Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ম্যারেজ রেজিস্টার – নিমাই ভট্টাচার্য

    নিমাই ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প96 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. কলকাতা শহরে সাইনবোর্ড

    মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কলকাতা শহরে কত লক্ষ লক্ষ সাইনবোর্ড আছে, তার ঠিক-ঠিকানা নেই।

    মিঃ সোম তার ছোট্ট সাইনবোর্ড ঝোলাবার সময় স্বপ্নেও ভাবেননি, এটি এত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

    সবার হাতে বইখাতা না থাকলেও ওদের দেখেই মিঃ সোম বুঝলেন ওরা সবাই ছাত্রছাত্রী। ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রেম-ভালবাসার পর বিয়ে হলে তাদের বন্ধুরা একটু বেশী উৎসাহী হবেই। বিয়ের নোটিশ দেবার সময় শুধু ছেলেটি ও মেয়েটির উপস্থিতি দরকার হলেও একালে বন্ধুবান্ধব আসা অস্বাভাবিক নয়।

    মিঃ সোম হাসতে হাসতে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কি সবাই বিয়ে করবেন?

    ওঁর কথায় ছেলেমেয়েরা হেসে উঠল। দু-একটি ছেলেমেয়ের দিকে ইশারা করে জানতে চায়, আমাদের কাউকে পছন্দ হয়? মেয়েরা হাসতে হাসতে মাথা নেড়ে বলে, না।

    দুটি ছেলেমেয়ে মিঃ সোমের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। ছেলেটি বললো, আমরা বিয়ের নোটিশ দিতে এসেছি।

    মুহূর্তের জন্য ওদের দিকে তাকিয়েই মিঃ সোম মুগ্ধ হয়ে গেলেন। বললেন, আপনার বসুন।

    ওরা দুজনে প্রায় একসঙ্গে বললে, আমাদের আপনি বলবেন না। আমরা আপনার চাইতে অনেক ছোট।

    মিঃ সোম একটু খুশির হাসি হেসে বললেন, আজকাল আর ছাত্র ছাত্রীদের তুমি বলা নিরাপদ নয়।

    ছেলেটি চেয়ারে বসে বললে, আপনি বোধহয় ঠিকই বলছেন, তবে আমাদের তুমি বললেই…

    মেয়েটি বললো, আমরা তো আপনার প্রায় ছেলেমেয়ের বয়সী হবে।

    মিঃ সোম কিছু বলার আগেই একটি ছেলে বললো, এটা কিন্তু লাভ ম্যারেজ নয়; এ বিয়ে আমরা ঠিক করেছি।

    মিঃ সোম অবাক হয়ে বললেন, তাই নাকি?

    এবার সামনের ছেলেটি বললো, আমাদের বন্ধুরাই এ বিয়ের ঘটকালি করেছে।

    মিঃ সোম খুশিতে ঝলমল করে ওঠেন। বলেন, ভেরী গুড।

    একটি মেয়ে আরেকটি মেয়েকে সামনে টেনে এনে বললো, এই ইন্দিরাই এ বিয়ের ঘটকালি করেছে।

    ইন্দিরা হাতজোড় করে নমস্কার করল। বললো, আপনার সঙ্গে পাত্রপাত্রীর পরিচয় করিয়ে দিই।…

    হ্যাঁ, হ্যাঁ।…

    ইন্দিরা আলতো করে ছেলেটির কাঁধে হাত দিয়ে বললো, সুবীর মুখার্জী। মেয়েটিকে দেখিয়ে বললো, নন্দিতা ব্যানার্জী। পঞ্জিকাতে কোন আইন লঙ্ঘন না করেই এদের বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।

    ইন্দিরার কথায় সবাই হাসেন।

    আরো একটু কথাবার্তার পর সুবীর আর নন্দিতা ফর্ম ভর্তি করে, ফর্মের নীচে সই করে।

    মিঃ সোম বললেন, বিয়ের দিন তোমরা সবাই আমার এখানে মিষ্টি খেয়ে যাবে।

    মাসখানেক পরে এই ছেলেমেয়েরা আবার এসে হাজির। সুবীর আর নন্দিতা বর-বৌ-এর মতো সেজেছে। দুজনের কপালেই চন্দনের ফোঁটা। ইন্দিরার হাতে দুটি মালা।

    মিঃ সোম ১৯৫৪ সালের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের থার্ড সিডিউলের ২১নং ধারা অনুযায়ী পাত্রপাত্রীর ডিক্লারেশন ফর্ম বের করলেন।

    আই, শ্ৰীসুবীর মুখার্জী, হিয়ারবাই ডিক্লেয়ার অ্যাজ ফলোজ—

    (১) আমি বর্তমানে অবিবাহিত,

    (২) আমার বাইশ বছর বয়স হয়েছে,

    (৩) কুমারী নন্দিতা ব্যানার্জীর সঙ্গে আমার নিষিদ্ধ সম্পর্কের আত্মীয়তা নেই,

    (৪) আমি জানি এই ঘোষণায় মিথ্যা তথ্য থাকলে এবং…আমার জেল ও জরিমানা হতে পারে।

    এর নীচে সুবীর মুখার্জী সই করল। অনুরূপ ঘোষণা করার পর নন্দিতাও সই করল। তারপর তিনজন সাক্ষী ও মিঃ সোম সই করলেন। তারপর ওঁর নির্দেশমতো সুবীর বললো, আই শ্ৰীসুবীর মুখার্জী টেক দি নন্দিতা ব্যানার্জী অ্যাজ মাই লফুল ওয়াইফ। নন্দিতা বললো, আমি নন্দিতা ব্যানার্জী,সুবীর মুখার্জীকে আইনসঙ্গত স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম।

    তারপর মালাবদল হলো ও সুবীর নন্দিতার সিথিতে সিঁদুর দিল। হঠাৎ একজন শাঁখ বাজিয়ে সমস্ত পরিবেশটাকে আরো আনন্দময় করে তুললো।

    সাবিত্রী এসব বিয়ের সময় বাইরের ঘরে আসেন না, তবে ওদের সবার অনুরোধে আজ শুধু উপস্থিতই ছিলেন না, বরণডালা দিয়ে বরণ করে আশীর্বাদও করলেন। সুবীর আর নন্দিতা মিঃ সোম আর সাবিত্রীকে প্রণাম করল।

    এর ঠিক দিনতিনেক পরের কথা। মিঃ সোমের ছাত্রজীবনের বন্ধু দীপেন চ্যাটার্জী এসে হাজির।

    মিঃ সোম খুশির হাসি হেসে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার তোমার? তিন-চারখানা চিঠি দিয়েও…

    দীপেনবাবু বললেন, তোমার সব চিঠিই পেয়েছি। কিন্তু জবাব দেবার মতো অবস্থা ছিল না।

    কেন? কী হলো?

    তোমার কপালে চিরযৌবনা স্ত্রী জুটলেও আমার কপালে…

    মিঃ সোম হাসতে হাসতে বললেন, পরে আমার স্ত্রীর প্রশংসা করো। আগে বল বৌদির কী হয়েছিল?

    আরে ভাই বলো না, হঠাৎ ওর চোখের দৃষ্টি কমতে শুরু করল।

    তারপর?

    তারপর হঠাৎ চোখ দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করল।

    বল কী?

    হ্যাঁ ভাই। সে যে কী ঝামেলার মধ্যে কটা মাস কাটিয়েছি—

    এখন কেমন আছেন?

    শেষ পর্যন্ত পিনাকী রায়কে দেখিয়ে চশমা নেবার পর থেকে ভালই আছে।

    আমার এক মাসতুতো ভাই তো প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাকেও পিনাকী রায় ভাল করে দিয়েছেন।

    নর্থ বেঙ্গলে তো দূরের কথা, সারা বাংলাদেশে অমন চোখের ডাক্তার আছেন কিনা সন্দেহ।

    সাবিত্রী বাথরুম থেকে বেবিযে এসে দীপেনবাবুকে দেখেই হাসতে হাসতে বললেন, এত দিন পবে আমাদের মনে পড়ল।

    দীপেনবাবু তার স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বলার পর বললেন, ছ-মাসের চেষ্টায় আজ কলকাতা এলাম।

    এই এক বছবেব মধ্যে আব কলকাতা আসেননি?

    না বৌদি। কলকাতায় এসে তো আপনাদের এখানে ছাড়া আর কোথাও উঠি না।

    রাত্রে খাওয়াদাওয়ার পর দুই বন্ধুতে বাইরের ঘরে বসে গল্প করছিলেন।

    মিঃ সোম জিজ্ঞাসা কবলেন, তুমি কি মামলামোকদ্দমার কাজে এসেছ?

    না ভাই, এবার কোন মামলামোকদ্দমার কাজে আসি নি। এবার আমার এক ভগ্নীপতির কাজে এসেছি।

    কী কাজ?

    হালিশহরে আমার ভগ্নীপতির কিছু সম্পত্তি আছে। সেটা বিক্রির ব্যাপারে কয়েকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে এসেছি।

    হঠাৎ হালিশহরের সম্পত্তি বিক্রি করছেন কেন?

    আমার এই ভগ্নীপতি এককালে খুবই বড়লোক ছিল কিন্তু এখন বড়ই বিপদের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। হালিশহরের সম্পত্তি বিক্রি না করে ওর পক্ষে মেযের বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, অথচ–

    অথচ কী?

    এই হালিশহরের বাড়িভাড়া থেকে ওর তিন মেয়ের পড়াশুনার খরচা চলছে।

    তাহলে কেন বিক্রি করছেন?

    ওদের এমনই ফ্যামিলির ধারা যে মেয়ের বিয়ে দিতে অন্ততপক্ষে হাজার চল্লিশেক টাকা দরকার।

    চল্লিশ হাজার?

    হ্যাঁ ভাই। এর কমে ঐ ফ্যামিলির মেয়ের বিয়ে হয় না।

    হালিশহরের বাড়ি বিক্রি করে কত টাকা হবে?

    বড় জোর পঞ্চাশ। দীপেনবাবু একটু থেমে বললেন, আমার দিদির তিনটি মেয়েই লেখাপড়ায় অত্যন্ত ভাল। বড় মেয়েটি কলকাতায় এম. এ. পড়ছে, আর দুটি মেয়ে গৌহাটিতে পড়ছে। হালিশহরের বাড়ি বিক্রি হবার পর হয়ত ছোট মেয়ে দুটোর পড়াশুনোই বন্ধ হয়ে যাবে।

    মিঃ সোম একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলেন, মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে কত পরিবার যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তার ঠিকঠিকানা নেই।

    হালিশহরের বাড়ি বিক্রি করে আমার এই বড় ভাগ্নীর বিয়ে হলে এই ফ্যামিলিটাও ধ্বংস হয়ে যাবে।

    তবু ফ্যামিলি ট্রাডিশন রাখতে হবে?

    হ্যাঁ ভাই। তা না রেখে বুঝি ওদের উপায় নেই।

    একটু পরে মিঃ সোম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বড় ভাগ্নীর বিয়ে কি ঠিক হয়ে গেছে?

    না, ঠিক হয়নি, তবে সে ব্যাপারেও আমাকে একটা ছেলে দেখতে হবে।

    ছেলে কি কলকাতায় থাকে?

    হ্যাঁ, বেহালায় ওদের নিজেদের বাড়ি আছে।–

    ছেলেটি কি করে?

    একটা বড় প্রাইভেট কনসার্নে অ্যাসিসট্যান্ট একাউন্ট্যান্ট। তবে নগদ চায় দশ হাজার।

    দশ হাজার।

    হ্যাঁ ভাই। যদি হাজার পাঁচেকে রাজী করাতে পারি, তাহলে বোধহয় এখানেই ভাগ্নীর বিয়ে ঠিক করে ফিরব।

    কিন্তু এই ছেলের জন্য দশ হাজার?

    ওঁরা বলছেন, গৌহাটিতে গিয়ে বিয়ে দিতে হলে অনেক খরচ—

    ওঁদের মেয়ে পছন্দ হয়েছে?

    দীপেনবাবু তাড়াতাড়ি সুটকেশ থেকে একটা ফটো বের করে বললেন, তুমিই বলো, এ মেয়েকে কেউ অপছন্দ করবে?

    ফটোটা দেখেই মিঃ সোম চমকে উঠলেন। কোন মতে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, এইসব শিক্ষিত সুন্দরী মেয়েরা যদি আমাদের মত ম্যারেজ অফিসারের কাছে এসে বিয়ে করে

    তাহলে তো ফ্যামিলিটা রক্ষা পেতো, কিন্তু নন্দিতা সে ধরনের মেয়ে নয়।

    মিনিটখানেক চুপ করে থাকার পর মিঃ সোম বললেন, একটা কথা বলব তোমাকে?

    নিশ্চয়ই বলবে।

    তুমি তোমার ভগ্নীপতির হালিশহরের সম্পত্তি বিক্রি করো না, বেহালাতেও যেতে হবে না।

    কেন?

    আমি কথা দিচ্ছি, এ মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা আমি করে দেব।

    কিন্তু–

    আমার উপর একটু বিশ্বাস রাখো। এ মেয়েকে সৎ পাত্রের হাতে দেবার দায়িত্ব আমার।

    কিন্তু যদি তুমি ফেল করো–

    মিঃ সোম একটু হেসে বললেন, চিন্তা করো না। এত বড় কলকাতা শহরে একটা ভদ্র শিক্ষিত ছেলে ঠিকই খুঁজে বের করব। একটু থেমে উনি বেশ জোরের সঙ্গে বলেন, এবং তুমি জেনে রাখো এমন ছেলের সঙ্গে তোমার ভাগ্নীর বিয়ে দেব, যে তোমার ভগ্নীপতির হাজার টাকাও খরচ করাবে না।

    তুমি যদি তা পারো তাহলে সত্যি বড় উপকার হবে।

    এর মধ্যে কোন যদি নেই, এ কাজ আমি করবই। মিঃ সোম একটু থেমে বললেন, তোমার ভগ্নীপতি ও ভাগ্নীর সব ডিটেলস আমাকে লিখে দিয়ে যাবে। আর তোমার ভাগ্নীকে আমার বিষয়ে কিছু বলল না, শুধু বলে যেও তোমার এক বন্ধু যোগাযোগ করতে পারে।

    তোমার নামও বলব না?

    না। হাজার হোক বিয়ের ব্যাপারে আগের থেকে কাউকেই সব কিছু না জানানোই ভাল।

    তা ঠিক।

    কলকাতার অন্যান্য কাজকর্ম সেরে দিন দুই পরে দীপেনবাবু কুচবিহার ফিরে গেলেন। তার পরের দিনই মি, সোম ম্যারেজ নোটিশ বুক থেকে সুবীরের ঠিকানা দেখে চিঠি দিলেন-তোমাকে বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে। একদিন সময় করে এসো। খুব খুশী হবে।

    তিন-চারদিন পরেই সুবীরের জবাব এলো–আপনার চিঠি পেয়ে খুব ভাল লাগল। ইতিমধ্যে আপনাদের সঙ্গে দেখা করা উচিত ছিল, কিন্তু ফাইন্যাল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম বলে যোগাযোগ করতে পারি নি। সেজন্য ক্ষমা করবেন। যাই হোক, রবিবার দুপুরে দুজনেই আসছি। মাসীমাকে বলবেন, দুপুরে দুজন খাবে।

    .

    রোজ ঠিকে ঝি মানদাই বাজার করে দেয়, কিন্তু রবিবার সকালে উঠেই মিঃ সোম নিজে বাজার গেলেন। শাকসবজি মাছভর্তিথলে রান্না ঘরের সামনে রেখে সাবিত্রীকে বললেন, হ্যাঁগো, আলুবখরা এনেছি।

    খুব ভাল করেছ। তুমি বেরিয়ে যাবার পরই আমার মনে পড়ল।

    খানিকটা পরে দুটি ছেলেমেয়ে এসে বিয়ের নোটিশ দিয়ে গেল। ওরা চলে যাবার দশ-পনের মিনিট পরেই সুবীর আর নন্দিতা এসে হাজির।…

    বহুদিন পরে ছেলে আর পুত্রবধু এলে যেমন আনন্দ হয়, ঠিক সেই কম আনন্দে ঝলমল করে উঠলেন মিঃ সোম আর সাবিত্রী।

    বাইরের ঘরের চেয়রে-টেবিলে না, ভিতরের ঘরে বিছানার উপর বসেই চা খেতে খেতে চারজনে মিলে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দিলেন। তারপর সাবিত্রী বললেন, তোমরা বাইরের ঘরে গিয়ে গল্প করে। আমি আর নন্দিতা রান্না সেরে নিই।

    বাইরের ঘরে এসে ওঁরা দুজনে পাশাপাশি বসলেন। মিঃ সোম বললেন, একটু জরুরী কথাবার্তা বলার জন্যই তোমাকে ডেকে এনেছি।

    সুবীর উৎকণ্ঠার সঙ্গে ওর দিকে তাকাতেই উনি হেসে বললেন, না, না, চিন্তার কিছু নেই।

    এবার সুবীর নিশ্চিন্ত হয়ে একটু হাসে। মিঃ সোম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের বিয়েটা কিভাবে হলো?

    সুবীর বলে, এককালে আসামের তিন-চারটে চায়ের বাগানের মালিক ছিলেন নন্দিতার বাবা-কাকারা। তারপর পারিবারিক শত্রুতার জন্য একে একে সব বাগান মারোয়াড়ীদের কাছে বিক্রি হয়ে গেল। এখন ওর বাবার অবস্থা সত্যি খুব খারাপ। সুবীর একটু হেসে বললো, আমাদের দেশে বা সমাজে অর্থ না থাকলেও ঐতিহ্য থাকে। এখন পারিবারিক মর্যাদা মত নন্দিতার বিয়ে দিতে হলে ওর বাবাকে সর্বস্ব খোয়াতে হতো।

    তোমাদের এবিষয়ে সম্বন্ধ করলো কে?

    ইন্দিরা গাঙ্গুলী। সুবীর একটু হেসে বললো, আমার ছোড়দির নাম ইন্দিরা। তাই ও আমার সঙ্গে পড়লেও ওকে আমি ছোড়দি বলি।

    তাই নাকি?

    হ্যাঁ। ছোড়দি আর নন্দিতা হস্টেলের একই ঘরে থাকে।

    তোমার বাবা কী করেন?

    আমার বাবা মারা গিয়েছেন।……

    তাই নাকি?

    হ্যাঁ।

    বাড়ীতে আর কে কে আছেন?

    দিদি ও ছোড়দির বিয়ে হয়ে গেছে। এখন বাড়ীতে আমি আর মা আছি।

    তোমাদের সংসার কে চালান?

    আমাদের বাড়ীটা নিজেদের। একতলার দুটি ফ্যামিলি ছাড়াও চারটি দোকানঘর আছে…

    তাহলে ত ভাড়ার টাকাতেই সংসার চলে যায়।

    আপনাদের আশীর্বাদে ভালভাবেই চলে যায়। এই বাড়ীভাড়া ছাড়াও বড় বড় কোম্পানির কিছু শেয়ার আছে।

    তোমার বিয়ের কথা মা জানেন?

    না, তবে মা জানেন, নন্দিতাকে বিয়ে করব।

    মার মত আছে?

    সুবীর হসে বললো, নন্দিতাকে মার খুব পছন্দ।

    নন্দিতার বাবা-মাও নিশ্চয়ই বিয়ের কথা জানেন না?

    না। আমার পরীক্ষার রেজাল্ট বেরুবার পর সবাইকে জানান হবে। সুবীর মুখ নীচু করে বললো, আমাদের বিয়ে হলেও আমরা আগের মতই আছি।

    মিঃ সোম সুবীরের কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, তুমি যে খাঁটি সোনা তা তোমাকে প্রথম দিন দেখেই বুঝেছিলাম। একটু থেমে বললেন, তাহলে তোমার রেজাল্ট বেরুবার পর আনুষ্ঠানিক ভাবেই বিয়ে করো।

    হ্যাঁ তাই করব।

    সাবিত্রী আর নন্দিতা বাইরের ঘরে আসতেই মিঃ সোম বললেন, বসো। তারপর হাসতে হাসতে নন্দিতার দিকে তাকিয়ে বললেন, বেহালার একটি ছেলের সঙ্গে তোমার বিয়ের সম্বন্ধ করার জন্য দীপেন কলকাতায় এসেছিল।……

    নন্দিতা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ছোটমামার আসার খবর আপনি জানলেন কী করে?

    সাবিত্রী হাসতে হাসতে বললেন, দীপেন ঠাকুরপো ওর ক্লাশ ফ্রেণ্ড। উনি কলকাতায় এলে সব সময় আমাদের এখানেই থাকেন।

    নন্দিতা প্রায় চিৎকার করে উঠল, তাই নাকি?

    মিঃ সোম জিজ্ঞাসা করলেন, দীপেন কী কী কাজে কলকাতা এসেছিল জানো?

    নন্দিতা মাথা নেড়ে বললো, না।

    তোমার বিয়ের জন্য তোমাদের হালিশহরের বাড়ী বিক্রি করতে আর বেহালার ছেলের সঙ্গে তোমার বিয়ে পাকা করতে।

    এতক্ষণ শোনার পর সুবীর জিজ্ঞাসা করল, উনি যে নন্দিতার মামা তা জানলেন কেমন করে?

    দীপেনের কাছে নন্দিতার ফটো দেখেই……….

    নন্দিতা বললো, ছবিটা না দেখলেই কেলেঙ্কারি হতো।

    সাবিত্রী হাসতে হাসতে বললেন, দীপেন ঠাকুরপোকে উনি কথা দিয়েছেন তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করবেন।

    সুবীর একটু হেসে নন্দিতাকে বললো, ভগবান আমাদের ঠিক জায়গাতেই পৌঁছে দিয়েছেন।

    .

    প্রবীরবাবু আর সুমিত্রা ভি. আই. পি. রোডে থাকলেও মাঝে মাঝে আসেন। না এসে পারেন না।

    সুমিত্রার হাতে মিষ্টির প্যাকেট দেখেই মিঃ সোম বলেন, দিদি, রোজ রোজ মিষ্টি নিয়ে আসা কী ঠিক হচ্ছে?

    সুমিত্রা একটু কপট গাম্ভীর্য এনে বলেন, একশ-বার ঠিক হচ্ছে। মিষ্টি আনি বলে কি আপনি আমাকে তাড়িয়ে দিতে পারবেন?

    না দিদি, সে সাহস নেই।

    সাবিত্রী বলেন, জানো সুমিত্রা, তোমার দাদা এখন সব নেমন্তন্ন বাড়ীতেই তোমার ভাইফেঁটায় দেওয়া ধুতি-পাঞ্জাবি পরে যাবেন আর সবাইকে বলবেন……….

    সুমিত্রা কপালে হাত দিয়ে বলেন, হা ভগবান! ঐ ধুতি-পাঞ্জাবির কথা আবার সবাইকে বলেন?

    মিঃ সোম বলেন, তুমি যেমন একশবার মিষ্টি আনবে, আমিও সেইরকম ধুতি-পাঞ্জাবির কথা একশবার সবাইকে বলব।

    সুমিত্রা বললো, ঠিক আছে। সামনের বার আন্ডারওয়ার-গেঞ্জি দেব। দেখি, কি করে বলে বেড়ান।

    তুমি দিতে পারলে আমিও বলতে পারব।

    দেখতে দেখতে মিঃ সোমের এখানে কয়েক শ ছেলেমেয়ের বিয়ে হলো; কিন্তু এ ধরনের মধুর সম্পর্ক দু-চারজনের সঙ্গেই গড়ে উঠেছে।

    বিয়ের পর সুমিত্রা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। সাবিত্রীকে বলে, যখন নিঃসঙ্গ ছিলাম তখন বাধ্য হয়ে চাকরি করেছি। কিন্তু এখন আর টাকার লোভে চাকরি করতে ইচ্ছে করে না।

    সাবিত্রী সঙ্গে সঙ্গে তাকে সমর্থন জানান, ঠিক করেছ।

    সুমিত্রা বলে, এর আগে আমার বিয়ে হয়েছিল ঠিকই কিন্তু সংসার করি নি।

    সাবিত্রী ওর কথার অর্থ ঠিক বুঝতে পারেন না। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে সুমিত্রার দিকে তাকাতেই ও বলে, যে মহাপুরুষের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল, সে একদিনের জন্যও আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয় নি। তাছাড়া এত বেশী নেশা করতো যে, যখন ঘরে আসতো তখন তার কোন জ্ঞানই থাকত না।

    সাবিত্রী বললেন, মাঝখান থেকে শুধু শুধু তোমার জীবনটা ওলট-পালট হয়ে গেল।

    তাছাড়া বাবার সারা জীবনের সঞ্চয় নষ্ট হলো। সুমিত্রা এবার একটু হেসে বললো, যাই বলল বৌদি। এখন আর আমার কোন দুঃখ নেই। প্রবীরকে পেয়ে আমার জীবন ধন্য হয়েছে।

    সত্যি ঠাকুরপোর মত ছেলে হয় না।

    আমি জানতাম, প্রবীর ভাল কিন্তু সতের বছর পর ওকে আবার নতুন করে পেয়ে বুঝলাম, ও অসাধারণ।

    তা না হলে কেউ সতের বছর ধরে এইভাবে জীবন কাটাতে পারে?

    সুমিত্রা একটু আনমনা হয়। উদাস দৃষ্টি দূরের, বহুদূরের আকাশের কোলে ঘোরাঘুরি করে। সাবিত্রী ওর দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারে, সুমিত্রা কাছে বসেও দূরে চলে গেছে। ফেলে আসা দিনের স্মৃতি রোমন্থন করছে। কখনও খুশির হাসিতে মুখখানা উজ্জ্বল ভাস্বর হয়ে উঠছে; কখনও আবার ব্যথা-বেদনায় ম্লান হচ্ছে ঐ উজ্জ্বল সুন্দর মুখখানা।

    বেশ কিছুক্ষণ পরে সাবিত্রী জিজ্ঞাসা করল, কী ভাবছ?

    ভাবছি তোমার ঠাকুরপোর কথা। তুমি শুনলে অবাক হয়ে যাবে যে বিয়ের পর তোমার ঠাকুরপোর ঘর করতে গিয়ে কী দেখলাম জানো?

    কী?

    দেখলাম, আলমারির মধ্যে সতেরটা শাড়ী রয়েছে।…

    আচ্ছা।

    ঐ শাড়ীগুলো কিসের জানো? কিসের?

    আগে ও আমার জন্মদিনে প্রতি বছর একটা শাড়ী দিতো। যে সতের বছর আমাকে কাছে পায় নি, সেই সতের বছরেও আমার জন্মদিনে ও প্রতি বছর শাড়ী কিনেছে।

    কী আশ্চর্য!

    সুমিত্রা একটু হেসে বললো, আগে আগে আমরা দুজনে খুব থিয়েটার দেখতাম। তোমার ঠাকুরপো আমাকে কাছে পায় নি বলে একলা একলা একটাও থিয়েটার দেখে নি।

    তাই নাকি?

    হ্যাঁ বৌদি। এই লোকটা আমার জন্য যে কী আত্মত্যাগ করেছে তা ভাবলেও অবাক লাগে।

    এই আত্মত্যাগ করেছে বলেই তো ঠাকুরপো তোমাকে হারিয়েও আবার পেয়েছে।

    আবার একটু চুপচাপ। আবার সুমিত্রা কোথায় যেন হারিয়ে যায়।…

    জানো বৌদি, মাঝে মাঝে হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি, তোমার ঠাকুরপো বসে আছে।

    .

    কী হলো? বসে আছো কেন?

    প্রবীর একটু হেসে বললো, ঘুম আসছে না।

    কেন? শরীর খারাপ লাগছে?

    না, না, শরীর খারাপ লাগছে না।

    তবে?

    তোমাকে দেখছি।

    সুমিত্রা তাবাক হয়ে প্রশ্ন করে, তার মানে?

    প্রবীর সুমিত্রার মুখের সামনে মুখ নিয়ে মুগ্ধ বিস্ময়ে একবার ওকে দেখে। তারপর বলে, হ্যাঁ মিত্রা, তোমাকে দেখতে এত ভাল লাগে যে কিছুতেই ঘুম আসে না।

    তাই বলে রাত জেগে আমাকে দেখবে? হ্যাঁ। দেখে দেখে আশা মেটে না?

    হ্যাঁ।

    কেন?

    দিনে আমরা সবাই দায়িত্ব-কর্তব্যের দাস। তাই তখন আমাদের আসল রূপটা দেখা যায় না। রাত্তিরেই মানুষের সৌন্দর্য।

    সুমিত্রা হাসতে হাসতে বলে, তাই বলে এত রাত্রে আর আমার মত বুড়ীর সৌন্দর্য দেখতে হবে না। তাছাড়া এভাবে ক রাত্তির আমার সৌন্দর্য দেখলে তোমাকে আর সুস্থ থাকতে হচ্ছে না।

    প্রবীর বলে, অসুস্থ হলে তো তোমাকে সব সময় কাছে পাবো।

    .

    সব শোনার পর সাবিত্রী বললেন, সত্যি ঠাকুরপো একটা আস্ত পাগল।

    সুমিত্রা একটু আত্মতৃপ্তির হাসি হেসে বললো, তোমার ঠাকুরপো সত্যিই পাগল! একটু থেমে, একটু এদিক-ওদিক দেখে, একটু চাপা গলায় বললো, সারা রাত ঠিক বাচ্চা ছেলের মত আমার বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে শুয়ে থাকবে। সকালবেলায় ঘুম ভাঙ্গার পর ওকে ঐভাবে শুয়ে থাকতে দেখে ভীষণ মায়া হয়।

    সাবিত্রী বলেন, ঠাকুরপো সম্পর্কে তোমার দাদাও ঠিক ঐ কথাই বলেন।

    দাদা কি বলেন?

    বলেন, প্রবীরের চোখ দুটো দেখলেই ভীষণ মায়া হয়।…

    আর কি বলেন?

    বলেন, প্রবীরের বয়স হয়েছে, কিন্তু তবু ওকে ছোট ছেলের মত আদর করতে ইচ্ছে করে।

    দাদাকে ও দারুণ শ্রদ্ধা করে।

    সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

    অফিসের কাজের জন্য প্রবীরবাবু বেশী দিন আসতে না পারলে সুমিত্রা একলাই চলে আসে। বিকেলের দিকে অফিসছুটির পর প্রবীরবাবু এখান থেকে সুমিত্রাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

    সুমিত্রা এলে সারা দুপুর সাবিত্রীর সঙ্গে গল্প হবেই।

    জানো বৌদি, যে মেয়েয়া কোনদিন কাউকে ভালবাসেনি বা কারুর ভালবাসা পায়নি তারা যে কোন পুরুষের কাছে নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আমার মত মেয়েরা তা পারে না।

    সাবিত্রী বলেন, প্রবীরবাবু সত্যি অপূর্ব মানুষ।

    আমি তো ভগবানের চাইতেও ওকে বেশী ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি।

    নিশ্চয়ই করবে।

    সুমিত্রা একটু হেসে বলে, আমি ওকে কি বলি জানো?

    কি?

    বলি, রামচন্দ্র চোদ্দ বছর বনবাসে গিয়েছিলেন বলেই যদি রামায়ণ লেখা যায়, তাহলে তুমি আমার জন্য কুড়ি বছর অপেক্ষা করেছ বলে রামায়ণের চাইতে বড় কিছু লেখা যায়।

    সাবিত্রী একটু হেসে জিজ্ঞাসা করেন, প্রবীরবাবু কী বলেন?

    সুমিত্রাও হাসে। বলে, ও বলে, সে মহারামায়ণ আমাকেই লিখতে হবে, আমাকেই পড়তে হবে।

    এবার সাবিত্রী একটু চাপা হাসি হেসে বলেন, তোমার মত মেয়েকে ভালবেসেছিলেন বলেই উনি কুড়ি বছর অপেক্ষা করেছিলেন।

    তার মানে?

    এই বয়সেও তোমার রূপ দেখে অনেক পুরুষেরই মাথা ঘুরে যাবে।

    সুমিত্রা একটু লজ্জিত বোধ করে। বলে, তা তো বটেই।

    সাবিত্রী ওর গাল টিপে বলেন, এমন সর্বনাশা রূপসীর প্রেমে পড়লে কি কোন পুরুষের বাঁচার উপায় থাকে?

    .

    সুমিত্রা এলে সাবিত্রীর আর কাজে মন লাগে না। কোন মতে কাজকর্ম করেই গল্প করবে। সুমিত্রার সঙ্গে গল্প করতে ওর এতই ভাল লাগে যে রমেনবাবু একটু বেশী বাজার করলেই উনি বলেন, আচ্ছা, তুমি কী ভেবেছ বল তো?

    রমেনবাবু অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, আমি আবার কী করলাম?

    আমাকে না বলেই এত মাছ আনলে কেন?

    এবার রমেনবাবু হেসে বলেন, রোজ রোজ তো এসব মাছ পাওয়া যায় না। তাছাড় দিদি এসেছে…

    ওকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই সাবিত্রী স্বগতোক্তি করেন, কোথায় একটু গল্পগুজব করব। তা না! এখন আমাকে সারাদিন এই রান্নাঘরের মধ্যে বন্দিনী হয়ে থাকতে হবে।

    রমেনবাবু তখনও হাসেন। বলেন, তুমি একলা একলা রাঁধবে কেন? দিদিও নিশ্চয়ই কিছু রাঁধবে।

    তোমার দিদি যদি রান্নাঘরে থাকে, তাহলে কী আমি চেয়ার টেবিলের সঙ্গে গল্প করব?

    দিদি যখন রান্নাঘরে কাজ করবে, তখন তুমি আমার সঙ্গে গল্প করবে।

    সুমিত্রা বাথরুম থেকে স্নান করে বেরিয়েই বলে, হ্যাঁ বৌদি, তুমি দাদার সঙ্গে গল্প করো। আমি রান্না করে দেব।

    সাবিত্রী হেসে বলে, তোমার দাদার ন্যাকামির কথা বাদ দাও। মাঝে মাঝে তোমার দাদা এমন ঢং দেখায় যে…….

    সাবিত্রীর কথা শুনে সুমিত্রা হাসে। রমেনবাবু সুমিত্রার সামনে এইসব কথা শুনে অস্বস্তি বোধ করেন, লজ্জিত হন। তাই বলেন, বলছিলাম, অনেক দিন তত দিদির হাতের রান্না খাই না, তাই…

    সুমিত্রা বলে, তুমি যাই বলল বৌদি, আজ আমি তোমাকে রান্নাঘরে ঢুকতে দিচ্ছি না।

    সুমিত্রা-প্রবীরবাবুর বিয়ের পর শুধু ওদের জীবনেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় নি; ওদের বিয়ের পর ম্যারেজ রেজিস্ট্রার রমেন সোম ও তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীর জীবনেও আনন্দের জোয়ার এসেছে।

    .

    এখন রমেন সোমের বয়স পঞ্চাশ পার হয়ে গেছে। জীবনে অনেক অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার পরই উনি ম্যারেজ অফিসার হন, কিন্তু এই নতুন ভূমিকায় স্বল্পকালীন সময়ে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তা বহু মানুষ সারা জীবনেও সঞ্চয় করতে পারে না।

    এক দল ছেলেকে সঙ্গে এনে যেদিন দিলীপ আর মায়া বিয়ের নোটিশ দিতে এসেছিল, সেদিনই ওর একটু খটকা লেগেছিল। তবে আইন অনুসারে যে কোন আঠারো বছরের মেয়ে আর একুশ বছরের ছেলে নিজেদের পছন্দমত বিয়ে করতে পারে বলে উনি কিছু বলেননি। নোটিশ দেবার ঠিক এক মাস পরে যেদিন ওরা বিয়ে করল, সেদিনও মিঃ সোম কোন আগ্রহ দেখান নি। আইনমত কর্তব্য সম্পাদন করে সার্টিফিকেট দিয়েছেন, আমি রমেন্দ্রনাথ সোম এতদ্বারা নিশ্চিতভাবে জানাইতেছি যে……শ্রীদিলীপ ঘোষ ও শ্ৰীমতী মায়া ঘোষ (বসু) আমার সামনে হাজির হন এবং নীচে স্বাক্ষরিত তিনজন সাক্ষী সমক্ষে ১১নং ধারা অনুযায়ী ঘোষণা করিবার পর আইনানুসারে আমার সামনে উহাদের বিবাহ সম্পাদিত হয়।

    এই বিয়ে হবার কয়েক দিন পরে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক এসে হাজির।

    আমার নাম নিবারণ ঘোষ। একটু বিপদে পড়েই আপনার কাছে এসেছি।

    মিঃ সোম বললেন, বলুন, আমি কি করতে পারি।

    আপনি রেজিস্ট্রি বিয়ে দেন?

    মিঃ সোম শুধু মাথা নাড়লেন।

    ইদানীংকালে শিবনাথ ঘোষ নামে কোন ছেলের বিয়ে দিয়েছেন?

    মিঃ সোম রেজিস্ট্রার দেখে বললেন, না, ঐ নামের কোন ছেলের বিয়ে আমি দিইনি।

    নিবারণবাবু বেশ মুষড়ে পড়লেন। বললেন, দেননি। কিন্তু পাড়ায় রটেছে…….

    কী রটেছে?

    আপনার এখানেই সমার সঙ্গে ওর বিয়ে হয়েছে।

    মিঃ সোম আবার ভাল করে রেজিস্ট্রার দেখে বললেন, রমা নামের কোন মেয়ের বিয়েও তো আমার এখানে হয়নি।

    নিবারণবাবু মাথা নীচু করে কি যেন ভাবেন।

    মিঃ সোম জিজ্ঞাসা করলেন, কতদিন আগে ওদের বিয়ে হয়েছে বলতে পারেন?

    কবে বিয়ে হয়েছে তা তো বলতে পারব না, তবে কবে পালিয়েছে তা বলতে পারি।

    কবে পালিয়েছে?

    গত রবিবার ভোরে।

    মিঃ সোম রেজিস্ট্রার খুলে বললেন, গত শুক্রবার ওই মে আমার এখানে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মায়া বসুর বিয়ে হয়েছে।…….

    দিলীপ ঘোষ? মেয়েটির নাম কী বললেন?

    মায়া বসু।

    না, না, ও না।

    শিবনাথ কাকে নিয়ে পালিয়েছে?

    সম্পর্কে আমার এক জ্ঞাতি বোন রমা মিত্তিরকে নিয়ে পালিয়েছে। নিবারণবাবু একটু থেমে বললেন, সব চাইতে বড় কথা সামনের জ্যৈষ্ঠে রমার বিয়ের ঠিক হয়েছে।

    হঠাৎ রেজিস্ট্রারের দিকে দৃষ্টি পড়তেই মিঃ সোম বললেন, আচ্ছা সাক্ষীদের নাম বলছি। দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা। জ্যোতি চক্রবর্তী, নন্দদুলাল দে আর কমল রায়।

    নিবারণবাবু ঠোঁট উল্টে বললেন, না, ওদের কাউকেই চিনতে পারলাম না।

    এবার মিঃ সোম জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি শিবনাথ আর রমার হাতের লেখা চিনতে পারবেন?

    শিবনাথের হাতের লেখা চিনতে পারব, কিন্তু রমার হাতের লেখা তো চিনতে পারব না।

    মিঃ সোম বিয়ের নোটিশ দেবার ফর্মের বাণ্ডিলটা বের করে দিলীপ ঘোষের এ্যাপ্লিকেশনটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা।

    নিবারণবার পকেট থেকে চশমা বের করে চোখে দিয়ে একটু ঝুঁকে পড়েই প্রায় চিৎকার করে উঠলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, এই ত শিবুর হাতের লেখা।

    এবার মিঃ সোম হেসে বললেন, তাহলে আপনার ছেলে সবকিছু মিথ্যা বলে ঐ রমাকেই বিয়ে করেছে।

    তাহলে উপায়?

    পুলিশে রিপোর্ট করুন। বিচারে ওদের দুজনেরই জেল হবে।

    কিন্তু……

    কিন্তু কী?

    তাতে তো আমি বাঁচতে পারব না। ঐ মেয়েটার বাবা-মাকে আমি কি বলব? নিবারণবাবু খুব জোরে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে আপন মনেই বললেন, অত গহনাগাটি কোথা থেকে আমি পাবো?

    মিঃ সোম জিজ্ঞাসা করলেন, ওরা কী অনেক গহনা-টহনা নিয়ে গেছে।

    আর বলবেন না। হারামজাদা আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এবার মুখ তুলে মিঃ সোমের দিকে তাকিয়ে বললেন, রমার মার পঁচিশ-তিরিশ ভরি গহনা আমার স্ত্রীর কাছে ছিল। তার একটাও ওরা রেখে যায়নি।

    আপনি কি পুলিশে রিপোর্ট করতে চান না?

    পুলিশে রিপোর্ট করে আর কি হবে? যে কেলেঙ্কারি, যে সর্বনাশ হবার তা তো হয়েই গেছে। এখন উপরে থুথু ফেললে তো নিজের গায়ে এসেই পড়বে।

    তা ঠিক।

    নিবারণবাবুকে দেখলেই মনে হয়, অত্যন্ত সৎ ও সহজ সরল মানুষ। গলায় তুলসীর মালা প্রমাণ করছে, ভদ্রলোক বৈষ্ণব। ধার্মিক। চোখমুখের চেহারা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, ছেলের কাণ্ড কারখানায় উনি হতবাক হয়ে গেছেন। মিঃ সোম ওকে যত দেখেন, তত বিষণ্ণ হন মনে মনে। কিন্তু ওকে সাহায্য করতে না পেরে আরো বেশী বিষণ্ণ, আরো বেশী অসহায় বোধ করেন।

    কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকার পর নিবারণবাবু কোন কথা না বলে চোরের মত মাথা নীচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

    আইন বড় নির্দয়। আইনের নির্দেশমত কর্তব্য পালন করতে গিয়ে মনের মধ্যে আরো অনেকবার কালবৈশাখীর মাতলামি হয়েছে, কিন্তু কিছু করতে পারেননি। মুখ বুজে কর্তব্য পালন করেছেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleথ্রি এএম – নিক পিরোগ
    Next Article চেকপোস্ট – নিমাই ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নিমাই ভট্টাচার্য

    মেমসাহেব – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    এ-ডি-সি – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    আকাশ-ভরা সূর্য-তারা – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    ডিপ্লোম্যাট – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রিয়বরেষু – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রেমের গল্প – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }