Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    যে হীরকখণ্ডে ঘুমিয়ে কুকুরদল – কিশোর পাশা ইমন

    কিশোর পাশা ইমন এক পাতা গল্প607 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুকুরদল – ৫৪

    অধ্যায় ৫৪

    কমনরুমের ভেতর হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থাকলেন প্রফেসর রবিন। সহকর্মিরা তাকে কিছু একটা বলছে, তাদের কোনো কথাই নিজের কানে ঢুকছে বলে তার মনে হলো না। শাহাবুজ্জামানকে স্পষ্টই দেখলেন তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে তার দিকে একবার তাকাতে। ওদিকে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে লোকটা। মুখ নড়ছে সমান তালে, মনে হয় পান খাচ্ছে।

    “আমরা দুঃখিত।” মনির বলল। এই একটা কথাই অনেকক্ষণ পর কানে এলো যেন তার।

    “হেড স্যারের সাথে এটা নিয়ে কথা বলেছিলাম আমরা। লাভ হচ্ছে না। উনি এটা এভাবেই খেলতে চাইছেন।” বিষণ্ন মুখে নীতু বলল।

    মাথা দোলালেন প্রফেসর, “ফাইন। এটা নিয়ে তোমাদের কিছু করার নেই। আমি দেখছি বিষয়টা।”

    ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়লেন প্রফেসর রবিন জামান খান। অবশেষে আলোচনাটা শুরু হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি কি লড়াইটা চালিয়ে যাবেন না সরে যাবেন চুপচাপ। হাতঘড়িটা চোখের সামনে নিয়ে একবার দেখলেন, দশটা পঞ্চাশ বাজে প্রায়। একটু পর ওয়ান-থ্রির সঙ্গে একটা ক্লাস ছিল। সেই ক্লাস নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা আজ ফুরিয়েছে।

    এই মুহূর্তে প্রফেসর রবিন বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন প্রাক্তন শিক্ষক।

    উপাধ্যক্ষ একটু আগে তার চাকরিটা খেয়েছেন।

    বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু এটা ছিল না অবশ্যই। ছাত্রদের আন্দোলনের পর থেকেই টিচার্স কমিউনিটির রাঘব বোয়ালরা তার ওপর বিরক্ত। এরপর তিনি বাকিদের সুরে সুর মেলাননি। ছাত্রদের টাইট দেওয়ার মতো যে কয়টি নতুন নীতি নির্ধারিত হয়েছে তাদের একটাও তিনি মেনে চলেননি। এতোদিন চলাফেরাও করেছেন দাপটের সঙ্গে, যেন এই চাকরির থোরাই কেয়ার করেন। কতোবার কতো সিনিয়র শিক্ষকের মুখের ওপর তাদের ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন, অনেকেই

    অনেকেই অপমানিত বোধ করেছেন এসব ঘটনায়। শাহাবুজ্জামানসহ আরও ডজনখানেক শিক্ষকের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হয়েছে শুধুমাত্র তার জন্য। ওদের গ্রুপটাকে অনায়াসে অ্যান্টি-প্রফেসর-রবিন গোত্র বলে চালিয়ে দেওয়া চলে। উপাধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কেউ না কেউ সব সময়ই প্রফেসরের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন, তবে বাস্তবতাটি সবাই জানে।

    একে ওকে বিব্রত করার অপরাধে একজন প্রফেসরের চাকরি চলে যেতে পারে না। তিনি কোনো ধরণের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে নেই, প্রতিটা কাজ সময়ের মধ্যেই শেষ করে দেন, এমনকি তার বিরুদ্ধে ছাত্রিকে ধর্ষণের অভিযোগটা পর্যন্ত নেই। এমন একটা মানুষকে প্রশাসনে ঢুকিয়ে ফেলার পর তাকে আর বের করে দেওয়া চলে না। এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে তো নয়ই। অথচ একটা মহল গত দেড় দুই মাস ধরে রাত দিন এক করে এই কাজটা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা কোনোদিন সফল হতে পারবে বলে তিনি মনে করেননি। অথচ তাই হলো, ওরা হাড়ির খবর বের করে ফেললো কি করে?

    শাহাবুজ্জামানের ফোনে কথা বলা মনে হয় শেষ হয়েছে। চেয়ার ঠেলে এদিকেই আসছে চালিয়াত ধরণের মানুষটা। প্রফেসর রবিনের দু-হাত সামনে এসে থামলো সে, থমথমে মুখ। একটু আগের হাসিটা নিখুঁতভাবে লুকিয়ে ফেলেছে গম্ভির মুখখানার আড়ালে।

    “তাহলে, এই ব্যাপার!” মুখ বাঁকিয়ে বলল সে, “দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। আপনার কথা বার্তা শুনেই আমার বোঝা উচিত ছিল আসলে। এই দেশে কি করতে এসেছেন? গুপ্তচরগিরি? কাদের হয়ে কাজ করছেন বলেন তো? সিআইএ?”

    একটা প্রশ্নেরও উত্তর না দিয়ে থমথমে মুখে তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন প্রফেসর রবিন।

    “এখন আর চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলছেন না যে বড়ো? শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না? ডিকশনারি এনে দেবো?”

    মনির এগিয়ে এলো রক্ষাকারীর ভূমিকায়, “স্যার, প্লিজ, পরিবেশটা নষ্ট করবেন না।”

    তাকে হাত উড়িয়ে বাতিল করে দিলো শাহাবুজ্জামান, আজ বাগে পেয়েছে প্রতিপক্ষকে। ”চামচাদের দিয়ে নিজেকে ঢাকছেন। সাবাশ। যতো গর্জে ততো বর্ষে না। কোথায় আপনার দেশপ্রেমের বুলি? সঠিক আর ভুলের ওপর কতো লেকচার যে এই ঘরে বসে দিয়েছেন। আপনি তো নিজেই গালাদ। ছি ছি, মুসলমানের সন্তান হয়ে আপনি…..”

    “একচুল নড়লেন না প্রফেসর রবিন। মুখ এখনও শ্রাবণের মেঘের মতোই থমথমে। দৃঢ় গলায় শাহাবুজ্জামানের প্রশ্নটার সমাপ্তি টানলেন তিনি, “ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। সো হোয়াট?”

    হাকারবিনের নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি শুনে দূরে বসে থাকা প্রবীণ অধ্যাপক হামিদুর রহমান মুখে হাত চাপা দিলেন। তাকে পাত্তাও দিলেন না প্রফেসর রবিন। চেয়ার টেনে সরিয়ে উঠে দাঁড়ালেন, সামনে বাড়িয়ে দিয়েছেন অক্ষত হাতটা। শাহাবুজ্জামানের নাকের সামনে।

    দেখতে চান? দেখে নিন প্রাণভরে।” চাপা স্বরে বললেন হাকারবিন, “ইয়েস, এই হাত দিয়েই তিনজন ইরাকিকে গুলি করে মেরেছি আমি। তারিখটা শুনতে চান? ২৩শে নভেম্বর, ২০০৬।

    যে যার জায়গায় থমকে দাঁড়ালো ঘরে উপস্থিত সবাই। মনিরও কেমন যেন ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো। হাকারবিনের চোখ জ্বলছে নিশাচর প্রাণিদের মতো। বলে চললেন তিনি, “বাংলাদেশিদের সেন্টিমেন্ট আমি খুব ভালো মতো জানি, খুব ভালো মতো করে। বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ চিন্তাটা মস্তিষ্ক দিয়ে করে না, করে ‘ইয়োটা দিয়ে।” প্রফেসর খুব নোংরা একটা শব্দ উচ্চারণ করলেন, “২০০১ সালে যখন টুইন টাওয়ার ভাঙলো, এই দেশে অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো। তারা মাথায় পাগড়ি পেঁচিয়ে স্লোগান দিয়েছিলো ‘বাংলা হইবো তালেবান, আমরা হবো আফগান’। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভাঙার কারণে মারা গেছিলো তিন হাজার মানুষ। আহত ছিল ছয় হাজার। এই তিন হাজারের মধ্যে বাংলাদেশি মারা যান ৫০ জন। অথচ বাংলাদেশে অনেক বড় একটা গোষ্ঠি আজও মনে করে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ভেঙে দেওয়াটা খুব চমৎকার একটা কাজ হয়েছে। তারা এই নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই তাদের মুখ হাসি হাসি হয়ে যায়, চোখে থাকে গর্ব। তারা মনে করে ওই সন্ত্রাসী হামলাটি চালিয়ে আমেরিকাকে ‘দেখিয়ে’ দেওয়া গেছে। তিন হাজার খেটে খাওয়া মানুষের লাশ তাদের চোখ এড়িয়ে যায়! লজ্জার ব্যাপার হচ্ছে এটা, শাহাবুজ্জামান, এটা। আমার ইরাকি মারার গল্পটা গর্বের। নাথিং টু বি অ্যাশেইমড অফ।”

    “আপনি তাহলে সত্যিই ইউএস আর্মির সাথে ছিলেন?” নীতুর কণ্ঠে অবিশ্বাস।

    “অবশ্যই। আমার চাকরিটা খাচ্ছে এখন, দেখতে পারছো না?” গম্ভির মুখেও এক চিলতে হাসি দেখা গেলো এবার, “তথ্য গোপন করার অভিযোগে!” টেবিলে থাবা দিয়ে উঠলেন তিনি, “অবশ্যই তথ্য গোপন করেছি। এই দেশে কয়টা মানুষ সঠিক আর ভুল বোঝে? এরা শুধু বোঝে মুসলমান, হিন্দু, ইহুদি, খ্রিস্টান আর নাস্তিক। গবেটের দল।”

    “আপনার হাতটা…?” মনির প্রশ্নটা শেষ করতে পারলো না, কেমন যেন সঙ্কোচ হলো।

    “ওইদিনই গেছিলো। ২৩শে নভেম্বর, দুই হাজার ছয়। অসংখ্য রিপোর্ট আছে, নেটে সার্ফ করলেও পাবে। অনেক নিউজ মিডিয়ায় সেদিনের শিরোনাম করেছিলো আ ডে ইন হেল। আইইডি মানে কি, বোঝো?”

    “ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস।” হলিউডি মুভি দেখে দেখে এই বোমাগুলো সম্পর্কে জানতে বাকি নেই মনিরের।

    “কারেক্ট। গৃহস্থালী জিনিসপাতি দিয়েই বোমা বানিয়ে ফেলতো ওরা। এমন সব জিনিস দিয়ে, যাদের সুপারমার্কেটে কিনতে পাওয়া যায়। অথবা, যোগাড় করে নেওয়া চলে। অ্যাসিটোন পারঅক্সাইড, গানপাউডার, বাথরুম ক্লিনার, কারেন্টের তার, ঘড়ির ব্যাটারি এমন কিছু নাই এইসবে ব্যবহার করা বাকি রেখেছিলো ইরাকিরা। আমেরিকান সৈনিকদের যারা ইরাকে নিহত হয়েছিলো তাদের পঁয়ষট্টিভাগই মারা গেছিলো এসব আইইডির কারণে। আমরা এদের বলতাম দ্য ডেভিল’স মাদার। হাইলি আনস্টেবল। হাইলি।” ধীরে ধীরে আগের চেয়ারটায় বসে পড়লেন প্রফেসর রবিন।

    শামসুজ্জামান থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে এখনও। তার বিস্মিত চোখের সামনেই প্রফেসর রবিনকে ঘিরে একটা ভিড় জমে উঠলো। সবাই তাকে কেন্দ্ৰ করে টেবিলের চারপাশে বসে পড়তে শুরু করেছে। নিজের অতীতের এই দিকটা নিয়ে মানুষটা আজকের আগে একবারও মুখ খোলেনি। চেপে রাখা রহস্যময় ঘটনাগুলো জানার জন্য এই ঘরে উপস্থিত প্রত্যেকেই নিজেদের একটা কিডনি বিসর্জন দিতে পারে। এমনকি সেই দলে শাহাবুজ্জামানও পড়ে, যদিও স্বীকার করবে না।

    “আর্মিতে এই একটা কারণেই আমার জায়গা হয়েছিলো।” অযথাই স্পাইক করা চুলে একবার হাত বোলালেন, “যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমি গিয়ে অ্যাকাডেমিতে নাম লিখাইনি। তখন আমি ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় গবেষণা করছি, ডক্টরেটটা সেরে ফেলাই আমার জীবনের ধ্যানজ্ঞান। ইরাকের যুদ্ধ নিয়ে কথা হতো প্রতিটা আড্ডায়, চায়ের কাপে ঝড় উঠতো, তবে আর্মিতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে যাবে? এমন রিসার্চার আমি তেমন দেখিনি। আমি তো হাফ-আমেরিকান, ফুলগুলোও তেমন আগ্রহ দেখায়নি কখনও। আমাদের বয়সও সৈনিক হওয়ার তুলনায় বড় বেশি ছিল অবশ্য।”

    মনিরের প্রশ্নবোধক দৃষ্টির অর্থটা তিনি ঠিক ঠিক ধরে নিলেন, “আমার মা নিউ ইয়র্কে থাকতেন। তিনি একজন খাঁটি আমেরিকান, মানে যদি তেমনটা কাউকে বলা চলে আরকি। নানা-নানীর মতো আমার মাও জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। বাবার সাথে মায়ের ডিভোর্সটা হয়েছিলো অনেক অনেক আগে। আমার তখন পাঁচ কি ছয় বছর বয়স। বাবা আমাকে নিয়ে ফিরে এসেছিলেন দেশে, আমি এখানেই পড়াশোনা করে গেলাম। এই ভার্সিটি থেকে পাশ করলাম বিএসসি, কোনোদিনও আশা করিনি এখানে শিক্ষক হতে পারবো।” এবার সত্যিকারের একটা হাসি ফুটলো তার মুখে, “আমার পজিশন ছিল ডিপার্টমেন্টে একশ ছয় তম। মানে, শেষের দিক থেকে চৌদ্দ।”

    ফোঁৎ জাতীয় একটা শব্দ করলেন শাহাবুজ্জামান। ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট হয়ে তিনি কি এমন অর্জন করতে পেরেছেন তা ভেবে দেখার বৃথা চেষ্টা করলেন হয়তো। তবে তার নাক থেকে বেরিয়ে আসা বিদঘুটে শব্দ প্রফেসর রবিনকে মোটেও বিচলিত করতে পারলো না।

    “অনেক বন্ধু হায়ার স্টাডিজের জন্য বাইরে চলে যেতে চাইলো। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিল না। দিনে বারো ঘণ্টা করে কাজ করবো আর মাস শেষে পঁচিশ-ত্রিশ হাজার টাকা বেতন? ছোহ। কয়লাখনির শ্রমিকদের বেতন এর চেয়ে বেশি, পরিশ্রমও ঢের কম। তবে তো কয়লাশ্রমিক হলেই পারতাম। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দরকার কি ছিল? বলছি না পরিশ্রমটা খারাপ, কিন্তু সেই অনুপাতে টাকা দেবে না কেন অথরিটি? যাক সেসব কথা, সব মিলিয়ে আমি আমার ইউএস সিটিজেন কার্ড খেলার কথা ভাবতে শুরু করেছি তখন। আমেরিকা আমারও দেশ। ওখানেই আমি জন্মেছি, আমার মা আমেরিকান। মাকে খুঁজে বের করতে হলো একটু কষ্ট করে, বাবা সম্পর্ক একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিলেন।”

    শ্রোতারা সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছে। তাদের মুখগুলো একবার দেখে নিলেন হাকারবিন। এদের কেউ তার আমেরিকান নাগরিকত্ব বা ইরাক যুদ্ধের অবদান নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। শুভানুধ্যায়ী হিসেবে পছন্দের একজনের জীবনের অংশবিশেষ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে কেবল। তবে শাহাবুজ্জামান আর হামিদুর রহমান তার দিকে ঘৃণা নিয়ে তাকিয়ে আছে।

    “মাকে খুঁজে বের করলাম। সফটওয়ার ফার্ম খুলে ফেলেছে ততোদিনে মা আর তার প্রেমিক। মোট দশ না বারোজন মিলে, বেশ ভালো আয় হয় ওখানে। ওরা আমাকে আমন্ত্রণই জানালো চলে আসার জন্য। আমিও উড়ে গেলাম, ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম, টিউশন ফি নিয়েও আমার ভাবনা ছিল না। রীতিমতো গবেষক হয়ে গেলাম। কিন্তু সমস্যাটা হলো ওখানেই, আমার কাজটাকে আমি ভালোবাসতাম। এক্সপ্লোসিভ এক্সপার্ট বনে গেলাম কয়েক মাসের মধ্যে। আমার কিছু ভালো ভালো রিসার্চ আছে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভের ওপর, কে জানতো এটাই পরে আমার জন্য কাল হবে! এরমধ্যে ইরাকের যুদ্ধ বেঁধে গেলো, আমার ডক্টরেটও শেষ হলো ঠিকমতো। রিসার্চ ফ্যাসিলিটি আছে একটা ম্যাসাচুয়েটস-এ। ওখানে মিলিটারি পারপাসে কিছু বিজ্ঞানী সব সময় কাজ করেন। আমার রেপুটেশন অনায়াসে ওখানে আমার জায়গা করে দিলো। ভালো বেতন, ব্লন্ড গার্লফ্রেন্ড, অবিবাহিত জীবন, আমার জন্য তখন সব ঠিকঠাক চলছে।”

    প্রফেসরের এই বর্ণনায় জুনিয়র শিক্ষকদের দলটার সবাই কেমন যেন উদাস হয়ে গেলো।

    “ততোদিনে দুই-আড়াই বছর ধরে আমেরিকান সৈনিকেরা ইরাকে গিয়ে যুদ্ধ করছে, আর প্রাণ হারাচ্ছে। আমাদের বেশিরভাগ সৈন্য মারা গেলো আইইডিতে। কোনো কোনোটা তার দিয়ে ডেটোনেট করা হচ্ছে, কোনোটা রিমোট সিগন্যালে, মোবাইল ফোন কলের মাধ্যমে। কতো রকম ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ যে বানানো সম্ভব, আর কতোভাবে যে তাদের ডেটোনেশন সম্ভব আমি ইরাকে গিয়ে দেখেছি। একদিন আমাদের ফ্যাসিলিটিতে এসে উপস্থিত হলেন ইউএস আর্মির একজন মেজর। তিনি তখন আইইডি এক্সপার্টদের সাথে কথা বলে বেড়াচ্ছেন দেশব্যাপী। আমার সাথে দেখা করলেন। উনার সাথে এক মিনিট কথা বলেই বুঝতে পারলাম আমার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা শেষ তাদের। ইরাক ক্রাইসিস নিয়ে কথা ওঠাতে তিনি সময় নিলেন দুই মিনিট, তারপর আমাকে প্রস্তাবটা দিলেন সাত মিনিটের মাথায়। ওখানে এক্সপ্লোসিভ ক্রাইসিসটা খুব জটিল হয়ে গেছিলো তখন। সরেজমিনে না দেখলে এক্সপার্টদের ছবি দিয়ে বোঝানো সময়সাপেক্ষ বটে, আর সময়টা ইউএস গভর্নমেন্টের ছিল না। দেশপ্রেমে টইটম্বুর আমি তাকে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম সম্ভবত আলোচনা শুরুর সাড়ে আট মিনিট পার হওয়ার আগেই।”

    “দ্যাট’স ইট?” নীতুর চোয়াল ঝুলে পড়লো।

    “অবশ্যই। অনেক হিসাব নিকেশ করে যুদ্ধে যেতে যারা চায় তাদের কেউ আসলে যুদ্ধে যেতে পারে না। যুদ্ধ এমন একটা জিনিস, যেখানে যেতে হলে তোমাকে হুট করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মাসব্যাপী পরিকল্পনা করে সিভিলিয়ানের যুদ্ধ হয় না।”

    টেবিল ঘিরে থাকা অনেকেই মাথা দোলালো বিজ্ঞের মতো। যেন একেকজন কয়েকটা করে যুদ্ধে গেছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হোক আর রিকশাওয়ালা, এই দেশের সবাই যুদ্ধের প্রসঙ্গ আসলে মাথা এভাবেই দোলায়, বিজ্ঞের মতো। পূর্বপুরুষের যুদ্ধের গৌরব নিজেদের জীবনে এনে কল্পনা করে বীর হয়। অবশ্য পূর্বপুরুষের বিক্রম নিজের মনে করার প্রবণতাটা একেবারে অমূলক বলা যায় না, কোটার ব্যবস্থা যেহেতু নাতি-নাতনীর জন্যও রাখা হয়েছে।

    “বেতন হয়ে গেছিলো রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে যা পাচ্ছিলাম তার তিনগুণ, আপত্তি করার কিছু ছিল না। তার ওপর আছে দেশকে সেবা করার সুযোগ। বাংলাদেশে দেশের সেবা করার কনসেপ্টটা বেশি মধুর ছিল, সন্দেহ নেই। কিন্তু এই দেশে আমার সেবার মূল্যায়ন কেউ করেনি। ভার্সিটিতে পড়ার সময় আমি ড্রেনেজ সিস্টেম ক্লিন রাখার একটা ডিজাইন দিয়েছিলাম। ‘বাস্কেট–ড্রেনেজ সিস্টেম’ নাম দিয়েছলাম ওটার। খুব সহজ কনসেপ্ট, রাস্তা থেকে ফেলে দেওয়া জিনিস ড্রেনে পড়ে ভেসে চলে যায়। বর্ষাকালে ঠেলাটা আমরা বুঝতে পারি ঠিকঠাক। কিন্তু যদি কোনো জায়গায় ড্রেনে শক্ত ময়লা পড়লে সেটা ওখানেই একটা নেটে আটকে যেতো, আর তরলগুলো প্রবাহিত হতো সারা শহরজুড়ে একেবারে নিষ্কাশনের মুখ পর্যন্ত, তবেই কিন্তু আর চুইংগাম থেকে শুরু করে বোতল আটকে থাকে না ড্রেনের তলায়। ওগুলো আটকাবে সব নেট কিংবা বাস্কেটে। মাসে একবার নেট পরিস্কার করলেই খেল খতম। আর নেট পরিস্কার না করলেও কোনো সমস্যা নেই, পানির ফ্লো কখনোই আটকে যাবে না, কারণ সবগুলো সলিড ওয়েস্ট একজায়গায় জড়ো হতে পারছে না কিন্তু। এই মোড়ে দুই কেজি, ঐ মোড়ে তিন কেজি আটকে আছে নেটে, সামনের মোড়ে পাঁচ কেজি জমে ড্রেন আটকে যাচ্ছে না সেজন্যই। বুঝতে পারছো না কনসেপ্টটা?”

    মাথা দোলালো সবাই। দারুণ একটা আইডিয়া। এটা প্রয়োগ করা হলে নগরবাসির জীবনযাত্রা অনেকটা সহজ হয়ে আসবে।”পানির নিচে রাস্তা ভালো” সাইনবোর্ডের দরকার আর পড়বে না। পানিঘটিত সব সমস্যা এক নিমেষে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।

    “তৎকালীন সড়ক ও জনপথ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটা আইডিয়া কনটেস্ট হয়েছিলো আমাদের ক্যাম্পাসে সে বছর। ওখানে আমার ডিজাইনসহ আইডিয়াটা প্রেজেন্ট করে আমি ফার্স্টও হলাম। মন্ত্রীসাহেব অনেক ভালো ভালো কথা বলেছিলেন। এটা প্রয়োগের সব ব্যবস্থা করবেন ইত্যাদি। আমি এতো খুশি হয়েছিলাম! মনে হচ্ছিলো একটা সত্যিকারের কাজ করলাম প্রকৌশলী হিসেবে। মেকিং আ ডিফরেন্স। তারপর তো বোঝই, মন্ত্রণালয়ের দু’জন ইঞ্জিনিয়ার আমাকে বললেন এই ডিজাইন প্রয়োগ করা সম্ভব না। অনেক বেশি আনুসঙ্গিক কাজ—দুই বছর লাগবে প্রয়োগ করতেই। তাই তারা ওটা বাতিল করে দিলেন। আর আমার প্রাইজ মানি ছিল পাঁচ হাজার টাকা। আমি ওই খামটা নিয়ে এলাম তৎকালীন হেডের কাছ থেকে। খুলে দেখলাম ভেতরে আছে পাঁচশ টাকা। এই ছিল আমার দেশকে সেবা করতে চাওয়ার প্রতিদান। আর দুই বছরের ঝামেলা দেখিয়ে যে ওরা কাজ করলো না, ওই ঘটনার পর আঠারো বছর পার হয়েছে, ঢাকার রাস্তায় এখন বর্ষাকালে কি হয় আপনারা সবাই জানেন।”

    প্রফেসর রবিনের মুখটা এখন দেখাচ্ছে অত্যন্ত দুঃখি একজন মানুষের মতো।

    “বাংলাদেশে দেশসেবার মূল্যায়ন না হলেও আমেরিকায় হলো। দুই হাজার ছয়ের এপ্রিলে আমার সংক্ষিপ্ত কমব্যাট ট্রেনিং শেষ হলো। গাট্টিবোঁচকা নিয়ে চলে এলাম ইরাক। আহা, তখন দেশটাকে যদি দেখতে। প্রতিদিন একশ বোমা বিস্ফোরণ। আমার কিছু কাজ আমেরিকান সৈনিকদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে। কাউন্টার সিগন্যাল পাঠিয়ে ডেটোনেটরের অবস্থান ধরে ফেলার একটা মেকানিজম আমিই আবিষ্কার করি সেখানে। ওটাকে ডিভাইসে রূপ দেন আমার কলিগেরা। যাই হোক, ইরাকের দিনগুলো অনেক বেদনার, অনেক ভাই-ব্রাদার হারিয়েছি আমরা ওখানে। যোদ্ধাদের অনেকের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়েছিলো, বয়েস তখন মাত্র সাতাশ আমার, ওদের অনেকে আমার চেয়ে ছোটো, অনেকে বড়। তবে প্রতিবারই ওরা যখন টহলে বের হতো আমি জানতাম না আর ওই মুখগুলো দেখতে পাবো কি না। অনেক সময় পেতামও না। অস্টিন আর রজার ফ্রাই হয়ে গেলো মসুলে যখন পোস্টিং ছিল আমার। বাংলাদেশের নিরাপদ মাটিতে বসে যুদ্ধে হতাহত শুনে খুশি হতে খুব ভালো লাগে আপনাদের, কিন্তু ওই ছেলেগুলোর বেশিরভাগই হাসিখুশি নগরবাসি। বাবা ডাকপিয়ন, মা স্কুল শিক্ষিকা। সাধারণ ঘরের ছেলে সব। যাই হোক, নভেম্বর এলো।”

    বড় করে একটা দম নিলেন প্রফেসর রবিন, “আমি ২৩শে নভেম্বরের কথা মনে করতে চাই না। পরবর্তিতে জানতে পেরেছিলাম ওই একদিনেই ইরাকে ৩৬০টি আক্রমণ প্রতি-আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিলো। একদিনেই মারা গেছিলো ৩১৮ জন। আহতের সংখ্যা ইউএস আর্মির ভাষ্যমতে ৩৭৩ জন।” কাটাহাতের কনুইটা নড়ালেন তিনি, “আমি সেই ৩৭৩ জনের একজন।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রন্দসী প্রিয়া – কাসেম বিন আবুবাকার
    Next Article আর্সেন লুপাঁ ভার্সেস হার্লক শোমস
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }