Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যেরকম টুনটুনি সেরকম ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন এক পাতা গল্প103 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. খাওয়া-খাওয়ি

    ২. খাওয়া-খাওয়ি

    ভোরবেলা দরজায় টুংটাং শব্দ শুনে টুনি দরজা খুলে দেখল দরজার সামনে একটা ছেলের হাত ধরে একজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। কয়দিন থেকে টুনি একটা নতুন জিনিস শুরু করেছে, কোনো মানুষ দেখলেই সেই মানুষটা কী রকম হতে পারে সেটা কল্পনা করা শুরু করে। বেশিরভাগ সময়ই তার কল্পনার সাথে মিলে না, যাকে ভালো মনে করে সে পাজি বের হয়ে যায়, যাকে রাগী মনে হয় দেখা যায় সে হাসি-খুশি, তারপরও টুনি হাল ছাড়ে নাই।

    এবারেও দরজার সামনে দাঁড়ানো মহিলা আর ছেলেটাকে দেখে টুনি কল্পনা করতে শুরু করে দিল, মহিলার বয়স তেত্রিশ, ছেলেটির বয়স আট বছর তিন মাস। মহিলার নাম নাজিলা নাশওয়ান। ছেলেটার নাম সিমদান। চেহারা দেখে নাম মেলানো খুব কঠিন– শুধু কঠিন নয় প্রায় অসম্ভব। তবুও টুনি চেষ্টা করে যায়। মহিলা ব্যাংকে চাকরি করে, অস্থির টাইপের। অল্পতেই বিচলিত হয়ে যায়। ছেলেটাকে আদর দিয়ে একটুখানি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। দিন-রাত ইউটিউবে কার্টুন দেখে টুনি মহিলাটা এবং তার ছেলে সম্পর্কে আরও কিছু কল্পনা করতে পারত কিন্তু তার আগেই মহিলা বলল, “এটা জোবেদা খানমের বাসা না?”

    টুনির এক মুহূর্ত লাগল মনে করতে যে জোবেদা খানম আসলে তাদের দাদি (কিংবা নানির) নাম। বহুদিন এই বাসায় কেউ তাকে এই নামে ডাকে না।

    টুনি বলল, “জি এটা জোবেদা খানমের বাসা।“

    মহিলাটা বলল, “জোবেদা খালা বাসায় আছেন?”

    টুনি বলল, “আছেন। আপনি বসেন, আমি দাদিকে ডেকে দিই।”

    “আমার নাম স্বর্ণা। বল শ্যাওড়া পাড়া থেকে স্বর্ণা এসেছে।”

    নামটা মিলল না। টুনি অবশ্য এতে বেশি হতাশ হলো না–নাম– মিলিয়ে ফেলা এত সহজ না। অন্যগুলো মিলে কি না দেখা যাক।

    টুনি ভেতরে গিয়ে দাদিকে খবর দিল। দাদি তার ঘরে বসে একটা বই পড়ছিলেন, মুখ তুলে বললেন, “স্বর্ণা এসেছে?”

    টুনি মাথা নাড়ল ৷

    “একা, নাকি সাথে আর কেউ আছে?”

    “একটা ছোট ছেলে আছে।”

    “যা, তাহলে এখানে ডেকে নিয়ে আয়।”

    যারা একটু ঘনিষ্ঠ দাদি তাদের ভেতরে ডেকে নিয়ে আসে। অবশ্য দাদির সাথে ঘনিষ্ঠ না এরকম মানুষ খুব কম।

    স্বর্ণাকে দেখে দাদি হাসি হাসি মুখে বললেন, “আরে স্বর্ণা! কতদিন পরে তোমাকে দেখছি। এই বুঝি তোমার ছেলে? ওরে বাবা! কত বড় হয়ে গেছে! বয়স কত হলো?”

    “সাত।”

    টুনি মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ছেলের বয়সটাও মিলল না। সে ভেবেছিল আট বছর তিন মাস।

    দাদি হাত বাড়িয়ে বললেন, “এসো দাদা এসো, কাছে এসো। কী যেন নাম তোমার?”

    ছেলেটা মুখ শক্ত করে বলল, “সুমন।” কিন্তু দাদির কাছে যাওয়ার কোনো চেষ্টা করল না। নামটাও মিলল না।

    “স্বর্ণা দাদির বিছানার পাশে বসতে বসতে বলল, “খালা, আপনি কেমন আছেন?”

    দাদি বললেন, “আমি তো ভালোই আছি। যত বয়স হচ্ছে শরীর তত ভালো হয়ে যাচ্ছে, কিছু বুঝতে পারছি না!”

    “বাহ্! কী চমৎকার। আজকাল তো উল্টো ব্যাপার। যাকেই জিজ্ঞেস করি তারই হয় ব্লাড প্রেসার না-হয় ডায়াবেটিস।”

    দাদি হাসলেন, বললেন, “এই জন্য কখনো ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না। ডাক্তারের কাছে গেলেই ডাক্তার কিছু একটা রোগবালাই বের করে ফেলবে।

    স্বর্ণাকে একটুখানি অবাক এবং অনেকখানি দুশ্চিন্তিত দেখা গেল, বলল, “আপনি ডাক্তারের কাছে যান না? মাঝে মাঝে চেকআপ করান না?”

    “মাথা খারাপ! রোগবালাই নাই, খামাখা ডাক্তারের কাছে কেন যাব? আগে কিছু একটা হোক তারপর যদি যেতেই হয় তাহলে যাব।”

    স্বর্ণা মাথা নাড়ল, বলল, “না খালা। মাঝে মাঝে চেকআপ করাতে হয়। আমি চেকআপ করিয়েছিলাম বলেই তো আমার কোলেস্টেরল ধরা পড়ল। এখন গরুর গোশত, ডিমের কুসুম বন্ধ। দুই বেলা ওষুধ।”

    দাদি হাসি হাসি মুখে বললেন, “এই জন্যই তো ডাক্তারের কাছে যেতে চাই না, প্রথমেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিবে।” দাদি আবার ছেলেটার দিকে তাকালেন, বললেন, “মাশাআল্লাহ্ তোমার ছেলেটা কত ফুটফুটে হয়েছে –“

    “ফুটফুটে?” স্বর্ণা প্রায় আর্তনাদ করে বলল, “কী বলছেন আপনি? শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। ফুঁ দিলে উড়ে যাবে।”

    টুনি ভালো করে তাকাল, একটু শুকনো সত্যি কিন্তু মোটেই ফুঁ দিলে উড়ে যাওয়ার মতো শুকনা না। আজকাল সবার ঘরে থলথলে মোটা মোটা বাচ্চা, সেই তুলনায় এই বাচ্চাটা যথেষ্ট ভালো।

    স্বর্ণার মনে হলো কথা বলার জন্য তার প্রিয় একটা বিষয় পেয়ে গেল, চোখ কপালে তুলে হাত নেড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বলতে শুরু করল, “খালা, আপনি চিন্তা করতে পারবেন না এই ছেলে নিয়ে কী সমস্যা।”

    দাদিকে সমস্যা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তিত মনে হলো না। হাসি হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলেন, “কী সমস্যা?”

    “খেতে চায় না। একবারে কিচ্ছু খেতে চায় না।’

    “এটা খালি তোমার সমস্যা না। এটা সবার সমস্যা। এই বাসার ছেলেমেয়েরাও কি খেতে চায় ভেবেছো?”

    টুনির মনে হলো এই বাড়ির মেয়ে হিসেবে তার একটু প্রতিবাদ করা দরকার। সে মাথা তুলে বলল, “নানি, আমরা খেতে চাই না এটা ঠিক না। শান্ত ভাইয়া একাই আমাদের দশজনের সমান খেয়ে ফেলে।”

    “সেগুলি সব অখাদ্য-কুখাদ্য। ভালো জিনিস তোরা মুখে তুলতে চাস না।”

    “দাদি, তুমি যদি মনে করো পৃথিবীতে ভালো খাদ্য মানে করলা ভর্তা, ঢেঁড়স ভাজি আর কচুর লতি তাহলে সেগুলি কে খেতে চাইবে?”

    স্বর্ণা বলল, “না খালা, আমি মোটেও শাকসবজির কথা বলছি না। এই সুমন কোনো খাবার মুখে তোলে না। ফ্রায়েড চিকেন দেন, পিৎজা দেন, হ্যামবার্গার দেন, নুডলস দেন, আইসক্রিম দেন, কেক দেন, কিচ্ছু খাবে না। খাবার যেন তার কাছে বিষ!”

    টুনি এবারে ভালো করে ছেলেটার দিকে তাকাল। তার মা যখন তার সম্পর্কে বলছে তখন মনে হলো সে ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করছে। সে যে কিছু খায় না সেটা তার কাছে অনেক বড় একটা অহঙ্কারের ব্যাপার ৷

    স্বর্ণা বলতে থাকল, “সকাল থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আমি খাবারের থালা নিয়ে সুমনের পিছনে পিছনে ছুটতে থাকি, সেও মুখ বন্ধ করে ছুটতে থাকে। অনেক সাধ্য-সাধনা করে যদি এক চামচ খাওয়াতে পারি তাহলে সেটা আমার সাত পুরুষের ভাগ্য।”

    টুনি তাকিয়ে দেখল, সুমন তার মায়ের কথাটাকে নিজের প্রশংসা হিসেবে নিয়েছে। তার মুখে এখন রীতিমতো গৌরবের চিহ্ন। হাসি হাসি মুখ।

    স্বর্ণা মাথায় থাবা দিয়ে বলল, “কারো কাছে মুখ দেখাতে পারি না। সবাই ভাবে আমার ছেলেকে আমি খেতে দেই না! অথচ আমি দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা আমার ছেলের পিছনে লেগে থাকি। খাবার নিয়ে পিছনে পিছনে ঘুরি, ছেলে খাবার মুখে তুলে না। শেষ পর্যন্ত কি করি জানেন?”

    দাদি জিজ্ঞেস করলেন, “কী করো?”

    “ভাত, ডাল, মাছ, মাংস ব্লেন্ডারে পিষে ফেলি। পুরোপুরি লিকুইড। তারপরে গ্লাসে করে মুখ হাঁ করিয়ে গলায় ঢেলে দেই।”

    “তখন খায়?”

    “মাথা খারাপ হয়েছে আপনার? নিজে নিজে খাবে? কক্ষনো না। জোর করে খাওয়াতে হয়। হাসপাতালে যেভাবে জোর করে খাওয়ানো হয় অনেকটা সেই অবস্থা।”

    দাদি অবাক হয়ে ছেলেটার দিকে তাকালেন। ছেলেটা বেশ অহঙ্কারের একটা হাসি দিল। টুনিও ভালো করে ছেলেটাকে লক্ষ করল, এক-দুই বছরের ছোট বাচ্চাদের বেলায় এরকম গল্প শুনেছে। কিন্তু সাত বছরের বড় একটা ছেলের বেলার যে এরকম হতে পারে সে কখনো কল্পনা করেনি। সে মনে মনে যেটা ভাবছিল, দাদি তখন সেটাই স্বর্ণাকে বললেন।

    দাদি বললেন, “স্বর্ণা, আসলে তুমি মনে হয় বিষয়টাকে বেশি সিরিয়াসলি নিয়েছো। যে বাসায় খাওয়া-দাওয়া আছে সেই বাসায় কখনো কোনো বাচ্চা না খেয়ে মারা যায় নাই। তোমার উচিত জোর না করা। তাহলেই সে নিজে নিজে খাওয়া শিখবে।”

    স্বর্ণা মাথা নাড়ল, “কোনোদিন শিখবে না। নিজে নিজে খেতে দিলে খাবেই না।” স্বর্ণা তার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল, “তাই না সুমন? খাবি?”

    সুমন সগৌরবে মাথা নাড়ল, বলল, “নাহ্। খাব না। আমার খেতে ভালো লাগে না।”

    স্বর্ণা বলল, “শুনেছেন? শুনেছেন খালা– কী বলল?”

    দাদি মাথা নাড়লেন, বললেন “শুনেছি।”

    টুনির যথেষ্ট শোনা হয়েছে। স্বর্ণা আর তার ছেলের নাম আর বয়স নিয়ে যেটা কল্পনা করেছিল সেগুলো মেলেনি কিন্তু অন্য সবকিছু মিলে গেছে। ছেলেটা হালকাভাবে বখে যাওয়া। মা অস্থির টাইপের, অল্পতেই বিচলিত।

    টুনি যখন ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল তখন দাদি বললেন, “টুনি। এই বাচ্চাটাকে সাথে নিয়ে যা। তার সাথে একটু খেলাধুলা কর।”

    বখে যাওয়া বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করা খুব সহজ না। কিন্তু সেটা তো আর মুখ ফুটে বলা যায় না, তাই সে কিছু বলল না। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল, “এসো সুমন, আমরা খেলি।”

    “কী খেলবে?”

    “তুমি যেটা খেলতে চাও।”

    “আমি কিছু খেলতে চাই না।”

    “ঠিক আছে। তাহলে সেটাই খেলব। কিছু খেলতে না চাওয়ার খেলা।”

    সুমন অবাক হয়ে বলল, “সেটা কেমন করে খেলে?”

    “আমার সাথে এসো। তাহলে দেখবে।”

    সুমন শেষ পর্যন্ত কৌতূহলী হয়ে টুনির সাথে গেল।

    তিন তলায় টুনি টুম্পা, রিমকি আর পিয়ালকে পেয়ে গেল। তারা

    একটা কার্ড বোর্ডের বাক্সে মিতুলকে ঢুকিয়ে চিৎকার করে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। টুনিকে অপরিচিত একটা ছেলেকে নিয়ে ঢুকতে দেখে সবাই থেমে গেল। টুম্পা জিজ্ঞেস করল, “এইটা কে টুনি আপু?”

    “এর নাম হচ্ছে সুমন। সুমন তোদের সাথে একটা নতুন খেলা খেলতে এসেছে।

    বাচ্চারা নতুন খেলার কথা শুনে যথেষ্ট উত্তেজিত হয়ে উঠে জিজ্ঞেস করল, “কী খেলা? কী খেলা টুনি আপু?”

    “খেলাটার নাম হচ্ছে, কিছু খেলতে চাই না। “

    “কিছু খেলতে চাই না! এটা আবার কী রকম খেলা?”

    “খুবই সোজা। যে এটা খেলতে চায় তাকে এই কার্ড বোর্ডের বাক্সে ঢুকিয়ে সবাই মিলে চিৎকার করবি, খেলতে চাই না, খেলতে চাই না, আমি কিছুই খেলতে চাই না।”

    “এইটাই খেলা?”

    “এইটা দিয়ে শুরু। তারপর আরও অনেক কিছু হবে।”

    “আর কী হবে?”

    “সব আমি বলে দিব নাকি? তোরা নিজেরা চিন্তা করে বের কর।

    একটু পরেই খেলা শুরু হয়ে গেল। খেলার অনেক রকম ডালপালা বের হলো। কে খেলবে না, কেন খেলবে না, কী খেলবে না, খেললে কী শাস্তি দেওয়া হবে, এইটুকুন পর্যন্ত মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে খেলা হলো কিন্তু যখন বিনা কারণে শাস্তি দেওয়া শুরু হয়ে গেল তখন খেলাটি ধীরে ধীরে জঙ্গি রূপ নিতে থাকে। খেলাটা যখন মোটামুটি যথেষ্ট জঙ্গি হয়েছে তখন নিচ থেকে ঝুমু খালা এসে জানাল সুমনকে তার মা ডেকে পাঠিয়েছে। টুনি এবং তার সাথে অন্যরাও নিচে নেমে এলো।

    টুনি দেখল স্বর্ণা দাঁড়িয়ে আছে চেহারার মাঝে খানিকটা অস্থির ভাব। সুমনকে দেখেই তার কাছে গিয়ে বলল, “বাবা, আমাকে এখনই মানিকগঞ্জ যেতে হবে।”

    সুমন মুখ ভোঁতা করে রীতিমতো ধমক দিয়ে বলল, “না, তুমি যাবে না।”

    স্বর্ণা অপরাধীর মতো বলল, “আমাকে যেতেই হবে বাবা।”

    “না, আমি মানিকগঞ্জ যাব না। মানিকগঞ্জ আমার ভালো লাগে না!”

    “ভালো না লাগলেও যেতে হবে বাবা।

    “না, আমি যাব না।”

    “আমিও তো যেতে চাচ্ছিলাম না। হঠাৎ করে তোর বাবা ফোন করল, ইমার্জেন্সি–’

    “না, না, আমি যাব না। “

    টুনি রীতিমতো মুগ্ধ চোখে পুরোপুরি বখে যাওয়া ছেলে কেমন হয় সেটা দেখতে লাগল।

    হঠাৎ করে দাদি বলে বসলেন, “স্বর্ণা, তুমি তোমার ছেলেকে এখানে রেখে মানিকগঞ্জ চলে যাও। আমাদের বাচ্চা-কাচ্চারা ওকে নিয়ে খেলাবে, ব্যস্ত রাখবে।”

    টুনি মনে মনে দোয়া করতে লাগল যেন স্বর্ণা রাজি না হয়, এই বখে যাওয়া ছেলেকে সারাদিন দেখে রাখা কঠিন ব্যাপার হবে।

    কিন্তু স্বর্ণা কেমন যেন নিমরাজি হয়ে গেল। বলল, “কিন্তু আপনারা তো ওকে খাওয়াতে পারবেন না।”

    “কেন খাওয়াতে পারব না? আমি আমার ছেলে-মেয়েকে খাওয়াই নাই, নাতি-নাতনিকে খাওয়াই নাই?”

    স্বর্ণা বলল, “তাহলে তো খুবই ভালো হয়। খাওয়ানোর জন্য একটু জোর করতে হবে। যদি ইউটিউবে একটা ভয়ের সিনেমা দেখানো হয় তখন মুখে খাবার তুলে দিলে খেয়ে নেয়।”

    “তুমি চিন্তা কোরো না- নিশ্চিন্ত মনে যাও। ফিরে যাওয়ার সময় তোমার বাচ্চাকে নিয়ে যেয়ো।

    “আমার ফিরতে ফিরতে কিন্তু অনেক রাত হবে।”

    দাদি বললেন, “কোনো সমস্যা নাই। আমরা আছি।”

    টুনি একটা বিশাল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এইটা হচ্ছে দাদির সমস্যা। দুনিয়ার সব মানুষের দায়িত্ব নিয়ে বসে থাকেন!

    ঠিক যখন স্বর্ণা তার ছেলেকে টুনিদের হাতে দিয়ে বের হয়ে গেল তখন টুনির মাথায় হঠাৎ করে একটা বুদ্ধি উঁকি দিয়ে গেল। দরজাটা বন্ধ করে সে সুমনের দিকে তাকিয়ে বলল, “সুমন, তোমার খেতে ভালো লাগে না, তাই না?”

    সুমন মাথা নাড়ল ৷

    টুনি হাসি হাসি মুখে বলল, “কী আনন্দ! তোমার আর খেতে হবে না।”

    “খেতে হবে না?”

    “না, যতদিন তুমি এই বাসায় থাকবে তোমার কিছু খেতে হবে না।”

    সুমন শুকনো মুখে বলল, “কিছু খেতে হবে না?”

    “না, তোমাকে আমরা কোনো খাবার দিব না। কী মজা! তাই না!”

    সুমন দুর্বলভাবে মাথা নাড়াল। কিন্তু তাকে দেখে মনে হলো না ব্যাপারটা তার কাছে খুব মজার ব্যাপার মনে হচ্ছে। সে খেতে চাইবে না, সবাই তাকে সাধ্যসাধনা করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবে সে এটাতেই অভ্যস্ত। কিন্তু তাকে খেতেই দেবে না। এটা তো সে একবারও চিন্তা করে নাই।

    টুনি চোখ বড় বড় করে বলল, “এতদিন তোমার কত কষ্ট হয়েছে! তোমার আম্মু তোমাকে জোর করে খাইয়েছে। এখন কোনো জোরাজুরি নাই, কোনো খাওয়া-খাওয়ি নাই। কী মজা, কী আনন্দ!”

    সুমনকে ঠিক আনন্দিত দেখা গেল না। ঠিক তখন দেখা গেল ঝুমু খালা একটা ট্রেতে করে কিছু নাশতা নিয়ে এসেছে। টুনিকে জিজ্ঞেস করল, “কী হলো, মেহমান কই?”

    টুনি সুমনকে দেখিয়ে বলল, “এই যে ছোটজন। ওর আম্মু চলে গেছেন। রাত্রে এসে নিয়ে যাবেন।”

    ঝুমু খালা খাবার ট্রেটা টেবিলে রেখে বলল, “ঠিক আছে তোমরা খাও। বাচ্চাটারে কিছু খাইতে দাও।”

    টুনি আঁতকে ওঠার ভান করে বলল, “না না ঝুমু খালা। সর্বনাশ!”

    ঝুমু খালা অবাক হয়ে বলল, “কী সর্বনাশ?”

    “সুমন একেবারে খেতে পছন্দ করে না। সুমনকে একেবারে খেতে বোলো না। সে আজকে কিচ্ছু খাবে না।”

    “কিচ্ছু খাইব না?”

    “না। এখন নাস্তা খাবে না। দুপুরে ভাত খাবে না। বিকালেও নাস্তা করবে না। রাত্রেও কিছু খাবে না। তাই না সুমন?”

    সুমন শুকনো গলায় ঢোঁক গিলল, কোনো কথা বলল না। টুনি বলল, “তুমি তাড়াতাড়ি সব নাস্তা নিয়ে যাও। খাবার দেখলেই সুমনের খুব খারাপ লাগে।”

    ঝুমু খালা খাওয়া নিয়ে বিশাল একটা লেকচার দেওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল কিন্তু টুনির মুখে দুষ্টুমির চাপা হাসি দেখে বুঝে গেল যে এটা একধরনের নাটক, কাজেই ঝুমু খালা সাথে সাথে নাটকে অংশ নিয়ে নিল। বলল, “সেই কথাটা আগে বলবা তো! ঠিক আছে, আমি নাস্তাগুলো নিয়ে যাই। এর সারাদিন সারারাত কিচ্ছু খেতে হবে না।”

    টুনি ট্রের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল, “নিয়ে যাওয়ার দরকার নাই, এইখানে রেখে যাও ঝুমু খালা। আমি একটু খাই, অন্যদেরকেও বলো। এই খাবারগুলি খুবই টেস্টি মনে হচ্ছে!” তারপর জিভে লোল টানার মতো শব্দ করল, “উ ম-ম-ম!”

    ঝুমু খালা টেবিলে খাবার ট্রেটা রেখে ভিতরে অন্যদের ডাকতে গেল। টুনি একটা ডালপুরি নিয়ে তার ঘ্রাণ শুঁকে চোখ বন্ধ করে এক কামড় খেয়ে মুখে ইয়াম ইয়াম জাতীয় একটা শব্দ করতে লাগল। ডালপুরিটা এমনভাবে চাবাতে লাগল যে দেখে মনে হতে লাগল এর চাইতে সুস্বাদু খাবার পৃথিবীতে আর কিছুই নাই। টুনি ডালপুরিটা আরেক কামড় খেয়ে আবার আনন্দের একটা শব্দ করে চোখ বন্ধ করল। চোখের কোনা দিয়ে দেখল সুমন কেমন জানি লোভ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

    ঝুমু খালা ভেতরে গিয়ে বাসায় অন্য বাচ্চাদের নিশ্চয়ই এখানকার নাটকটার একটা ইঙ্গিত দিয়েছে কারণ কয়েক মিনিটের ভিতর ভিতর থেকে বাচ্চারা “ডালপুরি ডালপুরি! কেক কেক! আইসক্রিম আইসক্রিম!!” বলে চিৎকার করতে করতে ঘরে ঢুকে গেল। তারপর কাড়াকাড়ি করে খেতে লাগল!

    একজন ডালপুরিতে একটা কামড় দিয়ে বলল, “আ হা হা হা–”

    একজন কেকে একটা কামড় দিয়ে বলল, “উহ হু হু হু…”

    একজন এক চামচ আইসক্রিম মুখে দিয়ে বলল, “উম ম ম ম…“

    সুমন বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইল, খাবার যে এভাবে খাওয়া যায় সে কোনোদিন এটা আগে দেখে নাই। সে ধরেই নিয়েছিল এটা জোর করে খাওয়ানোর একটা বিষয়।

    নাস্তা শেষ করে সবাই চলে যাওয়ার পর সুমনকে নিয়ে বাচ্চারা আবার খেলতে গেল। কানামাছি এবং লুকোচুরি মিলিয়ে একটা বিপজ্জনক খেলা আবিষ্কার করা হয়েছে, সেটা খেলতে খেলতে দুপুরের খাবার সময় হয়ে গেল। ঝুমু খালা টেবিলে খাবার দিয়েছে এবং বাচ্চারা কেউ কেউ টেবিল ঘিরে, কেউ কেউ এখানে-সেখানে ছড়িয়ে- ছিটিয়ে খেতে বসেছে। সুমন ঠিক কী করবে বুঝতে না পেরে ঘরের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে।

    ঝুমু খালা সবাইকে প্লেট দিয়ে সুমনকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি একটা থালা নিবা?”

    সুমন কিছু বলার আগেই টুনি বলল, “না না ঝুমু খালা, সুমনকে প্লেট দিও না। সুমন খাবে না।”

    ঝুমু খালা জিজ্ঞেস করল, “তুমি কেমন করে জানো হে খাইব না?”

    “আমি জানি। ওর আম্মু বলেছেন, সুমন খেতে পছন্দ করে না। তাই না সুমন?”

    সুমন কোনো উত্তর দিল না। টুম্পা ভুরু কুঁচকে বলল, “না খেলে খিদে লাগবে না?”

    টুনি বলল, “উঁহু। সুমনের খিদে লাগে না। তাই না সুমন?”

    সুমন এবারেও কোনো উত্তর দিল না।

    ঝুমু খালা মুখে একটা গাম্ভীর্যের ভান করে বলল, “আমি বলি কী, সুমনকে একটা প্লেটে একটু খাবার দেই। সে খাবারটা নিয়ে বসে থাকুক। ইচ্ছে না হলে খেতে হবে না।”

    টুনি মাথা নাড়ল, বলল, “কিন্তু সুমন তো নিজে নিজে খেতে পারে না। সবসময় তার আম্মু খাইয়ে দেয়। তাই না সুমন?”

    ঝুমু খালা বলল, “আজকে চেষ্টা করে দেখা যাক, নিজে নিজে পারে কি না।”

    টুনি মাথা নাড়ল, বলল, “পারে না। পারবে না।“

    কয়েকজন বলল, “পারবে। পারবে।”

    অন্যরা বলল, “না, পারবে না। পারবে না।”

    তখন “পারবে” এবং “পারবে না” এই দুই দলে ঝগড়া লেগে গেল।

    এই প্রচণ্ড ঝগড়ার মাঝখানে ঝুমু খালা সুমনের হাতে একটা প্লেটে ভাত, মুরগির মাংস আর সবজি তুলে দিল। কেউ সরাসরি তাকাল না কিন্তু সবাই চোখের কোনা দিয়ে দেখল সে গপগপ করে খেতে শুরু করেছে।

    .

    স্বর্ণার ফিরে আসতে বেশ রাত হলো। স্বর্ণা যখন তার ছেলেকে নিতে এসেছে সে অবাক হয়ে দেখল তার ছেলে রীতিমতো ভদ্র মানুষের মতো ডাইনিং টেবিলে বসে খাচ্ছে। স্বর্ণা হাঁ করে তাকিয়ে থেকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, দাদি চোখের ইশারায় তাকে নিষেধ করলেন।

    মাকে দেখে সুমন একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “আম্মু তুমি কখন আসবে তো জানি না। তাই নিজে নিজে খেয়ে নিচ্ছি।“

    স্বর্ণা ঢোঁক গিলে বলল, “খেয়ে নিচ্ছিস? নিজে নিজে?” সুমন বলল, “হ্যাঁ আম্মু।”

    “গুড। গুড। ভেরি গুড। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো?”

    “অসুবিধা? না আম্মু অসুবিধা কেন হবে?” সুমন আরও একটু ঝোল নেওয়ার জন্য তার প্লেটটা ঝুমু খালার দিকে এগিয়ে দিল!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহাতকাটা রবিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article যখন টুনটুনি তখন ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন

    কাল নাগিনী – এনায়েতুল্লাহ আলতামাস

    November 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }