Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রক্তঝরা নভেম্বর ১৯৭৫ – নির্মলেন্দু গুণ

    নির্মলেন্দু গুণ এক পাতা গল্প113 Mins Read0
    ⤷

    রক্তঝরা নভেম্বর ১৯৭৫ – ১

    ১

    আমার বড় ভাই ভারতের নাগরিক। পশ্চিমবাংলার শিল্পনগরী দুর্গাপুরে তিনি চাকরী করেন। ১৯৭১ সালে আমরা তাঁর কাছেই গিয়ে উঠেছিলাম। ডিসেম্বরে দেশ স্বাধীন হয়ে যাবার পর জয়-বাংলার শরণার্থীরা সবাই যখন দল বেঁধে ফিরতে শুরু করে, তখন আমরাও দেশে ফিরে আসার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হই। আমার বড় ভাই আমাদের দেশে ফিরে যাবার ব্যাপারটিকে আরও কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এখনই দেশে ফিরে যাওয়াটা ঠিক হবে না। কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা দরকার। আগে তো শেখ মুজিবর মুক্তি পাক। [আমি ১৯৬৯-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি রমনা রেসকোর্সের জনসভায় উপস্থিত ছিলাম—যেদিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পটভূমিতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া শেখ মুজিবকে পাঁচ লক্ষাধিক জনতার সামনে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তখন থেকেই আমি শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বলতাম কিন্তু আমার বাবা এবং আমার বড় ভাই বঙ্গবন্ধুকে সাধারণত মুজিবরই বলতেন। কখনও কখনও বলতেন শেখ মুজিবর।] মুজিবর দেশে ফিরুক। দেশটি তো এখনও নেতাশূন্য। দেশের মানুষ তোদের ঐ তাজউদ্দিন আর নজরুল ইসলামকে বেশিদিন মানবে না। মুজিবরের না ফিরা পর্যন্ত বাংলাদেশের অবস্থা স্বাভাবিক হবে না। মারামারি হানাহানি লেগে থাকবে। বলা যায় না, অচিরেই আবার হয়তো জয় বাংলা ছেড়ে তোদের পালাতেও হতে পারে।

    আমরা যদিও দেশে ফেরার জন্য খুবই ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলাম, দেশের জন্য আমাদের মন যদিও খুবই চঞ্চল হয়ে উঠেছিল, তথাপি আমার বড় ভাইয়ের অনুমোদন না পাওয়ার কারণেই আমাদের দেশে ফেরা বিলম্বিত হতে থাকে। নিজ পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর মুক্তিযুদ্ধের কারণে পারিবারিকভাবে মিলিত হতে পারার ব্যাপারটি আমার বড় ভাইয়ের মনে একটা নতুন আবেগের সৃষ্টি করেছিল। কোনো সন্দেহ নেই যে, দুর্গাপুরে আমাদের খাওয়া-থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তাঁকে বেশ কষ্ট করতে হচ্ছিল। তাই দ্রুত আমাদের শরণার্থীদশার অবসান হোক, এটি তিনি হয়তো আমাদের চাইতেও বেশি করেই চাইতেন। কিন্তু যখন সত্যি-সত্যি চোখের পলকে আমাদের দেশটি স্বাধীন হয়ে গেলো এবং আমরা আমাদের সাতপুরুষের ভিটা-বাড়িতে ফিরে আসার জন্য অস্থির হয়ে উঠলাম তখন আমার বড় ভাইয়ের মনে হয়তো আমাদেরকে আরও কিছুদিনের জন্য নিজের কাছে ধরে রাখার গোপন ইচ্ছাও কাজ করে থাকবে। হয়তো সেজন্যই তিনি আমাদের সামনে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ চিত্র সবসময়ই তুলে ধরছিলেন। মুজিবর ফিরে আসার পরও সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশটি মুক্ত হতে পারবে, তা তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আর মুজিবর যদি না ফিরেন, তবে তো কথাই নেই।

    কিন্তু নতুন বছরে, জানুয়ারির ১০ তারিখে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে লন্ডন-দিল্লী হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মাটিতে পা রাখেন, তখনই আমার বড় ভাইয়ের অনুমোদনক্রমে আমাদের পরিবার বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু যদি মুক্তি না পেতেন; যদি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরতে না পারতেন, -আমরা কি তাহলে ভারতেই থেকে যেতাম? আমার কথা ঠিক বলতে পারি না, তবে মনে হয় আমার পরিবারটি হয়তো থেকেই যেতো। অন্তত আমার বড় ভাই সেরকমটিই চাইতেন। দেশে ফেরার ব্যাপারে আমার বাবাও কিছুটা দ্বিধার মধ্যে ছিলেন। কবিতা লেখার কারণে, কবিতা লিখে দেশের মানুষের ভালোমন্দের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ার কারণে ব্যক্তিগতভাবে দেশের প্রতি আমার মনে যতটা দুর্বলতার সৃষ্টি হয়েছিল; আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে তা ছিল না। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকাতে এবং স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের ব্যবধানে পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসাতে, অন্যদের কথা জানি না, আমাদের পরিবারটি খুবই লাভবান হয়। ১৯৭১ সালে হিন্দুদের মধ্যে যারা শরণার্থী হয়েছিলেন, তাদের বেশ কিছু ভারতে থেকে যান। দশই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে না এলে আমাদেরও হয়তো ভারতেই স্থান হতো। ঢাকার টানে কিছুদিনের জন্য দেশে ফিরে এলেও, পরিবারের আপনজনদের টানে আমাকেও হয়তো এক-পর্যায়ে ভারতেই চলে যেতে হতো। চলে যেতে যে হয়নি, তাকে আমি আমার সৌভাগ্য বলেই মানি।

    বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর স্থির হয়, আমরা দুই পর্যায়ে ভারত ত্যাগ করবো। আমি দেশে ফিরে এসে দেশের অবস্থা জানিয়ে দুর্গাপুরে চিঠি লিখব, তারপর আমার পরিবার দেশে ফেরার ব্যাপারটি চূড়ান্ত করবে। তার আগে নয়। ঐরূপ পারিবারিক সিদ্ধান্তের জটিলতার কারণেই বহু প্রত্যাশিত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। আমি বিজয় দেখিনি

    আমি যুদ্ধজয়ের একমাস পর, পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা ফিরি। ঢাকা ফিরে এসে আমি উঠেছিলাম মগবাজারের মুক্তিযোদ্ধা হেলালের বাসায়। হেলালের সঙ্গে নাট্যকার মামুনুর রশীদের মাধ্যমে আমার পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়েছিল ১৯৬৭ সালের দিকে। আমরা মগবাজারের ক্যাফে তাজ-এ অনেকদিন একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছি। পরে একাত্তরে হেলাল মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় এবং কলকাতায় আবার কিছুদিন আমাদের একসঙ্গে থাকার সুযোগ হয়। দীর্ঘদিন পরবাসে কাটিয়ে আমার প্রিয় নগরীতে ফিরে এসে আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে যখন আমি মনে মনে একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর সন্ধান করছিলাম, তখন আমার কেন জানি হেলালের কথাই মনে পড়লো। হেলালের বাসায় দু’দিন থাকার পর আমি সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে গিয়ে উঠি। সেখানে থাকার জন্য ছাত্রনেতা আসম আবদুর রব এবং হলের ভিপি জিনাত আলী আমাকে ঐ হলের একটি রুম ছেড়ে দিয়েছিলেন।

    কয়েকদিন ঢাকায় কাটিয়ে আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাই। আমার গ্রামের এবং এলাকার মানুষ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আমাকে গ্রহণ করে। আমাদের ফেলে যাওয়া বাড়িঘরও মোটামুটি বাসযোগ্যরূপেই পাওয়া যায়। পাকসেনাদের আগমন সংবাদের প্রচারিত শংকার ভিতরে, স্থানীয় আত্মসম্মানবঞ্চিত লোভী-মুসলমানদের মধ্যে যারা আমাদের বাড়িঘর লুটপাট করেছিল, তারা এসে রাতের অন্ধকারে আমার সঙ্গে দেখা করে এবং কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা খুবই কাতরকণ্ঠে জানায়, আমি যদি তাদের না রক্ষা করি তাহলে মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা তাদের মেরে ফেলবে। এখন তো বটেই, যৌবনেও আমি ছিলাম খুবই নরম মনের মানুষ। আমি তাদের ক্ষমা করে দিই। ফলে ওদের সঙ্গে অচিরেই আমার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি তখন ‘বাংলাদেশ বাসযোগ্য’ বলে দুর্গাপুরে রিপোর্ট পাঠাই। আমার কাছ থেকে ইতিবাচক রিপোর্ট পেয়ে আমার পরিবারের অন্য সদস্যরাও শরণার্থী জীবনের ইতি ঘটিয়ে, দেশে ফিরে এসে নতুন করে বসতি স্থাপন করে।

    বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বাংলার মাটি থেকে অভাবিত দ্রুততার সঙ্গে প্রত্যাহার করতে রাজি হলে, আমার বাবা একটু ভড়কে যান। শুধু বঙ্গবন্ধু বা আওয়ামী লীগই তো বিবেচ্য নয়; মুসলিম লীগার, আলবদর-রাজাকার এবং অতিবিপ্লবী চৈনিক-পরিবৃত বাংলাদেশের মাটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপস্থিতির বিষয়টিও আমাদের দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটিকে প্রভাবিত করেছিল। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাংলার মাটি থেকে ভারতীয় সৈন্য সরিয়ে নেবার সংবাদে আমার বাবা কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েন। ভারতীয় সেনাদের সহায়তা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা দেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে বলে আমার বাবা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি মনে করতেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও কিছুদিন বাংলাদেশে রাখা দরকার। আমি ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ভারতীয় সৈন্যদের বিদায়ী অনুষ্ঠানটি দেখেছিলাম এবং ভিড় ঠেলে ইষ্টার্ন কমান্ডের জিওসি লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সঙ্গে করমর্দন করেছিলাম। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন সদস্যকে কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানোর বাসনা আমার মাধ্যমে পূর্ণ হওয়ার সংবাদে আমার বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন

    আমার এক পিসতুতো ভাই পি. সি. সোম ছিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর হয়ে গভর্নর হাউস এবং ঢাকা সেনানিবাসে পরিচালিত বিমান হামলায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আমার আরও একজন কাকা ছিলেন। আমার বাবার আপন মামাত ভাই। তাঁর নাম কর্নেল বি. সি. দত্ত। ১৯৭১ সালে শিলিগুড়ি ক্যান্টনমেন্টে তিনি কর্মরত ছিলেন। তিনিও মিত্রবাহিনীর হয়ে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। আমি নিজে অস্ত্রহাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিইনি, আমার সেরকম সাহস ছিল না; কিন্তু আমার ঐ দু’জন নিকট-আত্মীয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বলে আমি মনে মনে কিছুটা স্বস্তিবোধ করতাম। ভাবতাম, আমার বাবা ও তাঁর পরিবারের অনিচ্ছার মধ্যে যেমন পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল,—বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি আমাদের কাছে সেরকম নয়; এই দেশটি, আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রবল ইচ্ছার মধ্যে; ত্যাগ, কষ্ট ও স্বপ্নের মধ্যে জন্ম নিয়েছে। খুব সরাসরি না হলেও, ভারতের মাধ্যমে আমার নিকটজনরাও এসে ঘটনাচক্রে যুক্ত হয়েছেন এই দেশ-জন্মের প্রক্রিয়ায়। সুতরাং এই দেশটির ওপর আমার অধিকার প্রশ্নাতীতভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতঃপর এই দেশে আমার থাকা না-থাকার ব্যাপারটি বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা না-থাকার ওপর নির্ভর করে না। পৃথিবীর মানচিত্রে এই দেশটি যদি টিকে থাকে, তার শাসক যারাই হোক না কেন, আমি তাতে থাকবো। এ আমার অধিকার। শ্রী অন্নদাশংকরের ভাষায় বলা যায়—’যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান…’ ততদিন। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্যতম রাষ্ট্রনীতি হিসেবে ঘোষণা করে এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী (তা বাঙালি বা বাংলাদেশী যাই বলি না কেন) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐ ন্যায়নিষ্ঠ বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়েছিলেন।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার পর, আমার মধ্যে যে তীব্র ভীতি, প্রচণ্ড ঘৃণাবোধ ও উৎকণ্ঠামিশ্রিত আবেগের সৃষ্টি হয়েছিল; —তার অন্তরালের মনস্তাত্বিক পটভূমি উপরে কিছুটা বর্ণিত হলো। বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে আমার মনে পড়ে যায় আমার বড় ভাইয়ের কথা। আমি ভাবতে বসি, তবে কি আবার আমাকে ভারতে চলে যেতে হবে? দেশটা কী আবার পাকিস্তানে পরিণত হবে? ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের ভিতরে ফুটে ওঠা অভাবিত নির্মমতার দিকটির কথা ভেবে আমি খুবই বিচলিত ও অসহায় বোধ করি। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, হত্যাকারীদের মনে ঘৃণার এই যে জোর—তারা কোথা থেকে তা পেলো? প্রতিহিংসাপরায়ণতার এই যে উচ্চমাত্রা—তা কী কেবলই মুহূর্তের মতিভ্রম? আমার বিশ্বাস হয় না। বিপুল সংখ্যক মুসলমানের বাসভূমি হলেও, এক শ্রেণীর মুসলমানের কাছে চিরশত্রুরূপে গণ্য হিন্দুস্থানের সহায়তার ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তানকে ভেঙে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গঠন করার অপরাধই ঐরূপ দুর্মর ঘৃণার জাতক ছিল বলে আমার মনে হয়।

    মনে পড়ে, আমার ঐ সময়ের অসহায়ত্ববোধের সঙ্গে এক ধরণের অপরাধবোধও এসে যুক্ত হয়েছিল। ঐ অপরাধবোধটা ছিল, কবি আল মাহমুদের সম্পাদনায় প্রকাশিত গণকণ্ঠ পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করার কারণে। আমি সরল বিশ্বাসে আমার প্রতিষ্ঠানবিরোধী চরিত্রের কারণে যে কাগজটিতে যোগ দিয়েছিলাম— পরবর্তীকালে ঐ কাগজটি জাসদের মুখপত্রে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে ঐ পত্রিকাটি যে ভূমিকা রেখেছিল, আমিও সেখানে দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলাম। সেকথা ভেবে আমার অনুশোচনা হয়। আমি নিজেকে অপরাধী বলে ভাবতে থাকি। বিশ্বাসঘাতক এই নগরীটিকে আমার আর বাসযোগ্য বলে মনে হয় না। আমি স্থির করি, এই নগরীতে আর নয়। আমি অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাই।

    কিছুদিনের মধ্যেই কাদের সিদ্দিকী ভারতে পালিয়ে গিয়ে কাদের বাহিনী গঠন করে। গ্রামে যাবার কিছুদিনের মধ্যেই কাদের বাহিনী গঠনের সংবাদ আমার কানে আসে। আমাদের এলাকার বিশেষ করে হিন্দু ছেলেরা বিপুল সংখ্যায় ঐ কাদের বাহিনীতে যোগ দিতে থাকে। রক্ষীবাহিনীর একজন লীডার কলমাকান্দার সুকুমার সরকারও কাদের বাহিনীতে যোগ দেয়। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা এবং মোহনগঞ্জে এসে কাদের বাহিনীর সদস্যরা থানা ও হাট-বাজারে হামলা চালাতে শুরু করে। কিন্তু ঐসব হামলার জোর এবং ভবিষ্যৎ ছিল খুবই অনিশ্চিত। কেননা ঐরূপ কাজে সিদ্ধি লাভ করার জন্য যেরকম বিপুল সংখ্যায় দেশত্যাগের দরকার ছিল এবং সাহায্যকারী দেশটির যেরূপ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন ছিল-ভারতের তৎকালীন সরকারের তা ছিল না। ফলে, ঐসব সম্ভাবনাহীন আক্রমণ দারোগা-পুলিশ অপহরণ এবং থানার অস্ত্র লুট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। মাঝখান থেকে যাদের বাড়ি ঘর আশ্রয় নিয়ে ঐসব হামলা চালানো হচ্ছিল, কাদের বাহিনীর সদস্যদের চলে যাবার পর তারা খুবই বিপদের মধ্যে পড়ে যায়। আমার একজন মামা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ডাক্তার মতিলাল চৌধুরী (মোহনগঞ্জ থানার খলাপাড়া গ্রামে) কাদের বাহিনীর সদস্যদের আশ্রয় দানের অপরাধে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এবং তাঁর পরিবারটি পুলিশি নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয়। পরে মামলায় আমার মামা মতিলাল চৌধুরী এবং উনার এক ভাতিজা তুষারকে প্রায় বছর দশেক জেল খাটতে হয়েছিল।

    মানসিক ভারসাম্য হারানো অবস্থায় আমি ঢাকা ত্যাগ করে গ্রামে ফিরে গিয়েছিলাম, গ্রামের নির্জনতা ও রাজনীতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে পাবার আশায়। কাদের বাহিনীর থানা আক্রমণ ও আক্রমণের সঙ্গে আমার মামার জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার সংবাদ শুনে আমি কিছুটা উন্মাদের মতোই আমার পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে দিনাতিপাত করতে থাকি 1 ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে আমার তরুণ কবি-বন্ধু গোলাম সাবদার সিদ্দিকী হঠাৎ একদিন আমার গ্রামে হাজির হয়। ওর আগমনে আমার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয়। ওর অতিবিপ্লবী নকশালমার্কা কথাবার্তা আমার খুবই অপছন্দ ছিলো। ফলে তাকে আমি বেশিদিন আমার বাড়িতে থাকতে দিই না।

    আমি গ্রামে ফিরে গিয়েই শুনতে পেয়েছিলাম, আমাদের গ্রামের মুসলেমউদ্দিন নামে একজন সরকারি কর্মচারী, মেজর ডালিমের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদটি রেডিওতে প্রচারিত হতে শুনে আনন্দে এমনই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে, তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেন নি। ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের বড় সড়ক ধরে তিনি খালি গায়ে, মাথায় গামছা বেঁধে দৌড়াতে শুরু করেন এবং চিৎকার করে বলতে থাকেন— ‘ভাইসব, আর চিন্তা নাই, ‘হিন্দুর বাপ’ শেখ মুজিবুর শেষ। আপনেরা সব বাইরইয়া আসেন।’ ঐ চিত্রকল্পটি কল্পনায় অনুভব করে আমার হাসিও পায় আবার রাগে দুঃখে, অক্ষম-যাতনায় মনে কষ্টও পাই। (এখানে মুসলেমউদ্দিন নামটি খুবই লক্ষণীয়। এমন মিল কী করে যে হলো!)

    মুসলেমউদ্দিনের ‘হিন্দুর বাপ’ কথাটা আমার খুবই মনে লাগে। আমি ভাবি, শেখ মুজিব কি ছিলেন শুধুই হিন্দুদের বাবা? মুসলমানদের কেউ নন তিনি? অথচ হিন্দুদের জন্য সত্যিকার অর্থে তেমন কিছুই তো তিনি করে যাননি। তিনি না একাত্তরে, পাক বাহিনীর ভেঙে ফেলা রমনা কালীমন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করেছেন, না তিনি ১৯৬৫-র পাক-ভারত যুদ্ধের পটভূমিতে ঘোষিত শত্রুসম্পত্তি আইনটি রদ করেছেন। না তিনি বৈষম্যমূলক সরকারি নীতির কারণে, চাকরি-বাকরির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া হিন্দুদের বিশেষ কোনো সুবিধা দিয়ে মুসলমানদের পাশাপাশি এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। তাহলে? শেখ মুজিব ‘হিন্দুদের বাপ’ হবেন কেন? কথাটা তো মোটেও সত্য নয়। তবুও তো বলা হলো। কেন বলা হলো? আমি ভাবতে বসি।

    যদিও এইরকমের একটি অসৎ-প্রশ্নের কোনো সদুত্তর হয় না, তবু অনুমান করতে পারি সম্ভাব্য কারণ। তিনি কারও কারও কাছে হিন্দুদের বাপ বলে প্রতিভাত হয়েছেন :

    ১. হিন্দুস্তানের সহায়তায় পাকিস্তান ভাঙার জন্য।

    ২. বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্য।

    ৩. রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রীতির কারণে।

    ৪. ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ গ্রহণের জন্য।

    মুসলেমউদ্দিনের মাথায় গামছা-বাঁধা দৌড়ের ঘটনাটি শোনার পর আমার কৃতজ্ঞ কবিচিত্ত এই সিদ্ধান্তে উপণীত হয় যে, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমি কবিতা লিখবো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও তাঁর কথা আমি প্রচার করবো। সংখ্যালঘুর সমানাধিকারকে নিশ্চিত করার জন্য যিনি জীবন দান করে গেছেন, একজন সংখ্যালঘুর সন্তান হিসেবেই এ আমার পবিত্র কর্তব্য। তাঁর হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পরে কয়েকটি প্রতীকী কবিতা আমি রচনা করেছিলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম আর প্রতীকী কবিতা নয়, এবার সরাসরি লিখবো।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন পিয়াসা – অনুবাদ : নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article নির্মলেন্দু গুণের কবিতা

    Related Articles

    নির্মলেন্দু গুণ

    নির্মলেন্দু গুণের কবিতা

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }