Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যে যেখানে যায় – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প181 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    যে যেখানে যায় – ৯

    ৯

    এদের গাঁয়ে সবগুলোই মাটির ঘর। খড়ের চাল। কারও কারও টিনের, অ্যাসবেস্টসের চালও আছে। মাটিটা বড্ড রুক্ষ।

    রুক্ষ, কাঁকুরে। গাছগুলোও যেন কেমন গিঁট গিঁট, হাড় সার। সেই ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় গ্রাম মোটেই নয়। সকালে সব খেত খাটতে বেরিয়ে গেছে। বিকেল ঘুরে গেলে ফিরছে। দিগন্তের দিকে তাকিয়ে পরি বলল—উইদিকে সব ধানখেত, বোরো হয় না, আমাদের হচ্ছে আউশ। যেটুক জমি আছে সব খেটেখুটে দোফসালি করেচে। শীতে কিছু ধান, কিছু সবজি হয়। গোরু—বাছুর পোষা খুব একটা পোষায় না। কেন বলো তো! খাবার নেই ওদের। মুড়িয়ে একবার ঘাস পাতা খেয়ে নিলে আবার গজাবে তবে খাবে। খড়—বিচালি সব আমরা বিককিরি করি। নিজেরা খেতে পাই না, গোরুকে কী দেব।

    গ্রামে কোনও স্কুল নেই। কোনও ডাক্তার—বদ্যি নেই। বাড়ি এসে একধামা মুড়ি নিয়ে বসল সবাই। মুড়ি খেয়ে পেট ভরে জল খেয়ে নাও—পরি মধুবনকে নির্দেশ দেয়।

    রাত্তিরবেলা আবার মুড়ি, রাঙালুসেদ্ধ, গাঁঠি কচু পোড়া।

    মাঝরাত্তিরে ঘুমের মধ্যে মধুবন স্বপ্ন দেখল যশোমাসি তাকে বলছে—খা খা। কচুপোড়া খা।

    দু’বেলা এখানে কেউ রান্না করে না।—অত জ্বালানি কোথায়? একবেলা যা হল হল। রাত্তিরে ওই মুড়ি চিঁড়ে খেয়ে থাকা।

    গভীর রাত্তিরে রুস্তম চুপিচুপি বোনকে বিস্কুট দেয়, বলে—খেয়ে নে।

    খাব? উচিত হবে?

    কী করা যাবে! কাল এদের হাট বসে। একটু হাটে যাব, তুই যাবি? আর শোন, জিওলিন ছাড়া জল খাবি না।

    হ্যাঁ। হাটে যাব। ওরা তো জিওলিন দেয় না।

    ওরা অভ্যস্ত। ইমিউন। আধপেটা খেয়ে কীভাবে বেঁচে আছে আবার উদয়াস্ত খাটছে, ভাবতে পারিস?

     

     

    ট্যাঙস ট্যাঙস করতে করতে রোদের মধ্যে দিয়ে হাঁটা। মাইল পাঁচ তো হবেই।

    মধুবন বলল—দাদা, জিলিপি ভাজছে। তেলেভাজা।

    ধারেকাছে কোনও ডাক্তার হাসপাতাল নেই মধুবন, উলটোপালটা খেয়ে অসুখ করলে কে দেখবে?

    তোর রিসার্চের কদ্দূর?

    হচ্ছে, আরেকটু বাকি আছে। মৌজাটাই পুরো এইরকম, চাষবাস তেমন হয় না। ক্যাশ ক্রপ বলতে কিছু নেই। ইল্ড খুব সুবিধের নয়। একটা খাল আছে। বর্ষায় ছাড়া তেমন জল নেই। কুয়ো ইঁদারা আছে। কিন্তু টিউবওয়েল তেমন নেই। তোকে কি কলকাতায় রেখে আসব?

    না, কেমন গোঁয়ারের মতো মধুবন বলল—তুই যদি পারিস তো আমিও পারব।

    হাট থেকে টাটকা কুচো মাছ আর ডিম কিনল রুস্তম। মুশুর ডাল দশ কেজি। বেশ কিছু সবজি। সবই অবশ্য শুকনো শুকনো। আলু কিনল, তা—ও কুড়ি কেজি। দু’জনে ভাগাভাগি করে মালগুলো নিল। মুড়ি তেলেভাজা খাওয়া হল।

     

     

    আহ্লাদে আটখানা ঠাকুমা। বললেন—ছাওয়ালটার মন ভাল। দেকেই আমি বুজেচি।

    মাছ কিছু পাশের বাড়ি দেওয়া হল। ঠাকুমা বললেন—দ্যাকো মেয়ে আমি কেমন বাটি চচ্চড়ি রাঁধি। মাছ বেছেধুয়ে নুন হলুদ তেল প্যাঁজ দিয়ে চড়িয়ে দোব, দ্যাখ না দ্যায় হয়ে যাবে।

    অনেক দিন পর আলু, অনেক দিন পর মাছের আঁশ গন্ধ। রাত্তিরের জন্য পাতলা করে ডাল রান্না করে রাখা হচ্ছে। মুড়ির সঙ্গে খেয়ে রাত্তিরে পেটটা একটু ভরে।

    রুস্তম তার টেপরেকর্ডার নিয়ে আরও দূরে দূরে যেতে শুরু করেছে। মধুবন বাচ্চাগুলোকে জড়ো করে পড়াচ্ছে। মহিলারাও এসে বসছে।

    হঠাৎ একদিন ভারী বৃষ্টি নামল। সে কী তুমুল বৃষ্টি রে বাবা। চার দিক ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার আওয়াজে কান পাতা যায় না। যার যেখানে যা হাঁড়িকুড়ি বালতি কলসি আছে সব জল ভরে। বৃষ্টির জল একটু থামে বৃষ্টি আবার নামে। কারও দেয়ালই ধসে গেল। কারও চাল উড়ে গেল। চাল দিয়ে জল তো পড়ছেই। বাইরে আর শোয়া যাচ্ছে না। ঘরের মধ্যেই সব গুঁতোগুঁতি। তবু কী আনন্দ! কী আনন্দ!

     

     

    .

    শহর কলকাতায় তখনও হা বৃষ্টি যো বৃষ্টি। একেক দিন আকাশ মেঘলা হয়। আরও ভ্যাপসা গরম। তার ওপর থেকে থেকে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। নিয়ম মেনে নয়, যখন তখন। দুপুর দুটোয় চলে গেল। রাত্তির একটায় চলে গেল। পঙ্কজদের কমপ্লেক্সে লোকে এইসান এ সি চালিয়েছে যে ওভারলোড হয়ে একদিন গদাম গদাম করে একটার পর একটা মিটার বোমার মতো ফেটে আগুন ধরে গেল। বাপ রে সে কী আগুন! সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামা যাচ্ছে না। মিটারগুলো সিঁড়ির নীচেই। পঙ্কজ আজকাল নানান কিসিমের তালবাদ্য সিনথেসাইজার নিয়ে পড়েছে। একমনে বাজাচ্ছিল। ঘুরে ঘুরে নেচে নেচে। এমন সময়ে গদাম গদাম গদাম। সঙ্গে সঙ্গে পঙ্কজ খাটের তলা খুঁজছে। যাচ্চলে এসব খাটের তো তলা নেই। সব বক্স। কী করে পঙ্কজ! টেবিলের তলায় ঢুকে পড়ল। ঠকঠক করে কাঁপছে। টেবিলের ওপর থেকে সব বইখাতা কলমদানি খাটের ওপর সরিয়ে সিনথেসাইজারখানা সেখানে রেখেছিল। তা ছাড়া দুটো ড্রাম। চেয়ারটাকে ধাক্কা মেরে সেই টেবিলেরই তলায় সেঁধিয়ে গেছে পঙ্কজ। কাঁপুনি একটু থামলে ভাবছে—মাওবাদী না কে এল ও না আলফা, না কি আলকায়দাই ঢুকে এল? পকেট থেকে সেলফোনটা বেরিয়ে আছে। পঙ্কজ এস এম এস পাঠাল পাবলোকে—পাবলো, হেল্প! পুলিশে খবর দে, আমাদের বাড়িতে জঙ্গি হামলা।

     

     

    কী বলছিস!

    আর কী বলছে! পঙ্কজ তখন আরেকটা হেল্প লাইন ধরেছে—কার্জন পুলিশ ডাক, আমাদের বাড়িতে আলকায়দা…

    কার্জন ঠান্ডা গলায় বলল—বন্ধুলোকের সঙ্গে কায়দা করলে আলকায়দা আসবেই।

    পঙ্কজ শুনল, কিন্তু তার মাথার মধ্যে কিচ্ছু ঢুকছে না। এমন সময়ে জানলা দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া ঢুকতে লাগল। চার দিকে আওয়াজ—আগুন আগুন।

    বল্লীর ফোন বাজল—বল্লী, আগুনে পুড়ে মারা গেলাম। বাই।

    উন্নির ফোন বাজল—উন্নি। তোদের পঙ্কজ শেষ। বাই।

    পঙ্কজের বন্ধুদল যখন ওদের বাড়ি পৌঁছোল, তখন পুলিশ থিকথিক করছে। দমকলের পাইপের মুখ থেকে গ্যাস বেরোচ্ছে আগুন নিভে গেছে, কিন্তু তখনও ধোঁয়া প্রচুর।

     

     

    কার্জন একজন কনস্টেবলকে জিজ্ঞেস করল—আলকায়দার জঙ্গিটাকে ধরতে পেরেছেন?

    অ্যাঁ? কনস্টেবল চমকে উঠে লাঠি উঁচিয়ে কার্জনকে তাড়া করল।

    পাবলো এগিয়ে গিয়ে বলল—নিরীহ গোবেচারা মানুষ দেখলেই আপনাদের লাঠি ওঠে, না? লন্ডনের টিউব স্টেশনে এইভাবেই একজন ইনোসেন্ট মানুষকে খুন করেছিলেন।

    অ্যাঁ? আমি আবার কাকে খুন করলুম! আচ্ছা ফ্যাসাদের চাকরি হয়েছে! একজন বলছে আলকায়দা, একজন বলছে লন্ডনে গিয়ে খুন করে এসেছি। মহা পাগলা পাবলিক তো!

    পঙ্কজদের ব্লকের সবাই ছাদে উঠে গিয়েছিল। ধোঁয়ায় তাই অতটা কাবু হয়নি। কিন্তু পঙ্কজ যেহেতু টেবিলের তলায় মুখে খবরের কাগজ চাপা দিয়ে গোঁয়ারের মতো বসে ছিল, সে প্রচুর ধোঁয়া খেয়েছে এবং অজ্ঞান মতো হয়ে গেছে।

    পুলিশ দরজা ভাঙে, দমকল নির্বিচারে চতুর্দিকে জল ছিটিয়ে যায় এবং বন্ধুরা টেবিলের তলায় পঙ্কজকে আবিষ্কার করে। সে নার্সিংহোমে যায়। সুবুল ডাক্তারের নার্সিংহোম—পাবলোই ব্যবস্থা করে দিল। সেখানে দু’দিন ডাক্তার—নার্সদের আদর খেয়ে পঙ্কজ খোকা বাড়ি ফিরলেন। তবে নিজের বাড়িতে নয়। এক নম্বরের বন্ধু পাবলোর বাড়ি।

     

     

    পঙ্কজের হল একটু মুশকিল কেননা পাবলোর বাবা সুহৃৎবাবু ও মিহিরকিরণ সুযোগ পেলেই তাকে নানা কথা জিজ্ঞেস করেন। পেছনে পড়ে আছেন যাকে বলে। পঙ্কজ দিব্যি চায়ের সঙ্গে মুচমুচে পকোড়া খাচ্ছিল, সামনে পাবলো আর তার বোন শম্পি সকরুণ মমতাময় দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে রয়েছে, তারাও পকোড়া খাচ্ছে, কিন্তু পঙ্কজের নার্সিং সম্পর্কে তারা খুব যত্নশীল।

    সুহৃৎবাবু কাগজ পড়তে পড়তে বললেন—স্ট্রেঞ্জ, তুমি টেবিলের তলায় গেলে কেন? বাড়িতে ডাকাত—টাকাত পড়লে বেগতিক দেখে মানুষ লুকোয় বটে। আগুন ঢুকলে কি তোমাকে টেবিলের তলা বলে ছেড়ে দিত?

    শম্পির সাততাড়াতাড়ি কথা বলা চাই—না মেসো, ও ভেবেছিল আলকায়দার আক্রমণ!

    তখন মিহিরকিরণ বেশ রসিয়ে রসিয়ে বলেন—অ্যাঁ, তুমি কি তলে তলে জঙ্গি—টঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখো! সেক্রেটারিয়েট গেল, অ্যাসেমব্লি গেল, হাইকোর্ট গেল, আলকায়দা একেবারে বেছে বেছে পঙ্কজ ধুধুরিয়ার বাড়ি, কী যেন কমপ্লেক্সটার নাম ‘সংকেত’। হ্যাঁ ‘সংকেত’ আক্রমণ করে বসবে? তোমার ব্যাকগ্রাউন্ডটা দেখতে হচ্ছে তো!

     

     

    সুহৃৎবাবু সমানে মাথা নাড়ছেন—না হে, কাজটা তুমি ভাল করোনি। তোমার উচিত ছিল…

    আচ্ছা বাবা, যা হয়ে গেছে তা নিয়ে আবার এত সময় নষ্ট করা কেন? পাবলো বাবাকে ধমকায়।

    নেক্সট—টাইম যখন আগুন লাগবে একটা কম্বল গায়ে দিয়ে ছাদে উঠে যাবে। ওপেন জায়গায়। এবং পাবলোরও আগে দমকলকে ফোন করবে। জিরো ডায়াল করে লালবাজারেও করতে পারো ফোনটা। দে উইল টেক কেয়ার অব দমকল। আসল কথা পঙ্কজরাম, বুঝলে—তুমি একটু মানে বেশিই ভিতু। না না এটা ঠিক নয়। এতটা ভয়! তোমার বয়সের একটা ছেলে হবে ডাকাডুকো, নওজওয়ান তোমরা। তুমি টেবিলের তলা! নাঃ এটা ঠিক…

    আচ্ছা বাবা, একে ও শেকি হয়ে রয়েছে, ওকে আবার নেক্সট টাইম আগুন লাগার ভয় দেখাচ্ছ?

    মিহিরকিরণ বললেন—এ তো দেখছি ভয়ে জুজুবুড়ি টাইপ! নাঃ এই বয়সের ছেলে! তোরা ওর একটা কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা কর। সত্যিকারের বিপদ হলে ও কী করবে?

     

     

    দুই ভায়রাভাই মিলে নিজেরা এদের বয়সে কত ডাকাবুকো ছিলেন সেই সব গল্প মারতে লাগলেন। পঙ্কজ প্লেটে পকোড়াগুলো নাড়াচাড়াই করছে কাঁচুমাচু মুখে। লজ্জায় মুখে তুলতে পারছে না।

    কী রে খা!—লজ্জা পাচ্ছিস কেন?

    মিহিরকিরণ চলে যাচ্ছিলেন নিজের বীরত্বকাহিনি পেশ করার পর, থেমে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন—আবার লাজুকও? নাঃ পাবলো, তোদের জেনারেশনে লাজুক—টাজুক আমি এই ফার্স্ট দেখলুম। টেবিলের তলা—লাজুক—নাঃ।

    এরপরে পঙ্কজ জেদ ধরে সে বাড়ি চলে যাবে। তাদের বাড়ির ইলেকট্রিক কানেকশন যে সি ই এস সি কেটে দিয়েছে, ধোঁয়ার কালিতে, সব কালো হয়ে আছে—সে সব সে মানতে চায় না।

    দার্জিলিঙে খবর গেল। পঙ্কজের বাবা বিনোদ ধুধুরিয়া বললেন—ফায়ার? তো অব তো সব ঠিকঠাকই হ্যায়। ক্যা বোলা? পঙ্কজকো নার্সিংহোম ভেজনা পড়া? উও উল্লু একদম ফাস্টক্লাস ডরপোক হ্যায়।

     

     

    পাবলো কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল—সব বাবাই একই রকম সেলফিশ অ্যান্ড ইনসেনসিটিভ।

    শম্পি বলল—এর মধ্যে সেলফিশনেসের কী দেখলি? তুই যা—ই বল, আমাদের বাড়িতে ওরকম কিছু হলে আমি অন্তত টেবিলের তলায় লুকোতুম না।

    পঙ্কজ দু’কানে আঙুল দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল—ওফ টু মাচ, ইটস টু মাচ।

    পাবলো বলল—রিয়্যালি শম্পি, আফটার অল আমরা হলুম শিল্পী। একটু ভয়, একটু লজ্জা, একটু হেজিটেশন, একটু প্যানিক আবার হঠাৎ অ্যাগ্রেশন…এরকম একটু ক্রমশই গ্রো করতে থাকবে আমাদের ভেতর। তুই খেয়াল কর। এই চেঞ্জটা উচ্চৈঃস্বরে বলে দিচ্ছে আমরা ঠিকঠাক পথেই এগোচ্ছি! চল পঙ্কজ, আমরা রিহার্স্যালে যাই। তুই লজ্জা ঘৃণা ভয় সব ঝেড়ে ফ্যাল। দু’জনে প্রেমসে লেগে পড়ি। পঙ্কজকে প্রায় বগলদাবা করে পাবলো লম্বা দিল।

    শম্পি বলল—যা ব্বাবা! এটাও তো দেখছি খেপে গেল!

     

     

    সুহৃৎবাবু কাগজটা তুলে নিয়ে যেতে এসেছিলেন, বললেন—আমি তো বরাবর জানি পাবুলটার মাথার স্ক্রু ঢিলে। তুই আজ জানলি!

    .

    বাজার—হাট, যানবাহন, দোকানপত্তর, হাজার হাজার মানুষজন, তাদের চলাফেরা, খাওয়া—দাওয়া, হই—হল্লা এইসব দু’পা গেলেই, অথচ তোমার বাড়িটা নির্জন নিভৃত, শান্তির নীড়। সেখানে ওই আওয়াজ ওই হট্টমেলা পৌঁছোয় না। এরকম জায়গা কলকাতার দক্ষিণে একটাই আছে। সে হল ফার্ন রোড। এ দিকে গোলপার্ক ও দিকে গড়েহাটা। কোলে বালিগঞ্জ গার্ডেন্স ঝমঝম করছে—সব সময়ে সার দিয়ে সব খাবার দোকান, রাস্তায় ঠ্যালাগাড়িতে চাওমিন রোল। তার পাশেই ভাঁড়ের চা। ফুল চাও? ফুটপাত জুড়ে ফুলঅলারা বসে গেছে। বিয়ে কি শ্রাদ্ধ কি জন্মদিনের বাড়ি চাও? আছে, ভাড়া দেয়। টাঙাইল শাড়ির সেল—বিশুদ্ধ ফুলিয়া। পুরাতন নয়। টোয়েন্টি পার্সেন্ট রিডাকশন। ভেজিটেবল ডাইয়ে নিজ শিল্পীদ্বারা ছাপা শাড়ির এগজিবিশন—ওই বালিগঞ্জ গার্ডেনেই। সোজা চলে গেলে তুমি খিড়কি দিয়ে গড়িয়াহাট মার্কেটের মধ্যে ঢুকে যেতে পারছ। দু’পা হেঁটে রামকৃষ্ণ মিশন লাইব্রেরিতে সারাদুপুর পড়াশোনা করে হেলে দুলে বাড়ি ফিরে এলে। ট্যাক্সি চাও? চলতিই পেয়ে যাবে, মোড়ে গেলে তো ভাবনাই নেই। ফার্ন গাছের যেমন একটা একটা ডাঁটি থেকে সরু সরু পাতা বেরোয় সবটা মিলিয়ে তবে একটা পাতা, ফার্ন রোডও তেমন বালিগঞ্জ গার্ডেন্স থেকে সরু সরু করে বেরিয়েছে। তিন চারটি সরু—লম্বা গলি। দু’ধারে সব তালঢ্যাঙা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গলিতে ঢুকলে, আর শব্দবিজ্ঞানের কী আজব নিয়মে কে জানে টুপ করে ডুবে গেল হট্টরোল। এই গলিদের দ্বিতীয়টায় ঢুকে এগোও। এ—গলিটা বাঁ দিকে বেঁকে গেছে, এইখানে কর্নার প্লটে তিনতলা বাড়ি। একতলায় রেশন দোকান, ব্লাউজের দোকানের কারখানা। নিশিদিন সেখানে সেলাই চলছে, মেশিন তো চলছেই সেই সঙ্গে হেম সেলাই, বোতাম ঘর, বোতাম বসানো। চুপচাপ সব কাজ করে চলেছে। সামনের দিকে অবশ্য গ্যারাজ। একটি গাড়ি আর একটি মোটরবাইক রাখা আছে। দোতলায় দক্ষিণমুখো ঘর। জানলা দিয়ে রোদ আর হাওয়া লুটোপুটি খাচ্ছে। কোলে ছোট্ট বারান্দা। চেয়ারে বসে টেবিলে কিছু রেখে মেয়েটি নিবিষ্টচিত্তে পড়ছে। রং ময়লা। চকচকে চোখে সরু কালো ফ্রেমের চশমা—আঁটা। চুলগুলো খুব কোঁকড়া, মাথার ওপর ঝুড়ির মতন হয়ে আছে। হাফ প্যান্ট আর ঝোল্লাঝাল্লা টপ পরে আছে। ইনি হলেন বল্লী ঠাকুর। হঠাৎ দেখলে কম বয়সের ছেলে বলেই মনে হবে। ইনি আরও অনেকের মতো দুই পি অর্থাৎ পাবলো ও পঙ্কজের হার্ট থ্রব।

     

     

    কী পড়ছে বল্লী?—স্টেপল করা একতাড়া কাগজ পড়ছে। ‘একটি অজ্ঞাত পরিচয় মনুষ্যের আত্মজীবনী।’

    ”আমি একটি বাপে—তাড়ানো, মায়ে—খেদানো, ভাইয়ে ঠোকরানো, পিয়ার—পীড়িত, অশান্ত, সান্ত্বনাহীন, প্রান্তিক মানুষ বিশেষ। বাবা—মা বড্ড আদর করে নাম দিয়েছেন ক্যাবলা। তাকেই নানা ভাবে বেঁকিয়ে চুরিয়ে নানান ভ্যারাইটি (বৈচিত্র্য) বার করে নেয় লোকে যেমন—ক্যাবলরাম, ক্যাবলাকান্ত, কেবল, ক্যাবলাচরণ, ক্যাবলাপদ, এমনকী বললে বিশ্বাস যাবেন না ক্যাবলাকুসুম, কেবলসুন্দর পর্যন্ত। নামের অষ্টোত্তর শতনাম যতই হোক, ক্যাবলটি থাকেই।—উচ্চারণ করার সময়ে প্রত্যেকে নিজের নিজের মৌলিক প্রতিভাজাত ব্যঙ্গ বিদ্রূপ উচ্চহাস্য মিশিয়ে নিজস্ব কায়দায় ক্যাবলটি উচ্চারণ করে থাকেন, যাতে করে আমি ক্যাবলা হই বা না হই, একেবারেই ক্যাবলা প্রতিপন্ন হই। ”হোয়াটস ইন আ নেম” কোন মহামতি যেন বলেছিলেন—শেক্সপিয়র কিংবা মোক্ষমুলর—তিনি মানবচরিত্রের কিছুই জানতেন না। প্রকৃতপক্ষে নামই সব। কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা—অন্য কিছু মহাজন বলেছেন। ঠিক বলেছেন। একটি মানুষকে কী করে শুধু নাম দিয়ে ছোট, অধম, মূল্যহীন, এলেবেলে করে দেওয়া যায় আমার নামটি তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আবার উলটোটাও সত্যি। নামের দাপে গগন ফাটে, শুধু নাম দিয়ে একটি অকিঞ্চিৎকর মানুষকে অনেক অনেক ওপরে তুলে দেওয়া যায়। নাম একটি মই বিশেষ। উদাহরণ : আমার দাদার নাম—আলোকসুন্দর। আলোক বলেই তাকে ডাকা হয়ে থাকে। তার বেলা অন্য কোনও ডাকনাম নেই। সে ভ্যাবলা বা ন্যাপলা বলে যে আমার ক্যাবলা নাম তা কিন্তু নয়। খুব আদুরে মুহূর্তে আমাদের মাতৃদেবী তাকে ‘বাবু বাবু’ করে ডেকে থাকেন। যদিও বাবু ডাকবার বয়স তার চলে গেছে বলেই আমি মনে করি। মধু ঝরে ঝরে পড়ে তা থেকে। প্রসঙ্গত আলোকসুন্দরের সঙ্গে মিলিয়েই বোধহয় আমার পরম পূজনীয় গুরুজনরা আমাকে ক্যাবলাসুন্দর বলে ডেকে থাকেন মর্জি—মেজাজ অনুযায়ী। আমার একটি পোশাকি বা ভাল নাম অবশ্য তাঁরা কৃপা করে দিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও কিছু শব্দজব্দ রসিকতা আছে—অচ্যুতনন্দন। তাঁরা কি জানতেন না এ—নামে কেউ কখনও কাউকে ডাকতে পারে না! নিজের নামের বানান শিখতে গিয়ে কি আমার কম পেনসিল ভেঙেছে শৈশবে! তার পরে নামের মানে! তাই নিয়েই কি কম হেনস্থা নাকি? বলা বাহুল্য পূজ্যপাদ মাস্টারমশাইরা অক্লেশে আমাকে অচ্ছুৎ অচ্ছুৎ করেন, হরিজনদের জন্য মন্দির খুলে দেওয়ার এই যুগে তাঁরা যে নিজেদের কত দুর্গতিশীল প্রমাণ করছেন না বুঝেই। সহপাঠীরা অবিলম্বে ডাকনামের খোঁজ পেয়ে যায়। কেননা অচ্ছুৎ শব্দটা এই প্রজন্মের কাছে র‍্যাগিংয়ের জন্য যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ নয়। তারা সহর্ষে ‘ক্যাবলা এই ক্যাবলা’ করে আমার কান ঝালাপালা করে দেয়। দরকারে যত না অদরকারে ডাকে তার চেয়ে ঢের বেশি এবং বড়ই আত্মপ্রসাদ অনুভব করে। ক্লাসের ক্যাবলাতম ছেলেও আমাকে ক্যাবলা ডাকতে ডাকতে কলার তোলে।

    তুলনা ও প্রতিতুলনায় অর্থাৎ কমপেয়ার ও কনট্রাস্টে আলোকসুন্দরের ও অচ্যুতনন্দনের সম্বন্ধে কী কী তথ্য বেরিয়ে আসে দেখুন।

    ১। আলোকসুন্দরের চুল খাড়া খাড়া, সে সবেতেই খ্যাঁক খ্যাঁক করে খ্যাঁকশেয়ালের মতো হাসে। অপর পক্ষে অচ্যুতনন্দনের চুল মাথায় সহজেই পাট করা যায়, সে অত্যন্ত ভদ্র। তার হাসিতে সাধারণত আওয়াজ হয় না। হলেও তা স্বাভাবিক কিশোরসুলভ। আলোকসুন্দরের নাম—বিদ্রূপসুন্দর দিলে কি অনেক মানানসই হত না?—পাঠকের কী অভিমত?

    ২। আলোকসুন্দর মোটেই আলোকপ্রাপ্ত নয়। তার ন্যাবা হয়েছিল, জনৈক হাতুড়ের পরামর্শে তাকে আমাদের মাতৃদেবী একটি মালা পরান। তাতে সে আপত্তি করেনি। মালা পরে হলুদ চোখে যখন সে ইতি—উতি তাকাত তাকে অনেক বেশি ক্যাবলা এবং অন্ধকারসুন্দর দেখাত। অপর পক্ষে অচ্যুতের জলবসন্ত হওয়ায়, তাকে মৎস্য মাংস বঞ্চিত করার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও ডাক্তারের পরামর্শ ছিল প্রোটিন আহারের পক্ষে। সে সময়ে অচ্যুত মৎস্য—মাংস ব্যতীত হাঙ্গার স্ট্রাইক করবার সিদ্ধান্ত নেয়। মৎস্যাদির লোভে নয়, বিজ্ঞানের স্বার্থে, লোকশিক্ষার স্বার্থে। সে প্রমাণ করেই ছাড়ে যে জৈব প্রোটিন আহারে সে অনেক শীঘ্র দেহবল ফিরে পেয়েছে। তার পর থেকে বাড়িতে কারও জলবসন্ত হলে আর নিরামিষ ও বার্লি—পথ্যের অবতারণা হয়নি। কুসংস্কার দূরীকরণে এটি কি একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নয়?

    ৩। আকৃতি—প্রকৃতিতেও আলোকসুন্দর আদৌ সুন্দর নয়। দৈহিক রূপ ঈশ্বরদত্ত বা বলা যায় জিনদত্ত। তা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি সভ্য মানুষের লক্ষণ নয়, আমি সভ্য উদার সংস্কৃতি সম্পন্ন মানুষ। এ নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাই না। কিন্তু যখন আলোকসুন্দর, যথেষ্ট কৃষ্ণবর্ণ, গুলি চক্ষু, উদ্ধতকর্ণ ও ব্যোমকেশ হওয়া সত্ত্বেও ‘হ্যান্ডসম’ ও পুরুষোচিত খ্যাতি পায় এবং আঠারোতেই কর্কশ দাড়ি—গোঁফাক্রান্ত তাকে বালসুলভ ‘বাবু, বাবু’ ডেকে আদিখ্যেতা করা হয় এবং অচ্যুত গৌরবর্ণ ও চোদ্দোয় দাড়ি—গোঁফহীন সুকুমার থাকে বলে তাকে মেয়েলি, মাকুন্দ বলা হয়ে থাকে তখন বাইরের আকৃতির প্রসঙ্গ না এসে কি পারে?

    প্রকৃতিতেও আলোক স্বার্থপর। প্রমাণ সে নিজের টি—শার্ট একই সাইজ হওয়া সত্ত্বেও কখনও ভাইকে ধার দেয় না এমনকী পিতৃদেব একদিন একটি পরে ফেলেছিলেন বলে সে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করে। অচ্যুত পরার্থপর—সে অকাতরে দান করে। দরিদ্রকে অন্নদানে করার সামর্থ্য তার এখনও হয়নি, কিন্তু দরিদ্রের ছেলেকে সে নিজের, দাদার এবং বাবার জামাকাপড় দিয়ে থাকে। কেউ টের পায় না। বাড়িতে তুলকালাম হয়, সে নীরব থাকে। দাদার টিউটোরিয়ালের বিশেষ নোটের খাতা জেরক্স করে সে দাদারই টিউটোরিয়ালহীন বন্ধুদের সাপ্লাই দেয়। নিজের অঙ্কের খাতা, ইতিহাসের প্রশ্নোত্তর লেখা খাতা সে নির্বিচারে ক্যাবলা বন্ধুদের ধার দেয়, ঠিক এবং ভুল অঙ্ক, ঠিক এবং ভুল তারিখসমেত। আকবরের দীন—ইলাহির মর্মকথায় সে বাহাই—ধর্মের উল্লেখ করায় কালাতিক্রমণ দোষ ঘটেছে বলে তিরস্কৃত হয়। সেই উত্তরপত্রটিও সে অকাতরে পরখাতা—পিপাসু সতীর্থদের দিয়ে থাকে।—তিন তফা প্রমাণাদি দাখিল করলাম পাঠক ভেবে দেখুন। অভিমত দিন। আপনাদের অভিমত পাঠাবেন ৭৫৭৫ নম্বরে এস এম এস করে…’

    এত মন দিয়ে বল্লী পড়ছিল যে এর মধ্যে যে দরজার ঘণ্টি বেজেছে, তাদের কাজের লোক খুলে দিয়েছে সে কিছুই টের পায়নি। ঘরের মধ্যে যে মার্জার চরণে দুই মূর্তি ঢুকেছে তা—ও সে বুঝতে পারেনি। পেছন থেকে একটি হাত এসে খপ করে কাগজগুলো তুলে নিল। বল্লী চমকে মুখ তুলে দেখে ফরসা গোলমাল একটি মুখ সরে যাচ্ছে—কার্জন। পেছনে দাঁড়িয়ে পাবলো বলল—নিজেই দ্যাখ রে কার্জন গদ্দার কে, মিথ্যুক কে! ঠিক বলেছিলুম কি না!

    দু’জনে দুটো মোড়া টেনে বসল। বল্লী হেসে বলল—কী করে ধরলি?—সে একটুও অপ্রস্তুত হয়নি।

    সিম্পল ডিডাকশন, ওয়াটসন। সার্কামস্ট্যানশ্যাল এভিডেন্স—পাবলো বলল। পঙ্কজ বল্লী পাবলো তিনজনের উপস্থিতিতে কাগজের রোলটা কার্জন বল্লীর টেবিলে রাখে। ভুলে চলে যায়। দু’মিনিটের মধ্যে ফিরে আসে—নো পঙ্কজ, নো পাবলো, কাগজ ভ্যানিশ। পাবলো জানে সে নেয়নি। পঙ্কজ হ্যাজ বিন ক্লোজলি এগজামিন্ড। সে নেয়নি। পড়ে রইল বল্লী। সোজা হিসেব সে—ই নিয়েছে, ব্যস। প্রথমে, বল্লী নিয়েছে অথচ স্বীকার করছে না—এটা বল্লীর চরিত্রের সঙ্গে খাপ খাচ্ছিল না। তাই টিকটিকি একটু মিসলেড হয়। তারপর দেখা গেল লজিক বলছে—বল্লী ইজ দা কালপ্রিট। তখন টিকটিকি চরিত্রের ব্যাপারটা ন্যাচার‍্যালি ইগনোর করে।—এখন দ্যাখ ধরার কাজটা চ্যালেঞ্জ ছিল ধরে দিয়েছি। কেন নিয়েছিস, কী মতলবে, সে কৈফিয়ত তুই কার্জনকে দিবি। আমার কথা আমি রেখেছি। এবার তোরা বোঝ—বলে টলে দু’লাফে পাবলো ঘরের বাইরে চলে গেল।

    মুচকি হেসে বল্লী বলল—খাসা লিখেছিস কিন্তু প্রান্তিক, সহর্ষে, কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব…র‍্যাগিংয়ের ইঙ্গিতবহ…গুলি—চক্ষু উদ্ধতকর্ণ…এত সব ভাল ভাল বাংলা সংস্কৃত কোত্থেকে শিখলি রে?

    তোরা যখন ঘাড় গুঁজে সিলেবাস পড়িস আমি তখন হরেক কিসিমের বই পড়ি। বই পড়া ছোট থেকে আমার ভীষণ নেশা। বঙ্কিম টু বুদ্ধদেব বসু সব পড়ে ফেলেছি।

    তার পরের?

    সব সব। আগেকারটা কত পড়েছি বোঝবার জন্যে বললুম কথাটা। তোর কেমন লাগল?

    বললুম তো খাসা। শেষ কর। মজাদার একটা উপন্যাস।

    আমি তো তোকে পড়াব বলেই এসেছিলুম। কী ছাইভস্ম হচ্ছে, সেকেন্ড ওপিনিয়ন চাই তো একটা!—তোর চুরি করার কী দরকার ছিল?

    জাস্ট কিউরিয়সিটি। বিশ্বাস কর। আনহোলি কিউসিরিটি মানছি। যেভাবে আগলে আগলে আনছিলি আমি ভেবেছি লভ—লেটার। কে দিল, না তুই কাউকে দিচ্ছিস, খুব কৌতূহল হল বুঝলি? খুলে পড়তে গিয়ে দেখি আরে এ যে একটা স্টোরি! তোর লেখা বলে মনেই হয় না। সত্যি তুই লিখেছিস?

    সত্যি না তো কি মিথ্যে?

    আমি ভেবেছিলুম কোথাও থেকে টুকলিফাই করেছিস। তারপর দেখলুম, বেশ কিছু ক্যারেক্টার চিনতে পারছি। তুই তা হলে রাইটার হচ্ছিস?

    ইচ্ছে তো তাই—কার্জন লাজুক মুখে বলল—পরিস্থিতি প্রতিকূল। আমাকে সি এ ফি এ পড়তে হবে। নইলে কম্পুটার লাইনে কি ম্যানেজমেন্ট ঢুকিয়ে দেবে। কী করি বল তো! লাইফ হেল হয়ে যাবে ওসব লাইনে গেলে। তা ছাড়া আমার সময় চাই। অনেক অনেক সময়। তা তুই কি আজই সবে ওটা নিয়ে বসেছিলি?

    বল্লী বলল—একরকম তাই ধর। উলটেপালটে একটু দেখে নিয়েছি যে শেষ হয়নি। তারপর তুই এমন ধরপাকড় শুরু করলি! আমি দিয়ে দিতে পারতুম। কিন্তু তখন একটা জেদ চেপে গেছে। মজাও আছে। একটু পড়ে ইন্টরেস্ট পেয়ে গেছি। তারপর তো পরীক্ষা এগিয়ে এল। শেলফের পেছনে রেখে ভুলে মেরে দিয়েছি। মামার বাড়ি গিয়েছিলুম ক’দিনের জন্যে। এসেই হঠাৎ মনে পড়ল দেখি তো! আচ্ছা কার্জন, তোদের বাড়িতে কেউ লেখক আছেন? ছিলেন?

    আরে আমার বড়মামাই তো লেখক ছিলেন। মানে হতে চেয়েছিলেন। তা কেউ হতে দিলে তো! দিদিমা কান্নাকাটি শুরু করলেন—ছেলেটা না খেতে পেয়ে মরবে। দাদু হুংকার ছাড়লেন একখানা, মামা সুড়সুড় করে এঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চলে গেলেন। ডি ভি সি—র এঞ্জিনিয়ার। বাড়ি ভরতি বই। তাকের পেছনে তাড়া তাড়া খাতায় পদ্য। মামা আমাকে খুব উৎসাহ দিচ্ছে বুঝলি! বলছে আমার প্রতিভা শেষ করে দিয়েছে সবাই মিলে। তুই লেগে থাক। আদা—জল খেয়ে লাগ। তবে একদম স্পিকটি নট। আমি দুটো পদ্য লিখেই ধরা পড়ে গিয়েছিলুম। তুই স্ট্রিক্ট সিক্রেসি মেনটেন করবি। কাকপক্ষী যেন টের না পায়। খবরদার ঝোলা ব্যাগ নিবি না, প্যান্টের ওপর পাঞ্জাবি পরবি না। চোখের দৃষ্টিটা তোর আনমনা আনমনা হয়ে থাকে, ওটা পালটা। চতুর্দিকে নজর রেখে যাবি। ট্রেনে বাসে বাজারহাটে রাস্তাঘাটে বাড়িতে। মানুষ কীভাবে কথা বলে, কীভাবে চলে ফেরে।

    কার্জন বলল—মামার পদ্য আমার গদ্য। লাইন একটু আলাদা। মামার লাইব্রেরি থেকে মেলা বই পড়েছি রে। এই সিক্রেসি মেনটেন করতে গিয়েই যত্ত ঝামেলা। জানিস বল্লী, আমি একটা ছোট, ব্যাটারি সেট টেপ রেকর্ডার কিনেছি। হাতে করে নিয়ে বাজারে, দোকানে ঘুরি। কথাবার্তা টেপ করি।

    লড়ে যা। আমি আছি—বল্লী বলল।

    এটা জাস্ট একটা এক্সপেরিমেন্ট বুঝলি?

    তা বুঝেছি। কিন্তু আত্মজীবনী এভাবে লিখতে গেলি কেন?

    অসুবিধে কী!

    আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব সব নিজেদের ভূত দেখবে যে!

    কার্জন হাসল। বল্লীও হাসি হাসি মুখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

    তোর ভূত দেখেছিস?

    না।

    তবে কার দেখলি?

    অবভিয়াসলি তোর নিজের, তোর দাদার, বাবা—মা’রও বোধহয়!

    কার্জন একটা বেশ বোদ্ধার হাসি দিল, —সিবলিং কনফ্লিক্ট বা সিবলিং জেলাসি একটা খুব কমন থিম, বুঝলি? এটা সিরিয়াসলিও নেওয়া যায়, আবার এটা নিয়ে বেশ মজাও করা যায়। মজাটা করেছি। পড়ে তুই যদি বুঝে থাকিস সত্যিই আমি একটা অ্যাগ্রিভড পার্টি, দাদা বেশি অ্যাটেনশন পাচ্ছে বলে খেপে আছি, বন্ধুরা আমাকে নিয়ে মজা করে, মাস্টারমশাইরাও, তবে বুঝতেই পারছিস খুব ভুল করবি। আমি প্র্যাক্টিক্যালি আমার মা—জ্যাঠাইমার গোপাল। দাদাও আমার প্রচণ্ড বোঝে, বন্ধুদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেমন তা তো তুই জানিসই। আমার জেঠু বীভৎস মজাদার মানুষ। বাবা গম্ভীর। কিন্তু ঝুনো নারকোল, ফাটালেই ফোয়ারা। আমার দিদি মানে জ্যাঠাতুতো দিদি একটা এক নম্বর ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। চিরকাল। দাদা বা আমি কেউই ওর ধারেকাছে নেই। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের বাড়িতে কোনও টেনশন, কোনও প্রেশার কিচ্ছু নেই। দিদি নিজেও প্রচণ্ড মজা করতে ভালবাসে। যা এক একখানা মেল পাঠায় না। হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে।

    এখন কথা হল ফিকশন বলে কেন? তুই দেখবি ফ্যাক্ট যতই অদ্ভুত হোক তা নিয়ে লেখা, মানে বিশুদ্ধ তথ্য দিয়ে লেখা চট করে সার্থক হয় না। কল্পনা। কল্পনা হচ্ছে সেই জিনিস যা ঠিক পরিমাণে মেশালে তবে জীবন থেকে সাহিত্য পাওয়া যায়। কী রে বোর করছি?

    বল্লী বলল প্লিজ, ডোন্ট স্টপ, গো অন।

    ‘আমি’টা কেন নিয়েছি বল তো? ওতে ক্যারেক্টারটার সঙ্গে আইডেন্টিফাই করতে সুবিধে হয়। ওই ক্যাবলা নামে চরিত্রটার মধ্যে ঢুকে গেলুম। মোটামুটি আমাদের বাড়ির যা সেট আপ সেইরকম একটা সেট—আপ কল্পনা করে নিলুম। সুবিধে হল।

    বল্লী বলল—দাদাকে না নিয়ে দিদি বা বোনও তো নিতে পারতিস!

    বোন বা দিদি? একটু মিন হয়ে যায় না একটা টিন—এজ ছেলের দিদি বোনের সঙ্গে হিংসেহিংসিটা? বোনে বোনে যতটা হয় ভাইয়ে ভাইয়ে যতটা হয় ভাই—বোনে অতটা হয় না। সিরিয়াস হয়ে যেতে পারে। এনিওয়ে, দাদার সঙ্গে খুনসুটির ধরনটা আমার জানা ছকের মধ্যে পড়ে। ওটাই সহজে এসে গেল। কিন্তু এটাই আমার একমাত্র নয়। পোয়েটিক জিনিস লিখেছি, ক্রিটিক্যাল জিনিস লিখেছি, কবিতাও লিখেছি।

    তো সেগুলো কবে পড়াবি?

    তুই সত্যি ইন্টরেস্টেড?

    তবে? আমিও তো একটু আধটু…মানে ওই আর কী!

    লিখিস! তুই! বলবি তো।

    ধ্যাত বলবার মতো কিছু নয়। তোর মতো এত ভালই নয়। বল্লীর মুখে লজ্জার আভা।

    কালই আসছি। তোরগুলো রেডি রাখিস। ঠিক আছে?

    ঠিক।—কার্জন উদ্ভাসিত মুখে বেরিয়ে গেল—সি ইউ!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধানগর – বাণী বসু
    Next Article মেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }