Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রক্তঝরা নভেম্বর ১৯৭৫ – নির্মলেন্দু গুণ

    নির্মলেন্দু গুণ এক পাতা গল্প113 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রক্তঝরা নভেম্বর ১৯৭৫ – ৬

    ৬

    ৩ নভেম্বরের ভোর থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যরাত পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন থেকেও খালেদ মোশাররফ যে তাঁর প্রতিপক্ষকে মুহূর্তের জন্যও কীট-পতঙ্গের দৃষ্টিতে দেখেননি, এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ বিচারে খুব বড়মাপের একটি বিষয় ছিল। ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ার পর, কোনো সামরিক অফিসার ইতোপূর্বে প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন মানবিক আচরণ করেছেন বলে মনে পড়ে না। এটি অবশ্যই খুব বড় একটি ঘটনা। হয়তো ঐ রকমের বড় মাপের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গিয়েই খালেদ ব্যর্থ হয়েছেন। যে দেশে ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরের জেল-হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী শক্তিটি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, সেই দেশে কোনো রক্তপাতহীন সামরিক অভিযানের পক্ষে জয়ী হওয়া কখনই সম্ভব ছিল না, এবং উচিতও নয়। খালেদ মোশাররফের মতো আপাত-ব্যর্থ একজন সমরনায়কের প্রাধান্য দিতে চাইবো। বলবো, ব্যাটা নিজে তো মরেছেই, আমাদেরকেও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে গেছে। বলবো, কী দরকার ছিল ঐরকমের একটি ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো শান্তিবাদী-অভ্যুত্থান ঘটানোর?

    একসময় খালেদকে নিয়ে আমি নিজেও এরকমই ভেবেছি। ভেবেছি, এই খালেদের জন্যই আজ আমার এই দুর্ভোগ। পরে মানুষের ঘুমিয়ে পড়ার কারণে রাত যখন খুব গভীর হয়ে আসে, যখন খুব ঘনঅন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পৃথিবী, যখন এই মরপৃথিবীর কোনো-কোনো মানুষের চোখে আলো এসে পড়ে অনেক দূরের কোনো গ্রহ থেকে; -যখন আমার দেহ মৃত্যুকে গ্রহণ করার জন্য বীরের মতো প্রস্তুত হয়, তখন হঠাৎ মনে হয় যে-কোনো মূল্যে নিজ-জীবনকে রক্ষা করার চেয়েও জগৎ-সংসারে এমন কিছু বড় বিষয়ও আছে, যার কাছে জীবনের মতো একটি বড় জিনিসকেও খুবই তুচ্ছ বলে মনে হয়। তাইতো হাসি মুখে জীবনদানের ঘটনা পৃথিবীতে খুব একটা কম ঘটেনি। আমাদের দেশেও অমন ঘটনা অনেক ঘটেছে। আমি নিজে ভীতু বলেই খালেদকে দুষেছি। আত্মস্বার্থে আমার দৃষ্টি অন্ধ থাকার কারণে আমি তাঁর রক্তপাতহীন ব্যর্থ- অভ্যুত্থানে সৌন্দর্যকে দেখতে পাইনি।

    সেদিন রমনা হাজতে পুরোপুরি না কাটালেও, আজ ২১ বছর পর ঐসব দিনের কথা লিখতে বসে অনুভব করছি, এখন আমার চোখের ছানি অনেকটাই কেটেছে। তাই এতদিন পর আজ খালেদের বীরত্ব এমন করে আমার চোখে পড়লো। ৭২ ঘণ্টা ক্ষমতায় থেকেও খালেদের হাতে এক ফোঁটা রক্তও যে ঝরেনি; তাঁর উন্মত্ত হিংসার আগুনে তাঁর প্রতিপক্ষ যে কীটপতঙ্গের মতো ভষ্মীভূত হয়নি— এখানেই তিনি বড়। সবসময় বৈষয়িকভাবে জয়ী হওয়াটাই বড় কথা নয়। খালেদ হয়তো অন্যায়ের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে রাতভর সুবাস ছড়িয়ে, কুয়াশাঢাকা ভোরে শীতের শেফালির মতো ঝরে যাওয়াটাকেও মূল্যবান বলেই মনে করেছিলেন। সামান্য সময়ের পরিচয়ে, কবিতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খালেদ আমাকে বলেছিলেন, তিনি কবিতা ভালোবাসেন। হয়তো কবির মতোই ভেবেছিলেন তিনি, ‘যদি মরে যাই ফুল হয়ে যেন ঝরে যাই।’

    খালেদ ঐ অভ্যুত্থানে জয়ী হননি বলেই, তিনি ব্যর্থ, এমন চিন্তাকে আমি আজ আর সমর্থন করবো না। আমি বলবো, প্রতিপক্ষকে পতঙ্গের মতো নিধন করে জয়ী হওয়ার রাজনৈতিক ধারণাটিকেই তিনি তাঁর ঐ ব্যর্থ-অভ্যুত্থানের ভিতর দিয়ে চ্যালেঞ্জ করে গেছেন। তিনি এমন এক উচ্চতর মানবিক ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন যে, শত্রু হলেও মানুষ মানুষই। কোনো অবস্থাতেই মানুষ কীট-পতঙ্গ নয়। শত্রুকেও কীট-পতঙ্গের মতো (১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর-এ যেমন ঘটেছে) হত্যা করাটা অন্যায়। জয়ী হওয়ার জন্য খালেদ এমন কাজ করেননি।

    তাই, খালেদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে আগামী দিনের ইতিহাসবেত্তারা নির্দ্বিধায় এমন দাবি করতে পারবেন যে, খালেদ ছিলেন আপাদমস্তক মানবিক। খালেদের প্রতিপক্ষ ছিল বর্বর, নিষ্ঠুর এবং অমানবিক। মানবিকতার চর্চা করতে গিয়ে খালেদ তাঁর জীবন দিয়েছেন বটে, কিন্তু তার এ জীবনদান ব্যর্থ হয়নি। এই মূল্যবান সত্যটি তিনি প্রমাণ করে যেতে পেরেছেন যে, ১৯৭১ সালে তিনি বর্বরতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। বর্বরতার পক্ষে নয়। অনেকেই তা পারেনি। তারা সাময়িকভাবে জয়ী হলেও, শেষ-বিচারে তারা পরাজিত হয়েছেন। শুধু মানবিক ইতিহাসের বিচারেই নয়, রোজ হাসরের দিনে, মনে করি তা সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিচারেও সত্য বলেই গণ্য হবে। খালেদ কাউকে খুন করেননি। এটা আমাদের অনেকের চোখ এড়িয়ে যাওয়া খুব বড় একটা ঘটনা।

    রমনা হাজতে; পাকা মেঝের ওপর হাত দুটোকে বালিশ বানিয়ে তার ওপরে শুয়ে শুয়ে আমি আমাদের রক্তাক্ত ইতিহাসের পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। আমি যে কেন এমনভাবে এ-দেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লাম। আমি কি চাইলে অন্যরকম কবিতাও লিখতে পারতাম না? জীবনানন্দের মতো। হাসান যেমন লেখে। পারতাম। কিন্তু আমি যে কেন সুকান্তের মতো এতো স্পষ্ট করে রাজনৈতিক বিষয়নির্ভর কবিতা লিখতে গেলাম? আমার বাবার কথা খুব মনে পড়লো। তিনি আমাকে ঢাকায় আসতে দিতে চাননি। আমার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা কী কষ্টটাই না পাবেন। তাকেসহ আমার পুরো পরিবারটিকে এভাবে কষ্ট দেয়াটা কি আমার উচিৎ হলো? আমাকে ১৯৭১-এ ভারত থেকে যিনি বাংলাদেশে ফিরতে দিতে আগ্রহী ছিলেন না— আমার সেই বড় ভাই যখন জানবে আমি নেই, তখন? ভুল হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আমি বেঁচে যাবো, এমন ভাবনা আমার মনে তখন একেবারেই আসছিল না।

    আমার প্রিয় পরমায়ুকে প্রসারিত করে দিয়ে একটি নিদ্রাহীন রজনীর অবসান হয়। পাখির কিচির-মিচির শব্দে মগবাজারে, রমনা থানার হাজতে ভোর আসে। আর কাক ডাকা ভোরের দিকে আমাদের হাজত- ঘরটি পরিষ্কার করার জন্য একজন মেথরের আগমন ঘটে। তার নামটি আজ আর মনে নেই আমার। তখন জেনেছিলাম। আমি তার সঙ্গে কথা বলে তাকে একটা কাজ দিই। বলি, এই ঠিকানাটা তুমি তোমার কাছে রাখো।

    ঐ ঠিকানায় আমার এক বন্ধু থাকেন। উনার নাম মহাদেব সাহা। তুমি তার কাছে গিয়ে আমার কথা বলবে। বলবে আমি আমাকে ধরে এখানে রেখে গেছে। তিনি তোমাকে যাতায়াত ভাড়া ছাড়াও কিছু টাকা বখশিস দেবেন। আমার কাছে বেশি টাকা নেই। এই টাকাটা রাখো। বলে তার হাতে পাঁচ টাকার একটা নোট গুঁজে দিই। বলি, পারবে তো? আমার চিরকুটটি লুকিয়ে কোমরের ভাঁজে গুঁজতে লোকটি বললো, খুব পারবো। আপনি কিচ্ছু চিন্তা করবেন না, বাবু।

    লোকটি আমার চিরকুট নিয়ে বেরিয়ে গেলে আমার মনে একটু স্বস্তি ফিরে আসে এই ভেবে যে, অতঃপর মহাদেব আমার খবর জানতে পারবে। বাসায় না ফিরে যাওয়াতে মহাদেব ও নীলা নিশ্চয়ই আমার দুর্ঘটনার কথা আঁচ করতে পেরেছে। এতক্ষণ আমি ছিলাম আমার প্রিয়- পরিচিতজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন। ভাবলাম, এই চিরকুটটি আমাকে আমার প্রিয়জনদের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করবে। (ঐ লোকটি ঐ চিরকুট যথাসময় মহাদেবের বাসায় পৌঁছে দিয়েছিল এবং নীলার কাছ থেকে সংবাদ পৌঁছে দেবার বখশিস হিসেবে একটি পঞ্চাশ টাকা নোট আদায় করেছিল বলে নীলা সম্প্রতি দাবি করেছে।)

    সকালে হাজতিদের সবাইকে তন্দুর রুটি আর লাউ ভাজি খেতে দেয়া হয়। সকলের সঙ্গে মিলে আমিও তাই খেলাম। পেটের ভালোমন্দের কথা ভেবে আর লাভ নেই। দেহই যদি না থাকে, তো পেট ভালো রেখে আর লাভ কি? হাইকোর্টের মাস্তান-বন্ধুদের কারণে হাজতে সিগারেটের অভাব ছিল না। বিশেষ ব্যবস্থায়, দারোগা সাহেবের নির্দেশে একটু চা-ও দেয়া হলো আমাকে।

    এরই মধ্যে মহাদেব এসে থানায় হাজির। মহাদেবকে খুবই বিধ্বস্ত দেখায়। বুঝতে পারি রাতভর আমার মতই মহাদেবের ওপর দিয়েও একটা বড়রকমের ঝড় বয়ে গেছে। আমাকে সপ্রাণ দেখতে পেয়ে, মহাদেব খুবই স্বস্তিবোধ করলো। মহাদেবকে দেখে আমিও হালে পানি পাই। বলি, দোস্ত, আমাকে যত তাড়াতাড়ি পারো এই নরক থেকে উদ্ধার করো। সারারাত কী টেনশনের মধ্যেই না কাটিয়েছি। থানা- হাজত-কারাগার কখনও কবির বাসস্থান হতে পারে না।

    কিন্তু কী করা যায়, তা মহাদেবও যেমন ভেবে পাচ্ছিল না— আমিও তেমনি ভেবে পাচ্ছিলাম না। কাকে বললে কাজ হবে, কাকে বলা দরকার, কিছুই ঠিক মতো ভাবতে পরছিলাম না। পরে দুজনের মিলিত পরামর্শ অনুযায়ী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং দৈনিক বাংলায় কবিদের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে মহাদেব বিদায় নেয়।

    সকাল দশটার দিকে শুরু হয় হাজতিদের কোর্টে নিয়ে যাবার আয়োজন। নিয়ম হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যোই হাজতিদের হাজির করতে হয়। সেখান থেকে কেউ খালাস হয়ে যায়, কেউ যায় কেন্দ্রীয় কারাগারে, কেউ আবার পুলিশ রিমাণ্ডে থানায় ফিরে আসে। আমি ভেবেছিলাম, আমাকে কোর্টে নেয়া হবে না। পরে যখন বুঝলাম আমাকেও কোর্টে নেয়া হবে তখন ভাবলাম, অন্য সব কম-গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের যেভাবে কোমরে দড়ি দিয়ে লট বাঁধা হচ্ছে, আমাকে সেরকম করে বাঁধা হবে না। আমি আর্মির হাতে ধড়া পড়া লোক। তা ছাড়া আমি একজন কবি। আমার একটা পৃথক মর্যাদা আছে। কিন্তু না, কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি রশিতে আমাকেও কোমর পেঁচিয়ে শক্ত করে বাঁধা হলো। হাতে ঐ বিখ্যাত হ্যাণ্ডকাপ, খুব ছোটবেলা থেকে নাটকে-সিনেমায় যেগুলো দেখে আসছি। কোনোদিন হাতে ছুঁয়ে দেখিনি। আজ যখন আমার নিজের হাতেই আক্ষরিক অর্থে শোভা পেলো, তখন আর না দেখে কী চলে? আমার দুই হাত একসঙ্গে বাঁধা। এক ধরনের থ্রিল অনুভব করলাম তাতে। আজ একটু ছেলেখেলার মতোই লাগে ঐদিনটির কথা ভাবতে কিন্তু ঐ দিন ঐ হ্যাণ্ডকাপগুলো নকল নয়, সত্যিকারের হ্যাণ্ডকাপই ছিল

    কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের সবাইকে পুলিশ-ভ্যানে তোলা হলো। বিরাট ভ্যান। উপরের দিকে জালি কাটা। তাতে চোখ লাগিয়ে বাইরের লোকজনদের চলাচল দেখা যায়। আমরা সবাই ঐ জালিপথে চোখ রেখে বাইরের আকাশ-বাতাস, লোকজন, গাড়ি রিকশা ও ঢাকার ব্যস্ত রাজপথ দেখতে-দেখতে চললাম পুরনো ঢাকায়, কোর্টে

    কোর্টে যাবার পর নিয়মমতো আসামিদের ছবি তোলার জন্য একটি নির্জন কক্ষে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো। আমিও গেলাম। সেখানে একজন একজন করে আসামির ছবি তোলা হচ্ছে। একসময় আমার ছবিও তোলা হলো। যিনি ছবি তুলছিলেন, তিনি আমাকে মুখটা সোজা আমি করে দেবার ছল করে আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন, আপনাকে চিনি। আমি বাংলা একাডেমীতে আপনার কবিতা আবৃত্তি শুনেছি। আপনার এই ছবির একটি কপি আমি আমার কাছে রেখে দেবো। পরে আপনাকে দেবো। আমার শুনে খুব ভালো লাগলো। বললাম, যদি বাঁচি তবে তো। আমাকে ওরা কোথায় নিয়ে যাবে, আপনি কি কিছু অনুমান করতে পারেন?

    তিনি আমার সঙ্গে বেশি কথা বলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। পুলিশ তাকে তাড়া দিচ্ছিল। তিনি দ্রুত ক্লিক ক্লিক করে পরপর আমার দুটো ছবি তুললেন। যাবার সময় আমি ঐ আলোকচিত্রশিল্পীকে বললাম, ভাই, আমি যদি আর না থাকি, তবে আমার এই শেষ-ছবিটা আপনি আমার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবেন। কবি মহাদেব সাহার কাছে পৌঁছে দিলেও চলবে। তিনি বললেন, আপনি ভাববেন না। আমি যতটা পারি মানুষজনকে আপনার খবর জানিয়ে দেবো।

    ছবি তোলার পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো একজন হাকিমের এজলাশে। সেখানে পুলিশ আমাকে তিন দিনের রিমাণ্ড চাইলে, মাননীয় হাকিম পুলিশের দাবি মেনে নিয়ে আমাকে রমনা থানার হাজতে ফিরে যাবার নির্দেশ দিলেন। তিনি আমাকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলেনও না। আমি ভাবছিলাম, আমাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠালেই ভালো হয়। তাতে আর্মি এসে আমাকে সহজে নিয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু তা আর হলো না। আমি একটা বড় রকমের মারের অপেক্ষা নিয়ে রমনা থানায় ফিরে গেলাম।

    ১১ তারিখের রাতে একজন অপরিচিত যুবক আমার আর্মির হাতে এ্যারেষ্ট হওয়ার খবরটি মহাদেবের বাসায় পৌঁছে দিয়েছিল। মহাদেব তখন বাসায় ছিল না। সে গিয়েছিল পিজিতে। হাসানের কাছে। হাসানের কাছ থেকে বাসায় ফিরে এসেই মহাদেব নীলার কাছে আমার আর্মির হাতে এ্যারেস্টের খবরটি পায়। নীলার কাছে শুনেছি, মহাদেব ঐ খবর পেয়ে ছোটদের মতোই অঝোরে কাঁদতে শুরু করেছিল। মহাদেব, মনে হয় ঐ রাতেই আমার জন্য বরাদ্দ ওর কান্নাটুকু কেঁদে শেষ করে ফেলে থাকবে। তখন দশটার পর ঢাকায় কার্য্য শুরু হয়ে যেতো। হাতে ঘণ্টাখানেকের চেয়ে কম সময়। এর মধ্যেই মহাদেব বাইরে বেরুবার জন্য যখন তৈরি হলো, তখন মহাদেবকে বিরত করতে না পেরে ওর বাসার মালিকের (ক্যাপ্টেন রব সাহেব, তিনি একজন মুসলিম লীগার ছিলেন) ছেলে হাবিব মহাদেবের নিরাপত্তার কথা ভেবে তার সাথে যায়। ঐ রাতেই মহাদেব আমাদের কবি-বন্ধুদের দু’একজনের বাসায় গিয়ে আমার বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাওয়া যায় না। আমার খবর পেয়ে তারা খুবই ভয় পেয়ে যায়। ভাবে, আমার কেসটি নিয়ে মুভ করতে গেলে হয়তো নিজেদেরই বিপদ হতে পারে। আমি এজন্য আমার বন্ধুদের খুব একটা দোষ দিই না, কেননা, তখনকার পরিস্থিতিটা আজকের দিনের আলোকে ঠিক বোঝা যাবে না। মহাদেব কার্য্যর মধ্যে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে বাসায় ফিরে আসে মহাদেব ভেবেছিল, রাতের মধ্যে যদি আমাকে প্রয়োজনীয় প্রোটেকশন দেয়া না যায়, তবে হয়তো আর সময় না-ও পাওয়া যেতে পারে। তাই সে খুবই বিচলিত হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো কার্য্যর মধ্যেই বেরিয়ে পড়েছিল- কিছু একটা করার আশায়। কিন্তু পারেনি। আমি বুঝতে পারি, ঐ কিছু করতে না পারার ব্যথা মহাদেবকে কতটা কষ্ট দিয়েছিল সেদিন।

    পরদিন তরুণ কবি মোস্তফা মীর এবং আমার ছোট ভাই শৈবালেন্দু (তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো) লোকমুখে ছড়িয়ে-পড়া আমার গ্রেফতার হওয়ার খবর পেয়ে মহাদেবের বাসায় আসে এবং মহাদেবের সঙ্গে এসে যুক্ত হয়। তাতে মহাদেব এবং আমার বল বাড়ে। মহাদেব তরুণ কবি মোস্তফা মীর ও আমার ছোট ভাই শৈবালেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে মুক্ত করার জন্য সাহায্য চাইতে দৈনিক বাংলায় যায়। সেখানে আমাদের বড়-কবি ও বড়-সাংবাদিক কাজ করেন। কবি শামসুর রাহমান, কবি আহসান হাবীব, কবি মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, সাংবাদিক আহমেদ হুমায়ুন, শ্রী নির্মল সেন – এঁদের সঙ্গে আমার ব্যাপারে মহাদেবের কথা হয়। তাঁদের কাছে মহাদেব আমার মুক্তি চেয়ে একটি বিবৃতি প্রদানের অনুরোধ করে। তাঁরা আমার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে রাজি হলেও কিছু বলতে রাজি হননি। আমার জন্য কিছু করা তো দূরে থাক, আমার বিষয়টি নিয়ে নিজের ওপর ঝুঁকি না বাড়িয়ে বাসায় ফিরে যাবার জন্যই সেদিন তাঁরা মহাদেবকে পরামর্শ দিয়ে বিদায় করেছিলেন। মহাদেব অবশ্য সেদিন তাঁদের প্রদত্ত ঐ পরামর্শটি মেনে চলেনি।

    ১১ তারিখ রাতে, মহাদেবকে বাসায় না পেয়ে ঐ অচেনা যুবকটি পিজি হাসপাতালে গিয়ে আবুল হাসানকে আমার এ্যারেস্ট হওয়ার খবর জানায়। তাকে দেখতে গিয়ে আমার আর্মির হাতে এ্যারেস্ট হওয়ার কথা শুনে আবুল হাসান খুবই ব্যথিত হয়। মহাদেব এবং আবুল হাসানের চিঠি পেয়ে আমি যে ঢাকায় ফিরে এসেছিলাম— এটি পৃথক-পৃথকভাবে হাসান এবং মহাদেব, দু’জনের মধ্যেই এক ধরনের গিল্টি ফিলিং তৈরি করেছিল। সুস্থ থাকার কারণে, এবং পরবর্তি টার্গেট হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকার ভয়ে, সর্বোপরি বন্ধুত্বের টানেই মহাদেব আমাকে মুক্ত করার জন্য জীবনপণ করে মাঠে নেমেছিল, কিন্তু নীরবে উদ্বিগ্ন বোধ করা এবং হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে শুয়ে পরমকরুণাময়ের কাছে আমার মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া, আবুল হাসানের পক্ষে আর কিছুই করার ছিল না। কে ছিলো ঐ অচেনা যুবক? আজ পর্যন্ত আমরা তার কোনো হদিস পাইনি।

    আমার ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে আর্মির কোনোরূপ যোগাযোগ হয়েছে কি-না, তা জানতে চাইলে পুলিশ না-সূচক জবাব দেয়। সরকারের নানাধরনের গোপন এজেন্সি থাকে। আমার কেসটি ডিল করার জন্য কোন্ এজেন্সিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তবে রমনা থানা কর্তৃপক্ষ আমার ব্যাপারে যে নির্বিকার ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমি সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছিলাম। আমার যেমন স্বভাব, আমার ইচ্ছার বাইরে আমি একটি মুহূর্তও কাটাতে পারি না। আর এখন? আমার স্বাধীন—সার্বভৌম কবি- চিত্তের ওপর অস্ত্রের জোরে চাপিয়ে দেয়া এই নিষ্ঠুর অবদমন, কী অসহ্য! অথচ মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া, এ-মুহূর্তে আমার কিছুই করার নেই। কিচ্ছু করার নেই, এমন কি এরা যদি আমাকে মেরেও ফেলে, তবুও। সুতরাং আমাকে যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে, ভাবলাম এটাই আমার লাভ। বর্বরতা যখন রাষ্ট্র-ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন রাষ্ট্রজীবন থেকে ন্যায়-নীতি আইন-কানুনসহ যাবতীয় মূল্যবোধই অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ এখন সেরকমই একটা প্রচণ্ড দুঃসময় অতিক্রম করছে। অনেকের মতো আমিও সেই দুঃসময়ের শিকার। এ নিয়ে দুঃখ করে লাভ নেই। দুঃখজয়ের শক্তি অর্জন করাটাই এখন আমার কাজ।

    দ্রুতই আর্মির হাতে আমার গ্রেফতার হওয়ার খবরটি ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আমাকে বিনাবিচারে, গোপনে গায়েব করে দেয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। আমিও কিছুটা স্বস্তিবোধ করি। আমাকে কেন কোর্ট থেকে রিমাণ্ডে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে, সারাদিন তার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলো না। আমার সম্পর্কে পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা সারাদিনই বজায় থাকলো।

    সন্ধ্যার দিকে, মাগরিবের আজানের পর, বেশ ক’জন সিভিল পোশাক পরা গোয়েন্দা কর্মকর্তা রমনা থানায় আসেন। তাদের নির্দেশমতোই আমাকে হাজতের গেট খুলে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি ধারণা করি, কর্নেল সাহেবের নির্দেশেই ঐ গোয়েন্দারা আমার সম্পর্কে তদন্ত করতে এসেছে। আমাকে হাজত থেকে বাইরে নিয়ে যাবার সময় একজন সহআসামি আমার হাতে একটি ট্যাবলেট গুঁজে দিলো। বললো, দাদা পুলিশকে বিশ্বাস নেই। এর এখন মুখে যত ভালো কথাই বলুক না কেন, কখন যে টর্চার করতে শুরু করবে বলা যায় না। এই ট্যাবলেটটি সঙ্গে রাখুন। আন্তরিকতার স্পর্শযুক্ত ঐ ট্যাবলেটটি সাদরে গ্রহণ করে আমি অজানার উদ্দেশ্যে হাজতের বাইরে পা রাখি ভগবান জানেন, আমাকে এখন কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে।

    হাজতে যেসব আসামিকে ধরে আনা হতো— আমি গত দু’দিন ধরে দেখছি, পুলিশ তাদের একেকজনকে একেক সময় ধরে বাইরে নিয়ে যায় ইন্টারোগেট করার জন্য। পুলিশের ইন্টারোগেট মানে খুবই কঠিন ব্যাপার। পুলিশের কাছে টর্চার হচ্ছে ইন্টারোগেটের সুফল লাভের বিশ্বস্ত উপায়। বিশেষ করে রাতের দিকেই ঐ টর্চার-কর্মটি চলতো। কিল-ঘুষি, লাথি-চড়-থাপ্পড় ছাড়াও আরও বিভিন্ন উপায়ে আসামিদের টর্চার করা হতো। আসামিদের আর্ত-চিৎকারে থানার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠতো। যখন আসামিটি মার খেতে খেতে প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হতো, তখন পুলিশরা একটি মৃতদেহকে চ্যাংদোলা করে ধরে আনার মতো করে আসামিটিকে নিয়ে এসে হাজতের ভিতরে শুইয়ে দিয়ে চলে যেতো। তখন অত্যাচারিতের দেহের ভিতরে এখন ও যে প্রাণটুকু অবশিষ্ট আছে, তার প্রমাণ পেতে আমাকে বেশকিছুক্ষণ উদ্বেগের সঙ্গেই অপেক্ষা করতে হতো। আমি খুবই ভয় পেয়ে যেতাম। মনে হতো লোকটি হয়তো আর বাঁচবে না। পরে মানুষের বেঁচে থাকার শক্তিও যে বই অসীম— তাও লক্ষ্য করতাম। কিছুক্ষণ পরেই দেখতাম ঐ মৃত্যুপথযাত্রীটির জ্ঞান ফিরে এসেছে এবং আমাদের দিকে তাকিয়ে জলের জন্য ইঙ্গিত করছে। তখন তার মুখে জল ঢেলে দিতো অন্য আসামিরা। সঙ্গে ঐ পেইনকিলার ট্যাবলেট। চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই ও মারামারি-হানাহানির অপরাধে ধৃত আসামিরাই শংকার মধ্যে থাকতো বেশি। পলিটিক্যাল আসামিরা সেইদিক থেকে কিছুটা দুর্ভাবনামুক্ত ছিল। কর্নেল সাহেবের দয়ায় আমি কম বেশি পলিটিক্যাল আসামির মর্যাদাই ভোগ করছিলাম। আমাকে চোর-ডাকাতের মতো ট্রিট করা হচ্ছিল না। ১৮ নভেম্বরের জনসভার প্রচারকার্যে নিয়োজিত জাসদের ছাত্র-কর্মীদেরও পুলিশ টর্চার করেছিল বলে আমার মনে পড়ে না। খুব সম্ভবত ১২ তারিখেই ওরা কোর্ট থেকেই জামিনে মুক্ত পেয়ে চলে গিয়েছিল অথরা ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হয়েছিল। আমি ঠিক মনে করতে পারছি না। ১২ তারিখ থেকে রমনা থানার হাজতে কিছুটা পলিটিক্যাল চাট যুক্ত আসামি বলতে ছিলাম আমি একাই। অন্য সব আসামিরা ছিল চুরি-ডাকাতি, মরামারি, ছিনতাই, খুন এইসব অভিযোগে ধৃত। লালশালু পরা, হাতে লোহার কয়ড়া লাগানো ঢাকা হাইকোর্টের বটবৃক্ষতলবাসী গঞ্জিকাসেবীরাও জামিনে মুক্তি পেয়ে গিয়েছিল। তাই বলে হাজতটি ফাঁকা হয়ে যায়নি। বড় নগরীর থানার হাজত কখনও ফাঁকা থাকে না। এ হচ্ছে লক্ষ্মীর ঝোলা। ভরাই থাকে। আর হাজত ভরা থাকলে, কে না জানে যে, তাতে দেশের লাভ, উকিলদের লাভ এবং পুলিশের লাভ।

    পুলিশের অভয় সত্ত্বেও আমি মানসিকভাবে পুলিশের কঠিন- ইন্টারোগেশনের মুখোমুখি হবার জন্য মনে-মনে তৈরি হয়েছিলাম। আমাকে দোতলায় একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হলো। পকেটে রাখা পেনইকিলার ট্যাবলেটে হাত রেখে আমি গিয়ে বসলাম গোয়েন্দাদের মুখোমুখি একটি চেয়ারে। আমাকে ঘিরে পাঁচ ছয় জন আইবির লোক। আমি স্থির করেই রেখেছিলাম, আমি একটি বর্ণও মিথ্যা বলবো না। আমি আমার ব্যাপারে যা সত্য তাই বলবো। কোনো তথ্য গোপন করবো না। তাতে যা হবার হবে। আমার মনে হয়েছিলো, মিথ্যা পরিচয়ে বাঁচার চাইতে সত্যপরিচয়ে মরাটাও আমার জন্য উত্তম হবে। আর আগেই বলেছি, আমি কোথা থেকে, কোন দূরের ভুবন থেকে যেন সাহস পাচ্ছিলাম। আমার মরণের ভয় আর ছিল না। আমি হাজতের ভিতরে এককোণে বসে পাহারারত সেন্ট্রি-পুলিশের বুলেটবেল্টের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। পুলিশ বলতো, কী দেখেন, কবি সাব? আমি বলতাম, দেখছি আপনার কোমরের বুলেটগুলো। আপনি কোমরে বহন করছেন বলে ভাবছেন— এগুলো আপনার। আপনি এগুলোর আসল মালিক নন। আপনি হচ্ছেন বাহক। পুলিশ ঠিক বুঝে উঠতে পারতো না আমার রসিকতাটা। বলতো, তার মানে? তখন আমি রহস্যভেদ করার মতো করে বললাম, জীবনের বিনিময়ে এই বুলেটগুলোকে যারা দেহে ধারণ করবে, বুলেট হচ্ছে তাদেরই।

    আমার ঐ কথা বলার পর হাজতচত্বরে এক ধরনের নিস্তব্ধতা নেমে আসতো।

    গোয়েন্দা পুলিশরা, তাই আমাকে যতটা অপ্রস্তুতভাবে পাবে বলে ভেবেছিল, ততটা অপ্রস্তুত অবস্থায় তারা আমাকে পেলো না। প্রশ্নের ধরণ শুনেই আমি বুঝতে পারলাম, এটি একেবারেই পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। আমার বাবা-কাকারা এরকম প্রশ্নের উত্তর বিগত পাকিস্তান আমল থেকেই দিয়ে আসছেন। দেশটা যে আবার পাকিস্তানের পথে এগিয়ে চলতে শুরু করবে— তাদের প্রশ্নের মধ্যে আমি তারই আভাস পেলাম। আমাকে তারা ১৯৭১-এ আমার অবস্থান ও ভূমিকা থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আমার অবস্থান, আমার প্রতিক্রিয়া জানবার জন্য যতরকম প্রশ্ন করা হতে পারে, তাই করলো। আমি প্রতিটি প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দিলাম। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার বরং ভালো লাগছিল এই ভেবে যে, আমি মন খুলে আমার সকল দুঃখ-বেদনার কথা বাংলাদেশ সরকারের পুলিশদের জানাতে পারছি। এবং তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমার বলা কথাগুলো সরকারি নথিপত্রে লিপিবদ্ধ করছেন। আমি যে ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের জেল হত্যার ঘটনায় খুবই ব্যথিত হয়েছি, আমি যে পাগল হয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলাম, তা বললাম। ভারতে যে আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা রয়েছেন তাও জানালাম। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর পরিবারের সঙ্গে আমার পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ট সম্পর্কের কথাও আমি সানন্দেই স্বীকার করলাম।

    একজন গোয়েন্দা বললেন, ১৫ আগস্টের পর আপনাকে মোহাম্মদপুর এলাকায় কাদের সিদ্দিকীর জিপে উঠতে দেখা গেছে। সত্য?

    আমি বললাম, না, কথাটা সত্য নয়। আমি একটু জোরের সঙ্গেই বললাম, ভাই ১৫ আগস্টের পর আমার সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর যদি দেখা হতো, তবে আমি কি আর এখানে থাকি? সে-ও আমাকে নিশ্চয়ই ঢাকায় রেখে যেতো না।

    আপনি কি তবে ১৫ আগস্টের পর গ্রামের বাড়িতে যাবার নাম করে অন্য কোথাও গিয়েছিলেন?

    বুঝলাম ওরা আমাকে সীমান্তের ওপারে কাদের বাহিনীতে পাঠাতে চাইছেন।

    আমি বললাম, না ভাই, আমি পুরো সময়টা আমার গ্রামের বাড়িতেই ছিলাম। আপনারা তদন্ত করে দেখতে পারেন। আমি একটু ভীতু ধরনের মানুষ। আমার সাহস কম। আমি অস্ত্র হাতে নিতে ভয় পাই। ১৯৭১- এও আমি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারিনি।

    আপনি খালেদ মোশাররফকে চিনতেন?

    একদিন খুব অল্পসময়ের জন্য তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। খুব সামান্যই কথা হয়েছে। কুশল বিনিময়। এটাকে ঠিক চেনা বলা যাবে না।

    তার জন্য আপনার দুঃখ হয়?

    আমি বললাম, হয়। প্রতিটি অকাল ও অপঘাত মৃত্যুর জন্যই আমার দুঃখ হয়।

    আপনার এক বন্ধু নাকি পিজিতে অসুস্থ। ঠিক তো? কী যেন নাম তার?

    আবুল হাসান। পিজিতে খোঁজ করলেই জানতে পারবেন। তিনি খুবই অসুস্থ।

    তাঁকে দেখার জন্যই আপনি পিজিতে গিয়েছিলেন, নাকি অন্যকিছু? অন্যকিছু হতে যাবে কেন? আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন।

    জাসদের মুখপত্র গণকণ্ঠে আমি যে একসময় কাজ করেছি এবং জাসদের নেতাদের সঙ্গে আমার যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, সে প্রসঙ্গেও তারা জানতে চাইলো।

    আমি বললাম, এদের সবাই আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত

    কর্নেল তাহেরকে চেনেন?

    আমি বললাম, নেত্রকোনার লোক হলেও কর্নেল তাহেরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। আমি তাকে নামেই শুধু জানি।

    গণকণ্ঠ পত্রিকায় কী করতেন আপনি?

    আমি বললাম, আমি সম্পাদকীয় লিখতাম। একটি রাজনৈতিক কলামও লিখেছি। সরকারী আমল। এবং আওয়ামী লীগের কিছু-কিছু নেতা-কর্মীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি ঐ পত্রিকায় লিখেছি। কিন্তু তাই বলে আমি কখনও জাসদের রাজনীতির সমর্থক ছিলাম না। তাদের সঙ্গে আমার বনিবনা হয়নি। গণকণ্ঠে যোগ দেবার সময় আল মাহমুদ চার- নীতির পক্ষে প্রচার চালাবে। বঙ্গবন্ধু ঐ শর্তেই কাগজটির দায়িত্ব রব- সিরাজ-আল মাহমুদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঐ কাগজে যোগদানে আমারে প্রলুব্ধ করার জন্য আল মাহমুদ আমাকে ঐ কথাই বলেছিলেন জাসদের কথা তখন আসেনি। রব-জলিলের নেতৃত্বে জাসদ গঠিত হওয়ার পর ঐ কাগজটি জাসদের কাগজে পরিণত হয়। আমি জাসদের পক্ষে লিখতে অস্বীকার করায় আল মাহমুদের সঙ্গে আমার বিরোধ হয়। তোহা ভাইয়ের সঙ্গে আল মাহমুদের বিরোধ হয়। তখন ঐ প্রবীণ সাংবাদিক তোহা ভাই (মরহুম তোহা খান)-এর সঙ্গে একাত্মতা প্রবেশ করে আমিও গণকণ্ঠের চাকুরি ছেড়ে দিই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন পিয়াসা – অনুবাদ : নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article নির্মলেন্দু গুণের কবিতা

    Related Articles

    নির্মলেন্দু গুণ

    নির্মলেন্দু গুণের কবিতা

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }