Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মোহানা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প440 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ধোঁয়া

    এজলাসে বসেছিল বিপ্লব। পুরো জজসাহেবের ধড়াচুড়োয়। সওয়াল জবাব চলছে। হঠাৎ যেন মনে হল রামগতিবাবু ঢুকলেন। বৃদ্ধ, বিশীর্ণ, হাতে ছাতাখানা লাঠির মতো করে ধরা রামগতিবাবুও ঢুকলেন—পুলিশ শশব্যস্তে তাঁকে প্রায় আলিঙ্গন করে বাইরে নিয়ে গেল। দায়ভাগ আর মিতাক্ষরার ধানাই-পানাই শুনতে শুনতে হুট করে অন্যমনস্ক হয়ে গেল বিপ্লব। রামগতিবাবুই ত! নাকি রামগতিবাবুর মত কেউ। রামগতিবাবুকে শেষ যা দেখেছে তার সঙ্গে এই বৃদ্ধের অল্পই মিল। তবু এঁকে রামগতিবাবু বলেই তার একদা-ব্যারিস্টারি অধুনা-জজসাহেবি চোখ শনাক্ত করেছে যখন, তখন ব্যাপারটা দেখতেই হয়। তবে পরিস্থিতিটা নিশ্চিতভাবে কৌতুকজনক। বিপ্লব ঘোষ উচ্চাসনে এবং রামগতি স্যার জবুথবু হয়ে ঘরে ঢুকছেন। চৌত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগেকার নাটক বুঝি উল্টো-পাল্টা হয়ে আবার এক রজনী অভিনয় হয়ে গেল! বারে মজা! বারে জীবন! ব্যাপারটা দেখতে হচ্ছে তো!

    লাঞ্চ আওয়ার! শুনানি মুলতুবি। একদিকে বাঙালি হয়ে যাওয়া মারোয়াড়ি পরিবার, আর একদিকে দায়ভাগ আর মিতাক্ষরা। দু’ পক্ষের উকিল এখন মনে মনে তর্কাতর্কি করুক। বিপ্লবের মাথায় খালি একটাই চিন্তা—রামগতিবাবুই তো! জগৎপতি ইন্সটিট্যুশনের ডাকসাইটে অঙ্কর মাস্টারমশাই রামগতি চাটুজ্যে—যাকে ছেলেরা নিজেদের মধ্যে ডাকত যমগতি বলে! ওরে বাপস্‌ রে, কী মার! কী মার! কুড়িটা অঙ্ক টাস্ক ছিল পনেরটা করেছিস? মার। এক্সট্রা পারিসনি? মার। আঁক কষতে কষতে জানলার দিকে তাকিয়েছিস? মার! ডাস্টারের বাড়ি, আঙুলের গাঁটের বাড়ি, দু আঙুলের মাঝে পেন্সিল, বিশাল বিশাল মুগুর ভাঁজা শক্ত হাতে চটাস, খটাস, দুমদাম। ওরে ব্বাপ রে! পড়াতেন দুর্দান্ত, বোঝাতেন নির্ভুল, কিন্তু ভয়ে ছেলেরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেত। অভিভাবক যতই রামগতিবাবুকে টিউটর ঠিক করতে চান না কেন, ছাত্ররা নাম শুনলেই ‘ওরে বাবারে পিসিমারে’ বলে ডাক ছাড়ত। সেসব দিনে মাস্টারমশাইদের নামে কমপ্লেন চলত না। আর কার নামেই বা কমপ্লেন করবে? ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়। একেকটি মাস্টারমশাই একেক রকমের ঠেঙাড়ে। কেউ ডাস্টার স্পেশালিস্ট, কেউ থাপ্পড় স্পেশালিস্ট, কেউ বেত স্পেশালিস্ট। একজন তো ছাতার বাঁটের বাঁকানো দিকটাও অদ্ভুতভাবে ব্যবহার করে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। বাঁকানো জায়গাটা দিয়ে গলা ধরে শিকারকে টেনে আনতেন, তলার দিকে চেপে বসিয়ে দিতেন। আবার ওপর দিকে চাপ দিয়ে ওঠাতেন। একবার ডাইনে একবার বাঁয়ে, একবার ওপরে একবার নিচে। সে যেন চরকিনাচন। যাই হোক এইসব ঠেঙাড়ের মধ্যেও রামগতিবাবু ছিলেন বিশিষ্ট ঠেঙাড়ে। অত জোর আর কারো চড়ে ছিল না। অত শব্দও কারো গাঁট্টায় হত না, অত লঘু পাপে অত গুরুদণ্ডও কেউ দিতেন না। রামগতিবাবু যেন ক্লাসে ঢুকেই ক্ষেপে যেতেন। কিংবা ক্ষেপেই ক্লাসে ঢুকতেন। ডিম আগে, না মুরগি আগের মতোই রামগতিবাবুর ক্ষেপা এবং ক্লাসে ঢোকার পারম্পর্যে অগ্রাধিকারটি কার এ কথা চিরকালই রহস্যের অন্তরালে থেকে যাবে।

     

     

    কোনও ছেলেই রামগতিবাবুর শাসন থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিল না। কিন্তু বিপ্লবের ভাগে শাসনটা যেন ষোল আনার জায়গায় আঠার আনা ঘটে যেত। স্কুলে এক দফা, বাড়িতে এক দফা। বাড়িতে কখনও কখনও মোক্ষম সময়ে অকুস্থলে মা এসে হাজির হতেন। হাতে চিঁড়ে ভাজা আর চা। তখন মাস্টারমশাইয়ের হাত কান থেকে নামত। বাবা ছিলেন—পিঠে বেঁধেছি কুলো, আর কানে গুঁজেছি তুলো। ধারণা—মার না খেলে ছেলে মানুষ হবে না। কিন্তু স্কুলে? সেখানে মা-ও নেই, চিঁড়ে ভাজাও নেই। বরং আছে রামবিচ্ছু একদল নিষ্ঠুর—‘ঘুঁটে হাসে গোবর পোড়ে’র প্রবচনের ঘুঁটে-স্বভাব বালখিল্যদল। এরা কখনও অন্যের সঙ্গে একাত্ম হতে পারত না। অন্যে মার খেলে বরাবর এদের স্বর্গীয় আনন্দ হ’ত। তাদের সমক্ষে তুলো ধোনা হতে হত বিপ্লবকে। কখনও বিপ্লব বলতেন না মাস্টারমশাই। সব সময়ে বিপুল। বিপুলচরণ, বিপুলচন্দ্র, বিপুলগতি, এমনকি বিপুলবন্ধু, কিন্তু কদাপি বিপ্লব নয়। নামের বাচ্যার্থ বোধহয় পছন্দ ছিল না ভদ্রলোকের। অধিকন্তু নাম বিকৃত করার মধ্যেও একটা বেশ স্থূল রকমের অপমান আছে।

    ‘কি হে বিপুলচন্দর, কালকেই যে এই ষোল নম্বর উপপাদ্যের এক্সট্রা কখানা করিয়ে এলুম। বারো ঘণ্টার ব্যবধানেই ভুলে মেরে দিয়েছো? বেশ করেছো। কালকে আসলে মুখস্থ করেছিলে, আজকে এ বি সি ডি-র জায়গায় এক্স, ওয়াই, জেড—দিয়েছি, সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে গেছো। এটা কোনমতেই আমার প্রত্যাশার বাইরে নয়। এমনটাই আমি প্রত্যাশা করেছিলুম। এসো, আমার প্রত্যাশা পূরণের পুরস্কারটা নিয়ে যাও। এই নাও, এই নাও, এই নাও।’

     

     

    মাথার তিনটি মোক্ষম জায়গায় গুণে গুণে টোকা মারলেন রামগতিবাবু, সঙ্গে সঙ্গে তিনটি টেপারি বেরিয়ে গেল জায়গাগুলোয়।

    —‘ওরে তোরা উলু দে।’ অমনি ক্লাসশুদ্ধু ছেলে হো-হো করে হেসে উঠল, পরক্ষণেই অবশ্য সবচেয়ে জোরালো হাসির মালিকের ডাক পড়বে,—‘কি ব্যাপার সমরেশ রাম, তোমার খাতায় অত কালির দাগ কেন? জোমেট্রির খাতায় কালির দাগ?’

    জোমেট্রির জি ও যে শেখোনি সে তো এই কালিঝুলি দেখলেই টের পাওয়া যায়! আবার হাসি! হাসি! অ্যাঁ? হাসি!’

    এক-একটা কথার পুনরাবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে রামগতিবাবুর হাত উঠছে, নামছে।

    সুইংডোর ঠেলে বেয়ারা ঢুকল। একটা স্লিপ দিচ্ছে। ‘রামগতি চ্যাটার্জি রিটায়ার্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মাস্টার, জগৎপতি হাইস্কুল, বি এস-সি বি টি।’ অঙ্কের মাস্টারমশাই হাইস্কুলকেই বি এসসি বি টি বানিয়ে দিয়েছেন। ট্রান্সফার্ড এপিথেট।

     

     

    ‘আসুন মাস্টারমশাই—আসুন—’ উঠে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা করল বিপ্লব। রামগতিবাবুই। উনিই ধোঁয়াটে চশমার ভেতর থেকে অবাক হয়ে বিপ্লবের দিকে তাকিয়ে রইলেন। ঠোঁট থরথর করে কাঁপছে,—‘ত্‌ তুমি আমাকে চিনতে পেরেছ?’ রামগতিবাবুর চোখ দিয়ে ধারা নামছে। বরাবরই আবেগপ্রধান ধাতের মানুষ। যৌবনে তার প্রকাশ ছিল রাগ, বার্ধক্যে কান্না।

    বিপ্লব বলল—‘আরে আমি তো আপনাকে চিনতে পারবোই। সে আর বেশি কথা কি? আপনিই বরং আমাকে চিনলেনই কি করে আর এতদূর আমার কাছে এলেনই বা কি করে সেটাই আশ্চর্যের বিষয়।’

    রামগতিবাবু—চোখ থেকে চশমা নামিয়ে চশমা, চোখ সব ভালো করে মুছলেন। তার পরে বললেন—‘হেড ক্লার্ক সরসীকে মনে আছে কি তোমার? সেই সরসীই বলল, আপনার বিপুল যে এখন জজ হয়েছে। তার কাছেই যান না, ব্যবস্থা হয়ে যাবে।… তা…তুমি আমাকে চিনতে পারবেই একথা বললে কেন বাবা?’

    বিপ্লবের চোখে হাসি চিক চিক করছে, বলল—‘বাঃ, আপনি আমার প্রাইভেট টিউটর ছিলেন, স্কুল ফাইনালটা আপনার হাত ধরেই পার হলুম, আর আপনাকে চিনবো না?’

     

     

    —‘সত্যি? তুমি তাই মনে করো? স্কুল ফাইনালে অঙ্কের লেটারটা…’

    —‘নিশ্চয়ই মাস্টারমশাই, ও লেটার আমার নয়, ও আপনার লেটার।’

    —‘কি জানি’, কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন রামগতিবাবু তারপর একটু ক্ষুন্ন স্বরে বললেন, ‘সত্যি কথাটা কিন্তু আমার কাছে গোপন করে গেলে যেন!’

    —‘কি সত্যি কথা! কি গোপন কথা!’

    ‘আমাকে মনে রাখবার আসল কারণ…’

    বিপ্লব বলল—‘কি আশ্চর্য, মিথ্যা বলার কি আছে? টানা সাত বছর স্কুলে পড়েছি আপনার কাছে, তিন বছর না চার বছর বাড়িতে, আমার অঙ্কে মেধা কম হলেও, এমনি স্মৃতিশক্তি খুব খারাপ নয় মাস্টারমশাই।’ বলল, কিন্তু তার চোখের হাসি গাঢ়তর হল।

     

     

    রামগতিবাবু বললেন—‘যাক, একটা অসুবিধেয় পড়ে তোমার কাছে আসা, দ্যাখো বাবা যদি কিছু করতে পারো। তোমার তো অনেক জানাশুনো!’

    বিপ্লব বলল—‘হ্যাঁ। আসল কথাটা বলুন! কি অসুবিধেয় পড়েছেন!’

    ‘জনগণের অসুবিধে দূর করার একটা মেশিনারিই তো আমরা! এত লোকের করছি আর আপনারটা করব না? আপনার তো অগ্রাধিকার।’

    কাঁধের ঝোলা থেকে কাগজপত্র বার করলেন রামগতিবাবু। রিটায়ার করে গেছেন, ছ-সাত মাস হয়ে গেল, অথচ দশ-এগার বছরের একটা বাড়তি ইনক্রিমেন্টের টাকা আজও পাননি। এখন সেসব ফাইল বহু কাগজপত্রের তলায় চলে গেছে, স্কুল, সরকার কেউ আর গা করছে না।

    —‘অনেকগুলো টাকা বাবা, জমা রাখতে পারলে সুদে-আসলে কত হয়ে যেত বলো তো।’

     

     

    বিপ্লব ওর বন্ধু এক এডভোকেটকে ডাকল। বলল—‘এই বিশ্বাসসাহেবই আপনাকে সব বুঝিয়ে দেবেন কি করবেন। সেরকম বুঝলে আপনি গভর্মেন্টের বিরুদ্ধে কেস করবেন, প্রাপ্য টাকা খেসারত সমেত আদায় করে দেবো। আপনার এক পয়সাও লাগবে না।’

    বিশ্বাসের সঙ্গে চলে গেলেন রামগতিবাবু। মিনিট পঁয়তাল্লিশ পরে, বিপ্লব আবার এজলাসে যাবার জন্য উঠছে উনি বিদায় নিয়ে গেলেন।

    —‘করে দিতে পারো যদি চিরকাল মনে রাখবো বাবা।’

    বিপ্লব হাসল—‘বাঃ, আপনার ঋণ শোধ করতে হবে না?’

    হঠাৎ ফিরে দাঁড়ালেন রামগতিবাবু—‘আমার মারের কথা আজও ভুলতে পারোনি, বিপুল, না?’

    বিপ্লব হাসিমুখে বলল—‘সে কি ভোলা যায়, মাস্টারমশাই? তা সে যাই হোক তার জন্য অনুশোচনা করবেন না। আমাদের ভালোর জন্যেই তো মারতেন? তখন খুব কষ্ট হলেও সে কথা বুঝতুম। এখন তো বুঝিই!’

     

     

    —‘কী বোঝ? তোমাদের ভালোর জন্য মারতুম?’ রামগতিবাবু কি রকম একরকম করে বললেন।

    বিপ্লব বলল—‘কতদিনকার কথা সব মাস্টারমশাই। ছাড়ুন ওসব।’

    রামগতিবাবু মাথা নাড়তে নাড়তে বললেন—‘না বিপুল, তোমাদের ভালোর জন্য মারতুম না। কেন মারতুম এই কথাটা তোমরা এখন দশের এক হয়েছ তোমাদের জানা দরকার। আমার বাড়ি একদিন সময় করে আসবে? আমি বুঝিয়ে বলব!’

    বিপ্লব ভাবল, মাস্টারমশায়ের মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে। বলল—‘একদিন যাবো, নিশ্চয় যাবো। আপনার কৈফিয়ৎ শোনবার জন্য নয়। এমনিই যাবো।’

    যাক, টাকাটা ভালোভাবেই আদায় হয়ে গেছে। রামগতিবাবু নিজে কোর্টে এসে বিপ্লবকে কৃতজ্ঞতা জানালেন। বললেন—‘আমি বসছি বিপুল, আজ তোমাকে আমার বাড়ি নিয়ে যাবো। তোমার যা কাজ আছে সেরে এসো।’

     

     

    —‘আরেকদিন হবে মাস্টারমশাই। আজ থাক।’ বিপ্লব বলল।

    —‘তবে আর তুমি গিয়েছো! তোমাদের ওই আরেকদিন আরেকদিনই থেকে যাবে বাবা।’ হতাশ গলায় রামগতিবাবু বললেন।

    —‘আচ্ছা, আচ্ছা চলুন’—বিপ্লব তাড়াতাড়ি বলল। মাস্টারমশাইয়ের মনে সে দুঃখ দিতে চায় না। এই মাস্টারমশাই তাকে তিনটে লেটার পাইয়ে নামকরা কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাবার দরকার হয়নি। নিজের ছেলের জন্যও এতটা করতে পারেননি মাস্টারমশাই।

    —‘তুমি নিজে ড্রাইভ করতে পারবে না?’ হঠাৎ রামগতিবাবু বললেন।

    অনেকটা রাস্তা, ট্রাফিকের অবস্থা কি তা জানা নেই, ড্রাইভার থাকলে ভালো হত কিন্তু আজ মাস্টারমশাই যা বলেন তাই হবে। ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়ে বিপ্লব নিজে স্টিয়ারিং-এ বসল। পাশে রামগতিবাবু। এককালের দশাসই মানুষটি এখন খুবই শীর্ণ। সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন, মাথার চুলগুলি কাঁচা-পাকা, একটু বড় হয়ে গেছে। দাড়ি রেখেছেন। গলা ঢেকে আর সামান্য নিচে নেমেছে দাড়ি। গেরুয়া রঙের খাদির পাঞ্জাবি। বেশি নীল দেওয়া মিলের ধুতি।

     

     

    এসপ্ল্যানেডের জ্যাম এড়িয়ে স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজে উঠল বিপ্লব। কি ভাগ্য আজ ব্রিজ ফাঁকা। বাকল্যান্ড ব্রিজে উঠতে উঠতে বলল—‘মাস্টারমশাই আপনি এক সময়ে বক্সিং করতেন না?’

    —‘বক্সিং নয়, কুস্তি, ফ্রিস্টাইল, গোবরবাবুর কাছে শিক্ষা।’

    —‘আমাদের যখন পড়াতেন তখনও করতেন? আপনার ইয়া চেহারা ছিল।’

    —‘তোমাদের যখন পড়াচ্ছি, তখন সবে ছেড়ে দিচ্ছি ওসব শখ-টখ, কোচিং করতে হত, তা ছাড়া কুস্তিগীরের শরীর স্বাস্থ্য টিকিয়ে রাখতে অনেক হ্যাঁপা বাবা। দু-আড়াই সের পাঁঠার মাংস একাই উদরসাৎ করতে পারতুম।’

    —‘আগেকার লোকেদের হজম শক্তির কথা হচ্ছে না বাবা, কুস্তিগীরের প্রয়োজনের কথা হচ্ছে। সাধারণ লোক যে পরিমাণ খায়, সেটুকু তার পেটে তলিয়ে যায়। কোথায় যে যায় টের পাওয়া যায় না।’ রামগতিবাবু হাসলেন।

    জি টি রোড ধরে এগোতে এগোতে বাঁদিকে মোড় নিচ্ছিল বিপ্লব। রামগতিবাবু বললেন,—‘ওদিকে না, ডাইনে ডাইনে।’

     

     

    —‘বাড়ি পাল্টেচ্ছেন মাস্টারমশাই?’

    —‘আমি পাল্টাইনি বাবা, আমার ছেলে শশাঙ্ক পাল্টেছে। এইবার এই, অ্যায়, এইখানে গাড়ি থামাও।’

    গলিটা খুব সরু। রামগতিবাবু ঠিকই বলেছেন এখানে গাড়ি ঢুকত না। হঠাৎ যেন ঝপ করে সন্ধে হয়ে গেল। গলির ঠিক মুখেই বহুতল বাড়ি উঠেছে দুটো। ঠিক যেন দু’দিকে দুই দানব প্রহরী। দরজার হুড়কো সামান্য একটু ঠেলতেই আপনি খুলে গেল। রামগতিবাবু বললেন—‘এসো বিপুল ভেতরে এসো।’

    তিন-চারটি বালক-বালিকা উঠোনের ওপর ছুটোছুটি করে কানামাছি খেলছিল। আর দু’জন দাওয়ার ওপর বসে মুড়ি খাচ্ছে। একজনের তলার দিকটা খুব শীর্ণ। হয় রিকেট, নয় পোলিও। একজন বিধবা যুবতী বার সাবান দিয়ে কাচা মোটা একখানা সেলাই করা চাদর উঠোনের তারের ওপর মেলে দিয়ে চলে গেল। কোথাও থেকে উনুনে রুটি পোড়ার তীব্র গন্ধ হাওয়ায় ভেসে আসছে। কোণের ঘর থেকে খ্যানখেনে গলায় কে বলল—‘রুটিগুলো যে খাক হয়ে গেল হারামজাদী!—বাড়ির দ্বিতীয় ঘর থেকে কস্তাপেড়ে শাড়িপরা এক মহিলা সঙ্গে গলায় স্টেথো দীন চেহারার এক ডাক্তারকে নিয়ে বেরিয়ে এলেন। ডাক্তারটি বললেন—‘এ মারাত্মক হাঁপের টানের উপশম করি আমার ডাক্তারি বিদ্যের এ সাধ্যি নেই মা জননী। শশাঙ্ক। তোমরা বাপু বাড়ি বদলাও।’ তিনটি শিড়িঙ্গে যুবক রাস্তার দিকের দরজা ঠেলে ঢুকে এসে বলল—‘ভিজিল্যান্স পার্টির এ মাসের চাঁদাটা দাদু দিয়ে দেবেন তাড়াতাড়ি। গত মাসের মতো যেন চেল্লাচেল্লি করতে না হয়।’

     

     

    ‘কোচিনে তো মন্দ কামান না।’

    হঠাৎ চতুর্দিক থেকে কারা একটার পর একটা ধোঁয়ার বল ছুঁড়ে দিতে লাগল। বড় বড় বল, শব্দহীন বোমার মতো তারা ফেটে যায় আর উঠোনটাকে গিলে ফেলে, ভয়ানক কাশির আবহসঙ্গীত পেছনে নিয়ে সেই ধোঁয়ার উর্ধ্বস্রোত হঠাৎ যেন আরব্য উপন্যাসের কলসীর ধোঁয়া হয়ে যায়। হতভম্ব আরবী ধীবরের মতো বিপ্লব ধোঁয়ার মধ্যে থেকে বিষণ্ণ দৈত্যের গলা শুনতে পায়—‘বলেছিলুম না বিপুল। বাড়ি এলেই তোমায় বুঝিয়ে দেবো। তখন কেন এত মারতুম। চল্লিশ বছর ধরে এই ধোঁয়ায় বন্দী হয়ে আছি বাবা, তোমাদের ভালোর জন্যে মারতুম, মনেও করো না। মারতুম এইজন্যে।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযখন চাঁদ এবং – বাণী বসু
    Next Article খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }