Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেট্রোপলিটন মন মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প349 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইয়াং ক্যালকাটা

    কলকাতা শহরের গা থেকে তখনও পুরোনো সুতানুটির গন্ধ যায়নি। নব্য অভিজাত বাঙালি বাবুরা তখন শহরতলির বাগানবাড়িতে বাইজিনাচ আর আতশবাজির উৎসবে সাহেব—মেমদের অভ্যর্থনা করতে মশগুল। সমাজের অধোগতিতে বিচলিত হয়ে যাঁরা সমাজোন্নতিপ্রয়াসী হয়েছিলেন, তাঁরাও নবাবি বিলাসিতার সঙ্গে প্রগতির আদর্শের এক অদ্ভুত সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছিলেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীতের বিচিত্র সংমিশ্রণ তখনই কলকাতা শহরে হয়েছিল বড়সাহেবদের বাহবার প্রলোভনে। দুর্গোৎসবের আসরে তার অনুষ্ঠান হত এবং লখনউ—বারাণসীর এক—দু—হাজারি বনেদি বাইজিরা সেই সুরের ‘ককটেল’ নূপুরনিক্বণ ও অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে পরিবেশন করতেন। এই সময় কলকাতা শহরে একদল তরুণ ছাত্র—সকলেরই দশের কোঠায় বয়স—সমাজের দোর্দণ্ডপ্রতাপ বায়োবৃদ্ধদের মনে এমন ত্রাস সঞ্চার করেছিলেন যা আজকের তরুণদের কাছেও তাজ্জব ব্যাপার মনে হবে। প্রায় একশো তিরিশ—চল্লিশ বছর আগেকার (১৮৩০—এর) কথা।

    তখন কলকাতারও নাগরিক বয়ঃসন্ধিকাল। এতসব বিচিত্র অটোমোবিল, এত স্কুটার—টেম্পো ট্রাম—বাস পথে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটোছুটি করত না। অশ্বযান চলত কদমতালে, আর পালকি চলত দুলকি চালে। সময়ের গতি ছিল মন্থর, যদিও শিক্ষাব্রতী ডেভিড হেয়ার বিশুদ্ধ জ্ঞান ছাড়াও ঘড়ির ব্যাবসা করে কিছু সময়জ্ঞানও এ দেশে বিতরণ করেছিলেন। তাহলেও আজকের কলকাতার মানুষের মতো হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের সঙ্গে ঘড়ির চক্রের টিকটিকানি একছন্দে বাঁধা ছিল না। সময় ও জীবন দুটোই চলত ঢিমেতালে। স্বার্থের ধান্দায় তখন কলকাতার নাগরিকদের আজকের মতো নাভিশ্বাস ওঠেনি। কলকাতার জনসংখ্যাও ছিল তখন আজকের প্রায় পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ। স্কুল—কলেজ অনেক কম ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় ছিলই না। মেয়েদের বিদ্যাভ্যাস বা স্কুল—কলেজে যাতায়াত তখন আরম্ভ হয়নি। পথেঘাটে মেয়েদের দেখা যেত না, বাড়িতেও না, একেবারে অন্তঃপুরে প্রবেশ করে মেঘে ঢাকা চাঁদের মতো মেয়েদের দেখতে হত। তরুণ যুবকদের সংখ্যাও ছিল তখন লোকসংখ্যানুপাতে কম, কারণ শিশুমৃত্যুর প্রাবল্য ছিল সমাজে। বংশবৃদ্ধির যোগ্য বয়সে উত্তীর্ণ হবার আগেই তখন মানবলীলা সংবরণ করা ছিল প্রাকৃতিক ঘটনা। যৌবনপ্রান্তেই তখন বার্ধক্য পদার্পণ করত। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের নিষ্পেষণে তখন তারুণ্য—যৌবনের প্রাণনির্ঝর অল্পদিনেই শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত, যজ্ঞকাঠ নয়—যা ঘষলে আগুন জ্বলে ওঠে, একেবারে ভিজে মরা কাঠ—যাতে আগুন জ্বালালেও শুধু ধোঁয়া হয়। বাংলার যে দশের কোঠার বয়সের তরুণদের কথা বলছি, তাঁরাও সকলে বালিকাবধূর বালকস্বামী ছিলেন। এই বালক—স্বামিত্বের সামাজিক দায়িত্ব একজন বিদ্রোহী তরুণের পক্ষে পালন করা যে কত কঠিন, তা আজকের দিনের সকল বন্ধনমুক্ত তরুণরা বাস্তবিকই উপলব্ধি করতে পারবেন না। তা—ও আবার এমন একটি স্তন্যপায়ী জীবের দায়িত্ব যে আজকালকার তরুণী—সঙ্গিনী—বান্ধবী বা প্রেমিকার মতো ‘চালু’ নয়, একেবারে নির্জীব পুঁটলির মতো অচালু। গৃহ বা পরিবার থেকে বহিষ্কৃত হলে কোনো বিদ্রোহী তরুণদের পক্ষে ঘাড় বেঁকিয়ে দৃপ্ত পদক্ষেপে একলা বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না, বালিকাবধূর পুঁটলিটি পিঠে করে বেরুবার সমস্যা দেখা দিত। কিন্তু বেরুবার পথ কোথায়? শহরের পথে বউ নিয়ে একসঙ্গে চলার দৃশ্য দেখতে তখন কেউ অভ্যস্ত ছিল না। তা ছাড়া আশ্রয়ই বা কে দেবে, কোথায় পাওয়া যাবে? তরুণদের বিদ্রোহেরবহু বাধার মধ্যে এই বাধাও ছিল মস্ত বড় বাধা। মুক্ত বলাকার মতো উড্ডীয়মান বর্তমান সমাজের তরুণ—তরুণীদের কাছে এ বাধার দুরতিক্রম্যতা অচিন্তনীয়।

     

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    পিডিএফ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    রেসিপি বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    Books
    বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    PDF
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ

     

    বাধা আরও ছিল। যেমন জ্যেষ্ঠশাসন ও বৃদ্ধশাসন তখন সমাজে ও পরিবারে মুক্ত তরবারির মতো সর্বদা সমুদ্যত থাকত। কর্তব্যবোধ তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে, নীতিবোধ নড়লে—চড়লে, অভ্যাস—আচরণ বিকৃত হলে, জ্যেষ্ঠদের রক্তচক্ষুর অগ্নিবর্ষণে তারুণ্যের উত্তাপ মুহূর্তেই হিমায়িত হয়ে যেত। ঘোড়ার পিঠে সহিসের চাবুকের চেয়ে ছাত্রের পিঠে শিক্ষকের চাবুকের ব্যবহারই ছিল অধিক স্বাভাবিক। বেত্রাঘাতের ব্যত্যয় ঘটলে শিশু ও তরুণের চরিত্রস্খলন হতে পারে, এই ছিল জ্যেষ্ঠদের বিশ্বাস। শাসন ও নিয়মানুগত্যের দিক থেকে বিচার করলে পরিবার ও সমাজ ছিল কতকটা কারাগারসদৃশ, তার লৌহবেষ্টনীর মধ্যে মানুষের ব্যক্তিত্বের সাবলীল স্ফূর্তি একরকম সুদূরপরাহত ছিল বলা চলে। তারুণ্যের সতেজ প্রাণদ্যুতি এই নীরন্ধ্র প্রতিবেশে স্বাভাবিক বিচ্ছুরণের পথ খুঁজে না পেয়ে গোপন দুষ্কৃতির রন্ধ্রপথে বিকীর্ণ হত। স্বাধীনতা ও সামাজিক অধিকার ছিল বয়োবৃদ্ধদের কুক্ষিগত, এবং বুদ্ধি—বিবেচনার দিক থেকে তাঁদের পক্বকেশ মস্তিষ্ক ছিল তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো উত্তুঙ্গ, অপরিপক্ব তরুণদের নাগালের অতীত।

    এত রকমের সামাজিক বাধাবিপত্তির মধ্যেও বাংলার রাজধানী কলকাতা শহরে একদল তরুণ কিশোর বয়সের ছাত্র উনিশ শতকের দ্বিতীয়—তৃতীয় দশকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন সমাজের প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে। ছাত্রদের নিজেদের গোষ্ঠীগত কোনো দাবি নয়, প্রশ্নপত্র সহজ—কঠিন বা পরীক্ষার পাশ—ফেলের দাবি নয়, শিক্ষাসংস্কারের দাবি নয়, অথবা ছাত্র আন্দোলনের কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে এরকম কোনো দাবি উদ্ভবের মতো অনুকূল পরিবেশই তখন রচিত হয়নি। ছাত্র আন্দোলন আরম্ভ হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবার পরে, উনিশ শতকের ষষ্ঠ—সপ্তম দশক থেকে। রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু, এঁরা ছিলেন এ দেশের প্রথম যুগের ছাত্র আন্দোলনের নেতা। কিন্তু ‘ইয়াং বেঙ্গল’ বা ‘ইয়াং ক্যালকাটা’ নামে পরিচিত তরুণ ছাত্রদল কোনো বিশেষ ছাত্র আন্দোলন বা দাবি দাওয়ার আন্দোলন করেননি। তাঁদের বিদ্রোহকে তাই ‘ছাত্র বিদ্রোহ’ বলা যায় না, ‘যুব বিদ্রোহ’ বলা যায়। তা ছাড়া, বিশেষ কোনো বাস্তব দাবি দাওয়া নিয়ে ছাত্র বা যুব আন্দোলনকে ‘যুব বিদ্রোহ’ বলা যায় না। যুব বিদ্রোহ সমাজের মূলনীতি ও গঠনের বিরুদ্ধে গভীর অসন্তাোষের প্রকাশ। কলকাতা শহরে ‘ইয়াং ক্যালকাটা’ গোষ্ঠীর বিদ্রোহ শুধু বাংলার নয়, আধুনিক যুগের ভারতের প্রথম যুব বিদ্রোহ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, এই বিদ্রোহের পৃষ্ঠপট, প্রকৃতি ও লক্ষ্যায়তনের সঙ্গে বর্তমানকালের যুব বিদ্রোহের সাদৃশ্য আন্তরিক, পার্থক্য বাহ্য। কেবল তা নয়। পার্থক্যটা প্রধানত সাংখ্যিক বা ‘কোয়ান্টিটেটিভ’, গুণীয় বা ‘কোয়ালিটিটেটিভ’ নয়। সেকালের ‘ইয়াং ক্যালকাটা’র বিদ্রোহ ছিল বিকৃত ও জরাগ্রস্ত ‘হিন্দুসমাজ’—এর বিরুদ্ধে, একালের ‘ইয়াং ক্যালকাটা’র বিদ্রোহ হল যুগে যুগে প্রচারিত অজস্র রঙিন আদর্শের ভগ্নস্তূপের উপর প্রতিষ্ঠিত জরাজীর্ণ বিকৃত শ্রেণিবৈষম্যজর্জর ‘মানবসমাজ’—এর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তাই ইয়াং ক্যালকাটা, ইয়াং প্যারি, ইয়াং রোম, ইয়াং বার্লিন, ইয়ং লন্ডন, শিকাগো—ওয়াশিংটন—নিউ ইয়র্ক—সকলের বিদ্রোহের সুর একই উচ্চগ্রামে বাঁধা এবং এই যুব বিদ্রোহের প্রকৃতি ও আদর্শায়তনের মধ্যে দৈশিক বা ভৌগোলিক ভিন্নতার চেয়ে কালিক অভিন্নতাই লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    Library
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    ডিকশনারি
    লেখকের বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    PDF

     

    শিক্ষক ডিরোজিওর ছাত্র ও শিষ্য বলে যাঁদের ‘ডিরোজিয়ান’ বলা হত, তাঁদেরই কেউ বলতেন ‘ইয়াং বেঙ্গল’, কেউ ‘ইয়াং ক্যালকাটা’। এই ইয়াং ক্যালকাটার বিদ্রোহের সুরও বেশ উচ্চগ্রামে বাঁধা ছিল। বস্তুত তখনকার অচলায়তন জ্যেষ্ঠতান্ত্রিক সমাজের উগ্রমূর্তির কথা মনে হলে তরুণদের বিদ্রোহী সুরের দুঃসাহসিক তীব্রতায় স্তম্ভিত হতে হয়। বিদ্রোহ কার বিরুদ্ধে, এবং কেন? বিদ্রোহের প্রেরণার উৎস কোথায়? বাংলা দেশের বাস্তব সামাজিক পরিবেশে তখন যুব বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ উদ্দীপক বিশেষ কিছু ছিল না। মানবসমাজের বিকাশের একটা বিশেষ সন্ধিক্ষণে ছিল এই উদ্দীপনার বস্তু। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হল সামন্ততন্ত্র—সমূহতন্ত্র থেকে ধনতন্ত্র—ব্যক্তিতন্ত্রের স্তরে উত্তরণের কাল। এই কালের অভ্যুদয় হয়েছিল—মূলত জ্ঞান বিজ্ঞানের কয়েকটি কালান্তরী কীর্তির সমাবেশে—বাংলা দেশের ভৌগোলিক সীমান্ত থেকে বহু দূরে, সাত সমুদ্র তেরো নদী পারে, ইউরোপে। সেখানকার বস্তুতন্ত্রবাদী, যুক্তিবাদী এবং সংশয়বাদী, বিজ্ঞানবাদী, প্রত্যক্ষবাদী, যান্ত্রিক পরিণামবাদী দার্শনিকরা এবং বৈজ্ঞানিকরা সমাজ, মানুষ ও জীবন সম্বন্ধে পূর্বকালের প্রত্যয়গুলিকে চ্যালেঞ্জ করে পাশাপাশি নতুন প্রত্যয় গড়ে তুলেছিলেন। সমাজের কেন্দ্রস্থ চলনশক্তি হল লৌকিক মানবিক—অলৌকিক, অতিমানবিক বা ঐশ্বরিক নয়—এই ছিল নবযুগের নতুন জীবনবাণী। যন্ত্র ও বিজ্ঞানের প্রাথমিক অগ্রগতি আত্মনির্ভর মানবিক শক্তিকে অপরাজেয় প্রতিপন্ন করছিল। চারদিকের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি মানুষের মনে একটা মসৃণ নিটোল প্রগতিবাদের অপরূপ মূর্তি তুলে ধরেছিল। শিল্পবিপ্লব ও ফরাসি বিপ্লব যেমন মানুষের আত্মশক্তির ভিত দৃঢ় করছিল, তেমনি সমাজের প্রগতিশীল পরিবর্তনে মানুষকে প্রায় অন্ধবিশ্বাসী করে তুলছিল। জান্তব যূথচেতনার কুয়াশালোক থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ সবেমাত্র ব্যষ্টিচেতনার প্রথম সূর্যালোকে তার পরিপার্শ্ব জীবন ও সমাজকে দেখতে আরম্ভ করেছিল। এই দৃষ্টিও নতুন, দৃষ্টিশক্তিও নতুন। অভিনব নয়, বৈপ্লবিক। অবয়বস্পর্শী নয়, ইন্দ্রিয়ভেদী এবং চৈতন্যলোকের গর্ভাগার পর্যন্ত প্রসারিত।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    স্বাস্থ্য টিপস
    বুক শেল্ফ
    বাংলা কৌতুক বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    ডিজিটাল বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ

     

    সুদূর ইউরোপ থেকে এই যুগান্তকারী সমাজদর্শন, এই বৈপ্লবিক জীবনবোধ, ব্যক্তিচেতনা ও প্রগতিবিশ্বাস, কলকাতা শহরের গোলদিঘিতে হিন্দু কলেজের (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজ) একদল তরুণ ছাত্রের মনে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করল। কেবল আদর্শের আঘাতে যে কী ভয়ানক প্রতিক্রিয়া হতে পারে তরুণদের মনে, ইয়াং ক্যালকাটার কীর্তি তার সাক্ষী। বিদ্রোহের মন্ত্রদাতা গুরু হলেন একজন ফিরিঙ্গি শিক্ষক—ডিরোজিও। তিনিও বয়সে তরুণ, ছাত্রদের চেয়ে দু—তিন বছরের বেশি বড় নন। ডিরোজিও যখন হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন তখন তাঁর বয়স সতেরো—আঠারো। ছাত্রদের বয়স তেরো থেকে পনেরো—ষোলো। অর্থাৎ শিক্ষক—ছাত্র সকলেই ‘টিনএজার’। আজকের প্রেসিডেন্সি কলেজের পূর্বসংস্থা হিন্দু কলেজ। সেখানে যে আজ থেকে একশো চল্লিশ বছর আগে একজন শিক্ষকের সঙ্গে একদল ছাত্রের এরকম তারুণ্যের সংযোগ ঘটেছিল—এবং তেরো থেকে উনিশ বছর বয়সের মধ্যে—তা সত্যিই আজকের দিনেও যেন ভাবা যায় না। আঠারো বছরের শিক্ষক ডিরোজিও এমন কী জীবনমন্ত্রে তাঁর তরুণ ছাত্রদের দীক্ষা দিয়েছিলেন যা তাদের মনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং যে আগুনের হলকায় সমাজের জীর্ণ কঙ্কাল পর্যন্ত ভেসে উঠেছিল চোখের সামনে। নবযুগের জীবনমন্ত্র, নবজীবনের দর্শন ও বিজ্ঞানের মন্ত্র। নতুন জীবনবোধ ও সমাজচেতনার মন্ত্র। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার মন্ত্র। যুক্তিবাদ ও বুদ্ধিবাদের মন্ত্র। প্রগতিবাদের মন্ত্র। নবযুগের দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিকদের রচনা ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদের পাঠ করে শোনাতেন, ক্লাসের পাঠ্য বিষয়ের বাইরে জ্ঞান—বিজ্ঞানের বিচিত্র জগতের রূপ তিনি ছাত্রদের মানসনেত্রের সামনে তুলে ধরতেন। ডিরোজিওর ছাত্ররাই বলেছেন যে, তাঁর ক্লাস ছিল প্লেটো—আরিস্ততলের ‘আকাদেমি’র মতো। বদ্ধ ক্লাসের চার দেয়ালের মধ্যে ছাত্রদের কৌতূহল নিবৃত্ত হত না। ক্লাসের বাইরে কলেজের এ কোণে—সে কোণে ছাত্ররা তাঁকে ঘিরে ধরত, জানবার অদম্য আগ্রহ তারা দমন করতে পারত না। কলেজের বাইরে গোলদিঘি থেকে মৌলালির দরগার কাছে লোয়ার সার্কুলার রোডে ডিরোজিওর গৃহের পথে চলতে চলতে আলোচনা হত শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রদের। তাতেও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা মিটত না। এসব কথা কেউ তো কখনো তাদের বলেননি, সমাজ ও পরিবারের কর্তারা কেউ না। বাল্যকাল থেকে এতদিন তারা শুধু সকালে উঠে মনে মনে বলেছে, সারাদিন যেন তারা ভালো হয়ে চলে, এবং গুরুজনেরা যা আদেশ করেন তা—ই যেন মন দিয়ে পালন করে। ডিরোজিও অন্য কথা বলতেন। ক্লাসের কক্ষ থেকে কলেজের বারান্দা ও উঠোন থেকে পথ, পথ থেকে ডিরোজিওর বাড়ির বৈঠকখানা পর্যন্ত আলোচনা চলত। আলোচনা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত হত। মতামতের আদান প্রদানে ও বিতর্কে উৎসাহ দিতেন ডিরোজিও। তিনি কখনো বলতেন না যে তাঁর কথা ছাত্ররা শিরোধার্য করে নিক, সর্বদা তাদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে বলতেন। তাঁর কথা তো দূরের কথা, কোনো গুরুজনের কথা, ঋষিতুল্য লোকের কথা, এমনকী ঈশ্বরের বাক্যও ডিরোজিও নির্বিচারে মেনে নিতে বলতেন না। তিনি বলতেন, বুদ্ধিমান মানুষ তার নিজের বুদ্ধি, যুক্তি, বিবেক ও বিচারশক্তি দিয়ে ন্যায়—অন্যায় কর্তব্য—অকর্তব্য বিচার করবে, শাস্ত্রবচন, গুরুবচন বা দৈববচন বলে কিছু অন্ধের মতো গ্রহণ বা পালন করবে না। আজকের দিনে তথাকথিত গণতন্ত্রের তূর্যনিনাদের মধ্যেও কোনো সমাজনেতা, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা পার্টি তাঁদের ভক্তদের গণতন্ত্রের এই প্রাথমিক অধিকারটুকু দিতেও সাহস করবেন কি না সন্দেহ। ডিরোজিও শিক্ষক হয়ে তাঁর ছাত্রদের এই অধিকার দিয়েছিলেন, গণতন্ত্রের শৈশবকালে।

     

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

     

    এই গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বাভাবিক প্রকাশক্ষেত্র হল স্বতন্ত্র বিদ্বৎসভা ও বিতর্কসভা। হিন্দু কলেজে ও ডিরোজিওর পারিবারিক গৃহের বৈঠকখানায় এই অধিকারের অবাধ স্ফূর্তি ব্যাহত হত। কাজেই তরুণদের বিতর্কসভা গঠিত হল, নাম ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’, স্থান শ্রীকৃষ্ণ সিংহর মানিকতলার বাগানবাড়ি, পরে যেখানে ওয়ার্ডস ইনস্টিটিউশন স্থাপিত হয়। রেভারেন্ড লালবিহারী দে লিখেছেন যে, মানিকতলার এই বাগানবাড়ির হলঘরে ইয়াং ক্যালকাটা গোষ্ঠীর সেরা রত্নরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ সামাজিক, নৈতিক, দার্শনিক ও ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্কের ঝড় বইয়ে দিতেন। ঝড়ের মধ্যে জীর্ণ পুরাতনের বিরুদ্ধে তরুণদের বিদ্রোহী মনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ পেত। ভয়ংকর ক্ষোভের প্রচণ্ড প্রকাশ। মনে হত যেন কোনো গুহাভ্যন্তর থেকে সিংহশাবকরা গর্জন করছে।

    সিংহশাবকরা হলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও ডিরোজিওর অন্য ছাত্ররা। তাঁদের মুখের বুলি ছিল ‘ডাউন উইথ হিন্দুয়িজম, ডাউন উইথ অর্থোডক্সি’! এ বুলি উত্তোলিত ঝান্ডায় পথের মিছিলে প্রচারিত হত না, বিতর্কসভায় ধ্বনিত হত। সেই বিতর্কের মান সম্বন্ধে আলেকজান্ডার ডাফ লিখেছেন, প্রত্যেক বিষয়ে মতবাদ ব্যক্ত করার সময় বক্তারা ইংরেজি সাহিত্য থেকে, বিশেষ করে বায়রন—স্কট—বার্নস থেকে অনর্গল উদ্ধৃতি প্রয়োগ করতেন। ঐতিহাসিক বিষয় হলে রবার্টসন ও গিবন, রাজনৈতিক বিষয় হলে অ্যাডাম স্মিথ ও জেরেমি বেন্থাম, বৈজ্ঞানিক বিষয় হলে নিউটন ও ডেভি, ধর্মবিষয় হলে হিউম ও টমাস পেইন, আধ্যাত্মিক বিষয় হলে লক, রিড স্টুয়ার্ট, ব্রাউন প্রমুখ মনীষীদের রচনা তরুণ তার্কিকরা নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে অবলীলাক্রমে আবৃত্তি করতেন। আলোচনা হত হিন্দুধর্ম ও হিন্দুসমাজের নানা রকমের কুসংস্কার ও গোঁড়ামি নিয়ে। তরুণদের এই বিতর্কসভার আলোচনাতেই বাইরে হিন্দুসমাজের কর্ণধাররা রীতিমতো বিচলিত হয়ে উঠেছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    পিডিএফ
    বাংলা বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    লেখকের বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাইশে শ্রাবণ

     

    সমাজে তখন কোনো শ্রেণিগত বা গোষ্ঠীগত দাবিদাওয়া নিয়ে গণ—আন্দোলন গড়ে ওঠার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। হিন্দু কলেজের ছাত্রসংখ্যাও তখন পাঁচশোর বেশি ছিল না। অধিকাংশই সম্ভ্রান্ত ও সংগতিপন্ন মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের সন্তান আলালের ঘরের দুলাল। পরিবার ও সমাজের বিরুদ্ধে কিচ্ছু করার মতো সাহস তাঁদের অনেকেরই ছিল না। ডিরোজিওর শিক্ষাদর্শের প্রভাব তাঁদের অনেকের উপরেই পড়েনি। কাজেই ইয়াং ক্যালকাটা তরুণচক্র আয়তনে যে খুবই ক্ষুদ্র ছিল তা বোঝা যায়। খুব বেশি হলে কুড়ি—পঁচিশজন তরুণ ছিলেন এই চক্রভুক্ত। তাঁদেরই সারথ্য করতে হয়েছিল বাংলার, এবং ভারতের প্রথম তরুণ বিদ্রোহের। তার উপর সারথ্যের পন্থাও ছিল তখন অত্যন্ত পরিমিত। ছাত্র মিছিলের পুরোভাগে বজ্রমুষ্টি ও ঝান্ডা প্রদর্শনের দিন তখনও আসেনি। হিন্দু কলেজের সমকক্ষ বিদ্যালয়ও তখন ছিল না এবং সারথিদের আহ্বানে কোনো ছাত্র—সমাবেশের সম্ভাবনাও তখন ছিল না। একমাত্র উপায় ছিল সভাসমিতিতে আলোচনা এবং নিজেদের মুখপত্রে সমালোচনা। বিদ্রোহের এই পথই ইয়াং ক্যালকাটাকে তখন গ্রহণ করতে হয়েছিল।

    এ পথেও বাধা ছিল অনেক। প্রথম বাধা ও বড় বাধা হল কোনো মুখপত্র প্রকাশ ও প্রচার করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তরুণদের থাকার কথা নয়। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবীণরা এদিক দিয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ ছিলেন। পত্রিকার সংখ্যাও ছিল তাঁদের অনেক বেশি। দিনের পর দিন তাঁরা সেইসব পত্রিকায় তরুণদের ধ্যানধারণা ও আচার—ব্যবহারের দুর্মর সমালোচনা করতেন। মাত্র দু—তিনখানি ইংরেজি ও বাংলা পত্রিকায় (যেমন পার্থিনন, এনকোয়্যারার, জ্ঞানান্বেষণ) তরুণরা তার জবাব দিতেন। তরুণদের জবাবের নমুনা এই : ‘আমরা হিন্দুধর্মের তথাকথিত পবিত্র মন্দির ত্যাগ করেছি বলে গোঁড়া বৃদ্ধরা আমাদের উপর মারমুখী হয়েছেন। আমাদের তাঁরা সমাজচ্যুত করবেন, আমরা কুসংস্কার বর্জন করতে চাই এই অপরাধে। কিন্তু আমাদের বিবেক ও বুদ্ধি যথেষ্ট সজাগ এবং আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস যে, আমরা যা করছি তা খুবই ন্যায়সংগত। অসীম ধৈর্য ধরে আমরা আমাদের কর্তব্য করব। প্রতিজ্ঞা করেছি আমাদের প্রতিপক্ষ বয়োবৃদ্ধরা যদি ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে আমাদের উপর খড়্গহস্ত হন, আমরা ভীত হব না, প্রয়োজন হলে মৃত্যুও বরণ করব। সংগ্রাম করে আমরা যেটুকু অধিকার অর্জন করেছি তা একতিলও ছাড়ব না। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সমাজের প্রবীণ কর্ণধাররা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কীভাবে প্রতিদিন নানা রকমের প্রচারপত্র বিলি করে আমাদের স্বভাবচরিত্র সম্বন্ধে কলঙ্ক রটাচ্ছেন। যাবতীয় অপকৌশল প্রয়োগ করে তাঁরা আমাদের দমন করতে উদ্যত হয়েছেন, কোনো ধর্মবোধে বা নীতিবোধে বাধছে না। কিন্তু কোনো অপকৌশল, কোনো চক্রান্ত বা হুমকির কাছে আমরা মাথা হেঁট করব না। যত নির্মম হোক, সমস্ত অত্যাচার আমরা সহ্য করতে প্রস্তুত, কারণ আমরা জানি একটা জাতিকে সংস্কারমুক্ত, উদার ও উন্নতিশীল করতে হলে সমাজে খানিকটা গন্ডগোল ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবেই। কাজেই গন্ডগোল আমরা করব, হল্লা করব, চেঁচামেচি করব, তারস্বরে প্রতিবাদ করব, সমাজের যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার ও কূপমণ্ডূকবৃত্তির বিরুদ্ধে।’

     

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বইয়ের
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বই
    Library
    পিডিএফ
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা বই
    ই-বই পড়ুন

     

    তরুণদের প্রতিবাদের ভাষা ক্রুদ্ধ ও কঠোর, কিন্তু অসংযত ও অশালীন নয়। বাইরের আচার—ব্যবহারে মধ্যে মধ্যে অবশ্য তরুণ ছাত্রদের মধ্যে কেউ কেউ অসংযত ও অশালীনতার পরিচয় দিয়েছেন। যেমন গোলদিঘিতে বসে মদ্যপান করা এবং মুসলমানের দোকান থেকে গোমাংস কিনে খাওয়া তখন অনেক তরুণের কাছে প্রগতিশীল কর্ম বলে মনে হত। এ কথা রাজনারায়ণ বসু, লালবিহারী দে, প্যারীচাঁদ মিত্র, শিবনাথ শাস্ত্রী এবং আরও অনেকে লিখে গেছেন। তখনকার দিনে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করাও বেশ দুঃসাহসের ব্যাপার ছিল, প্রগতির লক্ষণ তো বটেই। যৌবনে যাঁরা ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করতেন, তাঁরা কেউ কেউ দীক্ষাগ্রহণের পরে কিঞ্চিৎ সুরাপান করে সেলিব্রেট করতেন। রাজনারায়ণ বসু নিজেও তা—ই করেছিলেন। এ ছাড়া তরুণরা মধ্যে মধ্যে নিজেদের পাড়া—প্রতিবেশীদের উপরেও নানা রকমের উপদ্রব করতেন। যেমন ব্রাহ্মণপাড়ায় কোনো বন্ধুবান্ধবদের গৃহে বসে মাংস ভক্ষণ করে ব্রাহ্মণ প্রতিবেশীর ঘরে হাড় নিক্ষেপ করে গোহাড় গোহাড় বলে হল্লা করে তাঁরা ব্রাহ্মণদের উত্তেজিত করতেন। এরকম ঘটনা ইয়াং ক্যালকাটা গোষ্ঠীর অন্যতম প্রবক্তা কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেই ঘটেছিল, উত্তর কলকাতায় গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনে। তার জন্য কৃষ্ণমোহনকে পাড়া ও পরিবার ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। কোনো হিন্দুপাড়ায় বন্ধুবান্ধবদের গৃহেও তাঁর স্থান হয়নি। অবশেষে চৌরঙ্গি অঞ্চলে সাহেবপাড়ায় গিয়ে তাঁকে বাস করতে হয়েছিল।

     

    আরও দেখুন
    লাইব্রেরি
    নতুন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা বই
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    ডিজিটাল বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    লেখকের বই

     

    এই সময় কৃষ্ণমোহন (১৮৩১ সালে) হিন্দুসমাজের সমালোচনা করে একটি ছোট নাটিকাও লিখেছিলেন। নাটিকাটির নাম : The Persecuted of Dramatic Scenes, Illustrative of the Present State of Hindu Society in Calcutta. তখন তাঁর বয়স সতেরো—আঠারো বছর। নাটিকাটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন হিন্দু যুবকদের। উৎসর্গের ভাষা এই :

    The following pages are inscribed to them with sentiments of affection, and strong hopes of their appreciating those virtues and mental energies which elevate man in the estimation of a philosopher.

    উৎসর্গের ভাষা ও ভাব লক্ষণীয়। তরুণদের বিদ্রোহের উদ্দেশ্য যে কত মহৎ ছিল তা কৃষ্ণমোহনের এই উৎসর্গপত্রে অভিব্যক্ত মনোভাব থেকে বোঝা যায়। ভূমিকায় কৃষ্ণমোহন বলেছেন, নাটকীয় গুণ হয়তো এই নাটিকার মধ্যে বিশেষ কিছু নেই, লেখার মধ্যেও অনেক ত্রুটি আছে, কিন্তু তবু লেখার উদ্দেশ্যের কথা মনে করে পাঠক ও দর্শকরা সমস্ত ত্রুটিবিচ্যুতি উপেক্ষা করবেন বলে তিনি মনে করেন। উদ্দেশ্য হল, হিন্দুসমাজে যাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাঁরা যে কত দূর জঘন্য চরিত্রের লোক তা প্রকাশ করে দেওয়া। নাটকটি কাঁচা লেখা হলেও আজকালকার একশ্রেণির রাজনৈতিক প্রচার—সাহিত্যের তুলনায় সুপাঠ্য বলা চলে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    Books
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    ই-বই পড়ুন
    রেসিপি বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা বই
    লাইব্রেরি
    PDF

     

    ইয়াং ক্যালকাটার হিন্দুসমাজবিদ্বেষে একদল ইংরেজ বেশ ইন্ধন জুগিয়েছিলেন, সকলে নন। সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছিলেন বিদেশি মিশনারিরা। আলেকজান্ডার ডাফ তাঁদের গুরুস্থানীয়। মিশনারিদের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুসমাজের নবীন—প্রবীণদের আদর্শ—সংঘাতের এই সুযোগে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের শিক্ষিত হিন্দু তরুণদের খ্রিস্টধর্মে ধমান্তরিত করা। এই উদ্দেশ্য কিছুটা তাঁদের সফল হয়েছিল। অবশ্য সাময়িক সাফল্য। বিদ্রোহী তরুণদের তাঁরা সহজেই তাঁদের দিকে আকর্ষণ করেছিলেন এবং খ্রিস্টধর্মের মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে তাঁদের ঘন ঘন বক্তৃতাও শুনিয়েছিলেন। তা—ই নিয়ে হিন্দু কলেজে ও হিন্দুসমাজে শোরগোল হয়েছিল। নষ্টের গুরু বলে হিন্দু কলেজ থেকে ডিরোজিও পদচ্যুত হয়েছিলেন। পদচ্যুতির কিছুদিন পরে অকস্মাৎ ডিরোজিওর মৃত্যু হয়। তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ—যেমন মহেশচন্দ্র ঘোষ ও কৃষ্ণমোহন—খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। হিন্দুসমাজে ছেলেধরার আতঙ্ক হয়। গুজব রটে যে, মিশনারিরা ছেলেদের ভুলিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে খ্রিস্টান করছেন। শহরময় কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রটে যায় ‘পাতিফিরিঙ্গি কেষ্টা বন্দ্যো’।

    বৃন্দাবন ঘোষালরা গুজব রটনার কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দরিদ্র ব্রাহ্মণ বৃন্দাবন ঘোষাল প্রত্যহ সকালে উঠে গঙ্গাস্নান করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিদ্রোহী তরুণদের সম্বন্ধে আজগুবি সব গল্প করে বেড়াতেন। এইটাই তাঁর পেশা ছিল। বিনিময়ে যৎসামান্য দক্ষিণা ও কিছু চাল—ডাল—ভুজ্জিও তিনি পেতেন। বলা যায় না, তরুণদের স্বভাবচরিত্র সম্বন্ধে মিথ্যা কলঙ্ক রটাতে যাঁরা শহরে প্রচারপত্র বিলি করতেন, সেই ধনবান সমাজপ্রধানারাই হয়তো পয়সা দিয়ে বৃন্দাবন ঘোষালের মতো জীবন্ত প্রচারপাত্র নিয়োগ করেছিলেন। করা আশ্চর্য নয়। একসময় রামমোহন রায় ও বিদ্যাসাগরকে পথে ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে প্রহার করার ভয় দেখানো হয়েছিল। বিদ্রোহী তরুণদেরও তা করা হয়নি বলে মনে হয় না। পিতৃগৃহ ও পরিবার থেকে শুধু কৃষ্ণমোহন নন, দক্ষিণারঞ্জন ও আরও কয়েকজন বিতাড়িত হয়েছিলেন। তার জন্য তাঁদের যে কী দুর্ভোগ ভোগ করতে হয়েছিল, আজকের দিনে তা কল্পনা করা যায় না। কাউকে কাউকে অসহ্য পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। তুকতাক, বশীকরণ—মারণ—উচাটন প্রভৃতি জাদুকরি অস্ত্রও তরুণদের বিদ্রোহী মন শান্ত—সুস্থ করার জন্য প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু জাদুমন্ত্রতন্ত্রও ব্যর্থ হয়েছিল।

     

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    অনলাইনে বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    কৌতুক সংগ্রহ
    বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    লাইব্রেরি
    গল্প, কবিতা

     

    ইয়াং ক্যালকাটার বিদ্রোহ আরম্ভ হয়েছিল তেরো থেকে উনিশ বছর বয়সের তরুণদের মধ্যে যখন শিক্ষক ডিরোজিও ও তাঁর ছাত্রগোষ্ঠী সকলেই ‘টিনএজার’ ছিলেন। কুড়ি বছর থেকে কুড়ির শেষ পর্যন্ত (প্রায়) তাঁদের এই বিদ্রোহের শিখা অনির্বাণ ছিল। তার মধ্যে অবশ্য বিদ্রোহের তীব্রতর তারতম্য হয়েছে, স্বরগ্রামেরও পরিবর্তন হয়েছে। ১৮২৮—৩৩ সালের মতো সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আর কখনো তা ওঠেনি। তরুণরা যুবক হয়েছেন, যুবকদের যৌবনও ক্রমে স্থির পরিণতির দিকে এগিয়ে গেছে, দেশের ও সমাজের বাস্তব অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, অনেক নতুন সমস্যারও সম্মুখীন হয়েছেন তাঁরা এবং সর্বপ্রকারের বোধশক্তির বোধও বেড়েছে। যিনি একদা ছিলেন ‘পাতিফিরিঙ্গি কেষ্টা বন্দ্যো’ সেই কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রসিককৃষ্ণ মল্লিক পরবর্তীকালে শিক্ষা—সমাজ—রাজনীতিক্ষেত্রে দেশের অগ্রগণ্য নেতা হয়েছেন।

    ‘ইয়াং ক্যালকাটা’র এই বিদ্রোহের সঙ্গে ইদানীন্তন কলকাতার তরুণ বিদ্রোহ বা ছাত্র বিদ্রোহের তফাত কী, এ প্রশ্ন মনে হওয়া স্বাভাবিক। তার উত্তর ইয়াং ক্যালকাটার বিদ্রোহের প্রকৃতি বিচারের উপর নির্ভর করে। প্রথমে মনে হয় কালের ব্যবধানের বিশালতার কথা। কালের দূরত্ব দিয়ে কেবল তার গুরুত্ব পরিমাপ করা যায় না। সমাজের অগ্রগতির দ্রুততার ধারার উপর কালের দূরত্বের গুরুত্ব নির্ভর করে। যেমন ১৮২৮—৩০ থেকে ১৯২৮—৩০ একশো বছরের ব্যবধান, ১৯২৮—৩০ থেকে ১৯৬৮—৭০ মাত্র চল্লিশ বছরের। তা সত্ত্বেও শেষের চল্লিশ বছরের কালিক দূরত্ব ও গুরুত্ব আগের একশো বছরের তুলনায় অনেক বেশি। আবার আগের একশো বছরের গুরুত্ব তার আগের এক হাজার বছরের তুলনায় অনেকগুণ বেশি। ঐতিহাসিক কালটাকে যদি লোকোমোটিভের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তাহলে তা চলার বেগ দিয়ে বিচার করতে হয়। কালের গুরুত্ব, বিশেষ করে, সামাজিক গুরুত্ব। শুধু বেগ বা ‘ভেলসিটি’ নয়, তার ত্বরণক্রম বা ‘রেট অফ অ্যাকসিলারেশন’ও বিশেষ বিচার্য। পাশ্চাত্য সমাজে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন এবং তজ্জনিত অর্থনৈতিক উৎপাদনব্যবস্থার মৌল পরিবর্তনের ফলে সমাজজীবনে নতুন চলনশক্তি সঞ্চারিত হয়েছিল আঠারো—উনিশ শতক থেকে। আমাদের দেশে ইংরেজদের আগমনে বাইরের সমাজজীবনে এই চলনশক্তি বিশেষ সঞ্চারিত হয়নি, যেটুকু হয়েছিল তা অতি সামান্য, তার বেগ বা ত্বরণ কোনোটাই ছিল না। কারণ সেই চলনশক্তির বৈজ্ঞানিক—অর্থনৈতিক উপাদনগুলিই তৈরি হয়নি এবং বিদেশি শাসকরা তাঁদের স্বার্থেই তা তৈরি হতে দেননি। তার ফলে গতিশীলতায় পাশ্চাত্য সমাজের সঙ্গে, জীবনদর্শনের সঙ্গে আমাদের সামান্য সংযোগ হয়েছিল মানসিক ক্ষেত্রে, বাস্তব সামাজিক ক্ষেত্রে নয়। এই সংযোগের প্রথম পথ খুলে দিয়েছিল কলকাতার হিন্দু কলেজের পাশ্চাত্য শিক্ষা। সমাজবিজ্ঞানী আইজেনস্টাডট তাঁর ‘ফ্রম জেনারেশন টু জেনারেশন’ গ্রন্থে বিভিন্ন দেশে যুবসমাজের বিকাশ ও ভূমিকা বিষয়ে আলোচনা—প্রসঙ্গে বলেছেন, যেদেশে অর্থনৈতিক গতির সঙ্গে সামাজিক গতির সংগতি থাকে না, সে দেশের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ হয় বেশি এবং বৈদেশিক শাসনাধীনে থাকলে রাজনৈতিক চেতনাও প্রখর হয়। এইসব দেশের যুবসমাজ নিজের জ্ঞান—বুদ্ধি দিয়ে স্বদেশি সমাজকে নানাদিক থেকে অনুদার ও স্থিতিশীল মনে করেন এবং পরিবারকে (ফ্যামিলি) এই অনুদার ও অনুন্নত সমাজের ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন না। সেইজন্য তাঁদের বিদ্রোহ মূলত ‘ইন্টিলেকচুয়াল’ বা বুদ্ধিপ্রণোদিত এবং তার লক্ষ্য ‘সমাজ’ ও ‘পরিবার’ দুইই।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    PDF
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা সাহিত্য
    রেসিপি বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বই পড়ুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    ডিকশনারি

     

    ইয়াং ক্যালকাটা তরুণগোষ্ঠীর বিদ্রোহও মূলত বুদ্ধিপ্রণোদিত বিদ্রোহ। পাশ্চাত্য দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক ও মনীষীরা সেই বিদ্রোহের প্রেরণা সঞ্চার করেছিলেন। প্রাথমিক ভাবসংঘাতেই তাঁদের তরুণ মানসে পাশ্চাত্যের যে সমাজপ্রতিমাটি ভেসে উঠেছিল, সেটি উদার উন্নতিশীল স্বাধীন যুক্তিবুদ্ধিনির্ভর ব্যক্তিকৃতিমুখী (অ্যাচিভমেন্ট—ওরিয়েন্টেড) সমাজের প্রতিমা। হিন্দুসমাজের বহু পুরাতন মূর্তির সঙ্গে এই নতুন সমাজমূর্তির কোনো মিল কোনোদিক থেকে ছিল না। হিন্দুসমাজ ছিল কূপমণ্ডূক রক্ষণশীল ঐতিহাসিক (‘ট্র্যাডিশনাল’) ও কুলকৃতিমুখী বা ‘অ্যাসক্রিপটিভ’, ব্যক্তিকৃতিমুখী নয়, উন্নতিশীলও নয়। কাজেই ইয়াং ক্যালকাটা গোষ্ঠীর বিদ্রোহের প্রথম লক্ষ্য হয়েছে হিন্দুসমাজ ও হিন্দুধর্ম, এবং তার সঙ্গে পরিবার। হিন্দুধর্মের প্রতি বিরাগ সাময়িকভাবে ঘটনাচক্রে পরিতৃপ্ত হয়েছে খ্রিস্টধর্মে। আর হিন্দুসমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বিদ্বৎসভার উত্তপ্ত বিতর্কে ও পত্রিকাদির রচনায় সমস্ত আবেগ নিঃশেষ করে দিয়ে শান্ত হয়ে গিয়েছে।

    ইদানীন্তন কলকাতার তরুণদের মনে যে বিদ্রোহ ধূমায়িত হচ্ছে এবং যার ভয়াবহ অগ্ন্যুদগিরণ মধ্যে মধ্যে আমরা দেখতে পাই, তার উদ্দীপনার উৎস অনেক। আজকের তরুণদের সমস্যাও বহু রকমের বিচিত্র সমস্যা। প্রথম সমস্যা, জনসংখ্যার বিস্ফোরণের ফলে—এবং তার সঙ্গে গড় আয়ুবৃদ্ধির ফলে—সমাজে যেমন প্রৌঢ়—বৃদ্ধের সংখ্যা বেড়েছে তেমনি তরুণ ও যুবকদের সংখ্যাও দ্রুতহারে বেড়েছে ও বাড়ছে। এই বিশাল তরুণসমাজ ক্রমে শিক্ষাক্ষেত্রে ও স্বাধীন কর্মক্ষেত্রে এমন সব অচিন্তনীয় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন যা উত্তরণের কোনো সম্ভাবনা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না। যে বয়সে আশা ও কল্পনার রঙে বিশ্বভুবন রাঙিয়ে যাবার কথা, সেই বয়সে অগাধ নৈরাশ্যের অন্ধকারে তাঁদের জীবনের নিভৃত গৃহকোণটিও আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে তার উপর আধুনিক বুর্জোয়া গণতন্ত্রের অতি—উৎকট আমলাতান্ত্রিক স্থূলতা যত বাড়ছে, তত যেন সমাজের গলায় বয়োবৃদ্ধদের শাসনরজ্জুর ফাঁস পড়ছে এবং যুবসমাজের সতেজ প্রাণ তার মধ্যে হাঁসফাঁস করছে। অর্থাৎ বিগতযৌবন যাঁরা তাঁদের প্রাণহীন হৃদয়হীন ব্যুরোক্রাসির মধ্যে যাঁরা আগতযৌবন তাঁরা দিব্যচক্ষে আজ দেখতে পাচ্ছেন জগদগম ডেমোক্রাসির মর্মন্তুদ অপমৃত্যু। তার উপর বৈজ্ঞানিক কারণে বার্ধক্য যত পশ্চাদপসরণ করছে তত যেন বয়োবৃদ্ধরা তাঁদের যৌবনচেতনার প্রান্তটি আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছেন এবং তাঁদের কর্মরাজ্যে তরুণ ও যুবকদের প্রবেশপথ রুদ্ধ করতে বদ্ধপরিকর হচ্ছেন। ঘোর আদর্শবাদী রাজনৈতিক পার্টিই হোক আর যে—কোনো আমলাতান্ত্রিক সংস্থাই হোক, সর্বত্রই দেখা যায় উপরতলায় ‘জেরন্টোক্রাসি’ (বৃদ্ধতন্ত্র) কায়েম হয়ে বসেছে। এরকম বহু সমস্যার কণ্টকাকীর্ণ মহারণ্যে প্রবেশ করে তরুণ ও যুবকরা আজ নিষ্ক্রমণের পথ হারিয়ে ফেলেছেন। প্রত্যেকটি সমস্যার বিস্তারিত সামাজিক বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তাঁদের ক্রুদ্ধ ও বিক্ষুব্ধ হবার সংগত কারণ আছে। এত রকমের উদ্দীপনা সেকালের ‘ইয়াং ক্যালকাটা’র বিদ্রোহের মূলে ছিল না। তাই বর্তমান কলকাতার তরুণ বিদ্রোহ হিন্দুসমাজের ব্যভিচার ও বিকৃতির বিরুদ্ধে নয় শুধু, সমগ্র মানবসমাজের যুগযুগান্তের অন্যায়—অবিচার, ব্যভিচার ও বিকৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা কৌতুক বই
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বইয়ের তালিকা
    PDF বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বই ডাউনলোড
    Library
    বাংলা গানের লিরিক্স বই

     

    ১৯৬৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রবন্ধ সংগ্রহ – বিনয় ঘোষ
    Next Article বিদ্রোহী ডিরোজিও – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }