Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যেটুকু টুনটুনি সেটুকু ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প157 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. মিশু কাহিনী

    টুনি স্কুলের বারান্দায় বসে অন্যমনস্কভাবে স্কুলের মাঠের দিকে তাকিয়ে ছেলেমেয়েদের চিৎকার চেঁচামেচি করে খেলতে দেখছিল। তাই প্রথমে লক্ষ করেনি একটা মেয়ে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বয়সে তার থেকে তিন চার বছর ছোট হবে, নার্ভাসভাবে তার জামার একটা অংশ হাতে পেচাচ্ছে আবার খুলে ফেলছে। মেয়েটা মনে হয় তাকে কিছু একটা বলতে এসেছে কিন্তু কীভাবে বলবে বুঝতে পারছে না। টুনি কাজটা সহজ করার জন্য নিজেই কথা বলতে শুরু করল। জিজ্ঞেস করল, “কী খবর তোমার? তুমি কোন ক্লাসে পড়?”

    মেয়েটা নিচের দিকে তাকিয়ে বলল, “ক্লাস ফোর।”

    মেয়েটা ঠিক চোখের দিকে তাকিয়েও কথার উত্তর দিচ্ছে না। তাকে আরেকটু সহজ করে দেওয়ার জন্য টুনি মুখটা হাসিহাসি করে বলল, “আমরা যখন ক্লাশ ফোরে পড়তাম তখন উঁচু ক্লাশের ছেলেমেয়েরা আমাদের বলতো

    ক্লাশ ফোর জুতা চোর! তোমাদেরকে বলে না?”

    মেয়েটা মাথা নাড়ল, “নাহ্।”

    “তাহলে কী বলে?”

    “কিছুই বলে না। জানেই না আমরা কোন ক্লাশে পড়ি!”

    টুনি হাসার মতো ভঙ্গী করল, বলল, “সেটা হতে পারে। নিজের ক্লাশের ছাড়া অন্য কাউকে চিনে না।”

    মেয়েটা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। কিছু বলছেও না আবার চলেও যাচ্ছে না তাই টুনি আবার চেষ্টা করল। বলল, “তোমার নাম কী?”

    মেয়েটা হঠাৎ করে মাথা তুলে দুই পাশে দেখল তারপর একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “মিশু।”

    টুনি বলল, “ইন্টারেস্টিং! এই নামটা ছেলেদেরও হয় মেয়েদেরও হয়। আমি একটা ছেলেকে জানি যার নাম মিশু।”

    মেয়েটা হঠাৎ চাপা গলায় বলল, “আমার ক্লাশের ছেলেমেয়েরা আমাকে মিশু ডাকে না।”

    “কী ডাকে?”

    “মোষ।”

    টুনি চমকে উঠল, “কেন?”

    “আমি নাকি মোষের মতো কালো আর মোটা।” মিশু নামের মেয়েটা তার হাত দিয়ে চোখ মুছল। তার চোখে পানি এসে যাচ্ছে। টুনি হঠাৎ করে বুঝতে পারল মেয়েটা কেন তার কাছে এসেছে। কাজেই এক মুহূর্তে তুমি থেকে সে তুইয়ে নেমে এলো। নরম গলায় বলল, “আয়। আমার কাছে এসে বস।”

    বলে তার হাত ধরে টেনে তাকে কাছে বসাল। বলল, “চোখ মুছে ফেল। তোর ক্লাশের ছেলেমেয়েরা যদি বোকা হয়, তারা যদি না জানে একটা মানুষ মোটা না চিকন, কালো না সাদা, লম্বা না বেঁটে তাতে কিছু আসে যায় না তাহলে সেটা কী তোর দোষ? তোর চোখে কেন পানি আসবে বোকা মেয়ে?”

    টুনির নরম গলার স্বর শুনে মেয়েটা এবারে সত্যি সত্যি ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমাদের ক্লাশের সব ছেলেমেয়ে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে, আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করে, খারাপ কথা বলে– আমি আর ক্লাশে আসতে চাই না।’

    টুনি মেশিনের মতো চিন্তা করতে থাকে, এরকম একটা ব্যাপার হলে কী বলে সান্ত্বনা দেওয়া যায়? তার মাথায় কিছু এলো না। তাই এরকম সময়ে যা বলতে হয় তাই বলল, “মিশু, তুই এক্ষুণি কান্না বন্ধ কর না হলে আমিও কেঁদে ফেলব কিন্তু।”

    মিশু চোখ মুছে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে। টুনি নিচু গলায় বলল, “তুই আমার উপর ছেড়ে দে। তোদের ক্লাশের যেসব ছেলেমেয়েরা তোর সাথে এরকম ব্যবহার করে তাদের আমি টাইট করে ছেড়ে দেব। তুই আমাকে চিনিস নাই।”

    মিশু নিজেকে শান্ত করে বলল, “চিনেছি আপু, সেই জন্যেই তো তোমার কাছে এসেছি। তুমি কীভাবে টাইট করবে আপু?”

    টুনি কীভাবে একটা ক্লাশের সব ছেলেমেয়েকে টাইট করবে সেটা সে নিজেও জানে না, আসলেই সেটা সম্ভব কিনা সেটাও সে জানে না কিন্তু এখন সেটা নিয়ে চিন্তা না করলেও চলবে। আপাতত মেয়েটাকে একটু সান্ত্বনা দিয়ে দেওয়া জরুরি। টুনি গম্ভীর গলায় বলল, “অনেকগুলো উপায় আছে, তোদের ক্লাশে কোনটা করতে হবে সেটা দেখতে হবে। তুই কি বলবি, তোর ক্লাশের ছেলেমেয়েরা কেমন করে তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করে নাকি সেটা বলতে গিয়ে আবার কেঁদে ফেলবি?”

    “মনে হয় কেঁদে ফেলব।”

    “তাহলে বলার দরকার নাই। আমি জিজ্ঞেস করি তুই হুঁ হা করে উত্তর দে।”

    “হুঁ হা করে?” বলে মিশু একটু হেসে ফেলল।

    “হ্যাঁ, হুঁ হা করে।” টুনি জিজ্ঞেস করল, “তারা কী তোর গায়ে হাত দেয়? তোকে মারার চেষ্টা করে?”

    “মাঝে মাঝে। পিছন থেকে চুল ধরে টানে। মাথার মাঝে মাথায় চাটি মারে।”

    “তুই তখন কী করিস?”

    “কী করব? কিছু করি না। সরে যাই। মাঝে মাঝে কেঁদে ফেলি।”

    টুনি হতাশভাবে মাথা নাড়ল। তারপর জিজ্ঞেস করল, “তোকে কি গালাগাল করে?”

    “করে। আমাকে নিয়ে কবিতা বলে।

    “কী কবিতা?”

    “কালা মোটা মোষ

    করে ফোঁস ফোঁস।”

    “তখন তুই কী করিস?”

    মিশু প্রায় কেঁদেই ফেলছিল, অনেক কষ্ট করে নিজেকে শান্ত করে বলল, “কী করব? কিছু করি না। সরে যাই। মাঝে মাঝে কেঁদে ফেলি ৷”

    টুনি আবার মাথা নাড়ল, বলল, “অনেক বড় ভুল করিস। অনেক বড় ভুল। অনেক অনেক বড় ভুল!”

    মিশু ভয় পাওয়া গলায় বলল, “কোনটা বড় ভুল?”

    “ঐ যে তুই কেঁদে ফেলিস, সেইটা অনেক বড় ভুল। রেগে যাওয়া ঠিক আছে, কিন্তু কেঁদে যাওয়া ঠিক নাই। তুই যেহেতু কেঁদে ফেলিস তাই সবাই মজা পেয়ে গেছে। তারা তোকে কাঁদিয়ে আনন্দ পায়

    “তাহলে আমি কী করব?”

    “আর যাই করিস কাঁদতে পারবি না। তোর মন খারাপ হলেও কাউকে বুঝতে দিবি না যে তোর মন খারাপ হয়েছে। তাছাড়া–”

    “তাছাড়া কী?”

    “তাছাড়া তোর মন খারাপ হওয়ার কী আছে? তোর বন্ধুরা যদি ছাগল হয় তাহলে তোর কেন মন খারাপ হবে? তুই যখন দেখিস রাস্তায় একটা ছাগল কলার ছিলকা খাচ্ছে তোর কী তখন মন খারাপ হয়?”

    মিশু মাথা নাড়ল, বলল, “না।”

    “তোর একটু মায়া হতে পারে, বেচারা ছাগলটা ময়লা একটা কলার ছিলকা খাচ্ছে, ভালো কিছু খেতে পারছে না! আহা বেচারা ছাগল!”

    মিশু খানিকক্ষণ চিন্তা করল, তারপর বলল, “তাহলে আমি কী করব?”

    “ওদের দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকা করে হাসতে পারিস!”

    মিশু অবাক হয়ে বলল, “হাসব?”

    “নরমাল হাসি না। এবনরমাল হাসি। বাঁকা হাসি ৷ সিনেমায় ভিলেনরা যেভাবে হাসে।

    “সেটা কী রকম?”

    “এই যে এই রকম–” বলে টুনি বাঁকা হাসি কীভাবে হাসতে হয় সেটা দেখিয়ে দিল। মুখের এক পাশ দিয়ে ঠোঁট দুটো একটু উপরে তুলে ভয়ংকর এক ধরনের হাসি।

    মিশু কয়েকবার চেষ্টা করল এবং টুনি তাকে ঠিক করে দিতে লাগল। মিশু বেশ খানিকক্ষণ চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত কাজ চালানোর মতো একটা বাঁকা হাসি দেওয়া শিখে ফেলল। টুনি মাথা নেড়ে বলল, “বাসায় গিয়ে আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করবি তাহলে আরো ভালো হবে। এরপর থেকে যখনই কেউ তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করবে তুই তার দিকে তাকিয়ে এমন একটা বাঁকা হাসি দিবি যেন তার পেটের ভাত চাউল হয়ে যায়!”

    ‘পেটের ভাত চাউল হয়ে যায়’ কথাটা মিশুর খুব পছন্দ হলো, সে এটা শুনে হি হি করে একটু হাসল।

    টুনি বলল, “ঠিক আছে, আজকে তাহলে এই পর্যন্ত। কালকে আবার আলোচনা হবে। টিফিনের ছুটিতে এখানে চলে আসবি।’

    “ঠিক আছে।”

    “এখনও কী তোর মন খারাপ লাগছে?”

    “না আপু, মনটা অনেক ভালো হয়েছে।”

    “গুড। রেগে যাওয়া ঠিক আছে, মন খারাপ করা ঠিক নাই টুনি তারপর হাত উপরে তুলে বলল, “হাই ফাইভ!”

    মিশু সেই হাতে থাবা দিয়ে বলল, “হাই ফাইভ!”

    .

    টুনি যখনই এরকম জটিল একটা সমস্যায় পড়ে তখনই সে সেটা নিয়ে সবার সাথে কথা বলে। সাধারণত সে শুরু করে ঝুমু খালাকে দিয়ে। তার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ভালো কোনো সমাধান আসেনি, কিন্তু ঝুমু খালা সবসময়েই কোনো-না-কোনো সমাধান দিয়েছে। যত আজগুবিই হোক একটা সমাধান তাতে সন্দেহ নাই।

    আজকেও বাসায় ফিরে ঝুমু খালাকে খুঁজে বের করল, ঝুমু খালা ছাদে টবে পানি দিচ্ছিল। টুনিকে দেখে হুংকার দিয়ে বলল, “তোমরা পাইছটা কী?”

    টুনি থতমত খেয়ে বলল, “কী হয়েছে ঝুমু খালা?

    “এই যে টবে এতোগুলা গাছ, কোনো টবে কোনো পানি নাই। পাতাগুলা শুকায়া দড়ি দড়ি হইছে, মাটি শুকাইয়া পাখর। গাছে যে বদদোয়া দেয় সেইটা জান? বাড়িতে গাছ লাগাইবা কিন্তু পানি দিবা না সেইটা কোন দেশি কাম?”

    দোষটা যে টুনির তা নয়, কিন্তু ঝুমু খালার সাথে এসব বিষয়ে তর্ক করা খুব বিপজ্জনক। টুনি দোষটা মেনে নিয়ে বলল, “সরি ঝুমু খালা। এখন থেকে দিব। একটা রুটিন করে ফেলব কে কোনদিন পানি দেবে।”

    ঝুমু খালা চোখ কপালে তুলে বলল, “গাছে পানি দিতে যদি রুটিং করতে হয় তা হইলে তো বিপদ। উপরে উইঠা যেই দেখব টব শুকনা সেই পানি দিব, তা হইলেই তো সমস্যা সমাধান!”

    শব্দটা যে ‘রুটিং’ না, শব্দটা ‘রুটিন’ সেটা ঝুমু খালাকে জানানো ঠিক হবে কিনা টুনি বুঝতে পারল না। এখন যেহেতু মেজাজ গরম তাই না জানানোই ভালো। টুনি কাজের কথায় চলে এল, বলল, “ঝুমু খালা আমি তোমার কাছে আরেকটা সমস্যা নিয়ে এসেছি, তুমি সমাধান দিতে পারবে?”

    ঝুমু খালা টবে পানি দেওয়া বন্ধ করে গম্ভীর মুখে বলল, “কী সমস্যা?”

    “আমাদের স্কুলে একটা মেয়ে আছে, ক্লাশের সব ছেলেমেয়ে তাকে জ্বালায়। তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। সেইটা নিয়ে মেয়েটার মনে খুব দুঃখ। এখন এই মেয়েটা কী করবে?”

    ‘দোষ কার? এই মেয়ের নাকি কেলাশের ছেলেমেয়ের?’

    “মেয়ের কোনো দোষ নাই। ক্লাশের ছেলেমেয়েদের দোষ আছে সেইটা কেমন করে বলব? ক্লাশ ফোরের ছোট ছেলেমেয়ে–এরা না বুঝে অনেক কিছু

    করে ফেলে।

    ঝুমু খালা ঠোঁট সূঁচালো করে কিছুক্ষণ চিন্তা করল তারপর বলল, “জটিল কেইস। বড় অসুখ সমাধান হতে পারে।”

    টুনি অবাক হয়ে বলল, “বড় অসুখ? কার বড় অসুখ?”

    “এই মেয়ের।”

    “এই মেয়ের বড় অসুখ তুমি কেমন করে জান? “

    “না, না, এই মেয়ের যদি বড় অসুখ হয় তাহলে সব সমস্যার সমাধান। কারো অসুখ হইলেই তার জন্য মায়া হয়, তখন আর কেউ খারাপ ব্যবহার করে না।“

    “কিন্তু তার বড় অসুখ বানাবে কেমন করে?”

    “অপেক্ষা কর। এসকিডেন্ট হলেও হয়। বড় এসকিডেন্ট। হাত পা ঘাড় ভেঙে গেল– “

    শব্দটা ‘এসকিডেন্ট’ না শব্দটা ‘এক্সিডেন্ট’। এটাও মনে হয় এখানে বলা ঠিক হবে না। টুনি শিউরে উঠল, “না ঝুমু খালা, এক্সিডেন্টের দরকার নাই ৷”

    “তাহলে অপেক্ষা কর। গরমের সময় ডেঙ্গু না হয় চিকুনগুনিয়া হতে পারে। সইন্ধ্যার সময় কালা কাপড় পরে বারান্দায় বসলেই মশা আইসা কামড়াইব ৷”

    টুনি বলল, “অসুখের বুদ্ধি বাদ দাও। অন্য কোনো বুদ্ধি থাকলে বল।”

    “তুমি তো আবার জরিনি বেওয়ার তাবিজে বিশ্বাস কর না, তাহলে বলতাম তার একটা তাবিজ নিতে–”

    টুনি বুঝল ঝুমু খালাকে দিয়ে হবে না, তখন সে রওনা দিল ছোটাচ্চুর সাথে কথা বলতে। মাঝখানে তার টুম্পার সাথে দেখা হলো। টুম্পা ছোট মানুষ তার সাথে এরকম জটিল কথা বলে লাভ নাই তবু ভাবল একটু কথা বলে দেখা যাক। টুনি বলল, “টুম্পা তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি? “

    “কর।”

    “তোদের ক্লাশে কি এরকম কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে আছে যাকে ক্লাশের কোনো ছেলেমেয়ে দেখতে পারে না?”

    টুম্পা মাথা নাড়ল। বলল, “আছে।”

    “আছে? সত্যি?”

    “টুম্পা মাথা নাড়ল। টুনি বলল, “চিনিস তাকে তুই?”

    “চিনব না কেন? আমিই তো সেই মানুষ। “

    টুনি প্রায় চিৎকার করে বলল, “তোকে তোদের ক্লাশের কেউ দুই চোখে দেখতে পারে না?”

    টুম্পা মাথা নাড়ল। টুনি জিজ্ঞেস করল, “তুই কেমন করে জানিস?”

    “আমাকে নিয়ে কবিতা বানায়, সেইটা বলে সবাই মিলে।”

    “তোকে নিয়ে কী কবিতা বানিয়েছে?”

    টুম্পা মুখটা শক্ত করে বলল, “অনেকগুলা আছে। একটা হচ্ছে এরকম,

    খাসি না দুম্বা
    টুম্বা রে টুম্বা।”

    “কবিতা মিলে নাই। তোর নাম তো টুম্বা না, তোর নাম তো টুম্পা!”

    “কবিতা না মিললে কী আছে! এইটাই বলে।”

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “তখন তুই কী করিস?”

    টুম্পা উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল। টুনি আবার জিজ্ঞেস করল, “কী করিস?”

    “সেইদিন একটা ঘুষি মেরেছি। ঠিক নাকের উপরে। ঢিসুম করে।”

    “তারপরে?”

    “তখন নাক ধরে ভ্যাঁ করে কেঁদে দিয়েছে।”

    “তারপর?”

    টুম্পা কথা না বলে ঘাড় নাড়াল।

    টুনি আবার জিজ্ঞেস করল, “তারপর কী হয়েছে?” টুম্পা বলল, “ঐ তো!”

    “ঐ তো মানে কী?”

    “ঐ তো মানে ম্যাডামকে নালিশ দিয়েছে।”

    “তারপরে? “

    “তারপরে ম্যাডাম ঝাড়ি দিয়েছে।”

    “শুধু তোকে না দুইজনকেই?”

    “দুইজনকেই। আমাকে বেশি

    “তারপর?”

    “এখন কবিতা বলা কমেছে।”

    টুনি মাথা নাড়ল। একটু পর জিজ্ঞেস করে, “তোকে যে সবাই মিলে জ্বালায় সেইজন্য তোর কী মন খারাপ হয়?”

    “নাহ্! মন খারাপ হবে কেন?” টুম্পার মুখে বিচিত্র এক ধরনের হাসি ফুটে উঠল। বলল, “আমার মজা লাগে–সবগুলোকে আমি সাইজ করতে পারি! সবাই আমাকে ভয় পায়!”

    টুনি কোনো উত্তর না দিয়ে কিছুক্ষণ টুম্পার দিকে তাকিয়ে রইল! মিশুর সমস্যা আর টুম্পার সমস্যার এক না, ক্লাশের সবাই যদি একজনকে জ্বালায় এবং কেউ যদি সেটা থেকে মজা পায় তাহলে তার কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না, সমস্যাটা মনে হয় অন্যদের!

    টুনি তারপর গেল ছোটাচ্চুর কাছে। ছোটাচ্চু বিছানায় আধশোয়া হয়ে একটা বই পড়ছে, বইটার নাম ‘ইউরেনিয়ামের খাঁচায় যকৃতের রস’-নিশ্চয়ই কবিতার বই, সেই জন্যে এরকম নাম। ছোটাচ্চু কবিতার বইটা পড়ে খুব আনন্দ পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। মুখ দেখে মনে হচ্ছে পেট কামড়াচ্ছে। টুনিকে দেখে ছোটাচ্চু বইটা পেটের উপর রেখে টুনির দিকে তাকাল, টুনি জিজ্ঞেস করল, “ছোটাচ্চু এই বইটা কি ডাক্তারি বই?”

    ছোটাচ্চু থমথমে গলায় বলল, “এইটা জিজ্ঞেস করতে এসেছিস?”

    “না না। বইটার নাম দেখে মনে হলো। অন্যকিছু জিজ্ঞেস করতে এসেছি।”

    “কী জিজ্ঞেস করবি?”

    “আমাদের স্কুলের ক্লাশ ফোরের একটা মেয়েকে তার ক্লাশের কেউ দেখতে পারে না। সবাই মিলে মেয়েটাকে নানাভাবে জ্বালায়, মেয়েটার খুবই মন খারাপ।“

    ছোটাচ্চু মাথা নাড়ল, বলল, “বুলিং।”

    “বুলিং?”

    “হ্যাঁ। এটাকে বলে বুলিং। সব জায়গাতেই আছে। অস্ট্রেলিয়ার একটা ছোট বাচ্চাকে সবাই মিলে বুলিং করেছে সেটা নিয়ে সারা পৃথিবীতে হৈচৈ হয়েছে। বাচ্চাটা খাটো ছিল, পুরো ক্লাশ সেটা নিয়ে তার সাথে টিটকারি করত।”

    “বুলিং করলে কী করতে হয়?”

    ছোটাচ্চু মাথা চুলকালো, বলল, “কয়দিন আগে পত্রিকায় বুলিং নিয়ে একটা লেখা ছাপা হয়েছিল, সেখানে কয়েকটা জিনিস লেখা হয়েছিল।

    “কী লেখা হয়েছিল মনে আছে?”

    ছোটাচ্চু বলল, “এইতো, কমন সেন্স। যাদেরকে বুলিং করে তারা

    যেরকম ঝামেলায় পড়ে যারা করে তারা তার থেকে বড় ঝামেলায় পড়ে ৷ বড় হয়ে রীতিমতো ডাকাত হয়–ড্রাগস খায়, গুন্ডামি করে।”

    টুনি মাথা নাড়ল, নতুন একটা জিনিস শিখল, যারা জ্বালাতন করে

    তারাও মানুষ হয় না, গুণ্ডা হয়।

    টুনি এর পরে গেল শাহানা আপুর কাছে। শাহানা আপু দুই পা ছড়িয়ে দুই হাত কোমরে রেখে ডানে বামে বাঁকা হচ্ছে। টুনি জিজ্ঞেস করল, “কী কর শাহানাপু?”

    “ব্যায়াম।”

    “তুমি কি প্রত্যেক দিন ব্যায়াম কর?”

    “মাথা খারাপ? অনেকক্ষণ বসেছিলাম তাই একটু শরীরটা নাড়াচাড়া করছি। তোর কী খবর?”

    “আমার কোনো খবর নাই। কিন্তু তোমাকে একটা জিনিস জিজ্ঞেস করতে এসেছি।”

    “কী জিনিস?”

    “তুমি কি বুলিং কী সেটা জান?”

    শাহানা তার ব্যায়াম বন্ধ করে টুনির দিকে তাকাল। বলল, “হঠাৎ করে বুলিং কী জানতে চাচ্ছিস কেন? কেউ কি কাউকে বুলিং করছে?”

    “হ্যাঁ।” টুনি মাথা নাড়ল, “আমার কাছে একটা মেয়ে এসে কান্নাকাটি করেছে। তার ক্লাশের সবাই তাকে জ্বালাতন করে, টিটকারি করে

    শাহানা মাথা নাড়ল, বলল, “খাঁটি বুলিং। বেচারি। কোন ক্লাশের মেয়ে?”

    “ক্লাশ ফোর।”

    “একটু বেশি আগে শুরু হয়েছে মনে হচ্ছে। যতদূর জানি এগারো

    বারোতে শুরু হয়।

    “কাউকে যদি অন্যরা বুলিং করে তাহলে তার কী করতে হয়?”

    শাহানাপু বলল, “আমি কি আর জানি? যাকে বুলিং করে দেখা গেছে সে খুব নিরীহ হয়, তাকে জ্বালাতন করা সোজা! সেজন্য তাকে বেছে নেওয়া হয়। তাছাড়া–”

    “তাছাড়া কী?”

    “তাছাড়া সবাই তো আর বুলিং করে না এক দুইজন করে, অন্যরা হয়তো সেটা দেখেও চুপ করে থাকে।”

    টুনি বলল, “ক্লাশ ফোরের বাচ্চা, কতোটুকুই আর বুঝে।”

    শাহানা আপু বলল, “উল্টোটাও হতে পারে।”

    “উল্টোটা কী?”

    “যে বাচ্চাগুলো বুলিং করছে তাদের হয়তো নিজেদেরই সমস্যা আছে। বাসায় প্রবলেম। বাবা-মা হয়তো বাচ্চাগুলোকে মারে, অত্যাচার করে, সেটা নিয়ে নিজেদের ভেতরে রাগ অশান্তিকে বলবে?”

    টুনি আরো কিছুক্ষণ কথা বলল, তারপর নিজের বাসায় গেল। মোটামুটি সবার সাথে কথা বলা হয়েছে, বাকি আছে আম্মু। তার সাথে কথা বললে শেষ হয়। তাই ঘুমানোর আগে সে আম্মুকে জিজ্ঞেস করল, “আম্মু তোমাকে একটা জিনিস জিজ্ঞেস করি? “

    “আবার কী সমস্যা? এবারে কার কী হয়েছে? কে এসেছে তোর কাছে?”

    টুনি হেসে ফেলল, বলল, “তুমি কেমন করে বুঝেছ আমার কাছে কেউ এসেছে?”

    “না বোঝার কী আছে! সব সময়েই তো দেখছি কেউ না কেউ কোনো না কোনো সমস্যা নিয়ে তোর কাছে আসছে।

    “তুমি ঠিকই আন্দাজ করেছ।” টুনি তারপর আম্মুকে মিশুর ব্যাপারটার সব কিছু খুলে বলল। আম্মু সবকিছু শুনে একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন। বললেন, “সারা দুনিয়ায় সব সময় এই প্রবলেম। তোর এগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর কথা না। তোদের স্কুলের টিচারদের চোখ-কান খোলা রাখা দরকার, দেখা দরকার কারো ওপর বুলিং হচ্ছে কিনা–তাদের মাথা ঘামানো দরকার।”

    টুনি একটু হাসার চেষ্টা করল, বলল, “আম্মু তুমি জানো না স্কুলে কত আজব আজব টিচার আছে! আমাদের একজন টিচার আছে যে হিন্দু ছেলেমেয়েদের দেখতে পারে না, তাদেরকে নিয়ে টিটকারি দেয়, পরীক্ষায় কম নম্বর দেয়–”

    আম্মু হতাশভাবে মাথা নাড়লেন। বললেন, “কবে যে সবকিছু ঠিক হবে!”

    “এখন মিশুকে নিয়ে কী করব বল?”

    “তুই যা করছিস ঠিকই আছে। মেয়েটার পাশে থাক। এরকম কিছু হলে বাচ্চাগুলো নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে সেটা ফিরিয়ে আনতে পারিস কিনা দেখ। যে বাচ্চাগুলো এরকম করছে টিচারদের দিয়ে তাদের একটু শাসন করাতে পারলে অনেক সময় কাজ হয়।“

    টুনি আরো কিছুক্ষণ তার আম্মুর সাথে কথা বলল, তারপর শুতে গেল। শুয়ে শুয়েও সে পুরো ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করতে থাকে। তার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে সেটা দিয়ে চেষ্টা করতে পারে, দেখা যাক কাজ করে কিনা। সেটা করতে চাইলে আগে অবশ্য ছোটাচ্চুর সাথে কথা বলতে হবে। স্কুলে যাওয়ার আগে ছোটাচ্চু ঘুম থেকে উঠবে কিনা কে জানে। ছোটাচ্চু যদি না ওঠে তাহলে তাকে ঘুম থেকে তুলেই কথা বলতে হবে। ছোটাচ্চুর মনে হয় একটু মেজাজ খারাপ হবে, কিছু করার নেই।

    সবকিছু চিন্তা করতে করতে টুনি এক সময় ঘুমিয়ে গেল।

    .

    পরদিন টিফিনের ছুটিতে টুনি স্কুলের বারান্দায় গিয়ে দেখে সেখানে মিশু বসে আছে। টুনিকে দেখে মিশু তার সবগুলো দাঁত বের করে হেসে বলল, “তুমি এসেছ?”

    “হ্যাঁ। একটু দেরি হয়ে গেছে। তুই কতক্ষণ থেকে বসে আছিস?”

    “অনেকক্ষণ! আমি ভেবেছিলাম তুমি বুঝি ভুলেই গেছ আমার কথা।

    টুনি মাথা নাড়ল, বলল, “না, না ভুলব কেন? তোর জন্য একটা কাজ করতেই তো দেরি হয়ে গেল!”

    “কী কাজ করেছ আমার জন্য? “

    টুনির হাতে একটা প্যাকেট, সুন্দর রঙিন কাগজে মোড়ানো। সেটা মিশুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “তোর জন্য এই প্যাকেটটা বানাতে গিয়ে দেরি হয়ে গেল।”

    মিশুর চোখ চকচক করে উঠে। জিজ্ঞেস করল, “আমার জন্য?”

    “হ্যাঁ।”

    “সত্যি?”

    টুনি হাসল। বলল, “হ্যাঁ। সত্যি।”

    মিশু খুব আগ্রহ নিয়ে প্যাকেটটা হাতে নিল, উল্টেপাল্টে দেখে বলল, “কী আছে ভিতরে?”

    “খুললেই দেখবি ৷ কিন্তু এখন খুলতে পারবি না। “

    “তাহলে কখন খুলব?”

    “তুই তোর ক্লাশ রুমে খুলবি, যখন স্যার ম্যাডাম নাই কিন্তু অন্য ছেলেমেয়েরা আছে তখন। যারা তোকে জ্বালায় তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে খুলবি।”

    “ঠিক আছে।”

    “ভিতরে একটা চিঠিও আছে। সেটা পড়বি।”

    “চিঠি? কে লিখেছে?”

    টুনি বলল, “কে আবার লিখবে? আমি লিখেছি।”

    মিশু অবাক হয়ে বলল, “তুমি আমাকে চিঠি লিখেছ?”

    “হ্যাঁ!”

    “কেন? তুমি তো আমার সাথে কথাই বলতে পার।”

    টুনি বলল, “কিন্তু আমি যে কথাটা বলতে চাই সেটা আমি তোকে লিখে জানাতে চাই। তুই যখন সেটা পড়বি তখন তোর ক্লাশের সবাই দেখবে, মনে হয় জানতে চাইবে চিঠিতে কী লেখা আছে–“

    “হ্যাঁ। হ্যাঁ। এরা সব সময় আমার ব্যাগ খুলে দেখে, ব্যাগে কী আছে। আমার হোমওয়ার্কে যেগুলো ভুল হয় সেটা নিয়ে হাসাহাসি করে। আমি যদি চিঠি পড়ি তাহলে সবাই উঁকি দিয়ে দেখবে চিঠিতে কী লেখা আছে। সেইটা নিয়ে হাসাহাসি করবে।”

    “গুড। আমিও সেইটা চাই। দরকার হলে তুই তাদের চিঠিটা পড়তেও দিতে পারিস!“

    মিশু হাতের প্যাকেটটা নেড়ে চেড়ে বোঝার চেষ্টা করে ভিতরে কী আছে। মনে হচ্ছে একটা বই, কিসের বই? কে জানে।

    .

    মিশু সাধারণত ক্লাশের ঘণ্টা বাজার পর ক্লাশে এসে ঢুকে। তাকে দেখলেই ছেলেমেয়েরা তাকে জ্বালাতন শুরু করে দেয়, তাই যত দেরি করে সম্ভব সে ক্লাশে ফিরে আসে। আজকে সে একটু আগেই ক্লাশে ঢুকল, তাকে দেখেই ফুটফুটে একটা মেয়ে আনন্দে চিৎকার করে বলল, “এসেছে! এসেছে! মটু এসেছে!”

    আরেকজন বলল, “মটু মোষ! মটু মোষ! কতো মোটা মোষ!”

    ফুটফুটে মেয়েটা বলল, “দেখো, দেখো, মটু মোষের হাতে গিফট!” ছোটখাটো একটা ছেলে বলল, “কে তোমাকে গিফট দিয়েছে? কিসের গিফট? জন্মদিনের?”

    ফুটফুটে মেয়েটা বলল, “জন্মদিনের না! এটা বিয়ের গিফট!”

    সবাই তখন আনন্দে চিৎকার করতে থাকে, “বিয়ের গিফট! বিয়ের গিফট! মটু মোষের বিয়ে!”

    মিশু সবার দিকে তাকিয়ে তার গতকালকে শেখা বাঁকা হাসিটা হেসে নিজের সিটে বসল। হাতের প্যাকেটের রঙিন কাগজটা ছিঁড়ে সে ভিতরের গিফট বের করল। খুব সুন্দর একটা নোট বই আর চমৎকার একটা কলম। মিশু কলমটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল তারপর সেটা টেবিলের উপর রেখে নোট বইটা খুলল। সেখানে ভাঁজ করা একটা কাগজ, নিশ্চয়ই টুনি আপুর চিঠি। মিশু চিঠিটা খুলল, সাথে সাথে কয়েকটা বাচ্চা চিৎকার করে উঠল, “চিঠি! চিঠি! মোষের কাছে চিঠি লিখেছে! মটু মোষের কাছে চিঠি!”

    মিশু কোনো কিছুকে পাত্তা না দিয়ে চিঠি পড়তে থাকে, কয়েকজন তার ঘাড়ের উপর ঝুঁকে চিঠিটা পড়তে চেষ্টা করে। মিশু চিঠিটা লুকানোর চেষ্টা করল না, টুনি আপু বলেছে সে চায় অন্যরা চিঠিটা পড়ুক! চিঠিতে লেখা :

    প্রিয় মিশু

    তুমি আমাকে বলেছ তোমাকে নাকি তোমাদের ক্লাশের কিছু ছেলেমেয়ে অনেক জ্বালায়। কে জানে এখনো জ্বালাচ্ছে কিনা। হয়তো তোমার ঘাড়ের উপর দিয়ে কেউ কেউ চিঠিটা পড়ছে! পড়ছে পড়ুক।

    যে ছেলেমেয়েরা তোমাকে জ্বালাচ্ছে তাদের ওপর তুমি বেশি রাগ হয়ো না, কারণ এটা তাদের দোষ না। খোঁজ নিয়ে দেখো তাদের বাসায় নিশ্চয়ই সবাই তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে, গালিগালাজ করে, মারধোর করে। তাই তারা মনে করে অন্যদের সাথেও বুঝি তাদের খারাপ ব্যবহার করতে হবে, গালিগালাজ করতে হবে। তারা যদি আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে না যায় তাহলে তারা এভাবেই বড় হবে, কেউ গুন্ডা হবে, কেউ ইয়াবা খাবে, কেউ বড় হয়ে তাদের বউকে পিটাবে।

    যাই হোক আমার মাথায় একটা খুব ভালো আইডিয়া এসেছে, সেই জন্য তোমাকে এই চিঠিটা লিখেছি। তোমাকে যেটা করা হয় সেটার নাম বুলিং, সারা পৃথিবীর সব জায়গাতেই বুলিং হয়। কেমন করে বুলিং করা হয় সেটা সবাই জানতে চায় সেইটা নিয়ে গবেষণা করে। তোমার ওপরে যে বুলিং করা হয় তুমি কি সেই ঘটনাগুলো লিখে রাখতে পারবে? কবে কে করেছে তাদের নামধামসহ? পারলে ছবিসহ? যদি তুমি এই রকম বেশ কয়েকটা ঘটনা লিখে রাখতে পার তাহলে সেটা বই মেলার সময় বই হিসেবে ছাপানো যাবে। তোমার বইটা হবে একজন খুব কম বয়সী বাচ্চার লেখা খুবই ইম্পরট্যান্ট একটা বই। সবাই এইটা পড়ে দেখতে চাইবে।

    তোমার মনে হতে পারে, তুমি এতো ছোট তাই কেউ তোমার ব‍ই ছাপাবে না। এই ব্যাপারে আমি আমার ছোট চাচা বিখ্যাত ডিটেকটিভ শাহরিয়ারের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন যে তিনি বইটি ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেবেন। শুধু তাই না, বিখ্যাত গায়ক মাহী কাঞ্চনকে দিয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করিয়ে দেবেন।

    সেজন্য আমি তোমাকে এই ডাইরি এবং কলমটি দিয়েছি। তোমার সাথে যারা খারাপ ব্যবহার করছে তুমি তাদের নাম রোল নম্বরসহ ঘটনাটি সুন্দর করে গুছিয়ে লিখে ফেল। এখন থেকে যখনই কেউ তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে, তোমাকে গালাগাল দেবে তুমি সাথে সাথে সেটা তোমার ডাইরিতে লিখে ফেলবে। সবসময় ডাইরিটা নিজের কাছে রাখবে। কেউ গালাগাল দিলে কিংবা খারাপ ব্যবহার করলে তুমি এখন থেকে আর মন খারাপ করবে না। সেটা লিখ এবং সেটা থেকে একটা বই প্রকাশিত হবে।

    বইটির কী নাম দেওয়া যায় এবং কে এর প্রচ্ছদ আঁকবে সেটা পরে ঠিক করব। আমাদের হেড মিস্ট্রেসের সাথে আমার খাতির আছে। আমি তাকে অনুরোধ করলে তিনি নিশ্চয়ই একটা ভূমিকা লিখে দেবেন।

    আমার সাথে যোগাযোগ রেখো।

    টুনি, সপ্তম শ্রেণী।

    চিঠি পড়া শেষ করে মিশু পিছন দিকে তাকালো, বেশ কয়েকজন শুকনো মুখে তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মনে হয় পুরোটা পড়া হয় নাই। মিশু জিজ্ঞেস করল, “তোমরা কী চিঠিটা পড়তে চাও?”

    ছেলেমেয়েগুলো একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকালো। ফুটফুটে মেয়েটা দুর্বলভাবে মাথা নাড়ল। মিশু চিঠিটা তার হাতে দিয়ে বলল, “পড়া শেষ হলে আমাকে দিয়ে দিও, প্লিজ।“

    পড়া শেষ হতে অনেকক্ষণ লাগল, কারণ ফুটফুটে মেয়েটা পড়া শেষ হওয়ার পর, খাটো ছেলেটা পড়ল, খাটো ছেলেটার পর চশমা পরা ছেলেটা পড়ল, চশমা পরা ছেলেটার পর, ন্যাড়া মাথা ছেলেটা পড়ল, ন্যাড়া মাথার পর আরেকজন, তারপর আরেকজন এভাবে সবাই পড়তে লাগল।

    মিশু এর আগে নিজে থেকে কারো সাথে কথা বলেনি, আজকে বলল! ফুটফুটে মেয়েটাকে বলল, “তোমার একটা ছবি আমাকে দেবে প্লিজ?”

    মেয়েটা বলল, “ছবি? অ্যাঁ ছবি? আ-আ-আমার ছবি?”

    “না দিলেও ঠিক আছে। আমাদের স্কুল ম্যাগাজিনে তুমি ‘সবার জন্যে ভালোবাসা’ নিয়ে একটা খুব সুন্দর কবিতা লিখেছিলে না? সেইখানে তোমার একটা সুন্দর ছবি ছিল। সেই ছবিটা কেটে নিব।”

    ফুটফুটে মেয়েটা কিছু একটা বলার চেষ্টা করল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলতে পারল না।

    সপ্তাহ খানেক পরের কথা। টুনি স্কুলের বারান্দায় বসে মাঠে সবাইকে ছোটাছুটি করতে দেখছে, তাকে কয়েকবার ডেকে গেছে, সেও মাঠে যাবে কিনা চিন্তা করছে। ঠিক তখন মিশু এসে হাজির হলো। সে একা নয় তার সাথে একটি ফুটফুটে মেয়ে ৷

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “কী রে মিশু, তোর বই লেখার কতদূর?”

    মিশু মাথা চুলকে বলল, “সেটা নিয়েই কথা বলতে এসেছি।”

    “কী কথা, বলে ফেল।”

    “মনে হয় বই লেখা হবে না।”

    টুনি বলল, “লেখা হবে না? সে কী? আমি ছোটাচ্চুকে বলে রেখেছি, পাবলিশার রেডি।”

    মিশুর পাশে দাঁড়ানো ফুটফুটে মেয়েটি বলল, “আমরা মিশুকে অন্য কিছু নিয়ে লিখতে বলেছি। যেমন মনে করো ভূতের গল্প।“

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “তুমি কে? চিনতে পারলাম না তো?”

    “আমি মিশুর বন্ধু। একসাথে পড়ি।”

    “ও!”

    মিশু জিজ্ঞেস করল, “ভূতের গল্প কী হবে? না হলে ডিটেকটিভ?” ফুটফুটে মেয়েটি বলল, “আমরা দুইজনে মিলে কবিতাও লিখতে পারি।”

    মিশু বলল, “শোয়েব বলেছে সে ছবি এঁকে দেবে। খুব সুন্দর ছবি আঁকে।”

    টুনি জানতে চাইল, “শোয়েব কে?”

    ফুটফুটে মেয়েটি বলল, “আমাদের ক্লাশের আরেকজন ছেলে ঐ যে চোখে চশমা—”

    টুনি বলল, “ও! আচ্ছা।”

    মিশু বলল, “অন্য কিছু নিয়ে কী লেখব আমরা?”

    “ঠিক আছে। লিখতে থাকো। দেখি কেমন হয়।”

    মিশু আর ফুটফুটে মেয়েটি উত্তেজিতভাবে কথা বলতে বলতে চলে গেল।

    টুনি সেদিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসল। নিশানা ভালো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআহা টুনটুনি উহু ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }