Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প138 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. অফিস – মেকু কাহিনী

    আম্মার অফিসের নিচে একটা ঘর পরিষ্কার করে সেখানে মেঝেতে নরম কার্পেট বসানো হয়েছে। খানিকটা অংশ ঘিরে রেখে সেখানে আটটা বাচ্চা ছেড়ে দেওয়ার পর সেখানে বিচিত্র একটা দৃশ্য দেখা গেল। বাচ্চাগুলি কিলবিল করে সেখানে নড়তে শুরু করে। যেগুলি বেশি ছোট সেগুলি চিৎ হয়ে শুয়ে রইল। যেগুলি একটু বড় হয়েছে তার উপুড় হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল, কেউ কেউ উপুড় হয়ে সাংঘাতিক একটা কাজে করে ফেলেছে সেরকম ভান করে মাথা নাড়াতে শুরু করল। যারা আরো একটু বড় হয়েছে তারা হাচড় পাচড় করে কিংবা গড়িয়ে গড়িয়ে নড়তে চড়তে শুরু করে। আকজনের উপর দিয়ে আরেক জন পিছলে বের হয়ে যাচ্ছে, একজন গড়িয়ে যাচ্ছে, এক জন আরেক জনের পা ধরে রেখেছে, কান মাড়ি দিয়ে কামড়ে ধরার চেষ্টা করছে, নাকের মাঝে আঙুল ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে – সব মিলিয়ে একটি অত্যন্ত বিচিত্র দৃশ্য। কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর থেকেক শুরু করে দারোয়ান পর্যন্ত সবাই এই মজার দৃশ্য দেখতে এল। এসে কেউ সেখান থেকে সরে যেতে চাইল না, দাঁড়িয়ে হি হি করে হাসতে লাগল। শেষ পর্যন্ত আম্মা এসে সবাইকে বললেন, “এখানে কী হচ্ছে? সবাই মনে হচ্ছে তামাশা দেখতে এসেছেন? আপনারা কখনো বাচ্চা দেখেন নি?”
    বয়স্ক ম্যানেজিং ডিরেক্টর হি হি করে হাসতে হাসতে কোনোমতে হাসি থামিয়ে বললেন, “দেখব না কেন? এক শ বার দেখেছি। কিন্তু আটটা এক সাথে ছেড়ে দিলে যে এরকম মজা হয় তা কখনো দেখি নি!”
    দেখা গেল এরকম সময়ে একটা ছোট বাচ্চার উপর চেপে বসে আরেকটা বাচ্চা তার নাক কামড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। নেহায়েৎ ছোট বাচ্চা বলে দাঁত গজায় নি এবং মাড়ি দিয়ে কোনো কিছু কামড়ে ধরা বেশ কঠিন ব্যাপার কাজেই সে বিশেষ সুবিধে করতে পারল না, এবং সেই দৃশ্য দেখে ম্যানেজিং ডিরেক্টর থেকেক শুরু করে দারোয়ান পর্যন্ত সবাই হো হো করে হেসে উঠল। আম্মা তখন রেগে উঠে বললেন, “ব্যাস অনেক হয়েছে। এখন সবাই নিজের কাজ কর্ম করতে যান।”
    সবাই বেশ মনক্ষুণ্ণ হয়েই নিজের কাজে ফিরে গেল। এই ঘরটিতে আটটা বাচ্চাকে দেখে শুনে রাখার জন্যে রেনু নামে কমবয়সী মা’টিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে খুব খুশি হয়ে এই কাজটি করতে রাজি হয়েছে। কাজ শুরু করার একটু পরেই অবশ্য রেনু আবিষ্কার করেছে কাজটি খুব সহজ নয়। আট জন বাচ্চার মাঝে একজন না হয় অন্য একজন খানিকক্ষণ পর পরই কোনো কারণ ছাড়াই গলা ছেড়ে কাঁদতে শুরু করে। তাকে দেখে বা তার কান্না শুনে তখন অন্য আরেক জন কাঁদতে শুরু করে এবং তাকে দেখে আরেকজন। কিছুক্ষণের মাঝেই সবাই মিলে গলা ছেড়ে কাঁদতে শুরু করে, তখন তাদের সামলানো খুব দুরূহ ব্যাপার। রেনু অবশ্যি বাচ্চাদের শান্ত করার কায়দা কানুন খুব ভালো জানে কিছুক্ষণের মাঝেই তাদের শান্ত করে ফেলতে পারে। এক দুই দিনের মাঝেই সে আট জন বাচ্চাকে দেখে শুনে রাখার ব্যাপারে মোটামুটি একটা রুটিন দাঁড় করিয়ে ফেলল। কখন কে ঘুমাবে কে জেগে থাকবে, কার মা এসে দুধ খাওয়াবে এই ব্যাপারগুলিও সে আগে থেকে ঠিক করে ফেলল। দেখতে দেখতে কোম্পানির সবাই ব্যাপারগুলিতে মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে গেল। আম্মাও মেকুকে নিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেলেন। রোজ অফিস থেকে বাসায় যাবার সময় মেকুকে বগল দাবা করে নিয়ে যান। গাড়িতে বসে কোলে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “কীরে মেকু সোনা? তোদের বাচ্চাদের হাট কেমন চলছে?”
    মেকু তখন মাড়ি বের করে একটা হাসি আম্মাকে উপহার দেয়। আম্মা বুঝতে পারে সবকিছু ভালোভাবে চলছে।
    তবে দেখা গেল পৃথিবীতে কোনো ভালো জিনিসই একটানা চলতে পারে না। মেকুর বেলাতেও সেটা সত্যি প্রমাণিত হল। সপ্তাহ দুয়েক পর দেখা গেল প্রজেক্ট শেষ করার জন্যে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে, রেনুকে আর বাচ্চাদের কাছে বসিয়ে রাখা যাচ্ছে না – তাকেও ডাটা এন্ট্রি শুরু করতে হবে। বাচ্চাদের দেখে শুনে রাখার জন্যে সেলস ডিপার্টমেন্ট থেকে দুরানী নামে এক মহিলাকে আনা হল, কাজ বুঝিয়ে দিতে এল অফিস সেক্রেটারি। দুরানী ছোট ঘরটিতে আটটি বাচ্চাকে এভাবে কিলবিল করতে দেখে রীতিমত আঁতকে উঠল, বলল, “এগুলি কী?”
    সেক্রেটারি মহিলাটি বলল, “বাচ্চা।”
    “বাচ্চা এত ছোট হয় নাকি?”
    “হ্যা। আরো ছোট হয় এখন একটু বড় হয়েছে।”
    “এদেরকে এখানে আনার দরকার কী ছিল?”
    সেক্রেটারি মহিলা একটু অধৈর্য হয়ে বলল, “আরেকটু হলে আমাদের প্রজেক্টের বারটা বেজে যেত। শাহানা ম্যাডাম এই ব্যবস্থা করে কোনোমতে কাজ উদ্ধার করেছেন।”
    দুরানী মাথা নাড়ল, বলল, “আমার আন্দাজ করা উচিত ছিল। নিশ্চয়ই শাহানা ম্যাডামের কাণ্ড।” তারপর গলা নামিয়ে বলল, “পুরোপুরি মাথা খারাপ।”
    “কেন? মাথা খারাপ হবে কেন?”
    “আরে, তিন মাসের ম্যাটারনিটি লিভ পেয়েছে, কোথায় শুয়ে বসে কাটাবে তা না একমাস পরে বাচ্চাকে বগলে নিয়ে অফিসে চলে এসেছে!”
    “না এলে কী বিপদ হত, জান?”
    “আমার এত কিছু জানার দরকার নেই। কী করতে হবে বল?”
    “এই বাচ্চাদের দেখে শুনে রাখ। ঘুমের সময় হলে ঘুম পাড়িয়ে দাও। বাথরুম করে দিলে কাপড় বদলে দাও।”
    দুরানী চিৎকার করে বলল, “বাথরুম করে দিলে – এই গুলি বাথরুমও করে নাকি?”
    সেক্রেটারি মেয়েটা হেসে বলল, “ছোট বাচ্চা বাথরুম করবে না? ঘণ্টায় ঘণ্টায় এরা বাথরুম করে।”
    দুরানী মুখ শক্ত করে বলল, “ছোট বাথরুম নাকি বড় বাথরুম?”
    “ছোট বড় মাঝারী সবরকম বাথরুম।”
    “মাঝারী? মাঝারী মাথ্রুম আবার কোনটা?”
    “খাওয়ার সময় ছোট বাচ্চাদের কোনো হিসেব থাকে না, যেটুক দরকার তার থেকে বেশি খেয়ে হাঁসফাঁস করতে থাকে। তখন ঢেকুর তোলাতে হয়, ঢেকুর না তুললে অনেক সময় খাবার উগলে দেয়।”
    দুরানী কেমন যেন শিউরে উঠল। বলল, “ তার মানে দাঁড়াল এই বুয়াদের আণ্ডা বাচ্চাদের পেশাব বাথরুম বমি আমাকে পরিষ্কার করতে হবে?”
    “বুয়া? বুয়া বলছ কেন? শাহানা ম্যাডামের বাচ্চাটাও আছে এখানে।”
    “শাহানা ম্যাডামের বাচ্চার কথা ছেড়ে দাও। শাহানা ম্যাডাম হচ্ছে পাগল। বাচ্চার নাম রেখেছে মেকু। মেকু একটা নাম হল?”
    সেক্রেটারি মহিলা বলল, “কেন? খারাপ কী নামটা। মেকু শুনতে তো আমার ভালোই লাগে।”
    “তোমার ভালো লাগলেই তো হবে না। সবার ভালো লাগতে হবে। শুধু মেকু নাম রাখে নি, মেকু নাম রেখে সেই বাচ্চাকে বুয়াদের বাচ্চাদের সাথে ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে অন্য বাচ্চাদের সাথে কিলবিল করছে!” দুরানী আঙুল দিয়ে বাচ্চাদের দেখিয়ে বলল, “ দেখো, এখানে দেখে বোঝা যায় কোনটা শাহানা ম্যাডামের বাচ্চা আর কোনটা বুয়াদের বাচ্চা? বোঝা যায়?”
    সেক্রেটারি মহিলা মাথা নেড়ে বলল, “না, বোঝা যায় না। গরিবের বাচ্চা আর বড়লোকের বাচ্চার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।”
    “ছিঃ ছিঃ ছিঃ ! বুয়াদের বাচ্চার সাথে কামড়া কামড়ি করছে।”
    সেক্রেটারি মহিলা ভুরু কুঁচকে বলল, “আমি একটা জিনিষ বুঝতে পারছি না। তুমি একটু পরে পরে বুয়াদের বাচ্চা বলছ কেন? এরা কেউ বুয়া নয়। সবাই ডাটা এন্ট্রি অপারেটর।”
    দুরানী নাক দিয়ে ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে বলল, “রাখো তোমার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। এরা সবগুলি ছিল কাজের বুয়া। তোমার মাথা খারাপ শাহানা ম্যাডাম ট্রেনিং দিয়ে এদেরকে তৈরি করেছে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। লাভের মাঝে লাভ কী হল? এখন ঢাকা শহরে আর কাজের বুয়া পাওয়া যায় না।”
    সেক্রেটারি মহিলা বলল, “তোমার যা খুশি হয় বল। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে তোমাকে তোমার কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যে। আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। তুমি এই বাচ্চাগুলি দেখে রাখ।”
    সেক্রেটারি মহিলা চলে যাবার পর দুরানী চোখে বিষ ঢেলে বাচ্চাগুলির দিকে তাকাল। ঠিক তখন একটি বাচ্চা আরেকটি বাচ্চার পেটে খামচি দিয়ে তাকে কাদিয়ে দিল। তার কান্না শুনে পাশের বাচ্চাটি কেঁদে উঠল, এবং এই দুজনের কান্না শুনের এক সাথে অন্য সবাই কাঁদতে শুরু করে – একেবারে শেয়ালের ডাকের মত। দুরানী কী করবে বুঝতে না পেরে মুখ বিকৃত করে একটা ধমক দিয়ে বলল, “চোপ । আমি বলছি চোপ! টু শব্দ করলে আমি কিন্তু গলা চেপে ধরব।”
    বাচ্চাগুলি দুরানীর কথায় কোনো গুরুত্ব না দিয়ে মুখ হাঁ করে বিকট গলায় কাদতেই লাগল।
    সেদিন সন্ধেবেলা বাসায় যাবার সময় আম্মা মেকুকে বগলদাবা করে জিজ্ঞেস করলেন, “ মেকু, তোদের নতুন মহিলাটি কী রকম?”
    মেকু মুখ ভেংচে জিব বের করে ভ্যারররররররর ধরনের একটা শব্দ করল। আম্মা বুঝতে পারলেন দুরানীকে পছন্দ হয় নি – হওয়ার কথাও না। সব সময়ে সবজায়গাতেই যে পছন্দের মানুষ পাওয়া যাবে তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    পরদিন সকাল বেলাতেই দুরানী চেষ্টা করল আটটা বাচ্চাকে আলাদা জায়গায় শুইয়ে রেখে ঘুম পাড়িয়ে দিতে। ছোট বাচ্চারা দিনের বড় একটা সময় ঘুমিয়ে কাটায় কিন্তু দেখা গেল যখন তাদের জোর করে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করানো হয় তখন কেউই ঘুমাতে চায় না। তাদের একজনকে শোয়ানোর চেষ্টা করানো হলে অন্য আরেক জন উঠে পড়ে এবং তারস্বরে চিৎকার শুরু করে। দুরানী খানিকক্ষণ চেষ্টা করে সেদিনের মতো হাল ছেড়ে দিল।
    পরদিন দুরানী সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা পরিকল্পনা করে এল। বাচ্চাগুলিকে রেখে যাওয়ার সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে দিয়ে সে তার ব্যাগ খুলে একটা ওষুধের শিশি বের করল। ওষুধটি কাশির ওষুধ – খেলে নাকি ঝিমুনির মতো হয়। ছোট বাচ্চাদের এক চামুচ খাইয়ে দিলে তারা নাকি কলাগাছের মতো ঘুমায়। ব্যাপারটা এখনি পরীক্ষা হয়ে যাবে। দুরানী একটা একটা বাচ্চাকে ধরে তার মুখে এক চামুচ করে ওষুধ ঢেলে দিলে এবং বাচ্চাগুলি সেটা কোঁত করে গিলে নিল। কফ সিরাপের ঝাঁজালো স্বাদে মুখ বিকৃত করে একটু আপত্তি করলেও কোনো কান্নাকাটি করল না। কিন্তু মেকুকে ওষুধ খাওয়াতে গিয়েই দুরানী বিপদে পড়ে গেল। মেকুর যে এ ব্যাপারে আপত্তি থাকতে পারে সে ব্যাপারে দুরানীর সন্দেহ করার কোনো কারণ ছিল না, মুখের কাছে চামুচটা নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সে চুপ করে শুয়ে রইল। শেষ মুহূর্তে সে তার জোড়া পায়ের লাথি দিয়ে ওষুধের চামুচ এবং বোতলটা এক সাথে ফেলে দিল। চটচটে ওষুধে দুরানীর শাড়ি এবং ঘরের কার্পেট মাখামাখি হয়ে যায়।
    দুরানী চিৎকার করে বলল, “পাজি ছেলে।”
    মেকু তার জিব বের করে, ভ্যাররররররর করে একটা বিদঘুটে শব্দ করল। দুরানী তার শরীর এবং কার্পেট থেকে ওষুধ মোছার চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু খুব একটা লাভ হয় না, সবজায়গায় কটকটে একটা লাল রং লেগে যায়। দুরানী এবারে চামুচে কফ সিরাপ নিয়ে দ্বিতীয়বার এগিয়ে এল। আগে থেকে পা এবং হাতকে চাপা দিয়ে রেখে সে মেকুর মুখের কাছে এগিয়ে গেল কিন্তু মেকু কিছুতেই মুখ খুলতে রাজি হল না। মাড়িতে মাড়ি চেপে মুখ বন্ধ করে রাখল, জোর করে খাওয়াতে গিয়ে মেকুর মুখে এবং শরীরে ওষুধে মাখামাখি হয়ে গেল।
    দুরানী এবারে কেমন জানি খেপে যায়, যেভাবেই হোক ওষুধ খাইয়ে ছাড়বে। তাকে কোলে তুলে নিয়ে দুই পা বগলে চেপে ধরল, শরীর দিয়ে দুই হাত আটকে রাখল এবং এক হাত দিয়ে গালে চাপ দিয়ে মুখ খুলে অন্য হাত দিয়ে মুখের ভিতরে ওষুধ ঢেলে দিল। দুরানী যখন যুদ্ধ জয় করার ভঙ্গি করে মেকুকে ছেড়ে দিচ্ছিল মেকু তখন খুব নিশানা করে পুরো কফ সিরাপটুকু দুরানীর চোখে কুলি করে দিল। দুরানী মেকুকে কার্পেটে ফেলে দিয়ে চিৎকার করে ছোটাছুটি করতে থাকে, চোখ ধোয়ার জন্যে দরজা খুলে বাথরুমে ছুটে যায়। চোখ মুছে যখন ফিরে এসেছে ততক্ষণে কফ সিরাপের শিশি উপুড় করে পুরো ওষুধটা ঢেলে দেওয়া হয়েছে – সেই চটচটে কফ সিরাপে একাধিক বাচ্চা গড়াগড়ি খাচ্ছে, সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে মেকু।
    দুরানীর রাগ এবার দুশ্চিন্তায় রূপ নিল। তার পরিকল্পনায় ছিল সবাইকে এক চামুচ কফ সিরাপ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া – তিনজনকে সে খাইয়েও দিয়েছিল, তারা বেশ শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তারপরেই মেকুকে খাওয়াতে গিয়ে বিপত্তি, খাওয়ানো তো যায়ই নি উলটো সেই কফ সিরাপ মাখামাখি করে একটা বিতিকিচ্ছি অবস্থা করে ফেলেছে। বাচ্চাদের মায়েরা যখন আসবে তখন ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দুরানী কী করবে বুঝতে পারল না, ইচ্ছে করছিল দুই হাতে মেকুর গলা চেপে ধরে দেওয়ালে তার মাথা আচ্ছা মতন ঠুকে দেয়। অন্য কোনো বাচ্চা হলে অন্তত কান ধরে একটা ঝাঁকুনি দিত সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মেকুর চোখের দিকে তাকিয়ে দুরানী সেরকম সাহস পেল না। এই বাচ্চাটি যে একটা মিচকে শয়তান সে ব্যাপারে এখন তার আর কোনো সন্দেহ নেই।
    দুরানী বুঝতে পারল বাচ্চাদের মায়েরা আসার আগেই তাদের পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। চটচটে কফ সিরাপে তারা কেন মাখামাখি হয়ে আছে সেটা ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন হয়ে যাবে। সে এক টুকরা কাপড় ভিজিয়ে তাদের পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু কাজটা খুব সহজ হল না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার বিরুদ্ধে তাদের একটা গভীর ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে হয়, কিছুতেই সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে চায় না। তাদের শরীরে হাত দেওয়া মাত্রই তারা তারস্বরে চিৎকার করতে শুরু করে। এ ব্যাপারে মেকু মনে হয় একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে, শুধু তার গায়ে হাত দিলে যে সে চিৎকার করছে তা নয়, অন্য কোনো বাচ্চার গায়ে হাত দিলেও সে বিকট চিৎকার শুরু করে দিচ্ছে। এর মাঝেই দুরানী যেটুকু পারল বাচ্চাগুলিকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করল, খুব একটা লাভ অবশ্যি হল না। কাপড়ে ক্যাটক্যাটে লাল রং এবং শরীরে কফ সিরাপের ঝাঁঝালো গন্ধ।
    ব্যাপারটা আরো গুরুতর হয়ে গেল যখন আম্মা দুপুর বেলা দেখতে এসে আবিষ্কার করলেন মেকু উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে আছে। আম্মা অবাক হয়ে বললেন, “মেকু ঘুমিয়ে আছে? এরকম সময় তো সে কখনোই ঘুমায় না।”
    দুরানী অত্যন্ত অবাক হয়ে বলল, “এতক্ষণ তো জেগে ছিল। আপনাকে দেখেই মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে।”
    কথাটি সত্যি। মেকু চোখের কোণা দিয়ে তার আম্মাকে দেখে বোঝার চেষ্টা করল আম্মা তার ঘুমের ভানটি ধরতে পেরেছেন কি না।
    আম্মা অবশ্যি ঘুমটি খাঁটি না ভেজাল সেটা নিয়ে মাথা ঘামালেন না, নাক কুঁচকে একটু ঘ্রাণ নিয়ে বললেন, “এখানে ওষুধের গন্ধ পাচ্ছি? কী ওষুধ?”
    দুরানী আমতা আমতা করে বলল, “না মানে ইয়ে কোথায় ওষুধ? আমি তো মানে –”
    মেকু এতক্ষণ উপুড় হয়েছিল ঠিক তখন সে গড়িয়ে চিৎ হয়ে গেল এবং আম্মা অবাক হয়ে দেখলেন সে দুই হাতে কফ সিরাপের শিশিটা শক্ত করে ধরে রেখেছে। আম্মা আঁতকে উঠে বললেন, “সর্বনাশ! মেকু এই শিশি কোথায় পেল?”
    আম্মা যেটুকু আঁতকে উঠেছেন দুরানী তার থেকেও বেশি আঁতকে উঠল, ওষুধের শিশিটা যে এখানে রয়ে গেছে সেটা তার মনে ছিল না, মেকু যে সেটা এভাবে ধরে পুরো ব্যাপারটা ফাঁস করে দিতে পারে সে আশঙ্কাটাও তার মাথায় খেলা করে নি। আম্মা ‘ঘুমন্ত’ মেকুর হাত থেকে কফ সিরাপের বোতলটা নিয়ে সেটা এক নজর দেখে মেকুর উপর ঝুঁকে পড়লেন, তার শরীরে ওষুধ লাগানো, কফ সিরাপের ঝাঁঝালো গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না। আম্মা ঘুমিয়ে থাকা আরো তিন জন বাচ্চার কাছে গেলেন, তাদের দেখে আবার মেকুর কাছে ফিরে এলেন। মেঘস্বরে বললেন, “মেকু কী এই ওষুধ খেয়েছে?”
    দুরানী দুর্বল গলায় বলল, “জি না খায় নাই।”
    “নিশ্চয়ই খেয়েছে তা না হলে এই অসময়ে এভাবে ঘুমাচ্ছে কেন?”
    দুরানী জোরে জোরে মাথা নেড়ে বলল, “জি না খায় নাই।”
    “তা হলে মুখে গলায় কাপড়ে ওষুধ লাগানো কেন?”
    “লাথি মেরে সবকিছু ফেলে দিল তাই শরীরে লেগেছে।”
    “লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার জন্যে ওষুধ পেল কোথায়?”
    “এই চামুচে করে যখন একটু নিচ্ছিলাম — ”
    “চামুচে করে ওষুধ নিচ্ছিলেন? কেন?”
    “না মানে ইয়ে এই তো — ” দুরানী কথা বন্ধ করে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
    আম্মা কঠিন গলায় বললেন, “আপনি নিশ্চয়ই কফ সিরাপ খাইয়ে বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে চাইছিলেন। তাই না?”
    দুরানী দুর্বলভাবে মাথা নাড়ল।
    “কাজটি খুব অন্যায় করেছেন। ছোট বাচ্চাদের এভাবে ওষুধ খাওয়ানো শুধু অন্যায় নয়। খুব বিপজ্জনক।”
    মেকু চোখ পিট পিট করে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। আম্মা তার দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বললেন, “তুই মাথা নাড়ছিস কেন?”
    মেকু সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে আবার গভীর ঘুমের ভান করতে লাগল। আম্মা দুরানীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “মনে হচ্ছে ছোট বাচ্চাদের দেখে শুনে রাখার কাজটা ঠিক পছন্দ করছেন না।”
    দুরানী মাথা নাড়ল, বলল, “জি । কাজটা খুব কঠিন।”
    আম্মা একটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, “ ছোট বাচ্চদের পছন্দ করলে কাজটা খুব সহজ না, কাজটা আনন্দের। কিন্তু আপনি যেহেতু ছোট বাচ্চদের পছন্দ করে না কাজটা আপনার জন্যে কঠিন এবং কষ্টের। আপনাকে এতগুলি বাচ্চার দায়িত্ব দেওয়া ঠিক না। এখানে রেনুকেই আবার নিয়ে আসতে হবে।”
    মেকু তার মাড়ি বের করে আনন্দে হেসে ফেলল। আম্মা তার দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বললেন, “তুই হাসছিস কেন?”
    মেকু আবার মুখ বন্ধ করে ঘভির ঘুমের ভান করতে লাগল। কাজেই পরদিন থেকে আবার রেনুকে বাচ্চাদের দেখে শুনে রাখার কাজে বহাল করা হল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আরো টুনটুনি ও আরো ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }