Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেডেল

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভৌতিক গল্প এক পাতা গল্প16 Mins Read0

    মেডেল

    কয়েক বছর পূর্বে এ-ঘটনা ঘটেছে, তাই এখন মাঝে মাঝে আমার মনে হয় ব্যাপারটা আগাগোড়া মিথ্যে; আমারই কোনোপ্রকার শারীরিক অসুস্থতার দরুন হয়তো চোখের ভুল দেখে থাকব বা ওইরকম কিছু। কিন্তু আমার মন বলে, তা নয়; ঘটনাটি মিথ্যে ও অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেবার কোনো কারণ ঘটেনি। আমার তখনকারের অভিজ্ঞতাই সত্যি, এখন যা ভাবছি তা-ই মিথ্যে।

    ঘটনাটি খুলে বলা দরকার।

    প্রসঙ্গক্রমে গোড়াতেই এ-কথা বলে রাখি যে, গত দশ বৎসরের মধ্যে আমার শরীরে কোনো রোগবালাই নেই। আমার মন বা মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ সুস্থ আছে এবং যে-সময়ের কথা বলছি, এখন থেকে বছর চারেক আগে, সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। আমার স্কুলমাস্টারের জীবনে অত্যাশ্চর্য বা অবিশ্বাস্য ধরনের কখনো কিছু দেখিনি। অন্য পাঁচজন স্কুলমাস্টারের মতোই অত্যন্ত সাধারণ ও একঘেয়ে রুটিন-বাঁধা কর্তব্যের মধ্যে দিয়েই দিন কাটিয়ে চলেছি আজ বহু বৎসর।

    সে বছর বর্ষাকালে, গরমের ছুটির কিছু পরে একদিন ক্লাসে পড়াচ্ছি, এমন সময় একটি ছেলে আর একটি ছেলের সঙ্গে হাত কাড়াকাড়ি করে কী একটা কেড়ে বা ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করছে, আমার চোখে পড়ল। আমি ওদের দু-জনকে অমনোযোগিতার জন্যে ধমক দিতে, অন্য একটি ছেলে বলে উঠল— স্যার, কামিখ্যে সুধীরের মেডেল কেড়ে নিচ্ছে—

    —কার মেডেল? কীসের মেডেল?

    সুধীর নামে ছেলেটি দাঁড়িয়ে উঠে বললে— আমার মেডেল, স্যার!

    অন্য ছেলেটির দিকে চেয়ে বললুম— ওর মেডেল তুমি নিচ্ছিলে, কামিখ্যে?

    কামিখ্যে ওরফে কামাখ্যাচরণ মৌলিক নামে ছেলেটি বললে— নিচ্ছিলুম না স্যার, দেখতে চাইছিলুম, তা, ও দেবে না—

    —ওর মেডেল ও যদি না-দেয়, তোমার কেড়ে নেবার কী অধিকার আছে? বোসো, ওরকম আর করবে না।

    কথা শেষ করে সুধীরের দিকে চেয়ে, ক্লাসের ছেলেদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃভাব ও সখ্য থাকার ঔচিত্য সম্বন্ধে নাতিদীর্ঘ একটি বত্তৃতা দেবার পরে ঈষৎ কৌতূহলের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলুম— কই, কী মেডেল দেখি? কোথায় পেলে মেডেল?

    ভেবেছিলুম আজকাল কলকাতার পাড়ায় পাড়ায় যে সব ব্যাডমিন্টন খেলা, সাঁতারের বা দৌড়ের প্রতিযোগিতা প্রভৃতি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, তারই কোনো কিছুতে সুধীর হয়তো চতুর্থস্থান বা ওই ধরনের সাফল্য লাভ করে ছোট্ট এতটুকু একটা আধুলির মতো মেডেল পেয়ে থাকবে; এবং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক যে, সে সেটা ক্লাসে এনে পাঁচজনকে গর্বভরে দেখাতে চাইবে; এমনকী এই ছুতো অবলম্বন করে ক্লাসসুদ্ধ হেডমাস্টারের কাছে দলবদ্ধ হয়ে গিয়ে এক বেলার জন্যে ছুটিও চাইতে পারে। সুতরাং মেডেলটা যখন আমার হাতে এসে পৌঁছল, তখন সেটাকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গেই হাত পেতে নিলুম; কিন্তু মেডেলটার দিকে একবার চেয়ে দেখেই চেয়ারে সোজা হয়ে বসলুম। না, এ-তো পাড়ার ব্যাডমিন্টন ক্লাবের বাজে মেডেল নয়! মেডেলটা পুরোনো, বড়ো ও ভারি চমৎকার গড়ন।— কী জিনিস দেখি?

    মেডেলের গায়ে কী লেখা রয়েছে, আধ-অন্ধকার ক্লাসরুমে ভালো পড়তে পারলুম না; ও-পিঠ উলটে দেখি— মহারানি ভিক্টোরিয়ার অল্পবয়সের মূর্তি খোদাই করা। পকেটে চশমা নেই, মনে হল অফিস ঘরের টেবিলে ফেলে এসেছি। ইতিমধ্যে অনেকগুলি ছেলে ভিড় করেছে আমার চেয়ারের চারপাশে; মেডেল দেখবার জন্যে। তাদের ধমক দিয়ে বললুম— যাও, বসোগে সব, ভিড় করো না এখানে।

    একটি ছেলেকে বললুম— কী লেখা আছে মেডেলের গায়ে পড়ো তো?

    ক্লাস ফোরের ছেলে— অতিকষ্টে ধীরে ধীরে পড়লে, ক্রাইমিয়া, সিবাস্টোপোল, ভিক্টোরিয়া রেজিনা।

    —ও-পিঠে?

    —সার্জেন্ট এস বি পার্কিনস, সিক্সথ ড্রাগন গার্ডস আঠারো-শো চুয়ান্ন সাল…

    দস্তুরমতো অবাক হয়ে গেলুম। ক্রাইমিয়ার যুদ্ধের সময় সিবাস্টোপোলের রণক্ষেত্রে কোনো সাহসের কাজ করবার জন্যে এই মেডেল দেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের সামরিক দপ্তর থেকে ড্রাগন গার্ডস সৈন্যদলের সার্জেন্ট পার্কিনসকে। এ তো সাধারণ জিনিস মোটেই নয়!

    ক্রাইমিয়া…সিবাস্টোপোল?… চার্জ অব দি লাইট ব্রিগেড! কিন্তু কলকাতার নীলমণি দাস লেনের সুধীর সাহার কাছে সে মেডেল কোথা থেকে আসে?

    —এদিকে এসো। এ মেডেল কোথায় পেয়েছ?

    —ওটা আমার স্যার!

    —তোমার তো বুঝলুম। পেলে কোথায়?

    —আমার দাদু দিয়েছেন স্যার।

    —তোমার দাদু কোথায় পেয়েছিলেন জানো?

    —হ্যাঁ স্যার, জানি। আমার দাদুর বাবার কাছে এক সাহেব জমা রেখে গিয়েছিল।

    —কীভাবে?

    —আমাদের মদের দোকান ছিল কিনা, স্যার! মদ খেয়ে টাকা কম পড়লে ওটা বাঁধা রেখে গিয়েছিল, আর নিয়ে যায়নি; দাদুর মুখে শুনেছি।

    হিসাব করে দেখলুম, ছিয়াশি বছর উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে সেই বছরটি থেকে, যে-বছরে সার্জেন্ট পার্কিনস (সে যেই হোক) এ মেডেল পায়। তখন তার বয়স যদি কুড়ি বছরও হয়ে থাকে, এখন তার বয়স হওয়া উচিত এক-শো ছয়। সুতরাং সে মরে ভূত হয়ে গেছে কোন কালে।

    সেদিন ছিল শনিবার, সকাল সকাল স্কুল ছুটি হবে এবং অনেকদিন পরে সেদিন দেশে যাব পূর্বেই ঠিক করে রেখেছিলুম। আমার এক গ্রামসম্পর্কে জ্যাঠামশাই ইতিহাস নিয়ে নাড়াচাড়া করেন, বেশ পড়াশুনো আছে, গ্রামেই থাকেন। ভাবলুম তাঁকে মেডেলটা দেখালে খুশি হবেন খুব। সুধীরের কাছ থেকে মেডেলটা চেয়ে নিলুম, সোমবারে ফেরত দেব বললুম। স্কুলের ছুটির পরে বাসা থেকে সুটকেস নিয়ে শিয়ালদা স্টেশনে এসে আড়াইটের গাড়ি ধরলুম। দেশের স্টেশনে যখন নামলুম, তখন বেলা সাড়ে পাঁচটা। দু-মাইল রাস্তা হেঁটে বাড়ি পৌঁছুতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। সন্ধ্যার আগেই হয়তো পৌঁছুতে পারা যেত; কিন্তু আমি খুব জোরে হাঁটিনি।

    ভাদ্র মাসের শেষ, অথচ বৃষ্টি তত বেশি না হওয়ায় পথঘাট বেশ শুকনো খটখটে। পথের ধারের বর্ষা-শ্যামল গাছপালা চোখে বড়ো ভালো লাগছিল অনেক দিন কলকাতা-বাসের পরে; তাই জোরে পা না-চালিয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে আসছিলুম। এখানে প্রথমেই বলি, আমার বাড়িতে কেউ থাকে না। পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধা আমি গেলে রান্না করে নিয়ে আসতেন বরাবর। আমার এক বাল্যবন্ধু, বৃন্দাবন, অনেক বছর ধরে বিদেশে থাকে। পিসিমার মুখে শুনলুম, আজ দিন পনেরো হল বৃন্দাবন বাড়ি এসেছে। শুনে বড়ো আনন্দ হল। সন্ধ্যার পরেই ওর সঙ্গে দেখা করব ঠিক করে, চা খেয়ে নদীর ধারে বেড়াতে বার হলুম। যাবার সময় সুটকেসটা খুলে মেডেলটা পকেটে নিলুম, বৃন্দাবনকেও দেখাব।

    নদীর ধারে গিয়ে দেখি— বর্ষার দরুন নদীর জল ভয়ানক বেড়েছে, নদীর জল কূল ছাপিয়ে দু-ধারের মাঠে পড়েছে। অনেকক্ষণ বসে রইলুম। সন্ধ্যার অন্ধকার নামল একটু একটু, বাদুড়ের দল বাসায় ফিরছে। কেউ কোনোদিকে নেই, এক জায়গায় বর্ষার তোড়ে নদীর পাড় ভেঙে গিয়েছে। অনেকটা উঁচু পাড়, নীচে খরস্রোতা বর্ষার নদী। জায়গাটা দিয়ে যেতে যেতে একবার কীরকম ভেঙেছে দেখবার ইচ্ছা হল। পাড়ের ধারে দাঁড়িয়ে নীচে জলের আবর্ত দেখছি, পাড়টা সেখানে অনেকখানি উঁচু, জল অনেক নীচে; হঠাৎ আমার মনে একটা অদ্ভুত ইচ্ছা জেগে উঠল। আমার লাফ দিয়ে পাড় থেকে জলে ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছা করল। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ইচ্ছাটা যেন ক্রমে বেড়ে উঠল— লাফাই— দিই লাফ—! অথচ বর্ষার খরস্রোতা নদী, কুটো ফেললে দু-খানা হয়ে যায়! আমি সাঁতার জানি না, গভীর জল পাড়ের নীচেই। ইচ্ছাটা কিছুতেই যেন সামলাতে পারছিনে! এমনকী আমার মনে হল আর কিছুক্ষণ থাকলে আমাকে লাফ দিতেই হবে, নইলে আমার জীবনের সব সুখ চলে যাবে।

    তাড়াতাড়ি নদীর পাড় থেকে একরকম জোর করেই চলে এলুম। কারণ, যেন মনে হচ্ছিল এরপর আমার আর যাওয়ার ক্ষমতা থাকবে না, পা দুটো যেন ক্রমশ সিসের মতো ভারী হয়ে উঠছে। এরপর ওই বিপজ্জনক নদীর পাড় থেকে পা দুটোকে নাড়াবার ক্ষমতা চলে যাবে আমার।

    নদীর ধার থেকে বৃন্দাবনের বাড়ি আসবার পথে ওসব ইচ্ছে আর কিছু নেই। আমি নিজের মনোভাবে নিজেই আশ্চর্য হয়ে গেলুম— কী অদ্ভুত! এরকম হওয়ার মানে কী? ট্রেনে বসে অতিমাত্রায় ধূমপান করেছিলুম মনে পড়ল। এই ভাদ্র মাসের গরমে অত ধূমপান করা ঠিক হয়নি, তার ওপর বাড়ি এসে দু-তিন পেয়ালা চা খেয়েছি। এ-সবেই ওরকমটা হয়ে থাকবে।— নিশ্চয়ই তাই।

    বৃন্দাবনের বাড়ি গেলুম। বৃন্দাবনকে অনেক দিন পর দেখে সত্যিই আনন্দ হল। দু-জনে অনেক রাত পর্যন্ত বসে অনেক গল্প করলুম। অনেক বছর ধরে জমানো অনেক সুখ-দুঃখের কাহিনি। বড়ো গরম আজ, কোথাও এতটুকু বাতাস নেই। ভাদ্রমাসের গুমোট গরম। বৃন্দাবন বললে— চল ভাই, ছাদে গিয়ে বসে গল্প করি, তবুও একটু হাওয়া পাওয়া যাবে। তুই আমাদের এখানে খেয়ে যাবি, মা বলে দিয়েছেন। তোদের বাড়িতেও খবর দেওয়া হয়েছে।

    দু-জনে ছাদে উঠলুম। বাড়িটা দোতলা। ছাদের ওপর একখানা মাত্র ঘর আছে। আমি জানতুম বৃন্দাবনের কাকা ওই ঘরটায় থাকেন। দোতলায় ছাদে উঠে দেখলুম— বাড়ির পেছন দিকটায় বাঁশের ভারি বাঁধা। বললুম— বাড়িতে রাজমিস্ত্রি খাটছে বুঝি, বৃন্দাবন?

    —হ্যাঁ ভাই, কাকার ঘরটা মেরামত হবে; উত্তর দিকের দেওয়ালটার গা থেকে নোনা-ধরা ইটগুলো বার করা হচ্ছে।

    বৃন্দাবন দোতলার ঘরটার মধ্যে ঢুকল। আমার কিন্তু মনে কেমন একটা অস্থির ভাব। খানিকক্ষণ ঘরের মধ্যে গল্প করে আমি একটু জল খেতে চাইলুম। বৃন্দাবন জল আনতে নীচে নেমে গেল, আমি ছাদে পায়চারি করতে লাগলুম। ছাদে কেউ নেই, অন্ধকার ছাদটা। যেদিকটায় রাজমিস্ত্রিরা ভারা-বেঁধে কাজ করছে, পায়চারি করতে করতে সেখানটাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি, হঠাৎ আমার মনে হল— ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়িনে কেন?

    বেশ হবে!— লাফ দেবো? প্রায় দুর্দমনীয় ইচ্ছা হল লাফ দেবার। লাফ দেওয়াই ভালো!— লাফ দিতেই হবে! দিই লাফ?— এমন সময় বৃন্দাবন ছাদের ওপর এসে বলল— আয় ঘরের মধ্যে, মা চা পাঠিয়ে দিচ্ছেন; ওখানে দাঁড়িয়ে কেন?

    আরও প্রায় আধ ঘণ্টা কথা বলবার পরে নীচে থেকে চা ও খাবার এসে পৌঁছুল। আমরা দুই বন্ধুতে অনেক রাত পর্যন্ত গল্পগুজব করলুম। তারপর বৃন্দাবন খাওয়ার কতদূর জোগাড় হল দেখতে নীচে চলে গেল।

    ঘরের মধ্যে বড়ো গরম, আমি বাইরের ছাদে খোলা হাওয়ায় আবার বেড়াতে লাগলুম। রাজমিস্ত্রিদের ভারার কাছে এসে দাঁড়িয়ে আমার মনে হল— লাফ এবার দিতেই হবে! কেউ নেই ছাদে। কেউ বাধা দিতে আসবে না— এই উপযুক্ত অবসর! সঙ্গে সঙ্গে আমার মনের গভীর তলায় কে যেন বলছে— লাফ দিও না, মূর্খ! লাফ দিও না, পড়ে চূর্ণ হয়ে যাবে!…আমার মাথার মধ্যে কেমন ঝিম-ঝিম করছে।

    কতক্ষণ পরে জানিনে, এবং কীসে কী হল তাও জানিনে— হঠাৎ বৃন্দাবনের চিৎকারে আমার চমক ভাঙল। দেখি, বৃন্দাবন আমাকে হাত ধরে টেনে তুলছে।

    —এ কী সর্বনাশ! তুই লাফ দিয়ে পড়লি দেখলুম যেন! ভাগ্যিস বাঁশে পা বেঁধে গিয়েছে তাই রক্ষে, কী হল তোর?

    আমার মাথা যেন কেমন ঘুরছিল, গা ঝিম-ঝিম করছিল। বৃন্দাবনকে বললুম— আমি ভাই কিছুই জানিনে তো!

    বৃন্দাবন ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে আমায় শুইয়ে দিলে। সকলে বললে ট্রেনে আসার দরুন আর গরমে শরীর কীরকম খারাপ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলুম। আমি জানি মাথা ঘুরে আমি পড়ে যাইনি, লাফ আমি ইচ্ছে করেই দিয়েছিলুম… তবে ঠিক যে-সময়টাতে আমি লাফ দিয়েছি, সে সময়ের কথাটা আমি অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই মনে করতে পারলুম না।

    বিছানায় শুয়ে বেশ সুস্থ বোধ করলুম। পাশ ফিরতে হঠাৎ যেন কী একটা শক্ত জিনিস বুকের কাছে ঠেকল। পকেটে হাত দিয়ে দেখি— সুধীরের সেই মেডেলটা।

    আশ্চর্য, এটার কথা এতক্ষণ একেবারেই ভুলেই গিয়েছিলুম। বৃন্দাবনকে সেটা দেখালুম। ওদের বাড়ির সকলে মেডেলটা হাতে করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলে।

    রাত্তিরে নিজের ঘরে এসে শুয়ে পড়লুম। আমার বাড়িতে কেউ নেই বর্তমানে, একাই থাকি এক ঘরে। একটা জিনিস লক্ষ করছি…যখন বৃন্দাবনের বাড়ি থেকে বার হয়ে পথে পা দিয়েছি, তখন থেকেই কেমন এক ধরনের ভয় করছে আমার। বাড়িতে যখন ঢুকলুম, তখন ভয়টা যেন বাড়ল। একা ঘরে কতবার এর আগে শুয়েছি… এমন ভয় হয়নি মনে কোনোদিন। না, শরীরটা সত্যিই খারাপ। শরীর খারাপ থাকলে মনও দুর্বল হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

    আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লুম। আমার শিয়রের কাছে একটা বড়ো জানলা, জানলা দিয়ে বাড়ির পেছনের বন-বাগান চোখে পড়ে। বেশ জ্যোৎস্না উঠেছে, কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর জ্যোৎস্না। হাওয়া আসবে বলে জানলা খুলে রেখেছি। কতক্ষণ ঘুম হয়েছিল জানিনে, ঘণ্টা খানেকের বেশি হবে না; হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। মনে হতে লাগল আমার শিয়রের দিকের জানলায় কে দাঁড়িয়ে! যেন মাথা তুলে সেদিকে চেয়ে দেখলেই তাকে দেখা যাবে। কথাটা মনে হওয়ার সঙ্গেসঙ্গে ভীষণ ভয় হল। অথচ কীসের যে ভয় তাও জানিনে। এমন ভয় যে, কিছুতেই শিয়রের জানলার দিকে তাকাতে পারলুম না। চোখে না দেখলেও আমার বেশ মনে হল, জানলার গরাদেতে দুটো হাত রেখে কে দাঁড়িয়ে আছে, জ্বলন্ত চোখে সে আমার দিকে চেয়ে রয়েছে— আমি ওদিকে চাইলেই দেখতে পাবো।

    প্রাণপণে চোখ বুজে শুয়ে রইলুম, কিছুতেই চাইব না। ঘুমুবার চেষ্টা করলুম; কিন্তু ঘরের মধ্যে কোথাও কি ইঁদুর পচেছে? কীসের পচা গন্ধ? যে আয়োডিন, লিন্ট, মলম প্রভৃতির উগ্র গন্ধের সঙ্গে পচা ক্ষতের গন্ধ মেশানো? এতকাল বাড়িতে থাকা নেই, যার ওপর বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখার ভার, সে কিছুই দেখাশোনা করে না বোঝা গেল।

    কে যেন আমার মনের ভেতর বলছে— চেয়ে দেখো, তোমার মাথার শিয়রের জানলার দিকে চেয়ে দেখো না!

    ঘরের চারিধারে কীসের যেন একটা প্রভাব— কোনো অমঙ্গলজনক, হিংস্র, উগ্র, অশান্ত ধরনের ব্যাপার; ঠিক বলে বোঝানো যায় না। আমি যেন ভয়ানক বিপদগ্রস্ত! সে এমন বিপদ, যা আমাকে মরণের দোর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে; এমনকী সে দোরের চৌকাঠ পার করে অন্ধকার মৃত্যুপুরীর হিমশীতল নীরবতার মধ্যে ডুবিয়ে দিতেও পারে!

    আমি চাইব না— কিছুতেই চাইব না শিয়রের জানলার দিকে!

    কিন্তু যে-প্রভাবই হোক, আমার ঘরের মধ্যে, দেওয়ালের এ-পিঠে তার অধিকার নেই। বহুকাল ধরে পূর্বপুরুষেরা বাস্তু শালগ্রামের অর্চনা করেছেন এ ঘরে, এর মধ্যে কারও কিছু খাটবে না। আমার মনই আবার এ-কথাগুলি যেন বললে। অন্ধকার রাত্রে নির্জন ঘরে মন কত কথা কয়!

    জানলার ধারে কী যেন শব্দ হল।

    অদ্ভুত ধরনের শব্দটা। কে যেন জানলার গরাদের ওপর টোকা দিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে! একবার…দু-বার…তিনবার…ভয়ে আমার বুক ঢিপ-ঢিপ করতে লাগল। কাউকে ডাকব চিৎকার করে? একবার চেয়ে দেখব জানলার দিকে জিনিসটা কী? হঠাৎ আমার মনে পড়ল একটা ধাড়ি বেজি অনেক দিন থেকে বাইরের দেওয়ালে, কড়িকাঠের খোলে বাসা বেঁধে আছে। আজ বিকেলেও সেটাকে একবার দেখেছি। জানলার ওপরকার কাঠে সেটা পোকামাকড় বা জোনাকি ধরেছে— এ তারই শব্দ।

    কথাটা মনে হতেই মনের মধ্যে সাহস আবার ফিরে এল। উঃ, ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে গেল যেন! শরীর অসুস্থ থাকলে কত সামান্য কারণ থেকে ভয় পায় মানুষ! পাশ ফিরে এবার ঘুমুবার চেষ্টা করলুম স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। কিন্তু আমার এ ভাব বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। এ ধারণা আমার মন থেকে কিছুতেই গেল না যে— আজ রাত্রে আমি একা নই, আরও কে এখানেই আছে! নিদ্রাহীন চোখে সে আমার ওপর খরদৃষ্টি দিয়ে পাহারা রেখেছে। আমায় সে নিরাপদে বিশ্রাম করতে দেবে না আজ।

    বার বার ঘুম আসে, আবার তন্দ্রা ছুটে যায়, অমনি জেগে উঠি; কিন্তু চোখ চাইতে, বা বিছানার ওপর উঠে বসতে সাহস পায় না, আর সেই শব্দটা মাঝে মাঝে জানলার গরাদের ওপর হতে শুনি— খুব মৃদু করাঘাতের শব্দ যেন! যেন শব্দটা বলছে— চেয়ে দেখো, পেছন ফিরে জানলার দিকে চেয়ে দেখো—

    ঘামে দেখি বিছানা ভেসে গিয়েছে, ভাদ্রের গুমোট গরম কিনা! দিনের আলো ফুটলে, লোকজনের শব্দ কানে যেতে রাত্রের ভয়টা মন থেকে কোথায় গেল মিলিয়ে। নিশ্চিন্ত মনে বেলা ন-টা পর্যন্ত ঘুম দিলুম। তারপর উঠে, চা খেয়ে, পাড়ায় বেড়াতে বার হওয়া গেল।

    এইসময় একটা ঘটনা ঘটল— তখন আমি আর বিশেষ কোনো মূল্য দিইনি, কিন্তু পরে সব কথা মনে মনে আলোচনা করে দেখে সেটা ভারি আশ্চর্য বলে মনে হয়েছিল। ও-পাড়ার পথে আমার সেই জ্যাঠামশাইয়ের সঙ্গে দেখা, তাঁকে দেখাবার জন্যে আমি মেডেলটা কাল রাত্রে সঙ্গে নিয়েই বেরিয়েছিলাম; কিন্তু বৃন্দাবনদের বাড়িতে নিমন্ত্রণের জন্যে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারিনি।

    আমায় দেখে তিনি বললেন— এই যে সুরেন, ভালো আছো? কাল তুমি এসেছ দেখলুম, তখন অনেক রাত, তাই আর ডাকলুম না। বোধ হয় বৃন্দাবনের বাড়ি থেকে ফিরছিলে? আমি তখন ছাদে পায়চারি করছি। যে-গরম গিয়েছে বাবা কাল রাত্তিরে, তোমার সঙ্গে লোক রয়েছে দেখে আরও ডাকলুম না। ও লোকটি কে? খুব লম্বা বটে, যেন শিখ কী পাঞ্জাবির মতো লম্বা; তোমার বন্ধু বুঝি? বাঙালির মধ্যে এমন চেহারা— বেশ, বেশ!

    আমি অবাক হয়ে জ্যাঠামশাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে বললুম— আমার সঙ্গে লম্বা লোক, কাল রাত্তিরে! সেকী জ্যাঠামশাই?

    জ্যাঠামশাই আমার চেয়েও অবাক হয়ে বললেন— তোমার সঙ্গে লোক ছিল না বলছ? একা যাচ্ছিলে? আমার চোখের দৃষ্টি একেবারে কী এত খারাপ হয়ে যাবে বাবা—

    আমি হেসে বললুম— তাই হবে জ্যাঠামশাই। চোখে কীরকম ঝাপসা দেখে থাকবেন। বয়েস হয়েছে তো? আমার সঙ্গে কেউ ছিল না, তা ছাড়া আপনাদের বাড়ির সামনের আমগাছটায় ছায়া, কীরকম আলো-আঁধার দেখেছেন চোখে— অমন ভুল হয়।

    জ্যাঠামশাই যেন রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গেলেন। বললেন— কী আশ্চর্য কাণ্ড! এতটা ভুল হবে চোখে? আমগাছের এদিকে যখন তুমি টর্চ জ্বাললে তখন দেখলুম তুমি আর তোমার পেছনে একজন লম্বা-মতো লোক, তারপর তুমি টর্চ নিবিয়ে আমগাছের ছায়ার মধ্যে ঢুকলে, তখনও জ্যোৎস্নার আলো আর আমগাছের ছায়ার অন্ধকারে আমি বেশ দেখতে পেলুম লোকটি তোমার পেছনে পেছনে যাচ্ছে— তোমার মাথার চেয়েও যেন এক হাত লম্বা— তোমার একেবারে ঠিক পেছনে, তবে খুব ভালো দেখতে পেলুম না— অত দূর থেকে আর আধো-অন্ধকারের মধ্যে স্পষ্ট কিছু দেখা গেল না তো? এমনকী একবার এ পর্যন্ত মনে হল তোমায় ডেকে জিজ্ঞাসা করি তোমার বন্ধুটি কে?— একেবারে এত ভুল হবে চোখের?

    জ্যাঠামশাইকে পুনরায় বুঝিয়ে বললুম, আমার সঙ্গে কাল কেউ ছিল না। আমি একাই ছিলাম, সুতরাং তাঁর দৃষ্টিশক্তির গোলমাল ছাড়া এ-ব্যাপারের অন্য কোনো সিদ্ধান্ত করা চলে না।

    সারাদিন বৃন্দাবনের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে কাটানো গেল। গতকাল রাত্রের ভয়ের ব্যাপার দিনের আলোয় এত হাস্যকর বলে আমার নিজের কাছেই মনে হল যে, বৃন্দাবনকেও সে-কথাটা বলিনি।

    রাত্রের ট্রেনে কলকাতায় ফিরব। বৃন্দাবনদের বাড়ি থেকে চা খেয়ে বাড়ি এসে সুটকেসটা নিয়ে স্টেশনের দিকে রওনা হয়েছি, তখনই সন্ধ্যার অন্ধকার বেশ নেমেছে। বাউরিপাড়ার বড়ো বাগানটার মধ্যে দিয়ে আসছি। বাগানটা পার হতে প্রায় পাঁচ-ছয় মিনিট লাগে, মস্ত বড়ো বাগান।

    বাগানের ঠিক মাঝামাঝি এসে হঠাৎ পেছন ফিরে চাইলুম কী-ভেবে। সঙ্গেসঙ্গে আমার সারাদেহে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। আচমকা ভয়ে আমার সর্বশরীর কাঠ হয়ে গেল!

    কে ওটা ওখানে দাঁড়িয়ে?

    রাস্তা থেকে একটু পাশে আগাছার জঙ্গলের মধ্যে আধ-অন্ধকার এক অদ্ভুত মূর্তি! খুব লম্বা, তার মাথায় ঘোড়ার বালামচির সেই এক লম্বা ধরনের টুপি, পাতলা লোহার চেন দিয়ে থুতনির সঙ্গে বাঁধা— ছবিতে গোরা সৈনিকদের মাথায় যে-ধরনের টুপি দেখা যায়! মূর্তিটা যেন নিশ্চল নিস্পন্দ অবস্থায় আমার দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে। আমার কাছ থেকে মাত্র দশ গজ কী তারও কম দূরে। মরিয়ার মতো আর একটু এগিয়ে গেলুম। এই ভয়ানক কৌতূহল আমাকে চরিতার্থ করতেই হবে যেন! মূর্তি নড়ে না, যেন নিশ্চল পাথরের মূর্তি! কিন্তু বেশ স্পষ্ট দেখছি, সাত-আট গজ মাত্র দূরে তখন মূর্তিটা। আর ঘোড়ার বালামচির লম্বা টুপি ও ইস্পাতের চেনের স্ট্র্যাপ— স্পষ্ট দেখতে পেলুম।

    আমার পা ঠকঠক করে কাঁপতে লাগল, সারাদেহ কেমন অবশ হয়ে আসছে, মাথাটা হঠাৎ বড়ো হালকা হয়ে গিয়েছে। বোধ হয় আর আধ মিনিট এভাবে থাকলে মূর্ছিত হয়ে পড়ে যেতুম; কারণ সেই ভীষণ মূর্তিটার মুখোমুখি আমি দাঁড়িয়ে— আমার পা দুটো বেজায় ভারী হয়েছে— নড়বার উপায় নেই মূর্তির সামনে থেকে—

    কিন্তু ঠিক সেইসময়ে বাউরিবাগানের পথে লণ্ঠন নিয়ে কারা ঢুকল। দু-তিন জন লোকের গলার শব্দ শুনে আমার সাহস ফিরে এল। আমিও ওদের ডাক দিলুম চিৎকার করে। ওরা ছুটে এল। আমায় ওখানে বনের মধ্যে দেখে খুব আশ্চর্য হয়ে বললে— ওখানে কী বাবু? কী হয়েছে?

    তারপর লণ্ঠন তুলে ওরা আমার মুখ দেখে বললে— ও, আপনি? কী হয়েছে আপনার? মুখ একেবারে সাদা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে, ভয়-টয় পেলেন নাকি? বাউরিবাগান জায়গাটা ভালো না। সন্ধের পর এখানে অনেকে ভয় পায়।

    ওদের লণ্ঠনটা যখন উঁচু করে তুলে ধরলে আমার মুখে, সেই আলোয় দেখলুম— সামনের মূর্তিটা তখনও সেখানে ঠিক সেইরকম দাঁড়িয়ে। একজন বললে— কী দেখছিলেন এখানে দাঁড়িয়ে বাবু— এই ষাঁড়া গাছটা?

    আর একজন বললে— গাছটায় ডালপালা কেটে মাথায় ঝোপের মতো করে রেখেছে, যেন মানুষ বলে অন্ধকারে ভুল হয় বটে, চলে আসুন বাবু। আমিও দেখলাম ষাঁড়া গাছই বটে। মাথার দিকের পাতাগুলো ছেঁটে গাছটাকে দেখতে হয়েছে ঠিক হর্সগার্ডসদের ঘোড়ার বালামচির টুপি। লোকের চোখের কী ভুলই হয়! কাল আমি আবার জ্যাঠামশাইকে চশমা নিতে বলেছিলুম! ভেবে লজ্জা হল মনে মনে। তিনি বৃদ্ধ লোক, তাঁর চোখের ভুল তো হতেই পারে— আমারই যখন এই অবস্থা!

    ওরা আমায় আলো ধরে স্টেশনে পৌঁছে দিলে।

    পরের দিন সুধীরের মেডেলটা ফেরত দিলুম।

    সুধীর বললে— আপনাকে একবার দাদু ডেকেছেন, আমার সঙ্গে ছুটির পর আমাদের বাড়ি আসুন। নিয়ে যেতে বলেছেন।

    সুধীরের দাদু বললেন— যাক, আমার বড়ো ভয় হয়েছিল মাস্টারবাবু! সুধীরের কাছ থেকে মেডেলটা নিয়ে গিয়েছেন দেশে শুনলুম কিনা। আপনার দেশের ঠিকানা জানতুম না; তাহলে একটা তার করে দিতুম। ও-মেডেলটা আমার বাবাকে একজন গোরা সৈন্য দিয়ে যায়, আমি তখন জন্মাইনি। বাঁধা দিয়েছিল, আর উদ্ধার করতে পারেনি। বেজায় মাতাল আর গোঁয়ার ছিল লোকটা। ও-মেডেলের বিপদ হচ্ছে, আমাদের বংশের লোক ছাড়া অন্য কেউ নিলে তার বড়ো বিপদ ঘটে। আমার এক ভগ্নিপতি একবার কিছুতেই শুনলে না। অনেক কাল আগের কথা, বাড়ি নিয়ে গেল মেডেল দেখাতে; সেইদিনই সন্ধ্যার সময় ছাদ থেকে পড়ে মারা গেল। মৃতদেহের পকেট থেকে মেডেল বেরুল।

    আমি কলের পুতুলের মতো শুধু বললুম— ছাদ থেকে? পকেটে মেডেল পাওয়া গেল?

    —হ্যাঁ মাস্টারবাবু, আমার নিজের ভগ্নিপতি, মিথ্যে কথা তো বলব না। আজ সাতাশ-আঠাশ বছর আগের কথা। ওটা আরও দু-একজন নিয়েছে, তক্ষুনি ফেরত দিয়ে গিয়েছে। বলে রাত্রে ভয় পায়, গা ছম-ছম করে। কে যেন পেছনে ফলো করছে বলে মনে হয়। ও বাইরের লোকের সহ্য হয় না। প্রাণ পর্যন্ত বিপন্ন হয়। তাই ভাবছিলুম একটা তার করে দেবো—

    একটা কথা বলা দরকার। মাস খানেক পরে আমি আবার দেশে যাই। বাউরিবাগানে ঢুকে যেখানে সে-রাত্রে ভয় পেয়েছিলুম, সেদিকে চেয়ে দেখে সে ষাঁড়া গাছটা কোথাও আমার চোখে পড়ল না। যে-আমগাছটার ধারে ষাঁড়া গাছটা দেখেছিলাম, সেখানে দিনমানে বেশ ভালো করে দেখেছি; কোথাও সে ষাঁড়া গাছ নেই, বা গাছ কেটে দিলে যে গুঁড়িটা থাকবে, তারও কোনো চিহ্ন নেই। কস্মিনকালে সেখানে একটা বড়ো ষাঁড়া গাছ ছিল বলে মনেও হয় না জায়গাটা দেখে।

    আশ্বিন ১৩৪৭, মায়ামুকুর শারদ সংকলন

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেঘমল্লার
    Next Article রঙ্কিনীদেবীর খড়গ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাদা kada

    August 11, 2025
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    অসাধারণ | Ashadharon

    April 3, 2025
    ধীরেন্দ্রলাল ধর ভৌতিক গল্প

    তান্ত্রিক

    March 13, 2025
    উপন্যাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    আরণ্যক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    February 27, 2025
    উপন্যাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    চাঁদের পাহাড় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    February 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }