মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ৪৫
পঁয়তাল্লিশ
সিসিটিভি রুমে ঢুকতেই সায়ন জিজ্ঞেস করল, ‘সূর্য, আর কোন কোন সিসিটিভিতে প্রবলেম হয়েছে?’ সূর্য জানাল, ‘ষোলো, সতেরো, আঠেরো। এখনও আঠেরো নম্বরটা ব্ল্যাক হয়ে আছে।’
— সেটা কোনদিক?
হসপিটালের যে লোকটি বসেছিল সে জানাল, ‘ওটা মর্গের দিকের।’ নীলাম্বর বললেন, ‘এই হসপিটালে মর্গ আছে নাকি?’
— হ্যাঁ আছে তো।
ওই লোকটাই জবাব দিল। নীলাম্বর বললেন, ‘সর্বনাশ!’ সায়ন জানতে চাইল, ‘কেন কী হয়েছে?’ নীলাম্বর জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা মর্গে এই মুহূর্তে ক-টা বডি আছে?’ লোকটি বলল, ‘এক্স্যাক্ট দেখে বলতে হবে। তবে মোটামুটি দশ-বারোটা তো হবেই।’ অসহায়ের মতো নীলাম্বর বিড়বিড় করলেন, ‘যত মৃতদেহ, তত বেশি শক্তি! ব্যাপারটা হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে।’ নীলাম্বর জানালেন এখুনি সবার সেখানে যাওয়া উচিত।
.
বেশ কয়েকটা টিউবলাইট জ্বলছে মর্গে। অন্ধকার নয়। কিন্তু বিশাল ঘরটায় সবসময়েই একটা মনমরা ছায়া বসত করে। এই ঘরে সারাবছর শীতকাল। মর্গের দুই কর্মী এখুনি একটা মড়াকে রেখে দিয়ে গেল। খানিক আগে আর-একজন এসে মর্গের দেয়াল আলমারিতে ঠাঁই নিয়েছে। ফ্রিজারগুলোর বাইরে ঘরের মধ্যেই টেবিলে শোয়ানো আছে পুরুষ-নারী মিলিয়ে পাঁচ-ছ’টা বডি। এগুলোর কয়েকটা কাটাছেঁড়া হয়েছে। কয়েকটার হবে। ফ্রিজারের মধ্যে দরজা বন্ধ যেগুলো, সেগুলোর কারওর বাড়ির লোকের অপেক্ষা, কারও-বা মালিকানা নিয়ে সংশয়। ধাতব শব্দ করে একটা ফ্রিজারের দরজা বন্ধ হল। ফাঁকা ঘরে সেই শব্দ ফিরে ফিরে বাজতে লাগল। মুখে মাস্ক এঁটে মর্গকর্মী ফ্রিজারের মধ্যে লাশ চালান করে এগিয়ে আসছিল দরজার দিকে। হঠাৎ একটা শব্দ। ফ্রিজারের মধ্যে থেকে ট্রে বেরিয়ে এলে যেমন হয়। মর্গকর্মী থমকে দাঁড়িয়ে পেছন ঘুরে তাকাল। দেখল যে লাশটাকে চালান করেছে সেটাই আবার বেরিয়ে এসেছে। লোকটি আবার গেল। লাশটাকে ঠেলে ঢুকিয়ে দরজা দিল। তারপর টেনে পরখ করে ফাঁকা স্ট্রেচারটার দিকে হেঁটে আসছিল। কিন্তু আবারও তার পথ আটকাল সেই একই শব্দ। মাস্কের নীচে এবার নিশ্বাস তার ঘন হয়ে আসে। এতদিন এমন তো কিছু হয়নি। আজ হঠাৎ এমন কেন হচ্ছে? লোকটি পেছন ফিরে দেখল যে লাশটা সে এই মুহূর্তে ঢুকিয়ে দিল ঠিক তার পাশের একটা ফ্রিজারের দরজা খুলে গেছে। ঠান্ডা ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে ভেতর থেকে। সঙ্গে ফাঁকা বডি রাখার ট্রেটা জিভ বেরিয়ে আসার মতো করে ঝুলছে। চারপাশ ভালো করে দেখে নিল লোকটা। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে তার। তা-ও সে এগিয়ে গেল ফ্রিজারের দিকে। কাছে যেতেই ভেতর থেকে ঠিকরে আসা ঠান্ডা হাওয়াটা প্রবল বেগে লোকটাকে ভেতরের দিকে টেনে নিল। ভয়ে চিৎকার করে ওঠে লোকটা। ফ্রিজারের হাঁ-মুখের ভেতর থেকে কিছু একটা যেন বেরিয়ে সজোরে জাপটে ধরেছে তার কোমর। ক্রমশ টেনে নিচ্ছে ভেতর দিকে। লোকটা পরিত্রাহী চিৎকার করছে। সে বুঝতে পারছে তার কোমরের দিক থেকে শরীরটা ভেঙে ফ্রিজারের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে। ফাঁকা ঘরে লোকটির মরণ আর্তনাদ উন্মাদের মতো পাক খেতে খেতে বাইরে বেরিয়ে গেল।
.
ঠিক সেই মুহূর্তে হুড়মুড় করে মর্গের ভেতর ঢুকে আসে সায়ন, নীলাম্বর, সূর্য আর সোমদত্তা সমেত আরও কয়েকজন। যার মধ্যে ডাক্তার ও হসপিটাল কর্মীও বর্তমান চোখের সামনে দুঃস্বপ্নের মতো ভয়ংকর দৃশ্য দেখে আঁতকে ওঠে সকলে। সায়ন আর নীলাম্বর সবার আগে দৌড়োয় লোকটিকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু মুহূর্তের ভগ্নাংশে সবার চোখের সামনে লোকটির দেহটা কোমরের থেকে উলটো ভাঁজ হয়ে ফ্রিজারের মধ্যে ঝড়ের গতিতে ঢুকে যায়। দরজাটা দড়াম করে বন্ধ হওয়ার সঙ্গেই ঘরের মধ্যে লোকটির শেষ আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে। নীলাম্বর, সায়ন দুজনে মিলে বাইরে থেকে দরজাটা টানতে শুরু করে। সূর্যও হাত লাগায়। কিন্তু সেই দরজা আর খোলে না। ডাক্তার সমেত হসপিটালের যারা এসেছিল তারা ‘ভূত ভূত’ বলে পরিত্রাহী চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালায়। সঙ্গে সঙ্গে একটা বিকট শব্দ শুরু হয়। এক এক করে সব ক-টা ফ্রিজারের ভেতর থেকে কারা যেন দুম দুম করে দরজা ধাক্কাতে থাকে। বেশ ভয় পেয়ে যায় সবাই। সোমদত্তার মুখ শুকিয়ে আসে। সূর্য বড়ো বড়ো চোখ করে ধাক্কায় কাঁপতে থাকা দরজাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। ‘কী হবে স্যার এখন? এ এ তো অলৌকিক ব্যাপার! আমরা কী করব?’ সায়ন নীলাম্বরের দিকে তাকায়। নীলাম্বর কিছু ঘটার অপেক্ষা না করেই কাঁধের ব্যাগ থেকে লালশালু মোড়া কৌটো বের করেন। তারপর তার মুখের বাঁধন খুলে ভেতরে থাকা কৌটোর ঢাকনা খুলে দেয়। সায়ন জিজ্ঞেস করে, ‘এটা কী নীলাম্বরবাবু?’
— কালভৈরবের মন্ত্রপুত চণ্ডাল করোটির ভস্ম। সবার আগে এই আত্মাকে এই ঘরেই বন্ধ করতে হবে। নইলে সবাইকে শেষ করে দেবে সে।
কথাটা বলেই বিশাল মর্গটার চারপাশে ভস্ম ছড়িয়ে গণ্ডি কাটতে থাকেন। অর্ধেক ঘরে ছড়াতে না ছড়াতেই হঠাৎ একটা ফ্রিজারের দরজা খুলে লাশ বেরিয়ে আসে। সায়ন চমকে সরে আসে। সূর্য সেটা বন্ধ করার আগেই আপনা থেকে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আবার পাশের বিকটদর্শন সাদা হয়ে যাওয়া লাশটা বেরিয়ে আসে। সূর্যের গা গুলিয়ে ওঠে। সোমদত্তা কী করবে বুঝতে পারছে না। সায়ন চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘সূর্য সরে এসো।’ বলামাত্রই সূর্য সরে আসে। তারপর অকল্পনীয় এক কাণ্ড ঘটতে থাকে মর্গের ভেতর। সবক-টা ফ্রিজারের দরজা নিজে থেকেই খুলে বেরিয়ে আসছে লাশসমেত। আবার ঢুকে যাচ্ছে। সারা ঘর জুড়ে নরকের পিশাচেরা যেন বড়ো বড়ো করতাল, দামামা বাজিয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। এত কিছুর পরেও নীলাম্বরের মন্ত্রবিচ্যুতি ঘটছে না। একমনে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে ভস্মের গণ্ডি টেনে চলেছেন। হঠাৎ একটা চাকা-লাগানো বেড লাশসমেত গড়গড় করে গড়িয়ে গিয়ে নীলাম্বরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ছিটকে পড়েন নীলাম্বর। সায়ন, সূর্য আর সোমদত্তা রিভলবার বের করে তাক করে। নীলাম্বর তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে ওঠেন, না, আঘাত কোরো না। তাহলে আরও ক্ষিপ্র হয়ে উঠবে।’ লৌকিক যুদ্ধ সামলাতে পিছপা হয় না পুলিশ। কিন্তু যে যুদ্ধ অলৌকিক, প্রতিপক্ষের নাগাল বা কিনারা কিচ্ছু পাওয়া যায় না সেখানে লড়বে কী করে? বেশ ভয় পেয়েছে সূর্য আর সোমদত্তা। সায়নের পূর্বের অলৌকিক অভিজ্ঞতা আছে বলে সে খানিকটা নিজেকে সামলে রাখতে পারছে। ‘জয় শিবশম্ভু’ বলে চিৎকার করে লাশসমেত বেডটা নীলাম্বর ঠেলে দেন। একটা নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত গিয়ে সেটা থেমে যায়। নীলাম্বর আবার তার গণ্ডি কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এদিকে ভস্ম ফুরিয়ে আসছে। এখনও ঘরের বেশ কিছুটা বাকি।
ফ্রিজারের দরজাগুলো হঠাৎ করেই সব বন্ধ হয়ে যায়। থেমে যায় সব শব্দ। একটানা চলতে থাকা ধাতব শব্দের তাণ্ডবে কানে তালা লেগে গেছে সবার। নীলাম্বর থেমে গিয়ে অবাক হয়ে চারপাশ দেখে নেন। বুঝতে পারেন আরও বড়ো কোনো ঝড় আসতে চলেছে। তিনি আবারও নিজের কাজ করতে থাকেন দ্রুত বেগে। সায়ন, সূর্য আর সোমদত্তা দুরুদুরু বক্ষে একে অপরের পিঠোপিঠি একটা ত্রিভুজ রচনা করে দাঁড়িয়ে থাকে। যদিও তেমন কিছু হলে গুলিও ফেল করে যাবে। থমথমে ভাবটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনদিক থেকে সায়ন, সূর্য, সোমদত্তা আর নীলাম্বরের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে থাকা লাশভরতি বেডগুলো। যে ত্রিভুজ তারা রচনা করেছিল মুহূর্তে সেটা ভেঙে যে যার মতো সরে যায় নিজেকে বাঁচাতে। কয়েকটা বেড একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লাগতেই লাশগুলো নড়ে ওঠে। মুখের চাদর সরে যায়। একজনের বুকের ওপর থেকে চাদর সরে যেতেই লম্বা সেলাই বেরিয়ে আসে। আশেপাশে রক্তমাখা। বুক থেকে পেট পর্যন্ত কেটে আবার জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সূর্য দেখে লাশসমেত একটা বেড প্রচণ্ড বেগে তেড়ে আসছে সোমদত্তার দিকে। চিৎকার করে ওঠে সূর্য। সোমদত্তা নিজেকে সরিয়ে নেয়। দেয়ালে ধাক্কা খায়। পা লেগে ভস্মের গণ্ডি খানিকটা ঘেঁটে যায়। নীলাম্বর যেখান থেকে গণ্ডি টানা শুরু করেছিলেন আর মাত্র চার-পাঁচ হাত গেলেই সেই বিন্দুকে স্পর্শ করে ফেলবেন। তাহলে গোটা ঘরের বৃত্তটা সম্পূর্ণ হবে। কিন্তু সেই বাকি থাকা অংশের দিকে একটা বেড ধেয়ে আসে। নীলাম্বর দেখেন বেডের ওপর শুয়ে থাকা লাশটা নিজে থেকে উঠে বসেছে। ভয়ে হাঁ হয়ে যায় সোমদত্তা। নীলাম্বর দ্রুত বেগে হাত চালাতে থাকেন। বেডটা এসে প্রায় নীলাম্বরকে মেরে দেবে ঠিক সেই মুহূর্তে সূর্য লাফিয়ে পড়ে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে। বেডটা সরে যায় আর লাশটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এক গলা বমি উঠে আসে সোমদত্তার। চোখের সামনে লাশটার মাথার খুলি খুলে সাদা ফ্যাটফ্যাটে অংশটা বেরিয়ে পড়েছে। তাতে রক্তের ছিটে। নীলাম্বরের গণ্ডি সম্পূর্ণ হয়। সায়ন এসে সূর্যকে তুলে ধরে। ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো এক অনন্ত লোক থেকে অদৃশ্য পিশাচ কান ফাটানো চিৎকার করে ওঠে। চমকে এদিক-ওদিক তাকায় সবাই। ছুটে মারতে আসা বেডগুলো অকস্মাৎ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেমে যায়। নীলাম্বর বলে ওঠেন, ‘এবার আর আত্মা এই ঘর ছেড়ে কোত্থাও যেতে পারবে না। গর্জে ওঠা পিশাচের উৎস সন্ধান করতে করতেই সায়ন বলে উঠল, ‘আমরাও আর বেরোতে পারব না।’ কথাটা শুনেই নীলাম্বর দরজার দিকে তাকান। সূর্য আর সোমদত্তাও ঘাড় ঘোরায় দরজার দিকে। মর্গের দরজাটা খোলাই ছিল। কিন্তু কেউ খেয়াল করেনি কখন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। আসলে এত শব্দের মধ্যে দরজা বন্ধের শব্দটা আর আলাদা করে পাওয়া যায়নি। নীলাম্বর হাত উলটে ঘড়ি দেখে বলেন, ‘রাত পৌনে দুটো বেজে গেছে। হাতে আর মাত্র এক ঘণ্টা পনেরো মিনিট!’ সোমদত্তা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘মানে? তারপর কী হবে?’
— রাত তিনটের সময় আত্মার শক্তি অফুরন্ত হয়ে যাবে। আমরা তখন কিছু করতে পারব না। এখনই অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে শান্তনু।’
নামটা উচ্চারিত হবার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মধ্যে কিছু একটা শুরু হল। কটকট, খটখট শব্দ। কেউ যেন হুংকারের সঙ্গে রাগে গরগর করছে। একটা কনকনে ঠান্ডা হাওয়া সবাইকে ঘিরে দৌড়োচ্ছে। সকলের নজর ফ্রিজারগুলোর দিকে। কিছু হলে সেখান থেকেই হবে। নীলাম্বর ধীরে ধীরে এগোতে থাকে সেইদিকে। গোঙানির শব্দটা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কোথাও যেন হাড়ে হাড়ে ঠুকে কেউ কিছু তৈরি করছে। লাশগুলো এলোমেলো পড়েই আছে। নীলাম্বরকে ফলো করে সূর্য আর সোমদত্তা এগোচ্ছিল। কিন্তু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল সায়ন। নীলাম্বর হাতে রুদ্রাক্ষ নিয়ে বেশ খানিকটা পৌঁছে গেছে ফ্রিজারের কাছে। সূর্য ও সোমদত্তাও নীলাম্বরের কাছাকাছি। এইসময় সায়নের মনে হয় ঠিক ওর পেছনেই কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ধীরে ধীরে ঘাড় ঘোরাতেই দুটো গলার ভয়ানক আর্তনাদ একসঙ্গে দেয়ালে ফাটল ধরিয়ে দেয়। নীলাম্বর, সূর্য আর সোমদত্তা পেছন ফিরে দেখে সেই মাথার খুলি খুলে যাওয়া লাশটা সায়নের গলা টিপে ধরেছে। সেই অবস্থাতেই সায়ন গুলি চালাচ্ছে। কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না। নীলাম্বর চিৎকার করে ওঠে, ‘ওকে ছেড়ে দে শয়তান। সাহস থাকে তো আমার সঙ্গে লড়ে দেখা।’ চোখের নিমেষে সায়নকে দেয়ালের দিকে ছুঁড়ে দেয় লাশটা। সোমদত্তা ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। সায়ন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে একটা বেডের ওপর আছড়ে পড়ে। তারপর সেখান থেকে মাটিতে। যে মেয়েটির লাশের গায়ে আছড়ে পড়ল সায়ন, সে এবার অলৌকিক শক্তিতে উঠে বসেছে। নীলাম্বর তার কাঁধের ব্যাগ থেকে দ্রুত গঙ্গা জল বের করে ছিটিয়ে দেন খুলি খুলে যাওয়া লাশটার ওপর। সে ক্ষণিকের জন্য চিৎকার করলেও কিছুই হয় না। চমকে যান নীলাম্বর। সোমদত্তা বলে ওঠে, ‘কিছুই তো হল না নীলাম্বরবাবু।’ ততক্ষণে মেয়েটির লাশ নগ্ন শরীরে সায়নের মুখের সামনে দাঁড়িয়ে। সায়ন উঠতে পারছে না। মাথায় লেগেছে। চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটির চোখদুটো গলে কালো রক্ত বেরিয়ে আসছে। মুখ দিয়ে উঠে আসছে পচা শরীরে জমে থাকা পোকার দল। কিলবিল করে মুখ থেকে বেরিয়ে এসে খোলা বুকের ওপর দিয়ে নেমে আসছে। গা গুলোচ্ছে সায়নের। পেছন থেকে সূর্য একটা গুলি চালায় মেয়েটিকে লক্ষ্য করে। লাশটা থমকে যায়। কিন্তু আবার সায়নের দিকেই এগোতে থাকে। নীলাম্বর বলে ওঠেন, ‘গুলি করে কিচ্ছু হবে না।’ পেছোতে পেছোতে সোমদত্তা জিজ্ঞেস করে, ‘তাহলে কী করলে হবে?’ ঘরের মধ্যে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি। সকলের হাত জমে আসছে। নীলাম্বর খেয়াল করেন, বয়ামের মধ্যে রাখা গঙ্গাজলও জমতে শুরু করেছে।
.
ওদিকে মেয়েটার লাশ সায়নের কাছে পৌঁছে গেছে। সায়নের শরীরটাও পেছন দিকে ঘষটাতে ঘষটাতে গিয়ে এক্কেবারে দেয়ালে ঠেকেছে। সায়নের হাত নীলাম্বরের ভস্মের ওপর পড়ে। আর কিচ্ছু না ভেবে সেই ভস্মই এক মুঠো তুলে লাশের দিকে ছুড়ে দেয়। মেয়েটি আর্তনাদ করে ছটফট করতে করতে পিছিয়ে যায়। সামনের দিকে তাকাতেই সায়ন চমকে ওঠে। এবার সোমদত্তা চিৎকার করে ওঠে, ‘সূর্যওওওওও।’ দাঁত বেরিয়ে আসা এক বৃদ্ধের নগ্ন মৃতদেহ এক হাতে সূর্যকে তুলে ধরেছে। মুখে বিকট শব্দ করে ছুড়ে দিল দেয়ালের দিকে। সায়নের মতোই সে ধাক্কা খেয়ে পড়ল মাটিতে। প্রায় কেঁদে ফেলল সোমদত্তা। চোখের পলকে মাথার খুলি খোলা লোকটা এক্কেবারে মুখের সামনে এসে পড়াতে নীলাম্বর হাতের রুদ্রাক্ষটা চেপে ধরেন তার আধখানা কপালে। সে প্রবল আক্রোশে পিছোতে থাকে। নীলাম্বর এগোতে থাকে। ওদিকে সোমদত্তা ছুটে যায় সূর্যের কাছে। ‘সূর্য ঠিক আছ? সূর্য কথা বলো। সূর্য।’ কোনো সাড়া নেই সূর্যের। চিৎকার করে ওঠে সোমদত্তা, ‘জল দাও কেউ। জল দাও।’ ক্ষণিকের ভুলে নীলাম্বর সোমদত্তার দিকে তাকাতেই মন্ত্রের বাঁধন আলগা হয়। লাশটা দ্বিগুণ শক্তিতে নীলাম্বরকে ছিটকে ফেলে আর-একটা বেডের নীচে। কাঁধের ব্যাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কাচের বয়াম ভাঙার শব্দ হয়। নীলাম্বরের ধাক্কায় বেডের ওপর থেকে আর-একটা মহিলার লাশ মুখ থুবড়ে পড়ে নীলাম্বরের বুকের ওপর। আঘাত পেয়ে একটু ক্লান্ত হয়েছে নীলাম্বর। তাই তখনই লাশটাকে সরিয়ে দিয়ে উঠতে পারেননি। নীলাম্বরের মুখের ওপরেই লাশটার চোখদুটো খুলে যায়। বীভৎস হিংস্র দৃষ্টি তার। মুহূর্তের মধ্যে অমানুষিক বিরাট একটা হাঁ করে সে। সেই লাশের গালের চামড়াগুলো চচ্চড় করে ছিঁড়ে, নাকটা মাঝখান থেকে আধখানা হয়ে একেবারে কপাল পর্যন্ত হাঁ-মুখ খুলে যায়। মুখের মধ্যে কুচকুচে অন্ধকার। দাঁত, জিভ কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বিশালাকার অজগরের মতো নীলাম্বরের পুরো মুখটাকে একবারে নিজের মুখগহ্বরে ঢুকিয়ে নেয়। দমবন্ধ হয়ে আসে। পরক্ষণেই বুঝতে পারেন নীলাম্বর তার মাথার খুলি আর গলায় চাপ পড়ছে। সেই করাল রাক্ষসী তার মাথাটাকে ছেঁড়ার চেষ্টা করছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটাং করে একটা শব্দ হতেই মুখের বাঁধন আলগা করে রাক্ষসী চিৎকার করে ওঠে। নীলাম্বরের শরীরের ওপর থেকে সরে পাশে ছিটকে যায় সেই রাক্ষুসে লাশ। হাঁফাতে হাঁফাতে নীলাম্বর দেখেন সায়ন লোহার রড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সায়ন নীলাম্বরের হাত ধরে বসায়। দেরি না করে দূরে পড়ে থাকা ব্যাগটার কাছে যায়। দ্যাখে ভেতরে রাখা গঙ্গাজলের বয়াম ভেঙে গেছে। সিঁদুরের কৌটো খুলে তার মধ্যে জল পড়ে গেছে। কঙ্কালের হাড় শুধু পড়ে আছে। সায়নের চোখ পড়ে সোমদত্তার দিকে। সে সূর্যের ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে মুখের মধ্যে হাওয়া দেবার চেষ্টা করছে। গালের ওপর চাপড় মারছে। সূর্যের জ্ঞান ফিরছে না। ইতিউতি ছড়িয়ে আছে শবদেহ। তাদের টপকে নীলাম্বর কাঁধের ব্যাগটা নিয়ে সূর্যের কাছে পৌঁছোয়। তারপর গঙ্গাজলে ভেজা কাপড়ের ব্যাগটা নিংড়ে যেটুকু জল পায় আঁজলায় নিয়ে মুখের ওপর ছেটাতে থাকে। সূর্য নড়ে ওঠে। চোখের পাতা খোলে। সায়ন বলে, ‘নীলাম্বরবাবু, এবার কী করব আমরা? কিছু একটা বলুন।’ নীলাম্বর জানান, ‘আমি যা জানি সব করে দেখেছি, কিচ্ছু হচ্ছে না। আমার হাতে যা ছিল প্রায় সব নষ্ট হয়ে গেছে।
— কী বলছেন?
সায়ন ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে। কাঁপতে কাঁপতে নীলাম্বর বলতে থাকেন, আদ্যাশক্তি, আদ্যাশক্তিই ভরসা।’ উঠে বসেছে সূর্য। সোমদত্তা আর সায়নের মুখে ভয়। বিশাল মর্গটা যেন গিলতে আসছে ওদের। হঠাৎ বুক কাঁপিয়ে আবার দুমদুম শব্দ। প্রথমে ওদের মনে হল ওই পিশাচ আবার জেগে উঠেছে। ফ্রিজারের দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে ভয় দেখাবার জন্য। কিন্তু তারপরেই কিছু মানুষের গলার আওয়াজ পায় বাইরে থেকে, ‘স্যার, ইনস্পেক্টর স্যার, ঠিক আছেন? দরজা খুলুন।’ সায়ন উঠে দরজার কাছে যায়। তার ফাঁকে মাটি থেকে নিজের ফোন কুড়িয়ে নিয়ে নীলাম্বর ফোন করতে থাকেন। মুখে শুধু একটাই কথা, ‘গুরুদেব, গুরুদেব বাঁচাতে পারে।’ ওদিকে সায়ন চিৎকার করে বলে, ‘আপনারা বাইরে থাকুন। দরজা ধাক্কাবেন না। আমরা এখান থেকে বললে দরজা ভেঙে ফেলবেন।’ নীলাম্বর কানে ফোন দিয়ে হাত উলটে ঘড়ি দেখেন। রাত দুটো পঁচিশ। ছটফট করতে থাকেন। ‘ধুস শালা, ফোনটা তো লাগছেই না।’ আবারও ফোন কানে দেন। বিড়বিড় করতে থাকেন, ‘গুরুদেব, গুরুদেব কোথায় আপনি। দয়া করো আদ্যাশক্তি।’
.
সারা ঘর যখন থমথমে। পিন পড়লেও তার শব্দ পাওয়া যাবে। সায়ন আর সূর্য যখন শ্যেনদৃষ্টিতে চারপাশে নজর রেখেছে, সোমদত্তা তখন নীলাম্বরের পাশে। ‘ফোন এখান থেকে লাগবে না নীলাম্বরবাবু।’ সোমদত্তার কথা কানে যেতেই নীলাম্বর সোমদত্তার মুখের দিকে তাকান।
— কোনোরকম নেটওয়ার্ক কাজ করবে না।
কথাটা শেষ হতেই খলখল করে এক শিহরন জাগানো পৈশাচিক হাসি শুনতে পায় সব্বাই। সায়নের নজর পড়ে একটা ডেডবডি মাটিতে শুয়েই শরীর কাঁপিয়ে হাসছে। সেই হাসির শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে আরও কিছু পৈশাচিক শব্দ। আরও কতগুলো লাশের শরীর থেকে বিকট হাসির শব্দ বেরিয়ে আসে। খুব দ্রুত সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ে ঘরের সব ক-টি মৃতদেহের মধ্যে। নীলাম্বর বুঝতে পারেন না ঠিক কী হতে চলেছে। ভয় পেয়ে যায় সোমদত্তা। অলৌকিকত্বের কাছে পুলিশি সাহস সব শেষ। মাটিতে বসেই পেছনের দিকে সরে যায় সে। হঠাৎ ঘরে যেন এক বিস্ফোরণ হল। তীব্র শীতল ঝোড়ো হাওয়ায় খুলে গেল প্রত্যেকটা ফ্রিজারের দরজা। ভেতরে থাকা শবদেহগুলো ছিটকে এসে পড়তে থাকল মাটিতে। যেন ফ্রিজারের ওপারে কেউ দাঁড়িয়ে শবদেহের হরির লুট দিচ্ছে। প্রতিটা লাশ ভয়ংকরভাবে বিকৃত। ফ্রিজারের মধ্যে থেকে ঝড়ের মতো বেরিয়ে আসছে তীব্র ঠান্ডা হাওয়া। মর্গ-জুড়ে প্রলয়ের ঘূর্ণি যেন তাথই তাথই করে নেচে বেড়াচ্ছে। এপারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা জীবিত মানুষকে শুষে নিতে চাইছে অন্ধকূপগুলো। সোমদত্তা ভয়ে আর্ত চিৎকার করে উঠল। সূর্য বলল, ‘ভয় পেয়ো না সোম। আমি আছি।’ সায়ন গলা তুলে বলল, ‘সূর্য তুমি ওইদিকে যাও।’ ছিটকে আসা মৃতদেহ বাঁচিয়ে সূর্য ঘরের আর-একদিকে চলে গেল। সোমদত্তা ছাড়া সকলের রিভলবার অন্ধকূপের দিকে তাক করা। নীলাম্বর মাটিতে বসে অনেকক্ষণ ওঠার চেষ্টা করেছে কিন্তু উড়ে আসা শবদেহের আঘাতে পারেননি। এবার শরীর ও মনের সব শক্তি এক করে উঠে দাঁড়াতে গেলেন। কিন্তু কোমর ভেঙে শরীরটাকে অর্ধেক তোলার পরেই নীলাম্বর হাওয়ায় ভেসে ছিটকে যেতে থাকেন একটা কুপের দিকে। হাত থেকে ছিটকে যায় মোবাইল। নিমেষের মধ্যে সায়ন আর সূর্য ‘নীলাম্বরবাবুউউউ’ বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নীলাম্বরের শরীর হাওয়ার প্রবল টানে মাটির সমান্তরালে শূন্যে ভেসে ফ্রিজারের অন্ধকূপে ঢুকে যেতে থাকে। কারা যেন তাদের সব শক্তি দিয়ে নীলাম্বরের পা ধরে টেনে ফ্রিজারের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে চাইছে। সায়ন আর সূর্য যতটা সম্ভব দ্রুত দৌড়ে লাফিয়ে নীলাম্বরকে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু সব চেষ্টাকে বিফল করে নীলাম্বরের শরীরটা হিমাঙ্কের নীচে নেমে যাওয়া হাওয়ার করাল টানে ফ্রিজারের মরণকূপে ঢুকে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ধাতব শব্দ তুলে দরজাটাও বন্ধ হয়ে যায়। সায়ন আর সূর্য ফ্রিজারের গায়ে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে। দমবন্ধ করা আতঙ্কে দেয়ালে পিঠ ঘষে মাটিতে বসে পড়ে সোমদত্তা। শরীর অসার হয়ে আসছে তার। সায়ন আর সূর্য গায়ের জোরে ধাক্কা দিয়ে চলেছে ফ্রিজারের পাল্লাতে। সায়ন দু-বার গুলি করে লক ভাঙার চেষ্টা করল। তবু পাল্লা খুলল না। বুক ঠেলে কান্না উঠে আসছে সায়নের। সূর্যের নজর পড়ে সোমদত্তার দিকে। ভয় পেয়ে যায় সূর্য। কেমন যেন পাথরের মতো নিষ্প্রাণ চোখে তাকিয়ে আছে সোমদত্তা। সূর্য দৌড়ে গিয়ে সোমদত্তার সামনে হাঁটুমুড়ে বসে পড়ে। ঘড়িতে পৌনে তিনটে। লাফিয়ে-লাফিয়ে সময় পেরোচ্ছে। আর মাত্র পনেরো মিনিট। সায়নের চোখ পড়ে সূর্য আর সোমদত্তার দিকে। সূর্য সোমদত্তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছে। সোমদত্তার মধ্যে কোনো অভিব্যক্তি নেই। চোখ ফেটে জল চলে আসে সায়নের। খুব ভুল করেছে সে। এদের দুজনকে এই ভয়ানক বিপদের মধ্যে না আনলেই ভালো হত। ওদের স্বপ্নটা শুরু হওয়ার আগেই শ্মশান হয়ে যাবে না তো?
.
সূর্য সোমদত্তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা ঘরের মধ্যে। নিশ্বাস নিলে মনে হচ্ছে নাকের ভেতর কে যেন বরফের ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে। সূর্য বলল, ‘সোম, এই সোম। আমি কিন্তু তোকে খুব ভালোবাসি। ভীষণ। তোকে ছাড়া আমি বাঁচব না, শুনতে পাচ্ছিস সোম?’ সোমদত্তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। সূর্য সোমদত্তার কপালে চুমু খায়। দু-ফোঁটা জল তার চোখ দিয়েও গড়িয়ে পড়ে। ‘সোম, আর মাত্র কিছুক্ষণ তুই আর আমি একসঙ্গে। তারপর জানি না রে। বাঁচব কিনা!’ সায়ন দূর থেকে দাঁড়িয়ে দুজনকে দেখছে। তীব্র অপরাধবোধ কুরে কুরে খাচ্ছে তাকে। সূর্য আগের চেয়ে আরও জোরে চেপে ধরল সোমদত্তাকে। সূর্যের কাঁধের ওপর সোমদত্তার মুখ চলকে এসে পড়ল। মাথার খোঁপা খুলে পিঠ ছাপানো ঢেউ খেলানো চুল এলিয়ে পড়ল সোমের। এতক্ষণ পাথর হয়ে থাকা সোমদত্তার চোখটা আস্তে আস্তে বিস্ফারিত হতে থাকে। সারা মুখের পেশিতে ছড়িয়ে পড়ে প্রচণ্ড ভয়। বিড়বিড় করে ওঠে সোমদত্তা, ‘স্যার, স্যারকে বাঁচাও। স্যার সরে যান।’ সূর্যের খটকা লাগে। সোমদত্তা কী বলছে এসব? বুকের ওপর থেকে সোমকে টেনে মুখের সামনে আনতেই সোমদত্তা বলে, ‘স্যার, স্যার!’ সূর্য এক ঝটকায় পেছনে ঘুরে সায়নের দিকে তাকায়।
.
সাদা ধবধবে দুটো চোখে রক্তের রেখা। থ্যাঁতলানো মুখ। ঠোঁট, দাঁত দু-দিকে বেঁকে গেছে। নাক বলে কিছু নেই। সূর্য আর সোমদত্তাকে নিজের দিকে চেয়ে থাকতে দেখে কিছু একটা সন্দেহ হয় সায়নের। ঠিক তখনই পেছনে কারও একটা উপস্থিতি টের পায়। এবার আর সময় নেয় না। এক ঝটকায় পেছনে ঘুরে সেই বিকট মূর্তি প্ৰত্যক্ষ করে। কিন্তু সেই মূর্তিও সময় দেয় না সায়নকে। গলা টিপে শূন্যে তুলে ধরে। প্রবল পরাক্রমে চোখে-মুখে আক্রোশ নিয়ে ছুটে আসে সূর্য। তাকেও আর-এক হাতে গলা টিপে শূন্যে তুলে ধরে। এবার যেন এক মুখ দিয়ে অনেক মানুষের গলা ঘড়ঘড় করে একসঙ্গে বেজে ওঠে, ‘আমার মুখের খাবার কেড়েছিস। আমি তোদের শেষ করে দেব।’ বলেই দুজনকে দু-দিকে ছুড়ে ফ্যালে। সায়নের দেহটা উড়ে গিয়ে একটা টিউবলাইটে লাগে। আলোর বিস্ফোরণের সঙ্গে টুকরো কাচের মতো মাটিতে ঝরে পড়ে সায়ন। সূর্যের দেহটা একটা ফাঁকা বেডের ওপর পড়তেই সেটা গড়িয়ে গিয়ে দেয়ালে ধাক্কা খায়। মাথায় লাগে সূর্যর। সোমদত্তা চিৎকার করে ওঠে, ‘নাআআআআআআ।’ সঙ্গে সঙ্গে সোমদত্তার হাতের রিভলবার থেকে গুলি ছিটকে যায় আত্মাকে লক্ষ্য করে। কিন্তু গুলি পৌঁছোবার আগেই সে হাওয়ার মতো উধাও হয়ে যায়। আবারও মর্গের মধ্যে ঝড় শুরু হয়। সব কিছু বন্ধ। তবু কোথা থেকে যে এত হাওয়া আসছে কেউ জানে না। সোমদত্তার কানে হঠাৎ দমবন্ধ হয়ে যাবার একটা শব্দ ভেসে আসে। দ্যাখে শান্তনুর আত্মা সূর্যর গলা টিপে ধরেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে মাথাটা ধরে তুলে আছাড় মারল। সূর্যর পাদুটো ভেজা কাপড়ের মতো মাটিতে ঝপাৎ করে আছড়ে পড়ল। কিন্তু সেই আত্মা সূর্যের টুটি টিপে আছে। সায়ন দৌড়ে এসে এক লাফ দিল পিশাচের ওপর। তাতে আত্মার কোনো ক্ষতি হল না। উলটে উড়ন্ত বল ধরে নেবার মতো আর-এক হাতে সায়নের গলা টিপে ধরল সে। সূর্যের মতো সায়নকেও আছাড় মারল। সোমদত্তা আবার ভয় পেয়ে গেল। শান্তনুর আত্মা অট্টহাসি হাসছে। পড়ে থাকা শবদেহগুলো কোনো এক অশুভ মন্ত্রবলে চোখের সামনে উঠে দাঁড়ায়। সোমদত্তাকে ঘিরে ধরেছে তারা। সোমদত্তার প্রাণটা এবার বেরিয়েই যাবে। পিশাচের মূর্তি ধরে লাশগুলো এগিয়ে আসছে সোমদত্তার দিকে। সোম পেছোচ্ছে। কতক্ষণ পেছোবে, কতটা পেছোবে সোমদত্তা জানে না। ওদিকে শান্তনুর আত্মা আবার দুজনকে আছাড় মারল। যন্ত্রণায় কাতরে উঠল দুটো শরীর। ভেতর থেকে কান্না ঠেলে এল সোমদত্তার। একের পর এক গুলি চালাল। শরীরগুলোয় ক্ষতের দাগ হল শুধু। আর কিছু হল না। সোমদত্তার পিঠ দেয়ালে ঠেকতেই হাত থেকে রিভলবারটা মাটিতে পড়ে যায়। ঠিক তখনই চোখে পড়ে দড়াম করে ফ্রিজারের দুটো দরজা হাট করে খুলে গেল। শান্তনু হাসি থামিয়ে বলল, ‘একটা ভেতরে তড়পে মরছে। এবার তোরাও তড়পাবি। তারপর মরবি। তন্ময়কে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না।’ শান্তনুর হাতে ঝুলতে থাকা সায়ন আর সূর্য যন্ত্রণায়, ভয়ে নিজেদের পিশাচের হাত থেকে ছাড়াতে পাদুটো শূন্যে ঝটকাতে থাকে। ফ্রিজারের দিকে এগিয়ে চলে শান্তনু। ওদিকে সোমদত্তার একেবারে কাছে এসে গেছে লাশগুলো। কিন্তু সোমদত্তা দ্যাখে ফ্রিজারের কাছে চলে গিয়েছে শান্তনুর আত্মা। সোমদত্তা সব শক্তি একত্রিত করে আর্তনাদ করে ওঠে। নিজের হাতদুটো সামনের দিকে আনতাবড়ি ছুড়ে দেয়। কয়েকটা লাশের গায়ে সোমদত্তার হাত লাগতেই তারা বুকফাটা চিৎকার করে ছিটকে দূরে চলে যায়। শান্তনুর আত্মাও ফ্রিজারের কাছ থেকে দু-পা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ধাক্কা লাগে তার বুকে। সোমদত্তা নিজেই অবাক হয়ে যায়। এটা কী করে সম্ভব হল? সামনে আরও যে ক-টা লাশ ছিল তাদের দিকেও হাত চালিয়ে দেয় সোমদত্তা। আবারও একই ফলাফল। যেন প্রচণ্ড যন্ত্রণা পেয়ে ছিটকে যাচ্ছে তারা। শান্তনু রাগে গর্জে উঠে আরও খানিক পিছিয়ে আসে। সোমদত্তা নিজের হাতদুটোকে উলটে-পালটে দেখে। সেটা দেখতে গিয়েই চোখে পড়ে যায় হাতঘড়ির সময়। রাত তিনটে বাজতে তিন মিনিট বাকি। যে চমৎকারই হোক। যে কারণেই হোক। এই হাতের আঘাত সহ্য করতে পারছে না অশুভ শক্তি। এটাই সত্যি। এতক্ষণ যে চোখ ভয়ে বুজে আসতে চাইছিল সেই চোখে এখন বিদ্যুতের তরঙ্গ। প্রচণ্ড আক্রোশে শান্তনুর আত্মার দিকে চোখ তুলে তাকায় সোমদত্তা। লাশগুলোর ছিটকে সরে যাওয়ায় তার মনের হারানো জোর ফিরে এসেছে। সোমদত্তা বইতে থাকা ঘূর্ণিঝড়ে ঢেউখেলানো এলোচুল উড়িয়ে রণরঙ্গিণী মূর্তি ধরে এগিয়ে যেতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক লাফে শান্তনুর আত্মার গলা টিপে ধরে সোমদত্তা। চোখের সামনে নীল আলোর বিদ্যুৎ-তরঙ্গ খেলে যায় আত্মার শরীরে। হাতের মুঠো আলগা হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সায়ন আর সূর্য। নিশ্বাসের কষ্ট হচ্ছে তাদের। সোমদত্তার চোখদুটো রাগে, ক্ষোভে রক্তবর্ণ। চুল উড়ছে প্রলয় বাতাসে। দড়াম শব্দে খুলে যায় নীলাম্বরকে গিলে নেওয়া অন্ধকূপের দরজা। ছিটকে বেরিয়ে আসে নীলাম্বরের শরীর সোমদত্তার শরীর ভীষণ কাঁপছে। অলৌকিক কোনো শক্তির স্রোত যেন সোমদত্তার অন্তর থেকে বজ্রপাতের মতো নিকষিত হচ্ছে। মুখের পেশিগুলো কাঁপছে রাগে। সজোরে এক ধাক্কা মারে শান্তনুর আত্মাকে। মানব-শরীরের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। ডান পা শূন্যে তুলে শান্তনুর বুকে প্রচণ্ড জোরে লাথি মারে সোমদত্তা। একশোটা পিশাচের আর্তনাদ বেরিয়ে আসে তার থ্যাতলানো মুখ দিয়ে।
ওদিকে সূর্য আর সায়ন নীলাম্বরকে তুলে ধরে বসায়। চুলে, মাথায়, মুখে, গায়ে বরফের কুচি। তারও নিশ্বাসের কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই কারও। চোখের সামনে যে অভাবনীয় অলৌকিকত্ব ঘটিয়ে চলেছে অসুর সংহার দৃশ্য তাকে নিশ্বাসে-প্রশ্বাসে আস্বাদন করতে থাকে তিনজন। নীলাম্বরের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। এ কী করে সম্ভব কেউ ভেবে পাচ্ছে না। এ কার শক্তি ভর করেছে সোমদত্তার ওপর? চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শবদেহ। তার মাঝে কোঁকড়ানো এলোচুল প্রলয়ের বাতাসে উড়িয়ে এ কে অশুভ সংহার করছে? মাটিতে পড়ে থাকা শান্তনুর আত্মার আবার গলা চেপে ধরে সোমদত্তা। আত্মাটাকে হাওয়ায় মতো হালকা মনে হয় তার। ভীষণ ক্রোধে প্রচণ্ড হুংকার করে শান্তনুকে হাওয়ার ওপর ঘুরিয়ে শূন্যে ছুড়ে দেয় সোমদত্তা। সকলের চোখের ওপর শরীরটা মিশকালো ধোঁয়া হয়ে বাতাসে মিশে হারিয়ে যায়। বদ্ধ মর্গে ঘুরতে থাকা প্রলয়ের ঘূর্ণিতে ছড়িয়ে পড়ে শান্তনুর আত্মার যন্ত্রণাদীর্ণ শেষ আর্তনাদ। ঘূর্ণির বাতাস হারিয়ে যেতে যেতে সঙ্গে করে নিয়ে যায় সেই অশুভ হাহাকার। থেমে যায় সব। বিস্ফারিত ক্রোধান্বিত নেত্রে ওপরের দিকে তাকিয়েই দাঁড়িয়ে থাকে সোমদত্তা। সে যেন এখনও অশুভ কিছু সংহারের নেশায় ফুলছে।
সূর্য বুঝতে পারে সোমদত্তা এখনও সর্বনাশের মধ্যে থেকে বেরোতে পারছে না। ‘সোমদত্তা’ বলে ডেকেই দৌড়ে কাছে যায়। সূর্যের কোলেই চেতনা হারিয়ে ঢলে পড়ে সে। চোখ বন্ধ হয়ে যায় তার।
.
জ্ঞান ফেরার পর সোমদত্তা বুঝতে পারে সে ড্যাফোডিলের কোনো একটা বেডে শুয়ে আছে। চোখ খুলতেই সূর্যকে দেখে। পাশেই সায়ন। দুজনের শরীরেই অল্পবিস্তর ফার্স্ট এড-এর চিহ্ন। তারপরেই চোখ যায় পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার দিকে। ‘স্যার আপনি!’ বলেই উঠে বসতে যায় সোমদত্তা। কমিশনার তড়িঘড়ি হাত দেখিয়ে থামিয়ে দেয়। ‘শোও শোও শোও। ওঠার কোনো দরকার নেই।’
— আমি ঠিক আছি স্যার।
সোমদত্তা উঠতে চাইছে দেখে নার্স এগিয়ে আসে, দাঁড়ান দাঁড়ান। আমি বেডটা তুলে দিচ্ছি।’ হাতল ঘুরিয়ে বিছানাটা আরামকেদারার মতো করে দিল নার্স। কমিশনার জিজ্ঞেস করল, ‘আমি সব শুনেছি সোমদত্তা। কী করে পারলে তুমি? শক্তি কোথায় পেলে?’সায়ন বলল, ‘তুমি তো ভয়ে গুটিয়ে ছিলে সোমদত্তা। হঠাৎ কী হল?’ সোমদত্তা শান্ত গলায় বলল, ‘আমিও জানি না স্যার। এটাও জানি না সেই আত্মা এখনও আছে কিনা।’
— সে চিরকালের মতো এই লোক ছেড়ে চলে গেছে মা।
গম্ভীর গলাটা দরজার কাছ থেকে ভেসে এল। সবাই তাকাল। নীলাম্বর ব্যানার্জি হাসিমুখে ঢুকে এলেন। সোমদত্তার পাশে বসলেন। বললেন, ‘কমিশনার সাহেব বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না। তবে আজ যে চোখের সামনে একটা অকল্পনীয় ঘটনা ঘটেছে সেটা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।’ কমিশনার একটু মুচকি হেসে সায়নের দিকে তাকাল। নীলাম্বর বললেন, ‘আমার হাত থেকে যখন সব কিছু বেরিয়ে গেছে, তখন মনে হল আমায় একমাত্র বাঁচাতে পারেন গুরুদেব। আমার গুরুদেব দিব্যশক্তিধারী শ্রীব্রহ্মস্বরূপানন্দ মহারাজ। সারা জীবন সাধনা করেই কাটিয়েছেন। আমি তাঁকেই ফোন করেছিলাম। জানতাম না উনি কোথায় আছেন। কোনো পাহাড়ি গুহায় বা হিমালয়ের কোথাও সাধনা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব নয়। কিন্তু যদি তিনি তা না করেন তাহলে অবশ্যই আমার ফোন ধরবেন। ওঁর বয়স প্রায় একশো দুই বছর। দেখলে কেউ বুঝতে পারবেন না। তা আমি তাঁকে ফোন করি। কিন্তু ওই অশুভ আত্মার প্রভাবে কোনো নেটওয়ার্কই লাগেনি। এমনকি মর্গের সিসিটিভিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি তিনবার গুরুদেবকে ফোন করেও পাই না। তারপরের ঘটনা তো সবাই জানেন। এই খানিক আগে গুরুদেব আমায় ফোন করলেন। বললেন, তুই ফোন করেছিলি বেটা। ফোন যখন করলি বাত কেন করলি না? আমি বললাম, আমি তো কিছুই শুনতে পাইনি। উনি নাকি ফোন ধরেছিলেন। অনেকবার কথা বলার চেষ্টাও করেছেন। আমিই সেসব শুনতে পাইনি। ফোনটা রেখে দেখলাম, গুরুদেব তিনবারই ফোন রিসিভ করেছিলেন। আমি তখন অতশত বুঝিনি। আমি কেন ফোন করেছিলাম সব খুলে বললাম। উনি খানিক চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, উপায় তো একটাই ছিল। কিন্তু সেটা এখন বলে আর কী লাভ? আর সেটা সম্ভবও নয়। আমায় জিজ্ঞেস করলেন কিন্তু তোরা বাঁচলি কী করে? আমি সব বললাম। উনি শুনে হা হা করে হাসলেন। বললেন, তোদের বাঁচার কী উপায় ছিল জানিস? আমি বললাম, কী গুরুদেব? বললেন, ওই আত্মা যা শক্তিসঞ্চয় করেছে এত বছর ধরে তাতে তুইও কিছু করতে পারতিস না। ওই আত্মা যখন আবার শরীর ফিরে পেয়েছে তখন সবার আগে ওর খিদে মেটাবে। তারপর অন্য কাজ। আর সেই খিদে ছিল ওর হত্যাকারীদের শেষ করে দেওয়া। তুই সেটা হতে দিসনি। তা-ই ও তোকে হত্যা করবেই। তোর সঙ্গে যারা আছে বা ওর পথে যারা যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে ও তাদেরও বাঁচতে দেবে না। একমাত্র কোনো কুমারী রজঃস্বলা নারী যদি ওর ওপর তিনবার আঘাত করতে পারে তাহলেই ওই আত্মা চিরকালের জন্য এই পৃথ্বীলোক থেকে বিদায় নেবে।’ কথাটা বলেই সোমদত্তার দিকে তাকায় নীলাম্বর। সোমদত্তাও এক মনে কথাগুলো শুনছিল নীলাম্বরের দিকে তাকিয়ে। এবার সে লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নেয়। কমিশনার, সায়ন আর সূর্যও একটু নড়েচড়ে ওঠে। নীলাম্বর বলেন, ‘এর কারণ কী জানো?’ সোমদত্তা আবার তাকায় নীলাম্বরের দিকে। নীলাম্বর বলেন, ‘রজঃস্বলা নারী হল আদ্যাশক্তির অংশ। তাই তুমি যখন মনপ্রাণ এক করে সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তারা বিনাশ হবে।’ চোখদুটো ছলছল করে উঠল সোমদত্তার। সূর্যের কানে কানে সায়ন বলল, ‘নামটা পালটে শিবশম্ভু করে নেবে নাকি?’ ফিক করে হেসে ফেলে সূর্য। কমিশনার যেন কিছু বলার জন্য উশখুশ করছিল। নীলাম্বর সেটা বুঝেই বলেন, ‘কমিশনার সাহেব বোধহয় কিছু বলতে চান!’ ব্যাস, এই সুযোগটাই খুঁজছিলেন কমিশনার, ‘হ্যাঁ, সত্যিই বলার আছে। এক, আপনার গুরুদেব অত দূর থেকে কী করে জানলেন যে, ওই আত্মা কী কাজ করতে চায়? সেটাও কী সাধনার বলে? আর দুই, পিরিয়ডস হলে যদি মেয়েরা আদ্যাশক্তির অংশই হয় তাহলে সেই সময় তাদের ঠাকুর পুজো করা, ঈশ্বর ছোঁয়া এসব বারণ হয় কেন?’
— আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব দিই আগে। কোনো শাস্ত্রে এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই যে রজঃস্বলা নারী ঈশ্বর ছুঁতে পারবেন না। এসব কিছু ধূর্ত ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের চালাকি। শুধুমাত্র নিজেদের শাসন কায়েম করে রাখার পন্থা মাত্র। জানি অনেকেই আমার ওপর ক্রুদ্ধ হবেন। তাতে আমার কিচ্ছু করার নেই। তবে আমার মন কী বলে জানেন? যে নারীর মধ্যে স্বয়ং আদ্যাশক্তি বিরাজ করছেন, যিনি সকল দেবতার পূজিতা সেই নারীর পুজো করার আর কী প্রয়োজন আছে?
কমিশনার মাথা নেড়ে বলেন, ‘ভালো যুক্তি। আর প্রথম প্রশ্নের উত্তর?’ নীলাম্বর গম্ভীর হয়ে যান। বলেন, ‘আমার লোভ। আমিও তো মানুষ!’
