Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যে যেখানে যায় – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প181 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    যে যেখানে যায় – ১১

    ১১

    বৃষ্টি। বৃষ্টি! বৃষ্টি—দারুণ চাঁদিফাটা গরমে যখন চড়চড় করে প্রথম বৃষ্টির ফোঁটাগুলো পড়েছিল—মুড়কিশোলা গ্রামে মহোৎসব পড়ে গিয়েছিল। সবাই বাইরে বেরিয়ে এসেছে দৌড়ে। বৃষ্টিতে সব সপাটে ভিজছে। গাছপালা দুলছে। পাখিরা সুদ্ধু গাছের ডালে বসে নিশ্চুপ ভিজছে। কোত্থেকে চাট্টি গঙ্গাফড়িং অবধি এসে গেল। এদের সর্বক্ষণের সঙ্গী।

    পরি বলল, ঠাকমা, খিচুড়ি চাপাও।

    পরির মা বলল—না, না। খিচুড়িতে তুক আছে। বিষ্টি থেমে যাবে। প্রথম দফায় বৃষ্টি তো মাটি শুষে নিল।

    তা দ্বিতীয় দফার বৃষ্টিটা নামল একদিন মাঝ রাত্তিরে। মুষলধারে বৃষ্টি সঙ্গে উথালপাথাল ঝড়।

    সকালেও অন্ধকার, তুমুল হাওয়া। তুমুল বৃষ্টি। রুস্তম বলল, সাইক্লোনিক বলে মনে হচ্ছে।

    কিন্তু বৃষ্টি থামল না। একটু থামছে কি আবার দ্বিগুণ জোরে নামছে। দু’দিন এই রকমই চলল নাগাড়ে।

    ‘এক ছেলের মা কে আছ গো?’—বিষ্টি মাথায় করে দল বেঁধে একদল মেয়ে এল। এক ছেলের মা কেউ নেই। সবাইকার কোলে কাঁখে। অবশেষে পরির ঠাকুমা বললেন—ওমা, আমিই তো এক ছেলের মা।

    কিন্তুক তুমি বেওয়া বটে!

    এটাও ঠিক। কী ব্যাপারে? না সধবা এক ছেলের মা ভোরে উঠে বাসি মুখে বাসি কাপড়ে একটি বাটি নিয়ে গাছতলায় পুঁতে দেবে। তা হলেই বৃষ্টি থেমে যাবে। কিন্তু এক ছেলের মা পাওয়াই তো দুষ্কর।—মধুবন বিড়বিড় করে বলল—ইসস যশোমাসি যদি থাকত! কে জানত মুড়কিশোলায় যশোমাসির দরকার পড়বে।

    তার তিন দিন পরে আর কারও বাড়ি রান্না হচ্ছে না। কাঠকুটো সব ভিজে গেছে। আগুন জ্বলবে না। দুর্যোগে কেউ বেরোতে পারছে না। জামডুবির মাঠে একজন বজ্রাঘাতে মারা গেল। মুড়ি—চিঁড়ে মুড়কি ফুরিয়ে এল।

    রুস্তম বলল—যার বাড়িতে যত কাঠকুটো আছে জড়ো করুন। এক জায়গায় রান্না হবে। সবাই চাল দেবে। যা হবে সবাই খাবে।

    তিন—চারটে উনুন জ্বলল। ভাত বসল। প্রথম প্রথম তাতে আধটু একটু আলু—টালু পড়ল, তারপর স্রেফ ফ্যানভাত।

     

     

    সাতদিন প্রায় অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর দেখা গেল ফণা তুলে জল আসছে। বান বান—চতুর্দিকে রব উঠল। নদী অনেক দূর। চুটকি নদী গন্ধেশ্বরী। কিন্তু নদী তো! তার সঙ্গে কংসাবতীর যোগও বোধহয় আছে। সেই নদী দিয়েই বান ঢুকে পড়েছে খেজুরপটির খালে। খাল উপচে এখন সব ভাসাচ্ছে। এই খালকে একটা আধ—শুকনো নালা ছাড়া কিছু মনে হত না। সে এখন ফুলে ফেঁপে সব ভাসাচ্ছে।

    মধুবন ক্ষীণস্বরে বলল, কোথাও থেকে হেলপ আসবে না, দাদা!

    কী জানি, বুঝতে পারছি না। স্টেশনে যাব ভাবছি।

    না না আমায় ফেলে তুই যাবি না।

    ইসস মধুবন, তোকে অনেক আগে বাড়িতে রেখে আসা উচিত ছিল আমার।

    তোর বিপদটাও তো বিপদই, নাকি।

     

     

    রুস্তম বলল—এদের বিপদটাও বিপদ। খরা—বন্যার কথা, আমলাশোল, চা—বাগান, উত্তরবঙ্গের কথা শুনি, পড়ি। দিস ইজ দা ফার্স্ট টাইম উই নো হোয়াট ইট ইজ।

    বেশ কিছু পুরুষ এসে রুস্তমকে বলল—চলুন দল বেঁধে যাই কিছু যদি খবরাখবর দেওয়া যায়।

    তুই গেলে আমিও যাব—মধুবন গোঁ ধরল।

    তুই এমনিই খুব উইক হয়ে গেছিস। চিঁ চিঁ করছিস, পারবি না, তোকে নিয়ে বিপদে পড়ব।

    অনেক বুঝিয়েসুজিয়ে তাকে পরির জিম্মা করে জিওলিনের স্টক ধরিয়ে দিয়ে দশ—বারো জনের দলের সঙ্গে রুস্তম বেরিয়ে পড়ল। ভোর—ভোর। জামডুবির মাঠের ওপর দিয়ে জল বইছে। তবে বেশি নয়। বেশিরভাগ জায়গাতেই গোছ—ডোবা জল। রুস্তমের হাতে টর্চ। ভাগ্যিস সে বেশি ব্যাটারি সঙ্গে এনেছিল। অন্যদের হাতে টিমটিমে একটি লণ্ঠন। যখন দরকার হবে জ্বেলে নেবে।

     

     

    বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে সমানে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, হঠাৎ দমকাবৃষ্টি। শনশন হাওয়া। তিন ঘণ্টা জল ঠেলে হেঁটে স্টেশনে পড়ল ওরা। যত দূর দেখা যায় জল শুধু জল। লাইন জলের তলায়। স্টেশন মাস্টারের ঘর ফাঁকা। কোয়াটার্স ফাঁকা। তালা দেওয়া। চলো পরের স্টেশন পর্যন্ত। রাস্তায় বড় বড় গর্ত। পা পড়লে আর দেখতে হচ্ছে না। জনার্দন বলল, চলো আমরা হাইরোডে উঠি গিয়ে। বাঁকড়ো ঘুর হবে। কিন্তু পথে ট্রাক পাওয়া যেতে পারে।

    বিকেল নাগাদ কী ভাগ্য একটা ট্রাক আসছে দেখা গেল। সবাই মিলে জলভরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ট্রাক থামায়।

    আপনারা ফিরে যান, আমি এই ট্রাকে গিয়ে দেখি কত দূরে যাওয়া যায়। খবর দিতে হবে। কিছু খাবারদাবার চাই। গ্লুকোজ চাই।

    জনার্দন বলল—তা হবে না শহুরেবাবু, আমাদের বিপদে ফেলে তুমি পালাবে।

    কী আশ্চর্য! পালাব কেন? আমার বোন রয়েছে না আপনাদের কাছে!

     

     

    পেটের খিদের কাছে ভাইবোন কেউ নয়—একজন হিংস্রভাবে বলল।

    ঠিক আছে আর একজন আমার সঙ্গে আসুক। তা হলে হবে তো!—সুতরাং মাধব সামন্ত চলল।

    সকাল থেকেই সন্ধে, সন্ধে থেকেই রাত এখন। অন্ধকার কুপকুপ করছে। ঝিঁঝি আর ব্যাঙের চিৎকারে কান পাতা যায় না। পরিদের ঘর একটু উঁচুর দিকে, তাতেও সব তক্তপোশে উঠে বসেছে।

    হঠাৎ একটা হল্লা মতো শোনা গেল। অনেক লোক যেন চিৎকার করতে করতে আসছে। দেখতে দেখতে পরিদের ঘরের সামনে একদল মারমুখো মেয়েপুরুষ এসে দাঁড়াল। চেঁচাচ্ছে—আমাদের বাচ্চাগুলো পটাপট মরে যাচ্ছে। আজ সিকন্দরকে মাটি দিয়ে এলুম। গতকাল যুগলো গেল। তোদের ঘরের ওই কটা ডাইনিটাকে বার করে দে। কালবিষ্টি আর বান নিয়ে এয়েচে। দে ওকে বার করে। ডাইনি নিকেশ করে তবে শান্তি স্বস্ত্যেন করব—অনেক গলা। এ একটা বলছে তো ও আর একটা বলছে। সব ছাপিয়ে খ্যানখ্যান করে উঠল ঠাকমাবুড়ির শান দেওয়া গলা। হাঁটু জল ভেঙে উঠোনে দাঁড়িয়ে চেঁচাচ্ছে বুড়ি।—কার এত বড় বুকের পাটা? এগিয়ে আয় সামনে। ওদের আনা লজেন, বিস্কুট, চাল, চিনি খেতে মনে ছিল না? ওই যে ছাওয়ালটা দুযযুগ মাতায় করে খপর দিতে গেল? ওষুদ দিয়েছে সমানে। উপোস করচে আমাদের সঙ্গে—ডান! থুঃ, ডান হলি তোরা! এক কড়ার মুরোদ নেই। ছেলেগুলোকে যে গুড়—নুনের জল খাওয়াতে বলে গেল। খাইয়েছিলি। সমানে গেরাম সুদ্ধু ওষুধের গুলি বিলোচ্চে কে? লজ্জা করে না!

     

     

    পরি ঘরে এসে হাতড়ে হাতড়ে মধুবনকে ছুঁল। দিদি—ও দিদি।—মধুবন কাঁপছিল, কাঁদছিল নিঃশব্দে।

    অন্ধকারে পরি তার মুখটা আন্দাজে খুঁজে কিছু একটা গুঁজে দিল—একটু খাও। —বেশ নরম নরম, গরম গরম, পোড়া—পোড়া গন্ধ।

    কী দিলি এটা? তোরা খেয়েছিস? এটা কি মাশরুম? ব্যাঙের ছাতা?

    খেয়েছ খাও। আমরা কতরকম খাই, সব কি তুমি জানো? না জানার দরকার! আমরা সবাই খেয়েচি। … জনাকাকারা তো এই ফিরল। হাইরোডে টেরাক পেয়েচে। দাদা আর মাধ্বকা চলে গেছে খবর দেবে। কাঁদচ কেন? শোকেতাপে মানুষের মাতা এমনি খারাপ হয়ে যায় গো! দেকো না দাদা গেছে, এইবার একটা উপায় হবেই।

    মীনাক্ষী বিজেনকে বললেন—ছেলেমেয়ে দুটো গিয়ে অবদি একটা খবর দিল না! একটা ফোনটোন তো করবে!

    ওখানে টাওয়ার কোথায়? কী যে বলো!

     

     

    তা হলে চিঠি! চিঠি তো দিতে পারে!

    তুমিও যেমন! রুস্তম লিখবে চিঠি! চিঠি কাকে বলে জানে?

    .

    দিনটা যশো—সুহৃতের বিবাহবার্ষিকী। হোটেল সানশাইন—এ পার্টি। কলকাতার পরিচিতরা সবাই এসেছে। এখানকার পরিচিতও কেউ কেউ। মীনাক্ষীরা সঙ্ঘমিত্রাদের সঙ্গে গ্যাংটক ঘুরে এসেছেন। বহুদিন পর এমন বেরোনো! কালই বেশিরভাগ ফেরত যাবেন? একমাত্র যশো মধু আর সুবুল ডাক্তার ছাড়া সব্বাই দার্জিলিংকে কেন্দ্র করে প্রচুর ঘুরে নিয়েছে। ব্যাঙাদারা গিয়েছিল ফালুট। বিজয়মুকুলদা ট্রেকিং করে এল সন্দকফু। যুগেশকুমার লাভা লোলেগাঁও। সব রং কালো, ফাটাফোটা রুখু মুখ সব। ব্যাঙাদার মিসেস পরচুলা বদল করেছে।

    ড্রিঙ্কসের ব্যবস্থাও আছে। পাবলো সব তদারক করছে—দেখো আবার ছেলের সামনে ঢলাঢলি কোরো না, যশো বলল সুহৃৎকে। মধু বললে—সুহৃৎদা এমনি যা করছে বটে হুইস্কি পড়লে আর দেখতে হবে না!

     

     

    সুহৃৎ বললেন—ছোঁবই না হুইস্কি। বাঘের মুখ থেকে ফিরে এসেছি বাবা!

    বাঘ? বাঘ কোথায় পেলেন এখানে?—সুবল ডাক্তার জিজ্ঞেস করেন।

    বাঘ? বাঘ বললুম বুঝি। সিঙ্গিও বলতে পারো। যা কেশর।

    কী ব্যাপার? সুবল একবার এর দিকে একবার ওর দিকে তাকান।

    মধু বলল—ও একটা ফ্যামিলি জোক আমাদের আপনি বুঝবেন না সুবুলদা।

    মিহির এবার চিতার হাত থেকে ফিরে এলে হয়—শালির দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে সুহৃৎ বললেন।

    মধু বললে—ভাল হবে না সুহৃৎদা! কোনও চিতা, নেকড়ে, হায়না সিনেই নেই।

    সুবল বললেন—এটাও কি ফ্যামিলি জোক?

     

     

    মধু জোর গলায় বলল—আজ্ঞে হ্যাঁ। এসব আমাদের নিজেদের ব্যাপার। নাক গলাতে আসবেন না।

    ওদিকে মীনাক্ষী পার্টি মাটি করে আর কী! চিকেন তন্দুরি মুখে দিয়ে বলেন—কী রকম ইঁদুর—ইঁদুর গন্ধ ছাড়ছে যেন!

    ব্যস আর যায় কোথায়! মেয়েরা সব হাত গুটিয়ে বসল। বিজেন শুঁকেটুকে বলেন—ইঁদুর পোড়া, ব্যাং পোড়া কিন্তু খেতে ভাল, সাঁওতাল টাওতাল আদিবাসীরা তো খায়ই। চিকেনের সঙ্গে এইটুকুই তফাত যে ওগুলো আরও তুলতুলে।

    আপনি খেয়েছেন নাকি দাদা? সুহৃৎ সোৎসাহে জিজ্ঞেস করলেন।

    মহামাংস ছাড়া সবরকমের মাংস আমার টেস্ট করা আছে ভাই। অক্টোপাস ভাজা, ডলফিনের মাংস, সাপ, সব।

    যশো ওয়াক তুলে বললেন—আমি ওয়াক আউট করব বিজেনদা। ছি ছি কী ঘেন্না। মীনাক্ষী বললেন—নাঃ তোমার একটা কাণ্ডজ্ঞান নেই।

    বাঃ তুমিই তো শুরু করলে!

     

     

    সুহৃৎ আর সুবল তৎক্ষণাৎ উঠে গিয়ে হোটলের রান্নাঘরে কমপ্লেন জানিয়ে এলেন। তারা কিচেন খুলে দিল, দেখে নিন সার।

    কোথাও কিছু নেই। তবু মীনাক্ষী চার দিকে ইঁদুর—ইঁদুর গন্ধ পেতে থাকেন।—আমার শরীরটা কেমন করছে ভাই। আমি উঠি।

    জলটা ফুটোনো খাচ্ছেন তো?—সুবল ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন।

    ফুটোনো বলেই তো জানি!

    শোবার আগে মীনাক্ষী বেশ খানিকটা বমি করে এলেন। ভাগ্যিস পরের দিনই টিকিট কাটা আছে। সোজা বাগডোগরা। সেখান থেকে ঘণ্টা দেড়েক কলকাতা।

    পনের দিনের দীর্ঘ ট্যুর সেরে দু’জনে বাড়ি ফিরলেন। এত ছুটি আগে কখনও ম্যানেজ করতে পারেননি বিজেন। বাড়িতে তালা। মানে তারা ফেরেনি। টেলিফোনে কি কোনও মেসেজ আছে?—না। লেটার বক্সে কোনও চিঠি?—নাঃ।

     

     

    বিজেন তেড়ে—ফুঁড়ে অফিস করতে লেগেছেন। কিন্তু মীনাক্ষী না পারছেন নারীকল্যাণ, না পারছেন সংসার। ছেলেমেয়ে দুটো তো আশ্চর্য! একটা চিঠি তো অন্তত…! একদিন স্বপ্ন দেখলেন সমুদ্রের মধ্যে একটা বেলুনে বসে তিনি ভাসছেন। কোথা থেকে পাবলো এল। পাবলো তবু সে পাবলো নয়। তিনি বললেন, একটু ঠেলে দে না রে বাবা, নইলে চলছে না! এক দিনে পাবলোকে খুব পছন্দ করে ফেলেছেন মীনাক্ষী। ঋজুর মতোই খানিকটা তবে ঋজু অনেক সিরিয়াস ধরনের। কখন কী করছে বা করতে চায় সে সম্পর্কে বাবা—মা’র সঙ্গে কোনও আলোচনা করে না। পাবলো কী সুন্দর শরবত ড্রিঙ্ক পরিবেশন করে। বাবার সঙ্গে দার্জিলিং যায়। বাবা—মা’র বিবাহবার্ষিকীতে কী সুন্দর মজা করল। গান করল। ভাবতে ভাবতে তাঁর ঋজু—মধুবন—তৃষ্ণা এমনই জোরালো হয়ে উঠল যে তিনি যশোকে একখানা ফোনই করে ফেললেন?

    কী রে যশো? ফিরলি? বেশ হাল ফ্যামিলি মজা করে, বল!

    আর বলিস না মিনি। টিকিট কি পাওয়া যায়! শেষে বিজয়মুকুলদা আর সুবুলদা স্যাক্রিফাইস করল। ওদের টিকিটে এঁরা এলেন। ধরলে কী হত জানি না। নট ট্রান্সফারেবল লেখা থাকে তো! পাবলো কী করে ৫৪/৫৫—র সুবুল ডাক্তার হয় তাই ভাব।

     

     

    কী আবার হত। পাত্তি দিলেই সব মাফ। এ দেশে সবই চলে। তোকে এমন ভাব করতে হবে যেন হাতে মাথা কাটতে পারিস, আর চাই পাত্তি। যা খুশি কর, সার্টিফিকেট বেরিয়ে যাবে।

    যা বলেছিস—যশোর কথাবার্তায় কেমন একটা নতুন নতুন ছলকানি। সামহাউ যশো খুব খুশিতে আছে।—তা মধুবনরা ফিরল?

    না রে খুব ভাবনা হচ্ছে, ফিরল না কোনও খবরও নেই। পাবলো কিছু জানে?

    পাবলো? পাবলো কী জানবে? জানলেও বলবে নাকি? সে বান্দাই নয়। বন্ধুদের সিক্রেট তার প্রাণভোমরা।

    কেন তোর ছেলেটা তো খুব নেটিপেটি। কী সুন্দর ফ্রাঙ্ক, মা—বাবার বন্ধুদের জেনারেশানের সঙ্গে কী চমৎকার মেশে।

    যশো হো হো করে হাসল—পাবলোকে তুই এই বুঝেছিস? ও শালা বহুরূপী। এই দ্যাখ হলদে, দ্যাখ না দ্যাখ সবুজ হয়ে গেছে। মহা সেয়ানা।

    তুইও কম সেয়ানা নোস। তোর ছেলে সেয়ানা হবে এ আর বেশি কথা কী?

    .

    সেই সময়ে বাঁকুড়া দুর্গাপুর হাইওয়ে দিয়ে এ গণ্ডগ্রামের দিকে এগোচ্ছিল চার—পাঁচটি ট্রাক। বাঁকুড়ার ডি এম এ—র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রুস্তম।

    অঞ্চলের খবর পৌঁছেছে সরকারি দফতরে। ত্রাণ যাচ্ছে। চিঁড়ে গুড়, চিনি, চাল, কেরোসিন তেরপল, ওষুধ, গুঁড়ো দুধ, লবণ। বাঁকুড়া শহরের গেরস্তদের থেকেও তোলা হয়েছে পুরনো জামাকাপড়ের বোঝা। চাল—ডাল। রুস্তম নিজে কিনেছে পাউরুটি, বিস্কুট। শুকনো মিষ্টি, গ্লুকোজ প্রচুর। জলের গাড়ি আসছে পেছন পেছন।

    জামডুবির মাঠ থেকে জল সরে গেছে। কাদা থকথক করছে সেখানে।

    ডি এম গ্রামের নামই শোনেননি মনে হল। বৃষ্টিতে হাল সব জায়গাতেই খারাপ। কিন্তু গন্ধেশ্বরী নদীর দরুন এমন একটা বান হয়ে যেতে পারে, কেউ ভাবেনি। এখন বাঁকুড়া শহরে শুকনো খটখট করছে। আর একটু বৃষ্টি হলে ভাল হত যেন।

    লোক্যালাইজড রেন সব, অদ্ভুত। ডি এম বললেন—তা ভাই তুমি ওখানে মানে কী করে গেলে?

    বাংলার একটা গ্রাম স্টাডি করার দরকার পড়েছিল।

    তা এত গ্রাম থাকতে অমন ধাপধাড়া গোবিন্দপুর! মুড়কিশোলা?

    ভাগ্যে গিয়েছিলুম। তা নয়তো চেহারাটা দেখতে পেতুম না। আপনার ঠিকেদারের মধ্যে দিয়েই আমার গোটা ভারতের ঠিকেদারদেরও চেনা হয়ে গেল।

    সে আবার কী করল?

    কী করল না সেটাই বলুন। চালটা পচা। গুঁড়ো দুধে ময়দা মেশানো, চিঁড়েতে গন্ধ বেরোচ্ছে। পুরনো তেরপল আর প্লাস্টিক শিট নিয়ে নতুনের দাম নিচ্ছে। এত ভেজাল সত্ত্বেও আবার প্রত্যেকটি জিনিসের ওজন কম। আর বলবেন না।

    আমারপক্ষে কি আর ওজন দেখা সম্ভব, কাজ কি একটা? তুমিই বলো ভাই।

    ওজন হয়তো পার্সন্যালি দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু কারচুপি করলে সাজা হবে এ ভয়টাও তো ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড।

    সমস্ত ওজন করাতে, গোনাগাঁথা করাতে, বাজে জিনিস ফেলে দিয়ে জেনুইন জিনিস তোলাতে, প্যাক করাতে পুরো আড়াইটে দিন শুধু শুধু নষ্ট হয়ে গেল আমার। কে জানে কতগুলো মানুষ মারা গেল। পরের ট্রাকগুলো দয়া করে পাঠাবেন ঠিক।

    তাই ঠিকাদার তোমার ওপর অত খাপ্পা!—মানুষ মরার কথাটা কানেই তুললেন না ভদ্রলোক।

    আমি কমপ্লেন লিখে দিয়ে যাচ্ছি ওর ঠিকেদারির বারোটা যদি না বাজাই তো আমার নাম ঋজুরুস্তম নয়।

    কী নাম? কী নাম? ঋজুরুস্তম? নিউ জেনারেশনের অদ্ভুত সব নাম হচ্ছে। কে দিল ভাই?

    বোঝাই যাচ্ছে ভদ্রলোক আবহাওয়াটাকে হালকা করতে চাইছেন।

    রুস্তম কোনও জবাব দিল না। তার দেরি হয়ে যাচ্ছে। বোনটা কী অবস্থায় আছে কে জানে!

    জামডুবির মাঠ অর্ধেকটা যেতে না যেতেই প্রচুর লোক গাড়ি ঘিরে ধরল। তেঁতুলতলা, মুড়কিশোলা, আমড়াতালি… তাদের তক্ষুনি ত্রাণ চাই। এ ওকে মাড়িয়ে, ভেদ করে ছুটে আসছে।

    ঠিকেদারের লোক বলল—আমরা এইখানে সব ডাম্প করে দিয়ে চলে যাচ্ছি। এই হাড়—হাবাতের দল এক্ষুনি লুটপাট মারধর করবে।

    ইয়ারকি নাকি!—রুস্তম তার কাউন্টি ক্যাপটা উলটো করে ঘুরিয়ে দিয়ে কোমরে হাত দিয়ে বলল—ভাল চাও তো ট্রাক চালিয়ে চলো।

    গাঁয়ের রাস্তায় ট্রাক চলবে না।

    আচ্ছা সে দেখা যাবে। এখন তো চলো।

    লোকগুলো সরে না যে—মানুষ মারবে নাকি? আচ্ছা লোক তো মশাই আপনি!

    আমি কেমন লোক দেখাচ্ছি। —রুস্তম লরির ওপর থেকে দু’হাত মুখের দু’পাশে ধরে চিৎকার করে বলল—আপনারা ক’জন এখান থেকে চলে যান। গ্রামে ফিরে গিয়ে এক্ষুণি সব সার বাঁধিয়ে দাঁড় করান। সব্বাই যা বরাদ্দ তাই পাবে। নইলে ট্রাক ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কয়েকজন এখানে আসুন, লরিতে চড়ুন।

    অনেক কষ্টে এই দাদা জিনিসপত্তর জোগাড় করেছে—মাধ্ব চেঁচিয়ে বলল। সবাই সব পাবি—একদম বেইমানি করবি না। গাঁয়ের নাম খারাপ করবি না।

    খুট খুট করতে করতে জামডুবির মাঠ শেষপর্যন্ত পার হল ট্রাক।

    গাঁয়ের সব লোক সার বেঁধে বেঁধে দাঁড়িয়েছে। জনা প্রতি বস্তা আলাদা বাঁধিয়েছে রুস্তম। পরপর সব বিতরণ করতে করতে এক জায়গায় এসে থেমে গেল রুস্তম। মধুবন দাঁড়িয়ে আছে।

    নে হাত পাত, ত্রাণ নে—রুস্তম হেঁকে বলল।

    মধুবন করুণ স্বরে বলল—দে।

    শহরে যে গেলি বাড়িতে একটা খবর দিয়েছিস? বোন বলল।

    দাদা বলল—আমার মাথার ঘায়ে তখন কুকুর পাগল, বাড়িতে খবর! কী খবরটা দেব?

    জল সরে গেছে। ঠাকমা বলল—সেই আমার ন্যাংটো কালে একবার এরকম বান দেখেছিলুম। বাব্বাঃ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধানগর – বাণী বসু
    Next Article মেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }