Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ – বদরুদ্দীন উমর

    বদরুদ্দীন উমর এক পাতা গল্প197 Mins Read0
    ⤶

    গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বতঃস্ফূর্ততা

    ১৯৪৭ সালের পর থেকে পূর্ব বাঙলা নামে পরিচিত এবং বর্তমান বাঙলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্গত ভূখণ্ডে যে সমস্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে সেগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ততার প্রাধান্য বরাবরই লক্ষিত হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ততার প্রাধান্য কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত সুফলপ্রসূ হতে পারে না এবং এদেশেও তা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্যাতনমূলক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে; কিন্তু এই আন্দোলনেও সেই স্বতঃস্ফূর্ততার প্রাধান্য আবার পরিলক্ষিত হচ্ছে। এজন্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ততার প্রশ্নটিকে বিবেচনা করা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্তব্য।

    এদেশে প্রথম ব্যাপক গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে ভাষা আন্দোলনের উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মুসলিম লীগ সরকার কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর যে শাসন-শোষণ চালায় তার ফলে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের একটা বাস্তব পরিস্থিতি যদি বিরাজ না করতো তাহলে ভাষা আন্দোলন অল্পসংখ্যক মধ্যশ্রেণীভুক্ত ছাত্রের প্রতিরোধ ও রক্তদান থেকে একটা ব্যাপক গণ-আন্দোলনে কিছুতেই পরিণত হতে পারতো না। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত পূর্ব বাঙলায় এমন কোন রাজনৈতিক দল ছিল না যে দলের কোন প্রকৃত নেতৃত্ব জনগণের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলো। কিন্তু তবু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির প্রতিরোধ আন্দোলন সেদিন জন্মদান করেছিলো দেশব্যাপী এক প্রচণ্ড বিক্ষোভের, যে বিক্ষোভে শুধু মধ্যশ্রেণীভুক্ত ছাত্ররাই অংশগ্রহণ করেনি, কৃষক-শ্রমিক এবং মধ্যবিত্ত মেহনতী জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এলেও পরবর্তী পর্যায়ে সেই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে সুষ্ঠুভাবে উচ্চতর স্তরে পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক দলেরই কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকেনি। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে যা করেছিলো, সেটাও ছিলো জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের সুযোগ গ্রহণ, অন্য কিছু নয়। ছয় বছরের নির্যাতন-কুশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের যে বিক্ষোভ ক্রমশঃ পুঞ্জীভূত হচ্ছিলো সেই বিক্ষোভই একটা অভিব্যক্তি লাভ করেছিলো জনগণের নির্বাচনী রায়ের মাধ্যমে। স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভরশীলতা এবং জনগণকে রাজনীতিগতভাবে শিক্ষিত করা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অক্ষমতার ফলেই ১৯৫৪ সালে বিরোধী দলসমূহের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী সাফল্য জনগণের বিজয়ে রূপান্তরিত হতে পারেনি। উপরন্তু সে সাফল্য কতকগুলি সংসদীয় দল-উপদলের ক্ষমতা দখলের বিবিধ চক্রান্তের পথই প্রশস্ত করেছিলো এবং সে চক্রান্তের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ঘটেছিলো পাকিস্তানের সামরিক অভ্যুত্থানে।

     

     

    সামরিক শাসনের আমলেও পূর্ব বাঙলায় যে সমস্ত গণআন্দোলন হয়েছে তার মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্ততার প্রাধান্য বর্তমান ছিলো। ১৯৬৪-৬৫ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে যে রায় প্রদান করেন তার মধ্যে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভেরই অভিব্যক্তি ঘটে। জনগণের মধ্যে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ ছয়-সাত বছর ধরে ক্রমশঃ পুঞ্জীভূত হচ্ছিলো সেই বিক্ষোভকে পুঁজি করেই দ্বিতীয়বার এদেশে বিরোধীদলীয় যুক্তফ্রন্ট ১৯৬৪-৬৫ সালে নির্বাচনী আসর গরম করেছিলো। এ দেশের শাসক-শোষক শ্রেণীর শ্রেণীগত চরিত্র, তাদের শাসন-শোষণের নানান কৌশল ইত্যাদি সম্পর্কে জনগণকে শিক্ষিত করে তার ভিত্তিতে তাঁদেরকে যথার্থভাবে সংগঠিত করার প্রয়াস এই সমস্ত বিরোধী দলের ছিলো না। তারা জনগণের বিক্ষোভ প্রবণতাকে মূলধন করেই নিজেদের রাজনীতি ব্যবসাকে প্রসার ও প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা করেছিলো মাত্র। এ জন্যে তাদের নির্বাচনী সাফল্য অথবা অন্যান্য ‘কৃতিত্ব’ শেষ পর্যন্ত জনগণের কোন উপকারেই আসেনি।

    ১৯৬৮-৬৯ সালে যে দেশব্যাপী ব্যাপক গণ-আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হয় তার চরিত্রও ছিলো মূলতঃ স্বতঃস্ফূর্ত। এই স্বতঃস্ফূর্ততার জন্যেই অদৃষ্টপূর্ব ব্যাপকতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে তীব্রতা সত্ত্বেও সে আন্দোলনের কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিলো না এবং শেষ পর্যন্ত সে আন্দোলনও সংসদীয় রাজনীতির ষড়যন্ত্রের মধ্যেই একটা পরিণতি লাভ করেছিলো। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন গোল টেবিলের রাজনীতিই সে সময়ে প্রাধান্যে এসেছিলো এবং তার ফলে জনগণের শাসন কায়েমের পরিবর্তে জনগণের শোষকদের রাজত্ব কায়েমের পদক্ষেপ হিসেবেই তারা সেই আন্দোলনকে ব্যবহার করেছিলো।

     

     

    জনগণকে রাজনীতিগতভাবে সংগঠিত করা সম্ভব ছিলো না বলে আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনের আমলে কতকগুলো রাজনৈতিক ধ্বনি তুলে সেগুলির ভিত্তিতেই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভকে ব্যবহার করে। অন্য কোন রাজনৈতিক দল স্বতঃস্ফূর্ততাকে ব্যবহার করতে অথবা জনগণকে যথার্থ রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং উপযুক্তভাবে সংগঠিত করতে না পারার ফলে আওয়ামী লীগই সর্ব প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রাধান্য লাভ করে এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়লাভ করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনী বিজয়ের মতো সেই বিজয়েও ছিলো জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভেরই অভিব্যক্তি মাত্র।

    নির্যাতিত ও বিক্ষুব্ধ জনগণ নিজেদের স্বতঃস্ফূর্ত চালিকাশক্তির মাহাত্ম্যে নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনীতিকে উত্তরোত্তর একটা সশস্ত্র সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে থাকেন। এ দিক দিয়ে ১৯৭১-এর পরিস্থিতি বিশেষ কোন ব্যতিক্রম ছিলো না। গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনও প্রতিবারই নিজের গতিবেগে সশস্ত্র সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যেতো এবং গান্ধী প্রতিবারই অনশন অথবা অন্য কোন কৌশলে জনগণের সেই আন্দোলনের রাশ টেনে ধরতেন। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততাকে নষ্ট হতে না দিয়ে তিনি তাকে নিজেদের শ্রেণী-স্বার্থেই সব সময় ব্যবহার করতে সচেষ্ট এবং যত্নবান থাকতেন। ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব বাঙলাতে যা ঘটেছিলো তার মৌলিক চরিত্রও ঐ একই ছিলো।

     

     

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৭১ সালে জনগণ ইয়াহিয়া খান কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে সংবিধান সভায় দেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে নানান বাধা সৃষ্টি করতে দেখে ক্রমশঃ ধৈর্যচ্যুত হতে থাকেন। গান্ধীর মতোই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জনগণের সেই ধৈর্যচ্যুতিকে ‘বিপথে’ যেতে না দিয়ে নিজেদের স্বার্থের পথের পাথেয় হিসেবেই ব্যবহার করতে উদ্যোগী হন এবং অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

    সেই পরিকল্পনার ফলে ব্যাপক জনগণের জীবনে কি অভিশাপ নেমে আসে তার বিস্তারিত বিবরণ এখানে প্রয়োজন নেই। কিন্তু যে কথা এখানে উল্লেখ করা দরকার তা হলো এই যে, ১৯৭১ সালে এখানে যে সশস্ত্র সংগ্রাম ও প্রতিরোধ শুরু হয় তার মধ্যেও রাজনৈতিক সচেতনতা এবং উপযুক্ত সাংগঠনিক তৎপরতার পরিবর্তে স্বতঃস্ফূর্ততার প্রাধান্যই পূর্ববৎ বজায় থাকে।

    আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তো বটেই এমনকি কর্মীবৃন্দেরও বিপুল অধিকাংশ ভারতে পলায়ন করলেও সচেতনভাবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেকে দূরে থাকে এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যক্তিগত ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ ভবিষ্যতে কিভাবে গুছিয়ে নেওয়া যায় সেই চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকে। অন্যদিকে অসংখ্য দেশপ্রেমিক যুবকেরা, যার মধ্যে অধিকাংশই কৃষক সন্তান, পূর্ব বাঙলার এলাকা থেকে ভারতে গিয়ে অথবা পূর্ব বাঙলার মাটিতে অবস্থান করেই আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতৃত্বের নির্দেশে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে এরাই ছিলো সংখ্যায় সব থেকে বেশী এবং সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।

     

     

    কিন্তু এই যুবকেরা সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে, দেশের জনগণকে এক ব্যাপক সামরিক আক্রমণের হাত থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে। তার মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা যতটুকু ছিলো তার থেকে অনেক বেশী ছিলো স্বতঃস্ফূর্ততা। এই স্বতঃস্ফূর্ততার জন্যে পূর্ব বাঙলার মাটি থেকে পাকিস্তান উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সেই সমস্ত যুবক রাজনীতিগতভাবে তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। একদিকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিসমূহ ১৯৭১ সালের স্বতঃস্ফূর্ত সশস্ত্র সংগ্রামের ফায়দা উঠিয়েছে এবং অন্যদিকে উপরোক্ত দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা হয় বেকার যুবকে পরিণত হয়েছেন নতুবা অস্ত্রশস্ত্রের অরাজনৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগওয়ালাদের মতোই নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে নিযুক্ত হয়েছেন। আজ সারা বাঙলাদেশে যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নৈরাজ্য ও রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে সে অবস্থা পুরোপুরিভাবে এই স্বতঃস্ফূর্ততারই প্রত্যক্ষ পরিণতি। পূর্ব বাঙলায় ১৯৪৭ সাল থেকে শোষক শ্রেণীর শাসন – শোষণের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভকে সুকৌশলে কাজে লাগানোর যে রাজনৈতিক ঐতিহ্য সৃষ্টি হয়েছিলো ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংঘর্ষ ছিলো সেই ঐতিহ্যেরই অন্তর্গত, তার বাইরে নয়। শুধু কি তাই? বাঙলাদেশ রাষ্ট্র স্থাপিত হওয়ার পরবর্তী পর্যায়েও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যে ধারা এখনো পর্যন্ত লক্ষিত হচ্ছে সে ধারার মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্ততার প্রাধান্য বিন্দুমাত্র কমেনি, পূর্ববৎ বজায় আছে।

     

     

    আলোচনার এই পর্যায়ে দেখা দরকার স্বতঃস্ফূর্ততা কাকে বলে, স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভরশীলতার অর্থ কি এবং স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভর করে যারা নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিকে সংহত করে অথবা করতে চেষ্টা করে তারা জনগণের সত্যিকার মুক্তি আনতে সক্ষম কি না।

    স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক বিক্ষোভ অথবা আন্দোলন সম্ভব হয় দুটি প্রধান শর্ত পূর্ণ হলে। প্রথমটি হলো শাসক শোষক শ্রেণীর একটানা নিমর্ম শোষণ ও নির্যাতন এবং দ্বিতীয়টি হলো উপযুক্ত রাজনৈতিক সচেতনতার ও সেই চেতনা সৃষ্ট সংগঠনের অভাব। ক্রমাগত শোষণ ও নির্যাতনের ফলে শাসক-শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে জনগণের একটা বিক্ষোভ ক্রমশঃ পুঞ্জীভূত হতে থাকে এবং রাজনৈতিক সচেতনতার অভাবে সেই বিক্ষোভ জনগণের মধ্যে সাধারণভাবে একটা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর জন্ম দেয়। এই দৃষ্টিভঙ্গীর অর্থ বাস্তব ক্ষেত্রে দাঁড়ায় সরকার ও শাসক দলের পরিবর্তন প্রচেষ্টা শাসক দলকে ক্ষমতা চ্যুত করে এবং প্রতিষ্ঠিত সরকারের পতন ঘটিয়েই জনগণ এক্ষেত্রে নিজেদের মুক্তি আনতে সচেষ্ট হন।

    স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভলশীলতার প্রকৃত অর্থ জনগণকে সচেতনভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা না করে প্রতিষ্ঠিত সরকার এবং শাসকদলকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর সুযোগ নিয়ে সেই সরকারের পতন ঘটিয়ে অন্য একটি সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা কিন্তু জনগণকে শ্রেণী সচেতন এবং উপযুক্তভাবে সংগঠিত করার কাজ থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকা। এর ফলে যাঁরা স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভর করেন তাঁরা যে শুধু সমাজের মধ্যে সামাজিক শক্তিগুলি বিন্যাসের ক্ষেত্রে কোন মৌলিক পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হন না তাই নয়, যাতে সেই পরিবর্তন বাস্তব ক্ষেত্রে সাধিত না হয় তার জন্যেই তাঁরা নানান অপকৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

     

     

    যাঁরা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সরকার বিরোধিতার ওপর নির্ভর করে নিজেদের রাজনীতিকে সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন, তাঁদের দ্বারা যে জনগণের সত্যিকার মুক্তি সম্ভব নয় সে কথা বলাই বাহুল্য। কারণ, জনগণের মুক্তি কোন ব্যক্তির শুভেচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়। কোন রাজনৈতিক জাদুবিদ্যার দ্বারাও সেই উদ্দেশ্য সাধন করা যায় না। জনগণের ওপর শাসক শোষক শ্রেণীর যে শাসন-শোষণ ও নির্যাতন জারী থাকে তার দায়িত্বও কোন ব্যক্তি বিশেষের কখনো হতে পারে না। কারণ, কোন ব্যক্তিই অতখানি শক্তিশালী নয়। এই শাসন-শোষণ- নির্যাতনের মূল কারণ কতকগুলি বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। এই সম্পর্কগুলোর পরিবর্তন ব্যতীত জনগণের জীবনে কোন মৌলিক পরিবর্তন কখনো আসতে পারে না।

    জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভর করে যে রাজনীতি গড়ে ওঠে তার দ্বারা জনগণের মুক্তি আসতে পারে না। একথার অর্থ অবশ্য এই নয় যে, এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের কোন রাজনৈতিক মূল্য নেই অথবা তাকে কোন প্রকারেই কাজে লাগানো যায় না। মোটেই তা নয় উপরন্তু জনগণের এই বিক্ষোভ এবং জনগণ কর্তৃক শাসক দলের পরিবর্তন কামনা সমাজে যে বাস্তব পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সে পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কোন সত্যিকার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিন্তা ও প্রচেষ্টা কোন সমাজেই সম্ভব নয়।

     

     

    এ ক্ষেত্রে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততাকে যদি নদীর বন্যার পানির সাথে তুলনা করা যায় তাহলে বিষয়টা হয়তো আরও পরিষ্কার হবে। আমাদের দেশে প্রতি বছরই প্রায় বন্যা হয় এবং বন্যার পানি প্রবল গতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ফসলের ক্ষতি তো করেই এমন কি মানুষ ও গবাদি পশুর জীবনহানিও ঘটায়। কিন্তু আমরা সকলে জানি যে, এই বন্যাকে যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এবং অন্যান্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে তার থেকে অনেক উপকার সম্ভব। বিদ্যুৎ-শক্তি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, পলি মাটির আমদানী ইত্যাদির মাধ্যমে তখন কৃষির অশেষ উন্নতি সাধিত হতে পারে।

    তাহলে দেখা যাচ্ছে বন্যার পানির মধ্যে দোষের কিছু নেই। যা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে সেই পানিকে জনগণের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করা। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও আন্দোলনেরও সেই অবস্থা। তার মধ্যেও এমনিতে কোন দোষ নেই। দোষ ঘটে তখনই যখন তাকে নিয়ন্ত্রণ না করে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক সচেতনতা ব্যতীত জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ততাকে নিয়ন্ত্রণ করার সুষ্ঠু চিন্তা ও পরিকল্পনা সম্ভব নয় এবং উপযুক্ত রাজনৈতিক সংগঠন ব্যতীত সেই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করাও চলে না। সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণের এই অভাবই অনিয়ন্ত্রিত বন্যার পানির মতো সমাজের দুকূল ভাসিয়ে নিয়ে যায় কিন্তু তার দ্বারা জনগণের কোন উপকার হয় না। সমাজের মৌলিক সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন ঘটে না। একদল শাসক শোষকের পরিবর্তে অন্য আর একদল শাসক-শোষক কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জনগণকে পূর্বের মতোই অথবা আরও তীব্রতরভাবে শাসন ও শোষণ করতে থাকে।

     

     

    স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক আন্দোলনে স্বল্পকালের জন্য জনগণ একটা উত্তাল তরঙ্গের মতো সমাজে ভেসে উঠলেও রাজনৈতিক সচেতনতা ও সংগঠনের অভাবে তাঁরা নিজেদের শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে পারেন না। তাঁদের ক্ষমতা হয় অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী এজন্যে তাদের ক্ষণস্থায়ী বিক্ষোভ আন্দোলনের পর যাঁরা ক্ষমতায় আসেন তাঁরা জনগণের কেউ নন। নিজেদের শ্রেণীস্বার্থেই কৃষক-শ্রমিক-মধ্যবিত্ত জনগণকে তারা প্রয়োজন ও সুযোগমতো শাসন ও শোষণ করেন।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাঙলাদেশে যে শাসন, শোষণ ও নির্যাতন শুরু হয়েছে তার ফলেও জনগণের মধ্যে একটা প্রচণ্ড বিক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে এবং পূর্ববর্তী সময়ের মতো এখনো স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার একটা প্রবল প্রবণতা আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে লক্ষিত হচ্ছে।

    এই পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের রাজনৈতিক স্বতঃস্ফূর্ততা এবং তার ওপর নির্ভরশীল রাজনীতি সম্পর্কে মৌলিক চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন নিতান্তই অপরিহার্য।

    গণকণ্ঠ
    ১৮ই জানুয়ারী, ১৯৭৪

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও ঊনিশ শতকের বাঙালী সমাজ – বদরুদ্দীন উমর
    Next Article বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমস্যা – বদরুদ্দীন উমর

    Related Articles

    বদরুদ্দীন উমর

    সাম্প্রদায়িকতা – বদরুদ্দীন উমর

    October 30, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    সংস্কৃতির সংকট – বদরুদ্দীন উমর

    October 30, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা – বদরুদ্দীন উমর

    October 30, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি ১ – বদরুদ্দীন উমর

    October 30, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক – বদরুদ্দীন উমর

    October 29, 2025
    বদরুদ্দীন উমর

    পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি ২ – বদরুদ্দীন উমর

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }