Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    August 30, 2025

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    August 30, 2025
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • 🔖
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    Subscribe
    সাইন ইন
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প168 Mins Read0

    তাতাইয়ের বৃষ্টি দিন – নবনীতা দেবসেন

    তাতাইয়ের বৃষ্টি দিন

    বিষ্টি পড়ছে ভোরবেলা থেকে। তাতাইয়ের মনখারাপ লাগে বিষ্টি পড়লে। একটুও ভালোবাসে না তাতাই বিষ্টির দিন! এই ‘বিষ্টি’ শব্দটাও মায়ের। বৃষ্টি এলেই মার খুব আনন্দ হত, মা ছড়া বলতেন, আয় বিষ্টি ঝেঁপে, ধান দেব মেপে।’ মার খুব পছন্দ ছিল বৃষ্টির দিন! তাতাইয়েরও, আগে আগে, বৃষ্টি পড়লে খুব ভালো লাগত। প্রথম যেদিন বৃষ্টি পড়ত, মা আর তাতাই দৌড়ে দৌড়ে ছাদে যেত, মা তাড়াতাড়ি ওর জামাটা খুলে দিতেন, যাতে পিঠের ঘামাচিগুলো বৃষ্টির জলে ধুয়েমুছে উবে যায়। যেতও কিন্তু। কী জানি কী ম্যাজিক থাকত সেইসব বৃষ্টির ফোঁটাগুলোতে।

    যখন মা আর তাতাই একসঙ্গে বৃষ্টির জলে চান করত, মা গলা ছেড়ে গান গাইতেন, ডুরে শাড়িটার আঁচল কোমড়ে জড়িয়ে নিয়ে তাতাইয়ের হাত ধরে ঘুরে ঘুরে খেলতেন। কখনও নাচতেনও। কী সুন্দর দেখাত তখন মাকে। ঠিক পরীর মতন। জলপরিদের মতন।

    তাতাইয়ের মনে হত, জলপরিদের নিশ্চয়ই এমনই দেখতে হয়।

    একপিঠে ভিজে চুল বেয়ে জল ঝরছে, ভিজে শাড়ি থেকে জল ঝরছে, মা একটা ছোট মেয়ে হয়ে গেছেন, ঘুরে ঘুরে আনি—বানি—জানি না—র মতো নাচছেন তাতাইকে কোলে নিয়ে। চশমাটা খুলে রেখেছেন জানলার তাকে। মার সারা মুখ ভিজে, সারা শরীর ভিজে, মা যেন গভীর সমুদ্র থেকে এক্ষুনি উঠে এসেছেন—মা’র গা থেকে বৃষ্টির গন্ধ, নাকি সমুদ্রের গন্ধ, না ওটা জলপরির গন্ধ—তাতাই চোখ বুঝলেই নাকে আসত সেই মিষ্টি গন্ধটা। মা কোল থেকে নামিয়ে দিলে, গোল হয়ে তাতাইও ঘুরত বৃষ্টির মধ্যে—আনি—মানি—জানি না/ পরের ছেলে মানি না—

    কে জানে কতক্ষণ! একটু বাদেই মা ওর হাত ধরে টেনে ঘরের মধ্যে নিয়ে নিতেন, ”আর না, ঠাণ্ডা লেগে যাবে।”

    তাতাইয়ের গা কত যত্ন করে ঘষে ঘষে মুছিয়ে দিতেন মা নরম তোয়ালে দিয়ে। তখনও মা’র গান কিন্তু থামত না। হাতে করে তাতাইয়ের গা মুছিয়ে দিচ্ছেন, আর গলা ছেড়ে গাইছেন—”তালের বনে থেকে থেকে/ঝড় দোলা দেয় হেঁকে হেঁকে।

    সঙ্গে—সঙ্গে তাতাইকে এক ঠেলা, ”এই গা! গা না, আমার সঙ্গে গলা মেলা—”

    তাতাইও যোগ দিত, ”জল ছুটে যায় এঁকে বেঁকে, মাঠের পরে—আজ এমন করে কে মেতেছে বাহিরে ঘরে—”

    গান থামিয়ে মা বলতেন, ”এই বর্ষাটা আসলে আমাদের বীরভূমের বর্ষা, কলকাতার বর্ষা নয় রে তাতাই। মাঠের ওপরে জলের স্রোত বয়ে যাওয়া দেখাব তোকে, সে অন্য দৃশ্য, তোকে বীরভূমে নিয়ে যাব, দেখবি বৃষ্টি আসা কাকে বলে। সে—ই অনেক দূর থেকে মস্ত মাঠের ওই পার থেকে, আস্তে আস্তে, বৃষ্টির পরদাটা জল ঝরাতে ঝরাতে এগিয়ে আসে, চোখের সামনে আমাদের উঠোনের ওপরে এসে ঝামরে পড়ে, আমাদের বাড়িটা ভিজিয়ে আরও ওপাশে এগিয়ে যায় উত্তরের আমবাগানে, সে যে কী অদ্ভুত দৃশ্য! তুই চোখে না দেখলে বুঝতেই পারবি না তাতাই।

    ”আমাদের ছেলেবেলাটা খুব সুন্দর ছিল রে তাতাই। আমাদের ছেলেবেলাটা তো আর তোকে উপহার দিতে পারব না, পারলে নিশ্চয়ই দিতুম। এখনকার চেয়ে ঢের সুন্দর, কত আনন্দ ছিল আমাদের।” তারপরেই সুর পালটে মা বলতেন, ”ও বাববা, কী ভীষণ গরম ছিল না আমাদের ছোটোবেলায়।” তোরা সেটা ভাবতেই পারবি না। এসব সিলিং ফ্যানট্যানও ছিল না—এ.সি তো স্বপ্নেও শুনিনি। ছিল কেবল তালপাতার হাতপাখা। নানারকমের হাতপাখা হত, চ্যাটাইয়ের মতন বোনা চৌকো চৌকো আর গোল গোল তালপাতার নানা সাইজের। ভারী, হালকা, ছোটদের জন্যে ছোট খসখসের পাখা।—”

    ”খসখস কী মা?”

    ”খসখস? এরকমের সুগন্ধি ঘাস, শুকনো শেকড়ের মতন দেখতে, বুঝলি? তাতে জল পড়লেই চন্দনের গন্ধ বেরোত, তাই দিয়ে আমাদের বাইরের দরজাগুলোয় পরদা বানানো হত। সেই খসখসের তৈরি হাতপাখাও হত। লাল পাইপিং দেওয়া, শুকনো ঘাসের তৈরি গোল গোল পাখা। সেই পাখা বেশ করে জলে ভিজিয়ে নিয়ে আমরা বাতাস খেতুম, আর ঠিক তোদের এ.সি—র মতন ঠাণ্ডা—আহ কী আরাম? খসখসের পাখা আমাদের বাড়িতে মোটে একটাই ছিল, আর বাবা যতক্ষণ বাড়িতে আছেন, সেটা বাবারই হাতে থাকত। বাবা বেরোলেই আমরা ভাইবোনেরা ওটা দিয়ে হাওয়া খাওয়ার জন্যে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিতুম। মাকে এসে থামাতে হত। আর পরদাগুলো সারাদিন জল দিয়ে ভেজাতে হত। তাতে ঘর সুগন্ধি আর শীতল থাকত। কিন্তু তখন জলেরও খুব অভাব ছিল ওখানে, তাই সামান্য জলছিটের বেশি নয়। বেশি—বেশি জল দেওয়া বারণ ছিল। বেশি জল দিয়ে পুরোটা ভিজিয়ে দিলেই একদম এ. সি। কিন্তু কুয়ো শুকিয়ে যেত যে।”

    ”তোমাদের ফ্যানও ছিল না মা?”

    ”না রে।”

    ”টেবিলফ্যানও না?”

    ”না রে। টেবিলফ্যান একটা এসেছিল অবশ্য বাড়িতে, অনেক পরে, যখন আমাদের দাদার স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা, তখন আমাদের বাড়িতে প্রথম টেবিলফ্যান এল দাদার জন্যে—”

    মার হাসি—হাসি গলাটা যেন স্পষ্ট শুনতে পায় তাতাই। তাতাইয়ের আরও কান্না পেয়ে যায়।

    ”তবে কেন বলছ তোমাদের ছোটোবেলাটা খুব সুন্দর ছিল, অত গরম ছিল যখন? ওই ছোটোবেলাটা কেন আমাকে দিতে চাইছে তবে? আমার তো কষ্ট হবে অত গরমে।”

    ”গরমটা বেশি ছিল বলেই তো বর্ষা এলে অত আনন্দ, অত আরাম, বুঝলি না? আর ছেলেবেলাতে গরমে, ঠাণ্ডায় অত কষ্ট হয় না রে, জষ্টিমাসের প্রচণ্ড রোদ্দুরে আমরা দুপুরবেলা’য় আম পাড়তুম—একটুও কষ্ট হত না।”

    তাতাইকে কোলের কাছে শুইয়ে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে মা গল্প করতেন ছোটোবেলার গল্প।

    মায়ের মামার বাড়ির গল্প তো আরও মজার। মায়ের মামার বাড়ি ছিল অসমে। সেখানকার বাড়িঘরই অন্যরকম। সেখানে হাতির পাল নামে, সেখানে সবুজ বনে—জঙ্গলে অতটা গরম পড়ে না। কিন্তু ”বিষ্টি—বাদল খুব”।

    মা’র কাছে শুয়ে শুয়ে এইসব গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ত তাতাই।

    তারপরে বোন এল। বোনকে নিয়ে মা এমনই ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে, তাতাইয়ের দিকে অতটা নজর আর দিতেই পারতেন না।

    বোনের তো কী একটা অসুখ ছিল, বোন ঠিক তাতাইয়ের মতন ছিল না। মাকে সবসময় বোনের কাছেই থাকতে হত। বোন দেখতে খুব সুন্দর। বেশি ছিঁচকাঁদুনেও ছিল না, তাতাইয়ের খুব ভালো লাগত বোনকে। ঠিক যেন একটা ডলপুতুল। খুব ছোট্ট, এত্তটুকুনও। কিন্তু মা আর বৃষ্টি পড়লে বৃষ্টিতে চান করতে ছুটতেন না। তাড়াতাড়ি সব জানলা—দরজা বন্ধ করে ফেলতেন, বোনের পাছে ঠাণ্ডা লেগে যায়। প্রথমে তো অনেক দিন মা বোনকে নিয়ে নার্সিং হোমেই ছিলেন, বোন ছিল একটা যন্ত্রের বাক্সের মধ্যে। সেখানেই বড় হচ্ছিল সে। বাক্সটার মধ্যেই তার শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। ওই ঘরেই কাউকে ঢুকতে দিত না, পাছে ছোঁয়াচ লেগে যায় বোনের।

    তাতাই আর বাবা গিয়ে দরজার বাইরে থেকে বোনকে দেখে ফিরে আসত। মা অন্য ঘরে থাকতেন। মা’র সঙ্গে কথা বলা যেত। তাতাই রোজ বলত, ”মা, বাড়ি চলো।”

    মাও রোজই বলতেন, ”এই তো যাব সোনা, আর মোটে ক’টা দিন। বোন একটু বড় হোক।”

    তারপরে একদিন বোন বাড়ি এল মাকে নিয়ে। আর শুধু বোনেরই মা হয়ে গেলেন তাতাইয়ের মা। তাতাইয়ের ভাত মেখে দিত বেণুমাসি। তাতাইয়ের ইস্কুলের জামাকাপড় গুছিয়ে দিত বেণুমাসি। টিফিন করে দিত বেণুমাসি। মা’র তো সময় ছিল না। বোনের টাইমে টাইমে খাওয়া, বোনের স্নান, বোনের পটি করানো, বোনকে ওষুধ খাওয়ানো, বোনের ডায়াপার বদলানো। বোনের কাঁথা বদলানো, বোনকে পাউডার মাখানো, কত কাজ তখন মায়ের ঘণ্টায়—ঘণ্টায়। মা’র স্নান—খাওয়ার সময়, ঘুমের সময়, সবই ওলটপালট। বোনের রুটিনই মায়ের রুটিন।

    বাবা আর তাতাই বেণুমাসির ডিপার্টমেন্ট। বেণুমাসির সময় হত না গল্প বলার। তাকেই তো মা আর বোনকেও দেখতে হত। তাতাইকে গল্প বলে ঘুম পাড়াবে কখন? খুব তাড়াতাড়ি তাতাই গল্পের বই পড়তে শিখে গেল। বাবা ওকে নতুন নতুন গল্পের বই এনে দেন। বাবা তো গল্প বলে ঘুম পাড়াতে পারেন না।

    এমনি করে করে একদিন বোনের এক বছরের বার্থডে পার্টি এসে গেল। তার আগেই অবশ্যি তাতাইয়ের নিজের জন্মদিন এসেছিল।

    মা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, তাতাই আর তার বন্ধুরা চিড়িয়াখানায় যাবে জন্মদিনের জন্যে। আসল দিনটাতে তো হবে না, সেদিন তো ইসকুল আছে—বুধবার। কিন্তু শনিবার স্কুল ছুটি, সেদিন ওর বার্থডে পার্টি হল।

    বাবা ওদের দু’জনকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে গিয়ে বেড়িয়ে আনলেন। আসার সময়ে রেস্তোরাঁয় কোল্ড ড্রিংকস, পিৎজা, চিকেন কাটলেট আর বার্থডে কেক খাওয়া হল।

    বোনটি, মা, বেণুদি বাড়িতে থাকলেন। কীরকম যেন বার্থডে পার্টি এটা! তার চেয়ে অনেক ভালো লেগেছিল আসল জন্মদিনের দিনটা। যেদিন ঘরেই মা তাতাইকে নতুন শার্ট—প্যান্ট পরিয়ে কোলের কাছে বসিয়ে জন্মদিনের পায়েস রান্না করে, মাছের মুড়োর কালিয়া দিয়ে, ঘি—ভাত খাইয়ে দিয়েছিলেন নিজের হাতে মেখে, সেইটেই তাতাইয়ের আসল জন্মদিনের পার্টির মতো মনে হয়েছিল।

    ”তাতাই!”

    বেণুমাসি ডাকছে। স্নানে যেতে বলছে।

    মা যখন থেকে চলে গেছেন তখন থেকে বেণুমাসিই ওকে খেতে ডাকে, স্নানে পাঠায়।

    মা চলে গিয়েছেন।

    বোনকে নিয়ে চলে গিয়েছেন। না, বীরভূমে না। অসমেও না। অন্য কোথাও।

    বাবার আর—একজন বউ এসেছেন। মা না, অন্য একজন বউ। তার নাম সোনিয়া আন্টি। সোনিয়া আন্টি একটা কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাঁরও নিজের একটা গাড়ি আছে। সেই গাড়ি চালিয়ে রোজ অফিসে যান, বাবার আগে—আগেই। বাবার অফিস দূরে, কিন্তু সোনিয়া আন্টির অফিস আরও দূরে।

    সোনিয়া আন্টিকে দেখতে বেশ ভালো। টিভিতে বিজ্ঞাপনে যেসব সুন্দর সুন্দর মেয়েকে দেখতে পাওয়া যায়, অনেকটা তাদের মতন। এক—একদিন এক—একরকম পোশাক, কখনও সালোয়ার কামিজ, কখনও প্যান্ট—সুট, কখনও স্কার্ট। অফিসে শাড়ি পরেন না সোনিয়া আন্টি। বাড়িতেও না। মা তো কেবল শাড়িই পরতেন। ডুরেশাড়ির আঁচল কোমরে জড়িয়ে মা বিষ্টির মধ্যে নাচতেন, ভিজে গিয়ে শাড়িটার ডুরেগুলো মার সার গায়ে জড়িয়ে যেত, মাকে বিজ্ঞাপনের মেয়েদের চেয়ে অনেক অনেক সুন্দর দেখাত। ঠিক জলপরির মতন।

    মা এখন আসানসোলের একটা স্কুলে পড়াচ্ছেন। বোনটিকে দিদিমা দেখাশোনা করেন। দিদিমাও এখন আসানসোলে থাকেন। কেউ আর বীরভূমে নেই। বীরভূমের বৃষ্টি তাতাইয়ের দেখা হয়নি। দাদু ওখানে কাজ করতেন তো। দাদুই এখন নেই। স্বর্গে গেছেন। বড় মামার আসানসোলে চাকরি। মা বোনটিকে নিয়ে সেখানেই আছেন। বোনটি তো ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, কথাও কইতে পারে না ঠিকমতো।

    ওকে একটা স্পেশ্যাল স্কুলে দিতে হবে। তাতাই শুনেছে—বাবা সোনিয়া আন্টিকে বলছিলেন, কলকাতায় ওরকম একটা স্কুল আছে। বোনকে ওখানে ভর্তি করা হবে। তার আগে মাকে কলকাতায় একটা চাকরি খুঁজতে হবে। আন্টি জিজ্ঞেস করছিলেন, দিদিমাও কি কলকাতায় এসে থাকবেন, নইলে কে দেখবে বোনকে? বাবা বলতে পারেননি কিছু।

    তাতাই চুপ করে শুনছিল আর মনে মনে ঠিক করেছিল, মা একবার কলকাতায় চলে আসুন না, তারপর তাতাই—ই দেখবে বোনকে।

    বেণুমাসিকে নিয়ে তাতাই চলে যাবে মা আর বোনটির বাড়িতে।

    এই যে মা—বাবার ডিভোর্স হল, আর তাতে ঠিক হল যে, তাতাই থাকবে বাবার কাছে, আর বোনটি থাকবে মায়ের কাছে, একটা খুব ভুলভাল ব্যবস্থা। কেন তাতাইও মায়ের কাছে থাকবে না? বাবা কি তাতাই কী কী খেতে ভালোবাসে, জানেন? বাবা কি জানেন বিষ্টি পড়লে তাতাইয়ের বুকের মধ্যে কেমন করে? জানেন কি বাবা যে, খসখসের পাখাকে জলে ভিজিয়ে বাতাস করলে চন্দনের গন্ধ বেরোয়? মা ওকে একটা খসখসের পাখা দেবেন বলেছিলেন, সেইটি চেয়ে নেওয়া হয়নি।

    একদিন ওরা গিয়েছিল। বাবা নিয়ে গেছিলেন আসানসোলে। মাকে, বোনকে দেখে এসেছিল তাতাই। রাত্রে বাবার সঙ্গে হোটেলে ছিল। মা—র কাছে শোয়া হয়নি। বোন বড় হয়েছে, ‘দাদাই—দাদাই’ বলে ডাকতে পারে। ভালো করে হাঁটতে পারে না, ঠিকমতো কিছুই করতে পারে না বোনটি, কেবল খুব হাসে।

    কলকাতার স্কুলে ভর্তি হলেই একদম সেরে যাবে—সবকিছু পারবে। বাবা বলেছেন, স্কুলটা খুব ভালো। বোনের নাম মা রেখেছেন বৃষ্টি।

    আজ সকাল থেকে বিষ্টি পড়ছে।

    তাতাই জানালাটা বন্ধ করে দিল।

    বিষ্টির দিনে তাতাইয়ের মন ভালো লাগে না।

    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Demo
    Most Popular

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025
    Our Picks

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    August 30, 2025

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    August 30, 2025
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2025 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    Sign In or Register

    Welcome Back!

    Login below or Register Now.

    Lost password?

    Register Now!

    Already registered? Login.

    A password will be e-mailed to you.