Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেট্রোপলিটন মন মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প349 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কলকাতার স্ট্রিটকর্নার গ্যাং

    কলকাতার কলাবাগান থেকে রামবাগান, চলন্ত লোকাল ট্রেনের কামরা থেকে রক, ফুটপাত, স্ট্রিটকর্নার, সর্বত্র চলমান সমাজের টুকরো টুকরো ছবি দেখা যায়, যেগুলি ‘মন্তাজ’ করলে বর্তমান জীবনের চমকপ্রদ চলচ্চিত্র হতে পারে। বাইরের যে বড় সমাজ তার চেহারা একরঙা কাগজের শিটের মতো নয়। ছোট ছোট নানা রঙের বিচিত্র সব ‘সমাজ’ নিয়ে বাইরের বৃহত্তর সমাজের ‘মোজায়েক’ তৈরি হয়েছে। আমরা কথায় বলি, বিপুল এই পৃথিবী, তার কতটুকুই বা আমরা জানি। তারই প্রতিধ্বনি করে বলতে পারি, বিপুল এই সমাজ, যেমন জটিল তেমনি জবরজঙ্গ, তার কিছুই আমরা জানি না। যেটুকু জানি তা নিজেদের গৃহকোণ থেকে একটু জানলা ফাঁক করে দূরের সমুদ্র বা পাহাড় বা মহারণ্যকে জানার মতো। বিশ্বমানবসমাজ কি ভারতীয় সমাজ, এসব অনেক বড় ব্যাপার এবং অনেকেরই নাগালের বাইরে। বাংলার এই বাঙালি সমাজেরই বা কতটুকু আমরা জানি।

    হিন্দুসমাজ, মুসলমান সমাজ, তার মধ্যে দরিদ্র কৃষক মজুর নিম্নমধ্য মধ্যবিত্ত উচ্চমধ্য ধনিক প্রভৃতি শ্রেণিসমাজ, নানা স্তরের শিক্ষিত সমাজ, বৈষ্ণব—শাক্ত—শৈব প্রভৃতি ধর্মসম্প্রদায়ের সমাজ, ব্রাহ্মণ কায়স্থ বৈদ্য সদ্গোপ গোপ মাহিষ্য কৈবর্ত বণিক প্রভৃতি শত শত জাতিধর্মগত সমাজ, কর্মকার চর্মকার তন্তুবায় কারুকার প্রভৃতি অসংখ্য পেশাগত সমাজ, বালকসমাজ, তরুণসমাজ বা যুবসমাজ ইত্যাদি বয়সানুক্রমিক সমাজ, এবং তার উপরে নারীসমাজ ও পুরুষসমাজ—একই সমাজের মধ্যে এরকম শত শত খণ্ডসমাজ। দৈশিক ও কালিক বৈচিত্র্যও আছে সমাজের, যেমন ভারতীয় সমাজ, ফরাসি সমাজ, চৈনিক সমাজ, আফ্রিকান সমাজ, গ্রাম্য সমাজ, নাগরিক সমাজ, প্রাচীন ও আধুনিক সমাজ। সামাজিক অণুবীক্ষণ দিয়ে দেখলে প্রত্যেকটি খণ্ডসমাজের মধ্যেও বহু অণুসমাজ দেখা যায়। সমস্ত খণ্ডসমাজ মিলিয়ে সমাজের যে সমগ্রতা, তার প্রকৃত স্বরূপ চেনা যে কত দুঃসাধ্য ব্যাপার তা সহজেই অনুমান করা যায়। জীববিজ্ঞানের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের এইদিক থেকে একটা সাদৃশ্য আছে। যেমন এক—কোষ থেকে বহু—কোষ জীব ও জীবনের ক্রমাভিব্যক্তি হয়েছে, তেমনি মনুষ্যসমাজের ক্রমবিকাশ ও বয় বৃদ্ধির ফলে সমাজও বহুকোষবিশিষ্ট সমাজ হয়েছে। অর্থাৎ সমাজের যত বিকাশ হয়েছে, বয়স বেড়েছে, তার তত প্রাগৈতিহাসিক অতীতের সহজ—সরল রূপ আধুনিক জটিল রূপ ধারণ করেছে, বৈচিত্র্য বেড়েছে, ভিতরকার খণ্ডসমাজ ও অণুসমাজের সংখ্যাও বেড়েছে।

    যেমন গ্রাম্য সমাজ। সমুদ্রগুপ্ত কি লক্ষ্মণসেনের আমলে যে গ্রাম্য সমাজ বাংলা দেশে ছিল—ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রাম ও গ্রাম্য সমাজ—তা বর্তমান যুগের গুপ্ত—ও—সেনদের আমলে তাপদগ্ধ অশান্তি ও অসন্তাোষের জ্বলন্ত চুল্লিতে পরিণত হয়েছে এবং ক্রমেই যত দিনের পর রাত আর রাতের পর দিন যাচ্ছে, তত যেন সেই চুল্লির উত্তাপ বাড়ছে। তার প্রধান কারণ, এই চুল্লির ‘স্টোকার’ বা ইন্ধনিকের সংখ্যা আজ দ্রুতবর্ধমান। নাগরিক জীবনের ইন্ধন, রাজনীতির ইন্ধন, অর্থনীতির ইন্ধন—এবং আরও অনেক ইন্ধন ও ইন্ধনিক। ইন্ধনের আজ অভাব নেই। দ্রুতচল যানবাহন আজ শহর—নগর ও গ্রামের ব্যবধানও ঘুচিয়ে দিয়েছে। কাজেই সুদূর ভবিষ্যতের কোনো স্বর্ণযুগেই আর আমাদের গ্রাম্য সমাজে ‘শান্তির নীড়’ খুঁজে পাওয়া যাবে না, এমনকী দরিদ্রতম খেতমজুরও যদি বিনা মেহনতে গাণ্ডেপিণ্ডে গিলে অঘোরে ঘুমোবার সুযোগ পায়, তা—ও না, কক্ষনো না। ইস্পাত—কারখানায় ‘ব্লাস্টফার্নেস’—এর মতো এই তপ্তচুল্লি গ্রাম্য সমাজের সনাতন নীলাকাশ লাল করে জ্বলতে থাকবে এবং সেই লাল আকাশের দিকে চেয়ে ভবিষ্যতের মানুষের মনে কোনো রাজনৈতিক বা কাব্যিক রোমান্সের শিহরন জাগবে না। নতুন এক জীবনের স্বাদে নতুন শিহরন হয়তো জাগবে।

     

    আরও দেখুন
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বইয়ের তালিকা
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ই-বুক রিডার
    কৌতুক সংগ্রহ
    PDF বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    কেন শিহরন জাগবে না, কেন চোখগুলো ঝলসে যাবে, তা বর্তমান কলকাতার নাগরিক সমাজের রূপ দেখলেই বোঝা যায়। মানুষের সমস্যা যে শুধু ঔদরিক নয়, তার চেয়ে শতগুণ বেশি মানসিক, তা শহরের উদরনিশ্চিন্ত সমাজের চেহারার দিকে চেয়ে যে—কেউ স্বীকার করতে কুণ্ঠিত হবেন না, যদি না অবশ্য তিনি রাজনীতির নায়কদের মতো দিনকানা হন। উদরের আগুন দাবানলের চেয়েও ভয়াবহ, এ কথা ঠিক, এ কথা মান্ধাতার আমলের সত্যি কথা, এবং সেই আগুনের ইন্ধনিক হবার জন্য যে মার্কসীয় দার্শনিক হবার প্রয়োজন নেই, রাস্তার পাগল হলেও যথেষ্ট, সে কথাও তেমনি সত্যি। কিন্তু তাতে আজকের মানুষের ও সমাজের সমস্যার সমাধান যে হয় না তা রুশ—ডিন, রুশ—চেক, রুশ—হাঙ্গেরির ‘কমরেডি রূপ’ দেখেই বোঝা যায়। রাজনীতির পাঠশালায় বাল্যকাল থেকে আমরা শিখেছি যে একদিন সাম্রাজ্যবাদ—বনাম—সাম্রাজ্যবাদে যুদ্ধ অনিবার্য, এবং সাম্রাজ্যবাদ—বনাম—সমাজতন্ত্রবাদের সম্মুখ সমরে পৃথিবীর যুগযুগান্তের মানবসমস্যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তারপর দীনদুঃখী—আতুর যারা তারাও তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে নিশ্চিন্তে ছিলিমের—পর—ছিলিম তামাক খেতে পারবে। কিন্তু কোথায় সেই তাকিয়া আর সেই তামাক। তামাক বৈপ্লবিক বচনাকীর্ণ গ্রন্থাগারে। আর যদি কোনো পাঠশালার হতভাগ্য শিক্ষক বলেন যে, সাম্যবাদ—বনাম—সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্রপাদ—বনাম—সমাজতন্ত্রবাদের সম্মুখ সমর অনিবার্য এবং কমরেডদের সঙ্গে কমরেডদের খুনোখুনিতে মানবসমাজ ও সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতেও পারে, তাহলে তাঁকে বৈপ্লবিক বচনের বোমায় নিশ্চয় উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মনুমেন্টের তলায় বচনবোমার বিস্ফোরণে হয়তো সেই হতভাগ্য শিক্ষকের অন্তরাত্মা আতঙ্কে কেঁপে উঠবে, কিন্তু যা সত্য তা এতটুকুও কাঁপবে না।

     

    আরও দেখুন
    গল্প, কবিতা
    PDF বই
    পিডিএফ
    বইয়ের
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    Books
    বইয়ের তালিকা
    বই
    বই ডাউনলোড
    বই পড়ুন

     

    যে সত্য অকম্প থাকবে তা হল বর্তমান সমাজে মানুষের সঙ্গে মানুষের যাবতীয় মানবিক সম্পর্কের বিলুপ্তি এবং যান্ত্রিক সম্পর্কের প্রতিষ্ঠা। বিজ্ঞান ও টেকনোলজির লক্ষ্যহীন দুর্ধর্ষ গতির এই পরিণতি নিষ্করুণ হলেও নির্মম বাস্তব সত্য। বিজ্ঞান ও টেকনোলজি হবে মানুষের দাস, সমাজ ও মানুষের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য—এই ছিল গোড়ার কথা। শেষের কথা যা আজ সত্য হয়েছে তা হল—মানুষ হয়েছে বিজ্ঞান ও টেকনোলজির ক্রীতদাস। যন্ত্রের হওয়া উচিত ছিল মানবিক, তা না হয়ে মানুষ হয়েছে যান্ত্রিক এবং যন্ত্রমানুষের দ্বারা যে অন্তত কোনো সুন্দর সমাজ বা সভ্যতা গড়া যায় না, ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র উভয়েই তার বর্তমান সাক্ষী।

    তা যদি হয় তাহলে পরবর্তী প্রশ্ন হল, সমাজের কোন শ্রেণির মানুষের কাছে ‘ভবিষ্যৎ’ সবচেয়ে বেশি মূল্যবান? ষাট থেকে আশি বছরের বৃদ্ধদের কাছে? পঞ্চাশ থেকে ষাট বছরের প্রৌঢ় ও প্রায়—প্রৌঢ়দের কাছে? তিরিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে দ্রুত বিলীয়মান যৌবন যাদের তাদের কাছে? বয়সবিভাগ ট্রপিক্যাল দেশের মানদণ্ড দিয়ে করছি না। একজন আধুনিক পাশ্চাত্য জীবনশিল্পী জীবনের গতি সম্পর্কে লিখেছেন :

    To be sure, he was ageing. At forty, though he had remained as slim as a vine shoot, a man’s muscles don’t warm up so quickly… At forty he’s not yet in a wheelchair, but he’s definitely heading in that direction…

     

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    লাইব্রেরি
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    ডিজিটাল বই
    বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

     

    Albert Camus : The Silent Men

    গভীর স্বচ্ছ জল, ঝকঝকে গরম রোদ, সুন্দরী যুবতী মেয়ে, সতত কর্মচাঞ্চল্য—এ ছাড়া সুখ বলতে আর কিছু ছিল না দেশে। অলব্যিয়র ক্যামু তাঁর দেশের কথা বলেছেন। জীবনেও এ ছাড়া সুখ বা আনন্দ আর কীসে আছে! যৌবন গত হলে সেই আনন্দের আস্বাদ থেকে বঞ্চিত হয় মানুষ। চল্লিশ থেকেই যৌবনের বিদায়কালীন পদসঞ্চার শোনা যায়, যদিও তখন মানুষ হুইলচেয়ারে চলে বেড়ায় না, তবুও বেশ বোঝা যায়, জীবনের এই আনন্দগুলি বিস্বাদ হয়ে আসছে, দেহের স্নায়ুপেশিতে আগেকার মতো আর সাড়া জাগছে না, মনে আর দোলা বা রং লাগছে না। চল্লিশের পর মানুষ হয় ‘স্কাউন্ড্রেল’, এ কথা বার্নার্ড শ বলেছেন। তার প্রায় একশো বছর আগে ডস্টয়েভস্কি বলেছেন :

    I am forty years old now, and you know forty years is a whole lifetime; you know it is extreme old age. To live longer than forty years is bad manners, is vulger, immoral. Who does live beyond forty? Answer that, sincerely and honestly. I will tell you who do, fools and worthless fellows.

     

    আরও দেখুন
    ডিজিটাল বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    নতুন বই
    বইয়ের
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বই ডাউনলোড
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

     

    Dostoevsky : Notes from Underground 1864

    এরপর কেউ নিশ্চয় বলবেন না যে চল্লিশের পর জীবনের ‘ভবিষ্যৎ’ আছে। যদিও বর্তমানকালে পুরুষরা তো বটেই, মেয়েরাও চল্লিশের কোঠায় যুবক—যুবতীর ভাবভঙ্গি নিয়ে চলতে চান, তাহলেও জীবনের আলোকোজ্জ্বল রঙ্গমঞ্চে তাঁদের ট্র্যাজিডির নায়ক—নায়িকা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। ভোগের অদম্য আগ্রহ থেকে যখন এই স্থূলপেশি মেদবহুলদের কৃত্রিম যৌবনভঙ্গি প্রকাশ পায়, তখন এই ট্র্যাজিডি হয় আরও করুণ ও নির্মম। তখন আরও পরিষ্কার বোঝা যায় যে যারা ‘টিনএজার’ (তেরো থেকে উনিশ বছরের) ও আদিকুড়ি (কুড়ি থেকে পঁচিশ বছরের), যারা বয়ঃসন্ধি ও যৌবনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, তাদের তারুণ্যোচ্ছ্বাসের অকৃত্রিম ও অসংযত প্রকাশ কত স্বাভাবিক। বিগতযৌবনরা, অথবা (কনসেশন—সহ) অস্তমান—যৌবন নারী—পুরুষরা যদি আজ মহানগরের পথেঘাটে ট্রাম—বাসে শপিং সেন্টারে সিনেমা—থিয়েটারে কলাপ্রদর্শনীতে হোটেল—রেস্তরাঁয় সভাসমিতিতে তাঁদের বেশভূষায় চলনে—বলনে অঙ্গভঙ্গিতে পূর্ণযৌবন যুবক—যুবতীদের প্রতিস্পর্ধী হতে চান এবং সর্বত্র সচেতনভাবে তার অভিনয় করে বেড়ান, তাহলে তরুণ—তরুণীদের দৃপ্ত ও উদ্ধত আচরণের সমালোচনা করার অধিকার, অন্তত নৈতিক অধিকার তাঁদের কিছু আর থাকে না। ‘টিনএজার’ ছেলেমেয়েরা যদি পথে বেরুলে দেখতে পায় যে তাদের মা—বাবার বয়সি যাঁরা তাঁরাই জীবনের রসাস্বাদনে আজ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, তাহলে বর্তমান সমাজের এই বিচিত্র জীবনদ্বন্দ্বে তরুণ—তরুণীদের উদ্দাম তারুণ্য স্বভাবতই সমস্ত নীতির বাঁধ ভেঙে আত্মপ্রকাশ করার জন্য উন্মুখ হয়ে ওঠে।

     

    আরও দেখুন
    অনলাইনে বই
    ডিজিটাল বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    বইয়ের
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    PDF
    লেখকের বই
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা সাহিত্য

     

    অথচ চল্লিশের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জীবনের কোনো ‘ভবিষ্যৎ’ বলে কিছু নেই। তাঁদের শুধু ক্রাচের মতো কতকগুলি অবলম্বন আছে, আর আছে প্রাণপণে পশ্চাদ্ধাবন করার মতো বর্তমান ভোগবহুল স্টেটাস—সর্বস্ব ধনতান্ত্রিক টেকনোলজিক্যাল সমাজে কতকগুলি স্বর্ণমৃগ—যেমন অর্থ, প্রতিপত্তি, খ্যাতি। কিন্তু যাকে ‘জীবন’ বলে তার কোনো স্বাদ নেই এর মধ্যে। স্বর্ণমৃগ তো আর বনমৃগ নয়। যে স্বাদ আছে ঝকঝকে রোদের তাপে, স্বচ্ছ জলের গভীরতায়, তরুণ—তরুণীর বলিষ্ঠ দেহ—মনে, পাখির ডাকে, সেই স্বাদ কোথায় টাকার সিন্দুকে? কোথায় জরদগবের প্রতিপত্তিতে? অথবা মৃত্যুপথযাত্রীর খ্যাতির দুন্দুভিতে? কোথাও নেই। তাই বলছি, চল্লিশের পরে ভবিষ্যৎ নেই, জীবন নেই, ধনসুখ নেই, যতই আয়নার সামনে গ্রীবাভঙ্গি করে আমরা যৌবনের রিহার্সাল দিই—না কেন, তবু নেই। শুধু স্বর্ণমৃগ আছে পশ্চাদ্ধাবনের জন্য, স্থূল দেহপিণ্ড আছে উটের মতো জীবনের মরুভূমিতে বহনের জন্য, স্তিমিত স্নায়ু ও শ্লথ পেশি আছে মধ্যে মধ্যে হারিয়ে—যাওয়া জীবনের বেসুরো ঝংকার শোনার জন্য। আগেকার বানপ্রস্থকালে ছিল ‘ধর্ম’, বর্তমানে বানপ্রস্থকালে তার বিকল্প হয়েছে ‘রাজনীতি’, চল্লিশের আর—একটি স্বর্ণমৃগ। এই চল্লিশের মা—বাবাদের ছেলেমেয়েরাই বর্তমান সমাজের সমস্যা। তাদের বয়স তেরো থেকে পঁচিশ বছর। তাদের জীবন আছে, জীবনের ‘ভবিষ্যৎ’ আছে, যদ্যপি রাষ্ট্রনায়করা সেই ভবিষ্যৎটিকে আজ গভীর অন্ধকারে আবৃত করে ফেলেছেন। যাদের ভবিষ্যৎ থাকে তারাই ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে দেখে। যদি সেই ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়, তাহলে বর্তমানের বুকের দাঁড়িয়ে তারা কী করতে পারে?

     

    আরও দেখুন
    PDF বই
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    পিডিএফ
    ডিকশনারি
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা বই
    নতুন বই
    অনলাইনে বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ই-বই পড়ুন

     

    বর্তমানের বুকের উপরেও দাঁড়াবার স্থান নেই তাদের। তাই তারা স্ট্রিটকর্নারে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের যোগ্য কোনো কাজ নেই সমাজে, বর্তমানে নেই, এবং বর্তমান সমাজের চেহারা, এরকম থাকলে ভবিষ্যতেও নেই। তাই তারা খেয়ালখুশিমতো কাজ করে, যে—কোনো কাজ, অকাজ—কুকাজ যা—ই হোক, কারণ কিছু—না—করার চেয়ে একটা—কিছু—করা তাদের বয়সের দিক থেকে প্রয়োজন। জ্যেষ্ঠদের মতো তাদের স্বর্ণমৃগের ধান্দা নেই, জীবনের কুটিল পথে দুরভিসন্ধি নিয়ে সন্তর্পণে পা টিপে টিপে তারা চলতে শেখেনি এবং নির্বিকার উদাসীন যন্ত্রের মতো মুনাফার লোভে মৃত্যুর ব্যাবসা করতেও তারা জানে না। মিথ্যা ধর্মাচরণের মতো বয়স তাদের হয়নি, অধর্মের বিবেকদংশনও নেই। কোনো সম্বল বা কোনো মূলধন তাদের নেই, কেবল নতুন তারুণ্য ও যৌবনের দুরন্ত কর্মশক্তির সম্বল ছাড়া। সেই তারুণ্যের উদ্দাম শক্তি যখন সমাজে স্বাভাবিক আত্মনিয়োগের পথ খুঁজে পায় না, তখন তার খানিকটা বিচ্ছুরণ যে স্ট্রিটকর্নারে হবে তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কলকাতার স্ট্রিটকর্নারে নয় শুধু, সারা পৃথিবীর শহর—নগরের স্ট্রিটকর্নারে, এমনকী গ্রামের ও পথের কোণে হাটে—মাঠে আজ যুবশক্তির এই বিভ্রান্ত বিক্ষেপণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। বর্তমান তরুণ—বিক্ষোভের সমগ্র রূপ নিশ্চয় স্ট্রিটকর্নারের শক্তিবিক্ষেপণে দেখা যায় না, যেমন কোনো দেশের সমগ্র তরুণসমাজকেও শুধু স্ট্রিটকর্নারে দেখা যায় না। তবু এটাকে সেই ব্যাপক তরুণ বিক্ষোভেরই একটা অগ্নিকণা বলা যায়, পথের কোণের অগ্নিকণা। বৃহৎ তরুণসমাজের মধ্যে স্ট্রিটকর্নার। সমাজ একটি খণ্ডসমাজ, এবং বৃহত্তর জনসমাজের মধ্যে একটি অণুসমাজ। কিন্তু এই অণুসমাজটিও যে উপেক্ষার বস্তু নয়, আণবিক শক্তির মতোই প্রচণ্ড তার শক্তি, তার পরিচয় আমরা কলকাতার স্ট্রিটকর্নার সমাজ থেকে প্রতিদিন পাই।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা কৌতুক বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা ই-বুক রিডার
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি

     

    স্ট্রিটকর্নার সমাজ প্রধানত টিনএজারদের সমাজ, অর্থাৎ তেরো থেকে উনিশ বছরের তরুণদের সমাজ। আমেরিকান সমাজে তরুণদের মধ্যে সাধারণত দু—রকমের দল বা গোষ্ঠী দেখা যায়, একটিকে উইলিয়াম ফুট হোয়াইট বলেছেন ‘Corner boys’, আর—একটিকে ‘College boys’, খানিকটা শিক্ষা, খানিকটা পারিবারিক পরিবেশের তারতম্যের জন্য এই দলগত পার্থক্য গড়ে ওঠে। ‘কর্নার—বয়’দের সম্বন্ধে হোয়াইট বলেছেন *:

    Corner boys are groups of men who centre their social activities upon particular street corners… They constitute the bottom level of society within their age group…

    কিন্তু ‘কলেজ—বয়’রা, হোয়াইটের মতে—“have risen above the cornerboy level through high education.”

    কর্নারের ছেলেরা তাদের সমবয়সি তরুণদের মধ্যে নিম্নতম স্তরভুক্ত, শিক্ষাদীক্ষাও তাদের বেশি নয়। এইজন্য তাদের দলকে বলা হয় ‘gang’ আর কলেজের তরুণদলকে ‘club’ বলা হয়। হোয়াইট আমেরিকান সমাজে, এবং Cornerville-এর মতো একটি বিশেষ অঞ্চলে, স্ট্রিটকর্নার তরুণদল সম্বন্ধে অনুসন্ধান করেছিলেন। এরকম অনুসন্ধান আরও অনেক সমাজবিজ্ঞানী নানাদিক থেকে অন্যান্য দেশেও করেছেন। আমাদের দেশে এরকম সামাজিক অনুসন্ধানের গুরুত্ব ও আবশ্যকতা খুব বেশি হলেও, অনুসন্ধানীদের দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজচেতনা, সাহস ও ব্যক্তিগত উদ্যমের অভাবের জন্য তা করা হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঔদাস্য ও অচৈতন্যও এই জাতীয় সমাজসমীক্ষার অনুকূল নয়। বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানীদের প্রত্যক্ষ অনুসন্ধানের ফলে দেখা গিয়েছে যে মূলত তরুণসমাজের এবং তরুণদলের সমস্যা সব দেশেই আজ প্রায় একরকম, এমনকী স্ট্রিটকর্নারের তরুণদলেরও। দেশভেদে তার কিছু বৈচিত্র্য আছে, পার্থক্য বিশেষ উল্লেখ্য কিছু নেই। তার কারণ, আর্থিক দিক থেকে ‘উন্নত’ ও ‘অনুন্নত’ দেশের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, এবং ভোগবিলাসের স্তরে যে পার্থক্যই আজ থাক—না কেন, সামাজিক ও মানসিক স্তরে সর্বত্র আজ পার্থক্যের চেয়ে সাদৃশ্যই বেশি। অধিকন্তু কি আর্থিক দিক থেকেও আজকাল আর তাদের ‘under-developed’ বা ‘অনুন্নত’ দেশ বলা হয় না, বলা হয় ‘developing’ ‘উন্নতিশীল’ দেশ। তাহলেও আমেরিকার ‘অ্যাফ্লুয়েন্ট’ সমাজের সঙ্গে আমাদের দেশের সমাজের নিশ্চয় পার্থক্য আছে। কিন্তু যন্ত্রায়ণ—শিল্পায়নের সঙ্গে ‘উন্নতিশীল’ অর্থনীতির অগ্রগতির এমনই মাহাত্ম্য (যুগমাহাত্ম্য তো আছেই) যে গলব্রেথ বর্ণিত আমেরিকার সেই অ্যাফ্লুয়েন্ট সোসাইটির সমস্ত উপসর্গ আজ আমাদের সমাজেও প্রকট হয়ে উঠেছে। নিউ ইয়র্কে বা লন্ডনে বা প্যারিতে বা মস্কোয় নয়, কলকাতা—দিল্লির মতো শহরেও তার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। কলকাতার ‘বার’—হোটেলের ‘ম্যাডহাউস’—এর দৃশ্য ও স্ট্রিটকর্নার তরুণদলের কীর্তির প্রভেদ নেই। সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠরা ‘ম্যাডহাউস’—এর অভিনেতা এবং তরুণরা স্ট্রিটকর্নারের।

     

    আরও দেখুন
    ডিজিটাল বই
    বই ডাউনলোড
    বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    অনলাইনে বই
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাইশে শ্রাবণ

     

    সামাজিক শ্রেণির দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে কলকাতার স্ট্রিটকর্নার তরুণসমাজ প্রধানত নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির কিশোরদের সমাজ। কিশোরী বা তরুণীদের ঠিক এরকম ‘কর্নার—সমাজ’ এখনও গড়ে ওঠেনি, কারণ কিশোরীদের পক্ষে স্ট্রিটকর্নারে জটলা করার অসুবিধা আছে, এবং তাদের স্বাধীনতা থাকলেও স্বাচ্ছন্দ্য ঠিক ছেলেদের মতো নেই। যেমন কর্নারের ছেলেদের পক্ষে রাস্তার যাত্রীদের কাউকে লক্ষ্য করে শিস দেওয়া, হুইসল দেওয়া, টিপ্পনী কাটা অথবা কোড—ল্যাংগুয়েজে অপ্রিয় মন্তব্য করা যত সহজ, মেয়েদের পক্ষে আদৌ তত সহজ নয়। তাই কিশোরী মেয়েরা ঠিক স্ট্রিটকর্নারে চাক বাঁধতে পারে না, অথচ কিশোরদের কর্নারের কাছাকাছি তারা গুচ্ছে গুচ্ছে চলমান থাকে, খিলখিল—কলকল করে ফ্রক দুলিয়ে হেসে—চলে বেড়ায়, সিনেমাস্টার ও খেলোয়াড়দের গল্প করে, এক—আধ সময় দেখেছি কর্নার—দলের সঙ্গে চকোলেট—লজেন্স ছোড়াছুড়িও হয়। কর্নারের কাছাকাছি যদি কোনো মাঠ থাকে, কোনো বাড়ির ফালতু রক অথবা দোকানের চত্বর, কিশোরীরা সেখানেও ঝাঁক বেঁধে থাকে। তার মধ্যে যদি কোনো ফুচকাওয়ালা, আলুকাবলি বা ঘুগনিওয়ালা রাস্তায় হাজির হয়, তাহলে তাকে সেন্টার করে চোখের পলকে কিশোর—কিশোরীদের একটা মিশ্র সমাজ গজিয়ে ওঠে এবং পথিকদের ভ্রূক্ষেপ না করেই তাদের স্বাধীন বাক্যালাপ ও বকম বকম চলতে থাকে। বান্ধবীদের সঙ্গে বয়ফ্রেন্ডদের এবং বন্ধুদের সঙ্গে গার্লফ্রেন্ডদের আলাপ—পরিচয় হয় বিশুদ্ধ বঙ্গভাষায়, বিহারি ফুচকাওয়ালা না—বোঝার ভান করে ফুচকার মশলা মাখতে থাকে। তাই মনে হয়, অদূর ভবিষ্যতে স্ট্রিটকর্নারে কিশোরী—তরুণীদের সমাজও গজিয়ে উঠতে পারে, এমনকী কিশোর ও কিশোরীদের মিশ্র সমাজও, কারণ ফুচকাওয়ালার আড়াল খুব বেশি দিন টেকসই হবে বলে মনে হয় না। কলকাতার ‘মেট্রোপলিটন—কমপ্লেক্স’—এর কথা বলছি না, উত্তর—পূর্ব—দক্ষিণের প্রসার্যমাণ শহরতলির নিম্নমধ্যবিত্তপ্রধান জনবহুল সমাজের দিকে চেয়ে মনে হয়, তরুণ তরুণীদের দুর্বার গতি আজ স্ট্রিটকর্নার সমাজের দিকে, এবং তরুণদের স্ট্রিটকর্নার সমাজের গতি অচিন্তনীয় দুঃসাহসিক কীর্তির বৈচিত্র্যের দিকে। মেট্রোপলিটন কমপ্লেক্সের নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজের রূপও অন্যরকম নয়, একরকম। এমনকী গ্রাম্য সমাজের স্বাতন্ত্র্যও এইদিক থেকে আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন।

     

    আরও দেখুন
    নতুন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    PDF
    লেখকের বই
    রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা কৌতুক বই

     

    কর্নার—সমাজের অন্যতম বিশেষত্ব হল, প্রত্যেকটি কর্নারের কিশোরদের কাছে সেই নির্দিষ্ট কর্নারের স্থানিক মাহাত্ম্য। মনে হয় যেন পুণ্যলোভীদের তীর্থের চেয়েও কর্নারের আকর্ষণ দলের ছেলেদের কাছে অনেক বেশি। রাস্তার উপর ভাঙা কালভার্ট যাদের কর্নার, রাস্তার ধারে অর্ধসমাপ্ত প্রাচীরের পাশ যাদের কর্নার, কোনো চায়ের দোকানে বেঞ্চি—টুল যাদের কর্নার, পানের দোকানের কোণ যাদের কর্নার, এমনকী দক্ষিণকোণ ও বামকোণ, বছরের পর বছর দেখেছি তারা সেই কর্নারেই জমা হয়। কালভার্ট থেকে প্রাচীরের পাশে যায় না, চায়ের দোকান থেকে পানের দোকানে যায় না, এমনকী দোকানের দক্ষিণ কোণ থেকে বাম কোণেও স্থান পরিবর্তন করে না। একই রাস্তার দুইপাশে একাধিক কর্নার বিরাজ করতে পারে, অদ্ভুত স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। অনুসন্ধানে হোয়াইটের ‘গাইড’ কর্নার—লিডার ডকের কথা মনে হয়—

    Fellow around here don’t know what to do except within a radius of about three hundred yards.

    কলকাতার নিম্নমধ্যবিত্তপ্রধান শহরতলিতে—পাইকপাড়া দমদম থেকে যাদবপুর গড়িয়া গঙ্গাপুরী পুটিয়ারি বেলেঘাটা রথতলা—কসবা হালতু পর্যন্ত—অনেক জায়গায় একশো গজের ব্যবধানে বেশ বড় বড় কর্নার—সমাজ গড়ে উঠেছে দেখা যায়। প্রত্যেক কর্নার—গোষ্ঠীর নিজস্ব ও অন্যের সীমানা সম্বন্ধে ইনটিগ্রিটি—বোধ অসামান্য, সাধারণত কেউ কারও সীমানা লঙ্ঘন করে না, প্রত্যেকটি দল নিজস্ব এলাকার ডিক্টেটর। সীমানা লঙ্ঘন অথবা সীমানার কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ করলে কর্নার—লিডারের অঙ্গুলিহেলনে খণ্ডপ্রলয়ও হতে পারে। এক কর্নারের ছেলে যদি অন্য কর্নারে যায়, অথবা কোনো কর্নার লিডার দল ভাঙার উসকানি দেয়, তাতেও খণ্ডপ্রলয় অনিবার্য। এরকম খণ্ডপ্রলয় অনেক দেখেছি—হাতবোমা ক্র্যাকার ছুরি ইট—পাটকেল সোডার বোতল ইত্যাদি সহযোগে রীতিমতো গেরিলা যুদ্ধ বলা চলে। বিষয়টা কর্নারের প্রতি ‘লয়ালটি’ নিয়ে, অথবা কর্নারের ‘টেরিটোরিয়াল ইনটিগ্রিটি’ ও ‘সভরেনটি’ নিয়ে। দুটোই হল কর্নার—সমাজের মূল ভিত্তিস্তম্ভ। কোনোটি ধরে নাড়া দেওয়ার উপায় নেই।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বইয়ের
    ডিকশনারি
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা অডিওবুক
    নতুন বই

     

    কর্নারের আকর্ষণ কর্নার—বয়ের কাছে তাই দুর্নিবার। কর্নার—লিডার ডকের কথায় বলা যায় :

    They come home from work, hang on the corner, go up to eat, back on the corner, up to a show, and they come back to hang on the corner.

    টিনএজার তরুণদের আজকাল কাজও করতে হয়, যোগ্যতা ও সুযোগ অনুসারে নানারকমের কাজ, এবং অসময়ে স্কুল ছেড়ে, কলেজ ছেড়ে, আর্থিক অনটনের জন্য কাজ করতে তারা বাধ্য হয়। আজ করলেও কর্নার তারা ভোলে না। কাজের পর কর্নারে যায়, বাড়িতে দু—মুঠো খেয়ে কর্নারে যায়, সিনেমা বা খেলে দেখে ফিরে কর্নারে যায়। বন্ধুরা কেউ আজকাল আার বাড়িতে খোঁজ করে না, কর্নারে খোঁজ করলেই বন্ধুর খবর জানতে পারে। বাড়িতে বা পরিবারে খোঁজ করে না, কারণ বাড়ির লোক জানে না তার খবর, কর্নারের বন্ধুরা সব জানে। বিস্তৃত অনুসন্ধানের পর হোয়াইট তাই এ বিষয়ে তাঁর সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেছেন।

    Home plays a very small role in the group activities of the corner boy. Except when he eats, sleeps, or is sick, he is rarely at home, and his friends always go to his corner first when they want to find him.

     

    আরও দেখুন
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    Books
    স্বাস্থ্য টিপস
    PDF বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বইয়ের
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    ডিজিটাল বই

     

    কর্নারের ছেলেদের দৈনন্দিন জীবন ও কার্যকলাপের সঙ্গে পরিবারের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই। দু—বেলা দু—মুঠো খাবার সময়, ঘুমোবার সময় এবং অসুখবিসুখ ছাড়া রাস্তার কোণের ছেলেদের ঘরে থাকতে দেখা যায় না এবং তার বন্ধুরা তাই তার ঘরে খোঁজ করে না, খোঁজ করে কর্নারে। স্ট্রিটকর্নার—সমাজের উৎপত্তি ও প্রসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, বর্তমানকালে পারিবারিক জীবনধারার বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

    আমাদের সময় ছেলেবেলা থেকে আমরা শিখেছি ও জেনেছি ‘হোম, সুইট হোম’ এবং গৃহের মতো, পরিবারের মতো আর কোনো স্থান নেই জগতে। এখন সেই গৃহ মধুময় নয়, বিষময়। যন্ত্রযুগের গড্ডলসমাজে বাবা—মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন সকলে ভাসমান। বেশি দিন নয়, মাত্র গত পঁচিশটা বছরের দিকে (দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত) যদি কেউ চেয়ে দেখেন খোলা চোখে, সমস্ত পরদা সরিয়ে, তাহলে পরিষ্কার দেখতে পাবেন, পারিবারিক স্নেহ—প্রীতি—ভালোবাসার সম্পর্ক ও সংস্পর্শ কোন স্তরে পৌঁছেছে। নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব এত বেড়ে গিয়েছে যে, বছরের পর বছর ঘুরে গেলেও অনেকের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎই হয় না, এবং অনেকের চেতনার সীমানার মধ্যেই আত্মীয়রা বিরাজ করেন না। বিবাহ—শ্রাদ্ধের মতো অনুষ্ঠান ছাড়া আত্মীয়দের চোখের মিলনও ঘটে না। পরিবার শুধু স্বামী—স্ত্রী ও তাঁদের ছেলেমেয়েদের একক—পরিবার হয়েছে—যন্ত্রযুগের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। জন্ম থেকে এ যুগের ছেলেমেয়েরা সমস্ত নিকটআত্মীয়দের প্রত্যক্ষ স্নেহ—ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বঞ্চিত (গত পঁচিশ কেন, কুড়ি বছরে যেসব ছেলেমেয়েদের জন্ম হয়েছে, তাদের কথাই আমরা বলছি)। বাকি থাকেন বাবা ও মা।

    বাবা ও মা সম্পর্কে একটি কথা সবার আগে মনে রাখা দরকার। কথাটা হল, তাঁরাও মানুষ। পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের জৈবগুণ পালনের জন্য তাঁরা দৈবগুণের অধিকারী হন না। আত্মীয়হীন একক—পরিবারে সংসারের ও সন্তানের সমস্ত দায়িত্ব তাঁদের দু—জনকে পালন করতে হয়। এ দেশে বাবা চিরকালই গৃহকর্তা, আর্থিক বোঝা তিনিই প্রধানত বহন করেন। বর্তমানে মায়েরাও আর্থিক ক্ষেত্রে তাঁদের সহযোগী হয়েছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে শিক্ষিত—অশিক্ষিত নির্বিশেষে মা—বাবাদের সকলকেই প্রায় জীবিকার জন্য কোনো—না—কোনো কাজ করতে হয়। যাঁদের নিছক জীবনধারণের সমস্যা নেই, স্বামীর আয়ই তাঁদের পক্ষে যথেষ্ট, তাঁরাও বর্তমান যুগে স্ত্রী—স্বাধীনতা কামনা করেন, বিশেষ করে আর্থিক স্বাধীনতা। তার জন্য তাঁরাও স্বামীর মতো চাকরি করতে যান। স্বাধীনতার চেয়েও বড় কথা হল, মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার মান (standard of living) বর্তমান ভোগ্যদ্রব্যবহুল সমাজে দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং সেই মান উন্নয়নের জন্য সকলেই প্রাণপণে প্রয়াসী। কাজেই নিম্নমধ্যবিত্ত স্তরের উপরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের মধ্যেও দেখা যায়, স্বামী—স্ত্রী উভয়েই অর্থোপার্জনে ব্যস্ত। নিম্ন থেকে উচ্চ, মধ্যবিত্তের সকল স্তরেই আজ বাবা—মা বা স্বামী—স্ত্রী—র জীবন বহির্মুখী, আর্থিক কর্মমুখী—কারও নিছক জীবনধারণের জন্য, কারও বা ক্রমাগত পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য, সামাজিক স্টেটাস উত্তোলনের জন্য। তা—ই যদি হয় তাহলে আত্মীয়হীন একক—পরিবারের অবস্থা কী হয়, এবং সেই পরিবারের ছেলেমেয়েদের অবস্থা?

    অবস্থা সহজেই কল্পনা করা যায়। কল্পনার প্রয়োজন হয় না, কলকাতা শহরে মধ্যবিত্ত পরিবারের বিভিন্ন স্তরে ঘরের দিকে একটু উঁকি দিয়ে তার বাস্তব ছবি দেখলে শিউরে উঠতে হয়। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহ জনমানবহীন গ্রাম্য শ্মশানের মতো ভয়াবহ, মধ্য ও উচ্চবিত্ত পরিবার কাকপক্ষীহীন কেয়ারি—করা টবের বাগানের মতো কৃত্রিম, প্রাণহীন। কোনোটাই মনুষ্যবাসোপযোগী নয় এবং মনুষ্যসন্তান প্রতিপালনের অনুকূল নয়। সংগতি অনুসারে এইসব গৃহ ভৃত্যদের অধীন (পুরুষ ও মহিলা ভৃত্য) থাকে এবং বালক—বালিকা ও কিশোর—কিশোরীদের ভৃত্যের অভিভাকত্বে রেখে যাওয়ার ফলে যে কত প্রকারের বিপর্যয় তাদের জীবনে ঘটতে পারে তা বিশদ ব্যাখ্যা করে না—বলাই বাঞ্ছনীয়। বাবা ও মা সন্ধ্যার পরে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরেন, অবসাদ কাটিয়ে এবং সমাজের অবশ্যকর্তব্য করে ছেলেমেয়েদের প্রতি স্নেহপ্রদর্শনের মতো মেজাজ তাঁদের আর থাকে না। যাঁদের সংগতি আছে, ভৃত্যবেষ্টিত ও গ্যাজেটদুরস্ত পরিবার আছে, তাঁদের চাকরিকর্ম ছাড়াও অন্যান্য সামাজিক—সাংস্কৃতিক কর্ম থাকে—যেমন শপিং, সান্ধ্য মজলিশ, ক্লাব, আসর, সিনেমা, প্রদর্শনী—রাত্রি এক প্রহর পর্যন্ত তাতেই তাঁদের কেটে যায়—আধুনিক মায়েদের—কারণ আগেই বলেছি, নারীর জীবন আজকাল পঁয়ত্রিশ বা চল্লিশের পর শেষ হয়ে যায় না, শেষ হয়ে যাক তা—ও তাঁদের কাম্য নয়। কাজেই একটু স্নেহ, একটু ভালোবাসা, একটু আদরযত্ন, একটু সান্নিধ্য—এসব মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা আধুনিক বাবা—মা—র কাছ থেকে পায় না—এমনকী একশ্রেণির উন্নাসিক ন্যাকামিপ্রসূত ‘ড্যাডি—মামি’ বা ‘টা—টা’র তোতাপাখির বুলির ভিতর দিয়েও না। পাশ্চাত্য সমাজে এই সমস্যা যদি অত্যন্ত প্রকট হয়ে থাকে, আমাদের সমাজে তাহলে তা অত্যন্ত বিকট হচ্ছে বলা যায়, কারণ আমাদের সমাজ পাশ্চাত্যের তুলনায় অনেক বেশি জবড়জং। পাশ্চাত্য সমাজের একটা পরিষ্কার আকার আছে তা সে যেরকমই হোক—না কেন, আমাদের সমাজ কিম্ভূতকিমাকার—ঐতিহ্য ও আধুনিকতা, বিজ্ঞান ও ধর্ম, গুরুবাদ ও নেতাবাদ, পৌত্তলিকতা ও ব্রহ্মবাদ, সলজ্জ সাধুতা ও নির্লজ্জ অসাধুতা, ঐশ্বর্য ও দারিদ্র্য, বহুদেবতা, বহুদানব এবং বহুমানবের এক বিচিত্র মিশ্র সমাজ।

    যে পাশ্চাত্য সমাজের একটা বিশেষ আকার আছে, সেখানেই বাবা—মা—র, বিশেষ করে মেয়েদের বহির্মুখী জীবনের প্রতিক্রিয়া পারিবারিক জীবনে কীভাবে দেখা দিচ্ছে, সে বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী ফাইভেল বলেছেন :

    The general exodus of married women, many of them mothers, into outside work, in itself helped to create a new social atmosphere, a new general way of family life whereby ‘home’ for many boys and girls becomes less important in their lives, and the companionship of the irresponsible gang therefore become more important.—বাঁকা হরফ লেখকের।

    পৃথিবীর সমস্ত শহরে আজ তাই তরুণদের স্ট্রিটকর্নার—সমাজের বিকাশ ও প্রসার হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কলকাতা শহরও পিছিয়ে নেই, বরং ইউরোপের অনেক শহরের চেয়ে এগিয়ে আছে। অন্যান্য শহরের মতো ঘর ও পরিবার কলকাতা শহরে ভেঙে গেছে, কিন্তু কলকাতার ভাঙন আরও বেশি মর্মান্তিক। লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত পরিবার আজ কলকাতার শহরতলি ও মেট্রোপলিটন কমপ্লেক্সে নির্মম জীবনসংগ্রামে লিপ্ত। নিম্নমধ্যবিত্ত তরুণরা পথের ভেন্ডার, ট্রেনের ক্যানভাসার, কারখানার সাধারণ মজুর, অফিসের বেয়ারা, অথবা বেকার। অধিকাংশেরই বাসগৃহ দরিদ্রের গোয়ালের চেয়েও নিকষ্ট, মাথা গোঁজার বা বিশ্রামের স্থান নেই। পিতা—মাতার দাম্পত্যজীবনের সঙ্গে কিশোর—কিশোরী ছেলেমেয়েদের একশো বর্গফুট স্থানের মধ্যে সহবাসের অভিজ্ঞতা যে কী ভয়ংকর, তা যাদের বাস করতে হয় তারাই জানে। কাজেই গৃহ ও পরিবার কলকাতার নিম্নমধ্যবিত্ত তরুণ্যের কাছে জ্বলন্ত নরককুণ্ড—সেখানে যে শুধু স্নেহ—মায়া—মমতা নেই তা নয়, কোনোরকমে পশুর মতো দৈহিক বসবারেও সুযোগ নেই। এ ছাড়া কলকাতার সাধারণ মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত তরুণদের অধিকাংশের কাছে গৃহ ও পরিবারের কোনো আকর্ষণ নেই, কারণ মানবিক সম্পর্কের স্বাদ সেখানে তারা পায় না। তাই তারা মর্যাদার জন্য স্ট্রিটকর্নারে না এলেও, কফি কর্নারে যায়। অর্থাৎ স্ট্রিটকর্নার থেকে কফি কর্নার বাইরের যে—কোনো কর্নার আজ তরুণদের কাছে ঘর ও পরিবারের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। কারণ ঘর আর আগের ঘর নেই, পরিবার আর আগের পরিবার নেই, বাইরের হৃদয়হীন যান্ত্রিক সমাজের হুবহু প্রতিচ্ছবি হয়েছে পরিবার। ধনতন্ত্রের বার্ধক্যে যা হবার কথা তা—ই হয়েছে।

    স্ট্রিটকর্নার—সমাজ তরুণসমাজ। তরুণীদের কথা আপাতত থাক। স্ট্রিটকর্নার সমাজের হৃদয় আছে, মন আছে, বিবেক আছে, উচ্ছল প্রাণ আছে, তারুণ্যের উদ্দাম শক্তি আছে, সাহস আছে। এর কোনোটাই বৃহত্তর সমাজে নেই, এবং তার ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি পরিবারেও নেই। স্ট্রিটকর্নার—সমাজের বৈশিষ্ট্য হল দৃঢ় গোষ্ঠীবদ্ধতা, পরস্পরের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুপ্রীতি, লিডার বা গোষ্ঠীপতির প্রতি অন্ধ অনুরাগ। এগুলি মানসিক গুণ এবং অবশ্যই তারুণ্যের ধর্ম। কিন্তু সমাজের মানুষের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নেই, ভালোবাসাও নেই বিশেষ, কারণ আজকের সমাজে খুব কম মানুষই আছেন যাঁরা শ্রদ্ধার পাত্র, ভালোবাসার পাত্র, বিশেষ করে উচ্চসমাজে। এই তরুণরা যেমন পিতা—মাতার স্নেহস্পর্শ থেকে বঞ্চিত, তেমনি পিতা—মাতারাও তাদের শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত। স্ট্রিটকর্নার—সমাজের তরুণদের যদি কোনো শ্রদ্ধা সমাজের প্রতি না থাকে, তাহলে তার জন্য তরুণরা দায়ী নয়, দায়ী সমাজ, বিশেষ করে সমাজের শাসক ও পরিচালক জ্যেষ্ঠরা। আজ সমাজের জ্যেষ্ঠরা সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে সমস্ত আদর্শ ও নীতিবোধ বিসর্জন দিয়ে, এমনকী সামান্য শিষ্টাচার পর্যন্ত ভুলে গিয়ে, যে আচরণ করছেন, তাতে তরুণদের কাছে কোনো দাবি করারই তাঁদের অধিকার নেই। কর্পোরেশন—অ্যাসেম্বলি থেকে পার্লামেন্ট, স্কুল—কমিটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট—সিন্ডিকেট, ব্যাবসাক্ষেত্র থেকে রাজনৈতিক ক্ষেত্র, সর্বত্র মেকিভণ্ড ও নিধিরামদের তাণ্ডব, এবং সেই তাণ্ডবের কী অশিষ্ট অভদ্র অশালীন রূপ! স্ট্রিটকর্নারের যে—কোনো হতচ্ছাড়া বাউন্ডুলে তরুণ তার সমস্ত ঔদ্ধত্য ও অশালীনতা নিয়ে সমাজের জ্যেষ্ঠ ও প্রাজ্ঞদের এই মিথ্যা দম্ভ ও অশিষ্টতার কাছে লজ্জায় মাথা হেঁট করবে। তারপর সমাজের বিচিত্র প্রচারযন্ত্রের সাহায্যে কেবল এই অপদার্থতার গুণকীর্তন এবং ভণ্ডদের জয়ধ্বনি! যেমন বাণিজ্যে, তেমনি শিক্ষাক্ষেত্রে, তেমনি রাষ্ট্রশাসনে, সর্বত্র সমান। কাজেই তরুণরা যদি আজ জ্যেষ্ঠদের শ্রদ্ধার পাত্র বলে মনে না করে, এবং শহরের স্ট্রিটকর্নার থেকে তীব্র বিদ্রুপাত্মক শিসের শব্দ শোনা যায়, তাহলে চমকে ওঠার কিছু নেই।

    স্ট্রিটকর্নারের তরুণরা ‘ভায়োলেন্ট’ বলেও চমকে ওঠার কিছু নেই। বর্তমানকালের বুর্জোয়া—ডেমোক্রাটিক রাষ্ট্রশাসনের ভিত্তি হল ‘ভায়োলেন্স’। সমাজের অস্থিপঞ্জরে ‘ভায়োলেন্স’। বহুনিনাদিত, যুগে যুগে বহু মানব—অবতার ঘোষিত বড় বড় আদর্শের কী পরিণতি? শিশুর খাদ্যে বিষ, কারণ মুনাফা চাই—দেশাত্মবোধ ও শান্তিতে বিষ, কারণ আণবিক অস্ত্রনির্মাণে মুনাফা চাই, অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাই। সভ্যতার পরিণতি ‘ভিয়েতনাম’, আণবিক মারণাস্ত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিণতি শ্মশানযাত্রী বিশ্বমানবের মুখে ‘রামনাম’। মুণ্ডিতমস্তক বিদেশিদের মুখেও চৌরঙ্গিতে ‘হরেকৃষ্ণ হরেনাম’। ‘ভায়োলেন্স’ প্রকৃতির আলো—বাতাসে, মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে। তরুণদের—এবং স্ট্রিটকর্নার—তরুণদের—হাতবোমা ও ক্র্যাকার, বোতল ও পাইপগান—তার কাছে নিতান্ত ছেলেখেলা বা পুতুলখেলা ছাড়া কিছু নয়। কারণ ‘ভায়োলেন্স’—এর ভয়ানক অস্ত্রশস্ত্র শাসক জ্যেষ্ঠদের করায়ত্ত—তা—ই দিয়ে তাঁদের প্রয়োজনে তাঁরা স্ট্রিট সেন্টার থেকে স্ট্রিটকর্নার পর্যন্ত একনিমেষেই নির্মূল করতে পারেন। তরুণরা তা পারে না, ফ্রান্সের তরুণরাও তা পারেনি। কলকাতার স্ট্রিটকর্নারের তরুণরাও তা জানে। তারা জানে তাদের মতো স্ট্রিটকর্নারের তরুণদের ক্র্যাকারের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ জ্যেষ্ঠদের কামান—বোমারু বিমানের কাছে আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হবে। তবু প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ তারা করবে—ধনতান্ত্রিক, যান্ত্রিক ও ভায়োলেন্ট সমাজের বিরুদ্ধে, শ্মশানের মতো ভয়াবহ ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে, দানবের চেয়েও ভয়ংকর হিংস্র মানুষের বিরুদ্ধে, পিতৃমাতৃহীন পরিবারের বিরুদ্ধে, আদর্শ ও নীতির নামে স্তূপীকৃত ভণ্ডামি ও মিথ্যার বিরুদ্ধে।

    ১৯৬৮

    ……

    * William Foote Whyte : Street Corner Society, Chicago, Seventh Impression, 1964

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রবন্ধ সংগ্রহ – বিনয় ঘোষ
    Next Article বিদ্রোহী ডিরোজিও – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }