ত্রিদলীয় ঐক্যজোট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন
বিগত ৩রা সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩, গণভবনে আওয়ামী লীগ, মস্কোপন্থী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি এবং মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট পার্টির একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ত্রিদলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ‘জাতির সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থে দেশ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি, মুনাফাখোর, মওজুতদার, দুর্নীতিবাজ এবং সকল প্রকার সমাজবিরোধী শক্তিকে উৎখাত করার জন্য এই তিনটি দল ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সাথে কাজ করবে।’ (দৈনিক বাংলা, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩)। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, উপরোক্ত তিনটি রাজনৈতিক দলের ঐক্য থানা পর্যায়েও সম্প্রসারিত হবে। অর্থাৎ এতদিন যে রাজনৈতিক সহযোগিতা ও যোগসাজশ বেসরকারী পর্যায়ে ছিলো এখন তা সরকারী পর্যায়ে একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে এসে দাঁড়ালো।
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মস্কোপন্থী) এবং বাঙলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কিছু দিন থেকেই আওয়ামী লীগের সাথে সহযোগিতার জন্যে প্রাণপাত করছিলো। কিন্তু অপ্রত্যাশিত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার উন্মাদনায় আওয়ামী লীগ তাদেরকে হিসেবের মধ্যেই গণ্য করেনি, তাদের গায়েপড়া সহযোগিতার কানাকড়ি মূল্যও দেয়নি। নিজেদের একক রাজনৈতিক শক্তি সম্পর্কে উচ্চ ধারণার ফলে আওয়ামী লীগ বিগত নির্বাচনে তাদের ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানকে তো উপেক্ষা করেইছিলো, উপরন্তু জানুয়ারী মাসে তাদের আকস্মিক সরকার বিরোধিতায় ক্ষিপ্ত হয়ে সেই বে-আদবীর শাস্তি হিসেবে তাদেরকে পিটিয়ে ঠাণ্ডা করতে দ্বিধাবোধ করেনি। মারপিট, অকথ্য গালি-গালাজ, নিদারুণ অপমান ইত্যাদির পর বে-আদবী বাদ দিয়ে এই মস্কোপন্থী দল দুটি আবার আওয়ামী লীগের পেছনে দাঁড়ায় এবং অতি নিলজ্জতার সাথে আবার নির্বাচনী সহযোগিতা আওয়ামী লীগের কাছে ভিক্ষে চায়।
কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদেরকে বারবার প্রত্যাখ্যান করে এলে কি হবে। তারা তো আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। কাজেই নির্বাচনে প্রতিটি আসন হারিয়ে পর্যুদস্ত হওয়ার পরও তারা লেজ নেড়ে আওয়ামী লীগের পেছনেই ঘুরতে থাকলো। নিজেদের সাথে আওয়ামী লীগকে জুড়ে দিয়ে এই তিনটি দলকে ‘দেশপ্রেমিকদের’ আখড়া হিসেবে পূর্বেই তারা ঘোষণা করেছিলো। এখন এই দেশপ্রেমিকদের ঐক্য গড়ার জন্য বিপ্লবী মণি সিং, আব্দুস সালাম, খোকা রায়, মোজাফ্ফর আহমদ প্রমুখ নেতারা আওয়ামী লীগের অফিসে দিবারাত্রি ধর্ণা দিয়ে এই সরকারী দলটির চুনোপুঁটিদের কাছে ঐক্যজোটের উমেদারীতে নিযুক্ত হলেন।
আওয়ামী লীগের বড় কর্তারা তো বটেই উপরন্তু চুনোপুঁটিরাও ‘আছে থাক’ এই মনোভাব নিয়ে মস্কোপন্থী এই দল দুটির বড়ো বড়ো পাণ্ডাদের পিঠে হাত বুলিয়ে চললেন। আনুগত্য, বিশেষতঃ এতখানি নিঃশর্ত আনুগত্যের একটা দাম কলিযুগের এই বিশ্বেও যে এখনো আছে তা অস্বীকার করবে কে?
এ তো গেল ত্রিদলীয় ঐক্যজোটের পটভূমি। এখন দেখা দরকার যে, যে আওয়ামী লীগ এতদিন অন্য দল দুটির সাথের নির্বাচনী ঐক্যজোট করতেও গররাজী ছিলো তারা আজ—‘দেশ গড়ার’ উদ্দেশ্যে তিন দলের ঐক্যজোট গঠনে হঠাৎ উৎসাহী হয়ে উঠলো কেন? যে আওয়ামী লীগ মস্কোপন্থী ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে ঐক্যজোট গড়ে কোন রাজনৈতিক সুবিধা অথবা লাভের সম্ভাবনা দেখতো না, তারা আজ ত্রিদলীয় ঐক্যজোটের মধ্যে এই দল দুটিকে আলিঙ্গন করলো কেন?
এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে প্রধানত দুটি কারণে। প্রথমতঃ উপরোক্ত ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির শক্তি বৃদ্ধির কারণে। এই শক্তি বৃদ্ধির ফলে আওয়ামী লীগ তাদের প্রতি পূর্বের অবহেলা বাদ দিয়ে তাদেরকে কাজে লাগাতে উৎসাহী হতে পারে। দ্বিতীয়তঃ, আওয়ামী লীগের শক্তি হ্রাস পাওয়ার ফলে তারা অনুগত দল দুটির সাথে একজোট হয়ে নিজেদের শক্তি কিছুটা বৃদ্ধির চেষ্টা করতে পারে। এই দুই সম্ভাব্য কারণের মধ্যে দ্বিতীয় কারণটিই যে এক্ষেত্রে ঘটেছে সে কথা বিগত কিছুদিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাবলী, বিভিন্ন সংস্থার নির্বাচন ইত্যাদির মোটামুটি বিশ্লেষণ থেকেই বোঝা যায়। ক্ষমতামদমত্ত আওয়ামী লীগ নিজেদের শক্তি যদি দ্রুতগতিতে হারিয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে না দাঁড়াতো তা হলে মস্কোপন্থী ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে দেশ গঠনের ঐক্যজোট গঠনের কোন পরোয়া তারা করতো না, যেমন আগে তারা কোন দিন করেনি।
সদ্য সংগঠিত ত্রিদলীয় ঐক্যজোটটি কি ধরনের ‘ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম’ ভবিষ্যতে চালাবে এবং কি ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্যে নিজেদের ‘দেশপ্রেমমূলক’ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে, তা গত কিছুদিন ধরে তাদের যৌথ রাজনৈতিক উদ্যোগের চেহারা থেকে খুব ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে। একটি অতি সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
মৌলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বহুদিনের রাজনৈতিক অভ্যাসের বশবর্তী হয়ে বিগত ২৯ শে আগস্ট একটি দেশব্যাপী হরতালের আহ্বান দেন। এই হরতাল সংগঠিত করার ক্ষেত্রে মৌলানা অথবা তার দলের তেমন কোন উদ্যোগ, আয়োজন, প্রস্তুতি অথবা প্রচারণা ছিলো না। এই অবস্থায় ‘দেশপ্রেমিকদের’ টনক নড়লো। তারা নিজেদের সরকারী পত্র- পত্রিকা এবং বায়তুল মোকাররমের মাঠে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো, ‘বাঙলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাতের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে হবে, বিদেশী চক্রান্ত রুখতে হবে, ২৯ শে আগস্টের হরতাল বানচাল করতে হবে’। শুধু তাই নয়। তারা মহা আস্ফালনের সাথে ঘোষণা করলো, “কি করে হরতাল বানচাল করতে হয় তা আমাদের জানা আছে।’
দেখা গেলো যে, হরতাল কি করে বানচাল করতে হয় তা সত্যিই তাদের জানা আছে। কিন্তু হরতাল বানচালের বিভিন্ন কলাকৌশল সম্পর্কে জ্ঞান যে শুধু ত্রিদলীয় ঐক্যজোটের আছে তাই নয়। জনগণের ধর্মঘট, হরতাল, আন্দোলনের ওপর কিভাবে আক্রমণ করতে হয় সেটা তাদের পূর্ববর্তী আইয়ুব-মোনেমরাও কম জানতো না এবং এই দেশে তার প্রয়োগ করতে তারাও ছাড়েনি। পাকিস্তানী আমলে জনশত্রুদের সেই সমস্ত দুশমনী কাণ্ডকারখানা জনগণ এখনো ভোলেনি। তাদের স্মৃতিতে তা এখনও জাগরূক আছে।
কাজেই আওয়ামী লীগ এবং তার দুই সেবকদল যখন বললো, হরতাল কি করে বানচাল করতে হয় তা তারা জানে, তখন তাতে কেউই প্রকৃতঃপক্ষে বিস্মিত হয়নি। কারণ জনগণ ইতিমধ্যে অনেকখানি মোহমুক্ত হয়ে বুঝতে শিখেছেন যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের জো-হুজুররা যে শুধু কি করে হরতাল বানচাল করতে হয় সেটাই জানে তাই নয়, তারা জানে কিভাবে বাড়ী দখল করতে হয়, গাড়ীর মালিক হতে হয়; ভালো খাদ্য বস্ত্র কিভাবে আসে; চোরাকারবারী থেকে কিভাবে মুনাফা ওঠাতে হয়; পারমিট ব্যবসার ফন্দি-ফিকিরে কিভাবে ফিরতে হয়; দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে কিভাবে নিজেদের ব্যক্তিগত উদর পূরণ করতে হয়।
যৌথভাবে দল তিনটি মৌলানা ভাসানীর দ্বারা আহূত হরতাল বানচাল করতে গিয়ে একদিকে যেমন হরতাল বানচালের বিভিন্ন পন্থা অবলম্বনের ক্ষেত্রে নিজেদের কৃতিত্ব ভালোভাবেই জাহির করেছে, অন্যদিকে তেমনি তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে মৌলানার ন্যাপ এবং অন্যান্য কয়েকটি বিরোধী দলও হরতালের ব্যাপারে কিছুটা সক্রিয় হয়ে ও সমর্থন জানিয়ে তাকে বহুলাংশে সফল করেছে। এই সাফল্যের ক্ষেত্রে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা খুব উল্লেখযোগ্য।
হরতাল বানচালের ক্ষেত্রে সরকারের নির্যাতনকারী ভূমিকা ও জোর-জুলুমের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের এবং বিরোধী দলসমূহের এই প্রতিক্রিয়া ও সাফল্য কোন নোতুন জিনিস নয়। আইয়ুব-ইয়াহিয়ার সামরিক শাসন আমলেও এই ধরনের জুলুম-নির্যাতন যত বেশী হয়েছে, আন্দোলন ততই জনগণের সমর্থন লাভ করে সাফল্যের দিকে এগিয়ে গেছে।
যাই হোক, এখন ত্রিদলীয় ঐক্যজোটের কথায় আবার ফেরা যাক। এই ঐক্যজোট আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত যে সমস্ত কারণে গঠন করেছে তার মধ্যে সব থেকে গুরত্বপূর্ণ কারণ হলো, আওয়ামী লীগের দ্রুত অপসৃয়মান জনপ্রিয়তা। এই নিদারুণ অজনপ্রিয়তাই আজ আওয়ামী লীগকে বাধ্য করেছে নিজের শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মস্কোপন্থী দল দুটির সাথে ঐক্যজোটে আবদ্ধ হতে।
আওয়ামী লীগের প্রতি বর্তমান বাঙলাদেশের বুভুক্ষু, বিবস্ত্র, নিরাশ্রয়, সদাশঙ্কিত এবং সংগ্রামী জনগণের দৃষ্টিভঙ্গী আমূল পরিবর্তনের ফলে এখন আর আওয়ামী লীগের কোন আহ্বানেই পূর্বের মতো মানুষ জড়ো হয় না। মাঠে, ময়দানে, বিমানবন্দরে কোন জায়গাতেই তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দর্শন ও বক্তৃতা শ্রবণের জন্যে আগের মতো ভীড় করে না। তবে শুধু একথা বললে বাস্তব অবস্থার বিবরণ সঠিক হয় না। কারণ, সঠিক চিত্র হলো এই যে, বর্তমান বাঙলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে এখন আইয়ুব- ইয়াহিয়ার মতোই লোক ভাড়া করে মাঠে-ময়দানে, বিমানবন্দরে হাজির করতে হয়।
ত্রিদলীয় ঐক্যজোটের মধ্যে মস্কোপন্থী দল দুটিকে কেন আওয়ামী লীগ এখন আলিঙ্গন করলো তার প্রকৃত কারণ এর মধ্যেই সন্ধান করতে হবে। এই সন্ধান সামান্য অগ্রসর হলেই বোঝা যাবে যে, ভাড়াখাটা মানুষের প্রয়োজন উপলব্ধি থেকেই আওয়ামী লীগ সরকার অন্য দুটি দলের সাথে ঐক্যজোটে আঁতাতবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
মস্কোপন্থী দল দুটিকে দালাল হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের তিনটি বিশেষ সুবিধে আছে। প্রথমতঃ, এরা দালালী করে একটা আদর্শবাদের ধ্বজা ধরে এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে। কাজেই এদের নিজেদের মাজা শক্ত না হলেও লম্বা হাত বাড়িয়ে এদের মাজা খাড়া রাখার একটা ব্যবস্থা আছে। দ্বিতীয় কারণটি প্রথম থেকেই উদ্ভূত। এই দল দুটিকে দালাল হিসেবে ব্যবহার করতে হলে পয়সা খরচ হয় না। নিজেদের রসদ যোগাড়ের ব্যবস্থা এদের আছে। কাজেই আওয়ামী লীগের থেকে পয়সা না নিয়ে বিনা খরচায় দালালী করতে এরা আগ্রহী। এর ফলে আওয়ামী লীগের অনেক ব্যয়-সংকোচের সম্ভাবনা। তৃতীয়তঃ, মস্কোপন্থী দল দুটি প্রগতিশীল ভঙ্গি ও বাকচাতুর্যের দ্বারা এখনো পর্যন্ত কিছু সংখ্যক সৎ রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র এবং জনগণের একটি ক্ষুদ্র অংশকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের সাথে রেখেছে। এরা বিভ্রান্ত হলেও সততার অভাব এদের মধ্যে নেই। এই সমস্ত বিভ্রান্ত অথচ সৎ কর্মীদের সমর্থন ও সক্রিয় সহযোগিতা আওয়ামী লীগের পক্ষে এই অবস্থায় যথেষ্ট মূল্যবান। কারণ যে অবস্থার মধ্যে আওয়ামী লীগ এখন পতিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অবস্থার আরও যে অবনতি ঘটবে তাতে খড়কুটোকেও অবজ্ঞা অবহেলা করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হবে না।
তথাকথিত দেশপ্রেমিকদের এই ঐক্যজোট এদেশের রাজনীতিতে কি ধরনের পরিবর্তন আনবে সেটা দেখা দরকার। প্রথমতঃ, এই ঐক্যজোটের ফলে মস্কোপন্থী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি এবং তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংগঠন ইত্যাদি বিরোধীদল ও সংগঠন হিসেবে বিবেচিত না হয়ে এখন থেকে সরকারী দল ও তার অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে। কাজেই ত্রিদলীয় ঐক্যজোট একদিকে যেমন মস্কোপন্থী দল দুটির দ্বারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগকে কিয়দংশে সীমাবদ্ধ করবে, অন্যদিকে তেমনি কাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জনগণকে নিজেদের অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে সে বিষয়েও তাদের ধারণা পরিষ্কৃত হবে। দ্বিতীয়তঃ, এই দুই মস্কোপন্থী দলের যে সামান্য প্রভাবটুকুও এখন জনগণের মধ্যে আছে সেটুকুও সরকারী দল আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যজোটে আবদ্ধ হওয়ার ফলে অচিরেই বিনষ্ট হবে। কাজেই তাদের মার্কসবাদ, সমাজতন্ত্র ও প্রগতিশীলতার ভেক এবং বিভ্রান্তিকর বাক্চাতুর্য সত্ত্বেও তাদের দ্বারা জনগণের বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে আসবে, জনগণ থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে অল্পদিনের মধ্যেই বাস্তবত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, এর ফলে ধর্মঘট ভাঙ্গা, বেপরোয়া গুণ্ডামী, জনগণের ওপর নানান রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অতি শীঘ্রই পুরোপুরি সীমাবদ্ধ হবে।
মৌলনা ভাসানী আহূত ২৯শে আগস্টের হরতালের বিরুদ্ধে জেহাদ ও আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড এবং দেশপ্রেমমূলক ঐক্যজোট গঠনের প্রথম দিনে (৩রা সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনোত্তর কর্মকাণ্ডই তাদের এই পরিণতির সুস্পষ্ট দিকনির্দেশ করে।
সাপ্তাহিক গণবাংলা
১৪ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
