Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যেখানে দেখিবে ছাই – অভীক দত্ত

    লেখক এক পাতা গল্প124 Mins Read0
    ⤷

    পর্ব ১ – একুশ বছর বোধ হয়।।

    ।।পর্ব ১ – একুশ বছর বোধ হয়।।

    “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে ভারী কোন কিছু দিয়ে অতর্কিতে মাথার পিছনে মারা হয়েছে। কী দিয়ে মারা হয়েছে সেটা এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি, তবে অনুমান করা হচ্ছে পাথর জাতীয় কিছু। খুন হওয়া মহিলার ওজন সাতচল্লিশ থেকে আটচল্লিশের মধ্যে ছিল। উচ্চতা পাঁচ ফুট আড়াই ইঞ্চি। খুনীর উচ্চতা মৃতার উচ্চতার থেকে বেশি। অন্তত প্রাথমিকভাবে তাই মনে হচ্ছে”।

    রিপোর্টটা পড়ে শোনালেন ইন্সপেক্টর রায়।

    উপমন্যু চোখ বন্ধ করে শুনছিলেন। বললেন “বয়স কত?”

    ইন্সপেক্টর রায় বললেন “আই কার্ড উদ্ধার হয়েছে। জন্ম সাল সাতানব্বই”।

    উপমন্যু বললেন “একুশ বছর বোধ হয়?”

    ইন্সপেক্টর হাসলেন “হ্যাঁ”।

    উপমন্যু বললেন “মোবাইল উদ্ধার হয়েছে? কার কার সঙ্গে কথা বলেছে দেখেছেন?”

    ইন্সপেক্টর বললেন “উদ্ধারের পর দেখা গেছে রিসেট করা হয়েছে মোবাইলটা। ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায় নি কোন”।

    উপমন্যু হাসলেন, “বাহ, শাইনিং এন্ড ডিজিটাল ইন্ডিয়া। ইন্টারেস্টিং। আই কার্ডে আশা করি ঠিকানা দেওয়া আছে। কোথাকার লোক ইনি?”

    ইন্সপেক্টর বললেন “শিলিগুড়ির মেয়ে। কলকাতায় পিজিতে ছিল ঢাকুরিয়ায়। সাউথ কলকাতার একটা কলেজে থার্ড ইয়ার পড়ছিল। একই সঙ্গে একটা কল সেন্টারে চাকরিও করছিল। ঢাকুরিয়ার বাড়িতেই যাব এবার। আপনি যাবেন?”

    উপমন্যু বললেন “যাব। আমাকেই যখন দেখতে হবে কেসটা তখন যেতে তো হবেই। চলুন”।

    ডিপার্টমেন্ট থেকে বেরোলেন দুজনে। উপমন্যু বললেন “আপনি মনে হয় না বেশি সময় দিতে পারবেন বলে। থানার অন্যান্য কাজও তো আছে”।

    রায় হাসলেন “হ্যাঁ। আপনারা হ্যান্ড ওভার নিয়ে নিলে তারপরে আমার কাজ শেষ”।

    উপমন্যু গাড়িতে উঠে ড্রাইভারের পাশে বসে একটা সিগারেট ধরালেন।

    রায় ড্রাইভারকে ঠিকানা বলে দিলেন। গাড়ি স্টার্ট নিল।

    উপমন্যু বললেন “সময় বদলেছে বুঝলেন? আজকালকার দিনে একটা মোবাইলের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হয় না। মেয়েটির মোবাইলে যা ছিল সব চাই আমার। আমাদের সাইবার ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দিন যন্তরটি”।

    রায় বললেন “সে আগেই দিয়ে দিয়েছি। পেয়ে যাব আজ রাত অথবা কাল সকালের মধ্যে”।

    উপমন্যু বললেন “গুড। এখন সব দপ্তরের থেকে এই দপ্তরেই জোর দিতে হবে যা দিনকাল আসছে। মানুষ তো মোবাইলটাকেই নিজের ধ্যান জ্ঞান করে রেখে দিয়েছে। কোন দিকে যাবেন”?

    রায় বললেন “তা বটে। তবে দাগী লোকেরাও কম যায় না। কাল বি এম জুয়েলারসে ডাকাতি করতে গিয়ে দ্য গ্রেট লক্ষণ প্রামাণিক ধরা পড়েছে। ব্যাটাকে গাঁজা কেস দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছি আপাতত”।

    উপমন্যু বললেন “বটে? ধরলেন কী করে?”

    রায় বললেন “ব্যাটার ভাগ্য খারাপ ছিল আর আমাদের কপাল ভাল ছিল বলতে পারেন। টহলদারী জিপটার ওই সময় ওই অঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল না। একটা পেটি কেসে বস্তিতে ঝামেলা মিটিয়ে ফেরার পথে গাড়ি পাংচার হয়ে যায় দোকানটার সামনেই। শাটার যেমন নামানো থাকে তেমনই ছিল। ড্রিল মেশিনের শব্দ পেয়ে সন্দেহ হওয়ায় আমাদের সেকেন্ড অফিসার বর্মণ ফোরস নিয়ে শাটার তুলতেই দেখে এক্কেবারে জলজ্যান্ত লক্ষণ প্রামাণিক। বিন্দুমাত্র প্রতিরোধটুকুও করে নি। ব্যাটা ভাবতেই পারে নি”।

    উপমন্যু বললেন “সে কী! দোকানের সিকিউরিটিগুলো কোথায় ছিল?”

    রায় বললেন “লক্ষণেরই লোক ছিল। দু মাস আগে সে দোকানে ঢুকেছিল। খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছিল। অনেক প্ল্যান করেছিল বেচারা। শেষ পর্যন্ত কপাল মন্দ…”

    উপমন্যু বললেন “কপাল মন্দ বলে মন্দ? ড্রিল মেশিনের শব্দ কে পেয়েছিলেন? বর্মণ?”

    রায় বললেন “হ্যাঁ। বর্মণের একেবারে কুকুরের কান”।

    উপমন্যু খুশি হলেন “এই তো চাই। পুলিশের নাক কান কুকুরের মত না হলে চলে নাকি?”

    রায় বললেন “তবে রাত বলেই ড্রিলের শব্দটা পেয়েছিল স্যার। চারপাশে শব্দ থাকলে বেঁচে যেত লক্ষণ”।

    উপমন্যু বললেন “তা বটে। সবটাই তো লাক ফ্যাক্টার ভাই। মানুষের জীবনটাই তো নির্ভর করে আছে এর ওপরে”।

    গাড়ি একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। উপমন্যু বললেন “এই কি সেই বাড়ি নাকি?”

    রায় বললেন “হ্যাঁ চলুন”।

    দোতলা একটা বাড়ি। বাড়ির অবস্থা বিরাট কিছু নয়। তবে এককালে ভাল অবস্থা ছিল সেটা বোঝা যায়। রং শেষ কবে করা হয়েছিল বোঝা সম্ভব নয়।

    রায় কলিং বেল টিপলেন।

    মিনিট দুয়েক পরে এক দীর্ঘকায় গৌরবর্ণ বৃদ্ধ বেরিয়ে এসে বললেন “থানা থেকে এসেছেন তো? আসুন”।

    দুজনে বাড়ির ভিতরে ঢুকলেন।

    বৃদ্ধ বসার ঘরে এসে একটা সোফায় বসে বললেন “বসুন। আমি শারীরিকভাবে খুব বেশি সক্ষম নই। আগে বসে পড়লাম। মার্জনা করবেন আমায়”।

    উপমন্যু হাসলেন “না না। ঠিক আছে। এই বাড়িতে আপনি একা থাকেন না নিশ্চয়ই?”

    বৃদ্ধ বললেন “আমি নিচের ঘরে থাকি। পাশের ঘরে আমার ছোট ছেলে আর ছেলের বউ। দোতলায় একটা ঘরে জয়িতা, আরেকটা ঘরে নীলম বলে একটা মেয়ে থাকে। অবশ্য জয়িতাকে এখন আর থাকে বলাটা…”

    রায় বললেন “আপনার ছেলে আর তার স্ত্রী?নীলমই বা কোথায়?”

    বৃদ্ধ বললেন “ছেলে আর ছেলের বউ দুজনে চাকরি করে। আসবে হয়ত ঘন্টাখানেক বাদে। নীলম যাদবপুরের এক স্কুলে পড়ায়। ফিরে আসবে যে কোন সময়”।

    উপমন্যু বললেন “আমাকে একটু জয়িতার সম্পর্কে বলবেন? যতটা জানেন”।

    বৃদ্ধ চোখ বন্ধ করলেন। কিছু কথা একবারে বলবেন বলে মনঃসংযোগ করলেন হয়ত।

    .

    ।।পর্ব ১- একুশ বছর বোধ হয়।।

    ২।

    “আমার নাম সুশান্ত হালদার। এ বাড়ি আমারই বানানো। আমি কাজ করতাম সেলস ট্যাক্সে। কেরাণি ছিলাম। পৈতৃক বাড়ি। ছিল কুড়েঘরের মত। আমি পাই পয়সা জুড়ে বাড়িটা করি। ধান ভানতে শিবের গীত শুনতে সমস্যা নেই তো অফিসার?” বৃদ্ধ উপমন্যুর দিকে তাকালেন।

    উপমন্যু বললেন “একেবারেই নয়। আমার হাতে অঢেল সময়। তবে রায় চাইলে চলে যেতে পারো”।

    ইন্সপেক্টর রায় বললেন “না না স্যার। আপাতত কোন ইমারজেন্সী নেই। থাকলে আমি চলে যাব না হয়”।

    উপমন্যু বৃদ্ধের দিকে তাকালেন “আপনি স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন”।

    সুশান্তবাবু বললেন “আমার দুই ছেলে। বড় রাজেন্দ্র হালদার বছর দশেক আগে দিল্লিতে পাড়ি দেয়। তার এক ছেলে, এক মেয়ে। আমাদের সঙ্গে বিশেষ কোন যোগাযোগও নেই। ছোট, মানে যে এ বাড়িতে থাকে, বিশ্বজিৎ হালদার, সে কাজ করে হাওড়ার এক সরকারি অফিসে। আমার বউমাও একই অফিসে চাকরি করেন। ওরা নিঃসন্তান। দুজনে একসঙ্গে যায়, আসে। বছর তিনেক আগে আমার প্রাতঃভ্রমণের সঙ্গী জয়ন্ত জানাল তার ছেলে তার বাড়িতে এরকম পিজির ব্যবস্থা করেছে। দুজন ছাত্রী থাকবে, খাবে, টাকাও দেবে। শুনে আমি বিশ্বজিৎ এবং আমার বউমা তমালিকার সঙ্গে কথা বলি। দুজনেই সানন্দে রাজি হয়ে যায়। দোতলার ঘর দুখানি খালিই পড়েছিল, আমরা সে দুটি ঘরের কথা এক স্থানীয় দালালকে জানাই। তারা এই নীলম আর জয়িতাকে এ বাড়িতে নিয়ে আসে। আমাদের কথা বার্তা হয়। দুজনকেই ভাল পরিবারের মেয়ে বলে মনে হয়েছিল। দুজনেরই বাবা মা আসেন এই বাড়িতে একদিন পরে…”

    উপমন্যু বললেন “এই নীলম মেয়েটি কোথাকার?”

    সুশান্তবাবু বললেন “কুচবিহারের। জয়িতার থেকে বড়। স্কুল শিক্ষিকা”।

    উপমন্যু বললেন “আচ্ছা দুজনেই উত্তরবঙ্গ তবে। জয়িতার সঙ্গে নীলমের বন্ধুত্ব কেমন?”

    সুশান্তবাবু বললেন “সেরকম দেখি না। দুজনেই সারাক্ষণ মোবাইল দেখে যাচ্ছে। এমনকি খেতে বসেও সেই মোবাইল। আজকাল তো জানেনই মোবাইলের দৌরাত্ম্য”।

    উপমন্যু ইন্সপেক্টর রায়ের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। প্রত্যুত্তরে ইন্সপেক্টর রায়ও হাসলেন।

    সুশান্তবাবু বললেন “আমি মাঝে মাঝে একটু আধটু বকেছি দুজনকেই। বুঝতেই পারেন, বয়সের অ্যাডভান্টেজ নিয়েছি আর কী। তখন দুজনেই শুনত অবশ্য। পরে আবার শুরু করে দিত”।

    উপমন্যু বললেন “ও কিছু করার নেই সুশান্তবাবু। আমার মেয়েও একই কেস। কত আর বকব। যাক গে, আপনি জয়িতার কথা বলুন”।

    সুশান্তবাবু বললেন “জয়িতা শিলিগুড়ির মেয়ে। ওর বাবা ব্যবসায়ী। মা গৃহবধূ। বাবা মায়ের খুব আদরের মেয়ে”।

    উপমন্যু ইন্সপেক্টর রায়ের দিকে তাকালেন “এঁরা দুজন এসে গেছেন?”

    রায় বললেন “হ্যাঁ। কাল এসেছেন। ওদের এক আত্মীয়ের বাড়ি আছে কেষ্টপুরে। সেখানে উঠেছেন”।

    উপমন্যু বললেন “এ বাড়িতে আসেন নি তারা?”

    সুশান্তবাবু বললেন “ফোন করেছিলেন সকালে জয়িতার বাবা। খুব ভেঙে পড়েছেন ভদ্রলোক। নিজেই বললেন এখন আর যাব না আপনার ওখানে। গেলেই মেয়ের কথা মনে পড়ে যাবে”।

    ঘরে একটা নিস্তব্ধতা তৈরী হল কয়েক মুহূর্তের জন্য।

    উপমন্যু ইন্সপেক্টর রায়কে বললেন “কী দুর্ভাগ্যজনক আমাদের চাকরি বলুন। একজন মেয়ের বাবা হয়ে আরেকজন বাবার কথা শুনতে হচ্ছে এভাবে। যাই হোক। সুশান্তবাবু, আপনি বলুন। এ বাড়িতে জয়িতার সঙ্গে দেখা করতে কে কে আসত?”

    সুশান্তবাবু বললেন “কেউ আসত না। জয়িতা সকাল দশটায় বেরোত। অনেক রাত করে বাড়ি ফিরত”।

    উপমন্যু বললেন “গেট খুলে দিত কে? অত রাতে কে জেগে থাকত?”

    সুশান্তবাবু বললেন “আমার বউমা। জয়িতা এই বছরেই চাকরিটা পেয়েছে। আমার বউমা খুশি হয়েছিল খুব। বলেছিল মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা ও খুব অ্যাপ্রিসিয়েট করে। যত রাতই হোক, বউমা দরজা খুলে দিত”।

    উপমন্যু বললেন “জয়িতা কোথায় চাকরি করত?”

    সুশান্তবাবু বললেন “একটা কলসেন্টারে। কলেজ থেকে বেরিয়ে ছ সাত ঘন্টা কাজ করত। বেশ হেকটিক জব”।

    উপমন্যু গম্ভীর হয়ে রায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন “কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ করা হয়েছে?”

    রায় বললেন “হ্যাঁ। ভেরিফাই করা হয়েছে”।

    উপমন্যু বললেন “ওখানে যাব এখান থেকে বেরিয়ে”।

    রায় মাথা নাড়লেন “আচ্ছা”।

    উপমন্যু সুশান্তবাবুর দিকে তাকালেন “আমি জয়িতার রুমটা দেখতে চাই। সম্ভব?”

    সুশান্তবাবু বললেন “তালা দেওয়া আছে যে ঘরটা”।

    উপমন্যু ইন্সপেক্টর রায়ের দিকে তাকালেন। রায় সুশান্তবাবুকে বললেন “তালা ভাঙলে আপনার কোন আপত্তি আছে সুশান্তবাবু?”

    সুশান্তবাবু হাসলেন “নাহ। তবে দেখবেন দরজার কোন ক্ষতি হয় না যেন। মাস্টার কী না কী যেন বলে, চোরেরা যা দিয়ে দরজা খোলে, সেসব দিয়ে দরজা খোলা যায় না?”

    রায় বললেন “ভাঙা ছাড়া গতি নেই। আমার কাছে এই মুহূর্তে সে জিনিস নেই”।

    উপমন্যু ইন্সপেক্টর রায়কে বললেন “গালা আছে তো?”

    রায় বললেন “হ্যাঁ”।

    উপমন্যু সুশান্তবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন “ঘরটা আপাতত কিছুদিনের জন্য সীল করা থাকবে”।

    সুশান্তবাবু ম্লান হাসলেন “বেশিদিন যাতে না হয় একটু দেখবেন অনুগ্রহ করে। বুঝতেই পারছেন, খুনটা তো এ বাড়িতে হয় নি। আর নীলম উপরের ঘরে একা থাকে”।

    কলিং বেল বেজে উঠল। সুশান্তবাবু উঠে বললেন “ওই বুঝি নীলম এল”।

    ।।পর্ব ১- একুশ বছর বোধ হয়।।

    ৩।

    নীলমের বয়স চব্বিশ পঁচিশের মধ্যে। তাদের দেখে খানিকটা থমকাল।

    উপমন্যু বললেন “তুমিই নীলম, তাই তো?”

    নীলম মাথা নেড়ে বলল “হ্যাঁ”।

    উপমন্যু বললেন “বোস। ঘাবড়ে যেও না, আমরা বাঘ ভল্লুক নই”।

    নীলম বসল একটা চেয়ারে।

    সুশান্তবাবু ঘরে ঢুকলেন। নীলমকে বললেন “ওঁরা একটু কথা বলবেন এখন তোমার সঙ্গে। তুমি কি ফ্রেশ হয়ে আসবে না আগে কথা বলে নেবে?”

    নীলম ফ্যাকাশে হাসল “না, কথা বলে নি। নো প্রবলেম”।

    উপমন্যু বললেন “তোমার সঙ্গে জয়িতার বন্ধুত্ব ছিল?”

    নীলম বলল “খুব বেশি ছিল না। আমি স্কুল থেকে ফিরে নিজের ঘরে চলে যেতাম। ওর এমনিতেই ফিরতে অনেক রাত হত। তবে কোন কোন রবিবার সিনেমা দেখতে যেতাম। টুকটাক আড্ডা হত”।

    উপমন্যু নিজের মোবাইল বের করলেন, “আমি রেকর্ড করতে পারি তোমার বয়ান?”

    নীলম বলল “সিওর স্যার”।

    উপমন্যু মোবাইলের রেকর্ডার অন করে বললেন “দেখো নীলম, আমি তোমাকে এখন যে প্রশ্ন করব তুমি চাইলে সব প্রশ্নের উত্তর নাও দিতে পারো, কিংবা যদি মনে কর ল ইয়ার কন্সাল্ট করবে করতে পারো। তুমি স্বেচ্ছায় উত্তর দিতে চাইছ তো?”

    নীলম বলল “হ্যাঁ স্যার। আপনি যা জানতে চাইছেন জয়িতার ব্যাপারে আমি বলতে প্রস্তুত”।

    উপমন্যু খুশি হলেন “ফাইন। আমি শুধু জয়িতা সম্পর্কে কয়েকটা প্রয়োজনীয় তথ্য তোমার থেকে জানব। জয়িতা খুন হয়েছে সেটা তুমি কখন জানলে?”

    নীলম বলল “পরশু মাঝরাতে। জয়িতার ফিরতে রোজই একটু রাত হয়। আমি ঘুমিয়ে পড়ি। পরশু আমি টায়ার্ড ছিলাম বেশ। খাতা দেখা ছিল অনেকগুলো। সাড়ে দশটা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ মাঝরাতে আমার দরজায় বিশ্বজিত আঙ্কেল নক করেন। আমি একটু অবাকই হই কারণ অত রাতে কোন দিন আমাকে ডাকেন নি আঙ্কেল। উঠে দরজা খুলে জানতে পারি…”

    উপমন্যু সুশান্তবাবুর দিকে তাকালেন “আপনিও কি সেদিনই জানতে পারি?”

    সুশান্তবাবু ক্লান্ত মুখে মাথা নাড়লেন “না, আমাকে রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমোতে হয়। আমি পরের দিন ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি”।

    উপমন্যু রায়ের দিকে তাকালেন “ডেথ টাইমটা জানিয়েছে রিপোর্ট?”

    রায় বললেন “গত পরশু, মানে ফিফথ নভেম্বর, সন্ধ্যে সাতটা”।

    উপমন্যু বললেন “তার মানে পরশু মেয়েটা কলেজ থেকে কল সেন্টারে যায় নি। নীলম, জয়িতার কোন বয়ফ্রেন্ড, প্রেমিক, ছেলেবন্ধুর কথা জানো?”

    নীলম একটু ইতস্তত করে বলল “আছে, মানে কয়েকজন…”

    উপমন্যু অবাক হয়ে বললেন “কয়েকজন মানে?”

    নীলম সুশান্তবাবুর দিকে তাকাল খানিকটা সংকুচিত হয়ে। সুশান্তবাবু উঠলেন “আমি অন্য ঘরে যাই”।

    উপমন্যু হাসলেন “সাচ আ নাইস জেন্টলম্যান ইউ আর স্যার। থ্যাঙ্ক ইউ”।

    সুশান্তবাবুও প্রত্যুত্তরে হাসলেন “মধুবালার সময়ের মানুষ কিনা, জেনারেশন গ্যাপ নিতে পারি না ঠিক”।

    উপমন্যু হেসে বললেন “আমার চাকরি। কী করব বলুন। শুনতেই হবে”।

    সুশান্তবাবু পাশের ঘরে গেলে উপমন্যু নীলমের দিকে তাকিয়ে বললেন “কয়েকজন মানে বিশেষবন্ধু কয়েকজন বলতে চাইছ?”

    নীলম মাটির দিকে তাকিয়ে বলল “অ্যাকচুয়ালি রবিবারগুলো জয়িতার সঙ্গে সিনেমা দেখতে গেলে আমি খানিকটা অবাকই হয়ে যেতাম। মাঝে মাঝেই ওর ছেলেবন্ধুর মুখ গুলো আলাদা হয়ে যেত। ওরা আলাদা বসত আমি আলাদা”।

    উপমন্যু অবাক হয়ে বললেন “তাহলে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার কারণ কী? ও তো একাই যেতে পারত”!

    নীলম বলল “আমিও জিজ্ঞেস করেছিলাম ওকে একই কথা। জয়িতা জানিয়েছিল ও নাকি একা যেতে ভয় পায়। এদিকে সিনেমা শেষে দেখতাম প্রায় প্রতিদিনই…”

    নীলম চুপ করে গেল।

    উপমন্যু ইন্সপেক্টর রায়ের দিকে তাকালেন “আমার মনে হয় মালবিকাম্যামকেও এই কেসে ইনভল্ভ করা প্রয়োজন। সবাই আমাদের সামনে সহজ নাও হতে পারে”।

    রায় বললেন “কাল আসবেন আবার?”

    উপমন্যু নীলমের দিকে তাকিয়ে বললেন “দেখ মা, আমার মেয়ে তোমার থেকে খানিকটা ছোট হবে। তবে আমার মনে হয় তুমি আমার সামনে ঠিক কমফরটেবল হতে পারছ না। কোন অসুবিধা হলে আমাদের লেডি অফিসার আছেন। তার সামনে ইন্টারোগেশন করলে সুবিধা হয় তোমার?”

    নীলম বলল “না স্যার। আমি বলতে পারব। ইটস ওকে”।

    উপমন্যু বললেন “ফাইন। তোমার কথা শুনে যা বুঝলাম জয়িতার সিনেমা দেখার একাধিক বন্ধু ছিল। ঠিক আছে। অন্য কথায় আসি। সাম্প্রতিক সময়ে জয়িতা কোন ব্যাপারে খুব টেন্সড ছিল বা কারো সঙ্গে ওর কোন ঝগড়া হয়েছিল কিনা বলতে পারবে?”

    নীলম বলল “না, অতটা খেয়াল করি নি স্যার। তবে জয়িতা কাজের ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস ছিল। অফিসে খুব কম কামাই করত”।

    উপমন্যু বললেন “এ বাড়িতে কখনও কোন ছেলেকে নিয়ে এসেছে?”

    নীলম বলল “না স্যার”।

    উপমন্যু চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড ভেবে নিয়ে বললেন “জয়িতার বাবা মার সঙ্গে তোমার কেমন সম্পর্ক ছিল?”

    নীলম বলত “তেমন কিছু না। ওরা এলে কথা বলতাম এই যা”।

    উপমন্যু বললেন “তোমাদের দুজনের জীবন খানিকটা সমান্তরাল আবার খানিকটা না। তাই না নীলম? সমান্তরাল এই সেন্সে যে মুখোমুখি দুটো ঘরে তোমরা থাকতে অথচ দুজনের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ খুব কম হত। আবার রবিবারগুলো দুটো রেখার মিল হত। তবুও হত না”।

    নীলম বলল “খানিকটা সেরকমই”।

    উপমন্যু বললেন “এই বাড়ির সবার সঙ্গে জয়িতার বা তোমার সম্পর্ক কেমন?”

    নীলম বলল “খুবই ভাল। এঁরা কেউই আমাদের কোন ব্যাপারে নাক গলান নি কোন দিন। বরং তমালিকাআন্টি জয়িতাকে মানসিক সাপোর্ট দিতেন খুবই। জয়িতার খবরে আন্টি বেশ ভেঙে পড়েছেন। আজ খানিকটা জোর করেই ওকে অফিস নিয়ে গেছেন আঙ্কেল। ছেলে মেয়ে নেই তো। খানিকটা ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট তৈরি হয়ে গেছিল আর কী…”

    উপমন্যু বললেন “হু। কখন আসবেন ওরা?”

    উপমন্যুর কথাটা শেষ হল না কলিং বেল বেজে উঠল।

    উপমন্যু হাসলেন “সাচ আ কোইন্সিডেন্স। দেখো তো। মনে হয় বিশ্বজিৎবাবু এবং তমালিকাদেবী এসে পড়েছেন”।

    .

    ।।পূর্ব কথা- অলির কথা শুনে বকুল হাসে।।

    মহাষষ্ঠী ছিল সেদিন।

    তমালিকা বোনের বাড়ি গেছিল। নীলম বাড়ি। বাবা শুয়ে পড়েছিল একটু আগেই।

    রাত আটটা নাগাদ যখন জয়িতা এল বিশ্বজিৎই দরজা খুলেছিলেন।

    তাকে দেখে জয়িতা হাসল।

    বিশ্বজিৎ দরজা বন্ধ করে ঘরে গিয়ে বসেছিলেন।

    কিছুক্ষণ পরে দোতলা থেকে একটা আওয়াজ।

    বিশ্বজিৎ তড়িঘড়ি দোতলা গিয়ে দেখলেন জয়িতা আরশোলার ভয়ে খাটে উঠে দাঁড়িয়ে আছে।

    তাকে দেখে বলল “আঙ্কেল প্লিজ, এটাকে তাড়ান”।

    বিশ্বজিৎ এদিক সেদিক তাকিয়ে একটা ঝাঁটা দেখতে পেলেন। আরশোলাটাকে ঝাটা দিয়ে সরাতে গিয়ে সেটা জয়িতার গায়েই গিয়ে পড়ল।

    জয়িতা আর্তনাদ করে তাকে জড়িয়ে ধরল।

    তাকে জাপটে থাকা জয়িতার শরীর, নিঃশ্বাস… সব কিছু তাকে উত্তেজিত করে তুলছিল। আরশোলাটাকে অবশ্য জব্দ করতে বেশিক্ষণ লাগল না।

    জয়িতা তাকে ছেড়ে দিয়ে বলল “সরি”।

    বিশ্বজিৎ নিচে নেমে এলেন।

    গায়ে জয়িতার গন্ধ মেখে।

    মেয়েটা অদ্ভুত একটা পারফিউম ব্যবহার করে। তার জামায় লেগে গেছে সেটা। জামায় লেগে গেছে জয়িতার হাইলাইট করা একটা চুলও।

    বিশ্বজিতের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তমালিকা তাকে বঞ্চিত করে রেখেছেন সারাজীবন। এক অদ্ভুত ফ্রিজিডনেস আছে তার। কিছুতেই ইচ্ছা করে না।

    বলেছেন অবশ্য কয়েকবার “তোমরা ইচ্ছা করলে তুমি কাউকে জুটিয়ে একটা কিছু করতে পারো। আমি বাঁধা দেব না”।

    বিশ্বজিৎ হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন বরাবর “ধুস! কী যে বল। মুখে যা আসে বলে দিলেই হল নাকি?”

    তমালিকাও হেসেছেন। ঠাট্টা করে বলেছে “নাহ, এমনি এমনি বলছি না। যেটা তোমার বউ দিতে পারে না, অন্য কেউ দিলে ক্ষতি কী?”

    বিশ্বজিৎ বলেছেন “দরকার নেই বলেছি তো। আমার কিছু হলে কি তুমি রাস্তা ঘাটে শুয়ে বেড়াতে নাকি”!

    শুনে মনে মনে খুশি হলেও তমালিকা মুখে রাগ দেখিয়ে বলেছেন “ঈশ, কী সব কথা! যত উল্টোপালটা কথা বলতে শিখেছে লোকটা। বাবাকে বলতে হবে”।

    বিশ্বজিতের বারে বারেই মনে হয়েছে বাড়িতে তো কেউ নেই আর, দোতলায় গেলেই তো হল। মেয়েটা যদি রাজি হয়ে যায়! পরক্ষণেই মনে হয়েছে, এসব কী ভাবছেন তিনি! এতো ধর্ষণেচ্ছা জাগল কীভাবে কখন? ভাবলেন কী করে এমন কথা? একই বাড়িতে থাকে সবাই। যদি তমালিকা বুঝে যায়? তমালিকা যদি সন্তান নিতে পারত, তাহলে তাদের মেয়ের বয়স তো জয়িতার কাছাকাছিই হত! মাথায় আসল কী করে এসব কথা? নাকি অফিস বাড়ি আর বাড়ি অফিস করে করে মাথার ভেতরে কোথাও একটা লুকিয়ে ছিল সবকিছু! সময় করে বেরিয়ে এসেছে! এত ভয়ংকর হয় অবচেতন? নিজের মধ্যে অদ্ভুত টানাপোড়েনে রাতে আর ঘুমাতে পারেন নি বিশ্বজিৎ। ঘুম এসেছিল শেষ রাতের দিকে।

    সকালে উঠে মায়া মাসী এসে ঘুম ভাঙিয়ে জানাল বাজার আনতে হবে।

    বিশ্বজিৎ বাজার সেরে এসে দেখলেন বাবা বাইরের ঘরে বসে আছেন।

    তাকে দেখে বললেন “বউমা কবে আসবে যেন?”

    বিশ্বজিৎ বাবার সামনের চেয়ারে বসে বললেন “নবমীর দিন”।

    সুশান্ত বললেন “তুইও গিয়ে থেকে আসতে পারতিস তো”!

    বিশ্বজিৎ বললেন “থাক না। এতদিন পর দুই বোন একসঙ্গে ঘুরবে। আমি গিয়ে খামোখা কী করব”?

    সুশান্ত হাসলেন “তা ঠিক। এবারে একটা ভাল জিনিস দেখেছিস? পাড়ার পুজোর মাইক কিন্তু খুব বেশি জ্বালাচ্ছে না”।

    বিশ্বজিৎ বললেন “রাত হলে দেখো কী করে। এদের কোন ভরসা নেই তো”।

    সুশান্ত বললেন “তা ঠিক। এবার পুজোর চাঁদা নিয়ে গেছে?”

    বিশ্বজিৎ বললেন “হ্যাঁ। নিয়ে যাবে না? ছাড়বে নাকি?”

    ব্রেকফাস্ট খেতে নেমে এসেছিল জয়িতা। বিশ্বজিৎ খানিকটা কুঁকড়ে গেলেন জয়িতাকে দেখে। নিজের প্রতি ঘেন্না হল হঠাৎ করে।

    জয়িতা ডাইনিং রুমে বসে বলল “উফ আংকেল, কাল আপনি না থাকলে যে কী হত”!

    সুশান্ত অবাক চোখে জয়িতার দিকে তাকিয়ে বললেন “কেন? কী হয়েছিল কালকে?”

    জয়িতা বলল “আর বোল না দাদু, কাল একটা আরশোলা ঢুকে পড়েছিল আমার ঘরে। আমি তো ভাবলাম গেল সব বোধ হয়। আংকেল ছিল বলে বেঁচে গেলাম”।

    সুশান্ত হো হো করে হেসে উঠলেন। বিশ্বজিৎ হাসলেন। হাসতে গিয়ে নিজের অজান্তেই বুঝতে পারলেন জয়িতার শরীরটা আবার টানছে তাকে।

    নিজের অজান্তেই সিঁটিয়ে গেলেন মনে মনে।

    .

    ।।পূর্ব কথা- অলির কথা শুনে বকুল হাসে।।

    ২।

    গড়পঞ্চকোটে সন্ধ্যে নামে তাড়াতাড়ি। বন বাংলোয় যারা আসে তাদের ব্যস্ততা থাকে না। এসে খেয়ে দেয়ে ঘরে ঢুকে কেউ বসে বোতল খুলে, কেউ বা বন্ধুদের সঙ্গে এলে তাস নিয়ে বসে।

    দুটো ঘর বুক করেছিল অনীশ আর রোহিত। আসানসোল পেরোতেই ভয়টা জাঁকিয়ে বসেছিল নীলমের, যদি বাংলোয় আনম্যারেড কাপল অ্যালাউ না করে সেক্ষেত্রে কী হবে।

    বাস্তবে দেখা গেল সেসব কোন সমস্যাই হল না। মসৃণ চেক ইন হয়ে গেল। একটা বাংলোর নীচের তলায় জয়িতা – অনীশ, ওপরের তলায় নীলম আর রোহিত।

    অন্ধকার ঘিরে ধরেছে চারপাশ থেকে, নীলমকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিল রোহিত ঘরে ঢোকার পরেই। নীলম বাঁধা দিতে পারে নি। একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত শরীর চেনার নেশার মধ্যে রোহিতে ডুবে যেতে যেতে সে সব চিন্তা বিসর্জন দিয়েছিল।

    বাড়িতে বলেছে স্কুল থেকে পুরুলিয়া নিয়ে যাচ্ছে। পিজিতেও তাই। জয়িতা অবশ্য বাড়ি যাবার নাম করে এসেছে।

    জয়িতার বাড়ি থেকে পিজিতে ফোন করে না। জয়িতাকেই ফোন করে।

    রোহিত তার অনাবৃত শরীরে চুমু খেতে খেতে বলেছিল “ইউ আর বিউটিফুল নীলম”।

    নীলম অন্যকিছু ভাবতে পারে নি। ভালবাসায় ভেসে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছু ভাবা সম্ভবও ছিল না।

    প্রথমবারের পরে অবশ্য একটু অপরাধবোধ গ্রাস করল তাকে। বাবা মার মুখটা মনে পড়ে গেছিল। মনে হয়েছিল তার বিয়ের জন্য কত উত্তেজিত তার বাবা মা, যদি জানতে পারেন সে এই কাজটা করেছে তখন কি তাকে ক্ষমা করে দিতে পারবে? পরক্ষণেই রোহিত তাকে ভুলিয়ে দিয়েছে সব কিছু। নরম বিছানায়, আবছা অন্ধকারে রোহিতের পৌরুষ আর কিছু মনে পড়তেই দিচ্ছিল না।

    বৃষ্টি নেমেছে অসময়ের, জানলা থেকে জলের ছিটে আসছে তাদের শরীরে।

    রোহিত তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়েছিল। অস্ফূটে বলল “ইট ওয়াজ অসাম”।

    নীলম বলল “কথা বোল না। ভাল লাগছে না কিছু শুনতে”।

    রোহিত বলল “তোমার বাবা মা অবাঙালি জামাই মানবেন তো?”

    নীলম রোহিতের গালে একটা টোকা মেরে বলল “বিয়েটা বাবা মার সঙ্গে করবে বুঝি তুমি? এসব কথা এখন ভাবার দরকারই বা কী?”

    রোহিত বলল “জানো তো, এখন আমার টপ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ফিল হচ্ছে। মনে হচ্ছে তোমাকে নিয়ে আরও দূরে কোথাও চলে যাই। আচ্ছা, তোমার বন্ধুটাকে আনার কি খুব দরকার ছিল?”

    নীলম বলল “কী করব? এরকম এক্সপেরিয়েন্স তো আগে হয় নি। ওর এক্সপেরিয়েন্স আছে। ওই জন্যই তো ওকে আনা”।

    রোহিত অবাক হয়ে বলল “মানে? ওই অনীশকে নিয়ে?”

    নীলম হেসে বলল “ধুস।শুধু অনীশ? ওরকম কত অনীশ আছে!”

    রোহিত বলল “রিয়েলি? ওর যদি এইডস হয়?”

    নীলম বলল “হলে হবে। আমার কী?”

    রোহিত বলল “না না সিরিয়াসলি। দেখো, ভুলেও ওর সঙ্গে লেসবিয়ান কিছু করতে চেও না”।

    নীলম খাটে উঠে রোহিতের দিকে বড় বড় চোখ করে বলল “কী বললে তুমি? আরেকবার বল”।

    রোহিত হো হো করে হেসে ফেলল। নীলম রোহিতের পেটে একটা ঘুষি মেরে বলল “অসভ্য কোথাকার! সারাক্ষণ শুধু সব রিলেশনে সেক্স ছাড়া কিছু ভাবতে পারো না, না?”

    রোহিত বলল “সেটা কখন বললাম? শুধু বলছি, ওই দুটো মেয়ে পাশাপাশি ঘরে থাকো, না মানে হতেই তো পারে, কোন কোন দিন এরকম রোম্যান্টিক ওয়েদারে দুজনেরই ক্যান্ডেল ইউজ করার ইচ্ছে হল। সেলফ হেল্প আর কী!”

    নীলম রোহিতের পেটে জোরে একটা চিমটি কাটল। রোহিত “মর গয়া, ছোড় দো, ফির নেহী বলুঙ্গা” বলে অনুনয় করতে থাকল।

    নীলম বলল “শুধু যত ফালতু কথা। একদম ভাল লাগে না আমার এসব। আর যদি বলেছ, তাহলে তোমার খবর আছে”।

    রোহিত প্রত্যুত্তরে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল এমন সময় তাদের ঘরের কলিং বেল বেজে উঠল। নীলম অবাক হয়ে একটু জোরে বলল ‘কে?”

    বাইরে থেকে জয়িতার গলা ভেসে এল “আমি। একটু খোল। কথা আছে”।

    নীলম অবাক হল। জয়িতার গলাটা গম্ভীর লাগছে। তাছাড়া এই বৃষ্টিতে কি মেয়েটা ভিজে এল নাকি দোতলায়? সিড়ি তো বাইরে থেকে আছে।

    রোহিতকে টিশার্ট আর শর্টস পরে নিয়ে বলে, দ্রুত হাতে নাইটি পরে দরজা খুলল নীলম। দেখল জয়িতা গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। দরজা খুলতেই জয়িতা ঘরে ঢুকে খাটের ওপর বসে পড়ল।

    রোহিত অবাক গলায় বলল “কী হয়েছে?”

    জয়িতা ভাঙ্গা গলায় বলল “আমি এখানে থাকব না। এখনই কলকাতা ফিরে যাব”।

    দুজনে অবাক হয়ে জয়িতার দিকে তাকিয়ে রইল।

    ।।পর্ব ১- একুশ বছর বোধ হয়।।

    ৪ ।

    বিশ্বজিৎ এবং তমালিকা ঘরে ঢুকে উপমন্যু এবং ইন্সপেক্টর রায়কে দেখে অবাক হলেন। উপমন্যু বললেন “আপনি নিশ্চয়ই বিশ্বজিৎবাবু, এবং আপনি তমালিকা দেবী?”

    তমালিকা বললেন “হ্যাঁ। ঠিকই ধরেছেন”।

    উপমন্যু বললেন “জানি আপনারা দুজনেই ক্লান্ত, তবু যদি একটু বসতেন ভাল হত”।

    বিশ্বজিৎ একটা চেয়ার টেনে বসলেন “নিশ্চয়ই”।

    তমালিকা বললেন “আপনাদের কিছু দেওয়া হয় নি দেখছি। চা বা কফি কিছু দেব?”

    উপমন্যু খুশি হয়ে বললেন “তাহলে তো খুবই ভাল হয়। কিন্তু আপনার কষ্ট হবে না?”

    তমালিকা হাসলেন “না না। কী যে বলেন। সত্যি কথা বলতে কী জয়িতাকে আমি নিজের মেয়ের মত দেখতাম। গোটা ব্যাপারটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না স্যার। যদি দোষী ধরা পড়ে, আমার থেকে খুশি কেউ হবে না”।

    উপমন্যু বললেন “অনেক ধন্যবাদ আপনাকে তমালিকাদেবী। আমাদের চাকরিতে তো এরকম আপ্যায়ন সহজে জোটে না, সবাই মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিতে পারলেই খুশি হন। আপনি যে আমাদের কথাটা ভেবেছেন, তাতেই আমি ভীষণ খুশি। আমি চিনি ছাড়া চা খাব। রায় চিনি দিয়েই খাবে”।

    রায় বললেন “আমাকেও এক চামচের বেশি দেবেন না”।

    তমালিকা নীলমের দিকে তাকালেন “তুমি খাবে?”

    নীলম ঘাড় নাড়ল “হ্যাঁ আন্টি”।

    তমালিকা রান্নাঘরে রওনা হলেন।

    উপমন্যু বিশ্বজিৎকে বললেন “একদিকে ভালই আপনাদের বলুন? স্বামী স্ত্রী একই অফিসে চাকরি করেন। আমার মিসেস অবশ্য কলেজে পড়ান। দুজনের শিডিউলও আলাদা। মেয়েটার দিকে সময় দেওয়া হয় না তেমন”।

    বিশ্বজিৎ বললেন “ওই আর কী। একই অফিস হলেও কাজের ক্ষেত্রে আমাদের মুখোমুখি হতে হয় না”।

    উপমন্যু বিশ্বজিতের দিকে তাকিয়ে বললেন “আপনার দাদার সঙ্গে বোধ হয় খুব বেশি যোগাযোগ নেই মিস্টার হালদার, তাই না?”

    বিশ্বজিৎ উপমন্যুর দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বললেন “বাবা বলেছেন বুঝি দাদার কথা?”

    উপমন্যু বললেন “হ্যাঁ। তাছাড়া আর কোথা থেকে জানব?”

    বিশ্বজিৎ বললেন “আসলে দাদাই তেমন যোগাযোগ রাখে না আর কী। ফোন করলে সেভাবে রেস্পন্সিভও না”।

    উপমন্যু বললেন “এতটা বিকর্ষণ কেন?”

    বিশ্বজিৎ মাথা নাড়লেন, “বলতে পারব না”।

    উপমন্যু বললেন “ভদ্রলোকের ফোন নাম্বার দিতে পারবেন?”

    বিশ্বজিৎ অবাক হয়ে বললেন “পারব, কিন্তু এই কেসের সঙ্গে কি সেটার কোন সম্পর্ক আছে?”

    উপমন্যু বললেন “দিয়ে রাখবেন। কখন কী প্রয়োজন পড়ে কে জানে বলুন। গুরুদেব তো বলেইছেন ছাই উড়িয়ে দেখতে। অমূল্যরতন যদি পাওয়া যায়”।

    নীলম একটু উশখুশ করছিল, উপমন্যু নীলমের দিকে তাকিয়ে বললেন “তুমি কি ফ্রেশ হবে? যেতে পারো, অসুবিধে নেই”।

    নীলম বলল “আমি রান্নাঘরে যেতে পারি?”

    উপমন্যু বললেন “নিশ্চয়ই। কেন পারবে না? যাও”।

    নীলম থ্যাঙ্ক ইউ বলে রান্নাঘরে গেল।

    উপমন্যু বিশ্বজিতের দিকে তাকিয়ে বললেন “জয়িতা সম্পর্কে আপনার ওপিনিয়ন কী বিশ্বজিৎবাবু?”

    বিশ্বজিৎ একটু ভেবে বললেন “দেখুন, আমরা তো এই সময়ে অফিস থেকে ফিরি। সকালে সাড়ে আটটা পৌনে ন’টার মধ্যে আমাদের বেরিয়ে যেতে হয়। এবারে নীলম বা জয়িতা কারো সঙ্গেই সেভাবে কথা হত না আমার খাবার সময় ছাড়া। পরে তো জয়িতা চাকরি পেয়ে গেল। আমার সঙ্গে কথাই হত না বলতে পারেন। তবে তমালিকা ওকে খুব স্নেহ করে। ওদের দুজনের মধ্যে একটা বন্ডিং ছিল”।

    উপমন্যু বললেন “খুনের দিন আপনি কোথায় ছিলেন বিশ্বজিৎবাবু?”

    বিশ্বজিৎ বললেন “বাড়িতেই ছিলাম। যেরকম অফিস থেকে এখন এলাম, সেরকমই। দুজনে এসেছিলাম এক সঙ্গে”।

    উপমন্যু বললেন “আপনার কাউকে সন্দেহ হয় এই ব্যাপারে?”

    বিশ্বজিৎ হাসলেন “আমার সঙ্গে জয়িতার সেভাবে দেখাই হত না স্যার। ও কাদের সঙ্গে মিশত, কোথায় যেত, কী করত, সে সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিল না। এ বাড়িতেও কোন দিন কোন বন্ধু বা বান্ধবীকে নিয়ে এসে হাজির হয় নি যাতে আমি বা বাবা এমব্যারাস হই। সন্দেহ করার প্রশ্নই আসে না আর কী”।

    উপমন্যু বললেন “তা ঠিক। আচ্ছা আপনাকে আরেকটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারি? আপনি ইচ্ছা না হলে জবাব দেবেন না”।

    বিশ্বজিৎ বললেন “হ্যাঁ বলুন”।

    উপমন্যু একটু থমকে বললেন “আপনারা যে নিঃসন্তান, এর জন্য কে দায়ী? আপনি না মিসেস হালদার?”

    বিশ্বজিৎ গম্ভীর হলেন, চুপ করে নিয়ে বললেন “প্রশ্নটা একটু বেশিই ব্যক্তিগত হয়ে গেল না অফিসার?”

    উপমন্যু হাত তুললেন “হ্যাঁ, সেটা আমিও জানি। আপনি না চাইলে উত্তর দেবেন না। কোন সমস্যা নেই”।

    বিশ্বজিৎ গম্ভীর মুখেই বললেন “সমস্যাটা ওর। কিন্তু দয়া করে ওকে এ নিয়ে কোন প্রশ্ন করবেন না। এই ব্যাপারে ওর একটা ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স আছে। কোন ভাবে সে প্রশ্নটা উঠে গেলে ওকে সামলানো একটু কঠিন হয়ে যায়। অদ্ভুত ডিপ্রেশনে চলে যায়। আপনি প্লিজ…”

    উপমন্যু বললেন “নিশ্চয়ই। আমি কথাটা মাথায় রাখব। সরি মিস্টার হালদার। মাঝে তদন্তের স্বার্থে এমন সব প্রশ্ন বেরিয়ে আসে। তার মানে আপনি যৌনতায় সক্ষম তাই তো?”

    বিশ্বজিৎ এবারে রাগী চোখে উপমন্যুর দিকে তাকালেন।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেমিক – অভীক দত্ত
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ২ – অভীক দত্ত

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }