Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যদ্যপি আমার গুরু – আহমদ ছফা

    লেখক এক পাতা গল্প150 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. ভারতের হাই কমিশনার সমর সেন

    বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার সমর সেনের সঙ্গে রাজ্জাক স্যারের একরকম হৃদ্যতা ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সময়ে। সমরবাবু হয়তো স্যারের ছাত্র কিংবা ছাত্রস্থানের ছিলেন। বোধ করি সমর সেন বাংলাদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত দুনম্বর ভারতীয় হাই কমিশনার। সুবিমল দত্তের পরে সমরবাবু ঢাকায় পোস্টিং পেয়েছিলেন। সমরবাবুর বাড়িতে স্যারের পরিবারের যেমন যাওয়া-আসা ছিলো, তেমনি ভারতীয় হাই কমিশনারও নানা উপলক্ষে স্যারের বাড়িতে আসতেন। সেদিন ন’টা সাড়ে ন’টার সময় স্যারের বাড়িতে গিয়ে দেখি সরগরম অবস্থা। কাজের লোকেরা ঘরবাড়ি, আলমারি, চেয়ার, টেবিল, বইয়ের শেলফ ঘষে ঘষে পরিষ্কার করছে। বাড়ির মেয়েরাও ওই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যোগ দিয়েছে। স্যারের ভ্রাতুষ্পপুত্রীকে জিগ্‌গেস করলাম, খুব তো তোড়জোড় চলছে, উপলক্ষটা কী?

    সে আমাকে জানালো, আজ ভারতীয় হাইকমিশনার এবং তাঁর বেগম দুপুরে খেতে আসবেন।

    স্যার কোথায় জিগ্‌গেস করলে সে আমাকে রান্নাঘর দেখিয়ে দিলো।

    আমি রান্নাঘরের সামনে এসে দেখি হ্যার হেলু চাচিকে নির্দেশ দিচ্ছেন। হেলু চাচি কাজের লোকদের পাল্টা নির্দেশ দিচ্ছেন। খুব ব্যস্ত-ব্যস্ত ভাব। চুলাতে কড়াই উঠছে এবং চুলা থেকে কড়াই নামছে। ছ্যাঁত ছোঁত শব্দ হচ্ছে। রান্নাঘরের গরমে স্যার ঘেমে গেছেন। তার মুখে বড় বড় ঘামের ফোটা। আমাকে দেখে স্যার হাসলেন এবং জিগ্‌গেস করলেন, মৌলবি আহমদ ছফা, রান্নাবান্না করতে জানেন?

    আমি মাথা নেড়ে জানালাম, কিছুই জানি না।

    স্যার মন্তব্য করলেন, তা অইলে আপনে কোনো কামে আইবেন না। যান বয়েন।

    হেলু চাচি বললেন, মেজোভাই, আপনিও একটু বিশ্রাম করেন গিয়ে, বাকিটা আমরা সারতে পারবো।

    স্যারের সঙ্গে আমি ড্রয়িংরুমে চলে এলাম। স্যার বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে এলেন। ছোকরা চাকরিটা তামাক দিয়ে গেল। স্যার হুঁকোতে টান দিয়ে জিগ্‌গেস করলেন, মৌলবি আহমদ ছফা, আপনে রান্নাবান্নার কোনো খবরটবর রাখেন?

    আমি বললাম, না স্যার, কোনো খবর রাখিনে। স্যার বললেন, যে জাতি যত সিভিলাইজড তার রান্নাবান্নাও তত বেশি সফিস্টিকেটেড। আমাগো ইস্টার্ন রান্নার সঙ্গে পশ্চিমাদের রান্নার কোনো তুলনাই অয় না। অরা সভ্য অইছে কয়দিন। এই সেদিনও তারা মাছ মাংস কাঁচা খাইত।

    স্যার গ্যাস্ট্রোনমির ওপর একটা সুদীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। তার অনেক কিছুই আমার মনে নেই। মুসলমানেরা যেসব খাওয়াদাওয়া ভারতে চালু করেছে ভাসাভাসা তার দুয়েকটা মনে আছে। চীনা খাবার, ভারতীয় খাবার, আরবদের এবং ইউরোপীয়দের খাবারের বৈশিষ্ট্য নিয়ে সেদিন আলোচনা করেছিলেন এবং প্রাকৃতিক কারণও ব্যাখ্যা করেছিলেন। রান্নাবান্না এবং খাদ্যদ্রব্য সম্পর্কে আমার কোনো আগ্রহ না থাকায় স্যারের আলচনা আমার মনে স্থান করে নিতে পারেনি।

    টেলিফোনে কার সঙ্গে কথা বললেন। রিসিভার রেখে বললেন, বদরুদ্দীন উমর। হেরেও আইবার কইছিলাম। হে কয় তার অন্য কাম আছে। তারপরে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনে কোনোদিন বদরুদ্দীন উমরের বউয়ের বাংলা উচ্চারণ শুনছেন নিহি?

    আমি বললাম, না, আমি শুনিনি।

    এক্কেরে বিশুদ্ধ বাংলা কয়, উচ্চারণ নিখুঁত। আপনেগো উচিত। তার বাংলা পাঠ ক্যাসেট কইরা রাখা। পরে খুব কামে আইব।

    আমি বললাম, আপনি ত স্যার ঢাকার বাংলা বলেন, আমাদেরকে কেনো পশ্চিম বাংলার উচ্চারণরীতিটা অনুসরণ করতে বলছেন?

    স্যার কথাটা পাশ কাটিয়ে গেলেন। তারপর তিনি একজন সাহেবের নাম উচ্চারণ করলেন, আমি এখন মনে করতে পারছি না। সেই সাহেব নাকি একশো বছর আগে লিখে গিয়েছেন, বেঙ্গলে ঢাকা জেলার মানুষেরা বিশুদ্ধ বাংলায় কথাবার্তা কয়। এই ফাঁকে স্যার আরেকবার তামাক দিতে বললেন। হুঁকো টানতে টানতে বললেন, বাংলা ভাষার মধ্যে যে পরিমাণ এলিট (elite) মাস (mass) গ্যাপ এইরকম দুনিয়ার অন্য কোনো ভাষার মধ্যে খুঁইজ্যা পাইবেন কি না সন্দেহ। আধুনিক বাংলা ভাষাটা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতেরা সংস্কৃত অভিধান দেইখা দেইখ্যা বানাইছে। আসল বাংলা ভাষা এইরকম আছিল না। আরবি ফারসি ভাষার শব্দ বাংলা ভাষার লগে মিশ্যা ভাষার একটা স্ট্রাকচার খাড়া অইছিল। পলাশির যুদ্ধের সময়ের কবি ভারতচন্দ্রের রচনায় তার অনেক নমুনা পাওয়া যাইব। ব্রিটিশ শাসন চালু অইবার পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পন্ডিতেরা আরবি ফারসি শব্দ ঝাঁটাইয়া বিদায় কইর‍্যা হেই জায়গায় সংস্কৃত শব্দ ভইরা থুইছে। বাংলা ভাষার চেহারা কেমন আছিল, পুরানা দলিলপত্র খুঁইজ্যা দেখলে কিছু প্রমাণ পাইবেন।

    আমি বললাম, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতেরা যে গদ্যরীতিটা চালু করেছিলেন, সেটা তো স্থায়ী হতে পারেনি। বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এসে বাংলা গদ্যের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এবং রূপান্তর ঘটে গেছে।

    পরিবর্তন ত অইছে। কিন্তু কীভাবে অইছে এইটা দেখন দরকার।

    আমি জানতে চাইলাম, কীভাবে পরিবর্তনটা হয়েছে। স্যার বললেন, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতেরা ভাষার স্ট্রাকচারটা খাড়া করেছিলেন, তার লগে ভাগীরথী পাড়ের ভাষার মিশ্রণে আধুনিক বাংলা ভাষাটা জন্মাইছে। আধুনিক বাংলা বঙ্গসন্তানের ঠিক মুখের ভাষা না, লেখাপড়া শিইখ্যা লায়েক অইলে তখনই ওই ভাষাটা তার মুখে আসে।

    স্যার অনেকক্ষণ ধরে কথাবার্তা বলছিলেন। নিচে গাড়ির হর্ন শোনা গেল। তিনি তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়ালেন। আমাগো মেহমানরা বুঝি অইলেন।

    আমি বললাম, স্যার আমি এখন যাই।

    স্যার বললেন, যাইবেন কই বয়েন, আপনেও একলগে চাইরটা খাইয়া যাইবেন।

    আমি গায়ের ময়লা কাপড়াচোপড় দেখিয়ে বললাম, এই জামাকাপড়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে যাওয়া ঠিক হবে না।

    স্যার বললেন, মৌলবি আহমদ ছফা, আপনের মুখে এই প্রথম শুনলাম, আপনেও জামাকাপড়ের কথা চিন্তা করেন।

    আমি চলে এলাম, স্যার আর পীড়াপীড়ি করলেন না।

    কিছুদিন পরে স্যারের বাড়িতে গেলাম। স্যার একা ছিলেন। তাকে খুব খুশি-খুশি মনে হচ্ছিলো। কয়েকদিন থেকে একটা ব্যাপার নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে জবর বিতর্ক চলছিলো। বিষয়টি ছিল সেক্যুলারিজম। সেক্যুলারিজমের বাংলা প্রতিশব্দ কেউ-কেউ ইহজাগতিকতা বলে দাঁড় করাতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এই প্রতিশব্দের মধ্যে সেকুলারিজমের আসল স্বরূপ প্রকাশ পায়নি বলেই আমার ধারণা। তাই স্যারকে জিগ্‌গেস করলাম। সেকুলারিজম কী? স্যার বললেন, ইউরোপীয় রেনেসাঁর আগে খ্ৰীস্টানজগৎ মনে করত মরণের পরে যে অনন্ত জীবন অপেক্ষা কইর‍্যা আছে হেইড অইল আসল জীবন। দুনিয়ার জীবন তার অ্যাপেনডেজ মাত্র। খ্ৰীষ্টানগো শিল্প সাহিত্য সবখানেই পরকালের মহিমাকীর্তন করা অইত। যীশুখ্ৰীষ্ট ত এই নশ্বর দুনিয়াকে ভেল অভ টিয়ার্স কইয়া গেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিটা একদিনে একমাসে বা এক বছরে পাল্টায় নাই, অনেকদিন লাগছে। রেনেসাঁর সময়ে যখন ধীরে ধীরে জীবনের একটা ডেফিনেশন তৈয়ার অইতেছিল, তখন পুরা দৃষ্টিভঙ্গিটাই পাল্টাইয়া গেল। রেনেসাঁর আগে পরকালটাই আছিল সব। রেনেসাঁর পরে এই দুনিয়াটাই সব, পরকাল কিছুই না।

    আমি বললাম, সব ধর্মেই তো অনন্ত জীবনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইসলাম ধর্মেও পরকালের ভূমিকাকে বড় করে দেখানো হয়েছে।

    স্যার বললেন, ইসলাম ধর্মের সঙ্গে অন্যান্য ধর্মের একটা বড় পার্থক্য এইখানে যে ইসলাম ধর্মেও পরকালের গুরুত্ব স্বীকার করা অইছে, কিন্তু ইহকালের গুরুত্বও অস্বীকার করা অয় নাই। ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখেরাতের কথা ইসলামে যেভাবে বলা আইছে, অন্য কোনো ধর্মে সেরকম নাই। তিনি বললেন, ইন্ডিয়ার কথাই ধরেন না কেন, এইখানে যত কাব্য লেখা অইছে, যত স্থাপত্য এবং ভাস্কৰ্যকীর্তি তৈয়ার অইছে, তার লক্ষ্য আছিল দেবতার সন্তোষ সাধন। মানুষের ভোগ, উপভোগ, আনন্দের কথা প্রসঙ্গক্রমে বলা অইলেও মূল গতিমুখ আছিল দেবতাদের সন্তুষ্ট করা। এই জিনিসটা বাংলা সাহিত্যেও দেখতে পাইবেন। ভারতচন্দ্র এইটিনথ সেঞ্চরিতে অন্নদামঙ্গল কাব্য দেবীর আদেশে, দেবীর পূজা প্রচলন করার উদ্দেশ্যে লিখতে বইছেন। মুসলমানেরা এই দেশে আইস্যা মসজিদ এবং অন্যান্য ধৰ্মস্থান সুন্দর কইর‍্যা বানাইছে, এই কথা যেমন সত্য, তেমন বাস করবার ঘরটারেও সুন্দর কইর‍্যা বানাইতে ভুল করেন নাই। এই জিনিস আপনে এ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়াতে পাইবেন না। সেকুলারাইজেশন ইফেক্ট অব ইসলাম অন ইন্ডিয়া ওয়াজ রিয়্যালি ইনারমাস। এই কথা এখন অনেকে মাইন্যা নিবার চান না।

    আমি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ওপর নাতিক্ষুদ্র একটি পুস্তিকা লিখেছিলাম। ওতে কিছু নতুন কথা সাহস করে বলেছিলাম। লেখাটির বক্তব্য নিয়ে ঢাকা এবং কলকাতার পণ্ডিতদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকে আমার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। অপরদিকে আমার মতের বিরোধিতা যারা করছিলেন, তাদের সংখ্যাও অল্প ছিল না। আমার ইচ্ছে ছিল রাজ্জাক স্যার আমার লেখাটি সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করেন। একসময়ে গিয়ে জেনে নেবো। নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। স্যারও থাকেন অনেক দূরে। কখন বাসায় থাকেন তারও ঠিক নেই। নানা মানুষ তাকে ধরে নানা জায়গায় নিয়ে যান। যাহোক, এক সন্ধ্যায় স্যারের বাড়িতে গেলাম। তিনি সিঙ্গাপুর থেকে কয়েকদিন হল চিকিৎসা সেরে এসেছেন। আমাকে দেখামাত্রই স্যার টেবিল থেকে বঙ্কিমের ওপর আমার লেখা বইটি হাতে তুলে নিয়ে বললেন, এই যে আপনের লেখা।

    আমি একটুখানি বিস্মিত হয়ে বললাম, স্যার, আমি তো আপনাকে বইটা দিতেই এসেছি, আপনি কীভাবে পেলেন।

    স্যার বললেন, আপনে দেওনের আগে পাইছি।

    আমি জানতে চাইলাম, স্যার লেখাটি পড়েছেন।

    আমি অপেক্ষা করছিলাম। তার মতামত জানার জন্য। স্যার এভাবে কথা শুরু করলেন, একটা কবিতা আছে না—‘আমি থাকি ছোট ঘরে বড় মন লয়ে, নিজের দুঃখের অন্ন খাই সুখী হয়ে।‘

    বঙ্কিমের ব্যাপারে জিনিসটা অইব একেবারে উল্টা অর্থাৎ আমি থাকি বড় ঘরে ছোট মন লয়ে। হের উপরে আপনের সময় নষ্ট করার প্রয়োজন আছিল না। আপনের ত অঢেল ক্ষমতা, অপাত্রে নষ্ট করেন ক্যান? ইচ্ছা করলে অন্য কাম করবার পারেন।

    একজন লেখক হিসেবে বঙ্কিমের চাপিয়ে দেয়া ধারণার প্রতিবাদ করার প্রয়োজনীয়তা আমি অনুভব করেছি, একথা স্যারকে বারবার করে বুঝিয়ে বলেও সন্তুষ্ট করতে পারলাম না।

    কয়েক বছর থেকে একটা জিনিস। আমি লক্ষ করে আসছি। আমার কোনো লেখা যদি স্যারের মনঃপূত না হয়, স্যার সেই রচনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্যই করেন না। শেলফ থেকে টলস্টয়ের ওয়ার অ্যান্ড পীস নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করেন। এই উপন্যাসে যুদ্ধের দৃশ্য কত নিপুণভাবে বর্ণিত হয়েছে, মানব-চরিত্রের গভীরে ড়ুব দিয়ে টলস্টয় কত বিশদভাবে ছোটো বড় চরিত্র বিকশিত করে তুলেছেন, নিসর্গদৃশ্য, নরনারীর প্রেম। এসব টলস্টয় যতো মুন্সিয়ানা সহকারে এঁকেছেন, জগতের কোনো লেখকের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। অনেকবার কথাবার্তার মাঝখানে উঠে গিয়ে ওয়ার অ্যান্ড পীস উপন্যাসটি টেনে নানাদিক সম্পর্কে কথাবার্তা বলেছেন। বছরখানেক আগে একবার বলেছিলেন, টলষ্টয়াকে যদি সামন্তসমাজের ক্রিটিক হিসেবে ধরা হয়, তা হলে সালঝেনিতসিনকে বলতে হবে কমিউনিস্ট সমাজের ক্রিটিক। বঙ্কিমের ওপর কথা বলতে গিয়ে আজও স্যার টলষ্টয়ের ওয়ার অ্যান্ড পীসের ওপর এন্তার কথাবার্তা বললেন।

    সেদিন ঘরে ফেরার সময় আমার মনে আচমকা একটা নতুন চিন্তা এলা। স্যার দীর্ঘদিন ধরে আমাকে টলষ্টয়ের ওয়ার অ্যান্ড পীস উপন্যাস সম্পর্কে এত আগ্রহী করার চেষ্টা করছেন কেনো? আমি নিজেকেই প্রশ্ন করলাম তার পেছনে স্যারের কি কোনো উদ্দেশ্য আছে? তখনই মনের ভেতর থেকে জবাব পেলাম। স্যার বোধ করি চান যে আমি ওয়ার অ্যান্ড পীসের মতো কোনো বড় কাজ করার চেষ্টা করি না কেনো? এইরকম একটি বড় উপন্যাস রচনা করার দাম আমার আছে কি না জানি না। আমার ধারণা সঠিক কি না পরখ করার জন্য একদিন স্যারের কাছেই সরাসরি প্রশ্ন করে বসলাম, স্যার, আপনি কি চান ওয়ার অ্যান্ড পীসের মতো একটি বড় উপন্যাস লেখার কাজে আমিও হাত দিই? স্যার সোজাসুজি আমার দিকে ভালো করে তাকালেন। হ, এতদিনে বুঝবার পারছেন?

    রাজ্জাক স্যার আমার সঙ্গে কখনো আমার রচনার ভালোমন্দ কোনোকিছু আলোচনা করেননি। অন্যের মুখে শুনেছি, আমার লেখা তিনি পছন্দ করেন। তারিফ শুনতে কার না ইচ্ছে হয়! আমি একাধিকবার জানতে চেয়েছি, স্যার আমার লেখা আপনার কেমন লাগে, স্যার জবাব দিয়েছেন, না বাবা, আপনেগো লেখার ভালোমন্দ এখনও কইবার পারুম না। লেখার ক্ষমতা আছে লেইখ্যা যান। নিজের খুশিতে লেখবেন। অন্য মাইনষে কী কাইব হেইদিকে তাকাইয়া কিছু লেখবেন না।

    স্যারের ওধরনের জবাব শোনার পর তার মতামত জানার সাহসী হয়নি। আমি কিন্তু স্যারকে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম দিককার রচনার তারিফ করতে শুনেছি। একাধিকবার তিনি আমার কাছে বলেছেন, হুমায়ূনের লেখার হাতটি ভারি মিষ্টি। পরবর্তীতে হুমায়ূন-প্রসঙ্গ উথাপন করলেও উচ্চবাচ্য কিছু করতেন না।

    জার্মান কবি গ্যোতের অমর কাব্য ফাউস্টের অনুবাদে আমি মন দিয়েছিলাম সেই সময়ে। তার একটা অংশ মাসিক সমকালে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই অংশটুকু স্যারকে দেখিয়েছিলাম। স্যার একেবাবে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলেন। আমার অনুবাদটির কথা কত মানুষকে যে বলেছিলেন, তার হিসেব নেই। যে ধরনের কাজে অমানুষিক মানসিক শ্রমের প্রয়োজন হয়, সে ধরনের কাজ করার প্রেরণা আমাদের সমাজ থেকে সংগ্রহ করা একরকম অসম্ভব। এখানে একজন বড় কাজ করলে উৎসাহ দেয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। আমাদের সমাজে গুণগ্ৰাহিতার পরিমাণ নিতান্তই সঙ্কুচিত। সুরুচিসম্পন্ন সংস্কৃতিবান অধিক মানুষ আমাদের সমাজে সত্যি সত্যি বিরল। অবশ্য সাম্প্রতিককালে অবস্থাটা কিছু-কিছু পাল্টাতে আরম্ভ করেছে। রাজ্জাক স্যার যদি আমাকে অনুবাদকর্মটা শেষ করার জন্য বারবার তাগাদা না দিতেন, হয়তো আমি এরকম একটি শ্রমসাধ্য কর্মে দীর্ঘকাল চেষ্টা প্ৰযত্ন এবং শ্রম ব্যয় করতে পারতাম না। একা রাজ্জাক স্যার অনুপ্রাণিত করেছিলেন, একথা বলাও সঠিক হবে না। আরও অনেকেই উৎসাহিত করেছিলেন। রাজ্জাক স্যারের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা চলতে পারে না। কাজটি যখন শেষ করে আসছিলাম, সে সময়ে আমার হাতে বিশেষ টাকাপয়সা ছিলো না। তিনি সময়ে অসমইয়ে টাকাপয়সা দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি আমার রচনাটির যেভাবে প্রশংসা করছিলেন, চাইতেন অন্যেরাও সেভাবে অনুবাদটিকে গ্রহণ করুন। সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ তার বাড়িতে হামেশা যাওয়া-আসা করতেন। আমি উপস্থিত থাকলে আমাকে ফাউষ্টের অনুবাদ পাঠ করে শোনাতে নির্দেশ দিতেন। এই ভদ্ৰ লোকদের কেউ-কেউ মেপে মেপে প্রশংসাও করতেন। বলতেন বেশ হচ্ছে, শুনতে একটুও খারাপ শোনাচ্ছে না ইত্যাদি ইত্যাদি। দুয়েকবার এভাবে রচনা পাঠ করার পর আমার বুঝতে বাকি রইলো না। এই ভদ্রলোকেরা আমার রচনার প্রশংসা করেন, একারণে নয় যে আমার রচনাটি তাদের কাছে সত্যি সত্যি ভালো লেগেছে, স্যারকে খুশি করার জন্যই তারা প্রশংসার কথাগুলো বলতেন। তার পর থেকে স্যার কাউকে রচনা থেকে পড়ে শোনাতে বললে আমি বিরক্ত হতাম, মনেমনে চটে যেতাম। নানারকম অছিলা করে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করতাম।

    একদিন সন্ধেবেলা স্যার আমাকে বললেন, আপনে আমার ওইখানে কাইল বেয়ানবেলা একবার আইবেন। নাস্তা আমার এইখানেই খাইবেন।

    হাজির হয়েছেন। সৈয়দ আলি আহসান, মোস্তাফা নূরউল ইসলাম, ড. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সরদার ফজলুল করিম—আরও কে কে ছিলেন নাম মনে পড়ছে না। স্যার আমাকে অর্থনীতিবিদ ড. মুশাররফ হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে জানালেন, মৌলবি আহমদ ছফা ফাউস্ট অনুবাদ করছে এবং অনুবাদ খুব ভালো হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। ড. মুশাররফ বড় বড় চোখ পাকিয়ে এমনভাবে ই—ন্টা-রে—ষ্টি—ং শব্দটা উচ্চারণ করলেন শুনে, আমার পিত্তি জ্বলে গেলো। এই ধরনের বিলেত আমেরিকা-ফেরত ভদ্রলোকেরা নাসিক্যধ্বনিতে এমনভাবে বাংলা উচ্চারণ করেন, শুনে আপনার মনে হবে তিনি বাংলা বলতে একেবারে অভ্যস্ত নন, যেহেতু ইংরেজি বললে আপনি বুঝবেন না, তাই দয়া করে আপনার সঙ্গে মাতৃজবানে কথা বলছেন। আমি মনেমনে ঠিক করে নিলাম, এই মুহুর্তে একটা ফয়সালা করে নেয়া উচিত, টেবিলে স্তুপীকৃত খাদ্যবস্তু গলাধঃকরণ হওয়ার পরে স্যার অবশ্যই আমাকে অনুবাদ পাঠ করে শোনাবার নির্দেশ দেবেন। যে ভঙ্গিতে ডক্টর সাহেব ইন্টারেস্ট্রিং শব্দটা উচ্চারণ করলেন, সেরকম প্রশংসাবাক্য যদি আমাকে হাজেরান মজলিশের কাছ থেকেও শুনতে হয়, সেসব গুরুপাচ্য জিনিস আমার পক্ষে হজম করা সহজসাধ্য হবে না। তাই ভাবলাম ভোজনপর্ব সমাধা হওয়ার পূর্বে এমন-কিছু করে ফেলা উচিত যাতে করে রচনাপাঠ আপনা থেকেই স্থগিত হয়ে যায়। আমি ড. মুশাররফকে জিগ্‌গেস করলাম, আপনি আমার দিকে একটু তাকান। তিনি আমার দিকে তাকালে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি জীবনে কবি গ্যোতে কিংবা তার কাব্য ফাউস্টের নাম শুনেছেন?

    ড. মুশাররফ ঘাড় চুলকে আমতা-আমতা করে বললেন, হাঁ শুনে থাকবো।

    আমি বললাম, আর কিছু জানেন?

    তিনি বললেন, মানে মানে কিছু-কিছু তো—

    আমি তার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বললাম, আপনি ইন্টারেষ্টিং শব্দটা যেভাবে প্যাট্রোনাইজিং টোনে উচ্চারণ করলেন আমি নিশ্চিত যে এব্যাপারে আপনি কিছুই জানেন না।

    আমাকে সেদিন আর রচনা পাঠ করতে হয়নি, সেকথা বলাই বাহুল্য। এখনও ড. মুশাররফের সঙ্গে দেখা হলে ভালোমন্দ জিগ্‌গেস করেন। আমার ধারণা সেদিনের সে ব্যাপারটি তার পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখানে প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন কাউকে সালাম দিলে, সালামটা তার প্রাপ্য বলে ধরে নেন এবং যিনি সালাম দেন তাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিতান্তই ছোটোলোক বলে ধরে নেয়া হয়।

    অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর ফাউস্ট গ্রন্থটির অনুবাদ যখন শেষ করলাম, আমি সত্যি সত্যি মুশকিলে পড়ে গেলাম। যতোকাল কাজটা শেষ হয়নি। মনে-মনে ধারণা পোষণ করে আসছিলাম মহান একটি বিদেশী কাব্য আমি বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কাছে নিয়ে আসছি। অনেক জ্ঞানীগুণী মানুষ আমার অনুবাদের তারিফ করেছেন। স্বভাবতই আমার মনে একটা গৰ্ববোধ জন্ম নিয়েছিল। রচনাটা যখন শেষ করলাম, দেখা গেল কোনো প্রকাশকই রচনাটিকে ছেপে বের করতে রাজি নন। যে-সকল প্রকাশক আমার যে-কোনো গদ্যরচনা এক সংস্করণের রয়্যালটির টাকা অগ্রিম শোধ করে প্রকাশ করতে কুষ্ঠিত হন না, তারাও বললেন, এই বই বাজারে বিক্রি হবে তার কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং তারা ছাপতে পারবেন না। এই অনুবাদকর্মটা সম্পন্ন করতে আমার বারো বছর লেগেছে। পাণ্ডুলিপির বোঝা হাতে করে প্রকাশকের ঘর থেকে ফিরে আসার সময়, আমার মনে হত বারো বছরের বিফল শ্ৰম আমার কাঁধে পৰ্বতের মতো ভারী হয়ে চেপে বসেছে।

    যে-সকল বই প্রকাশকেরা সচরাচর ছাপেন না, সে-সকল মানসম্পন্ন রচনা বাংলা একাডেমী প্রকাশ করে থাকে। আমি বাংলা একাডেমীর শরণাপন্ন হলাম। একাডেমীর তৎকালীন আমলা মহাপরিচালক আমাকে যেভাবে পত্রপাঠ বিদায় করেছিলেন, সেই ঘটনাটি আমার মনে বিষাক্ত ক্ষতের মতো চিরদিন জেগে থাকবে। অথচ বাংলা একাডেমী আরেক ভদ্রলোককে, শেকসপীয়রের একটি নাটক অনুবাদ করার জন্য সোয়া লক্ষ টাকা অগ্রিম প্রদান করেছিল।

    স্যারের বাড়িতে যেতে আমি বিব্রত বোধ করতাম। তিনি প্রকাশক পাওয়া গেলো কি না সে সংবাদ জানতে চাইতেন। আমি জবাব দিতে পারতাম না। আমার হাতে তখন টাকা পয়সাও ছিল না। বেঁচে থাকা ভীষণ কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছিলো। আমার করুণ মলিন মুখ দেখে স্যার পাছে আমাকে করুণা করেন, সেই ভয়ে স্যারের বাড়িতে যাওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছিলাম। স্যার আমার মনোবেদনার কথা জানতেন। ফাউস্ট সম্পর্কে আর কোনো কিছু জিগ্‌গেস করতেন না। আমিও আর সে প্রসঙ্গ উত্থাপন করতাম না।

    একদিন স্যার আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি গেলে তিনি বললেন, কাইল আমি আলি আহসানের কাছে গেছিলাম। আপনের ফাউষ্টের ব্যাপারে কথাবার্তা কইছি। আপনেও যদি সময় পান একবার যাইয়েন। আলি আহসান আমারে কথা দিছেন, হে জাৰ্মান অ্যাম্বাস্যাডারের লগে কথাবার্তা কইয়া দেখব।

    স্যারের কথামতো আমি একবার সৈয়দ আলি আহসান সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। তখন তিনি জিয়াউর রহমান সাহেবের উপদেষ্টা। আমি কোনোদিনই সৈয়দ সাহেবের প্রতিভাজন ছিলাম না। তবু আমি অবাক হলাম, এ কারণে যে তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে গ্রহণ করলেন। আর বললেন, রাজ্জার স্যার বলেছেন তোমার ফাউস্টের অনুবাদটা খুব ভালো হয়েছে। আমি জার্মান অ্যাম্বাস্যাডারের সঙ্গে একটুখানি আলাপ করেছি। পরে আলাপ করে কী হল স্যারকে জানাবো।

    দিন পনেরো পরে স্যার আমাকে আবার ডেকে পাঠালেন। আমি যখন স্যারের বাড়িতে গেলাম, দেখি স্যার বাইরে যাওয়ার জন্য তৈয়ার হচ্ছেন। আমাকে দেখে বললেন মৌলবি আহমদ ছফা। আমি এক জায়গায় যাইবার লাইছি, বেশি সময় অইব না। জার্মান অ্যাম্বাস্যাডারের লগে সৈয়দ আলি আহসান সাহেবের কথা আইছে। জার্মান অ্যাম্বাস্যাডার কইছেন, আপনের বই ছাপানোর সব খরচ অরা বিয়ার করব। আমি আলি আহসানরে একটা ভূমিকা লেইখ্যা দিবার কথা কইছি।

    স্যারের কথা শুনে আমি ভীষণ উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিলাম, কিন্তু যখন শুনলাম তিনি সৈয়দ আলি আহসানকে ভূমিকা লিখতে বলেছেন আমার মনটা বিশ্ৰী রকম খারাপ হয়ে গেলো। স্যারের ওপর আমার ভীষণ রাগ হল। আমি বারো বছর অমানুষিক পরিশ্রম করে অনুবাদকর্মটি সম্পন্ন করেছি। স্যার আমার মতামত না জেনে সৈয়দ আলি আহসান সাহেবকে ভূমিকা লেখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা আমি কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছিলাম না। সেদিন স্যারকে কিছু না বলে চলে এসেছি। ঘরে এসে ব্যাপারটা গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেছি। স্যার আমার ভালো চান, তাই আপনা থেকে উপযাচক হয়ে গিয়ে সৈয়দ আলি আহসান সাহেবের কাছে প্রস্তাব করেছেন, তাঁকে রাজি করিয়েছেন। এখন আমি যদি রাজি না হই স্যার মনেমনে চোট পেয়ে যাবেন। সে রাতে ঘুমোতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে। যে অনুবাদটি করতে আমি বারো বছর ব্যয় করেছি, সে বইটির জন্য অন্য কেউ আড়াই ঘণ্টায় আড়াই পৃষ্ঠার ভূমিকা লিখে দেবেন, সেটি কবুল করার চাইতে আমার ডানহাত কেটে ফেলা অনেক সহজ ছিলো। স্যারকে পরদিন গিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলাম, আমি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করবো, যদি বইটি অন্য কোনোভাবে প্রকাশ করা যায়। আমার আপত্তি কোথায় স্যার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি হুঁকোর নলটা মুখে দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ছোটো একটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, আপনের উপকার করা অসম্ভব। আমাদের শ্রদ্ধাভাজন বয়োজ্যেষ্ঠরা যেভাবে আমাদের উপকার করতে চান আমরা পরবর্তী প্রজন্মের তরুণরা যেভাবে উপকৃত হতে চাই, তার মধ্যে বিস্তর ফারাক, সেদিন খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলাম।

    পরবর্তীকালে আমার পক্ষে ফাউস্ট প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছিলো। এমনকি কোলকাতাতেও একটি এডিশন প্রকাশিত হয়েছিলো। জার্মান অ্যাম্বেসির অর্থানুকূল্যে ঢাকার এডিশনটি প্রকাশিত হয়েছিল। কলকাতার এডিশনটির ব্যয়ভার বহন করেছিলেন কোলকাতার জার্মান কনসাল জেনারেল।

    স্যারের বিষয়ে লিখতে গিয়ে আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ যথাসম্ভব এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। তথাপি ফাউষ্টের বিষয়টি আমি বাদ দিতে পারলাম না। এই নাতিক্ষুদ্র রচনাটিতে আমার পক্ষে যতোদূর সম্ভব প্রফেসর রাজ্জাকের মতামতসমূহ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। উনি যেভাবে তার কথা বলেছেন, আমি যেভাবে সেগুলো প্রকাশ করেছি। এমন দাবি আমি করতে পারবো না—একটা ফারাক অবশ্যই থেকে গিয়েছে। সে ব্যাপারে অবশ্যই আমি সজাগ। স্মৃতি থেকে তুলে আনার সময় তার মতামত এবং ব্যক্তি হিসেবে তাকে যথাযথ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। আমার যেটুকু সাধ্য আমি করেছি। এপর্যন্ত আমি রাজ্জাক স্যারের কথা বলেছি। তাঁর সম্পর্কে আমার আরও কিছু কথা আছে, সেগুলো পরবর্তীতে বলার চেষ্টা করছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমুক্ত বাতাসের খোঁজে : লস্ট মডেস্টি
    Next Article বাঙালি মুসলমানের মন – আহমদ ছফা

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }