Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন

    মোতাহের হোসেন চৌধুরী এক পাতা গল্প151 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুঃখবাদ

    অন্যান্য কালের মতো একালেও ভাবা হচ্ছে :প্রাজ্ঞ লোকেরা যখন এই ধারণায় উপনীত হয়েছেন যে, এই পৃথিবী দুঃখময়–এখানে বঁচবার মতো কিছুই নেই, তখন এখানে সুখ প্রত্যাশা না-করাই ভালো। যাদের কথা বলা হল তারা যদি বৈরাগী হতেন তো এক কথা ছিল, কিন্তু তারা যখন নিজেরাই ভোগী-শিরোমণি তখন তাদের কথায় আর আস্থা স্থাপন না করে থাকা যায় না। আপনি যদি সত্যি সত্যি একটা ফল মুখে দিয়ে থু করে মুখ বাঁকান তো আমার আর ও ফলটি চেখে দেখবার সাধ থাকতে পারে না। আপনার দেখাদেখি আমারও থু করে মুখ বাঁকাবার ইচ্ছে হবে। অতিভোগের পরে প্রতিষ্ঠ সংস্কৃতিবানরাই যখন মুখ বাঁকান–যেন তেতো কিছু খাচ্ছেন এমনিভাবে, তখন সংস্কৃতির নতুন দাবিদাররাও যে তা-ই করতে চাইবে তাতে আর আশ্চর্য কী? সকলেই তো উঁচু নাকের পরিচয় দিতে ভালোবাসে, আর উঁচুনাকঅলা সাজবার সহজ উপায় হচ্ছে পৃথিবীতে উপভোগ করবার মতো কিছুই নেই, এমনি ভাব দেখানো।

    এই ধারণার বশবর্তীরা সত্যই দুঃখী। কিন্তু সাধারণের দুঃখ আর তাদের দুঃখের মধ্যে একটা পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ লোকেরা তাদের দুঃখের জন্য গর্ববোধ করে না, কিন্তু তারা করে। জগতে উপভোগ্য কিছুই নেই, একথা বলে তারা একটা উন্নাসিক শ্রেষ্ঠতাবোধের পরিচয় দেয়। তাদের গর্ব দেখে সাধারণের মনে একটা খটকা লাগে :’দুঃখের জন্য গর্ব’, তা আবার কীরকম ব্যাপার? এ তো সোনার পাথরবাটির মতো একটা অসম্ভব কিছু। হয় তাদের গর্বটা মিথ্যা, নয় দুঃখটা–এই তাদের সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়। সত্যি-কথা। দুঃখের মধ্যে যে আনন্দ পায়, তার আবার দুঃখ কিসের? তার শ্রেষ্ঠতাবোধের মধ্যেই তো একটা ক্ষতিপূরক দিক রয়েছে। কিন্তু তাই বলে তাকেই যথেষ্ট বলা যায় না। অহঙ্কারবোধ যে-সুখের যোগান দেয়, প্রকৃত সুখের তুলনায় তা অকিঞ্চিৎকর।

    নিজেকে দুঃখী ভেবে গর্ববোধ করার মধ্যে কোনপ্রকার উন্নত ধরনের যৌক্তিকতা আছে বলে আমার মনে হয় না। তা বিকৃত বুদ্ধিরই পরিচায়ক। দুঃখের জন্য গর্ব না করে বুদ্ধিমান মানুষ যতটা সম্ভব সুখ আদায় করে নিতে চাইবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তারা যদি মনে করে জাগতিক চিন্তা একটা সীমা পেরিয়ে গেলেই সুখের কারণ না হয়ে দুঃখের কারণ হয়ে দঁড়ায় তো তারা জগতের চিন্তা না করে অন্য কিছুর চিন্তা করবে। মোটকথা, সুখের দিকেই তাদের ঝোঁক হবে, দুঃখের দিকে নয়। দুঃখই সত্য একথা প্রমাণ করতে গিয়ে যারা বিশ্বপ্রকৃতির মূলেই দুঃখের নিদান দেখতে পায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাবার চেষ্টা করে। আসল ব্যাপারটি এই যে, নিজের দুঃখের কারণটি বের করতে না পেরে তারা শেষে বিশ্বপ্রকৃতির ওপরেই সমস্ত দোষ চাপিয়ে দেয়। বিশ্বপ্রকৃতিতে যে-সকল নৈরাশ্যব্যঞ্জক দিক রয়েছে তাদের উপর আঙুল রেখে বলে : বিশ্বের মূলেই যখন নিষ্ঠুরতা, তথা দুঃখের খেলা তখন তার থেকে সুখ প্রত্যাশা না-করাই যুক্তিসঙ্গত। এসো, সুখের কামনা ভুলে গিয়ে নিজেকে দুঃখের জন্য প্রস্তুত করে তুলি; তা হলেই আর প্রবঞ্চিত হওয়ার ভয় থাকবে না। মিথ্যা খেয়ালি পোলাও খাওয়ার চেষ্টা না করে যা সত্য, নিষ্ঠুর হলেও তাকে স্বীকার করে নেওয়াই ভালো।

    ওপরে যে-দুঃখবাদী দর্শনের উল্লেখ করা হল, আমেরিকার পাঠকদের জন্য তা পরিবেশন করেছেন জোসেফ উড ক্রুচ তাঁর ‘দি মডার্ন টেম্পার’ নামক গ্রন্থে। আমাদের পিতামহদের জন্য তা পরিবেশন করেছিলেন কবি বাইরন। আর সমস্ত কালের লোকদের জন্য তা লিপিবদ্ধ করে গেছেন ‘ইকলেজিয়েটসের লেখক। ক্রুচ বলেছেন :

    আমাদের কোনো ভরসা নেই। প্রাকৃতিক বিশ্বে আমাদের জন্য এতটুকু সুখের স্থানও নেই। তথাপি মানুষ হয়ে জন্মেছি বলে আমরা দুঃখিত নই। পশু হিসেবে বাঁচার চেয়ে মানুষ হিসেবে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

    আর বাইরন যা বলেন তা তো সকলের জানা :

    যে আনন্দ নিয়ে যায় কাল, কভু নাহি দেয় তাহা ফিরে,
    যৌবনের ভাবের গরিমা ডুবে কা–যায়-সিন্ধু নীরে।

    এখন ইকলেজিয়েটসের লেখকপ্রবর কী বলেন, দেখা যাক। তিনি বলেন :

    এইজন্যই আমি বেঁচে থাকা মানুষদের চেয়ে মরে যাওয়া মানুষদের অধিক গুণকীর্তন করি। হাঁ, তাঁদের চেয়েও ভালো হচ্ছেন তাঁরা যারা এখনও জন্মাননি। এবং সেহেতু সূর্যের আলোর নিচে যেসব মন্দ ব্যাপার ঘটে তা প্রত্যক্ষ করেননি।

    এই অশুভদর্শী ব্যক্তিত্রয়ের প্রত্যেকে প্রচুর সুখভোগের পরেই এই নিরানন্দ দর্শনে এসে পৌঁছেন। ক্রুচ বাস করেছিলেন নিউইয়র্কের সুখভোগী ইন্টেলেকচুয়ালদের মধ্যে। বাইন সঁতরে ছিলেন ভোগের নদী। ইকলেজিয়েটসের রচয়িতাও ভোগের ব্যাপারে কম যাননি। সুরা, সঙ্গীত ও অনুরূপ অন্যান্য ব্যাপারে তার জুড়ি ছিল না বললেই চলে। দাস-দাসী ছিল তার বিস্তর, সরোবরও তিনি খনন করিয়েছিলেন। ভোগের আয়োজনে কোনোকিছুই তিনি বাকি রাখেননি! তথাপি তিনি দেখতে পেলেন সকলই ফাঁকি, মায়া–এমনকি জ্ঞানও।

    আর আমি জ্ঞান-আহরণে মনোনিবেশ করলুম, নির্বোধ মমতায় জীবনের স্বাদও নিলুম। কিন্তু ততঃ কিম? তাতে তো আত্মার বিক্ষোভই বাড়ে, কমে না। কারণ যতবেশি জ্ঞান বাড়ে, ততবেশি দুঃখও বাড়ে। জ্ঞান বাড়িয়ে তুমি দুঃখই বাড়াও।

    মনে হয়, তাঁর জ্ঞান তাকে ঘাবড়ে দিয়েছিল। জ্ঞান, প্রেম, ভোগবিলাস সমস্ত কিছুই তার কাছে ফাঁকি, অন্তঃসারশূন্য বোধ হল বলে জীবন তার কাছে ঘৃণার বস্তু হয়ে দাঁড়াল। সুখের আশায় জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি দুঃখকেই মানব-ভাগ্য বলে মেনে নিলেন।

    এখন এই-যে মনোভঙ্গি, এ সচেতন বুদ্ধিলোকের ব্যাপার নয়, অবচেতন ভাবলোকের ব্যাপার। অর্থাৎ এটি চিন্তার বিষয় নয়, ‘মুড’ বা মনোভাবের বস্তু। তাই এর পরিবর্তন ঘটতে পারে কেবল কোনো শুভ ঘটনার সংযোগে অথবা শরীরগত পরিবর্তনে তর্ক করে কখনো নয়। জীবন অনেকদিন আমার কাছেও ফাঁকা ফাঁকা মনে হয়েছে। কিন্তু এই শোচনীয় অবস্থা থেকে আমি মুক্তি পেয়েছি কোনো ফিলজফি পড়ে নয়–অনিবার্য কর্মপ্রেরণায়। আপনি যতই অবসাদ বোধ করেন না কেন, এমন সময় আসবেই যখন আপনি কাজ না করে থাকতে পারবেন না, আর কাজের সঙ্গে সঙ্গে আপনার অগোচরেই আপনার অবসন্নতা বাম্পের মতো মিলিয়ে যাবে। সূর্য যেমন মেঘের শত্রু, কাজও তেমনি অবসাদের দুশমন। আপনার ছেলে যদি পীড়িত হয়ে পড়ে তো নিশ্চয়ই আপনি দুঃখবোধ করবেন, কিন্তু আপনার কাছে জগৎ অসার মনে হবে না। বরং জীবনের মূল্য আছে কি নেই, এ কথা না-ভেবেই আপনি আপনার ছেলেকে সারিয়ে তুলতে চাইবেন। সত্যকার দুঃখীরা জীবনকে কোনোদিন কি মনে করে না। জীবনের প্রতি আকর্ষণ তাদের ষোলো আনা। জীবন ফাঁকি বলার প্রবণতা রয়েছে শুধু অবসরভোগী ধনী-সম্প্রদায়ের মধ্যে। কিন্তু ধনীলোকটি যদি ভাগ্যের চক্রান্তে সর্বস্ব খুইয়ে বসে তো পরের বেলার আহারটুকুকে সে আর ফাঁকি বলে উড়িয়ে দিতে পারবে না। জীবনের চাহিদাগুলি সহজে মিটলেই এ-ধরনের রুগণ মনোভাবের জন্ম হয়। অন্যান্য প্রাণীর মতো মানুষের জন্যও জীবনসংগ্রামের প্রয়োজন আছে। প্রচুর ধনাগমের ফলে মানুষ যখন সহজে, একরকম বিনা চেষ্টায়ই তার খেয়াল মেটাতে সক্ষম হয়, তখন সে আর জীবনের স্বাদ পায় না। চেষ্টার অভাবের দরুন সুখের উপাদানে ঘাটতি ঘটে। আকাঙ্ক্ষার পূর্তিতে সুখ নেই–এ উক্তি কেবল তারই হয়ে থাকে, কামনার বস্তুগুলি যে অত্যন্ত সহজে পায়। এই লোকটি যদি দার্শনিক গোছের হয় তো সহজে এ সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছে যে, যে ব্যক্তিটি অনায়াসেই তার শখ মেটাতে পারে সেই যখন সুখী নয়, তখন দুনিয়া স্বভাবতই দুঃখের। কোনো কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবই-যে সুখের হেতু, এ-কথাটা হতভাগ্য দার্শনিকটির মনে থাকে না।

    এ গেল ‘মুড’ বা মনোভাবের ব্যাপার। যুক্তি-তর্কের ব্যাপারও ইকলেজিয়েটসে আছে। ইকলেজিয়েটস-কার জীবনের অসারতা সম্বন্ধে যেমতটি ব্যক্ত করেছেন, হালের দার্শনিকদের হাতে তা নিম্নরূপ অভিব্যক্তি পেত :

    মানুষ অনবরত খেটে চলেছে, বস্তুও এক অবস্থায় স্থির হয়ে নেই। তথাপি এমন কিছু সৃষ্টি হচ্ছে না যা চিরত্ব দাবি করতে পারে। বড় রকমের কোনো পরিবর্তনই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্বের ব্যাপারের সঙ্গে পরের ব্যাপারের পার্থক্য অল্পই। সেই থোড় বড়ি খাড়া খাড়া বড়ি থোড়। মানুষ মরে যায়, ছেলে এসে তার পরিশ্রমের ফল ভোগ করে। আবার তার ছেলে তাকে অনুসরণ করে। নদী সমুদ্রের দিকে যায়, কিন্তু সেখানেও তার জল আটকে থাকে না–কেবলই সরে সরে যায়। বারবার উদ্দেশ্যবিহীন চক্রে মানুষ ও বস্তু ঘুরছে। অন্তহীন, পরিণতিহীন এই ঘূর্ণন। এতে কী লাভ? নদী যদি বুদ্ধিমান হত তো সে যেখানে আছে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকত চপলতা দেখিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেত না। সোলেমান যদি বুদ্ধিমান হতেন তো ছেলের ভোগের জন্য গাছ লাগিয়ে যেতেন না। বুদ্ধিমান লোকের কাছে সব ফাঁকি সব মায়া। এই ফাঁকির ফাঁদে ধরা দেয় কেবল বোকারাই। অতএব, নিজের বুদ্ধির শ্রেষ্ঠতা যদি প্রতিপন্ন করতে চাও তো ওপথ মাড়িও না। অবজ্ঞা করো, পৃথিবীকে অবজ্ঞা করো-ফিরেও তার দিকে তাকিও না।

    কিন্তু অন্যভাবে দেখতে গেলে পৃথিবী কত সুন্দর, কত বিচিত্র। কত নিত্যনতুন ব্যাপার ঘটছে এখানে। সূর্যের নিচে নতুন কিছু নেই, না? তাহলে এই-যে আকাশ ছোঁয়া ইমারত, উড়োজাহাজ, বেতারবার্তা–এসব কী? সোলেমান এসবের কী জানতেন? মনে করুন, শেবার রানী তার শাসনাধীন দেশসমূহ থেকে ফিরে এসে রেডিওর মারফত প্রজাদের কাছে বক্তৃতা দিচ্ছেন। সোলেমান তা শুনে কি খুশি হতেন না? না, তাও তার কাছে বৃক্ষ ও পুকুরের মতো একঘেয়ে মনে হত? তার কালে খবরের কাগজেরও চল ছিল না। কেউ যদি তাকে সংবাদপত্র থেকে তার হারেম ও ইমারতের প্রশংসা বাণী, অথবা তার সঙ্গে তর্কযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষিকুলের নাজেহাল হওয়ার কথা পড়ে শোনাতেন, তাহলে কি তিনি জীবনের নতুনতর স্বাদ পেতেন না? না, তাও তার কাছে জলো, অর্থবিহীন মনে হত? অবশ্য নৈরাশ্যবাদ দূর করবার জন্য এগুলিই যথেষ্ট নয়, এদের বর্তমানেও তা থেকে যেতে পারে। আর প্রকৃতপক্ষে হয়েছেও তাই। ইকলেজিয়েটস্ রচয়িতা মুখ কালো করেছিলেন নতুনত্বের অভাব দেখে, ক্রুচ করেছেন নতুনত্বের প্রাচুর্যের দরুন। দুই বিপরীত কারণ একই ব্যাপারের জন্ম দিতে পারে না। সুতরাং বুঝতে পারা যায়, কারণ হিসাবে তারা তেমন জোরালো নয়। নদী পড়ে গিয়ে সমুদ্রে, তথাপি সমুদ্র যেমনটি ছিল তেমনটিই থাকে, তার বৃদ্ধি হয় না; জলধারা যেখান থেকে আসে সেখানেই আবার ফিরে যায়। এটা যদি একটা দুঃখের কারণ হয় তো ভ্রমণে কেউ আনন্দ পেত না। লোকেরা গরমের দিনে হাওয়া বদলে যায় গরমের শেষে আবার ফিরে আসতেই। তাই বলে হাওয়া বদলটা দুঃখজনক, এমন কথা তো কেউ বলে না! বরং তা থেকে আনন্দই পাওয়া যায়। জলধারার যদি অনুভ-ক্ষমতা থাকত তো এই দৃর্ণনে সে শেলীর মেঘের মতো আনন্দই বোধ করত, দুঃখ নয়। জীবনের স্পন্দনই বড় কথা। বরাবরই একটি ব্যাপার ঘটলেও তা যদি জীবনের স্পন্দনে স্পন্দিত হয় তো তাকে আর বিরক্তিকর মনে হয় না। ভবিষ্যতের সুপরিণতির দিকে তাকিয়ে বর্তমানের বিচার করা ভুল। বর্তমানের নিজেরই একটা মূল্য আছে। অংশগুলির মূল্য না থাকলে সমগ্রেরও কোনো মূল্য থাকতে পারে না। জীবন আর যাই হোক, ‘মেলোড্রামা’ নয়। মেলোড্রামা হাজার দুঃখ-বিপদের মধ্য দিয়ে গিয়েও পরিণামে একটা সুপরিণতি তথা নায়ক-নায়িকার মিলন চোখে পড়ে। জীবনে তেমনটি হয় না। হলে তা একটা কৃত্রিম ব্যাপার হয়ে দাঁড়াত। জীবনে কেবল সুপরিণতিরই মূল্য নেই, প্রতিটি মুহূর্তেরও মূল্য রয়েছে। আমার কালটি আমি ভোগ করলুম, আমার ছেলে তার কালটি ভোগ করবে, তারপর তাকে অনুসরণ করবে তার ছেলে–এই তো জীবন, এ-কথা বলে উন্নাসিকতা প্রদর্শনের কী আছে? বরং চিরকাল বেঁচে থাকলেই তো জীবনের স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা কমে আসে। ফলে পরিণামে জীবন বোঝার মতো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

    জীবনের আঁচে তপ্ত করেছি দুহাত ভাই।
    আগুন নিভিছে, এবার আমিও বিদায় চাই।

    নৈরাশ্যব্যঞ্জক মনোবৃত্তির মতো এ মনোবৃত্তিও যুক্তিসঙ্গত বটে। তাহলে দেখতে পাওয়া যায়, যুক্তি কেবল নৈরাশ্যবাদের পক্ষেই নয়, আশাবাদের পক্ষেও রয়েছে।

    ইকলেজিয়েটসের দুঃখের কারণ দেখলুম। এবার কুচের দুঃখের কারণটা কী, ভেবে দেখবার চেষ্টা করছি। ক্রুচের দুঃখের গোড়ায় রয়েছে শাশ্বত আদর্শের অভাব। মধ্যযুগে, এমনকি আধুনিককালের শুরুতেও যে-সকল আদর্শের জন্ম হয়েছিল, তা আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না বলেই তিনি দুঃখিত। তার মতে, আধুনিককালের সংকট আর যৌবন-উন্মুক্ত অবস্থায় সংকট প্রায় এক পর্যায়ের। যৌবন-উমুখ অবস্থায় যেমন মানুষ ছেলেবেলাকার পৌরাণিক কাহিনীর সহায়তা ছাড়া কোনো ব্যাপারেই সুরাহা করতে পারে না, আধুনিককালের সঙ্গে পূর্ণ পরিচিতি ঘটেনি বলে একালের মানুষও তেমনি সেকালের ভাবাদর্শকে এড়িয়ে চলতে পারছে না। মৃত-কালের ভাবাদর্শ তাকে ভূতের মতো চেপে ধরেছে, তার হাত থেকে সে আর মুক্তি পাচ্ছে না। তাই অভ্যন্তর-দ্বন্দ্ব তার ললাটলিপি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুচের উক্তি উড়িয়ে দেবার মতো নয়। কেবলমাত্র সাহিত্য-পড়া চেঁআধুনিকদের বেলা তাঁর উক্তি বাস্তবিকই সত্য। ভাবাবেগের উপর নির্ভরশীল বলে তারা বিজ্ঞানে আস্থা স্থাপন করতে পারে না, উল্টো বিজ্ঞানের খুঁত ধরে বেড়ায়। তাই অন্যান্য সাহিত্যপ্রিয় লোকের মতো কুচও বিজ্ঞানের ওয়াদ-খেলাপের অভিযোগ আনেন কিন্তু বিজ্ঞানের ওয়াদাটা যে কী ছিল, সে সম্বন্ধে কিছুই বলেন না। শুধু এই বলে আফসোস করেন যে, ষাট বছর আগে ডারউইন ও হাক্সলি বিজ্ঞান থেকে যা আশা করেছিলেন, বিজ্ঞান তা দিতে পারেনি। কিন্তু এ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। ভাবমার্গী লেখক ও পুরোহিত শ্রেণীর লোকেরাই নিজেদের বুজরুগি রক্ষার জন্য এ ধরনের কথা বলে থাকেন। ক্রুচ সাহেবও তার দলে ভিড়েছেন।

    বর্তমানে জগতে যে বহু অশুভদর্শী মানুষ রয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহই নেই। তবে তার কারণ বিজ্ঞানের ব্যর্থতা নয়, অন্য কিছু। যুদ্ধের জন্য যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, তারই ফলে এই দুঃখবাদের জন্ম। দুঃখবাদ চিন্তার ব্যাপার নয়, ‘মুডের’ ব্যাপার। আর মুড সৃষ্টি করে বাস্তব ঘটনা, দর্শন বা জগৎ সম্বন্ধে ধারণা নয়। সুতরাং একালের দুঃখবাদী মনোভাবের জন্য একালের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে দায়ী না করে জগতের বাস্তব অবস্থাকে দায়ী করাই ভালো। ক্রুচ তো বলেছেন, কতকগুলি স্থির বিশ্বাস থেকে চ্যুত হয়েছে বলেই আধুনিককালে মানুষের এই দুরবস্থা। কিন্তু তার মতে সায় দেওয়া যায় না। ইতিহাস তার বিরুদ্ধে। ত্রয়োদশ শতকে তো স্থিরবিশ্বাসের কমতি ছিল না। অথচ সে যুগের মতো নৈরাশ্যব্যঞ্জক যুগ বিরল। রোজার বেকনের মতে, সে-যুগে কামুকতা ও লোভ কেবল সাধারণের মধ্যে আবদ্ধ ছিল না, যাজকশ্রেণীও এই পাপস্রোতে ভেসে চলেছিলেন। তিনি বলেন, সে-যুগের ধার্মিকদের তুলনায় প্যাগান-যুগের সাধু-পুরুষরা অনেক উন্নত চরিত্রের লোক ছিলেন। সংযম, সৌন্দর্য ও মহত্ত্ব তাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল। শুধু রোজার বেকন নন, তাঁর সমসাময়িক অপরাপর সাহিত্য-সেবকও তাদের কালকে ভালোবাসতে পারেননি বলে দুঃখ করে গেছেন। সুতরাং বেকন ত্রয়োদশ শতকের যে-ছবি এঁকেছেন, তাতে সহজেই আস্থা স্থাপন করা যায়।

    ক্রুচের গ্রন্থের একটি পরিচ্ছেদে রয়েছে প্রেমের আলোচনা। তাতে প্রেমের অভাবের জন্য করুণ সুরে হায়-আফসোস করা হয়েছে। কুচের মতে ভিক্টোরীয় যুগে প্রেমের যে মূল্য ছিল, এযুগে তা নেই। এ যুগ প্রেমহীনতার যুগ। ভিক্টোরীয় যুগে স্কেপটিকগণ বা সন্দেহবাদীরা প্রেমকে আল্লাহর স্থানে বসিয়ে পূজা করত। একালে তেমনটি আর হচ্ছে না। মানুষের মনে পূজার ভাব রয়েছে! তার প্রকাশ না হলে অনাবিল আনন্দ পাওয়া যায় না। যারে বলে ভালোবাসা, তারে বলে পূজা। সেকালের লোকেরা প্রেমের মারফতে পূজার ক্ষুধা মেটাত। প্রেমের সম্পর্কে এসে কঠিন হৃদয় লোকও মরমীভাবাপন্ন হয়েছে, এমন দৃষ্টান্তেরও অভাব নেই। পরমাত্মা যেমন ত্যাগের প্রেরণা দেন, প্রেম থেকেও তেমনি ত্যাগের প্রেরণা পাওয়া যেত। প্রেমের জন্য সব খোয়াতে তারা প্রস্তুত ছিল।

    আশ্চর্যের ব্যাপার, আমাদের যুগে তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে ভিক্টোরীয় যুগ যেরূপ প্রেমময় হয়ে দেখা দিয়েছে, সেকালের লোকদের কাছে সেরূপ প্রেমময় হয়ে দেখা দেয়নি। যুগের বিভিন্ন ভাবের প্রতিনিধি হিসাবে দাঁড়াতে পারেন, এমন দুটি বৃদ্ধমহিলাকে আমি জানতুম। তাদের একজন ছিলেন পিউরিটান আরেকজন ভটেরিয়ান। তাদের কথাবার্তার মারফতে আমি সেযুগটিকে ফুটিয়ে তুলবার চেষ্টা করব। প্রথম মহিলা বললেন : প্রেমের মতো এমন বাজে জিনিস নিয়ে এত কাব্য লেখা হবে কেন, আমি বুঝতে পারিনে। দ্বিতীয় মহিলাটি উত্তর দিলেন : আমি তো বাইবেলের সপ্তম আদেশ ভাঙায় তেমন কিছু পাপ দেখতে পাইনে। অন্তত ষষ্ঠ আদেশ ভাঙার চেয়ে তাযে কম অন্যায় তাতো একরকম নিঃসন্দেহেই বলা যায়। সপ্তম আদেশ ভাঙার বেলা প্রতিপক্ষের অনুমতির যে প্রয়োজন হয় তাতেই অপরাধটি হাল্কা হয়ে পড়ে। মহিলা দুটির কথার সুরেই বুঝতে পারা যায়, প্রেমের প্রতি তারা কেউই শ্রদ্ধাসম্পন্ন নন। একজনের কাছে প্রেম ঘৃণার ব্যাপার, আরেকজনের কাছে হালকা ফুর্তির। তবে ক্রুচ সাহেব ভিক্টোরীয় যুগের প্রেম সম্বন্ধে এমন উঁচু ধারণায় উপনীত হলেন কী করে? তার ধারণার ভিত্তি কী? খুব সম্ভব, যুগের সঙ্গে মিল নেই এমন কোনো লেখকের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ রবার্ট ব্রাউনিঙের নাম করা যেতে পারে। তার প্রেমদর্শন হচ্ছে :

    God be thanked, the meanest of His creatures
    Boasts two soul-sides, one to face the world with,
    One to show a woman when he loves her.

    এর থেকেই বুঝতে পারা যায়, ব্রাউনিঙের মতে জগতের প্রতি একমাত্র যুক্তিসঙ্গত মনোবৃত্তি হচ্ছে দ্বন্দ্বপরায়ণতার। যে মন নিয়ে প্রিয়ার সঙ্গে মেশা যায়, সে মন নিয়ে সাধারণের সঙ্গে মিশতে গেলে ভুল করা হবে।

    সাধারণের সঙ্গে সম্বন্ধ দ্বন্দ্বের, মিলনের নয়। এর কারণ কী? ব্রাউনি বলবেন : জগৎ নিষ্ঠুর বলে। আমরা বলব না, জগৎ আপনাকে আপনার নির্ধারিত মূল্যে গ্রহণ করতে চায় না বলে। আপনি চান আপনার অবিমিশ্র প্রশংসা। জগৎ তা দিতে নারাজ। সে আপনাকে বাজিয়ে নিতে চায়। তাই আপনি এমন একটি সঙ্গিনী বেছে নিতে চান যিনি কেবল আপনার প্রশংসাই করবেন, আপনার ত্রুটির দিকে তাকাবেন না। এই সমালোচনাহীন প্রেম কিন্তু খুব প্রশংসনীয় ব্যাপার নয়। অপক্ষপাত সমালোচনার শীতল বাতাস সইতে পারা স্বাস্থ্যের লক্ষণ। যার সে। ক্ষমতা নেই সে দুর্বল, রুগণ। তার কাছ থেকে জগৎ তেমন কিছু আশা করতে পারে না।

    আমি নিজে প্রেমে বিশ্বাসী। অবশ্য আমার প্রেম ভিক্টোরীয় যুগের প্রেমের মতো অন্ধ নয়, মুক্তদৃষ্টি। এ কেবল সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ভালোর দিকেই তাকায় না, মন্দ দিকেও তাকায়। ভিক্টোরীয় যুগের লোকের মতো আমি প্রেমকে পূত পবিত্র মনে করে আকাশে তুলে রাখতে চাইনে। এই অতিরিক্ত শ্রদ্ধার মূলে রয়েছে ‘সেক্স-টেবু’ বা যৌন-নিষেধ। যৌন ব্যাপারকে খারাপ ভাবা হত বলেই সেকালের লোকেরা তাদের সমর্ধিত যৌন সম্বন্ধকে পূত পবিত্র প্রভৃতি বিশ্লেষণে বিশেষিত করে উচ্চাসন দিতে চাইত। নইলে সেকালে যৌনক্ষুধা যে একালের চেয়ে কম ছিল তা নয়। অধুনা মানুষ নূতন আদর্শ ভালোরূপে গ্রহণ করতে পারেনি বলে পুরোনো আদর্শের প্রভাব থেকে পুরাপুরি মুক্তি পাচ্ছে না। তাই মনোজগতে একটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে নৈরাশ্য ও হতাশার জন্ম। আমার মনে হয়, এধরনের লোকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু সংখ্যায় কম হলেও গলাবাজিতে তারাই বড়। তাদের প্রচারের ফলে এ-যুগের কালো দিকটাই লোকের কাছে বড় হয়ে উঠেছে, আলোর দিকটা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তারা যত মন্দ বলে প্রচার করতে চায়, আসলে কিন্তু যুগটা তত মন্দ নয়। এই যুগের সঙ্গতিসম্পন্ন তরুণরা যে প্রেমের ব্যাপারে অধিকতর সুখী, এ-কথা একরকম জোর দিয়েই বলা যায়। প্রাচীন আদর্শের অত্যাচার এবং যুক্তিধর্মী নীতির অভাবের দরুনই লোকেরা নৈরাশ্যব্যঞ্জক মনোবৃত্তির পরিচয় দিয়ে থাকে। অতীতের মোহ ভুলে গিয়ে হালের আদর্শকে পুরোপুরি গ্রহণ না করলে এই নৈরাশ্যের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।

    কেন যে প্রেমের মূল্য দেওয়া হয়, তা বলা সহজ নয়। তথাপি একবার চেষ্টা করে দেখছি। প্রথমত দেখতে পাওয়া যায়, প্রেম নিজেই একটা সুখের উৎস। সুখের তাগিদেই লোকেরা প্রেমের হাতে ধরা দেয়। এটাকে প্রেমের শ্রেষ্ঠ দিক হিসাবে ধরা না গেলেও প্রাথমিক ও অনিবার্য দিকরূপে সহজেই ধরে নেওয়া যায়। এটির অভাবে অপরাপর দিকগুলিরও ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা।

    তোমার চেয়ে মিষ্টি কিছুই নেই।
    এই ভুবনের মাঝে,
    ওগো ও প্রেম, তাইতো তোমায় চাই
    নিত্য সকাল সাঁঝে।
    নিন্দা তোমার রটায় যারা, জানি,
    পায়নি তোমার মধুর পরশখানি,
    অন্ধকারে কাটায় তারা বেলা
    হিংসা-দ্বেষের কাজে।
    তোমার পরশ অন্তরেতে মোর
    রাতের শেষে আনে সোনার ভোর
    দিকে দিকে তাই যে কেবল শুনি
    আনন্দ-গান বাজে।

    কবি যখন এই পঙক্তিগুলি লেখেন তখন তিনি আল্লাহর জায়গায় প্রেমকে বসিয়ে নাস্তিক্যের সমাধান করতে চাননি, কিংবা বিষরহস্য উদ্ঘাটন করাও তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন নিজেকে খুশি করতে, নিজেকে উপভোগ করতে, এইমাত্র। প্রেমের উপস্থিতি যেমন সুখের, অনুপস্থিতিও তেমনি দুঃখের। তাই প্রেমের জন্যে মানুষ এত উতলা হয়ে ওঠে। প্রেমের দ্বিতীয় গুণ হচ্ছে, তা জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখগুলির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। সঙ্গীত, পর্বতের ওপরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, পূর্ণিমা রাত্রে জোছনা-প্লাবিত সমুদ্র বক্ষ–প্রেমের সংস্পর্শ না হলে এসবের পুরো স্বাদ পাওয়া যায় না। প্রেয়সী নারীর সঙ্গ উপভোগ না করলে এসবের ইন্দ্রজাল অর্ধেকটাই অনুদঘাটিত থেকে যায়। তৃতীয়ত, ‘আমি’র চেয়ে ‘তুমিকে বড় করে তুলে’ প্রেম অহমিকার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথটি বাৎলে দেয়। একাকিত্বপ্রিয় দার্শনিক-যে সংসারে নেই, তা নয়। যথেষ্টই আছে। সৃটোইক ও প্রাথমিক যুগের খ্রিস্টানরা তো মনে করতেন জীবনের কল্যাণসাধনের জন্য দরকার কেবল ইচ্ছাশক্তির–সেজন্যে অপরের সহায়তার কোনো দরকার হয় না। সকলের লক্ষ্যই যে কল্যাণ তা নয়। কেউ কেউ চায় শক্তিকে, কারো লক্ষ্য বা ব্যক্তিগত সুখ। কিন্তু সকলের মধ্যেই একটা সাধ দেখতে পাওয়া যায়, আর তা হচ্ছে, অপরের সাহায্য ছাড়া নিজের ইচ্ছাশক্তির দ্বারাই কাজ ফতে করা যায়, এই বিশ্বাস। এই একাকিত্বপ্রিয় দর্শন-যে কেবল নীতির দিক দিয়ে মন্দ, তা নয়; জীবনের সহজ ও সার্থক বিকাশের পক্ষেও তা অন্তরায়। মানুষের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজনীয়। জোর করে একা থাকতে হলে স্বভাবের বিরুদ্ধে যেতে হয়। মানুষের প্রকৃতিতে যে অসম্পূর্ণতা রয়েছে, তা-ই তাকে বন্ধু ও সহযোগী খুঁজতে বাধ্য করে। প্রেমের স্বাদ যে পেয়েছে সে কখনও একাকিত্ব-দর্শনের সমর্থক হতে পারে না। সন্তান বাৎসল্যের মতো এমন জোরালো অনুভূতি আর কি আছে? এরও গোড়ায় রয়েছে কিন্তু জনক-জননীর পরস্পরের প্রতি প্রেম। প্রেম একটা সাধারণ ব্যাপার-যত্রতত্রই তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়, এমন কথা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু এই বলতে চাই যে, প্রেমের স্বাদ যে পায়নি, জীবন তার কাছে তার শ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্য উদঘাটিত করেনি। সে হতভাগা জীবনকে পেয়েও জীবন থেকে বঞ্চিত। প্রেম এমন একটা ব্যাপার, সন্দেহবাদের স্পর্শে যা মলিন হয়ে যায় না। তা চিরসুন্দর চিরপ্রাণপ্রদায়ী।

    প্রেম সে তো আগুনের শিখা, অন্তরেতে চির অনির্বাণ,
    অবসন্ন নয় কভু তাহা, নহে কভু রুগণ, পরিম্লান।

    এখন ক্রুচ সাহেব ট্র্যাজেডি সম্বন্ধে যা বলেছেন, তার আলোচনা করছি। তার মতে ইবসেনের ‘গোসূটের চেয়ে শেক্সপিয়ারের ‘কিং লিয়র অনেক বড়। আমার মতও তাই। কিন্তু তাই বলে সেকালের মানুষের তুলনায় একালের মানুষকে হীন বলা যায় না। এ-যুগে যে কিং লিয়রের মতো বই লেখা যায় না তার কারণ এযুগের মানুষের অবনতি নয়, উন্নতি। গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই মানুষ ব্যক্তি বিশেষের রাজসিক বিষাদের গুণকীর্তন করতে অনিচ্ছুক। সেকালে অনেকগুলি মানুষ বাঁচত একটি মানুষের বিকাশের দিকে লক্ষ্য রেখে। একালে তা আর হচ্ছে না। কিং লিয়র যে-মনোভঙ্গির সৃষ্টি, হালে সে মনোভঙ্গির কোনো মর্যাদা নেই বলেই ব্যক্তিতান্ত্রিক ট্র্যাজেডি সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ। শেক্সপিয়ার বলেছেন :

    রাজা যখন মরে আকাশেতে ধূমকেতু ভায়,
    ভিখারি যখন মরে কভু কিছু ঘটে না তথায়।

    একটি চাল টিপলে যেমন সমস্ত ভাতের অবস্থা জানতে পারা যায়, তেমনি এই একটি উক্তির দ্বারাই সেকালের সমগ্র দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় মেলে। শেক্সপিয়ার যুগের ধারণার বশবর্তী না হয়ে পারেননি। তাই দেখতে পাওয়া যায় কবি ‘সিনা’র মৃত্যু কমিক হাস্যকর, আর ‘সিজার’ ‘ব্রুটাস’-এর মৃত্যু ট্র্যাজিক বিষাদাস্ত। যুগের ভাবনার সঙ্গে পুরোপুরি বুক মেলাতে পেরেছিলেন বলেও শেক্সপিয়ার কিং লিয়রের মতো অনবদ্য নাটক রচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। একালের নাট্যকার যদি তাদের যুগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে যেতে পারেন তো তারাও অনুরূপ সার্থক গ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম হবেন। একালে বড় হয়ে উঠেছে সমাজ, ব্যক্তি নয়। তাই এ-যুগে ট্র্যাজেডি লিখতে হবে সমাজকে নিয়ে ব্যক্তিকে নিয়ে লিখলে তেমন সার্থকতা পাওয়া যাবে না। তেমনি একটি গ্রন্থ হচ্ছে আরনেস্ট টলারের Massemensch (Massess & Man)। গ্রন্থটির মর্যাদা যে অতীতের শ্রেষ্ঠ নাটকসমূহের সমান, এ কথা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু এই বলতে চাই যে, গাম্ভীর্য, মহত্ত্ব ও বীর্যে ওদের সঙ্গে এটির সাদৃশ্য রয়েছে। এরিস্টাটল-কথিত ‘দুঃখ ও ভীতির তাড়নায় মানবঅন্তরের নির্মলতা সাধনের ক্ষমতা এর আছে। এই ধরনের ট্র্যাজেডি খুব বিরল–’লাখে মিলে না এক। ট্রাজেডি লিখতে হলে ট্র্যাজেডি অনুভব করতে হবে। আর ট্রাজেডি অনুভব করতে হলে যুগের মর্মে প্রবেশ করা দরকার। শুধু বুদ্ধি দিয়ে নয়; রক্ত দিয়ে, শিরা-উপশিরা দিয়ে, স্নায়ু দিয়ে যুগকে জানতে হবে।

    ক্রুচ সাহেব যেরূপ সাহসের সঙ্গে নিরানন্দ জগৎকে স্বীকার করে নেন তাতে পাঠকরা তার প্রতি শ্রদ্ধাসম্পন্ন না হয়ে পারেন না। বীরের মতনই তিনি সমস্ত দুঃখের বোঝা মাথায় তুলে নিতে চান। কিন্তু জগৎকে নিরানন্দ মনে করার সত্যকার কোনো কারণ আছে কি? নতুন অবস্থার সংস্পর্শে এসে পুরাতন মূল্যবান আবেগগুলির জন্ম দিতে পারছেন না বলেই ক্রুচ ও জুচের মতো অতীত প্রেমিক লেখকদের কাছে জগৎ নিরানন্দ। বর্তমানের সঙ্গে বুক মেলালে তারাও বুঝতে পারতেন শেক্সপিয়ার যে মহৎ আবেগের অধিকারী তারাও তা থেকে বঞ্চিত নন। শেক্সপিয়ারের পথটি অনুসরণ করছেন না বলেই তাদের এই দুর্দশা। ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ যুগের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। মহৎ আবেগের উপাদান বর্তমানেও আছে। কিন্তু সমাজবোধ বর্জিত বলে সাহিত্যিকগোষ্ঠী তার স্বাদ থেকে বঞ্চিত। নইলে এ-যুগে বাঁচবার মতো কিছু নেই, এমন কথা তাঁরা বলতে পারতেন না। তাদের দুর্ভাগ্যের কারণ তারা নিজেরাই। যৌবনের অতিভোগ ও বাস্তববর্জিত অত্যধিক মননের ফলেই এই দুঃখবাদ। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন। আর বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উপায় হচ্ছে কাজে নামা। কাজই আমাদের সুস্থ মানসিকতা দিতে পারে; আর কেউ না, আর কিছু না। যারা কাজ করে, তারাই আনন্দ পায়। জগতের স্বাদ-গন্ধ তাদের জন্য।

    তাই, যাঁরা আর আনন্দ পাচ্ছেন না, জগতে বাচবার মতো কিছুই দেখছেন না, তাদের কাছে আমার অনুরোধ : লেখা ছেড়ে দিন, যদি সহজে ছাড়তে না পারেন তো জোর করে ছাড়ার চেষ্টা করুন। চিন্তার খোলস ত্যাগ করে জগতের পথে বেরিয়ে আসুন। নিজেকে এমন একটি অবস্থায় দাঁড় করান যেখানে প্রাথমিক শারীরিক প্রয়োজনগুলির দাবি মেটানোই হবে প্রথম ও প্রধান কাজ। তাহলেই দেখতে পাবেন আপনি পুনরায় জীবনে ফিরে এসেছেন, আর জীবনে ফিরে এসেছেন বলে সুখ পাচ্ছেন। মন নিয়ে অধিক নাড়াচাড়া করতে করতে আপনি মনকে বিগড়ে দিয়েছেন। এবার মনোবিহীন হয়ে বাস্তবের সুস্থ স্পর্শে আপনার সহজ ভোগ কামনাকে জাগিয়ে তুলুন।

    লেখার সত্যকার আকুতি আপনার ভেতর থাকলে আপনি অবশ্যই আবার লেখায় ফিরে আসবেন। আর এবার লেখা আপনার কাছে বাজে মনে হবে না বলে আপনি লিখে প্রচুর আনন্দও পাবেন।* [* কোনো ইংরেজ লেখকের অনুসরণে। লেখক]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলা নুই বেঙ্গলী – মির্চা এলিয়াদ
    Next Article টারজান রচনা সমগ্র – এডগার রাইস বারুজ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }