Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ম্যাজিক মুনশি – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প93 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. ঝড় থেমে গেছে

    ঝড় থেমে গেছে।

    আমাদের লঞ্চ ঝোঁপঝাড়ে ভর্তি একটা জায়গায় থেমে আছে। জায়গাটা দেখাচ্ছে খানিকটা সুন্দরবনের বাড়ির মতো। সন্ধ্যা মিলিয়েছে। আকাশ মেঘশূন্য। কিছুক্ষণের মধ্যে রূপার থালার মতো প্রকাও চাদ উঠলেও আমি বিস্মিত হব না।

    প্রবল উত্তেজনার অবসান হলে শরীরে কোমল আলস্য নেমে আসে। লেখকের ভাষায় কোমল আলস্য বললাম। সাধারণ ভাষায় শরীর ছেড়ে দেয়। আমার শরীর মন দুইই ছেড়ে দিয়েছে। ডেকে চেয়ার পেতে বসেছি। এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে চায়ের কাপ। আমার চমক্কার লাগছে।।

    অসংখ্য ছেলেমেয়ে তীরে দাঁড়িয়ে উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে। তাদের চাঞ্চল্য দেখে মনে হচ্ছে জীবনে এই প্রথম তারা লঞ্চ নামক জলযান দেখল। শিশুদের সংখ্যা আরও বাড়ছে। ভাটি অঞ্চল সম্পর্কে প্রচলিত কথা হলো, সাতটার কম কারোর ছেলেমেয়ে থাকলে তাকে আঁটকুড়া বলা হয়। কথা সত্যি হতে পারে।

    সর্পরাজ মুখভর্তি পান নিয়ে আমার পাশে বসে আছে। শুধু ঝড়ের সময় তার মুখে পান দেখি নি। এই সময়টুকু ছাড়া সারাক্ষণ তার মুখে পান। আমার ধারণা ঘুমের মধ্যেও সে পান খায়। তার স্ত্রী (আমি ডাকি সর্পরানী) ঘুমন্ত স্বামীর মুখে পান ঠেলে দেয়।

    সর্পরাজ বলল, স্যার, এই জায়গাটার নাম তারানগর।

    আমি বললাম, এমন অজপাড়াগাঁর নাম নগর।

    এর উত্তরে মুখভর্তি পান নিয়ে সে কী বলল, ঠিক বোঝা গেল না। তার সিলেটি ভাষা আমার কাছে বেশিরভাগ সময় দুর্বোধ্য মনে হয়।

    সর্পরাজ লঞ্চের ডেকে টকটকে লাল রঙের পিক ফেলে বলল, স্যার, মুনশি সাবরে খবর দিয়া আনব? আলাপ করলে মজা পাবেন।

    আমি বললাম, কাউকে খবর দিয়ে আনতে হবে না। আমি যথেষ্ট মজা এমনিতেই পাচ্ছি। আমরা মূল লোকেশনের দিকে কখন রওনা হব?

    সর্পরাজ বলল, সমইস্যা আছে।

    সমস্যার বিষয়টা শুনলাম। আমরা মূল লোকেশন থেকে অনেক উত্তরে চলে এসেছি। সুনামগঞ্জ ফিরে যাওয়ার মতো ডিজেল লঞ্চে নেই। ডিজেলের সন্ধানে লোক গেছে।

    আমি বললাম, এত সামান্য ডিজেল নিয়ে আমরা রওনা হয়েছিলাম?

    এই প্রশ্নের উত্তরে অদ্ভুত কথা শুনলাম। লঞ্চ যখন আল্লাহর হাতে সোপর্দ করা হলো তখনই এক ড্রাম ডিজেল ফেলে দেওয়া হলো। আল্লাহ যেন বোঝেন লঞ্চযাত্রীরা এখন সম্পূর্ণ অসহায়। তাঁর রহমত ছাড়া এদের গতি নেই।

     

    শিশুদের সঙ্গে এখন কিছু বয়স্ক ব্যক্তিও যুক্ত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্যে সর্পরাজ এগিয়ে গেল।

    সর্পরাজ : মুনশি সাব আছুইন নি?

    সমবেত উত্তর : অয় অয়। (অর্থাৎ হ্যাঁ হ্যাঁ।)

    সর্পরাজ : মুনশি সাবরে খবর দেউক্কা। লিখক হমায়ূন সাব লঞ্চে আইছুইন। মুনশি সাবের লগে উনার খুবই আলাপের খায়েশ।

    শিশুর দলের একজন : লইয়া আইরাম। (অর্থাৎ নিয়ে আসছি)

    এই শিশু ছুটে যাচ্ছে। তার পেছনে কম করে হলেও আরও কুড়িজন যাচ্ছে। আমার বিরক্তির সীমা রইল না। সর্পরাজকে স্পষ্ট জানিয়েছি, আমি কারও সঙ্গেই কথা বলতে চাচ্ছি না। নিতান্ত পরিচিত বলয়ের বাইরে আমি মুখ খুলতে পারি না। আশপাশে কয়েকজন অপরিচিত মানুষ থাকলেই আমার মনে হয় আমি কোনো সেমিনারে এসেছি। সেমিনারে প্রধান বক্তা আমি। কোন বিষয়ে সেমিনার এখনো জানি না। বক্তৃতায় কী বলব তাও জানি না

    সর্পরাজ আমার সামনে বসতে বসতে বলল, মুনশিরে খবর দিছি। চইলা আসবে।

    মুনশি সাবকে খবর দিতে আমি বলি নি।

    সর্পরাজ বলল, উনারে যদি আপনার পছন্দ না হয় আমার দুইগালে দুইটা চড় দিবেন।

    উনি করেন কী?

    মসজিদের ইমাম। মিজিক দেখায়।

    কী দেখায়?

    মিজিক। জুয়েল আইচ উনার কাছে দুধের শিশু।

    মসজিদের ইমাম ম্যাজিক দেখান?

    জি অয়।

    আমি খানিকটা অবাক হলাম। মসজিদের ইমাম ম্যাজিশিয়ান? প্রায় দেড় শ বছর আগে নেত্রকোনায় মসজিদের জুনৈক ইমাম গান লিখতেন। গানে সুর দিয়ে গাইতেন। তাঁর নাম উকিল। মসজিদে ইমামতি করতেন বলে নামের শেষে মুনশি যুক্ত হয়েছে। তিনি পরিচিত হয়েছিলেন উকিল মুনশি হিসেবে।

    উকিল মুনশির একটি গান—শোয়া চান পাখি, আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি? আমি শ্রাবণ মেঘের দিন ছবিতে ব্যবহার করেছিলাম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির জ্ঞানী বিচারকরা শ্রেষ্ঠ গীতিকারের পুরস্কার উকিল মুনশিকে দিলেন। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমার কাছে জানতে চাওয়া হলো, উকিল মুনশির ঠিকানা কী? তাকে কোথায় পাওয়া যাবে?

    আমি বললাম, কবর খুঁড়লেই পাওয়া যাওয়ার কথা। দেড়শ বছর পার হয়েছে এটা একটা সমস্যা।

    কোনো ছবির মৌলিক গানের জন্যে গীতিকারকে পুরস্কার দেওয়ার বিধান আছে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালন, হাছন রাজার গান ব্যবহার করলে তাদের শ্রেষ্ঠ গীতিকার পুরস্কার দেওয়া যায় না। উকিল মুনশি যে সেই দলেরই পুরস্কার কমিটি তা জানতেন না। বাংলাদেশের যে-কোনো কমিটিতে বেশিরভাগ সদস্য মূর্খ থাকবেন এটা নিপাতনে সিদ্ধ।

    গায়ক উকিল মুনশির পর আরেকজন পাওয়া গেল ম্যাজিক মুনশি। খারাপ কী!

    সর্পরাজ বলল, স্যার কি আমার উপর নারাজ হয়েছেন? মিজিক মুনশি খবর দিলাম এই কারণে।

    কিছুটা নারাজ হয়েছি। আমার একা থাকতে ভালো লাগছিল।

    আপনি তো মিজিক ভালো পান।।

    তা অবশ্য পাই।। তাহলে উনার মিজিক দেখলে আপনার দিলখোশ হবে।

    আমি দিলখোশ হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছি। মুনশি সাহেব আসছেন না। সন্ধ্যা পুরোপুরি মিলিয়েছে। আকাশে আলোর আভা নেই। শত শত জোনাকি পোকা বের হয়েছে। অনেকদিন পর একসঙ্গে এত জোনাকি পোকা দেখলাম।

    এক যাত্রায় অনেক অভিজ্ঞতা। শাওন সঙ্গে থাকলে বলতাম, জোনাকি ঝিকিমিকি গানটা করো তো। সঙ্গে সঙ্গে সে গান ধরত কি না জানি না। বিয়ের আগে তাকে গান গাইতে বললে এক সেকেন্ডের মাথায় গান ধরত। বিয়ের পর সাধ্যসাধনা করতে হয়।

    পুত্র নিষাদকে খুব মিস করছি। একসঙ্গে এত জোনাকি পোকা দেখে সে কী কত কে জানে। নুহাশপল্লীতে মাঝে মাঝে কিছু জোনাকি পোকা দেখা যায়। নিষাদ তাদের ধরার জন্য পেছনে পেছনে ছছাটে। তার কী আনন্দ!

    শিশুর দল এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সম্ভবত বাড়িতে তাঁদের করার কিছু নেই। বাবা-মারাও চান না তারা ঘরে ফিরুক।

    আমি সর্পরাজকে বললাম, তোমার ম্যাজিক মুনশি সাহেব সম্ভবত আসবেন। আমি আমার কেবিনে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ একা থাকব।

    লেখালেখি করবেন?

    কাগজে-কলমে করব না, মনে মনে করব।

    মনে মনে কীভাবে লিখবেন?

    আমি বললাম, লেখকরা মনে মনে যত লেখা লিখেন তার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ লিখেন কাগজে কলমে।

    সর্পরাজ পান মুখে ঢুকাতে ঢুকাতে বলল, অয় অয়। তার অয় অয় ধ্বনির পরপরই সোনালি মেয়েটি প্রায় দৌড়ে উপস্থিত হয়ে প্রথমে আমাকে তারপর সর্পরাজকে কদমবুসি করল। সর্পরাজ এই ঘটনায় কোনো অস্বাভাবিকত্ব খুঁজে পেল না। তরুণী মেয়েরা ছুটে এসে তাকে কদমবুসি করবে এটাই যেন স্বাভাবিক। সে নির্বিকার ভঙ্গিতে পান চিবুতে লাগল। আমি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললাম, ব্যাপার কী?

    সোনালি বলল, আপনি আমাকে সিনেমায় রোল দিবেন এটা শোনার পর থেকে মাথা আউলা হয়ে গেছে।

    ঝোল দেব তোমাকে কে বলেছে?

    ম্যানেজার স্যার বলেছেন।

    সামনের চেয়ারটায় বসো।

    মেয়েটি বসল। আমি বললাম, পড়াশোনা কতদূর করেছ?

    ইন্টার পর্যন্ত পড়েছি। পরীক্ষা দিতে পারি নাই। পরীক্ষার আগের দিন ডিরেক্টর সবুজ ভাই বললেন, ব্যাংককে ধারাবাহিক নাটক করব, ভগ্ন সৈকত। চলো আমাদের সঙ্গে, একটা সাইড রেলি দিয়ে দিব।

    সাইড রোল পেয়েছিলে?

    জি-না। আমি আর সবুজ ভাই ব্যংককে গেলাম শনিবারে। রোববারে নাটকের দলের বাকি সবার আসার কথা। তারা ভিসা পায় নাই বলে আসতে পারল না।

    তুমি সবুজ ভাইয়ের সঙ্গে কত দিন ব্যংককে ছিলে?

    সাত দিন। সবুজ ভাই অপেক্ষায় ছিলেন যদি নাটকের দল চলে আসে। ব্যাংককে খুব মজা করেছিলাম। সবুজ ভাই খুব আমুদি মানুষ।

    তুমি এখন যাও। আমার প্রচণ্ড মাথা ধরেছে।

    সোনালি আনন্দিত গলায় বলল, আপনার মাথা বানায়ে দিব স্যার? আমি নাপিতের চেয়েও ভালো মাথা মালিশ করতে পারি।

    আমি বললাম, মা মালিশ করতে হবে না।

    সর্পরাজ বলল, দেখি আমার মাথা বানাও। মাথা বানানি কেমন হিখছ পরীক্ষা হউক।

    সোনালি মহানন্দে সর্পরাজের মাথার চুল টানতে লাগল। আমি কেবিনের দিকে রওনা হলাম।

     

    কেবিনে বসে আছি। নুহাশপল্লীর ম্যানেজার দুটি মোমবাতি এবং একটি লণ্ঠন জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে। দুটি মোমবাতির একটি বাতাসের ঝাপটায় নিভে গেছে। অন্যটি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাতাসের বিরুদ্ধে তার জীবনযুদ্ধ দেখতে ভালো লাগছে।

    ম্যানেজার বলল, স্যার আপনার জন্য একটা খাসি ছদকা দিয়েছি।

    কেন?

    আল্লাহপাক আপনার জীবন রক্ষা করেছেন এইজন্য।

    ছদকার সিস্টেমটা কী? কোনো গরিব মানুষকে খাসি দিয়ে দেওয়া হয়েছে?

    ম্যানেজার বলল, মুরগি দুদকায় এই বিধান। গরু-খাসির বেলায় অন্য বিধান। আল্লাহর নামে জবেহ করা হয়। যার নামে ছদকা সে খেতে পারে না। অন্যরা পারে। আপনি যাতে খেতে পারেন তার জন্য আলাদা একটা খাসি কাটা হয়েছে। খানা দিতে সামান্য বিলম্ব হবে।

    হোক বিলম্ব। এখন সামনে থেকে যাও।

    আমি আধশোয়া হয়ে বিছানায় বসে আছি। ম্যাজিক মুনশির কারণেই হয়তো মাথায় ঘুরছে ম্যাজিক।

    বলা হয়ে থাকে ম্যাজিকের শুরু প্রাচীন মিসরের ফারাওদের সময়ে। ফারাওরা (ফেরাউন) ছিলেন ম্যাজিকের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তাদের রাজসভাতে নামী ম্যাজিশিয়ানরা মন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকতেন। অবিশ্বাস্য সব কর্মকাণ্ড করে আঁরা সম্রাটকে আনন্দ দান করতেন। পবিত্র কোরান শরীফ এবং বাইবেলে তার উল্লেখ আছে।

    সূরা আরাফের ১১৫ থেকে ১১৭ নম্বর আয়াতে আছে—

    তারা (জাদুকররা) বলল, হে মুসা! তুমি ছুড়বে না আমরা ছুড়ব? মুসা বলল, তোমরাই ছোড়ো। যখন তারা ছুড়ল লোকের চোখে ভেলকি লেগে গেল। এবং তারা ভয় পেয়ে গেল যেন তারা ভোজবাজি দেখছে।

    মুসার প্রতি আমি হুকুম করলাম, তুমিও তোমার লাঠি ছোড়। হঠাৎ লাঠিটা ওদের ভুয়া সৃষ্টি গ্রাস করে ফেলতে

    লাগল। এখানে কিন্তু লাঠির সাপ হয়ে যাওয়ার কথা নেই। বাইবেলে আছে। বাইবেলে মুসা (আঃ)-এর কথা বলা হয় নি। বলা হয়েছে তার ভাই এরন-এর কথা।

    এরন প্রথমে তার লাঠি ফেললেন, সেটা সাপ হয়ে গেল। তখন ফেরাউনের নির্দেশে তার জাদুকররা লাঠি ফেলল। সেগুলি সাপ হয়ে গেল। তখন এরনের সাপ সবগুলিকে গিলে খেয়ে ফেলল। {Exodus vil 10, 11, 12}

    ঊনবিশং শতাব্দীর বিখ্যাত জাদুকর রবার্ট হেলার (১৮৩৩-১৮৭৮) দাবি করেন তিনি লাঠি সাপ হয়ে যাওয়ার জাদু কায়রো শহরে বেশ কয়েকবার দেখেছেন। তিনি এই জাদুর ব্যাখ্যাও করেন। তার মতে লাঠিটা আসলেই সাপ। হিপনোটিক পদ্ধতিতে কিংবা কোনো ড্রাগ খাইয়ে সাপকে শক্ত লাঠির মতো করা হয়। সাপকে ছুড়ে ফেললে তার হিপনোটিক spell কিংবা ড্রাগের প্রভাব কেটে যায়।

    অতি প্রাচীন ম্যাজিকের কিছু তথ্য ব্রিটিশ মিউজিয়ামের লাইব্রেরিতে সংক্ষিত আছে। যীশুখ্রিষ্টের জন্মের ৩৭৬৬ বছর আগে সম্রাট কুফুর দরবারে এই জাদু দেখানো হয়। জাদুকরের নাম চাচা আংখ (Tchatcha-en-ankk}, জাদুকর একজনের মাথা কেটে তা জোড়া দিয়ে সম্রাটের বিস্ময় উৎপাদন করেন।

    আধুনিক জাদুকররা ইলেকট্রিক করাতে তরুণীর দেহ দুভাগ করে আবার জোড়া দেন। এই কাজে তাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হয়। প্রায় চার হাজার বছর আগেকার জাদুকরের হাতে নিশ্চয়ই এই প্রযুক্তি ছিল না। সম্রাট কুফুর দরবারের জাদুকর কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন আজ আর তা জানার কোনো উপায় নেই।

     

    স্যার আসব?

    আমি চমকে তাকালাম। দরজার সামনে যিনি দাঁড়িয়ে তিনিই যে ম্যাজিক মুনশি তাতে সন্দেহ রইল না। মুখভর্তি দাড়িগোঁফ। মুনশি মাওলানারা দাড়ি রাখেন। গোঁফ রাখেন না। পানি পান করার সময় গোফ পানি স্পর্শ করলে পানি নষ্ট (বা হারাম হয়ে যায়, এই কথা প্রচলিত। যদিও হজরত আলী (রাঃ) -র গালপাট্টা ছিল। গোঁফ ছিল, দাড়িও ছিল।

    দরজার সামনে যিনি দাড়িয়ে আছেন তার মাথার চুল গ্রামের বয়াতিদের মতো লম্বা। মধ্যবয়স্ক মানুষ। অত্যন্ত সুপুরুষ। চোখের তারা ঘন কালো। চোখ যক্ষা রোগীর মতো ঝকমক করছে। তবে মানুষটির যক্ষা নেই। থাকলে খুকখুক কাশি শুনতাম।

    মুনশি সাহেব সবুজ রঙের পাঞ্জাবি পরেছেন। নবিজী (দঃ) সবুজ রঙ পছন্দ করতেন। তার মাথার পাগড়ি ছিল সবুজ। ম্যাজিক মুনশির সবুজ পাঞ্জাবির পেছনে নবিজীর (দঃ) পছন্দের রঙ কাজ করতে পারে।

    তিনি পাঞ্জাবির সঙ্গে লুঙ্গি পরেছেন। লুঙ্গির রঙ ধবধবে সাদা। পায়ে খড়ম। বিশেষ ধরনের খড়ম। ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই খড়মকে বলে বউলওয়ালা

    খড়ম।

    আপনিই কি ম্যাজিক মুনশি?

    জি জনাব। আসসালামু আলায়কুম।

    ওয়ালাইকুম সালাম।

    আপনার খবর অনেক আগে পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে আসা উচিত ছিল। মাগরেবের নামাজ শেষ করে এসেছি বলে বিলম্ব হয়েছে। আপনার কাছে ক্ষমা চাই।

    আমি বললাম, ক্ষমা করার মতো কোনো অপরাধ আপনি করেন নি। ভাই, ভেতরে আসুন।

    ভদ্রলোক ভেতরে ঢুকলেন। আতরের গন্ধে কেবিন ভরে গেল। আতরটা সাধারণ আতরের মতো না। চা-পাতা জাল দিলে চায়ের যে মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায় সেই গন্ধ। চা-পাতা থেকে আতর তৈরি হয় বলে আমার জানা নেই।

    ভাই বসুন।

    ভদ্রলোক বসতে বসতে বললেন, শাজারাতি মুমবারাকাতিন যাইতুনাতিন।

    আমি বললাম, এর অর্থ কী?

    মুনশি বললেন, এটা সূরা আননুনের একটা আয়াত। এর অর্থ পূতপবিত্র জয়তুন বৃক্ষ। আপনি আমার আতরের গন্ধে চমকেছেন। এই আতরটা জয়তুনের তেল থেকে তৈরি।

    আমি চমকেছি কীভাবে বুঝলেন?

    আপনার চোখের তারা চমকায়েছে। তার থেকে বুঝেছি।

    আতরের গন্ধেই যে চমকেছি তা তো নাও হতে পারে।

    আপনার চোখের তারা যখন চমকায়েছে তখন নাকের চামড়াও কুঁচকেছেন, সেই থেকে বুঝেছি।

    আমি বললাম, আপনার পর্যবেক্ষণশক্তি ভালো। আমি বেশ অবাক হয়েছি। আপনার আতর খানিকটা কি আমাকে দিতে পারবেন? আমি আমার স্ত্রীকে দিতাম। অদ্ভুত আতরের গন্ধে সে খুশি হবে। সুগন্ধির প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা আছে।

    মুনশি কিছু বললেন না। হাসলেন। ভদ্রলোকের হাসি সুন্দর।

    আমি বললাম, শুনেছি আপনি খুব ভালো ম্যাজিক দেখান। আপনার কাছে নাকি জুয়েল আইচ শিশু। জুয়েল আইচকে চিনেছেন তো?

    জি জনাব। বাংলাদেশে বাস করব উনাকে চিনব না, তা হয় না।

    তাঁর কোনো জাদু কি দেখেছেন?

    জি-মা। হাওর অঞ্চলে থাকি, কীভাবে দেখব?

    আমি বললাম, মসজিদের একজন ইমাম জাদু দেখান এই প্রথম শুনলাম।

    মুনশি জবাব দিলেন না। মনে হচ্ছে তিনি কম কথা বলেন। ভদ্রলোকের ভাষা শুদ্ধ, কিছুটা পোশাকি। বাড়ি মনে হয় সিলেট অঞ্চলে না। তবে কিছুদিন সিলেটে থাকলে ভাষায় সিলেটি ঢুকে যাওয়ার কথা। সিলেটি ভাষার আগ্রাসী রূপ আছে। এই প্রসঙ্গে একটা ব্যক্তিগত কাহিনী বলি—

    নিউইয়র্ক বইমেলায় গিয়েছি। আমি এবং শাওন গানের একটা অনুষ্ঠান দেখব। বইমেলার আয়োজক বিশ্বজিৎ সাহার জনৈক কর্মচারীর হাতে দুঘণ্টার জন্যে পুত্র নিষাদকে ছেড়ে দিয়েছি। নিষাদের বয়স তিন। বিশ্বজিতের কর্মচারীর নাম শাহীন, বাড়ি সিলেট।

    দুঘণ্টা পর ফিরে আসতেই নিষাদ বলল, বাবা, আইসক্রিম খাইমু।

    এই দুঘণ্টাতেই তার ভাষায় সিলেটি ঢুকে পড়েছে।

     

    আমি ম্যাজিক মুনশির দিকে তাকিয়ে বললাম, আপনি কি চা খাবেন?

    মুনশি বললেন, চা খাব না। চা খেলে অজু ভেঙে যাবে। এশার নামাজ শেষ করে চা খাব।

    আপনার পড়াশোনা কতদূর?

    খুবই সামান্য। উলা পাশ করেছি। মৌলানায়ে মুহাদ্দেস হওয়ার ইচ্ছা ছিল। দরিদ্র ঘরের সন্তান। অর্থের অভাবে পড়তে পারি নাই। কোরানে হাফেজ হওয়ার শখ ছিল। মেধার অভাবে পারি নাই।

    মাঝখান থেকে ম্যাজিক শিখে ফেলেছেন?

    ম্যাজিক মুনশি ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেললেন। কিছু বললেন না।

    আমি বললাম, এখন কি আমি আপনার ম্যাজিক দেখব?

    আপনি চাইলে অবশ্যই দেখবেন।

    আমি ম্যাজিক দেখার প্রস্তুতি নিলাম।

    অদ্ভুত কিছু দেখবু তা ভাবলাম না। গ্রামের মুনশি মানুষ শুত ম্যাজিক জানবেন কীভাবে? দড়ি কেটে জোড়া লাগানো, কিংবা পয়সার কোনো খেলা।

    তবে ম্যাজিশিয়ান না এমন অনেকের কাছ থেকে আমি বিস্ময়কর কিছু ম্যাজিক দেখেছি। অভিনেতা রহমত (বিভাগীয় প্রধান, নাট্যকলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এমন একজন।

    নাটকের শুটিং শেষে রহমতকে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছি, হঠাৎ সে বলল, স্যার একটা কয়েন দিন।

    আমি কয়েন দিলাম। রহমত বলল, স্যার দেখুন কয়েনটা ঘসতে ঘসতে কীভাবে ভ্যানিশ করি। বলেই সে কয়েনটা বাঁ হাতের কনুইতে ঘসতে শুরু করল। চোখের সামনে কয়েন অদৃশ্য হয়ে গেল। কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আমার এক শিক্ষক ড. তৌফিকুর রহমান অপূর্ব সব তাশের ম্যাজিক জানেন।

    একবার নুহাশপল্লীতে রাত্রি যাপন করতে এসে আমাদের এক ঘণ্টা তাশের ম্যাজিক দেখিয়ে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলেন।

    পামিং-এর অদ্ভুত এক কৌশল আমি দেখেছিলাম একজন মাঝির কাছে। সে নিজের মনে সিগারেট টানছিল। আমাকে দেখে জ্বলন্ত সিগারেট হাতে লুকিয়ে ফেলল। তার দুটা হাতই আমার সামনে মেলে ধরা। হাতে সিগারেট নেই। অথচ আঙুলের ফাঁক দিয়ে ধােয়া আসছে।

    সিগারেট পামিং-এর কৌশল আমি তার কাছ থেকে শিখেছি। তবে তার মতো ভালো পারি না।

    ম্যাজিক মুনশি কী করবে কে জানে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেঘ বলেছে যাব যাব – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article যদিও সন্ধ্যা – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }