Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়

    অভিষেক চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প526 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ৪১

    একচল্লিশ

    একেই বর্ষাকাল। তার ওপর আবার নিম্নচাপ। চার-পাঁচ দিনের আগে এই বেয়াড়া বৃষ্টি ধরবে না। বাজ পড়ছে ঘন ঘন। সেই বাদলের ছোঁয়া লেগেছে দত্তবাড়ির ঘরের ভেতর। অসুস্থ মা-কে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে বন্দনা। ‘এসব তুমি কী বলছ মা? এ হতে পারে না। কিছুতেই হতে পারে না।’ বুকের ওপর পড়ে কাঁদতে থাকা মেয়ের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে সুরভি বলে, ‘যা সত্যি তা চেপে রাখা যায় না রে। আমি তোকে তো এসব বলতে চাইনি। তুই আমার মেয়ে। শুধু আমার। শুধু তোকে জড়িয়েই বাঁচব ভেবেছিলাম। তাই আত্রেয়ীকেও আমি বারণ করেছিলাম তোকে যেন না বলে এসব কথা। ও আমায় কথা দিয়েছিল। শুধু শর্ত দিয়েছিল আমি যেন ওই ছবিগুলো সব ওকে দিয়ে দিই। আর কোথাও কোনোদিন কেউ যেন সেই ছবি দেখতে না পায়। আমি যে তাকে কথা দিয়েছিলাম কেউ জানবে না। শুধু একটা জিনিস আমি পারিনি।’ বন্দনা মাথা তোলে মায়ের বুকের ওপর থেকে। চোখ মুছে বলে, ‘কী পারোনি?’

    — তুই যাকে আমার দূর সম্পর্কের জেঠু বলে চিনিস, ও আসলে তোর দাদামশাই। আত্রেয়ীর বাবা সুজয় সেন।

    — কী? এসব কী বলছ তুমি?

    — ঠিক বলছি রে মা। তোর বাবার সঙ্গে আমার বিয়েটা খুব অল্প বয়সেই হয়। এক বছরের মধ্যে আমার সন্তান আসে। কিন্তু জন্মাবার আগেই সে

    চাপা কান্নায় ফুলে ওঠে সুরভির বুক। কেঁপে ওঠে ঠোঁট। বলতে থাকে তবু, ‘মিস ক্যারেজের পর আমি আস্তে আস্তে ডিপ্রেশনে চলে যাই। চিকিৎসা চলতে থাকে। ওষুধ খেয়ে ভালো থাকলেও সেটা সাময়িক। সন্তান হারানোর কষ্ট আমি মানতে পারি না। আমার খালি বুকটা খাঁ খাঁ করতে থাকে। আমরা আবার চেষ্টা করি। কিন্তু ভগবান মুখ তুলে তাকান না। কোল আমার শূন্য থাকে। তোর বাবা যখন দেখল আমি আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। তখন ঠিক করল দত্তক নেবে। আমার প্রথমে মত ছিল না। পরে তোর বাবাই আমায় জোর করে ঝাড়গ্রামে নিয়ে যায়। ওখানে একটা অনাথ আশ্রম ছিল তোর বাবার পরিচিত একজনের। কী যেন নাম ছিল ভদ্রলোকের! নির্মলেন্দু নাকি অমলেন্দু, যাইহোক। সেখানে গেলাম। উনি আমাদের বললেন, চারদিন আগে একটি বাচ্চা হয়েছে তাঁদের আশ্রমেই। আমরা অবাক হয়ে যাই। জিজ্ঞেস করি, আশ্রমে কী করে বাচ্চা হয়? তখন উনি বললেন, ওঁর এক বন্ধুর মেয়ের মেয়ে হয়েছে। মেয়েটি বিবাহিত নয়। সবে ক্লাস টুয়েলভ পাস করেছে। কলেজেরই কোনো এক ছেলের সঙ্গে নিজের কপাল পোড়ায়। মেয়েটির বাবা মানে ওই নির্মলেন্দুর বন্ধু তার মেয়েকে কলকাতা থেকে লাস্ট ছয়মাস এই আশ্রমে এনে রেখেছিল। তাই এখানেই সেই বাচ্চা জন্মেছে। ওরা সেই সন্তানকে কোনো নিঃসন্তান দম্পতিকে দিয়ে দেবে। সেই আমাদের সঙ্গে প্রথম আলাপ সুজয় সেনের। আত্রেয়ী নিজে এসেছিল তোকে কোলে নিয়ে। লজ্জায় মুখ তুলতে পারেনি সে। রোগা-পাতলা একটা মেয়ে। ওর ডাক নাম ছিল ঝুমা। ওদের আশ্রমের একটা নিয়ম ছিল। সন্তান দত্তক নেওয়ার সময় ছবি তুলে রাখা। তবে পার্টি না চাইলে সেগুলো গোপনই থাকবে। ওরাই প্রত্যেকের কাছে একটা করে কপি দিত। আমরাও পেয়েছিলাম। আমি সেই কপি থেকে কলকাতায় ফিরে আরও দু-তিনটে কপি বানাই। পাছে ওই মুহূর্তটার ছবি হারিয়ে ফেলি। আমি তো ওইদিন ওই সময়েই মা হয়েছিলাম বল? সুজয়বাবু আমাদের হাত ধরে রিকোয়েস্ট করেছিলেন আমরা যেন এর আসল পরিচয় কাউকে না বলি। আমরাই বা বলব কেন? সুজয়বাবু আমার কোলে যাকে তুলে দিলেন সে তো আমার সন্তান। তোকে কোলে নিয়ে আমি সব ভুলে যাই জানিস। আমাকে আর-একটাও ওষুধ খেতে হয়নি। শুধু শরীরের ভেতরে চুপিচুপি কিছু রোগ বাসা বেঁধে ফেলে। যাক, আমি তাই নিয়েই খুশি। আমি শুধু আত্রেয়ীর সেই কথাটা রাখতে পারিনি যে আমার কাছে কোনো ছবি থাকবে না। শুধুই তার কাছে থাকবে।’

    — এই জন্য দাদু আমার প্রত্যেক জন্মদিনে খাবার বানিয়ে আনত?

    — তুই যে ওর একমাত্র নাতনি রে। ওঁর সঙ্গে তোর রক্তের সম্পর্ক। যেদিন তোকে আমার কোলে তুলে দেন, সেদিনই আমরা তোকে নিয়ে চলে আসছিলাম। উনি হঠাৎ আমাদের আলাদা করে ডাকেন। বলেন, উনি আমাদের সঙ্গে আজীবন সম্পর্ক রাখতে চান। কিচ্ছু না, শুধু নাতনিটাকে একবার চোখের দেখা দেখবেন। তোর বাবা এক কথায় রাজি হয়ে যায়। সেই থেকে উনি আমার জেঠু। আর তোর দাদু। মেয়েটা তো থেকেও নেই। কোনো খবরই নেয় না তার বাবার।

    .

    ইন্টারোগেশন রুমে বসে বন্দনা বলে, ‘সেইদিন বুঝেছিলাম, লোকে কেন বাচ্চাদের পুতুল বলে। তাদের নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলা যায়। আদর করে বুকে ধরে রাখাও যায় আবার ছুড়ে ফেলে দেওয়াও যায়।’ কথাটা শেষ হতেই ধানুয়ার ঘর থেকে পাওয়া ছবিগুলো বন্দনার সামনে সাজিয়ে দেয় সোমদত্তা। ‘ভালো করে দেখুন তো, এই সেই ছবিগুলো?’ হাত দিয়ে ছবিগুলো নেড়েচেড়ে দেখে বন্দনা। একটা ছবিতে আত্রেয়ীর কোলে বাচ্চা, একটিতে সুজয় সেন সুরভির কোলে বাচ্চা তুলে দিচ্ছে। পাশে বন্দনার পালিত বাবা। পেছনের দেয়ালে আশ্রমের নাম লেখা। এরকমই আরও দুটো ছবি। বন্দনা জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় পেলেন এগুলো?’

    — পেয়েছি কোথাও থেকে। নইলে আর হাতে এল কী করে?

    সায়ন বলল। সোমদত্তা ছবিগুলো সরিয়ে নিয়ে বলল, ‘স্যার লাঞ্চটা কী করে নেবেন?’

    — হুম। খিদে তো ভালোই পেয়েছে। কী বন্দনা ম্যাডাম? খিদে পেয়েছে তো? বলেই সোমদত্তাকে বলল, ‘ডাক্তারকে বলো সুরভি দেবীকে আর-একবার দেখতে।’

    — ওকে স্যার।

    সোমদত্তা বাইরে চলে গেল। সায়ন বন্দনাকে বলল, ‘এই ছবিগুলো হাতে পেয়েই আপনার মা-কে আমি চিনতে পেরেছিলাম। চেহারাটা ভারী হয়েছে আর কয়েকটা চুল পেকেছে। বয়সের ভারে চামড়া কুঁচকে গেছে। এর চেয়ে খুব বেশি তফাত হয়নি সুরভি দেবীর। বুঝতে পেরেছিলাম আত্রেয়ী সেনের সঙ্গে কোনো-না-কোনোভাবে যোগ আছে ওঁর। তাই ওঁকে তুলে আনা। ওঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নেই আমাদের। তবে একটা খারাপ খবর আছে, জানি না আপনি জানেন কিনা।’

    — খারাপ খবর! কী—কী খবর?

    —আপনার দাদু, মানে সুজয় সেন আর নেই।

    — কী? মানে?

    — আপনার মা যেদিন…

    বলতে গিয়ে হোঁচট খায় সায়ন। আবার শুরু করে, ‘মানে আত্রেয়ী সেন যেদিন মারা যান সেদিন উনি কেওড়াতলা শ্মশানের পাশেই একটা রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা যান।’

    খুব অসহায়ের মতো চোখ বোজে বন্দনা। এক এক করে ওর সব কাছের মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে মাথা নীচু হয়ে যায় তার।

    .

    লাঞ্চের সময়েই আরও ভালো চিকিৎসার জন্য সুরভিকে কাছের একটি হসপিটালে শিফট করা হয়। দুপুরের খাওয়া সেরে আবারও বন্দনার মুখোমুখি হয় সায়ন আর সোমদত্তা। খুব ঠান্ডা গলায় সায়ন বলে, ‘দেখুন বন্দনা ম্যাডাম, আপনি খুন করেছেন এবং সেটা সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত। তাই আপনাকে হাজতে পুরতে আমার দু-মিনিটও লাগবে না। কিন্তু কী জানেন, আমি বিশ্বাস করি যে একটা মানুষ জন্মেই অপরাধী হয় না। সেটা আপনার কথা থেকেও প্রমাণিত। আপনি আত্রেয়ী সেনের ওপর রাগ থেকে এই কাজটা করেন। কিন্তু একটা কথা কিছুতেই বুঝতে পারছি না, আত্রেয়ী সেনের ওপর শোধ নিতে গিয়ে শান্তনুকে মারার প্ল্যান কেন করলেন? আপনিই-বা ওই অত দূরে পৌঁছোলেন কীভাবে? টাকা কোথা থেকে পেলেন? এই সবটুকু আমরা জানতে চাই। আমি চাই না আপনার মুখ থেকে কথা বের করবার জন্য আমাদের অযথা কঠিন হতে হোক। নিন শুরু করুন।’

    .

    বন্দনা চুপ। ‘বন্দনা ম্যাডাম, প্লিজ, সোমদত্তা বলল কথাটা। বন্দনা একটা বড়ো করে নিশ্বাস নিল। তারপর আনমনে মাটির দিকে দৃষ্টিনিবদ্ধ রেখে বলতে শুরু করল। ‘মায়ের মুখ থেকে সবটা শোনার পর আমার ভীষণ রাগ হতে থাকে। ঘেন্না হতে থাকে। যখনই আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছি তখনই মনে হয়েছে আয়নার ওপারের বন্দনা আমায় বলছে, তুই বেজন্মা। তোর কোনো পরিচয় নেই। তোর মা নেই, বাপ নেই। তুই একটা বাচাল দুশ্চরিত্র মেয়ের ফূর্তির ফল। যন্ত্রণায় আমার মাথাটা ছিঁড়ে যেত। মায়ের অসুস্থতার জন্য আমি যে-কদিন ছুটি নিয়েছিলাম এক মিনিটের জন্য দু-চোখের পাতা এক করতে পারিনি। একটা সময় মনে হতে লাগল, আচ্ছা, আমি তো ছোটোবেলা থেকে খেলতে ভালোবাসতাম। দৌড়োতে ভালোবাসতাম। ক্যারাটেতে আমি আরও অনেক, অনেক ওপরে উঠতে পারতাম। আমি আরও বড়ো কোথাও বিউটিশিয়ান কোর্স করতে পারতাম। এগুলো কেন হল না? ঠিক তখনই মনে হত আত্রেয়ী সেনের মেকআপে কোনো একটা বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে সারাজীবনের জন্য ওর ওই সুন্দর মুখটা পুড়িয়ে দিই। ঘুচে যাক ওর ঠাট-বাট সব। পরক্ষণেই ভাবলাম, আমি এত বোকা কেন! আত্রেয়ী সেনের যা আছে তা তো সব আমার। সব আমার। ও যখন আমায় জন্ম দিয়ে এই পৃথিবীতে এনেছে তখন ওরই তো দায়িত্ব আমায় ভালো রাখা। কিন্তু তা না হয়ে আজ আমি আমার জন্মদাত্রীর কাছে চাকরির জন্য হাত পেতেছি। তার খিদমত খাটছি। জানেন স্যার, আমার না ছোটো থেকে খুব রাগ। সবার ওপর না। যখন আমি বুঝতে পারি একটুখানি হলেও কেউ আমায় ঠকিয়েছে তখন আর আমি নিজেকে সামলাতে পারি না।’

    — একদম ডিরেক্ট মেরে দেন। সে হাতে যদি কম্পাস থাকে তাতেও আপনার কিছু যায় আসে না তাই তো।

    সায়নের কথাগুলো শুনে রীতিমত আকাশ থেকে পড়ল বন্দনা। সোমদত্তাও এবার থ। সায়ন বলল, ‘সারদাসুন্দরী বিদ্যালয়ের ক্লাস সিক্সের ছাত্রী অণিমা তপাদার। আপনার ব্যাচমেট। আপনি জানতেন সে ভীষণ ভালো বন্ধু। কিন্তু সেই অণিমাই টিচার্স রুমে গিয়ে দিদিমণিদের কাছে আপনার নামে মিথ্যে কথা বলে আসত যে, আপনি নাকি ওকে রোজ ক্যারাটে করার নাম করে মারেন, সেটা আপনি জানতেন না। অন্য একটি মেয়ে একদিন ওভার-হিয়ার করে এসে আপনাকে জানায়। দিদিমণি সেদিন আপনাকে শাস্তি দেয়। গার্জেন কল করে এবং একটা পরীক্ষায় বসতে দেন না। ব্যাস, আপনি খেপে যান। এরপর একদিন সত্যি সত্যি ক্যারাটের নাম করে জিয়োমেট্রির কম্পাসটা বসিয়ে দেন মেয়েটির পিঠের ডানদিক বা বাঁ-দিকে। এবার আর গার্জেন কল নয়। সোজা টিসি। একটা বছর লস হল আপনার। পরের বছর লোকাল এমএলএ-র বদান্যতায় ভরতি হলেন কমলা গার্লস বিদ্যানিকেতনে।

    গল্পটা শেষ করে শ্যেনদৃষ্টিতে সায়ন চেয়ে থাকে বন্দনার দিকে। সোমদত্তা একেবারে হাঁ হয়ে যায়। সায়ন আর কথা না বাড়িয়ে মুচকি হাসে সোমদত্তার দিকে তাকিয়ে। তারপর বন্দনাকে বলে, ‘নিন। শুরু করুন।’ ‘কী করে জানলেন’ এই প্রশ্নটা আর করল না বন্দনা। সে আবার বলতে শুরু করল তার জীবনবৃত্তান্ত। অনেক ভালো হয়ে থাকার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারলাম না। ভেবে দেখলাম, যা আমার পাওনা তা আমাকেই জোগাড় করতে হবে। সে যেভাবে হোক। সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি। নিম্নচাপ তখনও চলছে। শহর ভেসে যাচ্ছে। সেদিন আমার যাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু আমি কিছুতেই বাড়িতে বসে থাকতে পারলাম না। খালি মনে হতে লাগল, দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমার বয়সটা বেড়ে যাচ্ছে। মা-কেও সুস্থ করতে হবে। কারণ মা ছাড়া আমার কেউ নেই। আর যেই ঠকাক আমায়, যে মা তার নিজের সন্তান না জেনেও এমন করে একটা মেয়েকে বড়ো করে তোলে, এত ভালোবাসা দেয় সেই মা আমায় কক্ষনো ঠকাবে না। তাই মায়ের জন্য আমায় আমার প্রাপ্য বুঝে নিতেই হবে। আত্রেয়ী সেনের বাড়ি গিয়ে শুনলাম তিনি সকালে বেরিয়ে গেছেন। শান্তনু স্যারও নেই। তবে তন্ময়দা বাড়িতে আছে। নামটা শুনতেই পেটের ভেতর থেকে গুলিয়ে ওঠে। চোখের সামনে ঝলসে ওঠে আত্রেয়ী সেনের সঙ্গে তন্ময়ের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো। তখনই শুনতে পেলাম আমার মা বলছে, ওই আত্রেয়ী সেনই যে তোর জন্মদাত্রী মা রে বাণী।’ রাগে ঘেন্নায় আমার সারা শরীর রিরি করতে থাকে। মনে মনে ঠিক করে নিই সবার আগে এই তন্ময়কেই আমায় কাছে টানতে হবে। ওর কাছেই আছে আত্রেয়ীকে বশ করার মন্ত্র। ও যা বলে আত্রেয়ী সেন তাই করে। একেবারে অগাধ বিশ্বাস।’ এরপর বন্দনা একটু থামে। সায়ন আর সোমদত্তার দিকে কাঁপা কাঁপা চোখ তুলে তাকায়। তারপর বলে, ‘তন্ময় আমার বেডরুমে এসে কিছু রেকর্ড করেনি। তন্ময়কে আমিই প্রোভোগ করি। এর আগে তন্ময় সুযোগ পেলেই আমার সঙ্গে কোনো-না-কোনো ছুতোয় কথা বলতে আসত। মিশতে আসত। তাই আমি নিশ্চিত ছিলাম, তন্ময়ের মতো কামুক ছেলে আমার ফাঁদে পা দিতে বাধ্য।’

    সোমদত্তা জিজ্ঞাসা করল, ‘কী করলেন আপনি?’ ছলনাময়ী নটীর মতো চোখ তুলে তাকাল বন্দনা।

    বাইরে আকাশ ভেঙে পড়েছে। সেদিনও ছলনাময়ী নটীর ভাব নিয়ে তন্ময়ের গা ঘেঁষে বসল বন্দনা। তন্ময় নীচের ডাইনিঙে সোফাটায় বসেছিল। বন্দনার এ হেন আচরণে সে তো বেশ অবাক। হালকা হাসি নিয়ে প্রশ্ন করল, ‘কিছু বলবে বন্দনা?’ ঠোঁটের কোণে আহ্লাদি রং ফুটিয়ে ওপর-নীচে ঢকঢক করে ঘাড় নাড়ল।

    — বলে ফেলো। দেরি কেন?

    তন্ময় জানতে চাইল।

    — আসলে ম্যাডাম সবসময় থাকেন বলে আপনার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলা হয় না। যদি রেগে যান!

    হাসিতে তন্ময়ের বুকটা নেচে ওঠে। সে বলে, ‘এখন তো নেই। কী কথা বলবে বলো।’

    — আমার বহুদিনের একটা ইচ্ছে আছে।

    — হুম? তা কী ইচ্ছে শুনি।

    — না থাক। আপনি আমায় খারাপ ভাববেন।

    বন্দনার গালের কাছে মুখ এনে তন্ময় ফিশফিশ করে জিজ্ঞেস করে, ইচ্ছেটা কী?’ তন্ময়ের দিকে মুখ ঘোরায় বন্দনা। এখন তন্ময় আর বন্দনার মুখের মাঝে এক আঙুলের দূরত্ব। বন্দনা বলল, ‘আমায় কয়েকটা ছবি তুলে দেবেন?’ মুখের সামনে থেকে সরে গেল তন্ময়, ‘এইটুকু ইচ্ছে? তার জন্য এত…! বন্দনা, পারো তুমি। কবে ছবি তুলবে বলো।’

    — আজই।

    তন্ময় একটু থমকে গেল। ‘আজই! কিন্তু ক্যামেরা নেই যে। তুলব কীসে?’

    — আপনার আই ফোনে। যথেষ্ট হাই রেজোলিউশন।

    — বেশ। কোথায় যাবে বলো? বাইরে তো তুমুল বৃষ্টি।

    — ঘরেই তুলব।

    — যথা ইচ্ছা।

    হঠাৎ সাপিনীর মতো তন্ময়ের দিকে তাকাল বন্দনা। হিসহিসে গলায় বলল, ‘একটু সাহসী হলে লজ্জা পাবেন না তো?’ বন্দনা বুঝল, তন্ময়ের চোখ-মুখ কেমন যেন -ধূর্ত সাপুড়ের মতো হয়ে গেল। সে-ও পালটা উত্তর দিল, ‘বেশ তো, দেখি কতটা সাহসী হতে পারো।’

    — ডাকলে আসবেন।

    বলেই বন্দনা ঘরের অভিমুখে চলে গেল। তন্ময় দেখল হেলেদুলে এক সাপিনীর চলে যাওয়া। একটু পরে যখন দরজা খুলে বন্দনা ডাকল, ‘তন্ময়দা, আসুন’, তন্ময় গেল। দেখল দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক জলজ্যান্ত বিদ্যুৎ। বৃষ্টিভেজা গা সে মোছেনি। চুলও ভিজে অবিন্যস্ত। বড়ো সাদা তোয়ালেটা শুধু বুকের ওপর দিয়ে জড়িয়ে রাখা। চুল থেকে বুকের খাঁজে ঝরে পড়ছে বিন্দু বিন্দু জল। শুধু একটু উষ্ণতার জন্য। উদ্ভিন্নযৌবনে জাপটে থাকা তোয়ালেটা নেমে এসেছে হাঁটুর ওপর পর্যন্ত। তন্ময়ের চোখে এক আকাশ আকস্মিক বজ্রের ঝলকানি। নিশ্বাস ঘন হয়ে এসেছে তারও। বন্দনা চোখের ইশারায় ঘরে ডেকে নেয় তন্ময়কে। বাঁ-পা হাঁটু থেকে ঈষৎ ভাঁজ করে কোমরে হাত রেখে দাঁড়ায় বন্দনা। তন্ময় কোনো কথা না বলেই ডান পা-টাকে পেছনে ভাঁজ করে তুলে দরজাটা ঠেলে দেয়। শব্দ করে বন্ধ হয়ে যায় দরজাটা। ‘নিন, ছবি তুলুন!’ বলেই বারান্দা আর ঘরের মাঝে যে কাচের দরজা তার পর্দাটাকে অল্প সরিয়ে দেয়। কাচের দরজায় অজস্র জলের কণা বাষ্প বুকে নিয়ে জমে আছে। কাচের এপার থেকে তাদের গায়ে হাত রেখে তন্ময়ের দিকে পেছন ফিরে ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মতো দাঁড়ায় বন্দনা। ছবি তুলতে থাকে তন্ময়। ক্যামেরার স্ক্রিনে ফুটে উঠতে থাকে বন্দনার এক-এর পর এক দেহসৌষ্ঠব। ছবি তুলতে তুলতে এখন অনেকটা কাছাকাছি তন্ময়। তার মুখ দিয়ে আপনা থেকেই বেরিয়ে আসে, ‘আত্রেয়ী যে ঘরের মধ্যে এমন আগুন পুষে রেখেছিল বুঝতে পারিনি তো!’ মোবাইল ক্যামেরার লেন্সে হাত রাখে বন্দনা। ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে অফ করে দেয়। মোবাইলটা বন্দনার হাত থেকে বিছানায় গিয়ে পড়ে। তন্ময়ের গায়ের সঙ্গে গা ঠেকিয়ে বন্দনা বলে, ‘সেটা আঁচ করতেই তো বারবার কথা বলতে আসতে, তাই না?’ আর কথা নয়, তন্ময়ের হাতদুটো বন্দনার পিঠে শিকলের মতো একে অপরের সঙ্গে আটকে যায়। তার পরমুহূর্তেই সাপিনীর ঠোঁটে সাপুড়ের ঠোঁট ডুবে যায়। খেলতে শুরু করে শরীরের ওপর শরীর। উত্তাল সমুদ্রে ফুলে ওঠা ঢেউয়ে টাইটানিকও পথ হারায়। এরা তো ছোট্ট দুটো নৌকা মাত্র। হাল ছেড়ে স্রোতের বুকে গা ভাসিয়েছে। নরম বিছানায় ঢেউ উঠেছে। নৌকো দুটো উলটে-পালটে একের ওপর অন্যে উঠে পড়ছে, ফুলছে, গভীর শ্বাস নিয়ে নেমে আসছে। ঘন ঘন শীৎকারে মাতাল হচ্ছে।

    .

    ‘তবু আগুন, বেণীমাধব আগুন জ্বলে কই? কেমন হবে আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?’ কবিতার অন্তিম দুটো চরণ বলতে গিয়ে গলাটা কেঁপে উঠল বন্দনার। ইন্টারোগেশন রুমে ঝুলতে থাকা হলুদ আলোটার আগুন হয়ে জ্বলার কথা ছিল। কিন্তু জ্বলছে না। সেই আলোর দিকে তাকিয়ে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে চোখ। তবু জোর করে তাকিয়ে আছে সে। দু-চোখ বেয়ে টপ টপ করে জল পড়ছে তার। ‘ছোটো থেকে শুনে এসেছি, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হয়। আত্রেয়ী সেনের মেয়ে আমি। শরীর হল তার কাছে সিঁড়ি। আর সেই সিঁড়ির নীচের ময়লা হলাম আমি। এবার সেই শরীর হাতিয়ার করেই আত্রেয়ীকে ধ্বংস করব। ওর সবকিছু কেড়ে নেব আমি।’

    — অন্যভাবেও তো হতে পারত।

    সোমদত্তার কথা শুনে ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল বন্দনা। বলল, ‘কীভাবে? বলুন।’

    — আত্রেয়ী সেন জানতেন আপনি ওঁর মেয়ে। তাই লোক জানাজানির একটা ভয় তো নিশ্চয়ই ছিল। আপনি যদি আপনার মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা চাইতেন আমার মনে হয় উনি হেসেখেলে দিয়ে দিতেন।’

    — ভিক্ষে?

    অন্তরের বিবমিষা উগরে দেয় বন্দনা। অণিমার পিঠে কম্পাসটা বসিয়ে দিয়েছিলাম বলে বড়ো দিদিমণি আমায় ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। কান ধরে সহপাঠীর কাছে সরি বলতে বলেছিলেন। কিন্তু একবারও অণিমাকে কেউ বলেনি আমায় সরি বলতে। কেউ জানতে চায়নি যে, সে আমার নামে কেন বারবার মিথ্যে বলেছিল। তাই আমিও সরি চাইনি। উলটে বলেছিলাম, যা করেছি বেশ করেছি। আপনারাই তো বলেন, অন্যায় করলে শাস্তি পেতে হয়! আমি শাস্তি দিয়েছি। অন্যায়টা কোথায় করেছি? আমার অপরাধ তো অস্বীকার করছি না আমি। কিন্তু অণিমা যে অপরাধ করেছে সেটা ও একবারও স্বীকার করেনি। আত্রেয়ী সেনও স্বীকার করত না। তাই তো ওই ছবিগুলো লোপাট করতে চেয়েছিল। আমাকেও তো বলতে পারত, আমি তোর সঙ্গে যা করেছি অন্যায় করেছি। আমায় ক্ষমা করে দে। বলুন, বলতে পারত না? কিন্তু সে তো বলেনি। একবারের জন্যেও বলেনি। আর সেই আমি কিনা ভিক্ষে চাইব ওই মহিলার কাছে? তার চেয়ে আমার ফাঁসি হোক। কোনো দুঃখ নেই।’

    সায়ন আর সোমদত্তা বিস্ময়ে হতবাক। একটা নিতান্ত সাধারণ মেয়ের মধ্যে এত জোর কীভাবে আসে? পুরাণে দুর্গা, কালীর উদাহরণ থাকলেও নারী মানেই কোমলপ্রাণা। এমনই ধারণা আজও পোষণ করে সব্বাই। কিন্তু এই কোমলপ্রাণা কমললতার মাঝে বন্দনা হল ইষ্টকদৃঢ় মূর্তি। যে পাপ-পুণ্য, স্নেহ-প্রেম, ঝড়-তুফানেও ভাঙে না কখনও। কেবল সোজাসাপ্টা বিচার চায়। উত্তর চায়। কেন এমন হল? কেন সে করল না? কেন তাকে সইতে হবে? ‘কেন’ এই শব্দটাই তার হৃদয়ের চারপাশে তিনশো পয়ষট্টি দিন চব্বিশ ঘণ্টা প্রাণবায়ুর মতো ঘুরপাক খেতে থাকে। বন্দনারা বেঁচে থাকে অজস্র প্রশ্নের শবদেহের ওপর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৭৪ – ডার্টি গেম
    Next Article নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }