Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প192 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মেয়েলি আড্ডার হালচাল – ৭

    ‘যেথা এই চৈত্রের শালবন’

    ‘রঞ্জুমাসি আপনি তো লেখেন টেখেন, কত শব্দ ব্যবহার করেন, বলুন তো?’

    ‘কত শব্দ? কেন, বাংলায় যত শব্দ আছে ধরুন সবই ব্যবহার করি।’

    একটা বিজয়ীর হাসি ফুটে ওঠে গঙ্গাপ্রসাদের গোলগাল বড়সড় মুখে। বলেন ‘বাংলায় তেমন কোনও পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু ইংরাজিতে ইয়েস পার্সেন সাহেব বলছেন— সেক্সপিয়রই সবচেয়ে বেশি শব্দ ব্যবহার করেছেন। পঁচিশ হাজার। তার পরে মিল্টন আট হাজার।’

    আমি গর্বের সঙ্গে বলি ‘সংখ্যা বলতে পারব না। কিন্তু চলিত সব শব্দই তো ব্যবহার করি। ধরুন প্রাতিস্বিক, প্রতিভাস, পরিগ্রাহী।’

    ‘—আচ্ছা বেশ। আপনি “নাড়া” শব্দটা ব্যবহার করেছেন?’

    ‘নাড়া? হ্যাঁ! লেজ নাড়া কথাটা তো আমি প্রায়ই ব্যবহার করি। মাঝে মাঝে ন্যাজ নাড়াও বলি। কনভার্সেশনে অবশ্য, বাড়িতে, লেখাতে ব্যবহার? নিশ্চয়ই করেছি— ভূতের খাট নাড়ানো, গাধার কান নাড়ানো। জানেন আমার হাজব্যান্ড না কান নাড়াতে পারেন।’

    গঙ্গাপ্রসাদ তাড়াতাড়ি বলেন, ব্যাক্তিগত না, ব্যক্তিগত আনবেন না। আর “নাড়া” আমি বিশেষ্য হিসেবে বলছি। জীবনানন্দ মনে করুন,…’

    ‘ওহ্‌, আমি নিশ্চিন্ত হয়ে বলি আঞ্চলিক শব্দ, বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের বরিশালি, ঢাকাই, ফরিদপুরি, সিলেটি— এ সব ভ্যারাইটি আমার আয়ত্তে নেই। তা যদি বলেন জীবনানন্দের অভীক্ষ্নও আমি ব্যবহার করিনি। করবও না। ও রকম দুরুচ্চার্য শব্দ ব্যবহার করলে আমার লেখা যে কজন পড়ে, সে কজনও আর পড়বে না। আমাদের প্রত্যেকেরই একটা টার্গেট অডিয়েন্স তো আছে।’ বেশ পরিতৃপ্তির সঙ্গে আমি বলে ফেলি।

    ‘আচ্ছা, আচ্ছা আপনার টার্গেট অডিয়েন্স যাই হোক, যারাই হোক, সে প্রসঙ্গে এখন আমি যাচ্ছি না। আপনি কাইন্ডলি আলোচনাটাকে দিগ্‌ভ্রান্ত করবেন না। আমি যেটা বলতে চাই— আমরা অনেক শব্দ জানি, কিন্তু ব্যবহার করি না। যেমন “পরাজিত”টা বেশি লিখি “পরাভূত”টা অত লিখি না। ধরুন ঠ্যাং, ঠ্যাং কি লেখেন?’

    ‘কাগের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং— লিখে থাকতে পারি’—আমি কবুল করি ‘কিন্তু অন্যত্র ঠ্যাং ব্যবহার করতে গেলেই লোকে বলবে জীবনানন্দ থেকে চুরি করেছি।’

    ‘আঃহা, আপনি চুরি চামারির দিকে যাচ্ছেন কেন রঞ্জুমাসি।’

    ‘দেখুন,’ আমি রাগতভাবে বলি—‘আপনি সমানে আমাকে রঞ্জুমাসি রঞ্জুমাসি করলে আমি এখান থেকে চলে যাব।’

    ‘কী আশ্চর্য! আমি কি সত্যি আপনাকে আমার মাসি বলেছি। আপনি আমার মাসি সম্পর্ক হন না আমি বেশ জানি। তিনুর মাসি তো সেই হিসেবে…’

    ‘আপনি কি কাজলকে “তিনুর মা” বলে ডাকাডাকি করেন? আসল কথা আপনি ভীষণ পুরনো কালের, মধ্যযুগীয় মনোভাবের, সেফ-সাইডে থাকার জন্যে রঞ্জুমাসি রঞ্জুমাসি করছেন।’

    ‘কীসের সেফ সাইড?’ গঙ্গাপ্রসাদ অবাক হয়ে বলেন।

    ‘মানে আপনি সমাজকে ভয় পান, একটি মহিলাকে রঞ্জু বা রঞ্জনা বলে ডাকলে যদি কেউ কিছু মনে করে! কেউ আর কে? তীর্ণা খুব মড। কাজলকেই আপনি ভয় পান।’

    ‘কাজলকে আমি একেবারেই ভয় পাই না। কাজলকে আমি পরোয়া করি না। কাজল কী ভাবলো না ভাবল আমার বয়েই গেল। কেন না সেও আমাকে পরোয়া করে না, আমি কী ভাবলুম না ভাবলুম তাতে তারও বয়েই যায়! জানেন এক দিন লোডশেডিং-এর রাতে বাড়ি ফিরে হুলো বেড়ালের আঁচড় খেয়েছিলুম তাতেও সে আসেনি, দিদিমাসির বাড়ি ছিল সারা রাত। জানেন আমাকে ইস্ত্রিতে দুধ গরম করে, ডিমের পোচ করে কাঁচা পাঁউরুটি দিয়ে খেতে হয়েছিল!’

    ঘা খেয়ে গঙ্গাপ্রসাদের যাবতীয় অন্তর্নিহিত শিকায়েত বেরিয়ে আসতে থাকে।

    লাল মাটির পথ দিয়ে আস্তে আস্তে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের কথা হচ্ছিল। গ্রীষ্মের ফুলের একটা মৃদু সুবাস সন্ধের হাওয়ায়। ফাদার জেনকিন্‌স বাড়িতে ক্যাসেট চালিয়ে চালিয়ে নিজের উচ্চারণ ঠিক করছেন। তীর্ণা গেছে কোনও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিতে। আমিই গঙ্গাপ্রসাদবাবুকে টেনে বার করেছি। গঙ্গাপ্রসাদ সহজেই রাজি হয়ে গেছেন। কেন না সন্ধেবেলাটুকুও যদি তিনি বাবা জেনকিন্‌সের হাত থেকে রেহাই না পান, তাঁর অবস্থা খুবই সঙ্গীন হবে।

    ‘আচ্ছা ধরুন কাজলের বদলে আর কেউ আপনার বেড়ালের আঁচড়ে মলম লাগিয়ে দিল। আর কেউ আপনাকে ভাল দেখে একটা সায়মাশ বেঁধে দিল।’

    ‘কী বললেন? সায়মাশ? ডিনার? এটা ডিকশনারিতে কাজে লাগাতে হবে। আচ্ছা রঞ্জনাদেবী আপনি তো অনেক শব্দই ব্যবহার করে থাকেন দেখছি। তখন বললেন দুরুচ্চাৰ্য, এখন বলছেন সায়মাশ, নাঃ আপনার হবে, হবে।’

    ‘আমি কিন্তু আপনাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম গঙ্গাপ্রসাদ দেব।’

    ‘দেব তো আমি নই, আমি মিত্তির।’

    ‘আমি রঞ্জনা গড়াই যদি দেবী হতে পারি, আপনি গঙ্গাপ্রসাদ মিত্তির তবে অবশ্যই দেব। না কি আপনার দেবত্বে সন্দেহ প্রকাশ করছেন?’

    এ বার গোল মুখ ভরে খুব হাসলেন গঙ্গাপ্রসাদ।

    ‘দেখুন, মহিলাদের নাম ধরে ডাকা আমার অভ্যাস নেই, এ কথা সত্যি তাতে মধ্যযুগীয় বলেন তো আমি মধ্যযুগীয়।’

    ‘শ্যালিকাকে কী বলেন?’

    ‘শালী যে আমার নেই?’

    তবে আমিই আপনার এক জন শালী। স্ত্রীর বন্ধুরা তো শালীই হয়।’

    ‘ঠিক আছে ঠিক আছে। আমি চেষ্টা করব। কী যেন প্রশ্নটা করছিলেন?’

    ‘আমি আমার প্রশ্নটা আবারও করি, জিজ্ঞেস করি সে ক্ষেত্রে উনি কী করবেন? অর্থাৎ কেউ যদি ওঁকে আহত বিক্ষত অবস্থায় ফাস্ট এইড দেয়, এবং অসহায় অবস্থায় ভাল করে ডিনার সার্ভ করে তো উনি কী করবেন?

    ‘এ রকম ঘটার কোনও আশাই নেই মিসেস রঞ্জনা গড়াই। আপনি আমার ছেলে-মেয়েকে চেনেন না। রাত দশটার আগে তারা বাড়ি ফেরে না। পর পর পর পর ডিপ্লোমা নিয়ে যাচ্ছে, কম্পিউটার, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ইনটিরিয়র ডেকোরেশন, গজল, মডার্ন ডান্স, মূকাভিনয়, পার্সন্যালিটি ডেভেলপমেন্ট, ফ্রেঞ্চ, বার্মিজ রেইকি… যেটা লেগে যায়, বুঝলেন না? ওদের বাড়িতে পাওয়া দুষ্কর।’

    ‘তা হলে ধরুন নেবার্স। প্রতিবেশীরা!’

    ‘প্রতিবেশী? আপনি হাসালেন মিসেস গড়াই। একমাত্র কলেজের ভর্তির সিজনে এবং টেস্টের ফলাফল বেরুবার সিজনে সেই মহাত্মাদের দেখা পাই। সেই সময়ে তাঁরা ক্যালেন্ডার, ডায়েরি, ফলফুলুরি ইত্যাদি নিয়ে ঢুঁ মারেন। কিন্তু রাত্তির বেলায়, লোডশেডিং-এ, হুলো বেড়ালের বাড়িতে? নৈব নৈব চ।’

    ‘কিন্তু প্রতিবেশী তো তাকেই বলে গঙ্গাদা, যে নাকি বিপদে সাহায্য করে। যিশু তো তাই বলে গিয়েছেন!’

    আমার গঙ্গাদা শুনে গঙ্গাপ্রসাদ ভুঁড়ি পর্যন্ত চমকে উঠলেন। তার পরে সামলেসুমলে বললেন—‘সে রকম প্রতিবেশী নেই আর এ যুগে। নেই।’

    ‘আচ্ছা ধরুন আমি। আমি যদি করি। আমি তো বাড়ি-বসা মানুষ। এটুকু উপকার কারও করতে আমার কোনওই অসুবিধে নেই।’

    ‘আপনি?’—আমার দিকে হাঁ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন গঙ্গাপ্রসাদ। দৃষ্টিতে একটা সন্দেহ একটা না বোঝার ভাব।

    আমি বলি— ‘কী আশ্চর্য! এই সামান্য ব্যাপারে আপনি এত ভয় খেয়ে খাচ্ছেন কেন? আপনি অধ্যাপক তারপর ডিকশনারিবাজ, আমি লেখার লাইনের লোক, আমি তো আপনার বাড়িতে নিজের প্রয়োজনেই যেতে পারি। পারি না? কাজল থাকলে সে আড্ডা দেবে কিংবা শাড়ি দেখাতে শুরু করবে। সুতরাং ; কাজল যেদিন বাড়িতে থাকবে না, সে দিনই আমার যাওয়া ভাল। আর সেই সময়ে যদি বেড়াল বা ইঁদুর আপনাকে আঁচড়ে দেয়, কিংবা আপনার যদি খাবারদাবার না থাকে আমি সে সবের ব্যবস্থা করতে পারি।’ শেষ কথাটা অবশ্য আমি খুবই মনমরা হয়ে বললাম।

    ‘কিন্তু লোডশেডিং হলে?’ গঙ্গাপ্রসাদ খুব সন্দিগ্ধ চোখে আমার দিকে আড়ে আড়ে চান।

    ‘লোডশেডিং হলে টর্চ আছে, মোমবাতি আছে, সব সময়ে আমার ব্যাগে থাকে। তা ছাড়া লোডশেডিং হলে তো আরও ভাল।’

    ‘কেন? কেন?’ গঙ্গাপ্রসাদ এত ভয় পেয়েছেন যেন এখুনি হুড়মুড় করে পড়ে যাবেন।

    আমি দূরের দিকে তাকিয়ে বলি—

    ‘আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত-রাত্রিটিরে ভাল,
    খড়ের চালের পরে শুনিয়াছি মুগ্ধ রাতে ডানার সঞ্চার ;
    পুরানো পেঁচার ঘ্রাণ ;—অন্ধকারে আবার সে কোথায় হারালো!
    বুঝেছি শীতের রাত অপরূপ, —মাঠে মাঠে ডানা ভাসাবার
    গভীর আহ্লাদে ভরা ; অশত্থের ডালে-ডালে ডাকিয়াছে বক ;
    আমরা বুঝেছি যারা জীবনের এই সব নিভৃত কুহক ;…’

    গঙ্গাপ্রসাদ যেন নাভির অতল থেকে এক পেলব ব্যারিটোন স্বর টেনে তুললেন। বললেন—

    ‘মিনারের মতো মেঘ সোনালি চিলেরে তার জানালায় ডাকে।
    বেতের লতার নিচে চড়ুয়ের ডিম যেন শক্ত হয়ে আছে,
    নরম জলের গন্ধ দিয়ে নদী বারবার তীরটিরে মাখে,
    খড়ের চালের ছায়া গাঢ় রাতে জ্যোৎস্নার উঠানে পড়িয়াছে
    বাতাসে ঝিঁঝির গন্ধ—বৈশাখের প্রান্তরের সবুজ বাতাসে ;
    নীলাভ নোনার বুকে ঘন রস গাঢ় আকাঙক্ষায় নেমে আসে ;’

    অনেকক্ষণ চুপচাপ হাঁটলাম আমরা। শালবনের ছায়ার আঁধারে এসে বসলাম। চতুর্দশীর চাঁদ বৈশাখের মেঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ে নেমেছে। আলো ছায়া ছায়া-ছায়া আলো..এইভাবে আমাদের ওপর দিয়ে প্রকৃতি ভেসে যাচ্ছে।

    শেষে গঙ্গাপ্রসাদই বললেন— ‘ভালবেসেছি।’

    আমি চমকে উঠেছি একেবারে। গঙ্গাপ্রসাদ বললেন— ‘এটাকে উনি উল্টে নিলেন হয়ে গেল ‘বেসেছি ভাল।’ এ বার এই দুটো অংশের মধ্যে উনি পুরো কর্মটাকে ক্রিয়া বিশেষণটাকে কর্তার অংশবিশেষকে ঢুকিয়ে দিলেন— ‘যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত রাত্রিটিরে।’ যে লাইনটা তৈরি হল তাই আমাদের মাঠে মাঠে ডানা ভাসাবার গভীর আহ্লাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। বুঝলেন রঞ্জনা!’

    ‘চিল উড়ছে, ওপরে উঠে যাচ্ছে, আরও উপরে, ক্রমশ বিন্দু হয়ে যাচ্ছে কেন বলুন তো? মেঘের মিনারে সেই ম্যাজিক কেসমেন্ট, সেইখান থেকে ঐন্দ্রজালী ডাক এসে পৌঁছচ্ছে যে।’

    আমি বলি— ‘নদী আর তীর যেন জল আর আটা। খুব নরম করে দুধে-মাখা, রুমালি রুটির ময়দার মতো মাখা হচ্ছে।’

    ‘কিন্তু গন্ধ, মাখাটা হচ্ছে গন্ধ দিয়ে, জল দিয়ে নয়।’

    ‘অর্থাৎ আরও সূক্ষ্ম, আরও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ আরও অমোঘ।’

    গঙ্গাপ্রসাদ বললেন— ‘এবং জ্যোৎস্নার উঠান, ঝিঁঝির শব্দ নয় গন্ধ, প্রান্তরের সবুজ বাতাস, নীলাভ নোনা। রসের জন্যই তো আমাদের আকাঙক্ষা কিন্তু রস নিজেই আকাঙক্ষায় গাঢ় হয়ে নেমে আসছে। …জীবনের এই সব নিভৃত কুহক তা হলে আপনি বোঝেন?’

    আমি জবাব দিই না। অন্ধকারটা বড্ডই গাঢ় হয়ে যাচ্ছে। চাঁদ এখন মেঘের আড়াল থেকে বিকিরিত হচ্ছে। জ্যোৎস্নার শালবন। নাকি অন্ধকারের শালবন। একটু একটু ভয় করতে থাকে।

    ‘তা হলে বলি— “আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা আমাদের এই নদীর নামটি অঞ্জনা

    আপনার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচজনে

    আমাদের সেই তাহার নামটি..রঞ্জনা।’ গঙ্গাপ্রসাদ অপূর্ব বিহ্বল স্বরে বললেন— ‘শুনেছেন শম্ভু মিত্র তৃপ্তিমিত্র-র সেই রেডিয়ো নাটক!’

    ‘শুনেছি বই কী’, আমি গাঢ় গলায় বলি, ‘আর তৃপ্তি মিত্র-র ‘খোলো খোলো হে আকাশ স্তব্ধ তব নীল যবনিকা?” আর শম্ভু মিত্র-র সেই উচ্চারণ গ্যালিলেও বেশে— “হতভাগ্য সেই দেশ। যে দেশের শুধু বীরপুরুষই দরকার হয়!’ শুনেছেন শম্ভু মিত্র-র “ফকির”—আর একটা রেডিয়ো-প্লে। বিভূতিভূষণের রচনা! উহুহুহু অমন হার্ট-রেন্ডিং ভালমানুষির অভিনয় আর শুনব না।’

    বলতে বলতেই আমার কানে ভেসে ওঠে ফকিরের সেই আজান ধ্বনি। আসহাদ আল্লাই লাহা’ ইল্লাহ…আন্না মুহম্মদ…। রসুলুল্লাহ আল্লা হু আকবর… লা ইল্লাহ লাহ! আমার চোখ দিয়ে টপ করে এক ফোঁটা জল ঝরে পড়ে। ‘ব্লেসেড আর দা মীক ফর দেয়ার্স ইজ দা কিংডম অফ হেভন’ যিশুর এই বাণীর এমন হৃদয়মন্থী উদাহরণ তো আর নেই! দুজনেই চুপ করে বসে থাকি। কিছুক্ষণ পর বেশ কিছুক্ষণ পর গঙ্গাপ্রসাদ বললেন, দশটা বাজতে আর তেমন দেরি নেই। টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। উঠুন রঞ্জনা। শেষকালে জ্বরটর বাধালে আবার তিনু, কাজল, নিরুপমবাবু সবাই আমাকে বকাঝকা করবেন।’

    ‘ফাদারও নিশ্চয়ই আপনার জন্যে উতলা হয়েছেন।’ বলেই দুজনে অল্প হেসে উঠি! পরদিনই আমরা প্রিয়া রেস্তোরাঁয় সেখানকার বিখ্যাত পরোটা…আর মাংস খেলুম। বাবা জেনকিন্‌স আর তীর্ণা এক দিকে বসে ছিল। আমি আর গঙ্গাপ্রসাদ এক দিকে।

    ‘এই রকম পরোটা আপনি করতে পারেন?’ খেতে খেতে গঙ্গাপ্রসাদ জিজ্ঞেস করলেন।

    ‘আমার রান্না-বান্নার গুণাগুণ আমি শেফালিতে সমর্পণ করেছি।’ আমি মৃদু হেসে বলি—

    ‘শেফালি মানে কি শরতের শিউলি?’

    ‘না, গঙ্গাদা শেফালি আমার কাজের মেয়ে, এই রকম পরোটার দশ ভাগের এক ভাগও আমি করতে পারি না’—আমি অকপটে স্বীকার করি— ‘আমি বরঞ্চ দক্ষিণ আমেরিকার ম্যাপ আঁকতে পারব, তার টিকির সঙ্গে উত্তর আমেরিকাকে জুড়ে দিতেও পারব। কিন্তু তিনকোনা পরোটা বেলা আমার দ্বারা হবে না।

    ‘কেউ বেলে দিলে?’

    ‘ভাজা? লেস ডিফিকাল্ট। কিন্তু আমি সেঁকে সেঁকে তাকে শক্ত চামড়া মতো করে ফেলি।’

    এ বার গঙ্গাপ্রসাদ সব বদমাইসি ধরে ফেলার হাসি হাসেন।

    ‘বেশি সেঁকলে যে পরোটা চামড়া মতো হয়ে যায় এ তথ্য আপনার জানা আছে, তবু আপনি সেঁকতে থাকেন? রঞ্জনা, ব্যাপারখানা কী বলুন তো?’ আমি খুবই কাঁচুমাচু হয়ে যাই ধরা পড়ে। সত্যি কথা স্বীকার করাই ভাল। বলি— ‘আপনার নিরুপমবাবু খেতে এত ভালবাসেন যে এক বার ভাল রাঁধতে পারলে আর রক্ষা নেই।’

    ‘বুঝলুম। কিন্তু শুনতে পাই যে মেয়েরা উদরের মধ্যে দিয়ে মানে রসনার মাধ্যমে তাদের স্বামীদের হৃদয়ে পৌঁছতে চায়।’

    ‘পৌঁছতে চায় নয় দাদা, বড়ই দুঃখের কথা, এ ভাবেই পৌঁছতে হয়। মানে তারা বাধ্য হয়।’

    ‘আপনি তা হলে এই সাদা-সিধে রুট দিয়ে পৌঁছতে চান না?’ আমি হাসতে থাকি। কে জানত এই নোদল-গোদল ভালমানুষ আপনভোলা বা ব্যোমভোলা অধ্যাপকটির পেটে পেটে এত উইট, এত পর্যবেক্ষণ, এত আবেগ!

    গঙ্গাপ্রসাদ বললেন— ‘কদিনের কথাবার্তায় যা বুঝলুম আপনি গোলক ধাঁধার পথ একটি হৃদয়ে তৈরি করে রেখেছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে রঞ্জনা নিরুপমবাবু কি আদৌ সেই গোলকধাঁধার প্রবেশদ্বারে পা বাড়াচ্ছেন? খুব ব্যক্তিগত হয়ে যাচ্ছে প্রশ্নটা তবু জিজ্ঞেস করছি এই সাহসে যে আপনিও শীতের অপরূপ রাতকে ডানা ভাসাবার গভীর আহ্লাদে ভরা বলে চিনতে পারেন। ইচু ফকিরের আজানের শব্দস্মৃতিতে আপনার চোখ দিয়েও জল পড়ে।’

    আমি কিছুক্ষণ নীরবে পরোটা চিবোই। মুখের ভেতরটাও গভীর আহ্লাদে ভরে যেতে থাকে। হঠাৎ সমস্ত ইন্দ্রিয় এমন একযোগে আমাকে এত দিতে শুরু করল কেন ভেবে অবাক হই।

    তারপর সত্যি কথাই বলি— ‘নিরুপমবাবু বা অন্য কেউ গোলকধাঁধার প্রবেশদ্বারটা দেখতে না পেলেও আমার ক্ষতি নেই। মানে ক্ষতি আছে কিন্তু সে ক্ষতিকে পাত্তা না দিতে আমি শিখেছি। কারণ ত্রৈলোক্যনাথ থেকে সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়- আবুল বাশার পর্যন্ত গদ্য, রবীন্দ্রনাথ থেকে জয়দেব বসু -নিভা দে পর্যন্ত পদ্য আমায় ভালবাসে। ওই গোলকধাঁধা পার হয়ে যায়। গিয়ে আমার হৃদয়ের কেন্দ্রে কোনও মিনোটর নয়, মেঘের মিনারের জানলার দিকে উড়তে থাকা যে সোনালি চিলনি আছে তারই কাছে পৌঁছে যায়।’

    গঙ্গাপ্রসাদের খাওয়া থেমে গিয়েছিল। অনেকক্ষণ আবিষ্ট দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে চেয়ে বললেন— ‘এমন প্রতিধ্বনি কোনওদিন শুনতে পেতে পারি আমার কল্পনাতেও ছিল না। কাজলরেখাও সারা জীবন ওই গোলকধাঁধাটাকে উপেক্ষা করে কাটিয়ে দিল। আমারও তাতে কিছু এসে গেল না। কেন এমন হয়, বলুন তো?’

    ‘সংসারটাকে তো চলতে হবে! ভিন্নতার মধ্যে দিয়েই সংসারের চলা।’

    ‘হবে বোধ হয়,’ গঙ্গাপ্রসাদ ভাবুক গলায় বললেন।

    তিন দিন রেস্তোরাঁয় খাওয়া হল। ফাদার জেনকিন্‌স খাওয়ালেন তাঁর নুতুন গার্ল ফ্রেন্ড তীর্ণাকে। আর গঙ্গাপ্রসাদ খাওয়ালেন আমাকে। কিন্তু সিনেমার কথা আমি তাঁকে কিছুতেই বলতে পারলাম না। দু-একটা সিনেমা হল যা হাতের কাছে আছে তাতে বিচ্ছিরি বিচ্ছিরি সব ছবি হচ্ছে। কী করে বলি? দেখবই বা কী করে? তা ছাড়া প্রথম বৈশাখের এই প্রথম আকাশ’ এই গন্ধরাজদের ফুটে ওঠা, দোলনচাঁপার মৃদু গন্ধ রাস্তার মাটিটিরে মাখে! কত গাছ, গাছ আর গাছ, আর গাছ। এটাই এমন একটা ছবি যা আমরা রোজ ভোরে শিশির মেখে গঙ্গাফড়িংদের সঙ্গে দেখি, সন্ধেবেলায় দেখি ঘরে ফেরা বিহঙ্গকুলের সঙ্গে। কোনও কোনওদিন তীর্ণা আমাদের সঙ্গে আসে, কোনও কোনওদিন ফাদার জেনকিন্‌স। আর দিনে-রাতে, সকালে বিকেলে, গ্রীষ্মের গুমোটে কোকিল ডেকে যায়, ডেকে যায়, ডেকে যায়। এত ডাকে যে এক দিন আমার ঈষৎ ভাঙা গলায় আমি —‘কোয়েলিয়া গান থামা এবার/ তোর ওই কুহু তান ভাল লাগে না আর’— কত দিনের বিস্মৃত বাণী কোনারের গলায় গাওয়া এই গান অনায়াসে গেয়ে দিই।

    তারপর ফিরতি ট্রেন ধরি। আমি আর তীর্ণা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযে যেখানে যায় – বাণী বসু
    Next Article বৃত্তের বাইরে – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }