ছয় – হুইস্পারের আড্ডা
শহরের মোটামুটি মাঝামাঝি জায়গায়, একটা অন্ধকার রাস্তার এক কোণে আমাদের গাড়িটা দাঁড়াল। ধূসর ওভারকোট আর মানানসই টুপি পরা, বেশ বড়োসড়ো চেহারার একটি লোক আমাদের কাছে এল।
‘হুইস্পার এখানেই আছে।’ লোকটা নুনানকে বলল, ‘ডোনোহোকে ফোনে বলেছে, ও এখানেই থাকবে। ও এও বলেছে, ওকে ‘তোলার’ ইচ্ছে থাকলে চেষ্টা করতে।’
‘বেশ বেশ।’ হাসিমুখে বলল নুনান, ‘ভেতরে ক-জন আছে বলে তোমার ধারণা?’
‘জনা পঞ্চাশেক!’
‘দুর! এইরকম সময়ে এতজন ওখানে থাকতেই পারে না।’
‘আমি কি ভুল দেখছি নাকি?’ লোকটা খেপে গেল, ‘মাঝরাত থেকে ওখানে লোক ঢুকছে!’
‘তাই নাকি? কোথাও একটা লিক হয়েছে মনে হচ্ছে। তুমি অতগুলো লোককে ঢুকতে না দিলেই পারতে।’
‘আপনি কি তাই বলেছিলেন?’ লোকটা একেবারে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল এবার, ‘আপনি বলেছিলেন, লোকেদের যাতায়াতে যেন বাধা না দিই। শুধু হুইস্পারকে দেখলে…’
‘তাকে গ্রেফতার করতে। সেটাও মনে হচ্ছে তোমার দ্বারা হয়নি।’
আলোচনায় আরও লোক যোগ দিল। সবারই মেজাজ একেবারে সপ্তমে চড়ে ছিল। ব্যতিক্রম নুনান। ওর প্রাণে এত ফুর্তি কোত্থেকে আসছে, আমি সত্যিই বুঝতে পারছিলাম না।
দুটো দোতলা বাড়ির মধ্যে একটা তিনতলা ইটের বাড়ি, এই হল হুইস্পারের আড্ডা। একতলায় একটা সিগারের দোকান। ওটা নাকি ওপরের তলায় চলা জুয়ার আড্ডায় ঢোকার রাস্তা, আবার সেটা ঢাকার ব্যবস্থাও। এই বাড়ির ভেতরে, ওই লোকটার কথামতো হুইস্পার পঞ্চাশজন সশস্ত্র সঙ্গী সঙ্গে নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
‘তাহলে বন্ধুগণ,’ সবার কথা শেষ হওয়ার পর দিলদরিয়া স্টাইলে বলল নুনান, ‘ভেতরে পঞ্চাশজন থাকলেও– যদিও আমার ধারণা সংখ্যাটা পঞ্চাশের কমই হবে— হুইস্পার ঝামেলা করতে চাইবে না। যদি তাই চাইত, তাহলে ও এতক্ষণে আমাদের মধ্য দিয়েই বেরোতে চেষ্টা করত। এখন তবে ওর সঙ্গে একবার কথা বলে দেখা উচিত, তাই না? নিক, তুমি একবার ঢুকে ওর সঙ্গে কথা বলে দেখো তো।’
‘পাগল না মাথা খারাপ?’ ধূসর ওভারকোট পরা নিক্ দাঁত খিঁচোল।
‘তাহলে ফোনে কথা বলো।’
‘এটা করা যেতে পারে।’ বলে নিক্ একটা বুথের দিকে এগোল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ও খুব সন্তুষ্ট মুখে ফিরে এসে নুনানকে বলল, ‘হুইস্পার আপনাকে জাহান্নমে যেতে বলেছে।’
‘চমৎকার।’ খোশমেজাজে বলল নুনান, ‘বাকিদের খবর দাও। দিনের আলো ফুটলেই আমরা দেখব, কে কোথায় যায়।’
আমি আর নিক নুনানের সঙ্গে বাড়িটার চারপাশে ঘুরে এলাম। নুনান অবশেষে সন্তুষ্ট হল যে পুলিশেরা জায়গামতো রয়েছে। তবে নুনানের দলবল আমাকে খুব একটা আশাবাদী করতে পারেনি। তাদের ছন্নছাড়া চেহারা আর চলন-বলনে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’ ভাবটাই ফুটে উঠছিল।
আকাশ আবছা ধূসর রং ধরল। আমি, নুনান, আর নিক্ আমাদের লক্ষ্য দরজাটার ঠিক উলটোদিকে দাঁড়ালাম। হুইস্পারের আড্ডা তখন অন্ধকার। ওপরের তলার সব জানলা বন্ধ। নীচে চুরুট স্টোরের জানলায় পর্দা টানা।
‘আমি ছোকরাকে পছন্দই করি।’ কিন্তু কিন্তু ভঙ্গিতে বলল নুনান, ‘তাই ওর সঙ্গে একবার কথা না বলে…! তবে ও আমাকে কোনোকালেই পছন্দ করত না। তাই কথা বলে বোধ হয় কোনো লাভ নেই।’
আমার দিকে ঘুরে নুনান বলল, ‘আপনি একবার চেষ্টা করবেন নাকি?’
‘হ্যাঁ।’ আমি স্পষ্ট করেই বললাম, ‘আমি একটা চেষ্টা করতে চাই।’
‘বাহ্! দেখুন একবার, ওকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে যদি বেরিয়ে আসতে রাজি করানো যায়। এতে ওরই ভালো তো।’
আমি চুরুট স্টোরের দরজার দিকে এগোলাম। দুটো হাত দু-পাশে ঝোলাচ্ছিলাম, যাতে বোঝা যায় যে সেগুলো ফাঁকা। ধোঁয়াটে ভোর আর ফাঁকা রাস্তায় আমার পায়ের শব্দ নিজের কানেই বড্ড জোরালো শোনাচ্ছিল। দরজার কাচে আওয়াজ তুললাম, আস্তে করে। কাচের পেছনের সবুজ পর্দাটা টানা ছিল বলে কাচটা আয়নার কাজ করছিল। তাতে দেখলাম, রাস্তার উলটো ফুটপাথে দু-জন লোক এগিয়ে আসছে।
ভেতর থেকে কোনো শব্দ পেলাম না। আমি দরজার হাতলটা ঘুরিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলাম।
‘এখনও সময় আছে। কেটে পড়ো। নইলে শরীরটা কাটাছেঁড়া হয়ে যাবে।’ ভেতর থেকে সুপরামর্শ এল।
‘আমি থ্যালারের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ আমি বললাম।
‘যে লোকটা তোমাকে পাঠিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলো।’
‘আমি নুনানের সঙ্গে কথা বলব না। থ্যালার কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?’
কিছুক্ষণ সব চুপচাপ রইল। তারপর নীচু গলায় আওয়াজ এল, ‘হ্যাঁ।’
‘আমি সেই কন্টিনেন্টাল অপারেটিভ যে ডিনা ব্র্যান্ডকে বলেছিল, নুনান আপনাকে ফাঁসাতে চাইছে।’ আমি বললাম, ‘আমি স্রেফ পাঁচ মিনিট কথা বলতে চাই। নুনান, বা তার ধান্দাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি একা। আপনি বললেই আমি রাস্তায় আমার বন্দুকটা ফেলে দেব। আমাকে ঢুকতে দিন।’
আমি জানতাম, ব্যাপারটা ঝুঁকির। যদি ডিনা-ই ওকে আমাদের মধ্যে হওয়া কথাবার্তার ব্যাপারে জানয়ে থাকে তাহলেই…
‘দরজা খোলামাত্র ঢুকবেন। কোনো চালাকি নয়।’ নীচু গলাটা শুনতে পেলাম।
‘আমি রেডি।’
দরজার ছিটকিনিটা খুলল। আমি দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম।
আমার পেছনে, রাস্তার অন্য দিক থেকে ডজনখানেক বন্দুক গর্জে উঠল। আমার আশেপাশে জানালা আর দরজার কাচ ভেঙে পড়ল।
কেউ আমাকে ল্যাং মারল। ভয় আমার মাথা একেবারে সাফ করে দিয়েছিল। বুঝে গেলাম, আমাকে আসল ল্যাংটা মেরেছে নুনান। এখন হুইস্পার আর ওর চ্যালারা ভাববেই যে আমিও এই ব্যাপারে জড়িয়ে আছি।
আমি গড়িয়ে গিয়ে আবার উঠলাম, তবে এবার আমার মুখ ছিল দরজার দিকে। বন্দুকটাও হাতে উঠে এসেছিল ততক্ষণে। রাস্তার ওপাশে নিক দু-হাতে দুটো বন্দুক আমাদের দিকে তাক করে খালি করছিল। ও নিশানায় আসামাত্র আমার বন্দুক গর্জে উঠল। ওর ভারী শরীরটা নীচে পড়ে গেল।
পা ধরে ছেঁচড়ে আমাকে পেছনে নেওয়া হল। দরজাটা সপাটে বন্ধ হল। কেউ বলে উঠল, ‘লোকে আপনাকে বিশেষ পছন্দ করে না মনে হচ্ছে।’ আমিও চেঁচালাম, ‘এর মধ্যে আমি ছিলাম না!’
গুলিগোলা কমতে কমতে থেমে গেল। রয়ে গেল জানলা আর দরজায় গর্তগুলো। একটা খসখসে নীচু গলা বলে উঠল, ‘টড, তুমি আর স্ল্যাটস এদিকটা দেখো। আমরা ওপরে আছি।’
চুরুট স্টোরের পেছনের একটা ঘর, সরু প্যাসেজ, সিঁড়ি এসব পেরিয়ে দোতলার একটা ঘরে পৌঁছোলাম আমরা। ছোটো ঘরটায় জানালা ছিল না। ইলেকট্রিক আলোয় সবুজ টেবিলগুলো দেখতে পেলাম।
থ্যালার একটা চেয়ারে বসে সিগারেট ধরাল। লম্বা নয়, বরং ওকে বেঁটেই বলা যায়। গায়ের রং গাঢ়। মুখের গড়ন সুন্দর, তবে সরু, ধারালো মুখটার দিকে তাকালে ওর আসল চেহারার আভাস পাওয়া যায়। সোনালি চুলের একটা ছেলে, বাচ্চাই বলা যায়, অলসভাবে সোফায় শুয়ে ছাদের দিকে তাক করে ধোঁয়ার রিং ছাড়ছিল। আরেক তরুণ, এও ব্লন্ড, নিজের চুল আর টাই পরিপাটি করায় ব্যস্ত ছিল। বছর ত্রিশেক বয়সের আরেকটি রোগা, সরু মুখের লোক বিরসবদনে গুনগুন করতে করতে পায়চারি করছিল।
আমি থ্যালারের থেকে দু-তিন ফিট দূরের একটা চেয়ারে বসলাম।
‘নুনান আর কতক্ষণ এ সব চালাবে?’ জানতে চাইল থ্যালার। ওর জোরালো ফিসফিসানিতে সামান্য বিরক্তি ছাড়া কোনো আবেগ ছিল না।
‘ও আপনার পেছনে লেগেছে। সহজে ছাড়বে বলে মনে হয় না।’ আমি বললাম।
জুয়াড়ির মুখে একটা ক্ষীণ, ব্যঙ্গাত্মক হাসি ফুটে উঠল।
‘ওর বোঝা উচিত, এত ফালতু যুক্তি আর সাক্ষ্যে ভর দিয়ে আদালতে আমার বিরুদ্ধে চার্জ টেকানো যায় না।’
‘ও আদালতে যেতে চায় না।’
‘তাই নাকি?’
‘আপনি গ্রেফতার এড়ানোর সময় ঝামেলা করবেন, বা পালাতে যাবেন। তখন আপনাকে গুলি করা হবে। তারপর আদালত অবধি ব্যাপারটা গড়াবেই না।’
‘বয়স বাড়লে লোকে নরম হয়।’ সরু ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল আবার, ‘কিন্তু নুনান তো গরম হচ্ছে দেখছি। আমার ওপর গরম হওয়ার কারণ বুঝি। কিন্তু আপনি কী করেছেন?’
‘আমি ওর কমলবনে মত্ত হস্তী হয়ে ঢুকে পড়েছি।’
‘এহ্! শুনে ভারি দুঃখ পেলাম। ডিনা আপনার প্রশংসাই করছিল, তবে আপনাকে কিপটেও বলছিল।’
‘ডিনা-র সঙ্গে আলাপ হয়ে আমারও খুব ভালো লেগেছে। ডোনাল্ড উইলসনের খুনের ব্যাপারে আপনি কী জানেন?’
‘ওর বউ ওকে গুলি করেছে।’
‘আপনি তাকে দেখেছিলেন?’
‘আমি তার পরের সেকেন্ডেই দেখেছিলাম— মহিলার হাতে বন্দুকটা তখনও ধরাই ছিল।’
‘এই দিয়ে কাজ হবে না। আমার না, আপনারও না।’ আমি বললাম, ‘আপনি কদ্দূর কী ম্যানেজ করতে পেরেছেন, জানি না। তবে জল যদি সত্যিই কোর্ট অবধি গড়ায়, তাহলে যা করার আমাকেই করতে হবে। আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মুখ খোলার সুযোগ নুনান দেবে না, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’
‘আপনি পারবেন?’
‘আপনি যা বলার সেটা বলুন। যদি এখান থেকে বেরোতে পারি, আমি চেষ্টা তো করবই।’
আরেকটা সিগারেট ধরাল থ্যালার। তারপর বলল, ‘মিসেস উইলসন বলেছেন, আমি ওঁকে ফোন করেছিলাম?’
‘হ্যাঁ… তবে নুনান ওঁকে সেইরকম বোঝানোর পর। উনি হয়তো এখন সেটাই বিশ্বাস করছেন।’
‘আপনি নিক-কে নিকেশ করেছেন।’ থেমে থেমে বলল থ্যালার, ‘আপনাকে একটা সুযোগ দেওয়াই যায়।
সেই রাতে আমার কাছে একটা ফোন আসে। একজন পুরুষের। গলাটা চিনতে পারিনি। সে বলল, উইলসন ডিনার বাড়ি গেছে পাঁচ হাজার ডলারের একটা চেক নিয়ে। তাতে আমার কোনো মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু ওই… অচেনা গলাটা আমার অদ্ভুত লেগেছিল। আমি ওখানে গেলাম। ড্যান ভেতরে আছে বলে আমি ঢুকিনি। বাইরেই ছিলাম, আড়ালে। দেখতে পেয়েছিলাম, একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ওটা যে মিসেস উইলসনের, সেটা তখনও জানতাম না। একটু পরে উইলসন ডিনা-র বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে হাঁটতে শুরু করল। আমি গুলি চলতে দেখিনি, তবে আওয়াজ শুনেছিলাম। তারপরেই দেখলাম মহিলা গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে ওর কাছে দৌড়ে গেলেন।
আমার তক্ষুনি ওখান থেকে কেটে পড়া উচিত ছিল। কিন্তু আলোয় দেখলাম মহিলা মিসেস উইলসন! আমি ওঁর কাছে গেলাম। আসলে বুঝতে চেষ্টা করছিলাম, ঘটনাটা কী ঘটল। ওতেই গোলমাল হয়ে গেল। আপাতত আমি নিজেকে বাঁচানোর জন্য মহিলার ঘাড়ে দায় চাপাতে চেষ্টা করছি। কিন্তু আওয়াজ যেদিক থেকে পেয়েছিলাম তাতে মনে হয়েছিল উনি গুলি করেননি, করতে পারেন না। ব্যস। এটাই সত্যি।’
‘ধন্যবাদ।’ আমি বললাম, ‘আমি এটুকুই জানতে এসেছিলাম। এবার আসল কাজ হল, ঝাঁঝরা না হয়ে এখান থেকে বেরোনো।’
‘ওটা কোনো ব্যাপারই নয়। আমরা যখন চাই তখনই বেরোতে পারি।’
‘আমি এখনই বেরোতে চাই। আমার মতে আপনারও এখনই বেরোনো উচিত। নুনান কী করতে পারে বা না পারে, সেটা আমরা জানি। কিন্তু বেকার ঝুঁকি নেওয়ার কী দরকার? দুপুর অবধি আপনাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে আপনাকে গ্রেফতার করার মতো অবস্থায় ও থাকবে না। ততক্ষণ বরং কোনো শান্ত জায়গায় বিশ্রাম নিন।’
কয়েকটা বড়ো, মাঝারি, ছোটো নোট বের করে লম্বা, পায়চারি করা লোকটাকে ধরাল থ্যালার। ‘একটা বেরোনোর লাইসেন্স কিনে আনো, জেরি।’ নির্দেশ দিল ও, ‘তবে যা দরকার তার বেশি দিয়ো না।’ টাকাগুলো তুলে জেরি বেরিয়ে গেল। আধ ঘণ্টা পর ফিরে শান্ত গলায় বলল, ‘আমাদের রান্নাঘরে অপেক্ষা করতে হবে।’
আমরা সবাই নেমে রান্নাঘরে গেলাম। অন্ধকার ঘর। আরও লোক জড়ো হল সেখানে। বেশ কিছুক্ষণ পর দরজায় একটা ধাক্কা লাগার মতো আওয়াজ পেলাম। দরজা খোলা হল। আমরা নেমে পেছনের চাতালে হাজির হলাম। ততক্ষণে আকাশে আলো অনেকটাই বেড়েছে। খেয়াল করলাম, আমরা মোট দশজন আছি।
‘ব্যস!’ আমি অবাক হয়ে থ্যালার-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘নিক তো বলেছিল আপনারা পঞ্চাশজন আছেন।’
‘ওদের জন্য পঞ্চাশজন?’ নাক কোঁচকাল থ্যালার।
দস্তুরমতো ইউনিফর্ম পরা এক পুলিশ পেছনের গেটটা খুলে ধরল। তারপর নার্ভাস ভঙ্গিতে বলল, ‘দয়া করে একটু তাড়াতাড়ি করবেন।’
আমি একমত হলাম। কিন্তু বাকিদের তাড়াহুড়ো করার কোনো ইচ্ছে আছে বলে মনে হল না। একটা গলি পেরোলাম আমরা। তারপর একটা বাড়ির দরজা খুলে এক বিশালদেহী আমাদের ভেতরে আসতে বলল। বাড়িটার মধ্য দিয়ে আমরা আরেকটা রাস্তায় পড়লাম। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটা বড়ো কালো গাড়িতে উঠে বসলাম আমরা।
সোনালি চুলের দু’জনের মধ্যে একজন চালাল। গাড়ির স্পিড কীভাবে বাড়াতে হয়, সেটা দেখলাম ছেলেটা ভালোই জানে।
আমি বলেছিলাম, গ্রেট ওয়েস্টার্ন হোটেলের কাছাকাছি আমাকে নামালেই হবে। থ্যালারের সম্মতি পেয়ে ছেলেটা আমাকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হোটেলের সামনে নামাল।
‘দেখা হবে।’ ফিসফিস করে আমাকে বলল জুয়াড়ি। পুলিশের লাইসেন্স প্লেট লাগানো গাড়িটা রাস্তায় বাঁক নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।
