Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়

    অভিষেক চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প526 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ২৮

    আটাশ

    — মহিলার মধ্যে একটা আলাদা ব্যাপার আছে কিন্তু। কে বলবে এত বয়স!

    বালিগঞ্জ থানার ওসি অবনীশের মুখ থেকে কথাটা বেরিয়েই এল। পাশে দাঁড়িয়ে সায়ন কিন্তু এখনও চুপ। বেশ খানিকক্ষণ ধরে সিঁড়ির চাতালে টাঙানো আত্রেয়ীর বিশাল ছবিটা এক দৃষ্টে দেখে চলেছে সায়ন। অবনীশ বেশ অবাক হয়েই বলল, ‘কী দেখছেন বলুন তো সায়নবাবু? কোনো ক্লু পেলেন নাকি?’ এরপরেও সায়ন অবনীশের দিকে তাকাল না। আত্রেয়ীর ছবিটার দিকে তাকিয়েই বলল, ‘আচ্ছা অবনীশবাবু, আপনার কী মনে হয়, এই ছবিটা ঠিক কত ফুট উঁচু?’ দুম করে এমন একটা প্রশ্নের তল খুঁজে না পেয়ে একটু ভেবে অবনীশ বলল, ‘তা ধরুন ফুট বিশেক তো হবেই।’ তক্ষুনি সায়ন আবার পালটা প্রশ্ন করে, ‘আর একটা সাধারণ মানুষ খুব বেশি হলেও কত লম্বা হতে পারে?’

    — ম্যাক্সিমাম সাড়ে ছয় ফুট থেকে সাত ফুট।

    ‘ভেবে দেখুন’ বলে অবনীশের দিকে তাকিয়ে বাকি সন্দেহটা উগরে দিল সায়ন, ‘একজন ছয়-সাত ফুট মানুষ একটা বিশ ফুট উঁচু ছবির এক কোণ থেকে আর-এক কোণ পর্যন্ত লাল মার্কার দিয়ে লম্বা করে দাগ টানল। এবং সেটা ছবির দু-দিক দিয়েই। কীভাবে সম্ভব বলুন তো?’ সায়নের কথা শুনে অবনীশ বেশ অবাক। আত্রেয়ীর বিশাল ছবিটার দিকে আরও একবার ভালো করে চেয়ে দেখল অবনীশ। মই ব্যবহার করতে পারে?’

    — বেশ, ধরে নিলাম ম‍ই ব্যবহার করেছে। তবু প্রশ্ন হল, মইটা কত বড়ো? আর যদি মই হয়ও তাহলে মানুষের হাত ওপর থেকে খানিকটা নীচ পর্যন্ত নেমে থেমে যাবে। কারণ মইয়ের ওপরে দাঁড়িয়ে নীচ পর্যন্ত তাঁর হাত পৌঁছোবে না। মাঝ সিঁড়িতে নেমে যদি লাইন টানেও তাহলে সেই লাইন সোজা হওয়া উচিত। কখনোই কোনাকোনি যাবে না। অতএব সে মইয়ের ওপরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে লাইন টানা শুরু করল এবং মাঝপথে থেমে গেল। এরপর সে নেমে এল। এসে আবার সেই থেমে যাওয়া অংশ থেকে লাল দাগ কাটা শুরু করে নীচের দিকে এল। সেক্ষেত্রে দুটো লাইনে জয়েন্টের চিহ্ন থাকবে। আপনি ভালো করে লক্ষ করুন অবনীশবাবু, এই লাইনগুলো একবারে টানা হয়েছে। কোথাও কোনো জয়েন্টের চিহ্ন নেই। কী এমন হল যে আত্রেয়ীর ছবিতে এইভাবে ক্রস চিহ্ন এঁকে দিল। তার মানে ধরে নিতে হবে যে, যার আত্রেয়ীর ওপর প্রচণ্ড রাগ সে-ই এ কাজ করেছে। কিন্তু সে কে? সে কী কোনো সাধারণ মানুষ? যদি তা-ই হয় তাহলে এমন অসম্ভব একটা কাজ সামান্য মার্কার পেন দিয়ে কী করে করল? এটা তো নিশ্চিত যে, এই কম্মো আত্রেয়ী থাকাকালীন হয়নি। আত্রেয়ী শুটিঙে বেরিয়ে যাবার পর হয়েছে। আত্রেয়ী না-থাকাকালীন তন্ময়বাবু আর দাদাভাই মানে মিহির সরখেল এই বাড়িতে এসেছে। আমরা দুজনেই তাদের চাক্ষুষ দেখেছি। তাদের কত হাইট সেটাও দেখেছি। তাই কোনোভাবেই তাদের দুজনের পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। তাই না? বাকি রইল ধানুয়া। যার কাছে এই বাড়ির ভেতরে ঢোকার চাবি নেই। সেটা আপনাদের কাছে গচ্ছিত। আর তার হাইটও খুব বেশি হলে পাঁচ ফুট দুই কী তিন। অতএব এরা কেউ না।

    এক দমে কথাগুলো সাজিয়ে বলে গেল সায়ন। এবার সায়নের কথার ওপর দিয়ে অবনীশ বলে উঠল, ‘তার মানে আরও অন্য কোনো ব্যক্তি আছে যার কাছে এই বাড়ির চাবি আছে?’

    — অথবা নেই।

    সায়ন বলল অবনীশের চোখে চোখ রেখে।

    — মানে? তাহলে এ কাজ কে করল?

    সায়ন গম্ভীর হয়ে বলল, ‘আপনি একটা শব্দ স্কিপ করে যাচ্ছেন অবনীশবাবু।’ অবনীশ ভ্রূ কুঁচকে তাকাল। সায়ন বলল, ‘তাহলে এই অসম্ভব কাজ কে করল! এইখানে ‘অসম্ভব’ শব্দটা ভীষণ জরুরি। একটা নয়। পরের পর এমন বেশ কিছু অসম্ভব ঘটনা আমাদের চারপাশে ঘটেছে খেয়াল করুন। শুটিঙের নিতান্ত নিরীহ ক্যাটারারের লোক বৃষভানু নৃশংসভাবে খুন হল। তার গলাটা কেউ হাতের চাপে হাড়-মাংস মিশিয়ে চিপে সরু করে দিয়ে গেছিল। মুণ্ডুটা শুধু ছিঁড়ে যায়নি এই যা। সেটা দেখল খাবার দোকানের তেঁতুল ওরফে পিন্টু ঘোষ। তার বয়ান অনুযায়ী লোকটার চোখদুটো ধবধবে সাদা। কোনো মানুষের চোখ এমন হয় না যদি না সে লেন্স পরে থাকে। যদিও সে লেন্সের ট্রেস আজ অবধি কেউ পাইনি। তারপর আপনার এলাকায় একটা রাস্তার কুকুরের ধড়-মুণ্ডু কেউ ছিঁড়ে আলাদা করে দিয়ে গেল উইদাউট এনি মোটিভ। এরপর খাবারের দোকানের তেঁতুল হাইটেনশনের তার ছিঁড়ে তাতে পেঁচিয়ে মরে গেল। জনমানবহীন রাতের রাস্তায় আমার গাড়ির ড্রাইভার আবদুলের মুণ্ডুটা জাস্ট ঘুরে পিঠের দিকে হয়ে গেল। সিসিটিভির ফুটেজ ওই সময়টুকু রেকর্ড করতে ব্যর্থ হল। পরে কাউকে দেখা গেল না শুধু আমার ছোটাছুটি আর আবদুলের লাশ ছাড়া। মিহির সরখেল দাগি পালোয়ান আসামির মতো লোহার গরাদ বেঁকিয়ে সবার চোখের আড়াল দিয়ে বেরিয়ে এল এবং ভীষণ কম সময়ে বোলপুর থেকে কলকাতায় চলে এল।’

    — দাঁড়ান দাঁড়ান। এ তো ঘেঁটে ঘুগনি হয়ে যাবার দশা।

    — শুধু এটাই নয় অবনীশবাবু। কাল নিজেদের বাড়িতে মিহির সরখেলের স্ত্রী আর সন্তান প্রায় পুড়ে মড়ার হাত থেকে বেঁচেছে।

    — কী বলছেন? কী করে?

    — রাতে বউদিকে ছাদের কার্নিশের ওপর থেকে টেনে নামানো হয়। ও তিন বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে নাকি দাঁড়িয়েছিল।

    — আমি না কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।

    .

    সায়ন আজ ভোরেই নীলাম্বর, মৃন্ময়ী আর মুনাইয়ের কাছ থেকে সব শুনেছে। তখন কাকও ডাকেনি ওরা তিনজন এসে হাজির। সায়ন তো বেশ টেনশনে পড়ে গিয়েছিল। তখনই সবটুকু শোনে, জানে। সেই সম্পূর্ণ ঘটনাটাই অবনীশকে জানায় সায়ন। অবনীশ থম মেরে সিঁড়ির রেলিঙে শরীরটাকে ঠেসিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। খানিক ভেবে সায়নের দিকে বিস্ময়ভরা চোখ তুলে অবনীশ বলে, ‘আত্রেয়ী সেনের হত্যা রহস্য কি তবে অলৌকিক?’

    — তার সম্ভাবনা শতকরা পঁচানব্বই ভাগ। কিন্তু তা-ও প্রশ্ন থেকে যায়, সে কে?

    — কিন্তু আইন তো এসব মানে না সায়নবাবু।

    অফিসিয়ালি না মানলেও আনঅফিসিয়ালি মানতে বাধ্য। অন্তত ‘তেরো নম্বর ফ্লোর’-এর কেসটায় আমার সেই অভিজ্ঞতাই হয়েছে। আমিও কিছু মানতাম না অবনীশবাবু। কিন্তু আমি নিজে চোখের সামনে তিলোত্তমার আত্মাকে দেখেছি। তার অলৌকিক ভয়ানক কাণ্ড চাক্ষুষ করেছি এবং ওই আত্মার দেওয়া ক্লু ধরেই শয়তান বরেন রায়কে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। যে আজও জেল খাটছে। তখনও এই নীলাম্বর ব্যানার্জি তার তন্ত্র-মন্ত্রের দ্বারা অসম্ভব কাজ সম্ভব করেছিলেন।

    অবনীশ প্রশ্ন করে, ‘নীলাম্বর কি তান্ত্রিক?’

    — বেসিক্যালি প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটি নিয়ে কাজ করেন। তন্ত্রও জানেন। ওঁর বাবা কিংবা দাদু অঘোরী সাধক ছিলেন।

    অবনীশ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সায়নকে জিজ্ঞেস করে, ‘আচ্ছা সায়নবাবু, আত্রেয়ী সেনের হাজব্যান্ড কোথায়? জানেন কিছু?’

    সায়ন উত্তর দেবার আগেই সিঁড়ির দিকে চোখ পড়ল। নীচ থেকে উঠে আসছে দুজন কনস্টেবল। ‘কী ব্যাপার কিছু পেলে?’ সায়ন প্রশ্ন করল। একজন এগিয়ে এসে বলল, ‘তেমন কিছু না স্যার। শুধু খাটের নীচে এটা পেয়েছি।’ সায়নের দিকে হাতের তালু বাড়িয়ে দিল কনস্টেবল। গ্লাভস পরা হাতের তালুর ওপর একটা সাদা রঙের ট্যাবলেট। সায়ন আর অবনীশ দুজনেই দ্যাখে। কিন্তু বোঝা যায় না এটা ঠিক কীসের ওষুধ। অবনীশ জিজ্ঞেস করে এর সঙ্গে কোনো ওষুধের পাতা পাওয়া গেছে কি না। কনস্টেবল জানাল যে, তারা ওষুধের কোনো পাতা পায়নি। ‘এখুনি ল্যাবে পাঠাবার ব্যবস্থা করো।

    — ওকে স্যার।

    — শোনো।

    কনস্টেবল দুজন যেতে গিয়েও ফিরে তাকাল। সায়ন বলল, ‘এটা কোন ঘর থেকে পেয়েছ?’ একজন আঙুল নির্দেশ করে একতলার সিঁড়ির পাশের একটা ঘরের দিকে দেখিয়ে চলে গেল। পকেট থেকে মোবাইল বের করল সায়ন।

    — হ্যালো ধানুয়া। আমি সায়ন বলছি… বলছি তোমার ম্যাডামের বাড়িতে একতলায় সিঁড়ির ডানদিকের যে ঘর ওটাতে কে থাকত? কে? তুমি ঠিক জানো? ঠিক আছে।

    ফোনটা কেটে দেয়। সায়নের ভ্রূ কুঁচকে যায়। অবনীশ জিজ্ঞেস করে কে থাকত ওই ঘরে? সায়ন বলে, ‘বন্দনা। আত্রেয়ী সেনের পিএ।

    — আপনি তাকে জেরা করেছেন না?

    — হুম।

    সায়ন ভ্রূ কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বলল, ‘চলুন ওপরটা একটু ভালো করে দেখি।’

    .

    ঝামেলাটা বেশ জোরদার লেগেছে। অনেকটা দূর থেকে একদল লোকের হম্বিতম্বি শোনা যাচ্ছে। দু-একটা মহিলার গলাও তীক্ষ্ণ স্বরে আপার অক্টেভে সুর ধরেছে। মর্গের কাছাকাছি এসে একটু থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন নীলাম্বর। এগোনোটা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছেন না। মর্গের প্রবেশদ্বার আটকে একদল লোক প্রচণ্ড বচসা জুড়েছে। তার তীব্রতা এতটাই যে হাতাহাতি হলেও হতে পারে। ছেঁড়া-ছেঁড়া যেটুকু কথা উড়ে ভেসে নীলাম্বরের কানে এসে পৌঁছোচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে লাশকাটার টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে কোনো ঝামেলা। নাহ্! কাছে না গিয়ে একবার ফোনটা করেই দেখি, এই ভেবে পকেট থেকে মোবাইল বের করে একটা নম্বর ডায়াল করলেন। ‘হ্যালো আমি নীলাম্বর বলছি… অ্যাঁ কী?।’ ফোনের মধ্যে থেকেও চ্যাঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসছে। আবার এদিকে বাইরে থেকেও হইচই। অগত্যা ডান কানে মোবাইল ধরে বাঁ-কানটা আঙুল দিয়ে চেপে ধরে ওপারের গলাটা ভালো করে শোনার চেষ্টা করলেন নীলাম্বর।

    — ও, ওকে। আচ্ছা। কোনদিক দিয়ে?

    কথাটা বলে মুখ তুলে এদিক-ওদিক দেখতে দেখতে খানিকটা সামনের দিকে হেঁটে গেলেন। তারপর কান থেকে ফোন নামিয়ে ঝামেলা অধিকৃত অঞ্চলটা এড়িয়ে মর্গের পেছনের দিকটায় গেলেন। সেদিকে একটা বন্ধ বড়ো দরজার গায়ে ছোট্ট পাল্লাটা খোলা ছিল। সেখান দিয়ে মাথা গলিয়ে মর্গের চৌহদ্দিতে ঢুকে পড়লেন। দু-একটা মর্গের লোক এদিক-ওদিক থেকে ব্যস্তসমস্ত হয়ে ছোটাছুটি করছে। পাঁচিলের এক কোণে গিয়ে চুপ করে দাঁড়ালেন। এর মধ্যেই স্ট্রেচারে করে দুটো লাশ আপাদমস্তক প্যাকেটে মুড়ে উলটোদিকের দরজা দিয়ে ঢুকে পেছন দিয়ে ভেতরে চলে গেল। আশপাশটা যখন জনশূন্য তখন দূর থেকে একটি লোক নীলাম্বরের দিকে একটু দ্রুত পায়েই এগিয়ে আসছে। রোগা, কালো। পরনে ময়লা শার্ট, নীল ডোরাকাটা ট্রাউজার। ফুক ফুক করে বিড়ি ফুঁকছে। নীলাম্বরের সামনে আসার আগে বিড়িটা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে ঘষে দিল। নীলাম্বর কয়েক পা এগিয়ে গেল লোকটির দিকে। লোকটা রোগা-পাতলা হলেও গাল দুটো ভরাট। চুলে অল্প অল্প পাক ধরেছে। গাল ভরতি খোঁচা খোঁচা দাড়ি। ‘ঝামেলাটা কীসের?’ লোকটা সামনে এসে দাঁড়াতেই নীলাম্বর জিজ্ঞেস করলেন। বাঁ-হাতে ঘাড় চুলকে নিয়ে লোকটি বলল, ‘ও শালা হারামি পার্টি। লাশ কাটিয়ে বলে পয়সা দেব না। বলে আমরা তো বলেছিলাম এসব কাটাকাটির দরকার নেই। বিষ খেয়ে মরেছে সবাই জানে। পুলিশই তো বলল পোস্টমর্টেম করতে হবে। এবার তাহলে পুলিশই পয়সা দিক। বুঝুন ঠ্যালা! এসব নিয়েই বাওয়াল। বাদ দিন, আপনি বলুন, এবার কী চাই? পায়ের হাড় নাকি হাতের? তবে ঝামেলা একটা আছে স্যার আগেভাগে বলে রাখি। এই মুহূর্তে বেওয়ারিশ লাশ কিন্তু শর্ট আছে। একটু চেক কত্তে হবে। তা আপনার পুজো কবে? মানে লাগবে কবে?’ একটানে কথাগুলো বলে লোকটার দমে ঘাটতি হল কিনা জানা নেই। তবে নীলাম্বর বাঁড়ুজ্যে একবার লম্বা শ্বাস নিয়ে খানিক চুপ থাকলেন। তারপর গলা নামিয়ে বললেন, ‘এবারে আমার কোনো হাড়ের প্রয়োজন নেই বাবলু।’ বাবলু অবাক, ‘তবে? গোটা লাশটাই লাগবে নাকি?’ চোখগুলো ড্যালা পাকিয়ে প্রশ্ন করে নীলাম্বরকে। উত্তরে নীরবে দু-পাশে ঘাড় নাড়লেন তিনি। বললেন, ‘অপঘাতে মৃত্যু হওয়া কোনো চণ্ডালের হার্ট চাই। তা-ও সেটা পুরোনো হলে হবে না। এক পক্ষকালের টাটকা হতে হবে।’ কথাটা শুনে বাবলুর নাড়ি বোধহয় কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। এক্কেবারে পাথর মূর্তির মতো নীলাম্বরের দিকে তাকিয়ে ছিল সে। না, জিনিসটা সে কীভাবে জোগাড় করবে সেই চিন্তার থেকেও তাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল নীলাম্বর যে ভাষায় কথাগুলো বলল সেই ভাষাটা। গলাটাকে হেঁড়ে করে বাবলু মাথার ওপর নিজের ডানহাতটা নেড়ে বলে উঠল, ‘মাথার বিশ হাত ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেল সব। চণ্ডাল, কীসব আঘাত, পক্ষকাল এসব কী স্যার?’ নীলাম্বর বাবলুর এক্কেবারে কাছে মুখ এনে বলল, ‘শোন, চণ্ডাল মানে চাঁড়াল, মানে ডোম বলতে পারিস। যারা মৃতদেহ পোড়ায়। পক্ষকাল মানে পনেরো দিন আর অপঘাত মানে যাঁদের মৃত্যু স্বাভাবিক হয়নি। মানে কোনো না কোনোভাবে আত্মহত্যা করেছে বা কোনো অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে। আবার পুরোটা বলছি ভালো করে বোঝ…।’ নীলাম্বরকে থামিয়ে বাবলু দু-হাত মাথার দু-পাশে তুলে বলে উঠল ‘বুজে গেচি বুজে গেচি।

    — কী বুঝেছিস বল তো?

    বাবলু বলল, ‘এমন কোনো ডোমের ডেড বডি থেকে হার্ট বের করতে হবে যে শেষ পনেরো দিনের মধ্যে মরেছে। আর সে হয় আত্মহত্যা করেছে নয় তো অ্যাক্সিডেন্টে টপকেচে। কী ঠিক আছে তো?’ নীলাম্বরের মুখে ঔৎসুক্য, চাপা টেনশনও আছে। ঝট করে বলে উঠল, ‘পারবি তো?’ এইবার বাবলু ঠোঁট ওলটাল। ‘এমন মরা কোথায় পাব স্যার? তবু একবার রেজিস্টার দেখে আসছি।’ বলেই থমকাল। কী যেন ভাবল। তারপর বলল, ‘কিন্তু ডোম কিনা বুঝব কীভাবে? কোনো বিশেষ টাইটেল আছে?’ নীলাম্বর এবার বেশ অসুবিধেতেই পড়ল। আজকাল পদবি দেখে কার কোন পেশা বা সে কোন জাতের কিছুই বোঝার উপায় নেই। তাই মুখ ভার করেই তিনি বাবলুর প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ বললেন। তবে নীলাম্বর দমবার পাত্র নন। বাবলুকে জোর দিয়ে বলে ওঠেন, ‘আমি কিছু জানি না বাবলু, তোকে এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জোগাড় করে দিতেই হবে। নইলে একসঙ্গে অনেক প্রাণ শেষ হয়ে যাবে।’

    — কিন্তু স্যার, এটা তো অসম্ভব কাজ। আমি কীভাবে ..

    — তোদের সঙ্গে তো অনেক মর্গেরই জানাশোনা আছে। তোদের এখানে না হয় তো অন্য কোথাও দেখ না। তোদের এখানেও তো অনেক ডোমের যাতায়াত।

    — দেখুন, একে তো এটা হেব্বি রিস্কি কাজ। ধরা পড়লে চোদ্দোগুষ্টি উদ্ধার হয়ে যাবে। তারপর ডোমেদের সঙ্গে আলাপ থাকলেই তো হবে না। তাদের ওইভাবে মরতে তো হবে। আমি কী করে…

    কথাটা বলতে বলতে নিজেই থেমে গেল বাবলু। একটু দূরে চোখ গেল। বাবলুর চোখ লক্ষ করে নীলাম্বরও উলটোদিকে ঘুরে তাকালেন। দেখলেন একটি লোক এদিকেই আসছে। ছোটখাটো রোগা চেহারা। মাথায় কাঁচা চুলের সঙ্গে মিশে থাকা পাকা চুলগুলো দূর থেকেই বেশ ভালো বোঝা যাচ্ছে। লোকটা একটু কুঁজো হয়ে হাঁটে। নিজের মনে বিড়বিড় করতে করতে এগিয়ে আসছে। ঢোলা প্যান্ট আর গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি। ক-জন্ম যে সে গেঞ্জি কাচা হয় না কে জানে! লোকটার মুখের ভাবভঙ্গি

    দেখে মনে হচ্ছে সে কারও ওপর রাগ ঝাড়বে বা ঝাড়তে না পেরে গজরে চলেছে। বাবলু গলা তুলল, ‘এই পরানদা।’ লোকটির ভ্রূক্ষেপ নেই। আবার ডাকল বাবলু। এবার পরান থমকাল। ‘এদিকে একটু এসো।’ পরান প্রায় দাঁত খিঁচিয়েই জবাব দিল দূরে দাঁড়িয়ে, ‘কেন আমায় কোন কাজে লাগবে তোর?’

    — আরে এসো না। খুব দরকার।

    জোর করে ডাকাতে পরানের মুখটা ভেঙেচুরে চূড়ান্ত বিরক্তিকর হয়ে উঠল। কী হয়েছে? তাড়াতাড়ি বল।’ বাবলু বলল, ‘শোন না, চুপিচুপি একটা কাজ করতে হবে। পয়সা পাবি।’ হলদেটে চোখ তুলে কামড়ে দেবার ভঙ্গিমাতে চেয়ে ছিল পরান। পয়সার নাম শুনে মুখের ভাবে খানিক পরিবর্তন এল যেন। ‘কী কাজ?’

    — তার আগে বল, কারে গাল পাড়তে পাড়তে আসছিলি? নিশ্চয়ই তোর ভাইরে?

    — তোর বাপে রে। কী বলবি বল।

    বাবলু ফিক করে হেসে নীলাম্বরকে বলল, ‘ওর ছোটো ভাইয়ের সঙ্গে হেব্বি বাওয়াল চলছে পরানদার। সম্পত্তি নিয়ে। যাক গে, পরানদা শোন…’ বলে পরানকে সবটা খুলে বলল বাবলু। শুনে তো পরানের চক্ষু চড়কগাছে। এবড়ো-খেবড়ো উঁচু দাঁতগুলো বের করে খেঁকিয়ে উঠল, ‘শালা ঢ্যামনা। এই বয়সে আমারে হাজত বাস করাতে চাস? তোর জন্য এই বয়সে জেলের ভাত খাব নাকি রে?’ বাবলু হাত-পা নেড়ে জবাব দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু নীলাম্বর তাকে থামিয়ে নিজেই বলে উঠলেন, ‘দেখুন দাদা, আমি পুজো-টুজো করি। ওই তান্ত্রিকরা যেমন করে। তাই আমার এই জিনিসটার ভীষণ দরকার। কোনো খারাপ কাজে নয়, আপনি যদি এই জিনিসটা আমায় দেন তাহলে অনেক মানুষের জীবন বাঁচবে। মা মহামায়ার নামে শপথ করে বলছি।’ কথাগুলো শুনে পরানের প্রাণে কিছু বোধহয় হল। মুখের ভাবটা কঠোর থেকে নরমের দিকে। তবে সে ঠিক নিশ্চিত হতে পারছে না। একবার বাবলুর দিকে, একবার নীলাম্বরের দিকে, বারকয়েক তার চোখদুটো এ মুখ থেকে ও মুখে ছোটাছুটি করল। নীলাম্বর ব্যাপারটা বুঝে আবার বললেন, ‘পরানবাবু, একটা জিনিস ভাবুন। আমরা কিন্তু কাউকে মারছি না। বরং যার জীবনটা শেষ হয়ে গেছে তার শরীরের মধ্যে থেকে বাতিল হয়ে যাওয়া একটা জিনিস বের করে এমন কিছু করছি যাতে অনেক মানুষের জীবন বাঁচে। এতে পাপ নয়, বরং পুণ্য আছে। আর কেউ ঘুণাক্ষরে জানতেও পারবে না। তা ছাড়া আপনি তো বিনা পয়সায় করছেন না।’ দু-হাত দিয়ে মাথার চুলগুলোকে খসখস করে ঘষে এলোমেলো করে ভাবল পরান। বাবলু বলল, তুই আর তোর ভাই সবাই তো ডোমের কাজ করিস। জাতটাও মিলে যাচ্ছে। দেখ না একটু। তোদের তো অনেক কন্ট্যাক্ট। পারলে তোরাই পারবি পরানদা। ফস করে পরান বলে উঠল, ‘বিশ হাজার লাগবে।’ বাবলু আর নীলাম্বর প্রায় চমকে গেল। নীলাম্বরের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে অবাক হয়ে বাবলু বলল, ‘এই পরানদা, কী বলছিস রে? এরকম করিস না। পয়সা তুই পাবি। তা বলে বিশ হাজার? হাজার দশেক। বাবলুর মুখের কথাটা ফুরোতে দিল না পরান। গলা চেপে বলে উঠল, বিশের এক পয়সাও কম হবে না। লাগলে নাও নইলে যাও।’ বলেই সেই স্থান ত্যাগ করে চলে যেতে যায়। নীলাম্বর বলে ওঠেন, ‘পাবেন।’ পরান থমকে দাঁড়ায়। বিশ হাজারই আমি দেব আপনাকে। কিন্তু আমার ঠিক জিনিসটা চাই।’ পরান ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে, ‘ঠিক জিনিসটাই পাবেন। একজন পাক্কা ডোমের হার্ট আপনি পাবেন। তবে টাকাটা জিনিস পাওয়ার আগেই চাই।’ বাবলু এবার তড়পে ওঠে, ‘এবার বড্ড বাড়াবাড়ি কচ্চিস পরানদা।’

    — আমি কি তোদের সাধ করে হার্ট দেব বলেছি? তোরাই ডেকে চেয়েছিস। না লাগলে নিস না। একটা কথা খুপরিতে ঢুকিয়ে নে, এই পরান দাস মিথ্যে কথা বলে না। বেইমানিও করে না।

    — কবে দিতে পারবেন?

    নীলাম্বরের পালটা প্রশ্নে একটু চুপ করে থাকে পরান। তারপর বলে, ‘টাকাটা যদি আজ পাই তাহলে আগামী দু-দিনের মধ্যে আপনি মালটা হাতে পেয়ে যাবেন। তবে দেরি করলে হাতছাড়া হয়ে যাবে। আমার কিচ্ছু করার থাকবে না।’

    — বেশ। আমি খানিকক্ষণের মধ্যেই এটিএম থেকে টাকা তুলে আপনাকে এইখানে দিয়ে যাচ্ছি। জিনিসটা আমার দু-দিনের মধ্যেই চাই।

    — রেডি আছে। পেয়ে যাবেন।

    বাবলুর চোখের সামনে কড়কড়ে এতগুলো টাকার রফা হওয়াতে তার বেশ আপশোশই হচ্ছে। নীলাম্বর তখনই টাকা তুলে এনে আধঘণ্টার মধ্যে পরানের হাতে তুলে দেন। পরান দু-হাত পেতে টাকাগুলো নিয়ে বুকের কাছে জাপটে নেয়। যাবার আগে হলদেটে চোখগুলো তুলে নীলাম্বরকে বলে, ঠিক সময়ে খবর চলে যাবে। সেই মতো চলে আসবেন।’ কোনো লিখিত প্রমাণ ছাড়াই বিশ হাজার টাকা নীলাম্বর তুলে দিলেন পরানের হাতে। লোকটি যদি অস্বীকার করে! আসল জিনিসটাই না দেয়। এটা এমন একটা জিনিস যে কাউকে নালিশও করতে পারবেন না। ঈশ্বরের ওপর সবটুকুর ভার সঁপে দিয়ে নীলাম্বর নিজের বাড়ি ফিরে এলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৭৪ – ডার্টি গেম
    Next Article নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }