Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প192 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মেয়েলি আড্ডার হালচাল – ৩

    শান্তিনিকেতন

    এই বার পাঠক, আমি মাঝে মাঝেই আমার আমি সত্তা বিসর্জন দিয়ে রঞ্জনা সত্তাতে অন্যদের হাতে নিজেকে ছেড়ে দেব। বন্ধুদের কাছে একটা প্লট চেয়েছিলুম তো ওরা দিল না। মানে দিল, কিন্তু ওরা জানে না ওরা দিয়েছে। হে ঈশ্বর, ওদের ক্ষমা করো, অকিঞ্চিৎকর মনুষ্যসকল, উহারা জানে না উহারা কী করিয়াছে। কিন্তু ঔপন্যাসিকের বেসিক্‌স তো আমার আছে। আমি সবজান্তা, সর্বত্রগামী, সর্বত্র উপস্থিত। অমি সমস্ত আমির গহনে ডুব দিতে পারি, আমি মালবিকাতেও আছি, সুমিতাতেও আছি, ধর্মে এবং জিরাফে এক সঙ্গে অবস্থান করার মতো। কর্ণের ছিল সহজাত কবচকুণ্ডল, আমার আছে সহজাত টেলিস্কোপিক লেন্স চোখে, কানে সহজাত হিয়ারিং এইড। বধিরদের জন্যে তৈরি নয় শ্রুতিমানদের স্পেশ্যাল। আমার পায়ে অদৃশ্য রণপা, হাতে গুলতি থেকে বুমেরাং থেকে অতি আধুনিক এ কে ফর্টি সেভেন। পাশুপতাস্ত্র, ব্রহ্মাস্ত্রের জন্য সাধনা শুরু করেছি। মনে রয়েছে প্রখর ইন্টুইশন। এমত অবস্থায় আমার অনুকম্পা এত বেশি থাকে যে কখন আমি কাজলরেখা মিত্তির, হাস্যমুখী মৌরি-চিবোনো, পকেটমার হয়ে যাচ্ছি, কখন ধুরন্ধর, প্রখর বুদ্ধিসম্পন্না বয়ছাঁট মালবিকা সান্যাল হয়ে যাব, কখন হরিণীসদৃশ, ছটফটে, ফন্দিবাজ শিল্পী বরাট, কখন আবার সাইকলজির লোক সুমিতা সরকার হয়ে যাব তার কোনওই ঠিক-ঠিকানা নেই। ভোলেভালা গঙ্গাপ্রসাদ, অতিব্যস্ত বিকাশকান্তি যাঁর নাকি ভুঁড়ো শেয়ালের মতো চেহারা বা পার্ট-টাইম লাইফ-পার্টনার বলে খ্যাত শুভম সরকার বা উদার আমুদে স্বভাবে চন্দন বরাট—এদের যে কেউ হয়ে যাওয়াও আমার কেউ আটকাতে পারবে না। খালি নিরুপমটা আমি পুরোপুরি হতে পারব কি না জানা নেই। প্রদীপের তলাতেই অন্ধকার বেশি কি না।

    আমার দক্ষিণের জানলার থেকে দেখা যায় একটা বিঘে খানেকের প্লট। চারপাশে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। পড়ে আছে কোনও ভাগ্যমন্ত পকেট-ভারী এন আর আই-এর জন্যে, কিংবা কোনও ঘোড়েল, ওয়েল কানেকটেড প্রোমোটার-ডেভেলপারের জন্যে।

    এই পড়ে থাকাটা আমাদের লাভ। প্রচুর দখিনা বাতাস পাই। একটি পুং তালগাছ তার ঝাড়ালো যৌন-কেশ নিয়ে, একটি বিরাট এবং দু-তিনটে মাঝারি রাধাচূড়া, সাদা গুলঞ্চ একটা, শিমূল দুটো। এখন তাদের রজঃস্বলা অবস্থা শেষ হয়ে গেছে। ফল ফাটিয়ে প্রচুর রেশমি তুলোও তারা পাঠিয়েছে এ বাড়ি ও বাড়ি, এখন নিশ্চিন্ত সবুজ। আরও আছে বাঁকা নারকেল। ঝাঁপালো বেল, কিন্তু বেল পাকলে কাকের কী! আমাদের বাজার থেকেই বেল আনতে হয়, নিমও আছে তার সম্পর্কেও এই একই কথা প্রযোজ্য। আর আছে সপ্তপর্ণী ; যার ওপর আমার বাল্যবয়স থেকে নিদারুণ পক্ষপাত। ঝোপ ঝাড় আছে তলায়, তলায়, কিন্তু এই ছাতিম, গুলঞ্চর ডালপালার ফাঁক দিয়ে, শিমূলের গা ঘেঁষে একটি ছায়াময় পথ দেখা যায়—হলুদ-ব্রাউন, সামান্য একটু পথ, ভাঙা ভাঙা গেটে গিয়ে শেষ হয়েছে। কিন্তু যেন শেষ হয়নি, চলে গেছে পাঁশকুড়া, মেমারি, শক্তিগড়, বর্ধমান পেরিয়ে গুসকরা, পিচকুড়ির ঢাল, ভেদিয়া পেরিয়ে রিকশা চড়ে সেই মহাবটের গা ঘেঁষে যেথা সেই চৈত্রের শালবন। শালের মঞ্জরীর গন্ধ রোদের গন্ধের সঙ্গে মিশে আপাদমস্তক শা-ন্ত অথচ মত্ত করে দিচ্ছে। গোরুর গাড়ির না-তেল দেওয়া চাকার ক্যাঁচ-কোঁচ ক্যাঁচ-কোঁচ, মাটির বেহালার ছড়ের টানের মতো শুনতে পাই।

    অধ্যাপক গঙ্গাপ্রসাদ মিত্র এখন শান্তিনিকেতনে। প্রায়ই যান। কখনও অতিথি অধ্যাপক হয়ে, কখনও গবেষণার কাজে, নিজের তো বটেই, প্রোফেসর জেনকিন্‌স বলে এক অস্ট্রেলীয় ছাত্রের জন্যও তাঁকে যেতে হয়। একটি লিটল ম্যাগের শারদীয় সংখ্যার জন্য জেনকিন্‌স একটি প্রবন্ধ লিখছেন। রবীন্দ্রপরবর্তী যুগের সব কবিই রবীন্দ্রনাথের মতো লেখা দিয়ে শুরু করেছেন—এই তাঁর প্রতিপাদ্য, জীবনানন্দর ‘ঝরা পালক’, সুধীন্দ্রনাথের ‘তন্বী, বুদ্ধদেবের ‘বন্দীর বন্দনা’ প্রধানত তাঁর শিকার। প্রবন্ধের নামটা প্রোফেসর জেনকিনস আগেই ঠিক করে ফেলেছেন, প্রোফেসর গঙ্গাপ্রসাদ বন্ধু (মিত্র)কে জিজ্ঞেস করেই। নাম—‘উত্তররৈবিকে রবিরুদয়।’

    গঙ্গাপ্রসাদ বলেন ‘নামটা একটু খটোমটো হয়ে গেল না?’

    ‘খাটোমাটো বলেই তো আগ্রহ যেমন “চলচ্চিত্ত চঞ্চরী’, যেমন “সন্মার্গ সপর্যা”।’ প্রোফেসর বলতে চান খটোমটো বলেই নামটা লোকের আগ্রহ ঔৎসুক্য জাগাবে।

    ‘কিন্তু রবিরুদয়টা যেন কেম’ন, গঙ্গাপ্রসাদ খুঁত খুঁত করতে থাকেন। ‘রবেঃ+উদয় = রবেরুদয় একটা হয় আর একটা হতে পারে রবি+উদয় = রব্যুদয়। কিন্তু…’

    অধ্যাপক জেনকিন্‌স তাড়াতাড়ি তাঁকে থামান, —‘আপনার গোড়া গলদ হচ্ছে অধ্যাপক বন্ধু—এটি বাঙালা সন্ধি। রবির+উদয় = রবিরুদয়। অক্সিমোরোন অর্থে বিরোধাভাস অলোঙ্কার হল। গোড়াতেই পাটকের চমক হচ্ছে।’

    ফাদার জেনকিন্‌স আজকাল বাংলা উচ্চারণ অনেক সড়গড় করে নিয়েছেন। তার ওপরে সংস্কৃতও শিখছেন। কিন্তু অত কঠিন ‘চলচিত্তচঞ্চরী’ বা ‘সন্মার্গ সপর্যা’ উচ্চারণ করতে তাঁর অসুবিধে হচ্ছে না অথচ সামান্য পাঠককে কেন তিনি সব সময়েই মেরে পাট করে দেওয়ার মতো ‘পাটক’ বানিয়ে দেন, প্রায়ই হচ্ছেকে ‘হোছে বলেন তা গঙ্গাপ্রসাদ বুঝতে পারেন না। বাংলাকেই বা তিনি কেন ‘বাঙালা’ বলবেন? বেশি কথা কি তাঁর আলোচিতব্য তিনটি বই? ‘ঝরা পালক’ কী তিনি বলেন? বলেন ‘জরা পালক’, ‘তন্বী’ও তিনি বলেন না, বলবেন ‘তনভি’, বেশি চাপাচাপি করলে ‘তিন্নি তিন্নি’ বলে হাততালি দেবেন। এমন নয় যে তিনি অধ্যাপক বন্ধুকে খ্যাপাতে চাইছেন, এ বয়সে কি আর খুনসুটি মানায়? আসল কথা সঠিক উচ্চারণটা তিনি ঠিকমতো ধরতে পেরেছেন মনে করেই আনন্দে হাততালি দ্যান। ভারী সরলমতি ছেলেমানুষ ফাদারটি। তারপরেই ব্যন্ডির বাডনা বলে তিনি ব্যাণ্ড বাদ্য বাজিয়ে দেবেন।

    খুবই মনঃক্ষুন্ন হন গঙ্গাপ্রসাদ। দোষটা তাঁরই। তিনিই যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফাদারকে শেখাননি। ফনেটিকস চর্চা তিনি তেমন করে করবার সময় পাননি। আজীবন তিনি জীবনান্দে মজে আছেন। ফলে তাঁর খানিকটা ইয়েটস চর্চা, পো-চর্চা আছে, শক্তি চট্টোপাধ্যায়-চর্চাও তিনি করে থাকেন। কিন্তু ফাদার জেনকিনস তাঁর ছাত্র হওয়ার আগে ফনেটিকস-চর্চার উপযোগিতা তিনি বুঝতে পারেননি।

    যাই হোক, ‘উত্তর-রৈবিকে রবিরুদয়’—শিরোনামটা শুনেই দুর্গাপুরের একটি লিটল ম্যাগাজিন ফাদার জেনকিন্‌সকে স্বাগত জানিয়েছে। যদি প্রবন্ধটা খুব বড় হয়ে যায় তো তার জন্যে কয়েক ফর্মা বাড়াতেও ওরা রাজি আছে, অবশ্য সবিনয়ে জানিয়েছে ফাদার জেনকিন্‌স্‌ যদি সামান্য ব্যয়ভার বহন করেন, তা হলে …পূর্বাঞ্চলের সমস্ত সংস্কৃতিমান পাঠকই ‘উস্রী শারদীয়র জন্যে হা-পিত্যেশ করে বসে থাকেন তো! ফাদার লেখা শুরু করার আগেই পঞ্চাশ ডলার পাঠিয়ে দিয়েছেন। তো এখন ফাদারকে সহায়তা করা কি গঙ্গাপ্রসাদের পবিত্র কর্তব্য নয়?

    শিরোনাম নিয়ে গঙ্গাপ্রসাদের খুঁতখুঁতুনি যে কিছুতেই যাচ্ছে না এ ব্যাপারে ফাদারের জ্ঞান টনটনে। তিনি ভাল করে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলেন—‘বাঙালা সাহিত্যে আমি কিছু অবদান করতে চাই। অধ্যাপক বন্ধু। নুতুন কিছু। পুরনোর চর্বণচর্বিতে কী লাভ হচ্ছে? বাঙালা ইউসেজের একটি বই অধ্যাপক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বার করেছেন, তাতে তিনি ওনেক স্বাধীনতা দিচ্ছেন, যেমন ফাউলারের নুতুন এডিশন। কিন্তু আমি আরও স্বাধীনতা করতে চাই।’

    গঙ্গাপ্রসাদ সংক্ষেপে শুধু বলেন, ‘নীরেন্দ্রনাথ কবি, তিনি অধ্যাপক নন।’

    ‘কিন্তু তিনি তো ভাষণ দিচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সব ভিড় কচ্ছে। যেমন আর্নল্ড’

    ‘কিন্তু আপনাদের আর্নল্ড পোয়েট্রির চেয়ারে ছিলেন অক্সফোর্ডে। অডেন, স্পেন্ডার এঁদের কথা ধরুন, সবাই তো ভাষণ দিয়েছেন বাবা জেনকিন্‌স। কিন্তু তাঁদের পরিচয় কি অধ্যাপকের।’

    বাবা জেনকিন্‌স্‌ শুনে ফাদার ঘাবড়ে যান। গঙ্গাপ্রসাদ খুবই সদাশয় মানুষ, কিন্তু কোনও কারণে বিরক্ত হলেই তিনি বাবা জেনকিন্‌সটা বলে থাকেন। এখন, গঙ্গাপ্রসাদের বিরক্তির কারণ ওই ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ‘ভির’, বিশ্ববিদ্যালয়টা পরিষ্কার উচ্চারণ করে ‘ভিড়ে’ এসে ফাদার জেনকিন্‌স ভিরমি খান কী করে?

    যাই হোক, এই কাজে এখন মগ্ন, গঙ্গাপ্রসাদ এবং তাঁর ছাত্র। খুবই মগ্ন, ছাত্র মগ্ন পড়াতে এবং লেখাতে। মাস্টার মগ্ন এড়াতে এবং পালাতে। এ ছাড়াও গাছের তলায় ছাত্রদের স্পেশ্যাল ক্লাস নিতে গঙ্গাপ্রসাদের অনেকটা সময় যায় এ মত সময়ে পত্নী কাজলরেখা মিত্তিরের একটি চিঠি আসে—

    ‘প্রিয়তমেষু,

    আশা করি তুমি তোমার বাবা-সহ ভাল আছো। তোমাকে দুটি মা-ও পাঠাচ্ছি কত দিন আর মাতৃহীন হয়ে কাটাবে বেচারি খোকাবাবু? একটি মা তোমার সাক্ষাৎ কন্যা সে তোমাদের ওপর নজর রাখবে। আর দ্বিতীয়টি আমার সাক্ষাৎ বন্ধু বা বান্ধবী বা বন্ধুনী রঞ্জনা ‘পরদারেষু লোষ্ট্রবৎ।’ সে কয়েকদিন শান্তিনিকেতনে যাপন করতে চায়, বিশেষ শান্তির আশায়। দেখো কারও কোনও অশান্তির কারণ না হয়।

    ইতি

    একান্ত তোমারই

    কাজল

    চিঠিটি পেয়ে গঙ্গাপ্রসাদ হতবাক হয়ে যান। ‘প্রিয়তমেষু?’ এই সম্বোধন কাজলরেখা মিত্তির তাঁকে এ জন্মে কখনও করেনি। প্রথম বিবাহের পর তিনি কাশী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনারে যোগ দিতে যান এবং পত্নীকে প্রিয়তমাসু সম্বোধনে চিঠি দ্যান। সে লজ্জার কথা গঙ্গাপ্রসাদ ইহজীবনে ভুলবেন না। চিঠির উত্তরে যে চিঠি আসে সেটি কম্পিত হাতে খুলে তিনি দেখেন সম্বোধন লেখা রয়েছে—গঙ্গাপ্রসাদেষু জাঠামশাইসু। ভেতরে যা লেখা আছে তা আর কহতব্য নয়। বাংলার মাস্টারমশাইকে তাঁর নব পরিণীতা পত্নী জ্ঞান দিয়েছে—বিংশ শতকের গোড়ার দিকেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তাঁর গিন্নিবান্নি স্ত্রীকে ‘ভাই ছুটি’ বলে সম্বোধন করেছেন। গঙ্গাপ্রসাদ তাঁর বিরহ কাতরতার কথা জানিয়েছিলেন, কাজল লিখেছিল বিরহ খুব স্বাস্থ্যকর। তিনি আদর সোহাগ সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে চুম্বন দিয়েছিলেন। কাজল তার উত্তরে লেখে—বাবা গো এত দূর থেকেও আমার হাঁসফাঁস লাগছে, ঝাঁটা গোফ ফুটছে।

    সেই বেরসিকা স্ত্রী আজ তাকে একুশ শতকের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ‘প্রিয়তমেষু’ সম্বোধন করছে? কন্যা অর্থাৎ তীর্ণা। তিনু আসছে, খুব ভাল কথা। তিনু এলে তাঁর খাওয়া দাওয়ার সুবিধে হয়। তিনু নিজে পাঁচরকম খেতে ভালবাসে কাজেই ফরমায়েশ করে ভালমন্দ তৈরি করায়। তিনু তাঁদের অর্থাৎ তাঁকে ও ফাদার জেনকিন্‌সকে দেখাশোনা করবে, এ খুব ভাল প্রস্তাব, বাবা জেনকিন্‌স তাঁকে পাগল করে দিতে শুধু বাকি রাখছেন, সে ক্ষেত্রে তিনু একটা রিলিফ। কিন্তু ‘নজর রাখা’ ইউসেজটা কি কাজলের ঠিক হল? ভাষার এ রকম ব্যবহার ফাদার জেনকিন্‌সকে মানায়, কিন্তু কাজল? তারপর রঞ্জনা কাজলের বয়সী একটি ধাড়ি মেয়ে সে তাঁর মা হতে যাবে কেন? তাঁর মা হতে হলে রঞ্জনাকে আরও ধাড়ি হতে হবে, নয়তো আরও অনেক কচি, এগুলো কি কাজলের বাড়াবাড়ি নয়? ‘পরদারেষু লোষ্ট্রবৎ’ এই বচনই বা সে অসঙ্গতভাবে উদ্ধৃত করল কেন? কাজলের কি মাথা খারাপ হয়েছে? তার ওপরে ‘একান্ত তোমারই?’… গঙ্গাপ্রসাদ ভেবে-চিন্তে কিছুই স্থির করতে পারেন না। কাজলের মাথা যে চট করে খারাপ হবার নয় এ তিনি হাড়ে হাড়ে জানেন। তবে?

    এ দিকে তীর্ণা আর রঞ্জনা এসে পৌঁছয়। এই গরমে কেউই আর স্টেশনে যাননি। গাছ-গাছালির ছায়ায় ছায়ায় থাকতে পছন্দ করেছেন। তা ছাড়া ফাদার জেনকিনসের ঘরটি এয়ার কন্ডিশনড। এয়ার-কন্ডিশনারটি ফাদার টোপ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। হয়তো গঙ্গাপ্রসাদ নিজের ঘরে নিজের কাজে মগ্ন। ফাদার জেনকিন্‌সও ‘জরা পালক’ নিয়ে পড়েছেন। কিছুটা লেখার পরই তাঁর মনে হয় এটুকু অধ্যাপক বন্ধুকে দেখিয়ে নেওয়া ভাল। সহজে যে গঙ্গাপ্রসাদ ঘাড় পাতবেন না, তা এত দিনে ফাদার জেনে গেছেন। তিনি এয়ার কন্ডিশনারটি ‘ফুল’ চালিয়ে দিয়ে গঙ্গাপ্রসাদের ঘরে উঁকি মারেন—‘ওহ। অধ্যাপক আপনি যে কী করে এই গর্মে মনঃসন্নিবেশ করছেন?’

    মুখ না তুলেই গঙ্গাপ্রসাদ বলেন—‘আমরা গরম দেশের মানুষ গরমে আমাদের মনোযোগ নষ্ট হওয়া উচিত নয়।’

    ‘সন্ন্যাস করবার কী জরুরি অধ্যাপক বন্ধু, আমার ঘরে এখন আমলকির ওই ঢালে ঢালে, টেবিলে যথেষ্ট জাগা। আসুন না।’ অর্থাৎ ফাদার বলতে চাইছেন সন্ন্যাস অর্থাৎ কষ্ট করার কী দরকার? তাঁর ঘরে এখন শীতের আবহাওয়া। তিনি শান্তিনিকেতনে রয়েছেন সুতরাং “শীতের পাতায় লাগল নাচন আমলকির ওই ডালে ডালে” উদ্ধৃত করবার লোভ তিনি সামলাতে পারেননি। প্রথম অংশটা মনে না থাকাতেও তিনি মোটেই ঘাবড়াননি।

    এখন এই আহ্বানে যদি এক বার গঙ্গাপ্রসাদ লুব্ধ হয়ে ফাদারের ঘরে যান তো হয়ে গেল। ওই চমৎকার ঠাণ্ডা থেকে তিনি আর বেরিয়ে আসতে পারবেন না। এবং এক ফাঁকে ফাদার তাঁর কাজটি সেরে নেবেন।

    এই পরিস্থিতিতেই রঞ্জুমাসিকে নিয়ে তীর্ণা পৌঁছয়।

    ‘আমাদের জন্যে কী রান্না করিয়েছ?’ এসেই তীর্ণ মিলিটারি স্টাইলে জিজ্ঞেস করে। ‘তার আমি কী জানি?’ গঙ্গাপ্রসাদ ঠাণ্ডা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বলেন।

    ‘মানে?’

    রান্না-বান্নার ব্যাপার-স্যাপারের আমি কী জানি বল! শম্ভুকে বলে দিয়েছি তোরা আসছিস বাস।’

    ফাদার জেনকিন্‌স এই সময়ে হাস্যমুখে বলেন—‘জোল-ভাত। আমরা গর্মে জোল খাই। রোহির জোল।’

    ‘আমি তো একা নই রঞ্জু মাসিও আসছে আর তুমি ঝোল ভাতের অর্ডার দিলে? তীর্ণা ঝাঁঝিয়ে ওঠে।

    রঞ্জু মাসি তাড়াতাড়ি বলে ‘ওমা, ঝোল ভাত তো ভাল জিনিস। এই গরমে আর কিছু খাওয়া যায়? সত্যজিতের, “অশনি সংকেত”-এর শেষ দিকে “মাছের ঝোল ভাত” বলতে বলতে একটা মেয়ে মরে গিয়েছিল, মনে নেই? তার শেষ ইচ্ছে “মাছের ঝোল ভাত।”

    ‘তাই বলে আমাদেরও কি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ঝোল ভাত খেয়ে যেতে হবে রঞ্জু মাসি? মা গরমের দিনে রোজ বলবে আজকে পাতলা করে একটা ঝোল রেঁধে ফেলি কী বলিস? শীতের দিনে বলবে—আনাজ পাতি শস্তা, কত রকম। জম্পেশ করে একটা ঝোল রাঁধছি। উই আর ফেডআপ উইথ ঝোল।’

    গঙ্গাপ্রসাদ এই সময়ে বলেন ‘তা কেন? এখন তোর রঞ্জুমাসি এসেছেন উনি ঠিকই একটা কিছু ব্যবস্থা করবেন।’

    রঞ্জুমাসির মুখ যে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে তা তিনি লক্ষ করেন না। ও দিক থেকে ফাদার হাততালি দিয়ে ওঠেন, ‘জগাখিচুড়ি, কাফতা, কোবাব, পালাও, কাঁটালের ডালডা, মোচের চপ…’

    রঞ্জনার মুখ এ বার লালচে হতে শুরু করেছে সবাই লক্ষ করে। গঙ্গাপ্রসাদ কাঁচুমাচু মুখে ক্ষমা চান—‘বুঝলেন রঞ্জুমাসি, অতিরিক্ত উৎসাহ হলে ফাদারের বাংলা একটু গুলিয়ে যায়। উনি আপনার রান্নার প্রতি কোনও কটাক্ষ করেননি। উনি কাউকে পালাতে বলছেন না। গোঁফের চপও ফরমায়েশ করছেন না। আর খিচুড়ি আর জগা-খিচুড়ির তফাত আমি ওঁকে আজও বোঝাতে পারিনি।’

    ফাদারও জোড় হাত করেন। কিন্তু তাঁরা কেউই রঞ্জুমাসির লালচে হওয়ার আসল কারণটা ধরতে পারেননি। মোচের চপ যে মোচার চপ এটা রঞ্জুমাসি ঠিকই বুঝেছিলেন। কিন্তু এই বিদেশি ফাদারটি তাকে দিয়ে এই সব রাঁধাবে নাকি? তার ওপর আদিখ্যেতা করে গঙ্গাপ্রসাদ যদি পোঁ ধরেন। বাড়িতে শেফালিই আছে, এখানে কে তাকে উদ্ধার করবে? তীর্ণার রকম-সকমও তো ভাল ঠেকছে না।

    শম্ভু এতক্ষণ রঞ্জুমাসি ও তীর্ণার ব্যাগ সুটকেস ইত্যাদি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এ বার বলল—‘না, না, বিউলির ডাল আর বড়ি পোস্ত হয়েছে। কাঁচা আম দিয়ে মৌরলা চচ্চড়ি আর লালশাক ভাজা। দই পেতেছি রাত্তিরে বেশি করে।’

    ফাদার বললেন, ‘কাদ্যতালিকা ভাল। আর দুই বাদ তো খেতেই যাচ্ছে না।’ ‘দুই’ মানে দুটি পদ তিনি বোঝাননি। তিনি বুঝিয়েছেন ‘দই।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযে যেখানে যায় – বাণী বসু
    Next Article বৃত্তের বাইরে – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }