Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প192 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মেয়েলি আড্ডার হালচাল – ১৪

    রঞ্জনা অন্তরীণ

    ‘বউদি বিধুভূষণবাবু এয়েছিলেন কিন্তু’— দরজা খুলে দিয়েই শেফালিবাবু অভ্যর্থনা করলেন।

    ‘বাড়িতে ঢুকতে দেবে তো? না কী?’

    ‘না বললে, তুমিই বলবে বলোনি কেন সময়মতো।’

    ‘মা, আমার হাত ভেঙে গেছে?’ শান্ত স্লিং-এ ঝোলানো হাত নিয়ে আনন্দে প্রায় লাফাতে লাফাতে বলল।

    ‘সে কী? কী করে?’

    ‘বাস্কেট বল খেলতে গিয়ে, সেন্ট টমাসের সঙ্গে টুর্নামেন্ট ছিল …’

    ‘কে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল? এক্স রে হয়েছে? কোন ডাক্তার?’

    ‘স্কুল থেকে মা। বাড়িতে ফোন করে তোমায় পায়নি তো! বাবাকে আপিসে ফোন করেছিল, বাবাও সিটে ছিল না। ওরাই নিয়ে গেল, এক্স রে করতে যা লেগেছে না, উরিব্বাস।’

    ‘তা এখন এত লাফাচ্ছ কেন? এখন কি লাগছে না? লাফাবার মতো কী হয়েছে? চুপ করে বসো গে।’— শেফালির দিকে ফিরে বললাম—‘এ কথাটা চেপে গিয়েছিলে কেন?’

    ‘বাপ্‌রে, দরজার গোড়ায় কখনও খারাপ খবর দিতে হয়? বউদি তুমি না মানতে পারো, আমি বাপু স-ব মানি। বিধুবাবু তো আমাদের লক্ষ্মী গো! ভাল খবরটা তাই আগেই দিলুম।’

    সিঁড়ির মোড় থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল— ‘আড্ডা শেষ হল?’

    ‘শেষ আর হল কই? এ একটা সিরিয়্যাল ব্যাপার। ক্রমশ ক্রমশ ক্রমশ …’

    ‘তাই তো দেখছি। একটা বিপদের সময়ে বাড়িতে লোকে ডেকে পায় না। ছেলের এক্সরে, ছেলের হাড় সেট, ছেলের ডাক্তারপাতি করবে অন্য লোক, হ্যাঁ?’

    ‘গৃহবধূ না হয় সুযোগ পেয়ে এক আধ দিন আড্ডা মারে। কিন্তু ইউনিভার্সিটির কর্মী কেন সিটে থাকে না? ইউনিভার্সিটির আপিসটা কি মামার বাড়ি? গৃহবধূ না হয় দিন দশেক গৃহ চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে বেড়াতে যায়, গৃহকর্তাই বা কেন একমাত্র সন্তানকে ফেলে বান্ধবী নিয়ে সিনেমা, রেস্তোরাঁ করে বেড়ায়?’

    শেষের কথাগুলোর টাইমিং আমার হল অদ্ভুত। নীচে শেফালি সবে অদর্শন হয়েছে, তার পেছন পেছন শান্ত। শেষের জন ধরেই নিয়েছে হাত যখন ভেঙেছে তখন ক’দিন সাতখুন মাপ, অর্থাৎ লেখাপড়া, স্কুল-যাওয়া এবং সেই সঙ্গে সরীসৃপের পাঁচটি পা-ও তদ্দ্বারা দৃষ্ট হয়েছে, অর্থাৎ যা খুশি আবদার করা যাবে। এখন সম্ভবত কোনও আবদারের পশ্চাদধাবন করতেই শেফালির পেছন পেছন হাওয়া হয়েছে। ঠিক তখন আমার গলাও সুন্দর উঠছিল নামছিল, প্রফেশন্যাল শ্রুতিনটরা আমার কাছ থেকে শিখে যেতে পারেন। ধরুন ঊর্মিমালা, ব্রততী …। আর সব চেয়ে যেটা আশ্চর্যের সেটা হল গোটা ব্যাপারটাই সম্পূর্ণ অচেষ্টাসম্ভব, বেরিয়ে এল বিনা আয়াসে, কোনও চিন্তা ছাড়া। সহজাত প্রতিভাবলে, যে প্রতিভার সম্পর্কে আমি নিজেই অবহিত ছিলাম না।

    সিঁড়ির মোড়ে একটি হকচকানো মনুষ্যমূর্তিকে পেছনে ফেলে আমি আমার নিজের নিজস্ব ঘরটি আশ্রয় করি। এবং ভাবতে থাকি শান্তর কেসটা কী? হেয়ার লাইন ফ্র্যাকচার? না ডিসলোকেশন, না আর একটু সিরিয়াস? এক্স রে প্লেটটা দেখলেই নিশ্চয় জানা যাবে, জিজ্ঞেস করলেও, কিন্তু ঠিক এই সময়টায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না, কেন না এখন আমার ভূমিকা হচ্ছে ক্ষুব্ধা, অপমানিতা, খণ্ডিতার।

    সবই ঠিক। অভিনয় করছি। কিন্তু এই অভিনয়টা আমি করলাম কেন? হঠাৎ? স্বতঃস্ফূর্তভাবে? তবে কি ভাঙব? এটাকেও ভেঙে ফেলব? মালবিকাদির ‘তুই’ ডাকের মধ্যে যেমন একটা সম্পর্ক গোপন করার, চোখে ধুলো দেবার চালাকি লক্ষ করেছিলুম, আমার হঠাৎ আক্রমণটাও কি তেমন কিছু একটা ঢাকতে? একটা অপরাধবোধসম্ভূত? কীসের অপরাধবোধ? বাড়িতে না থাকা? যেটা নিরুপম বলতে চেয়েছিল? আমার মনে হয় অবজেকটিভ কোরিলেটিভটা আমারও মিলছে না। বাড়ি ফেলে আড্ডা মারার অভিযোগে এতটা তেরিয়া হয়ে যাবার কথা আমার নয়। কোথায় এর শেকড় সুমিতা? পরের কথাগুলোয় কি সূত্রটা পাব? শিল্পীর কথা তুলে খোঁচা দিলাম কেন? কুকুর আমিই লেলিয়ে দিয়েছি! ইসস শিল্পীকে আমি কুকুরের সঙ্গে তুলনা করছি? কত ভালবাসি শিল্পীকে। তাকে জিরাফিণী অর্থাৎ একটি তরুণী জিরাফ বলা যায়, কিন্তু কুকুর? এ কী? কুকুর কৃষ্ণের জীব তাকে আমি এত খারাপ ভাবছি? কুকুর তো দেখতেও সুন্দর! সব কুকুরই তো নেড়িকুত্তা নয়। অ্যালসেশিয়ান আছে, ডালমেশিয়ান আছে, গোল্ডেন রিট্রীভার তো অপূর্ব! স্প্যানিয়েল, স্পিৎজ ঝুলঝুলে, তুলতুলে মিষ্টি নয়? এক যদি ডবারম্যান বলো তো কেমন বেখাপ্পা দেখতে। আর থ্যাবড়া-নেকো লম্বা-কেনো বুলডগ? সে-ও তো বেশ মজার! বুলডগ বলতেই আমার আবার শান্তর মুখটা মনে পড়ল। কেন জানি না। বুলডগের সঙ্গে বেচারা শান্তর কোনও মিল নেই। শুধু বুল-এর সঙ্গে যদি থাকেও, গাঁট্টা-গোঁট্টা তো! কিন্তু বুলডগের সঙ্গে? নৈব নৈব চ। কী আশ্চর্য! বুলডগকেও আমি কোনও ভদ্র সুন্দর মানুষ ছানার সঙ্গে অতুলিতব্য মনে করছি। শান্তকে বেচারি বলছি। মিনিট দশেক পরে দেখলুম নিজেকে বোঝবার চেষ্টায় আমি একটি সম্পূর্ণ হতভম্ব বিভ্রান্ত জীবে পরিণত হয়েছি। ঘরটা যেন আমার অবিরল প্রচেষ্টায় কেমন গরম হয়ে উঠেছে। এখান থেকে আমার পালানো দরকার।

    তাড়াতাড়ি মুখ-টুখ ধুয়ে, জামা-কাপড় বদলে আমি নীচে শান্তর খোঁজে যাই। শান্ত যেখানে তার বাবাও সেখানে। সত্যিই শান্ত এবং শিষ্ট হয়ে সে বাবার সঙ্গে গল্প করছে বসে বসে।

    ‘কীভাবে পড়লে, তারপর কী কী হল আমাকে বল এবার’— আমি বেশ গুছিয়ে বসলাম।

    ‘সেন্ট টমাসের একটা দারুণ লম্বা শিখ ছেলে আমাকে ক্লীন লেঙ্গি মেরেছিল মা। পড়েছি বলটা ন্যাটা রতনকে পাস করে দিয়ে একেবারে কনুই মুড়ে।’

    ‘মুড়মুড়িয়ে ভেঙে গেছে? না কী?’

    ‘এক্স রে রিপোর্ট তো কাল পাওয়া যাবে, আপাতত ডাক্তারবাবু এই রকমভাবে রাখতে বলেছেন। একটু এদিক-ওদিক হলেই ভীষণ লাগছে মা।’— মুখটা বিকৃত করল শান্ত।

    ‘খেলাধুলো করতে হলে অমন একটু-আধটু হয়, কিন্তু এবার থেকে সাবধান হবে। পরীক্ষা এগিয়ে আসছে না?’

    শান্তর মুখটা ফ্যাকাশে হতে শুরু করেছে। এতক্ষণ বেশ চলছিল, পরীক্ষাটা আবার কোথা থেকে এসে পড়ল? এবার পড়ার বিষয়গুলোও না পরপর এসে পড়ে, সেই জন্যে ও বাবা-মার সঙ্গে গুলতানির লোভ ছেড়ে হঠাৎ … ‘আসছি’ বলে বেরিয়ে গেল।

    খুব গম্ভীর মুখে কী একটা বই পড়ছে নিরুপম। সাধারণত ও এ সময়টা প্রচুর পত্র-পত্রিকা নিয়ে বসে। একই খবর পাঁচটা কাগজে পড়বে। আজ হাতে বই নিয়ে শান্তর সঙ্গে গল্প করছিল। শান্ত চলে যেতে বইটা তুলে নিয়েছে। অর্থাৎ আমার সঙ্গে কথা বলবে না। না বলুক। আমার তো কিছু হয়নি। সুতরাং আমি বসে আছি।

    এত রাগই বা কীসের? অন্যায়ভাবে আমাকে আক্রমণ করেছিল তার সমুচিত জবাব আমি দিয়েছি। দিয়েছি ছেলে এবং কাজের মেয়ের কান বাঁচিয়ে। তাতে আবার এত রাগ কীসের? সত্যি কথা বলেছি— তাই? সিটে থাকো না কেন? সিটে না থাকাটাই যেন পলিটিকস-বাজদের নিয়ম। আর যে করে করুক, আমার নিজের বর আর সব্বাইয়ের মতো অন্যায্য কাজ করলে আমি বলতে পাব না? বেশ করেছি বলেছি। বারো মাস তিরিশ দিন আমি বাড়িতেই থাকি। বাড়িতে বসে বসেই দু পয়সা রোজগার করি। এই যদি আমাকে আপিস বেরোতে হত? তা হলে? তা হলে তো ফট করে আড্ডার খোঁটাটা দিতে পারতে না নিরুপম চন্দর। আমি ঘর সামলাব, ছেলের স্কুল থেকে হঠাৎ তলব এলে, ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আজকের এই অসম্ভবের যুগে কোথায় হাসপাতাল রে, নার্সিংহোম রে, ডাক্তার রে— সকলই সামলাব, গপ্পো আর রম্যরচনা লিখে লিখে সংসারের সাশ্রয় করব। আর তুমি সিটে থাকবে না। তুমি গরম গরম বক্তৃতা হাঁকড়াবে। আর বউয়ের স্লিম বন্ধুর সঙ্গে …। জেনে রেখো নিরুপম চন্দর গড়াই, গপ্পো লেখা খুব সোজা কাজ নয়। তার জন্য, ঘোরাঘুরি লাগে, তুমি ভাবো ঘোরাঘুরি মানে শুধু বিধুভূষণবাবুর দোকানে পর্যন্ত যাওয়া-আসা। তাই নয়? কিন্তু না, আরও অনেক ঘোরাঘুরি করতে হয়। ফর্ডাইস লেন, কীভাবে সার্পেন টাইন লেনে পড়েছে এবং কীভাবে সার্পেনটাইন ডিকসন লেন থেকে সার্কুলার রোডে পড়া যায়, জায়গাটা কেমন জানার জন্যে আমায় ওই চত্বরে পাক খেতে হয়েছিল। রিকশা নিয়ে এক দিন পুরো রামবাগান ঘুরে এসেছি, তা জানো? এখন ওখানে রামকৃষ্ণ মিশন বেতের কাজ শেখাচ্ছে তা কি জানতে? জানো কি এসপ্লানেডের কাছে যেমন ধর্মতলা আছে, শালকেতেও তেমন এক ধর্মতলা আছে, কিন্তু তার পাশে কোনও এসপ্লানেড নেই, খোলা ড্রেনে জৈব সারের চাষ আছে। তুমি মনে করো শুধু ক’জন মধ্যবিত্ত গিন্নিই আমার বন্ধু, তাদের সঙ্গে পি এন পি সি করাই আমার অবসরকালীন প্রমোদ। কিন্তু জানো কি আড্ডা মারতে গিয়ে আমি তাদের নড়াচড়া, কথা বলার ঢং, তাদের মতামত এ সবই আমার গল্পের স্বার্থে নোট করে আনি। যে গল্পের দক্ষিণায় তোমাদের দু’-দিনের বাজার তো অন্ততপক্ষে হয়ই। তা ছাড়াও, জানো কিনা জানি না আমি কিছু সোশ্যাল ওয়ার্কস করি। পাড়া বেপাড়ার যত রিকশাওয়ালা সবার সঙ্গে আমার ভাব, গরমের দিনে আমি তাদের শশা খাওয়াই ডাব খাওয়াই, এক পয়সাও ভাড়া কম নেয় না তারা তার জন্যে, শীতের দিনে তোমাদের পুরনো সোয়েটার, প্যান্ট, শার্ট আমি রিকশাওয়লাদের দিই। যদিও তাদের সেগুলো কখনওই পরতে দেখিনি, শোনা যায় সেগুলো তারা বিক্রি করে তাড়ি খেয়ে নিয়েছে। আর তুমি কী করো? — সিটে থাকো না। আর শিল্পীর সঙ্গে বেড়াতে যাও। যে শিল্পী তোমার সঙ্গে স্রেফ খেলে।

    আবার শিল্পী? হায় রাম। আমার সব চিন্তা, সব খেদ, সব বক্রোক্তি যে শিল্পী-কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে? এ কী? কে যেন বলে উঠল শালবনের কালকোটালে কোনও ভালমানুষের বিবি যায়?

    ভাল করে নিরুপমের দিকে তাকিয়ে দেখি, ও বই হাতে একই রকম কাঠ হয়ে আছে। মনে অপরাধবোধ, সিটে না-থাকার জন্যে ততটা নয়, যতটা জিরাফিনী এক নারীর সঙ্গে আহেলিতে যাবার জন্য। পরিষ্কার বুঝতে পারি। যেন খোলা বইয়ের মতো বিদ্যাসাগরমশাইয়ের বর্ণ পরিচয় প্রথম ভাগের মতো আমি পড়তে পারছি আমার বরকে। এবং এ-ও বুঝতে পারছি শালবন সংক্রান্ত প্রশ্ন আমিই করেছি আমাকে। নিজের সঙ্গে এক নিবিড় কথোপকথনের সুযোগে দমকা উঠে এসেছে প্রশ্নটা।

    শিল্পী তো জিরাফ রমণী। গঙ্গপ্রসাদ কী? কাজলরেখা অবশ্য বলে ভুণ্ডিল মুনি। কিন্তু আমার নিজস্ব একটা ভার্শনও তো থাকা উচিত! গঙ্গাপ্রসাদ কি এক রকমের শান্ত বাইসন? যে বাইসনের বাঁকানো শিঙের জায়গায় কড়কড়ে কালো বেশ কুড়মুড়ে চুল। যে বাইসনের চোখে আগুন নেই বরং কেমন একটা উদাস উদাস বাউল-বাউল ভাবের মধ্যে হঠাৎ হাসির ঝিকমিক আছে! যে বাইসনের লেজের বদলে কাঁচি ধুতির কোঁচা, খুরের বদলে কাবলি, থলথলে গলকম্বলের বদলে ঢোলা খাদির পাঞ্জাবি? যাঁর ভুঁড়ি আমি মাফ করে দিয়েছি তিনি আমার হৃদয়ের গোলকধাঁধার সংবাদ জানতে পেরেছেন বলে, ‘আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা’ বেশ অর্থবহভাবে আমায় শুনিয়েছেন বলে?

    ভেঙেছে বাঁ হাত, তা-ও আমি সেদিন শান্তকে খাইয়ে দিলুম। ‘ন্‌ না, ন্ না— আমি পারব’—বলতে বলতে কোমর মোচড়াচ্ছিল। কিন্তু আমি জোর করতে বেশ লক্ষ্মী ছেলের মতোই খেল, একটাই অভিযোগ— ‘তোমার গরসগুলো কট্টুকু মা? আরেকটু বড় করো!’

    রাত্রে ছেলেকে নিয়ে শুলামও। হাতের তলায় দুটো কুশন ঠিকঠাক করে রেখে, পিঠের দিকে একটা কুশন দিয়ে যাতে একটু বাঁ কাতে থাকে, আমি চুপচাপ শুয়ে পড়লাম। আজ আর পড়াশোনা কিছু হবে না। ছেলেটার চোখে আলো লাগবে। গরম, ঘোরাঘুরি এবং আড্ডার ক্লান্তি, সব মিলিয়ে কখন ফটাস করে ঘুমিয়ে পড়েছি।

    দেখি হাফশার্ট আর ধুতি পরা উত্তমকুমার একটা কাটা দরজার, মানে সুইং, ডোরের ওপর হাত রেখে দাঁড়িয়ে কার সঙ্গে কথা বলছেন। উঠোনে কল, কলের তলায় টিনের বালতি। অদূরে ঘরে ওঠবার দাওয়া, সেখানে দড়ি টাঙানো। কোনও সিনেমা দেখছি না, এটা একেবারে বাস্তব। দাওয়ার ওপরের ঘর থেকে সুচিত্রা সেনের বেরিয়ে আসার কথা কিম্বা সাবিত্রী চাটুজ্জের। কিন্তু বেরিয়ে এলাম আমি। আমি আমাকে দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু আমার আমিত্ববোধ ওই দরজা দিয়ে বেরিয়ে, সুইং ডোরে হাত রাখা উত্তমকুমারের সঙ্গে কথা বলতে লাগল। খুব সাধারণ প্রতিদিনের কথা, কী তা আমার মনে থাকল না।

    স্বপ্নটা ভাঙবার পর আমি অবাক হয়ে রইলাম। কোনওদিন আমি কোনও নট-নটীকে স্বপ্ন দেখিনি। এঁদের স্বপ্ন দেখা খারাপ বা এঁরা স্বপ্নে দেখার যোগ্য নন তা কিন্তু আমি বলতে চাইছি না। কিন্তু কোনওদিনই তো দেখিনি। যখন উত্তকুমার জীবিত ছিলেন! তাঁর প্রথম দিকের ছবি ‘হারানো সুর’, ‘শাপমোচন’ দেখেছি প্রথম ঘুম-ভাঙা চোখে প্রথম রোম্যান্স! কই তখনও তো স্বপ্ন দেখিনি! এখন একটা কথা বলে নেওয়া দরকার। উত্তমকুমারকে আমরা পছন্দ করতাম ঠিকই। কিন্তু একটু হাসাহাসিও করতাম। উত্তম-ভক্তরা কিছু মনে করবেন না। এ রকম হয়। উত্তমকুমারের মাথার শিঙাড়া বা হুঁ বলে মুখ তুলে তাকানো নিয়ে আমরা এক সময়ে খুব মজা করেছি। সেই শিঙাড়া ভাঙে কিনা দেখবার জন্যেই আমরা ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ দল বেঁধে দেখতে যাই এবং শেষকালে বৃদ্ধ রাইচরণের মসৃণ বিউটি-মাসাজ করা হাত দেখে হাসতে হাসতে বাড়ি-ফিরি। আসলে উত্তমকুমার ছিলেন এক জন বেশ প্রিয়দর্শন মজার মানুষ আমাদের কাছে যাঁকে আমরা কোনওদিন সিরিয়াসলি নিইনি। কোনও সিনেমার অভিনেতাকেই কি নিয়েছি, যেভাবে শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র, শাঁওলি মিত্রকে নিয়েছি, কুমার রায়, অমর গাঙ্গুলি, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখদের নিয়েছি? সিনেমা বোধহয় সত্যিই-সত্যিই রপোলি পদা, রুপো দিয়ে একটা মেকি পৃথিবী বানানো, তাই ভাল লাগে, কিন্তু ওই যে বললাম— সিরিয়াসলি নেওয়া যায় না।

    যাই হোক, মোদ্দা কথা বলতে, উত্তমকুমারকে নিয়ে আমার কোনও অবসেশন ছিল না। এ সব অবশ্য নির্জ্ঞান স্তরেও থাকতে পারি। তো থাকলে আমি একটু আশ্চর্য হব, এই। এর চেয়ে বেশি কিছু না। সকাল বেলায় নিরুপমের মুখোমুখি হতে অবশ্য একটু লজ্জা করতে লাগল। ওকে শিল্পীকে নিয়ে সিনেমা দেখার খোঁটা দিয়েছি এদিকে নিজে স্বপ্নে মহানায়ক দেখছি।

    চা-পানের সময়েই আগ বাড়িয়ে ভাব করে ফেললুম।

    কীরকম আলগা-আলগা হয়ে বসেছিল। জানালুম— ‘শান্ত রাতে খুব ভাল ঘুমিয়েছে। একটুও কাতরায়নি। মনে হয় তেমন কিছু হয়নি।’

    ‘এক্স রে রিপোর্টটা কখন পাওয়া যাবে?’ জিজ্ঞেস করি।

    ‘দশটায়।’

    ‘নিয়েই কি ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?’

    ‘ন্যাচর‍্যালি।’

    ‘তা হলে তো আজ তোমার অফিস পাংচার।’

    ভুরু দুটো একটু কুঁচকোল। ‘অফিস পাংচার’ শব্দগুচ্ছ শুনে না এক্স রে-রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবার কথায়, বোঝা গেল না।

    ‘আমার মনে হয় শান্তকে নিয়ে আমরা দুজনেই বেরোই, বুঝলে?’ আমি পরামর্শ দিতে থাকি— ‘রিপোর্টটা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব। যা করবার ডাক্তার করুন। তার পরে আমি ওকে নিয়ে বাড়ি চলে আসব, তুমি অফিস চলে যাবে?’ ভুরু দুটো সোজা হল। অফিস আছে এই তালে পুরো দায়টা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করছিল। সেটা ভণ্ডুল হল বলে ভুরুতে ভাঁজ। এখন অর্ধেক বেঁচেছে দেখে জ্ঞানীব্যক্তি বিপদের সময়ে অর্ধেক ত্যাগ করেন এই আপ্তবাক্য মেনে ভুরুর ভাঁজ সোজা করেছে।

    এই ভাবেই আমি বেশ কিছুদিন ঘরে আটকে যাই। শান্তর ব্যাপারটা কমপাউন্ড ফ্যাকচার। কবজি থেকে কনুই অবধি প্লাস্টার হয়। তার পরেও স্লিং-এ ঝোলানো। আশা করে নাম শান্ত রাখলেও সে তো আদৌ শান্ত নয়। আমি অহর্নিশি তাকে চোখে চোখে রাখি এবং সেই সুযোগে আমার উপন্যাসও তরতর করে এগিয়ে যায়। প্লট তো ওরা আমাকে দিয়েই রেখেছে। স্টোরি বিল্ডিং-এ একসারসাইজের মতন। এত্তো বড় বড় ফাঁকঅলা। পুট পুট করে কয়েকটা পয়েন্ট-ওয়ালা একখানা প্লট। নাই-ই বা খোঁজ পেলুম সুমিতার। আপাতত সুমিতা, মালবিকাদি এদের কেউ না হলেও চলবে। মাথার মধ্যে থেকে সুমিতা নেমে আসে, মালবিকাদি নেমে আসে। আর আর চরিত্ররাও নেমে আসে। মানে আমি তাদের নামিয়ে দিই। একদিক থেকে আমি তো ঈশ্বরী—সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের অধিকার আমার হাতে। ইচ্ছে করলেই থই থই শূন্যতার অন্ধকার জলে রূপের আলো ফুটে উঠবে, জেগে উঠবে রক্তাভ সৃষ্টির পদ্ম সহস্র দল মেলে। ইচ্ছে করলেই দিকে দিকে ঘুম ভেঙে উঠে বসবে আদম-ইভরা। তাদের সন্ততিরা দখল নেবে এই পৃথিবীর মাঠে মাঠে ফসল ফলাবে, মেষ চরাবে, পত্তন করবে নতুন নতুন সভ্যতার, হানাহানি করবে, ইচ্ছে করলেই ধ্বংসের কালভৈরবকে নামিয়ে দেব— তা তা থই থই তা তা থই থই তাতা থইথই। এই প্রচণ্ডা ইচ্ছাশক্তি উদ্ভাবনী শক্তির কাছে একটা সুমিতা একটা শুভম, একটা মালবিকা কিংবা বিকাশকান্তি তো তুশ্চু ব্যাপার। আমি আমার অদৃশ্য যাদুচক্রটাকে আঙুলের মাথায় বাঁইবাঁই করে ঘুরিয়ে ছেড়ে দিই। ছুঁড়ে দিই। যা চাকা, খুঁজে নিয়ে আয় পুত্তলীগুলোকে। আমার নিজস্ব এক্স রে আমি তাক করি, যা রে যা বস্তুপৃথিবীর জড় পুঁটলিটাকে ফুটো করে ঢুকে যা দেখা সেই কল্পলোক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযে যেখানে যায় – বাণী বসু
    Next Article বৃত্তের বাইরে – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }