মৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – ৭
সাত
এলোপাথাড়ি বসন্তের হাওয়া। মাথার ওপর চাঁদিফাটা রোদ। তবে চৌধুরি ভিলার চারপাশে গাছেদের ভরা সংসার বলে রোদের তাতটা এখানে একটু কম। বাড়িটার উঠোনে পা রাখতেই মৃন্ময়ীর গায়ের রোমগুলো খাড়া হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা কে জানে কেন কেঁপে-কেঁপে উঠছে। উঠোনে যে জায়গাটায় আত্রেয়ী পড়েছিল পুলিশ সেই জায়গাটাকে মার্ক করে ঘিরে দিয়েছে। এখনও রক্তের দাগ শুকিয়ে জমে আছে মাটিতে। উঠোনটাকে ঘিরে তিনদিকে ঘর, বারান্দা। কৃষ্ণপদ ঘোড়ুই সায়নের সঙ্গে দুজন সাব ইনস্পেক্টর ও দুজন কনস্টেবল পাঠিয়ে দিয়েছেন। এরা চারজনেই আজ ভোর রাতে এখানে এসেছিল। তাই সায়নের একটু সুবিধেও হবে। চলুন স্যার, আগে দোতলাটা ভালো করে দেখে নেবেন, মানে যে দিকটার ছাদ থেকে আত্রেয়ী সেনকে ফেলে দেওয়া হয়।’ সাব ইনস্পেক্টর বিপুলের কথায় সায়ন খানিক ভ্রূ কুঁচকে তাকাল ওদের দিকে। মৃন্ময়ী যেন একটু গুটিয়ে গেল। এরা কি ধরেই নিয়েছে যে মিহির আত্রেয়ীকে খুন করতে চেয়েছে? ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মৃন্ময়ীর চোখ পড়ে দোতলার বারান্দায়। একটি লোক ওপর থেকে ওদের খেয়াল করছে। ঠিক এই সময়েই আর-এক কনস্টেবল মোহন হঠাৎ বলল, ‘বিনায়কটা গেল কোথায়? গেটেও নেই!’
— কে বিনায়ক?
সায়ন জিজ্ঞেস করল। মোহন বলল, ‘এই বাড়ি দেখাশুনো করে।’ মৃন্ময়ীর কথাগুলো কানে যেতেই বলল, ‘ওই তো ওপরে বোধহয় উনিই দাঁড়িয়ে আছেন।’ সকলে ওপরের দিকে তাকাল। কিন্তু কেউ-ই কাউকে দেখতে পেল না। মৃন্ময়ীও যথেষ্ট অবাক হল। ‘এক্ষুনি তো ওপর থেকে আমাদের দেখছিলেন।’ বিপুল দু-বার হাঁক দিল বিনায়কের নাম ধরে। কিন্তু সাড়া দিল না কেউ। সায়ন ফোন করতে বলল বিনায়ককে। মোহন চেষ্টাও করল। কিন্তু এখানে মাঝেমধ্যেই টাওয়ার থাকে না। এখনও একই অবস্থা। একটু লজ্জাতেই পড়ল মৃন্ময়ী। লক-আপেও সে একজনকে দেখল অথচ তাকে কেউ দেখতে পেল না। এখানেও একই ঘটনা।
.
সায়ন বলল, চলুন আমরাই নিজেরা দেখে নিই।’ বলেই দলবল নিয়ে গটগট করে দোতলায় উঠে সায়নের মনে হল ছাদ থেকেই শুরু করা ভালো। কাঠফাটা রোদ। চোখ কুঁচকে আসছে সবার। সায়ন চোখে সানগ্লাস এঁটে নিল। ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল সারা ছাদ। তেমন কোনো বিশেষত্ব নেই। ছাদের ধারে পাঁচিল থাকলেও সেটা যথেষ্ট নীচু। এখান থেকে কোনো মানুষের পক্ষে কাউকে ঠেলে ফেলা এমন কিছু অসম্ভব নয়। মৃন্ময়ী সবার থেকে একটু তফাতে দাঁড়িয়ে। শুধু মাঝে মাঝে একটা করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে। এখন তার মনের মধ্যে অদ্ভুত রকমের শূন্যতা। কী দেখবে সে? কী-ই বা বুঝবে? এসব কিচ্ছু দেখার নেই তার। এখন শুধু একটাই লক্ষ্য, কী করে এই নরকের অন্ধকার থেকে মিহিরকে উদ্ধার করা যায়।
— এই বাড়িটা ভাড়া করতে গেলে কার সঙ্গে কনট্যাক্ট করতে হয়?
সায়নের প্রশ্নে উত্তর দিল বিপুল, বিনায়ক। তবে এ বাড়ির বর্তমান মালিক ব্যাঙ্গালোরে থাকেন।’
— কী নাম?
— মৈনাক দত্ত।
— কী করেন?
— আইটিতে আছেন সম্ভবত। একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।
— হুম!
সায়ন আরও একবার ঝুঁকে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখল। তারপর ঠোঁট উলটে বলল, ‘এত উঁচু থেকে পড়লেন অথচ বেঁচে রইলেন।’ মোহন ফুট কাটল, কথাতে বলে মেয়েদের জান আর কই মাছের প্রাণ, একই।’ সায়ন একটু কান এঁটো করা হাসি দিয়ে ঘুরে বলল, ‘বৃষভানু কোথায় ছিল রাতে?’ এমন কঠিন একটা নাম তুলে হট করে প্রশ্ন করাতে দুজন সাব ইনস্পেক্টর একটু থমকে গেল। প্রথমে মনে করতে পারল না এই বৃষভানুটি কে? সায়ন সেটা বুঝেই আরও পরিষ্কার করে বলল, ‘ওই যে ছেলেটি আত্রেয়ী সেনকে ঠেলে ফেলতে দেখেছে।’
— ও হো, শুটিংয়ের খাবার দিত যে? ওই তো, ওই দিকের বারান্দাতে ছিল। বিপুল আঙুল তুলে উলটোদিকের দোতলার বারান্দাটা দেখাল। সায়ন স্বচক্ষে জায়গাটা দেখে মনে মনে বেশ হতাশই হল। ও মনেপ্রাণে চাইছিল সাক্ষীদের বলা কোনো কিছু একটা মিথ্যে হোক। তাতে দাদাভাইকে ছাড়াতে সুবিধে হবে। কিন্তু এটাও মিলে গেল। ওই বারান্দা থেকে এই ছাদ একেবারে স্পষ্ট দেখা যায়। এমনকি ঘরের মধ্যে থেকে উঁকি দিলেও এই ছাদের ধারে কী হচ্ছে সেটা বোঝাও অসম্ভব নয়। বেশ বড়োসড়ো একটা শ্বাস নিয়ে সায়ন বলল, ‘চলুন, এখানে বিশেষ কিছু নেই। নীচের ঘরগুলো দেখি।’
— চলুন স্যার।
বিপুল এগোতে গেল। সায়ন ‘একী! বউদি কোথায় গেল?’ বলে থমকে গেল। মৃন্ময়ী একটু তফাতেই দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এখন আর নেই। ‘বিরাট ছাদ! ওইদিকটায় আছেন বোধহয়।’ বলেই বিপুল ছাদের উলটোদিকটায় গেল। পেছন পেছন বাকিরা। কিন্তু কোথায় কী? বসন্তের এলোমেলো হাওয়ার ছুটোছুটি আর আশেপাশের গাছগাছালির দুলন্ত শাখার ছায়া ছাড়া সারা ছাদে কিসসু নেই, কেউ নেই। সায়ন গলা তুলে ডাকতে থাকে। বিপুলের সঙ্গে মোহনও ‘মিসেস সরখেল মিসেস সরখেল’ বলে ডাকাডাকি করে। মৃন্ময়ীর গলা পাওয়া যায় না। তড়িঘড়ি দোতলায় নেমে আসে সকলে। ডাকাডাকি হাঁকাহাঁকি চলতে থাকে। দ্রুততার সঙ্গে প্রতিটা ঘর খুলে ভালো করে দেখা হয়। সায়নের ভ্রূ দুটো ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছে ক্রমশ। অচেনা জায়গায় বউদি গেল কোথায়? আর গেলই যখন এত ডাকাডাকিতেও সাড়া দিচ্ছে না কেন? তন্ময়ের ঘর, অমিতাভ মল্লিকের ঘর এবং সঙ্গে আরও দুটো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজে সকলে ঢুকে পড়ল বারান্দার একদম কোণের ঘরটায়। ঢুকেই সায়নের মাথায় যেন বাজ পড়ে। দেখে মাটিতে অচৈতন্য হয়ে লুটিয়ে আছে মৃন্ময়ী। কোনোরকমে ঘরের বিছানায় তুলে চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিল সবাই। ধীরে ধীরে চোখ মেলল মৃন্ময়ী। চোখে কেমন যেন ঘোর লেগে আছে ওর। ‘বউদি ঠিক আছ? বউদি, চোখ খোলো। আমি সায়ন।’ গালদুটো ধরে নাড়াচ্ছে, গালে আঘাত করছে। যাতে মৃন্ময়ীর জ্ঞান ফিরে আসে তাড়াতাড়ি।
মৃন্ময়ী উঠে বসল। মাথাটা কেন যে টলছে এত। সায়ন বলে চলেছে, ‘তুমি এখানে এলে কেন? কখনই-বা এলে?’
— আপনার শরীর কী খুব খারাপ করছে মিসেস সরখেল? ডাক্তারের ব্যবস্থা … মৃন্ময়ী হাত তুলে বিপুলকে থামিয়ে দিল। মাথা নেড়ে বলল, ‘আমি ঠিক আছি। ব্যস্ত হবেন না।’ সায়ন জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি এখানে এলে কী করে? কেনই-বা এলে?’
— জানি না।
— জানো না! এতগুলো ঘর পেরিয়ে এই কোণের ঘরেই কেন এলে? আর অজ্ঞানই-বা হলে কী করে?
— আমি অজ্ঞান হয়েছিলাম?
— হুমম।
মৃন্ময়ীর কপালে ঘাম। ক্লান্তিতে চোখদুটো ছোটো হয়ে গেছে। শরীরটা যেন আর চলছে না। তবু সে বলল, ‘আমার কিচ্ছু মনে পড়ছে না সায়ন। এটা কার ঘর? কে নিয়ে এল আমায়?’ সায়ন বলল, ‘তখন কত করে বললাম কিছু খেয়ে নাও। দুপুর তিনটে বেজে গেল। পেটে কিচ্ছু পড়েনি। নিশ্চই গ্যাস ফর্ম করে গেছে।’ এবার বেশ বিচলিত দেখাল মৃন্ময়ীকে। বলল, ‘সোনাই? সোনাই খেয়েছে? মুনাইয়ের কাছে ঝামেলা করেনি তো?’
— আমি এক্ষুনি ফোন করে খবর নিচ্ছি। তুমি নিজেই কথা বলো।
বলতে বলতে পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে টাওয়ারের জায়গায় ক্রস চিহ্ন। ‘এ বাবা! এখানে তো টাওয়ারই নেই। বাইরে গেলে বোধহয় টাওয়ার পাব। তখন কথা বলে নিয়ো।’ মৃন্ময়ীর ভেতরে ছটফটানিটা আরও বেড়ে গেল। ছেলেকে ছেড়ে এতক্ষণ কোথাও কোনোদিন যায়নি সে। সায়ন পুরো ঘরটাকে একটু ভালো করে নজর করতে করতে বলল, ‘কাল রাতে এ ঘরে কে ছিল বিপুলবাবু?’
— আজ্ঞে মিহিরবাবু ছিলেন।
সায়ন আর মৃন্ময়ী দুজনেই যেন অজানা কারণে ধাক্কা খেল। তাই বেখেয়ালে দুজনেই একসঙ্গে বলে উঠল, ‘মিহিরবাবু!’ সায়ন বলল, ‘মানে দাদাভাই ছিল এই ঘরে?’
— আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার।
সায়ন নীরবে মৃন্ময়ীর দিকে চাইল। এই মুহূর্তে সায়ন আর মৃন্ময়ীর মনের প্রশ্ন হুবহু এক, এই ঘরে মিহির ছিল আর এখন মৃন্ময়ীও এই ঘরে এল! এবং অজ্ঞানও হল! কীভাবে? এ কি কোনো কাকতালীয় ঘটনা? নাকি আবারও কোনো …! মনও যেন অলৌকিক শব্দটা উচ্চারণ করতে ভয় পেল। তিলোত্তমা, বরেন, মিহির চ্যাটার্জি, মহীতোষ কেউ-ই মুছে যায়নি মন থেকে। পৈশাচিক নিয়তির মতো এখনও জ্বলজ্বল করছে মনের মণিকোঠায়।
.
বুকের ভেতরের পাখিটা ছটফট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তার এখন কান্না নেই, প্রতিবাদও নেই। আসলে কোনো কিছুই তো মিহিরের হাতে নেই। কী হল? কেন হল? প্রশ্নগুলো মরদেহের পাশে ভনভন করতে থাকা মাছির মতো মাথার চারপাশে খানিক আগে পর্যন্তও ঘুরছিল। কিন্তু এখন মিহির শুধুই রক্তমাংসের পুতুল। ঢং ঢং করে বারকয়েক একটা শব্দ কানে এল মিহিরের। ও যেন নিজের শরীরের মধ্যে ফিরল। লোহার গরাদের বাইরের দিকে চেয়ে দেখল কুচো কুচো চুল সাজানো টাকের নীচে দু-জোড়া শিকারি চোখ তার দিকে দেখছে। সেই চোখে চোখ পড়তেই ধমকের সুরে বাঁধা গলাটা বলে উঠলেন, ‘কী ব্যাপার? খাবারটা খাননি কেন?’
খাবার? ভ্রূগুলো কুঁচকে গেল মিহিরের। সামনের মাটিতে তাকিয়ে দেখল, চারটে রুটি আর একটা সবজির ঘ্যাঁট অ্যালুমিনিয়ামের থালায় পড়ে আছে। ক্ষুধা, তৃষ্ণার অনুভূতিগুলো মরে গেছে মিহিরের। কখন থেকে খাবার পড়ে আছে খেয়ালই নেই। বাইরে থেকে কৃষ্ণপদ বিচ্ছিরি ধমকের সুরে আবার বলল, ‘অনশন করে লাভ নেই মিহিরবাবু। যা অপরাধ করেছেন তাতে কম করে যাবজ্জীবন তো বটেই।’
এবার এক ফোঁটা জল শুধু লজ্জায় চোখের কোল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল মিহিরের কৃষ্ণপদ তার বাক্যি ঝেড়েই চলেছেন, ‘আপনার ওই ভগ্নিপোত ছাড়া আপনার হয়ে তো কেউ কতাই কইছে না। আপনার অফিস থেকেও এখনও তেমন কোনো স্টেপ নেয়নি। তার মধ্যে ওই লোকটা, কী যেন ষাঁড়ের মতো নাম! খাবার দেয়। হ্যাঁ, বৃষভানু!’ নামটা উচ্চারণ করেই খ্যাকখ্যাক করে নিজের মনে হেসে কৃষ্ণপদ বললেন, ‘ওই খয়াখোপ্পুরে চেহারা তার নাম নাকি বৃষভানু। যাইহোক, সে তো পুরো ঘটনাটাই চোখের সামনে
.
বেআক্কেলে মোবাইল কথাটা শেষ করতেই দিল না কৃষ্ণপদকে। ‘ধুউর বাল, এসময়ে আবার …’ থুথু ছোঁড়ার মতো কথাগুলো বলতে বলতে ফোন ধরলেন। ‘হ্যালোওওওও! বলছি … কে বলছেন? বৃষভানু! বাওয়া আপনি তো মশাই একশো বছর বাঁচবেন।’ যে মিহির এতক্ষণ ভেজা ন্যাতার মতো পড়েছিল, সে বৃষভানুর নাম শুনে বিদ্যুৎ-তরঙ্গের মতো ওসির দিকে তাকাল।
— বলুন কী কথা? অ্যাঁ? কী বলেননি? হ্যালো … হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছেন?
মিহির বুঝতে পারে নেটওয়ার্কের কোনো প্রবলেমের জন্য ওসির কানে কিছুই পৌঁছোচ্ছে না। খামোকা পায়চারি করছে আর এক কান চেপে আর-এক কানে কোনো গোপন তথ্য শুনতে চাইছে। ‘হ্যাঁ কী বলবেন বলুন। আরে বাবা পাচ্ছি শুনতে। এক কাজ করুন আপনি হোয়াটস্যাপ করুন। নেটওয়ার্কে প্রবলেম … হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে, রাতে জানান। … হ্যালো, হ্যালো, হ্যাঁ হ্যাঁ রাতে পৌঁছে বলুন। ফোনটা কাটতে কাটতে নিজেই বিড়বিড় করলেন বোলপুর থানার ওসি, শালা নেটওয়ার্কও বটে।’ বলেই মিহিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘খেয়ে নিন। নইলে ধকল সইবেন কী করে?’ বলে চলে যেতে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই ভারাক্রান্ত কণ্ঠে ডেকে উঠল মিহির, ‘শুনুন।’ ফিরে তাকালেন কৃষ্ণপদ, ‘কিছু বলবেন?’
— বৃষভানু কী বলল? ও কি আরও কিছু …
— হ্যাঁ। কী একটা যেন বলা হয়নি বলল। সেটা বলতেই ফোন করেছিল বাট নেটওয়ার্ক প্রবলেম। তাই বলল রাতে বাড়ি পৌঁছে জানাবে।
মুখে পুচ করে একটা শব্দ করে কৃষ্ণপদ বললেন, ‘ভয় করছে? আরও কিছু ডিটেইলস যদি ও আপনার বিরুদ্ধে বলে তাহলে তো …’ কথাটা মুখে বললেন না বটে তবে চোখের সঙ্গে মুখের যা ভঙ্গিমা করলেন তাতে পরিচালক মিহিরের বুঝতে অসুবিধে হল না যে উনি মিহিরের জীবনটাই শেষ এমন ইঙ্গিতই করলেন। বুটের শব্দ তুলে কৃষ্ণপদ চলে গেলেন। মিহিরের শান্ত চোখদুটোয় যে নিস্তরঙ্গ ভাব ছিল সেখানে এখন ঢেউ উঠছে প্রবল। মুখের দু-পাশে শিরায় চাপ পড়েছে। তারাও চামড়া ভেদ করে বেরোতে চাইছে।
