মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ২২
বাইশ
— আপনাকে পাগলের মতো খুঁজেছি। ফোন বাজছে না। সায়নও আপনার বাড়ি গিয়ে ফিরে এসেছে। কেউ কোনো খবর দিতে পারেনি। কোথায় গিয়েছিলেন আপনি?
মৃন্ময়ীর কথায় বেশ একটা অভিমানী অনুযোগের আঁচ পেলেন নীলাম্বর ব্যানার্জি। সোনাই বিছানায় শুয়ে আছে লক্ষ্মীছেলের মতো। মুনাই তার পায়ে পেস্ট লাগিয়ে ছোট্ট একটা টুলের ওপর পা দুটো তুলে দিয়েছে। যাতে চাদরে লেগে পেস্ট না উঠে যায়। ইতোমধ্যে ডাক্তার এসে ওষুধ দিয়ে গেছেন। বালিশের পাশেই রাখা। নীলাম্বর একভাবে সোনাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়েছিলেন। সেদিকে তাকিয়ে বললেন, ‘প্রতি বছর কোনো না কোনো সময়ে আমি হিমালয়ের প্রত্যন্ত স্থানে চলে যাই। আমাদের পরিবারের গুরুদেব যিনি, তিনি তাঁর ভক্তদের সঙ্গে থাকেন, সাধন-ভজন করেন। কত অজানা মন্ত্র শিখি। তন্ত্র শিখি। আমি কখনোই চাই না এইসময় কেউ আমায় বিরক্ত করুক। তাই কাউকে জানিয়ে যাই না কোথায় যাচ্ছি। আমার নেটওয়ার্কও ছিল না। তাই পাওনি।’ মুনাই বলল, ‘আপনি যদি ঠিক সময়ে আজ না আসতেন তাহলে যে কী সর্বনাশ হত আমি জানি না। এই সময়ে তো আমারও থাকার কথা নয়।’ নীলাম্বর অমনি বলে উঠলেন, ‘দেখেছ তো মা, তুমি নিজেই বলছ আজ তোমার থাকার কথা নয়। আবার আমারও আসার কথা নয়। অথচ কী অবাক কাণ্ড দ্যাখো, আমরা দুজনেই কিন্তু ঘটনাচক্রে অকুস্থলে এসে পড়েছি। কেন? জানো?’ মুনাই অবাক হয়ে চেয়ে রইল। মৃন্ময়ীও চুপ। নীলাম্বরই উত্তর দিল, ‘সবই মহামায়ার লীলা। ঈশ্বরকে চোখে দেখা যায় না। তিনি কারওর না কারওর মধ্যে দিয়ে হাজির হন। নইলে তুমিই-বা এখানে কেন আসবে আর আমিই-বা ঠিক সময়ে টিভির নিউজ দেখব কেন?’
— ও! এখনও টিভিতে দেখাচ্ছে বুঝি?
মৃন্ময়ী জিজ্ঞেস করল।
— হ্যাঁ। আমি আজ ভোরের ফ্লাইটে ফিরেছি। এয়ারপোর্টেই দেখলাম খবরটা। ঠিক শুনতে পেলাম না বলে মোবাইলে সার্চ করে দেখলাম। বাড়িতে মালপত্র রেখেই ওই জন্য চলে এলাম।
কথাটা শেষ করে নীলাম্বর আবার সোনাইয়ের দিকে তাকাল। মৃন্ময়ী প্ৰায় কাঁদো-কাঁদো স্বরে বলল, ‘এর সমাধান কোথায় নীলাম্বরবাবু? আমি তো আর ভাবতে পারছি না। আপনাকে সবটাই তো বললাম।’ নীলাম্বর বলল, ‘মৃন্ময়ী, এই মুহূর্তে তুমি মিহিরের কথা ভেবো না। ওটা আমি দেখছি। তুমি শুধু ছেলের খেয়াল রাখো। ওকে কক্ষনো কাছ ছাড়া কোরো না। ওর মধ্যে কোনোরকম অস্বাভাবিকত্ব দেখলে তুমি ছেলেকে ছুঁয়ে সঙ্গে সঙ্গে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করবে।’ মৃন্ময়ীর বুকটা নতুন করে ধুকপুক করতে থাকে। মিহিরের মতো তোমার ছেলেরও কিন্তু রাশি হালকা। তাই যে-কোনো অপশক্তি ওকে কবজায় আনতে পারবে খুব সহজেই।’ মৃন্ময়ী গলা নীচু করে বলে, ‘এখনও সেটাই হয়েছে নীলাম্বরবাবু।’ নীলাম্বর ঘাড় নাড়লেন।
মুনাই বেশ ভয়ে পেয়ে গেছে। ‘আচ্ছা, বলছি এ কোন অপশক্তি? সে কি এখনও এ বাড়িতে আছে?’ মুনাইয়ের কথায় নীলাম্বর লম্বা শ্বাস নিয়ে বলল, ‘আছে। এ বাড়িতেই আছে।’ মুনাই আতঙ্কিত চোখে মৃন্ময়ীর দিকে তাকায়। নীলাম্বর বলে, ‘তবে আমি ওকে এ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে ছাড়ব।’
— সে কী চায়? আমরা তো কারও ক্ষতি করিনি।
— আমি তো তোমায় বলেইছিলাম মৃন্ময়ী, মিহিরের কুষ্ঠিতে খারাপ কিছু আছে। তিলোত্তমার পর ও আবারও অপশক্তির দ্বারা বিপদে পড়বে।
নীলাম্বরের কথা শুনে অবাক হয়ে যায় মুনাই। মৃন্ময়ীকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি জানতে বউদি?’
— হ্যাঁ। সেই কারণেই আমি শুরু থেকেই বিশ্বাস করিনি মিহির খুনি। প্রমাণ যাই বলুক। আর আমি তাকে দেখেছি। তোমাদের বলেওছি। সায়নও জানে। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করোনি। আমি লকআপে মিহিরের সঙ্গে আরও একজনকে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে দেখেছি, বোলপুরের চৌধুরি ভিলাতেই অনেকদূর থেকে লোকটা আমাদের দেখছিল। সেটাও শুধু আমিই দেখেছি। আর কেউ দেখতে পায়নি। কিন্তু আমি যে, সেখানে কীভাবে অজ্ঞান হলাম জানি না।
— কিন্তু এসব জানলে কবে? সেসব তো কিছু বলোনি।
— তেরো নম্বর ফ্লোরের ঘটনাটা ঘটার পর একদিন নীলাম্বরবাবু আমায় ফোন করে দেখা করতে বলেন। একা। তোমার দাদাকেও জানাতে বারণ করেন। আমি দেখা করতে ওঁর বাড়ি যাই। তখনই উনি আমায়
আচমকাই থেমে যায় মৃন্ময়ী। ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে ‘কে? কে ওখানে বলে চিৎকার করে ওঠে। বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে নীলাম্বর ডাইনিঙে গিয়ে চারপাশ ভালো করে দেখতে থাকেন। গন্ধ শোঁকার মতো নাক টেনে সিঁড়ির দিকে দৌড়ে যান। মুনাইও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। ‘কাকে দেখেছ বউদি?’ মুনাইয়ের প্রশ্নের উত্তর দেবার আগেই মৃন্ময়ীর কথার ওপর দিয়ে নীলাম্বর বলে ওঠেন, ‘সোনাইকে একা ছেড়ো না।’ মুনাই ঘাবড়ে গিয়ে ঘরে চলে যায়। নীলাম্বর জিজ্ঞেস করেন, ‘ওপরে কে থাকে?’
— আমরাই থাকি। ও শুটিঙে চলে যাবার পর থেকে এখন ফাঁকাই আছে। আমরা নীচের ঘরটায় শুই।
মৃন্ময়ীর উত্তর পুরো শোনার আগেই নীলাম্বর ঘটাং করে সিঁড়ির তলার ঘর খুলে ফেলল। ভাঙাচোরা আবর্জনার মাঝে নীলাম্বরের চোখ টেনে নিল চোখহীন সেই টেডিটা। দু-ধাপ সিঁড়ি দিয়ে নেমে টেডিটার কাছে গেলেন। মৃন্ময়ীও এগিয়ে এসে সিঁড়ির ঘরের পাশে দাঁড়াল। নীলাম্বর যেই টেডিটাকে তাঁর শক্ত হাতের থাবার মধ্যে তুলে নিল অমনি ঘর থেকে সোনাই চিৎকার করে উঠল। মৃন্ময়ী শুনতে পেল তার ছেলে আধো আধো স্বরে গর্জন করে বলছে, ‘নাআআআ, ওতা নেবে না। ওতা আমাল। কিছুতেই নেবে নাআআআ। যাও, ছেলে দাও।’ মুনাই শক্ত করে চেপে ধরে রাখতে পারছে না। মৃন্ময়ী দৌড়ে এসে ছেলের অবস্থা দেখে ভয়ে কাঁপতে থাকে। নীলাম্বর টেডিটা নিয়েছে সেটা ঘর থেকে ও কী করে টের পেল? সোনাই পাগলের মতো ছটফট করছে। ওদিকে নীলাম্বর টেডিটার চোখের দুটো গর্তের মধ্যে তাঁর দু-খানা আঙুল ঢুকিয়ে চোখ বুজে ফেলেন। সোনাইয়ের চিৎকার তাঁর কানেও পৌঁছোচ্ছে। ওদিকে সোনাই যত ছটফট করছে এদিকে টেডির চোখে ঢুকিয়ে দেওয়া আঙুল দুটো তত কাঁপতে থাকে নীলাম্বরের। কপালে গভীর ভাঁজ পড়ে। নীলাম্বরের মনে হতে থাকে তিনি যেন কোনো এক অন্ধকার অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন। দমবন্ধ করা কালো ধোঁয়া বিভীষিকার মতো তাঁকে জড়িয়ে ধরছে। পরক্ষণেই মনে হল, নীলাম্বর পড়ে যাচ্ছে। অনেক নীচে, পৃথিবীর মাটি ফুঁড়ে পাতালে তলিয়ে যাচ্ছে। শরীরটাতে চাবুকের মতো কত কিছু এসে লাগছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা। ছিঁড়ে যাচ্ছে শিরাগুলো। সবশেষে ভয়ানক এক মারণ আঘাত পেয়ে থেমে যান তিনি। ঝপ করে বিস্ফারিত চোখদুটো খুলে ফেলেন। বড়ো করে নিশ্বাস নেন।
— আমায় ছেলে দাও, আমি খেলব টেডির ছাতে। বলছি ছালো।
রাগের মাত্রা চড়ে গেছে সোনাইয়ের। নীলাম্বর ঘরে এসে টেডিটা সোনাইয়ের সামনে ধরেন। সোনাইয়ের চোখদুটো রক্তজবার মতো লাল। নীলাম্বর রাগত কণ্ঠে বলেন, ‘এই টেডিটা আর তোমায় দেওয়া যাবে না। এবার এর মায়া ত্যাগ করো। এখন থেকে এই বাড়িতে যা যা জিনিস তোমার পছন্দ সেই সবক-টা জিনিস আমি পুড়িয়ে খাক করে দেব।’ বলার সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে লাইটার বের করেন। সোনাই ‘হুঃ’ করে মাথা ঝাঁকিয়ে তাঁর প্রচণ্ড রাগ উগরে দেয়। ঠিক তখনই সকলকে চমকে দিয়ে কোনো এক মায়াবলে টেডিটা নীলাম্বরের হাত থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায়। মৃন্ময়ী সরে যায় ভয়ে। সোনাইয়ের হাতটাও ছেড়ে দেয়। নীলাম্বর নীচু হয়ে টেডিটাকে মাটি থেকে তুলছিল। সুযোগ বুঝে সোনাই এক ঝটকায় তার পিসির হাত ছাড়িয়ে খাট থেকে নেমে নীলাম্বরের গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নীলাম্বর চিৎকার করে ওঠে, ‘ওর হাত ছাড়লে কেন? ধরো মৃন্ময়ী। বলে সোনাইকে হালকা করে ঠেলে দেয়। মৃন্ময়ী আবার ধরে ফেলে সোনাইকে। মাটি থেকে টেডিটা তুলে বাইরে নিয়ে যায় নীলাম্বর। কাল বিলম্ব না করে লাইটার জ্বেলে সেই আগুন টেডিটার চোখের সামনে ধরে। আগুনের শিখা ওই কালো অক্ষিকোটরে ঢুকে জ্বালিয়ে দেয় সমগ্র টেডিটাকে। কুশপুত্তলিকার মতো দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। ঘরের মধ্যে সোনাইও মায়ের কোলে জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়ে। ঘাবড়ে যায় মৃন্ময়ী। ‘চিন্তা নেই মৃন্ময়ী, ওর চোখে-মুখে জল দাও। জেগে যাবে। তোমার ছেলে তোমারই আছে।’ কাজও হল। জ্ঞান ফিরতেই পায়ের ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠে। নীলাম্বর বলেন, ‘আজ আমি তোমার বাড়ি থাকব মৃন্ময়ী। কোনো অসুবিধে নেই তো?’ মৃন্ময়ী চোখের জল মুছে বলে, ‘কী বলছেন আপনি? এতে আমি অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকব।’ মৃন্ময়ীর কথায় সায় দিল মুনাই। নীলাম্বর আরও বললেন, যে তিনি দোতলার কোনো একটা ঘরে থাকবেন এবং সমগ্র দোতলায় উনি একাই থাকবেন। এই কথাতে মৃন্ময়ী আর মুনাইয়ের মুখ আবার শুকিয়ে গেল। মুনাই বলল, ‘এখনও কি কেউ আছে এই বাড়িতে? আপনি তো জ্বালিয়ে দিলেন ওটা।’ নীলাম্বর আনমনা হয়ে মাটির দিকে চেয়ে বললেন, ‘প্রতিশোধের নেশায় মত্ত সে। তার রাস্তায় এতটুকুও যদি কেউ আসে তাহলে তার চরম সর্বনাশ করে ছাড়বে।’ মৃন্ময়ী জিজ্ঞেস করে, ‘এই প্রতিশোধের খেলায় আমরা কী করে এলাম নীলাম্বরবাবু? এই দুধের শিশুটা এল কীভাবে?’ সেটাই তো খুঁজে বের করতে হবে মৃন্ময়ী! আচ্ছা, মিহির নিজে কখনও কিছু বলেছিল? মানে অস্বাভাবিক কিছু যা ওর সঙ্গে ঘটেছে। ও হয়তো নিজেও ঠিক বুঝতে পারেনি কী হল!
মৃন্ময়ী ভাবতে থাকে। কপালে ভাঁজ ফেলে বলে, ‘যে শুটিংটা করতে বোলপুর গিয়েছিল সেই শুটিঙের বেশ কয়েকটা দিন আগে থেকেই মিহির যেন কেমন মনমরা হয়ে যায়। যে কাজটা নিয়ে ও নিজে সবচেয়ে বেশি এক্সাইটেড ছিল সেই কাজটাই আর করবে না বলে ভাবছিল। আমিই ওকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কাজটা করতে বলি। রাতে ঘুমোত না। মাঝেমাঝে চমকে উঠত। কিন্তু কেন, কী ঘটেছিল কিচ্ছু বলেনি আমায়।’
চশমাটা খুলে চোখ কচলাতে কচলাতে নীলাম্বর বলেন, ‘ওটাই জানতে হবে। ওইখানেই হয়তো রহস্য লুকিয়ে।’ মুনাই ঝিমিয়ে পড়া সুরে বলল, ‘কে আর বলবে সে কথা? যে বলার সে তো নার্সিংহোমের বেডে শুয়ে বোতল বোতল রক্ত নিচ্ছে।’
— অনেক ব্লাড লাগছে?
— হ্যাঁ। ডাক্তার বলেছে শরীরে নাকি রক্ত কম। সেরকম কোনো অসুখ আছে কিনা সেটাও জিজ্ঞেস করেছিল। অথচ দাদার তো সেরকম কোনো অসুখই নেই।
মৃন্ময়ী বলল, ‘কীরকম ফ্যাকাশে মতো হয়ে গেছে।’ ঠোঁটদুটো কেঁপে উঠল চোখের কোল টপকে গড়িয়ে পড়ল দু-ফোঁটা জল। হাতে ধরে রাখা চশমাটা চোখে দিতেই চকচক করে উঠল নীলাম্বরের চোখদুটো। এবার যেন আগের চেয়ে আরও একটু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন।
— মিহিরকে দেখতে যাব আমি।
নীলাম্বর বলে উঠলেন।
.
খাওয়া শেষে আবার ইন্টারোগেশন রুমের ঝুলন্ত গোল আলোটার সামনে এসে বসতে হল বন্দনাকে। তার সামনেই সায়ন বলল, ‘সূর্য, আমার গলা কিন্তু প্রায় ডুবতে বসেছে ভাই। এর পরের প্রশ্ন-উত্তরের খেলাটা তোমায় আর সোমদত্তাকেই চালাতে হবে।’
— হ্যাঁ হ্যাঁ স্যার। আমরা তৈরি।
বলেই সোমদত্তার দিকে তাকিয়ে সূর্য একবার মুচকি হাসল। এই কথোপকথনে পরিবেশটা হালকা হওয়ার চেয়ে ভারী হল বেশি। বন্দনার মুখটা আবার নতুন করে শুকিয়ে গেল। আরও প্রশ্ন, আরও উত্তর! বাঘের মুখের সামনে পড়ার চেয়েও এখন আরও অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে বন্দনাকে। খুব মেপে, বুঝে উত্তর দিতে হবে তাকে। গুছিয়ে চেয়ারে বসে সূর্যই এবার হাল ধরল, তাহলে, শুরু করি বন্দনা দেবী?’ এই দেবী শব্দটা শুনলেই মাথা থেকে পা অবধি জ্বলে যাচ্ছে বন্দনার। মুখে বিরক্তি এনে কটমট করে সূর্যের দিকে তাকাতেই সে বলে উঠল, ‘ও হো সরি সরি। আপনি আবার দেবী-টেবী পছন্দ করেন না। বেশ ম্যাডাম।’
— বন্দনা বললেও খুব একটা অপমানিত হব না আমি।
এখনও বন্দনার মুখে সপাটে জবাব শুনে ঠোঁট ওলটালো সায়ন। ‘বাহ! এই তো খেয়েদেয়ে আবার আগের ফর্মে ফিরেছেন ম্যাডাম। গুড। বেকার ফ্যাচ ফ্যাচ করে কেঁদে লাভ কী? কাঁদবেন না একদম।’ সায়নের কথাগুলো বন্দনার ভ্রূ দুটোকে আবারও অসমান করে দিল। এমন কী প্রশ্ন করবে যাতে বন্দনা কাঁদতে পারে! ভাবনার তল পেতে না পেতেই প্রশ্ন ছুড়ে দিল সূর্য, ‘তন্ময়বাবুর সঙ্গে আপনার পরিচয় কবে হল এবং কীভাবে হল?’ মনে মনে ঠিক এই প্রশ্নটারই অপেক্ষায় করছিল বন্দনা। কতটা বলবে আর কতটা আড়ালে রাখবে সেটা নির্ধারণ করা ভীষণ কঠিন। তবু এটা ওকে করতেই হবে। ‘এত সাতপাঁচ কী ভাবছেন বন্দনা ম্যাডাম? ভুলে গেছেন নাকি প্রথমদিনের কথা?’ সোমদত্তা ঠান্ডা সুরে বলল। সেরকমই শীতল কণ্ঠে উত্তর দিল বন্দনা, ম্যাডামের জন্মদিনের পার্টিতে।’
