Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যদিও সন্ধ্যা – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প121 Mins Read0
    ⤷

    ০১. জংলামতো ছায়াময় জায়গা

    জংলামতো ছায়াময় জায়গা। আধো আলো আধো অন্ধকারে দুটা কচুগাছ। একটা কচুগাছে রোদ এসে পড়েছে। তির্যক আলো পড়ার জন্যেই হয়তো কচুপাতার সবুজ রঙ ঝলমল করছে। দুটি কচুপাতাতেই শিশির জমে আছে। চিকমিক করছে শিশির।

    শওকতের ইচ্ছা করছে কচুপাতায় আস্তে করে টোকা দিতে। যাতে শিশিরবিন্দুগুলি গড়িয়ে পড়ে। ঝরে পড়ছে শিশির দেখতেও খুব সুন্দর লাগার কথা। কাজটা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ দৃশ্যটা বাস্তব না। জলরঙে আঁকা ছবি। ছবির পাতায় টোকা দিয়ে শিশির ঝরানো যাবে না। ছবিতে সময় স্থির হয়ে থাকে। সময়কে আটকে দিতে পারেন শুধুমাত্র চিত্রকররা। কার কথা যেন? ও আচ্ছা, ব্রিটিশ, পেইন্টার কনস্টবলের কথা। ইনি সাত বছর ধরে এঁকেছিলেন তাঁর বিখ্যাত ছবি— Landscape with trees and a distant mansion.

    এই ছবিটা কনস্টবল সাহেবকে দেখাতে পারলে হতো। শওকত বলত, আচ্ছা স্যার, আপনার কি ইচ্ছা করছে না কচুপাতায় টোকা দিয়ে শিশিরবিন্দু ঝরিয়ে দিতে?

    এই প্রশ্নের উত্তরে কনস্টবল সাহেব তার দিকে কঠিন চোখে তাকাতেন, জবাব দিতেন না। তখন শওকত বলত, স্যার, আপনার তো ডিটেল কাজের দিকে ঝোঁক। এই ছবির ডিটেলের কাজ দেখেছেন? আপনি নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন জলরঙে ডিটেলের কাজ করা খুবই কঠিন। ছবির গ্রান্ডমাস্টাররা এই কারণেই জলরঙ পছন্দ করতেন না।

    শওকত প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে সিগারেটের প্যাকেট বের করল। নতুন প্যাকেট। এখনো খোলা হয় নি। এই বাড়িতে সিগারেট খাওয়া যায় কি-না সে জানে না। আজকাল প্রায় বাড়িতেই সিগারেট ধরানো নিষিদ্ধ। এটা একটা নতুন ফ্যাশন। সিগারেট ঠোঁটে দেয়ামাত্র ঘরের কত্রী চোখ কপালে তুলে বলবেন—ভাই, এই বাড়ি স্মোক-ফ্রি। সিগারেট খাবার জন্যে বারান্দায় জায়গা করা আছে। কিছু মনে করবেন না প্লিজ।

    এ বাড়ির ড্রয়িংরুমের সাজসজ্জা দেখে মনে হচ্ছে। এ বাড়িটাও স্মোকফ্রি। শওকত যেখানে বসে আছে, তার পাশেই সাইড টেবিলে অবশ্যি একটা এসট্রে রাখা আছে। ক্রিস্টালের তৈরি এসট্টে। এত সুন্দর যে সেখানে সিগারেটের ছাই ফেলতে হলে বুকের কলিজা বড় হওয়া লাগে। দেখে মনে হচ্ছে না কেউ এখানে কোনোদিন ছাই ফেলেছে।

    ড্রয়িংরুম ফাঁকা। সিগারেট ধরানো মাত্র কেউ বলবে না এই বাড়ি স্মোক ফ্রি। তারপরেও শওকত মন স্থির করতে পারছে না। সে বসে আছে পনের মিনিটের মতো হয়েছে। এর মধ্যে একজন বাবুর্চি টাইপ লোক শান্তিনিকেতনি ভাষায় বলেছে, আপনাকে চা দেব? শওকত বলেছে, হ্যাঁ। সেই চা এখনো আসে নি। একা একা বসে থাকতে শওকতের খুব যে খারাপ লাগছে তা না। অতি বড়লোকদের ড্রয়িংরুমে এমন সব জিনিস থাকে যা দেখে সুন্দর সময় কাটানো যায়।

    কোনো কোনো বাড়ির ড্রয়িংরুম মিউজিয়ামের মতো সাজানো থাকে; মুখোশ, গালার তৈরি মূর্তি, পাথরের মূর্তি, কষ্টিপাথরের মূর্তি, লাফিং বুদ্ধা। আবার কিছু ড্রয়িংরুম হয় আর্ট গ্যালারি। বিখ্যাত সব পেইন্টারদের ছবি। যামিনী রায়, নন্দলাল বসু, ফিদা মকবুল হোসেন। দেশীয় পেইন্টারদের মধ্যে জয়নুল আবেদীন ছাড়া আর কেউ পাত্তা পান না।

    আবার কিছু কিছু বাড়ির ড্রয়িংরুম দেখে মনে হয়— ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে ঢুকে পড়া হয়েছে। পৃথিবীর নানান দেশের নানান জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো। গৃহকর্তা যেসব দেশ ভ্রমণ করেছেন, সেসব দেশের কিছু না কিছু জিনিস কিনেছেন। এস্কিমোদের মাথার ফার টুপি থেকে ইফেল টাওয়ারের ক্রিস্টাল রেপ্লিকা। কিছুই বাদ নেই।

    এই বাড়ির ড্রয়িংরুমের চরিত্রটা শওকতের কাছে এখনো পরিষ্কার হয় নি। দর্শনীয় একটা ঝাড়বাতি আছে। যদিও ঝাড়বাতির চল এখন উঠে গেছে। নতুন কনসেপ্টে ড্রয়িংরুম হতে হবে সিম্পল, ঘরোয়া। ইংরেজি ভাষায় কমফর্টবেল এন্ড কোজি। আধুনিক ড্রয়িংরুমে দুটার বেশি পেইন্টিং থাকবে না। এ বাড়িতে আছে কচুপাতার উপর শিশির।

    তিনটা ফ্যামিলি ছবি থাকতে পারে। তিনটার বেশি কখনো না। এই ড্রয়িংরুমে তিনটাই আছে।

    স্যার, আপনার চা।

    শওকত তাকাল। বাবুর্চি টাইপ লোকটা শেষপর্যন্ত চা এনেছে। এককাপ চা। চায়ের সঙ্গে পিরিচ দিয়ে ঢাকা ঠাণ্ডা এক গ্লাস পানি। পানিটা যে খুবই ঠাণ্ডা সেটা বুঝা যাচ্ছে গ্লাসের গায়ে জমা বিন্দু বিন্দু পানির কণা দেখে। শওকতের এমনিতে কখনোই পানির তৃষ্ণা হয় না। শুধু ঠাণ্ডা পানির গ্লাস দেখলে প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়ে যায়। শওকত পানি খেতে খেতে বলল, আপনার নাম কী?

    লোকটি হাসিমুখে বলল, স্যার আমার নাম আকবর।  এই ড্রয়িংরুমে কি সিগারেট খাবার অনুমতি আছে?

    অবশ্যই আছে। আপনার কাছে সিগারেট আছে? না-কি আনিয়ে দেব?

    সিগারেট-ম্যাচ সবই আমার সঙ্গে আছে। আমি যে এসেছি আপনার ম্যাডাম কি তা জানেন?

    জি জানেন। উনি গোসলে ঢুকেছেন বলে দেরি হচ্ছে। আপনি চা খেতে খেতে চলে আসবেন। স্যার, আপনাকে কি খবরের কাগজ দেব?

    দরকার নেই। এ বাড়িতে আপনার কাজটা কী?

    আমি কেয়ারটেকার। সব ধরনের কাজই কিছু কিছু করতে হয়।

    আপনার ভাষা খুবই সুন্দর। দেশের বাড়ি কোথায়?

    যশোহর।

    আপনি কি আমাকে আরেক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খাওয়াতে পারবেন?

    অবশ্যই পারব।

    শওকত সিগারেট ধরাল। চায়ের কাপে চুমুক দিল। বড়লোকদের বাড়ির চা কেন জানি সবসময়ই কিছুটা ঠাণ্ডা হয়। এই চা ঠাণ্ডা না, গরম এবং খেতেও ভালো। শওকত আবারো তাকাল কচুপাতার ছবির দিকে। আলো-ছায়ার খেলাটা এত সুন্দর এসেছে! এই শিল্পীকে মন খুলে অভিনন্দন জানাতে পারলে ভালো হতো। সেটা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এই ছবি তারই আঁকা। নিজেকে নিজে ধন্যবাদ দেয়ার চল সমাজে নেই।

    স্যার, আপনার পানি।

    থ্যাংক য়্যু।

    স্যার, আর কিছু লাগবে?

    না, আর কিছু লাগবে না।

    চা আরেক কাপ দেই?

    না, থ্যাংক য়্যু।

    আকবর নামের মানুষটা হাসিমুখে তাকিয়ে আছে। Uninteresting Face. এই চেহারার পোট্রেট করা যায় না। একটা সময় ছিল যখন নতুন কোনো মুখ দেখলেই সে মনে মনে ঠিক করে ফেলত এই মুখের পোট্রেট করা যায় কি যায় না। পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে সে দুভাগে ভাগ করেছিল— Intersting Face, Uninteresting Face. Interesting Face-এর বাংলা কী হবে? মজাদার চেহারা, না-কি আকর্ষণীয় চেহারা? আকর্ষণীয় চেহারা অবশ্যই হবে না। অনেক চেহারা মোটেই আকর্ষণীয় না, কিন্তু খুবই interesting.

    চা শেষ হয়ে আসছে। আকবরের কথানুসারে এর মধ্যেই তার ম্যাডামের চলে আসার কথা। হয়তো যে-কোনো মুহূর্তে চলে আসবে। তার ম্যাডামের নাম রেবেকা। শওকতের সঙ্গে বিয়ের পর নামের শেষে সে শওকতের শ লাগাত। সে লিখত রেবেকা শ। নাম শুনলে মনে হতো বার্নাড শর ভাতিজি।

    রেবেকার সঙ্গে তার বিয়ে মাত্র সাত বছর টিকেছে। আরো সূক্ষ্ম হিসাব করলে বলতে হয় বিয়ে টিকেছে ছয় বছর নয় মাস। তার বিবাহিত জীবন শেষ হলো ছয়-নয়ে। ছয়-নয়ের প্যাচ কঠিন প্যাচ।

    শওকতের চা এবং সিগারেট দুটাই এক সঙ্গে শেষ হয়েছে। আকবরের কথা শুনে আরেক কাপ চায়ের কথা বললে ভালো হতো। দ্বিতীয় কাপ চা এবং দ্বিতীয় সিগারেটের সঙ্গে কিছু অ্যাডভান্স চিন্তা করে রাখা। যেমন রেবেকা যখন ঘরে ঢুকবে সে তখন কী করবে? সম্মান দেখানোর মতো উঠে দাঁড়াবে? যে মেয়েটির সঙ্গে সে সাত বছর বিবাহিত জীবনযাপন করেছে, তাকে দেখে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোর মধ্যে সামান্য হলেও কমেডি এলিমেন্ট আছে। সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর কোনো মানে হয় না। আবার গঁাট হয়ে বসে থাকা আরো হাস্যকর। রেবেকা এখন অন্য আরেকজনের স্ত্রী। সমাজের সম্মানিত মহিলা। তাকে সম্মান দেখানো দোষের কিছু না। শওকত যদি কাঠের গুড়ির মতো বসে থাকে, তাহলে রেবেকা হয়তো ভুরু কুঁচকে বিরক্তি বিরক্তি ভাব নিয়ে তাকাবে। কিন্তু শওকত যদি অতি বিনয়ী হয়ে লাফ দিয়ে উঠে দাড়ায়, তাহলে রেবেকা কিছুটা লজ্জা পাবে। লজ্জা পুরোপুরি কাটার আগেই শওকত বলবে, রেবেকা কেমন আছ? আবেগবর্জিত স্বাভাবিক সৌজন্যমূলক প্রশ্ন।

    রেবেকা বলবে, ভালো।

    তারপরই শওকত আরো স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলবে, মিস্টার অ্যান্ডারসন কেমন আছেন?

    এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে রেবেকা একটু হলেও থতমত খাবে। আগের স্বামীর মুখে বর্তমান স্বামীবিষয়ক প্রশ্ন কোনো মেয়েরই সহজভাবে নেবার কথা না।

    সরি, তোমাকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখেছি।

    রেবেকা পেছন দিক থেকে কখন ঘরে ঢুকেছে শওকত বুঝতেই পারে নি। সে চট করে উঠে দাঁড়াল। উঠে দাঁড়াতে গিয়ে সামনের টেবিলের কোনায় হাঁটুর খোচা লাগল। পিরিচে রাখা চায়ের কাপটা পিরিচে পড়ে কাত হয়ে পড়ে গেল। কাপে চা ছিল না। চা থাকলে চা গড়িয়ে বিশ্রী কাণ্ড হতো।

    শওকত বলল, কেমন আছ রেবেকা?

    রেবেকা বসতে বসতে বলল, ভালো আছি।

    শওকতের এখন দ্বিতীয় প্রশ্নটা করার কথা। খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার রেবেকার স্বামীর নাম এখন আর মনে পড়ছে না। শওকত নিশ্চয়ই বলতে পারে না, রেবেকা, তোমার আমেরিকান স্বামী কেমন আছেন? শওকতের স্মৃতিশক্তি দুর্বল না, রেবেকার স্বামীর নাম সে জানে। নিউজার্সিতে এই ভদ্রলোকের পুরনো বইয়ের একটা দোকান আছে। দোকানের নাম All gone! বাংলা করলে হয় সব চলে গেছে। ভদ্রলোক এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসথেটিকস পড়াতেন। রেবেকার সঙ্গে সেখানেই তার পরিচয়। ছাত্র পড়াতে ভালো লাগে না বলে তিনি পুরনো বইয়ের দোকান দিয়েছেন। তার এখন সময় কাটছে পুরনো বই পড়ে। শওকতের সব কিছু মনে পড়ছে। ভদ্রলোকের নামটা শুধু মনে পড়ছে না। তার সাময়িক ব্ল্যাক আউট হয়েছে।

    রেবেকা বলল, তোমার কি শরীর খারাপ না-কি?

    শওকত বলল, না তো!

    রেবেকা বলল, কেমন কপাল টপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছ।

    একটা কথা মনে করার চেষ্টা করছি। কিছুতেই মনে পড়ছে না।

    রেবেকা বলল, চেষ্টা বেশি করলে মনে পড়বে না। রিলাক্সড থাক। মনে পড়বে।

    শওকত এই প্রথম রেবেকার দিকে তাকাল। যেসব বাঙালি মেয়ে দেশের বাইরে থাকে তাদের চেহারায় আলগা এক ধরনের লালিত্য দেখা যায়। গায়ের রঙও হয় উজ্জ্বল ও রেবেকাকে অন্যরকম দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে তার বয়স কমে গেছে। চেহারায় কেমন যেন বিদেশিনী বিদেশিনী ভাব চলে এসেছে। এরকম হয়েছে চুলের কারণে। রেবেকার চুল ছিল লম্বা এবং কোঁকড়ানো। কোঁকড়ানো ভাব এখন আর নেই। চুল কেটে সে ছোটও করেছে। তবে এতে তাকে দেখতে খারাপ লাগছে না। বরং আগের চেয়েও সুন্দর লাগছে।

    শওকত বলল, তুমি আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছ।

    রেবেকা বলল, থ্যাংক য়্যু।

    শওকত বলল, মিস্টার অ্যান্ডারসন কেমন আছেন?

    বলেই সে খুব তৃপ্তি বোধ করল। নামটা শেষপর্যন্ত মনে পড়েছে।

    রেবেকা বলল, সে ভালো আছে। এই নামটাই কি তুমি মনে করার চেষ্টা করছিলে?

    শওকত বলল, হ্যাঁ।

    রেবেকা বলল, চা খাবে?

    চা একবার খেয়েছি।

    আরেকবার খাও। আমি সকালে কোনো নাশতা করি না। এক কাপ চা আরেকটা টোস্ট বিস্কিট খাই। আজ এখনো খাওয়া হয় নি। তোমার সঙ্গে খাব বলে অপেক্ষা করছিলাম।

    চা দিতে বলো।

    তুমি নাশতা খেয়ে এসেছ?

    হ্যাঁ।

    কী নাশতা করলে?

    পরোটা আর বুটের ডাল।

    রেস্টুরেন্টের রান্না?

    হ্যাঁ।

    খাওয়া-দাওয়া কি সব হোটেল থেকে আসে?

    একবেলা ঘরে রান্না হয়।

    একবেলাটা কখন?

    রাতে।

    কে রাঁধে?

    আমি নিজেই রাঁধি। ভাত ডিম ভাজি ডাল। সিম্পল ফুড।

    বাসায় কাজের কোনো লোক নেই?

    একজন ছিল। মায়ের অসুখ বলে দেশে গিয়েছিল, আর ফেরে নি।

    রেবেকা উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, আমি চায়ের কথা বলে আসি। চায়ের সঙ্গে আর কিছু খাবে?

    না।

    তোমাকে অতি ব্যক্তিগত কিছু প্রশ্ন যে করলাম, তার পেছনে কারণ আছে। তোমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার এখন আগ্রহ দেখানোর কিছু নেই।

    কারণটা কী?

    আমি দেশে এসেছি পনের দিনের জন্য। সঙ্গে করে ইমনকে নিয়ে এসেছি। সে তার এবারের জন্মদিন তোমার সঙ্গে করতে চায়। আমি ঠিক করেছি চারপাঁচদিন একনাগাড়ে তাকে তোমার সঙ্গে থাকতে দেব।

    আমার কথা কি তার মনে আছে?

    মনে থাকবে না কেন? তোমার সঙ্গে যখন আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তখন ইমনের বয়স পাঁচ বছর তিন মাস। চার বছর থেকেই শিশুদের সব স্মৃতি থাকে।

    ইমন কোথায়?

    সে তার নানুর কাছে গিয়েছে। তার শরীরটা ভালো না।

    কী হয়েছে?

    জ্বর বমি এইসব। দেশের ওয়েদার তাকে স্যুট করছে না।

    শওকত আগ্রহ নিয়ে বলল, ইমনকে কবে নিয়ে যাব?

    রেবেকা বলল, ওর জন্মদিন কবে তোমার কি মনে আছে?

    না। ভুলে গেছি।

    আমারো তাই ধারণা। ওর জন্মদিন এই মাসের নয় তারিখ। তুমি পাঁচ তারিখ এসে ওকে নিয়ে যাবে। তুমি একটু অপেক্ষা কর, আমি চা নিয়ে আসছি।

    ড্রয়িংরুমে শওকত এখন একা। সে আগেও একা বসেছিল, তখন নিজেকে একা একা মনে হয় নি। এখন মনে হচ্ছে। সবচে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে রেবেকা যখন বলল, আমি সঙ্গে করে ইমনকে নিয়ে এসেছি, তখন সে বুঝতেই পারে নি ইমনটা কে? যখন বুঝতে পারল তখন হঠাৎ সব জট পাকিয়ে গেল। সে ভুলে গেল এই মাসের নয় তারিখে ইমনের জন্মদিন। সে কখনো এই দিন ভুল করে না। ঐ দিন সে একটা সাদা ক্যানভাসে মনের সুখে হলুদ রঙে মাখায় লেমন ইয়েলো। কারণ শওকত তার ছেলের নাম রেখেছিল লেমন ইয়েলো। রঙের নামে নাম। ছেলের জন্ম হলো মিডফোর্ট হাসপাতালে। ছেলেকে দেখে সে বিস্মিত হয়ে বলেছিল— একী! এই ছেলে দেখি সন্ধ্যার আকাশের সমস্ত লেমন ইয়েলো রঙ নিয়ে চলে এসেছে। আমি এই ছেলের নাম রাখলাম লেমন ইয়েলো!

    লেমন ইয়েলো দেশে এসেছে। সে তার বাবার সঙ্গে কয়েকদিন থাকবে।

    রেবেকা চায়ের ট্রে নিয়ে ঢুকেছে। শওকত আবারো উঠে দাঁড়িয়েছে। এবার উঠে না দাঁড়ালেও চলত। কেন দাঁড়াল সে নিজেও জানে না।

    রেবেকা বলল, তুমি এখন কী করছ?

    শওকত বলল, একটা ডেইলি পেপারে ইলাস্ট্রেশন করি। আর দুটা ম্যাগাজিনে পার্ট টাইম ইলাস্ট্রেশন করি। বইমেলার সময় বইয়ের কাভার করি। সেট ডিজাইন করি।

    তোমার চলে যায়?

    হুঁ। দেশে টাকা পাঠাতে হয় না। মা মারা গেছেন। আমার নিজের তো আর টাকা বেশি লাগে না।

    তোমার মার মৃত্যু তাহলে তোমার জন্যে একটা রিলিফের মতো হয়েছে। প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে হবে এই টেনশন নেই।

    শওকত ক্ষীণ স্বরে বলল, ঠিকই বলেছ।

    রেবেকা বলল, যে কয়দিন ইমনকে রাখবে তার খাওয়া-দাওয়ার দিকে লক্ষ রাখবে। হোটেলের কোনো খাবার বা ফাস্ট ফুড খাওয়াবে না। খাওয়া নিয়ে সে মমাটেও যন্ত্রণা করে না। এক গ্লাস দুধ, এক পিস পাউরুটি, একটা হাফ বয়েলড় ডিম হলেই তার হয়।

    তুমি চিন্তা করো না, আমি বাইরের খাবার খাওয়াব না।

    ছবি আঁকাআঁকি কি বন্ধ?

    বন্ধই বলা চলে।

    ছবি আঁকছ না কেন?

    ইচ্ছা করে না।

    ছেলেকে যখন কাছে নিয়ে রাখবে, তখন একটা দুটা ছবি আঁকার চেষ্টা করবে। ইমন তার বাবার ছবি আঁকা নিয়ে খুব একসাইটেড।

    ও আচ্ছা।

    ফাদারস ডে-তে তাদের স্কুলে বাবাকে নিয়ে রচনা লিখতে বলা হয়েছিল। ইমন একটা দীর্ঘ রচনা লিখেছে। রচনার শিরোনাম হচ্ছে My Painter Father.

     

    বলো কী?

    আমি তার রচনাটার ফটোকপি নিয়ে এসেছি। তোমাকে দিয়ে দেব। এটা পড়া থাকলে ছেলে তার বাবা সম্পর্কে কী ভাবছে তা তোমার জানতে সুবিধা হবে। আমি চাই এই অল্প কয়েকটা দিন ইমন যেন আনন্দে থাকে।

    আমি চেষ্টা করব। ইমনকে নিতে কবে আসব?

    আগেই তো বলেছি, পাঁচ তারিখে চলে এসো।

    এখন তাহলে উঠি?

    এক মিনিট দাঁড়াও, ইমনের লেখা এসেটা তোমাকে দিচ্ছি। ইমন যেন জানতে না পারে, সে লজ্জা পাবে।

    ওকে কিছু বলব না।

    একটা কথা তোমাকে বলতে ভুলে গেছি— রাতে কিন্তু সে অন্ধকার ঘরে ঘুমুতে পারে না। অবশ্যই ঘরে বাতি জ্বালিয়ে রাখবে।

    হুঁ রাখব।

    তোমার বাসায় কি এসি আছে?

    না।

    এখন অবশ্য গরম সেরকম না। ঠিক আছে, তুমি যে অবস্থায় থাক ছেলে সেই অবস্থাটাই দেখুক। তার জন্যে আলাদা কিছু করতে হবে না।

     

    ইমনের লেখা ইংরেজি রচনার বাংলাটা এরকম–

    আমার পেইন্টার বাবা

    আমার বাবা থাকেন বাংলাদেশে। সেখানের সবচে বড় শহরটার নাম টাকা। তিনি ঢাকায় থাকেন এবং দিনরাত ছবি আঁকেন। গাছপালার ছবি, নদীর ছবি এইসব। তিনি গাছপালার ছবি বেশি আঁকেন কারণ বাংলাদেশে অনেক গাছ। পুরো দেশটা সবুজ। এই জন্যেই বাংলাদেশের পতাকার রঙও সবুক। সবুজের মাঝখানে লাল সূর্য আঁকা।

    আমার বাবাকে আমি খুবই পছন্দ করি। তিনি আমাকে পছন্দ করেন কি-না আমি জানি না। মনে হয় করেন না। কারণ তিনি কখনোই আমার বার্থডেতে কোনো কার্ড পাঠান নি। এই নিয়ে আমি মোটেও মন খারাপ করি না। কারণ তিনি খুব ব্যস্ত মানুষ। তাঁকে দিন-রাত ছবি আঁকতে হয়।

    আমি আমার বাবাকে তিনটা কার্ড পাঠিয়েছি। তিনটা কার্ডের ছবি আমি নিজে এঁকেছি। একটাতে ছিল ক্রিসমাস ট্রি। আরেকটা ছবিতে আমি মাছ মারতে লেক ইওনিতে গিয়েছি। অন্য কার্ডটা শুধু ডিজাইন। কার্ডগুলো পাঠাতে আমার খুবই লজ্জা লাগছিল। কারণ, আমার বাবা কত ভালো ছবি আঁকেন। আর আমি তো ছবি আঁকতেই পারি না। আমি যখন রঙ দেই, তখন একটা রঙের সঙ্গে আরেকটা রঙ মিশে কেমন যেন হয়ে যায়। যদি কখনো বাবার সঙ্গে আমার দেখা হয়, তাহলে আমি তার কাছ থেকে ছবি আঁকা শিখব।

    আমার আঁকা তিনটা কার্ডের কোনোটাই শেষপর্যন্ত বাবাকে পাঠানো হয় নি, কারণ আমার মা বাবার ঠিকানা জানতেন না। মার কোনো দোষ নেই, কারণ বাবার স্বভাব হচ্ছে দুদিন পর পর বাড়ি বদলানো। বড় বড় শিল্পীরা এরকমই হয়। ভ্যানগ নামের শিল্পীর কোনো বাড়ি-ঘরই ছিল না। আমাদের আর্ট টিচার মিস সুরেনসন বলেছেন— ভ্যানগগ তার প্রেমিকাকে নিজের কান কেটে উপহার দিয়েছিলেন। আমি মনে মনে খুব হেসেছি। কাটা কান কি কাউকে উপহার হিসেবে দেয়া যায়? আমি শব্দ করে হাসি নি কারণ শব্দ করে হাসলে মিস সুরেনসন রাগ করেন।

    রাগ করলেও আমাদের সবার উচিত শব্দ করে হাসা এবং শব্দ করে কাদা। কারণ তাতে আমাদের লাংস পরিষ্কার থাকে। এই কথাটা আমাদেরকে বলেছেন আমাদের গেম টিচার। আমি যদিও কোনো গেম পারি না, তারপরেও আমি গেম টিচারকে খুব পছন্দ করি। তাকে সবাই ডাকে কনি। কিন্তু তার নাম রিচার্ড বে হাফ। আমি গেম টিচারকে আমার বাবার কথা বলেছি। তিনি বলেছেন–তোমার বাবা তো একজন অতি ভালোমানুষ। তার সঙ্গে আমি দেখা করতে

    দেখা করা সম্ভব না। কারণ বাবা তো আর আমেরিকায় থাকেন না। বাবা যদি আমেরিকায় থাকতেন তাহলে আমি অবশ্যই বাবার সঙ্গে তাঁর দেখা করিয়ে দিতাম। বাবাকে বলতাম, তুমি মিস্টার কনির একটা পোট্রেট এঁকে দাও। পোট্রেট করার সময় তার গালের কাটা দাগটা মুছে দিও। এই কাটা দাগটা উনি পছন্দ করেন না।

    মিস্টার কনি আমাকে বলেছেন বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা নিয়ে কখনো মন খারাপ করতে নেই। তুমি দূর থেকে তোমার বাবাকে ভালোবাসবে। তোমার বাবাও দূর থেকে তোমাকে ভালোবাসবেন। যখন তোমাদের দেখা হবে তখন দেখবে তোমার এবং তোমার বাবার ভালোবাসার মধ্যে রেসলিং শুরু হবে। সব রেসলিং-এ একজন হারে একজন জিতে। এই রেসলিং-এ দুজনই জিতবে।

    মিস্টার কনি এত মজার মজার কথা বলেন! মজা করে কথা বললেও তিনি আসলে খুবই জ্ঞানী।

    শওকত তার ছেলের লেখা রচনা অতি দ্রুত একবার শেষ করে দ্বিতীয়বার পড়তে শুরু করল। প্রথমবার পড়তে কোনো সমস্যা হয় নি, দ্বিতীয়বার পড়তে খুব কষ্ট হলো। এক একটা লাইন পড়ে, চিঠি ঝাপসা হয়ে আসে। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleম্যাজিক মুনশি – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article ছায়াসঙ্গী – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }