মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ২৭
সাতাশ
মধ্যরাত। সরখেল বাড়ির চারপাশে নির্মম নিশুতি যেন ওঁৎ পেতে বসে আছে। সর্বনাশের প্রহর গুণছে কেউ। ঘরের ভেতরে নীল অন্ধকারে ফ্যানের হাওয়ায় মশারিটা নড়ছে ফুরফুর করে। মশারির মধ্যে ছোট্ট সোনাই, মৃন্ময়ী আর মুনাই ঘুমিয়ে আছে। মৃন্ময়ী বলেছিল মুনাইকে আলাদা ঘরে শুতে। কিন্তু বউদি আর আদরের ছোট্ট ভাইপোটাকে একলা ছাড়তে চায়নি এই অবস্থায়। মনের মধ্যে একলা থাকার ভয়টাও কাজ করেছিল মুনাইয়ের। তবে এদের চিন্তা নীলাম্বরবাবুকে নিয়ে। যতই তিনি তন্ত্রমন্ত্র জানুক, প্যারানরমাল বিষয় নিয়ে কাজকর্ম করুক, দোতলায় একদম তিনি একা শুয়েছেন। এই বাড়িতে যদি তার কোনো ক্ষতি হয় তাহলে এরা নিজেদের ক্ষমা করতে পারবে না। অনেকক্ষণ জোর করে জেগে থেকেও শেষমেশ আর ঘুমের ভার সামলাতে পারেনি চোখের পাতাদুটো। বুজে এসেছে অজান্তেই
ঝড়ের গতিতে পাখাটা ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ-ই বন্ধ হয়ে গেল। সঙ্গে নিভে গেল টিমটিমে মায়াবী আলোগুলো যা দোতলার ঘর আর বাইরেটাকে মৃদু আলোকিত করে রেখেছিল। বিছানার মাঝে চিত হয়ে শুয়ে ঘুমোচ্ছিলেন নীলাম্বর। হাওয়ার চলাচল দুম করে থেমে যাওয়াতে ঘুমটা ভেঙে যায়। বিছানার পাশে খোলা জানলা। বাইরের স্ট্রিট লাইটের আলোটা কমলা আভা নিয়ে ঘরের মধ্যে এসে ঢুকেছে। চোখটা খুলতেই ভ্ৰূটা কুঁচকে গেল নীলাম্বরের। ঘরে আলো নেই অথচ রাস্তায় আলো আছে! এখানে অন্য সাধারণ মানুষ হলে ভাবত একটা ফেজ হয়তো চলে গেছে। কিন্তু নীলাম্বর যে গন্ধ পান। গন্ধ পান অশনির, অলৌকিকের। মাঝরাতে দুম করে আলো নিভে যাওয়াটা যে সরখেল বাড়ির জন্য অশুভ সেটা আরও নিশ্চিত হয় যখন মনে পড়ে এই বাড়িতে একটা ইনভার্টার আছে। কারেন্ট গেলেও আলো-পাখা নিভে যাওয়ার কথা নয়। নীলাম্বর বুঝতে পারছেন তার শরীরের চারপাশের হাওয়া বেশ ভারী হয়ে উঠছে। সময় নষ্ট না করে বালিশের তলা থেকে মোবাইল বের করেন। আঙুলের কারসাজিতে মুহূর্তে জ্বালিয়ে ফেলে মোবাইলের আলো। আলোটা জ্বলতেই আঁতকে ওঠে নীলাম্বর। ঝট করে মনে হল, এক্কেবারে সামনে মাত্র তিন-চার হাতের মধ্যেই কেউ যেন দাঁড়িয়ে ছিল। আলোটা ছড়িয়ে পরতেই ভ্যানিশ হয়ে গেল। জোরে জোরে শ্বাস চলতে থাকে নীলাম্বরের। বিছানার পাশেই কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটা রাখা। দেরি না করে শরীরটাকে সামনের দিকে দ্রুত ঝুঁকিয়ে দিয়ে ব্যাগটার কাছে যেতে যান। কিন্তু নীলাম্বর খেয়াল করেন শরীরটা তার কিছুতেই নড়ছে না। বুকে কষ্ট হচ্ছে। এই সময় ভীষণ জরুরি কাউকে ডাকা। কিন্তু নাহ, মৃন্ময়ী বা মুনাই কাউকে ডাকাই ঠিক হবে না। পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত হয় এই মুহূর্তে, যে অশরীরী আছে এখানে সে বেশ শক্তিশালী। নইলে গলায় যার কুলকুণ্ডলিনীর ধাতব লকেট তাকে কী করে সেই অর্বাচীন এমন শক্তি প্রদর্শন করে? অন্তরের সব শক্তি একত্রিত করে নীলাম্বর নিজের শরীরটাকে নিয়ে এগোতে থাকেন। কিন্তু সেটা যখন সম্ভব হচ্ছে না তখন ডানহাত দিয়ে কুলকুণ্ডলিনীর লকেটের শেষ গোলাকার প্রান্তটা নিজের নাভিতে ঠেকান। এই লকেটে গোলাকার সাতটি ধাতব লকেট চাঁদমালার মতো একটার সঙ্গে আর-একটা যুক্ত হয়ে ঝুলছে। একেবারে নীচেরটা মূলাধার চক্র, তার ওপরেরটা স্বাধিষ্ঠান চক্র, এর ওপর মণিপুর চক্র, অনাহত চক্র, বিশুদ্ধ চক্র, আজ-ন চক্র এবং সবশেষে সহস্রার চক্র। এই সাতচক্র লম্বালম্বি নীলাম্বরের গলা থেকে নাভি পর্যন্ত শরীরকে স্পর্শ করে থাকে। আমাদের প্রত্যেকের শরীরের মধ্যে এই চক্রের অধিষ্ঠান। যার বীজমন্ত্র ওম। নীলাম্বরও মন্ত্রকণ্ঠে গমগমে স্বরে তিনবার ওম উচ্চারণ করেন। ঠিক তখনই কারওর একটা গর্জন ভেসে আসে নীলাম্বরের কানে। নিমেষে হালকা হয়ে যায় শরীর। আর কালবিলম্ব না করে মোবাইলের আলো লক্ষ্য করে ব্যাগের কাছে চলে যান। হাত ঢুকিয়ে বের করে নেন রুদ্রাক্ষের মালা। সেটাকে ডানহাতের তালুতে পেঁচিয়ে ঘরের দরজার দিকে তাকান। কেউ একটা আড়ালে চলে যায়। কানের পাশ দিয়ে ঘামের রেখা নামছে নীলাম্বরের। মোবাইলের আলোটা নিয়ে ধীর পায়ে দরজার কাছে চলে আসেন। বাইরের অংশটায় আলো ফেলতেই ভ্রূ দুটো কপালে ভাঁজ ফেলে কাছাকাছি চলে আসে। অবাক কাণ্ড! দুটো শোবার ঘরের সামনের অংশটায় একটা টেবিল ও চারটে চেয়ার ছিল। সেগুলো কোথায়? মোবাইলের আলো করিডরের সবখানেই পড়ল। কিন্তু চেয়ার টেবিলের কোনো হদিশ পাওয়া গেল না। হঠাৎ ঘষঘষে গলায় কেউ যেন গলা কাঁপিয়ে শব্দ করল। শব্দ করল! নাকি হাসল। নীলাম্বর গর্জে উঠলেন। ‘যে আছিস চলে যা। এদের রেহাই দে। এখানে তোর কোনও ইচ্ছে পূরণ হবে না।’ কারও কোনো শব্দ নেই। পাশের ঘরে আলো ফেলে দেখল সেখানেও চেয়ার টেবিল কিছু নেই। অথচ ওঁর স্পষ্ট মনে আছে ওপরে এসে সবার আগে চেয়ার টেবিলগুলোই দেখেছিল।
খানিক চুপ করে দাঁড়িয়ে অশরীরীর গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করছিলেন নীলাম্বর। শরীরটা যেন কেঁপে উঠল হঠাৎ করে। মনে হল কেউ যেন প্রচণ্ড ঠান্ডা একটা বরফের চাঁই ভেঙে ছুড়ে দিল। কাঁপুনি থামার আগেই কানের কাছে ঘষঘষে গলায় কেউ চিৎকার করে বলল, ‘চলে যাআআআআআ।’ ঝট করে পেছনে ঘুরে গেলেন নীলাম্বর। কেউ নেই। শুধু সেই ভয়ানক কণ্ঠের অনুরণন। ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে নীলাম্বরের। ঠিক কোনদিকে সে আছে বুঝতে পারছেন না। ছাড়লে চলবে না। অশরীরীকে প্রশ্রয় দিলে সে আরও ঘাড়ে চেপে বসে। নীলাম্বর হাওয়ায় ছুড়ে দিলেন উত্তর, ‘তুই যাবি। আমি না।’ এর পরমুহূর্তেই ভয়ানক গর্জন। আওয়াজটা ওপর থেকে ভেসে আসছে মনে হতেই নীলাম্বর ওপরে তাকান এবং সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পান ভয়ানক দৃশ্য। চেয়ার এবং টেবিলগুলো কোনো এক অদৃশ্য মায়া বলে ওপরের সিলিংয়ের সঙ্গে লেগে ছিল। এখন সেগুলোই ধেয়ে আসছে নীলাম্বরের মাথার ওপর। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় একটু হকচকিয়ে যেতে অকুস্থল থেকে সরতে দেরি হয়ে গেল তাঁর। রট আয়রনের তিনটি চেয়ার এবং একটি টেবিল প্রচণ্ড শব্দে আছড়ে পড়ল মাটিতে। একটি চেয়ার সোজা এসে লাগল নীলাম্বরের মাথায়। ঘাড়েও চোট পেলেন। নীলাম্বর মুখ থুবড়ে পড়লেন অন্ধকারে। হাত থেকে ছিটকে গেল মোবাইল। নিভে গেল আলো।
.
ঘুমের মধ্যেই বুক কাপানো শব্দ পেয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসেছে মৃন্ময়ী আর মুনাই। সোনাই বিছানায় শুয়েই কঁকিয়ে উঠল। ‘কী হল বলো তো বউদি?’ মুনাই বলল। মৃন্ময়ী বালিশের পাশে রাখা দুধের বোতলটা সোনাইয়ের মুখে গুঁজে দিয়ে চুপ করাল। ‘নিশ্চয়ই কোনো বিপদ হয়েছে মুনাই। এত জোরে কীসের শব্দ? আর আলো-পাখাই বা বন্ধ কেন?’
— ইনভার্টারটা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?
— না তো।
মুনাই মোবাইলের আলোটা জ্বেলে মশারি থেকে নামল। মৃন্ময়ী ভয়ে ভয়ে বলল, সাবধান মুনাই। দেখে যাও।’
দরজা খুলে অন্ধকার ঘুটঘুটে ডাইনিঙে এল মুনাই। মোবাইলের আলোটা ইনভার্টারের দিকে ফেলে এগিয়ে গেল। দু-তিনবার সুইচ টিপল। কিন্তু ইনভার্টার কোনো সাড়া করল না। ‘ধুস! ঠিক সময়ে ইনভার্টারটাও গেল।’ নিজের মনেই বিড়বিড় করল মুনাই। কিছু হল না দেখে ঘরের দিকে ফিরতে গিয়ে রক্তমাখা থ্যাতলানো একটা বীভৎস মুখ মোবাইলের আলোয় ঝলসে ওঠে। আর্তনাদ করে ওঠে মুনাই। পরমুহূর্তেই মোবাইলের আলোটা নিভে যায়।
— মুনাই কী হল? মুনাই…
ঘরের মধ্যে থেকে মৃন্ময়ী চিৎকার করে ওঠে। মুনাই কোনো উত্তর দিতে পারে না। ভয়ে আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে মোবাইলটাকে ঝাঁকাতে থাকে। হাত দিয়ে চাপড় মারতে থাকে। যদি আলো জ্বলে ওঠে।
— মুনাই কোথায় তুমি?
ঘর থেকে বলে ওঠে মৃন্ময়ী। কিন্তু মুনাই এই মুহূর্তে যা দেখল তাতে মুখ দিয়ে কান্নার আওয়াজ ছাড়া কিছুই বেরোচ্ছে না। সাহস করে সামনে এগোতেও পারছে না। মোবাইলটার যে কী হল কিছুতেই আলো জ্বলছে না। নাহ্! এই অন্ধকারেই দেয়ালে পিঠ ঘষে ঘষে তাকে কোনোভাবে ঘরে যেতেই হবে। মুনাই সেটাই করল। যাতে নিশ্বাস বাইরে না আসে তাই নাকে-মুখে হাত চাপা দিয়ে দেয়ালে পিঠ ঘষতে ঘষতে কোনোরকমে হুমড়ি খেয়ে ঘরে ঢুকে গেল।
.
মৃন্ময়ী মশারির বাইরে বেরিয়ে এসে মুনাইকে জড়িয়ে ধরে। ‘কী হয়েছে মুনাই? চিৎকার করলে কেন?’ মুনাইয়ের শরীরে যত জোর ছিল সবটুকু দিয়ে মৃন্ময়ীকে আঁকড়ে ধরে। বউদির কাঁধে মুখ রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে আর বলে, ‘এ বাড়ি থেকে চলো বউদি। এখানে, এখানে থেকো না।’ মৃন্ময়ী জিজ্ঞেস করে মুনাইকে, সে কী দেখেছে? মুনাই সেই ভয়ংকর মুখের বর্ণনা দেয়। মৃন্ময়ীর সারা দেহ শিউরে ওঠে। পরক্ষণেই দোতলা থেকে পাওয়া বুকফাটানো শব্দের কথা মনে পড়ে। মৃন্ময়ীর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে আরও কোনো ভয়ানক সর্বনাশের ইঙ্গিত দেয়। বুকের ওপর থেকে মুনাইকে সরিয়ে দু-হাতে শক্ত করে ধরে মৃন্ময়ী বলে, ভয় পেলে হবে না মুনাই। যত ভয় পাব তত বিপদ বাড়বে। আমার মন বলছে ওপরে নীলাম্বরবাবু বিপদে আছেন। ওঁকে বাঁচাতেই হবে।’
— কিন্তু কী করে বউদি? ওই ভয়ানক লোকটা যে ওখানেই…
বলে বাইরের ডাইনিঙের দিকে আঙুল দেখায়। মৃন্ময়ী ওই বদ্ধ ঘরের অন্ধকারেই দেয়ালের গায়ে লাগানো কাঠের শার্টারটা সরিয়ে দুটো বাতি আর দেশলাই বের করে নেয়। মুনাইয়ের হাতে একটা বাতি ধরিয়ে দিয়ে দুটো বাতিই জ্বালিয়ে দেয়। তারপর দুটো বাতিই মুনাইয়ের হাতে দিয়ে বলে, ‘এগুলো তুমিই ধরো। আমি সোনাইকে কোলে নিচ্ছি। আর শোনো, এর আগেরবার নীলাম্বরবাবুই বলেছিলেন, ভয় পেলে ওঁ বলতে। তুমি সর্বক্ষণ ওঁ ধ্বনি উচ্চারণ করে যাবে।’
— কিন্তু বউদি, মোবাইলের আলো যেখানে নিভে গেল সেখানে এই বাতি কী করবে?
— ওটা ব্যাটারির আলো ছিল। এটা আগুন। জানি না বিপদ এলে রক্ষা পাব কিনা। তবু হাল ছাড়লে হবে না মুনাই।
দৃঢ় চোখে তাকিয়ে কথাটা বলল। ভয়ে আর আতঙ্কে ভাঙতে ভাঙতে মৃন্ময়ী এখন অনেকটা শক্ত। ঘুমন্ত সোনাইকে কোলে নিয়ে দুজনে ঘর ছেড়ে ডাইনিঙের এল। মোমবাতির দপদপে আলোয় ডাইনিঙের দেয়াল থেকে সিলিং পর্যন্ত বিরাটাকার দুটো ছায়া একটি শিশু কোলে এগিয়ে চলেছে। ভয়ে মোমবাতি ধরা হাতদুটো কাঁপছে মুনাইয়ের। ঘরটাকে এই মৃদু কম্পমান আলোয় আরও ভয়ানক লাগছে। মৃন্ময়ী বুকের মধ্যে আঁকড়ে ধরে আছে সোনাইকে। দুজনের চোখের মণি অবিরত কাউকে যেন খুঁজে চলেছে মরিয়া হয়ে। মনে করতে না চাইলেও সেই বীভৎস মুখটা পিছু ছাড়ছে না মুনাইয়ের। বারবার ঝলসে উঠছে মনের পর্দায়। হাতের ওপর মোম গলে পড়লেও সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই তার। অস্ফুট স্বরে মুনাই ‘ওঁ’ ধ্বনি উচ্চারণ করেই চলেছে। ভীরু পায়ে দুজনেই সিঁড়ির কাছে চলে এসেছে। দোতলা থেকে সেই শব্দের পর আর কোনো শব্দ ভেসে আসেনি। অন্যান্য দিনের থেকে আজ বরং অনেক বেশি নিস্তব্ধ মনে হচ্ছে বাড়িটাকে। ঘর থেকে সিঁড়ি পর্যন্ত আসতে আসতে মুনাইয়ের বারবার মনে হচ্ছিল ওরা দুজন নয়, আরও একজন আছে আশেপাশেই। সেও হাঁটছে। তবে তার ছায়া পড়ছে না।
মোমের আলো সিঁড়িতে পড়তেই চাতাল থেকে সরে গেল কেউ। মৃন্ময়ী খেয়াল করল শুধু। আঁতকে উঠে থমকে গেল। অন্য সময় হলে ওপরেই উঠত না সে। কিন্তু এখন তো কারও কোথাও পালাবার পথ নেই। তাই পিছিয়েও লাভ নেই। ‘কী হল বউদি? দাঁড়িয়ে পড়লে কেন?’ ফিশফিশ করে মুনাই প্রশ্ন করল। ঢোঁক গিলে মৃন্ময়ী বলল, ‘কিছু একটা সরে গেল…।’ আবারও টপটপ করে দু-ফোঁটা উত্তপ্ত মোম মুনাইয়ের হাতের ওপর পড়ল। আঁতকে উঠে কেঁপে গেল। মোমের আলোটাও ওদের সঙ্গে ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরের দিকে উঠে চলেছে। দোতলায় উঠতেই মোমবাতির আলোয় সামনের বেশ কিছুটা অংশ আলোকিত হয়ে ওঠে। আর ঠিক তখনই মৃন্ময়ী চমকে ওঠে। চাপা গলায় নীলাম্বরবাবুর নাম ধরে ডেকে ওঠে। মুনাই সামনের দিকে তাকাতেই দেখে একটা চেয়ারের চারটে পায়ার মাঝে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে নীলাম্বরের মাথা। মাথার পাশে মাটিতে কালো রঙের ছায়া। দূর থেকে দেখে দুজনেই বুঝতে পারে ওটা মাথা থেকে বেরিয়ে আসা কাঁচা রক্ত। অন্ধকারে কালো দেখাচ্ছে। মৃন্ময়ী আর মুনাই দুজনেই দ্রুত এগোতে যায়। কিন্তু একটা পা বাড়াবার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারে কোনো এক শক্তি তাদের সামনে থেকে আটকে দিয়েছে। এতটুকুও সামনের দিকে এগোতে পারছে না। মুনাই গায়ের জোরে যতই সামনের দিকে এগোতে যাচ্ছে ততই তার পা দুটো পিছলে পেছনে চলে যাচ্ছে। মৃন্ময়ী কিন্তু একই জায়গায় আটকে আছে। মুনাই আর মৃন্ময়ী ঠিক করে ‘ওঁ’ ধ্বনিটাও উচ্চারণ করতে পারছে না। চোয়ালদুটো শক্ত পাথরের মতো হয়ে গেছে। মুনাইয়ের দুটো পা-ই পিছলে সিঁড়িতে দুটো ধাপ নেমে যায়। পড়ে যেতে গিয়েও পড়ে না। মোমবাতি ধরা হাতটা দেয়াল ধরে ফেলে। একটা মোমবাতি নিভে যায়। প্রচণ্ড ভয়ে হাঁফাচ্ছে মুনাই। উপচে আসা জলে চোখদুটো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ-ই মায়ার শক্তি ছেড়ে দেয় মৃন্ময়ীর শরীর। সোনাইকে কোলে নিয়েই সামনের দিকে ঝুঁকে দু-পা এগিয়ে যায় সে। সোনাইয়ের ঘুম ভেঙে যায়। আধো অন্ধকারে কী হচ্ছে বুঝতে না পেরে তীক্ষ্ণ গলায় কেঁদে ওঠে। মৃন্ময়ী ওই অবস্থাতেই মাটিতে লুটিয়ে থাকা নীলাম্বরের দিকে এগোতে থাকে। ওর পা দুটো খুব দ্রুত বেগে মেঝের ওপর দিয়ে ছুটতে থাকে। নীলাম্বরের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকে। পরক্ষণেই বুঝতে পারে সে যত সামনের দিকে এগোচ্ছে, পড়ে থাকা নীলাম্বরের শরীরটা তত যেন পিছিয়ে যাচ্ছে। মৃন্ময়ী পড়ি কি মরি করে ছুটে চলেছে নীলাম্বরকে বাঁচাবার জন্য। কিন্তু নীলাম্বরের সঙ্গে তার দূরত্ব কিছুতেই ঘুচছে না। ঘরটা যেন জাদুমন্ত্রে বড়ো থেকে আরও বড়ো হয়েই চলেছে। মৃন্ময়ী সামনের দিকে তাকায়। পালটায়নি কিচ্ছু। ঘরের দেয়াল, চেয়ার-টেবিল, পাশের দুটো ঘরের দরজা সব এক আছে। নিজেকে যে থামাবে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। মুনাই অনেক দূর থেকে মৃন্ময়ীকে ডেকে চলেছে। সেই আওয়াজও ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে যাচ্ছে। মৃন্ময়ী গলদঘর্ম হয়ে এগিয়েই চলেছে। আচমকাই একটা লাফ মেরে মৃন্ময়ী কোথাও একটা উঠে দাঁড়ায়। সেই ঝাঁকুনিতেই চটক ভাঙে তার। মুহূর্তে চোখের ওপর থেকে একটা পর্দা সরে যায়। চারপাশ অন্ধকার। সে ভালো করে দেখতে চেষ্টা করে সোনাইয়ের মুখ। কেঁদেই চলেছে। সামনের দিকে তাকায়। চোখটা একটু সয়ে যেতেই দেখে চারপাশে বেশ কিছু বাড়ির অবয়ব আঁধারে মুখ ডুবিয়ে ঘাপটি মেরে আছে। তারপরেই বুঝতে পারে আশেপাশের প্রতিটা বাড়ির খোলা ছাদগুলো সে দেখতে পাচ্ছে। চোখে আসা জল মুছে ভালো করে দেখে। হ্যাঁ হ্যাঁ, ও ঠিকই দেখছে। দেখায় কোনো ভুল নেই তার। মৃন্ময়ীর মাথার ওপর নিশুতিধারী আকাশ মহাকালের মতো ভয়ানক মূর্তিতে তাকিয়ে। কোমরের আর মাথার কাছে আশেপাশের বাড়ির খোলা ছাদের আবছা ছবি। আর পায়ের নীচে, অনেক নীচে, প্রায় তিনতলা সমান উচ্চতার অতলে সর্বনাশী হাঁ করে ওপরের দিকে তাকিয়ে আছে এই পৃথিবীর মাটি। দেখামাত্রই ঝরঝর করে কেঁপে উঠল মৃন্ময়ীর শরীর। মাথাটা টলে যাচ্ছে। ছাদের আলসেটা মৃন্ময়ীর পায়ের পাতাদুটোকে কিছুতেই ধরে রাখতে চাইছে না। এক্ষুনি, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের বেসামাল অবস্থা মৃন্ময়ীকে ঠেলে ফেলে দেবে তিনতলার ছাদের পাঁচিল থেকে। চেতনায় ফিরে পুরো অবস্থাটা বুঝে ভয়ংকর আর্তনাদ করে ওঠে মৃন্ময়ী। জীবন-মৃত্যুর মাঝে শুধু কয়েক পলকের ব্যবধান। কোলে তার ভিন বছরের সোনাই। চোখের ওপর পৃথিবীটা যখন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষায় দুলে উঠেছে ঠিক সেই মুহূর্তের কয়েক পলকে মৃন্ময়ী দেখতে পায় একটা শরীর। দূরে ছাদের কোণে মাথা হেলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শেষবারের মতো সোনাই সমেত মৃন্ময়ীর শরীরটা টলে গিয়ে এক্কেবারে পাঁচিলের বাইরের দিকে ঢলে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তেই উলটোদিক থেকে একটা হ্যাঁচকা টান অনুভব করে মৃন্ময়ী। কারও একটা তীক্ষ্ণ চিৎকার কানে এলেও সে চিৎকারের মর্মবাণী বোঝার শক্তি তখন নেই। ছাদের মধ্যেই সোনাইকে নিয়ে আছড়ে পড়ে মৃন্ময়ী। তবে সোনাই বা মৃন্ময়ীর শরীরকে ছাদের শক্ত মেঝে খুব একটা আঘাত করতে পারেনি। সে তার ছেলেকে নিয়ে কারও একটা ভারী শরীরের ওপর পড়েছে। হাঁটুতে আর পায়ের পাতায় একটু লেগেছে মৃন্ময়ীর। কোনোরকমে উঠে বসেই পাগলের মতো সোনাইকে জড়িয়ে ধরে সে। কানে ভেসে আসে নীলাম্বরের গলা, ‘কিচ্ছু হয়নি মৃন্ময়ী। চলো এখান থেকে।’ তারপরেই ‘বউদি দেরি কোরো না চলো’ বলে মৃন্ময়ীকে তুলে ধরার চেষ্টা করতে থাকে মুনাই। ছাদ থেকে বেরিয়ে নীচে যাবার আগে থমকে দাঁড়ান নীলাম্বর। ঘুরে তাকান অন্ধকার ছাদটার দিকে। দূরে ছাদের কোনে রাতের আঁধার যেন একটু বেশিই ঘন। সেই দিকে চেয়েই চোয়ালদুটো শক্ত হয়ে ওঠে নীলাম্বরের।
.
মুখে নানানরকম আদুরে শব্দ করে মৃন্ময়ী ছেলের কান্না থামাবার চেষ্টা করছে। মুনাই খাটে বসে নীলাম্বরের কপাল থেকে তুলো দিয়ে রক্ত মুছছে। রট আয়রনের চেয়ারটা কপাল ছুঁয়ে বেরিয়েছে বলে রক্ষে। সোজা মাথার ব্রহ্মতালু বরাবর চেয়ারের পায়া এসে পড়লে আর রক্ষে ছিল না। মুনাই যত্ন করে ব্যান্ডেজ করে দিল নীলাম্বরের মাথায়। ‘কাল সকালেই একবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব আপনাকে।’ মুনাইয়ের কথায় নীলাম্বর হালকা হেসে বলল, এই বা ডাক্তারের চেয়ে কম কী হল? কিচ্ছু ডাক্তার দেখাবার দরকার নেই।’ কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে মায়ের কাঁধে মাথা এলিয়ে দিয়েছে সোনাই। মৃন্ময়ী ছেলেকে দোলাতে দোলাতেই বলল, ‘না না নীলাম্বরবাবু, অনেক বড়ো একটা বিপদ হত আজ। আপনার কিছু হলে নিজেদের ক্ষমা করতে পারতাম না। আপনাকে কাল যেতেই হবে ডাক্তারের কাছে।
— আমার চেয়ে শতগুণ বিপদ আজ তোমার আর সোনাইয়ের হচ্ছিল মৃন্ময়ী। ঠিক সময় আমার জ্ঞান না ফিরলে কী যে হত!
নীলাম্বরের কথার রেশ ধরেই মুনাই বলল, ‘তুমি হঠাৎ ছাদের দিকে উঠে গেলে কেন বউদি? নীলাম্বরবাবু তো আমাদের সামনেই ছিলেন।’ তখনকার কিছু দৃশ্য মনের মধ্যে ঝলসে ওঠে মৃন্ময়ীর। নিজের মধ্যে ডুবে গিয়ে বলে, ‘আমি তো নীলাম্বরবাবুর দিকেই এগোচ্ছিলাম। কিন্তু দেখলাম, যত এগোচ্ছি উনি তত পিছিয়ে যাচ্ছেন। আমি কিছুতেই ওঁর কাছে পৌঁছোতে পারছি না।’ মৃন্ময়ীর কথা শুনে মুনাই থ, ‘সেকি আমি তো দেখলাম তুমি সিঁড়ি বেয়ে আপন মনে ছাদে যাচ্ছ।’
— ওটা ওই প্রেতের মায়া। মায়ায় বিভ্রান্ত করেছিল তোমায়।
নীলাম্বর বললেন। ‘প্রথমে ও আমার ওপর শক্তি ও মায়া দুটোই প্রয়োগ করেছিল। তাই আমি সেই জাল ছিঁড়ে বেরোতে পারিনি। কিন্তু তোমরা এসে পড়াতে ওর মায়াশক্তি মৃন্ময়ীর দিকে চলে যায়। ওকে ছাদে নিয়ে যেতেই আমার জ্ঞান ফেরে। দেখি মুনাই চিৎকার করছে। প্রতিশোধের নেশায় ওই আত্মা প্রতিদিন শক্তি সঞ্চয় করে হিংস্র হয়ে উঠছে। আসলে ও প্রতিবারই ফেল করছে। প্রতিশোধের পথে এগিয়েও সেটা সম্পূর্ণ করতে পারছে না। আজও ও পারল না। তোমাদের বিপদ আরও বাড়ল।
— এবার কী হবে নীলাম্বরবাবু। এই বাড়িতে থাকব কী করে?
প্রশ্নটা করতেই চোখ দিয়ে দু-ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল মুনাইয়ের। নীলাম্বরও খানিক চুপ করে গেলেন। মৃন্ময়ী ঘুমন্ত সোনাইকে বিছানায় শুইয়ে দিল। নীলাম্বর বললেন, ‘এক কাজ করো তোমরা।’ হয়তো কোনো আশার আলো খুঁজে পাবে এই মনে করে মৃন্ময়ী আর মুনাই অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে নীলাম্বরের কথা শোনার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে তাকাল। নীলাম্বর বললেন, ‘কাল সকালে এই বাড়ি ছেড়ে তোমরা অন্য কোথাও চলে যাও। আর যদি আমায় বিশ্বাস করো তাহলে এই বাড়ির একটা ডুপ্লিকেট চাবি আমায় দাও।’ মৃন্ময়ী বলল, ‘ঠিক বুঝলাম না। মানে আপনাকে অবিশ্বাসের কোনো কারণ নেই। কিন্তু আমি জানতে চাইছিলাম ঠিক কী করবেন আপনি?’
— সবার আগে ওই আত্মাকে এই বাড়ি থেকে তাড়াতে হবে এবং এমন একটা ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ওই আত্মা কস্মিনকালেও এই বাড়ির ত্রিসীমানায় প্রবেশ করতে না পারে।
— তার জন্য আমাদের কেন এই বাড়ি থেকে যেতে হবে?
মৃন্ময়ী জিজ্ঞেস করল। নীলাম্বর বললেন, ‘কারণ আমি চাই ওই অশরীরীর সঙ্গে সরাসরি লড়াই করতে আর সেখানে তোমরা উপস্থিত থাকলে চরম বিপদ হতে পারে।’ মুনাই অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, ‘লড়াইটা কীরকম নীলাম্বরবাবু? মানে আপনি একা…!’
নীলাম্বর চুপ করে থাকেন। মুখ নীচু করে বলেন, ‘এই লড়াইটা আমার। আমার একার। তোমরা বুঝবে না।’ মৃন্ময়ী আর মুনাই দুজনেই আকাশ থেকে পড়ে। চোখের সামনে যেন হাজার বছর ধরে জমে থাকা বিস্ময়গুলো একটার ঘাড়ে আর-একটা চেপে প্রকাণ্ড পাহাড় তৈরি করে চলেছে। মৃন্ময়ী বলল, ‘বাইরে থাকলেও তো আমাদের বিপদ হতে পারে নীলাম্বরবাবু।’
— হবে না। সে ব্যবস্থা আমি কাল ঊষাকালেই করব। তোমরা শুধু যা গোছাবার গুছিয়ে নাও। কাল ঊষাকালেই তোমাদের এ বাড়ি ছাড়তে হবে। আমি না বললে এ বাড়ির ত্রিসীমানায় কেউ আসবে না।
.
ভোরের আলো ফোটেনি তখনও। বাকি রাতটুকু সকলের ভয়ে কাটলেও উপদ্রব আর কিছু হয়নি। প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দুটো ব্যাগে গুছিয়ে নিয়েছে। মুনাইয়ের পায়ের কাছে রাখা। ঘুমন্ত সোনাইকে কোলে নিয়ে মুনাই দাঁড়িয়ে আছে। থেকে থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে আশপাশটা দেখে নিচ্ছে। মৃন্ময়ী বারান্দার গেটে একটা বড়ো তালা ঝোলায়। চাবিটা নীলাম্বরকে দিতে গেলে তিনি ইশারায় তাঁর জামার বুক পকেটে রাখতে বলেন। মৃন্ময়ী সেটাই করে। নীলাম্বর অনেকক্ষণ থেকেই মুখে বিড়বিড় করে চলেছেন। এবার একটা লাল সুতো গেটে ঝোলানো তালাটার গায়ে ভালো করে পেঁচিয়ে দেন। অস্ফুটে কোনো একটা মন্ত্র উচ্চারণ করে চলেছেন। মৃন্ময়ী বা মুনাই দুজনেই তার ভাষা উদ্ধারে অক্ষম। লাল সুতোটা ভালো করে পেঁচিয়ে তালাতে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন নীলাম্বর। এরপর কাঁধের ঝোলা থেকে একটা নীল সুতোর বিশাল কুণ্ডলী বের করেন। বলেন, ‘তোমরা এখানেই দাঁড়াও। আমি এই সুতো দিয়ে পুরো বাড়িটাকে বেঁধে দেব। যাতে শত চেষ্টাতেও সে এই বাড়ি না ছাড়তে পারে। সুতোর মুখটা ওই তালাটার সঙ্গে বেঁধে দেন। তারপর বাড়িটার গা ঘেঁষে এগোতে থাকেন। মুখে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র। দু-হাতের মাঝে সুতোর কুণ্ডলী থেকে বেরিয়ে আসছে লম্বা নীল সুতো। মাঝে মাঝে তাতেও গিঁট দেওয়া। নীলাম্বর পুরো বাড়িটাকে বেড় দিয়ে উলটোদিক দিয়ে আবার ঘুরে গেটের কাছে এসে থামেন। বড়ো তালাটার গায়ে তিনপাক সুতো পেঁচিয়ে ভালো করে গিঁট মেরে দেন। তারপর বাকি সুতোটা ছিঁড়ে কাঁধের ঝোলা ব্যাগে রেখে দেন। মুনাই, মৃন্ময়ী আর নীলাম্বর এগিয়ে চলে সামনের দিকে। পেছনে পড়ে থাকে অভিশপ্ত বাড়ি।
দুম দুম দুম! দুম দুম দুম!
পিলে চমকানো ধাক্কা বাড়ির প্রবেশ দরজায়। তিনজনেই ভয় পেয়ে চমকে ওঠে, পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে পড়ে। নীলাম্বর বলেন, ‘থামলে হবে না। সামনে তাকিয়ে এগিয়ে চলো।’ ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত বাড়িটাকে একবার দেখে নেয় মৃন্ময়ী। মিহির সেই যে এই বাড়ি ছাড়া হল তারপর এখনও পর্যন্ত ফিরল না। এবার মৃন্ময়ীও তার ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। ওরা কী আর কোনোদিন ফিরতে পারবে এই বাড়িটাতে?
.
মৃন্ময়ীর চোখদুটো ঝাপসা হয়ে গেল।
