়াল থেকে একটু ন্যাকা গলায় বলে উঠল সেটাই যেটা বন্দনা বলতে যাচ্ছিল, ‘কী প্রমাণ আছে? সোমদত্তা!’ সূর্যের কায়দা দেখে সায়ন ফিক করে হেসে ফেলে। সোমদত্তা এবার প্যাকেট থেকে আরও একটা জিনিস বের করে বন্দনার সামনে রাখে। একটা গোলাপি তোয়ালে রুমাল। রুমালটা দেখেই বন্দনার বাঁ-দিকের ভ্রূটা নতুন করে বেঁকে ওঠে। চিনতে পারছেন রুমালটা?’ সোমদত্তা জিজ্ঞেস করে। কাল থেকে এই রুমালটা খুঁজে পাচ্ছিল না বন্দনা। আজ সকালে সুরভির ওপর এই নিয়ে খানিক হালকা করে চোটপাটও করে এসেছে সে। ‘এ-এই রুমালটা!’ আমতা আমতা করে বলে বন্দনা। আধো অন্ধকারে ঘরের কোনে দাঁড়িয়েই সায়ন বলে, ‘ওটা কাল আপনার বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছি। খানিকটা চুরিই বলতে পারেন। তবে বিরাট একটা সত্যোদ্ঘাটনের জন্য সামান্য রুমাল চুরিতে আমার সাজা হবে না। সায়ন খেয়াল করে বন্দনার চোখের মণিদুটো বড়োই চঞ্চল হয়ে এপাশ-ওপাশ ছোটাছুটি করছে। ‘আপনি বোধহয় বুঝেই উঠতে পারছেন না যে, এই রুমালটা কখন নিলাম! তাই তো? ওই আপনার মা যখন দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে কথা শুনছিলেন। সেটা দেখার জন্য যখনই আপনি ঘাড় ঘুরিয়েছিলেন ঠিক তখনই টুক করে আপনার পাশের সোফা থেকে ওটা তুলে নিই। এর জন্য যদি আমার নামে আপনি এফআইআর করতে চান করতেই পারেন। আমি হেল্প করব আপনাকে।’ সূর্য পাশে দাঁড়িয়ে হাসে। সোমদত্তা বলে, ‘এই লেডিস ইনার ওয়্যার আর আপনার রুমালের ফরেনসিক টেস্ট করানো হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, দুটোই একই লোকের। অর্থাৎ একই বডি কন্ট্যাক্টের নমুনা এগুলোর মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে।
কোলের ওপরে দুটো হাতের তালু এবার দ্রুত গতিতে ঘষে চলেছে বন্দনা। সঙ্গে তার শরীরটাও দুলছে সামনে-পেছনে। ঘামতে শুরু করেছে সে। ‘জিনিসগুলো যত্ন করে রেখে দাও সোমদত্তা’, ঘরের কোণ থেকে হুকুম উড়ে এল সায়নের। জিনিসগুলোকে প্যাকেটস্থ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে যায় সোমদত্তা। সায়ন এসে আসন গ্রহণ করে। ‘কিছু বলার আছে বন্দনা ম্যাডাম?’ সায়নের কথা শেষ হলে মাথাটাকে এক ঝটকায় পাশ থেকে সামনের দিকে ফিরিয়ে চাবুকের মতো সপাং করে বন্দনা বলে উঠল, ‘মিথ্যে। এ সব মিথ্যে। আপনারা বানিয়ে বানিয়ে বলছেন। এর একটাও সত্যি না।’
— এবার কিন্তু আপনি বোকামো করছেন। আমাদের সময় নষ্ট করার একটা সীমা রাখুন। এমনভাবে অসহযোগিতা করলে আজ কেন, আগামী দিনেও আপনাকে থানাতেই থাকতে হবে।
গলা ভাঙা হলেও বেশ কড়া সুরে কথাগুলো বলে সায়ন। আরও বলে, ‘আশা করি বুঝেই গেছেন যে আমরা তন্ময় হালদারের বাড়ি সার্চ করেই এইগুলো পেয়েছি। শুধু এইগুলোই নয়। আরও অনেএএএক কিছু পেয়েছি। তাই কোনো কিছু গোপন করে কোনো লাভ নেই।’
বন্দনা মাথা নীচু করে সামনে-পেছনে দুলেই চলেছে। সোমদত্তা জিজ্ঞেস করল, ‘জল খাবেন?’
বন্দনা ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল। জল এল। গ্লাসটা ধীরে ধীরে খালি হয়ে গেল। সূর্য আবার বলল, ‘আপনার জন্য সোফা চেয়ার আনাব? নাকি এই চেয়ারে ঠিক আছেন?’ বারবার এই প্রশ্নটাই কেন করছে সবাই সেটাই নিশ্চিত হতে পারছে না বন্দনা। সায়ন ইশারা করে। সোমদত্তা টেবিলের ওপর একটা ফাইল রাখে। ডক্টর-স রিপোর্ট। বন্দনা বেশ ভয় পেয়েছে এবার। কাঁপুনি ধরেছে শরীরে। সোমদত্তা ফাইলের কভার উলটে ভেতরের রিপোর্টগুলো দেখায়। জিজ্ঞেস করে, ‘নামটা আপনারই তো?’ সূর্য পাশ থেকে ফুট কাটে, ‘না সোমদত্তা, প্রমাণ করো যে, এই বন্দনাই রিপোর্টের বন্দনা।’ সূর্যের টিপ্পনিতে বুকের ভেতরে এখন জ্বালার চেয়ে ভয়ের তাণ্ডবটাই বেশি টের পাচ্ছে বন্দনা। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উত্তর দিল সোমদত্তা, ‘তাহলে ডিএনএ টেস্টে যেতে হবে। কী বন্দনা? যেতে হবে কী? নাকি আপনি নিজে থেকেই…!’ কথাটা শেষ হল না। তার আগেই ফুলে-ফেঁপে কেঁদে ফেলল সে। কোলের ওপর কচলে চলা দুটো হাত মুখের ওপর চলে আসে। হাতের আড়ালেই অঝোরে কাঁদছে। আকস্মিক কান্নাকাটিতে কিছুক্ষণের নীরবতা। তারপর সোমদত্তা বলে, ‘কেঁদে লাভ নেই। এই অবস্থায় কান্নাকাটি ঠিক নয়। এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে শুরু থেকে শেষ অবধি সব সত্যি কথা বলা।’ বন্দনা জোর করে কান্নাটা গিলে নিল। ফ্যাচ ফ্যাচ শব্দ করে নাক মুছে চোখ ভরতি জল নিয়ে বন্দনা জিজ্ঞেস করল, ‘কী জানতে চান আপনারা?’ সায়ন বলল, ‘গল্প শুনতে চাই। একটা সত্যি গল্প।’ বন্দনা ভ্রূ কুঁচকে সায়নের দিকে তাকিয়ে রইল। সায়ন বলল, আত্রেয়ী সেনের সঙ্গে আপনার পরিচয় কবে থেকে? কবে থেকে আপনি ও বাড়িতে আছেন। আত্রেয়ীর পিএ-র কাজ করতে গিয়ে ঠিক কী কী হয়েছে এত বছরে? মানে মনে রাখার মতো ঘটনা। তন্ময়বাবুর সঙ্গে আত্রেয়ীর সম্পর্ক কেমন? এইসব আর কী! আপনি বলতে শুরু করুন। আমরা আমাদের যা জানার জেনে নেব।’ বন্দনা চোখ মুছে নেয়। হাতের রুমাল দিয়ে ঘামটাও মুছে নেয়। মিনমিনে সুরে বলে, ‘সোফা চেয়ারটা…।’
