Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রবিনহুড – কাজী আনোয়র হোসেন

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প347 Mins Read0
    ⤷

    ১. কিভাবে রবিন দস্যু হলো

    ১. কিভাবে রবিন দস্যু হলো

    গভীর গহীন এক বিশাল জঙ্গল। নাম শেরউড ফরেস্ট। সেই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একটা আঁকাবাঁকা সরু পথ ধরে দ্রুত, দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে এক যুবক। পরনে সবুজ পোশাক, মাথায় নীল রঙের হুড, কাঁধে প্রকাণ্ড এক ধনুক, পিঠের তূণে বিশ-পঁচিশটা তীর। চলার ছন্দে দুলছে কোমরে ঝুলানো খাপে পোরা ছোট্ট ছোরাটা।

    পথের দুপাশে দাঁড়ানো প্রকাণ্ড উঁচু ওক গাছের ফাঁক দিয়ে জঙ্গলের বেশ কিছুটা অংশ দেখা যায়। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো যুবক। একদল হরিণ ছুটে চলে যাচ্ছে। চট্ করে একটা হাত চলে গেল ওর ধনুকের কাছে। অপর হাতে তূণ থেকে একটা তীর তুলে নিতে গিয়েও সামলে নিল সে নিজেকে। না। এটা রাজার সংরক্ষিত জঙ্গল, ওগুলো রাজার হরিণ। ওগুলোর একটা মারলে চোখ উপড়ে নেয়া হবে, কান কেটে দেয়া হবে, এবং আরও এমন সব ভয়ঙ্কর শাস্তি দেয়া হবে যার চেয়ে মৃত্যুও অনেক ভাল। বেআইনী কিছু করে বসা ঠিক হবে না।

    আবার হাঁটতে শুরু করলো যুবক। কিছুদূর এগিয়ে রাস্তা ছেড়ে ঢুকে পড়লো জঙ্গলে। ওর জানা আছে, জঙ্গলের ভেতর দিয়ে কিছুটা এগোলে অনেকখানি ঘুরপথ এড়ানো যাবে। তাছাড়া জঙ্গল ওর ভাল লাগে। ভাল লাগে জংলী পাখির কল-কাকলি। এদিকটায় এখানে-ওখানে হলি আর হেজেলউডের ঝোপঝাড়। পাশ কাটিয়ে এগোচ্ছে, হঠাৎ কর্কশ একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

    ‘অ্যাই! দাঁড়াও! রাজার জঙ্গল মাড়াচ্ছো যে? কে তুমি? কোথায় যাওয়া হচ্ছে অমন বীরদর্পে?’

    ঘুরে দাঁড়ালো যুবক। দেখলো পাঁচ-ছয়জন লোক বসে আছে একটা মস্ত ওক গাছের নিচে, পান-ভোজনে ব্যস্ত। ওদের মধ্যে একজন উঠে দাঁড়িয়েছে ওকে দেখে! এক নজরেই চিনতে পারলো যুবক এদের। জঙ্গল-রক্ষী। সসম্ভ্রমে সালাম করলো সে।

    ‘আমার নাম,’ মৃদু হেসে বললো যুবক, রবার্ট ফিযুথ। ‘যদিও বেশির ভাগ লোক আমাকে ডাকে রবিন হুড বলে। যাচ্ছি নটিংহাম শহরে।’

    ‘কেন? কি কাজ তোমার নটিংহামে?’

    ‘ওখানকার শেরিফ একটা শূটিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক বড় বড় তীরন্দাজ আসছেন। আমিও চলেছি আমার তীর-ধনুক নিয়ে।’

    হো হো করে হেসে উঠলো লোকটা। ‘বলে কি পুঁচকে ছোঁড়া! বড়দের একটা ধনুক কাঁধে নিয়ে বেড়ালেই কি তীরন্দাজ হওয়া যায়?’ আবার হাসলো একপেট। ও ধনুকে ছিলা পরাবার ক্ষমতা আছে নাকি তোমার? লক্ষ্যভেদের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম।

    ‘আরে দূর!’ বলে উঠলো ভোজনরত একজন গার্ড। ‘দুধের বাচ্চা, ধনুকটা একটু বাঁকা করেই দেখাক না খোকন!’

    টিটকারি শুনে রাগে লাল হয়ে গেল রবিনের মুখটা। জ্বলে উঠলো দুই চোখ। ‘বেশ তো!’ বললো সে, ‘তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল তীরন্দাজ, এসো না, বাজি হয়ে যাক। দেড়শো গজের মধ্যে যে-কোন লক্ষ্য ভেদ করে দেব আমি।’

    ‘কি বাজি ধরবে? কত আছে তোমার কাছে, ছোকরা?’ সকৌতুকে জানতে চাইলো দাঁড়ানো লোকটা। হাতে ধরা রূপোর পাত্র থেকে মদ খেল এক ঢোক। রবিন বুঝলো, এই লোকটাই রক্ষীদের দলনেতা।

    ‘বিশ মার্ক,’ জবাব দিল সে।

    ‘বেশ!’ ভুরু কুঁচকে উঠলো দলনেতার। বোঝা গেল রেগে গেছে সে এই অল্পবয়েসী যুবকের ঔদ্ধত্য দেখে। হঠাৎ একটা আঙুল তুললো সে বহুদূরের একটা ঝোপের দিকে। ‘ঐ যে তোমার টার্গেট। লাগাও দেখি?’

    রবিন চেয়ে দেখলো কোত্থেকে দৌড়ে এসে ঝোপটার পাশে থমকে দাঁড়িয়েছে একদল হরিণ। টের পেয়েছে কাছে-পিঠে মানুষের উপস্থিতি। সবার আগে রয়েছে একটা বিশাল শিং-অলা পুরুষ হরিণ। নাক ওপরে তুলে গন্ধ নেয়ার চেষ্টা করছে, অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে সামনের একটা পা ঠুকছে মাটিতে।

    কোন কথা না বলে ধনুকটা নামাল রবিন কাঁধ থেকে, বাঁকা করে ছিলা পরালো তাতে, তারপর তূণ থেকে বেছে বের করলো পছন্দসই একটা তীর। ওর সহজ স্বচ্ছন্দ ভঙ্গি দেখে টের পেয়ে গেল সবাই, যে-সে লোক নয় এই যুবক, অল্পবয়সী হলে কি হবে, প্রচণ্ড শক্তি রয়েছে ওর গায়ে, আর রয়েছে তীর-ধনুকের ব্যাপারে অসাধারণ দক্ষতা। বাঁকা হয়ে গেল বিশাল ধনুকটা। ডান হাতটা চলে এসেছে কানের পাশে।- পরমুহূর্তে মৃদু ঝংকার উঠলো ছিলায়। বাতাসে শিস কেটে ছুটলো তীর। সবাই দেখল, লাফিয়ে শূন্যে উঠলো বড় হরিণটা, তারপর ধড়াশ করে পড়লো মাটিতে। ঠিক হৃৎপিণ্ডে গেঁথে রয়েছে তীরটা।

    কয়েক মুহূর্ত বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে রইলো বনরক্ষীর দল, তারপর প্রশংসার মৃদু গুঞ্জন উঠলো ওদের মধ্যে। হাসিমুখে রক্ষী-প্রধানের দিকে ফিরলো রবিন। হাত বাড়ালো।

    ‘দিন’। বিশ মার্ক পাওনা হয়েছি আমি।’

    বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো লোকটার মুখে। বললো, ‘দিচ্ছি। তবে বিশ মার্ক নয়। তোমার আসল পাওনা কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে দেব আমি।’ কুৎসিত চাতুরীর একটা ভাব খেলা করছে ওর চোখেমুখে। ‘তোমার কি পাওনা হয়েছে জানো? আইন ভঙ্গের উপযুক্ত সাজা। রাজার হরিণ মেরেছো, নিশ্চয়ই জানা আছে তোমার এই অপরাধের শাস্তি কি? সেটাই দেয়া হবে তোমাকে।’ নিজের লোকদের ইঙ্গিত করলো সে, ‘ধরো, ধরো ব্যাটাকে!’

    মুহূর্তে বুঝে নিল রবিন ওদের কথায় রেগেমেগে বাহাদুরি দেখাতে গিয়ে কি ভয়ঙ্কর বিপদে জড়িয়ে ফেলেছে নিজেকে। ছুটে পালাবার জন্যে পা বাড়ালো, কিন্তু তখন দেরি হয়ে গেছে। ঝাঁপিয়ে পড়লো ওর ওপর দু’জন জঙ্গল-রক্ষী, তাদের সাহায্যের জন্যে এগিয়ে এলো আরো দু’জন। মাটিতে পেড়ে ফেলে ঠেসে ধরা হলো ওকে, বেঁধে ফেলা হলো হাত-পা।

    ‘যাক, হাতে নাতে ধরা গেল এক হারামজাদাকে!’ বললো রক্ষী-প্রধান। ‘হরিণ চুরি যাচ্ছে, অথচ বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও চোর ধরতে পারছি না খেপেই উঠছিল শেরিফ। আজ শান্ত করা যাবে তাকে।’

    কথা শুনে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে এলো রবিনের। নিজের কর্মতৎপরতার প্রমাণ দেখাবার জন্যেই ওকে হরিণ মারার ফাঁদে ফেলেছে লোকটা। এখন ওকে নটিংহামে নিয়ে গিয়ে চালান দিয়ে দেবে হরিণ-চোর হিসেবে। নর্মান শেরিফের কাছে কাকুতি মিনতি করে যে কোন লাভ হবে না, ভাল করেই জানা আছে ওর। ওর কথা কানেই তুলবে না সে। ও চোর হোক বা না হোক, কিছু এসে যায় না অত্যাচারী নিষ্ঠুর শেরিফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার সুযোগ সে কোনমতেই হাতছাড়া করবে না, যাতে ওর ভয়াবহ পরিণাম দেখে সাবধান হয়ে যায় অন্য সব স্যাক্সন প্রজা।

    রক্ষী-প্রধানের কথা শুনে হৈ হৈ করে উঠলো সব ক’জন রক্ষী। প্রস্তাবটা খুবই পছন্দ হয়েছে তাদের। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করলো হরিণটার চামড়া ছাড়িয়ে সেই চামড়া দিয়ে মুড়ে নিয়ে যাওয়া হবে ছোকরাকে শহরে। ব্যাস, লেগে গেল ওরা কাজে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রবিনকে হরিণের উত্তপ্ত পিচ্ছিল চামড়ার খোলসের মধ্যে ঢুকিয়ে বেঁধে ফেলা হলো বাইরে থেকে। মাথাটা শুধু বেরিয়ে আছে ঠিক যেখানে হরিণের মাথা ছিল সেই জায়গা দিয়ে।

    রাগে দুঃখে জ্বলছে রবিনের কলজেটা। এইসব নীচ বিশ্বাসঘাতকদের কাছে সে প্রমাণ করতে গিয়েছিল ধনুর্বিদ্যার দক্ষতা! চোখের সামনে ভেসে উঠছে নটিংহামের বাজারটা। নিজের চোখে দেখেছে সে ওখানে এক হরিণ-চোরের শাস্তি। বেচারা ক্ষুধার জ্বালায় মেরেছিল হরিণটা। লোকটার যন্ত্রণাকাতর চেহারা, গোঙানি আর নিরুপায় ছটফটানি মনে আছে স্পষ্ট। সেই একই ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে ওর নিজের কপালে, ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠছে সে বারবার। বাকি জীবনটা অন্ধ আর পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকার কথা কল্পনাও করা যায় না। বারবার শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে হাত-পায়ের বাঁধন ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করলো সে। কিন্তু বৃথা চেষ্টা, বাঁধন আলগা তো হলোই না, বরং এঁটে বসলো আরও।

    ‘এখন এ ব্যাটাকে শহরে নিয়ে যাওয়ার কি ব্যবস্থা?’ জানতে চাইল একজন গার্ড। মাথা চুলকালো রক্ষী-প্রধান, তারপর বললো, ‘আধ মাইল দূরে জনা তিনেক স্যাক্সন কাঠুরেকে কাঠ কাটতে দেখেছিলাম না? তুমি এক কাজ করো, ডিকন। দৌড়ে গিয়ে ডেকে নিয়ে এসো ওদের। টানা গাড়িটাও সাথে করে আনতে বলবে, যাও।’

    ছুটে চলে গেল ডিকন। খানিক বাদেই ফিরে এলো টানাগাড়ি সহ কাঠুরেদের নিয়ে।

    ‘তোলো এই ব্যাটাকে গাড়িতে,’ হুকুম করলো রক্ষী-প্রধান কাঠুরেদের উদ্দেশে। ‘তারপর টেনে নিয়ে চলো শহরে।’

    তিনজন কাঠুরের মধ্যে দুজন দ্রুত এগিয়ে এলো হুকুম পালন করতে, তৃতীয়জন এগোলো অনেকটা যেন ইচ্ছের বিরুদ্ধে। পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে অত্যন্ত নিম্নবিত্ত লোক এরা। প্রথম দুজন বৃদ্ধ, কিন্তু তৃতীয়জন বছর তিরিশেক বয়সের শক্ত সমর্থ এক যুবক। কেউ কোন কথা বললো না, তিনজন মিলে রবিনকে টানা গাড়িতে তুলে নিয়ে চললো শহরের দিকে।

    আধ মাইলের মত গিয়ে একটা এবড়োখেবড়ো রাস্তায় পড়লো গাড়ি। জোরে ঝাঁকুনি খেতে খেতে এগোচ্ছে, কাত হয়ে যাচ্ছে এদিক ওদিক, রবিনের বস্তাবন্দী শরীরটা অসহায় ভঙ্গিতে গড়িয়ে গিয়ে একবার ধাক্কা খাচ্ছে গাড়ির এদিকে, একবার ওদিকে। আর তাই দেখে হাসিতে ফেটে পড়ছে জঙ্গল-রক্ষীরা।

    গাড়ির পিছন পিছন হাসাহাসি করতে করতে হাঁটছে ওরা, হঠাৎ একলাফে সামনে এগিয়ে গেল রক্ষী-প্রধান। ধনুকটা মাথার ওপর তুলে প্রচণ্ড জোরে মারলো কম বয়েসী কাঠুরের কাঁধের ওপর।

    ‘অ্যাই, হারামজাদা!’ চেঁচিয়ে উঠলো রক্ষী-প্রধান, ‘ঠিক মত টানছিস না কেন? স্যাক্সনী বেয়াড়াপনা দেখানো হচ্ছে, না?’ এই বলে দমাদম আরো কয়েকটা কিল ঘুসি বসিয়ে দিল লোকটার ঘাড়ে মাথায়।

    রাগে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল যুবক কাঠুরে, চট্ করে ডান হাতটা চলে গিয়েছিল ওর কোমরে গোঁজা ছোরাটার বাঁটের ওপর, কিন্তু বৃদ্ধ একজনের সাবধানবাণী কানে যেতেই সরিয়ে নিল হাতটা।

    ‘উইল, মাথাটা ঠাণ্ডা রাখো, বাপ!’ কাঁপা গলায় বলে উঠলো বৃদ্ধ, ‘শান্ত হও। জঙ্গল-রক্ষীদের রাগানো ঠিক না।’

    ‘ঠিকই বলেছে বুড়ো হাবড়া, কর্কশ কণ্ঠে হেসে উঠলো রক্ষী-প্রধান। ‘আমাদের রাগিয়ে দিলে প্রচুর ক্ষতির আশঙ্কা আছে। হয়েছে এবার। জান-প্রাণ দিয়ে টানো তো এখন, স্যাক্সন কুত্তার বাচ্চারা।’ আবার এক পশলা কিল ঘুসি বর্ষণ করলো লোকটা তরুণ কাঠুরের ঘাড়ে মাথায়। বাধা দিল না তরুণ, পিঠ বাঁকা করে ঘ গুজে সহ্য করে নিল নির্যাতন, একান্ত বাধ্য ভৃত্যের ভঙ্গিতে আবা টানতে শুরু করলো গাড়ি। কিন্তু রবিন লক্ষ্য করলো, ধক্ ধক্ করে জ্বলছে যুবকের চোখ।

    বেশ অনেকদূর এগোবার পর একটা বাঁক ঘুরতেই দেখা গেল ছোট্ট একটা গ্রাম। একটা বাড়ির দরজার দু’পাশে লতা-ঝোপ দিয়ে সাজানো।

    ‘সরাইখানা!’ খুশি হয়ে বললো একজন রক্ষী। ‘এখানে থেমে দু’ঢোক মদ খেয়ে নিলে কেমন হয়? উহ্, পিপাসায় একেবারে শুকিয়ে গেছে বুকটা।’

    একবাক্যে রাজি হয়ে গেল বাকি সবাই। ছোট্ট সরাইখানার সামনে থামানো হলো টানা গাড়ি। নিজেদের জন্যে মদের অর্ডার দিল রক্ষীরা।

    সরাইখানার সামনে মদের পাত্র হাতে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছিল রক্ষীরা, এমনি সময় ওদের একজন চেঁচিয়ে উঠলো, ‘ঐ দেখো কারা আসে!’

    দেখা গেল, আরো পাঁচজন জঙ্গল-রক্ষী আসছে এই দিকেই, তাদের সামনে হাঁটছে দু’জন হাত বাঁধা লোক।

    ‘বাহ্ বাহ্!’ খুশিতে চেঁচিয়ে উঠলো রক্ষী-প্রধান। ‘জমেছে ভাল। ওরাও দুটো ডাকাত ধরেছে দেখা যাচ্ছে! মোট হলো তিনটে…খুশিতে নাচবে আজ শেরিফ! ওহে, কিভাবে ধরলে ওগুলোকে?’

    ওরা জানে এই জঙ্গলেরই কোথাও কয়েকজন দুর্ধর্ষ দস্যু থাকে, রাজার হরিণ মেরে খায়, পথিকদের সর্বস্ব লুট করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কিভাবে ধরা পড়লো জানার আগ্রহে সবাই এগিয়ে গেল অগ্রসরমান দলটির দিকে। শক্ত বাঁধন কেটে যে রবিন হুড পালাতে পারবে না, সে ব্যাপারে ওরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত; আর অনুমতি ছাড়া স্যাক্সন কাঠুরেরা যে এক পা নড়তে সাহস পাবে না, এটাও জানা কথা; কাজেই এদিকে লক্ষ্য রাখার কোন প্রয়োজন বোধ করলো না।

    কিন্তু ওরা কয়েক পা এগোতেই এদিক-ওদিক চেয়ে নিয়ে ছুট লাগালো বুড়ো কাঠুরে, যে সাবধান করেছিল তরুণকে। দুটো বাড়ির মাঝখানের সরু রাস্তা ধরে পাখির মত উড়ে যাচ্ছে সে। দ্বিতীয় বৃদ্ধ হাঁ করে চেয়ে ছিল রক্ষীদের দিকে, টেরও পেল না কিছু, বোকার মত হাসাহাসি দেখছে ওদের, নিজেও হাসছে।

    যুবক উইল ওর বাপের পিছন পিছন ছুটতে গিয়েও থমকে দাঁড়িয়ে চাইলো রবিনের দিকে। কথা বললো না রবিন, পাছে শুনে ফেলে রক্ষীরা, কিন্তু মিনতি ফুটে উঠলো ওর চোখের দৃষ্টিতে। এক হাঁটু ভাঁজ করে ঠেলাগাড়ির পাশে বসে পড়লো উইল, কোমর থেকে ছোরাটা বের করে ঘ্যাঁচ ঘাঁচ করে কেটে দিল সমস্ত বাঁধন।

    মুক্ত হলো রবিন। ওর ধনুক আর তীরভরা তূণ রাখা ছিল গাড়িরই একপাশে, নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল অপরাধের প্রমাণ হিসেবে শেরিফকে দেখানোর জন্যে। চট করে সেগুলো হাতে তুলে নিয়েই ছুটলো সে উইলের পিছন পিছন। উইল ততক্ষণে বেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে, প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে সরু রাস্তাটা ধরে।

    ‘হব্! হ!’ দৌড়াতে দৌড়াতেই চেঁচিয়ে উঠলো উইল। ‘দৌড়াও! পালাও শিগগির!’

    ডাকটা কানে যেতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেন এদিকে ফিরলো বৃদ্ধ কাঠুরে, সঙ্গী-সাথী সব হাওয়া হয়ে গেছে দেখে হাঁ হয়ে গেল ওর মুখ, চোখ তুলেই দেখতে পেল দৌড়াচ্ছে উইল। দুর্ভাগ্যবশতঃ উইলের ডাকটা রক্ষীদের কানেও পৌছালো। পাঁই করে ঘুরে দাঁড়ালো রক্ষী-প্রধ মুহূর্তে ব্যাপারটা বুঝে নিয়েই ক্রুদ্ধ হুঙ্কার ছাড়লো একটা।

    ‘পালাচ্ছে! পালাচ্ছে হারামীরা!’ চেঁচিয়ে উঠলো সে, ‘বাঁধন খুলে দিয়েছে বন্দীর। ছোটো, ছোটো সবাই! ধরে নিয়ে এসো ওদের, জীবিত বা মৃত।’

    কথা বলতে বলতেই একটা তীর লাগিয়ে ফেলেছে সে তার ধনুকে, কান পর্যন্ত নে এনেছে ছিলাটা। এতক্ষণে হুঁশ ফিরে পেয়ে দৌড়াতে শুরু করেছে হব, বুঝতে পেরেছে জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু বুড়ো মানুষ, ধীর গতি, আড়ালে সরে যাওয়ার আগেই প্রচণ্ড বেগে ছুটে এলো তীর, ঘ্যাঁচ করে বিধলো এসে পিঠে। হুড়মুড় করে মুখ থুবড়ে পড়লো সে মাটিতে, আর নড়লো না। থির থির করে কাঁপছে শুধু পিঠে বেঁধা তাঁরটা।

    ছোট্ট একটা আঙিনায় এসে পৌঁছলো রবিন। ওপাশের কাঠের দেয়ালটা টপকাচ্ছে উইল। বৃদ্ধ কাঠুরেকে দেখা যাচ্ছে না। দৌড়ে গিয়ে দেয়াল টপকালো সে-ও। সামনে বেশ কিছুদূর খোলা মাঠ, তারপর জঙ্গল। দেখা গেল, দুর্বল পায়ে জঙ্গলের দিকে ছুটছে বুড়ো, তার কিছুটা পিছনে উইল।

    প্রাণপণে ছুটলো রবিন। জঙ্গলের কাছাকাছি এসেই চিৎকার শুনে তাকাল পিছন ফিরে। পাঁচ ছ’টা মাথা দেখা যাচ্ছে কাঠের দেয়ালের ওপাশে। দেয়াল টপকাচ্ছে ওরা। এক দৌড়ে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়লো সে। দেখলো কিছুদূর এগিয়ে অপেক্ষা করছে ওর জন্যে উইল।

    ‘এদিকে! এদিকে!’ হাঁক ছাড়লো উইল, ছুটলো আবার। কিছুদূর এগিয়েই ছুটন্ত বৃদ্ধকে দেখতে পেল রবিন। মিনিট দশেক দৌড়ে একটা জলা মত জায়গায় এসে পৌঁছলো ওরা। জলাটা বিপজ্জনক চোরা কাদায় ভর্তি। সাবধানে পা ফেলে ফেলে বৃদ্ধের পিছন পিছন ওপারে গিয়ে শক্ত জমিতে উঠলো ওরা দুজন। আরো কিছুদূর এগিয়ে একটা বিশাল ওক গাছের নিচে বসে পড়লো বৃদ্ধ, বিশ্রাম না নিয়ে আর এক পা- ও এগোনো সম্ভব নয় তার পক্ষে।

    ‘হবু কোথায়?’ হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করলো বৃদ্ধ।

    ‘মারা গেছে,’ বললো উইল। ‘দেরি করে ফেলেছিল। দেখলাম, একটা তীর এসে বিধলো ওর পিঠে।

    ‘হ্যাঁ, রক্ষীদের নেতার ছোঁড়া তীর, আমি দেখেছি,’ বললো রবিন।

    এপাশ ওপাশ মাথা নাড়লো বৃদ্ধ। ‘ওদের সামনে পড়লে আমাদেরও ঐ একই অবস্থা হবে। উইলের হাত যখন ছোঁরার বাঁটে চলে গিয়েছিল, আমি তো ভেবেছিলাম তখনই খুন করবে লোকটা ওকে। করতো, যদি সেই সময়ে গাড়ি টানার জন্যে ওর প্রয়োজন না থাকতো। বড় নিষ্ঠুর লোক!’

    ‘অনেক কষ্টে সামলে নিয়েছিলাম আমি তখন,’ বললো উইল। ‘ওরকম অন্যায় মার হজম করা কঠিন।’

    ‘হুঁ!’ চিন্তামগ্ন কণ্ঠে বললো বৃদ্ধ, ‘এক সময় আমরাই ছিলাম জমির মালিক। নর্মানরা অন্যায়ভাবে দখল করে নিল সব। এখন এমন অবস্থা হয়েছে, আমরা যেন কুকুরের চেয়েও অধম। যাই হোক, যা ঘটে গেল, এখন আর আমাদের গ্রামে ফেরা সম্ভব নয়। লুকিয়ে থাকতে হবে আমাদের জঙ্গলের মধ্যে। নইলে ধরে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেবে ফাঁসীকাঠে।’

    ‘আমাকে হয়তো ফাঁসীকাঠে ঝোলাতো না,’ বললো রবিন। ‘কিন্তু তার চেয়েও খারাপ অবস্থা করে ছাড়তো ওরা নটিংহামে নিয়ে গিয়ে। আমার হাত-পায়ের বাঁধন কেটে দিয়ে তুমি মস্ত বড় বন্ধুর কাজ করেছ, উইল। উইলের একটা হাত ধরলো রবিন, ‘তোমাকে ধন্যবাদ। অসংখ্য, অসংখ্য ধন্যবাদ।

    ‘ও কিছু না!’ বললো উইল। দু’চারটে পোঁচ দিয়েছি ছোরার, এর বেশি তো কিছু নয়। কিন্তু তুমি, ভাই, কি করে ধরা পড়লে ওদের হাতে? কি দোষ করেছিলে?’

    সব খুলে বললো রবিন। শুনে ভুরু কুঁচকে গেল কাঠুরেদের। উইল বললো, ‘কী নিষ্ঠুর, আর ভয়ঙ্কর! ওদের নীচ কৌশল একের পর এক ফাঁদে ফেলে চলেছে আমাদের সবাইকে।’

    উঠে দাঁড়ালো বুড়ো। যাক, ওদের নাগালের বাইরে আমরা এখন। যতদিন পারা যায়, আমাদের চেষ্টা করতে হবে ওদের আওতার বাইরে থাকার। এসো আমার সাথে, চলো, আরও নিরাপদ জায়গায় সরে যাই।’

    কিন্তু নড়লো না রবিন।

    ‘বাকি দু’জন বন্দীর জন্যে খারাপ লাগছে,’ বললো সে। ‘নটিংহামে একবার নিয়ে গেলে ওদের কপালে যে কি ঘটবে বোঝাই যায়।’

    ‘পরিষ্কার,’ বললো উইল। ‘একেবারে পানির মত। অথচ এরাও কিন্তু আমাদেরই মতু স্যাক্সন। নর্মানদের নির্যাতনে অস্থির হয়ে শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছে দস্যুবৃত্তি। জমিজমা ….

    ‘সব হারিয়েছে,’ কথার মাঝখানেই বলে উঠলো বুড়ো। ‘অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে বাধ্য হয়েছে ওরা জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিতে। কী জীবন! জঙ্গল-রক্ষীদের তাড়া খেয়ে বনে বাদাড়ে পালিয়ে বেড়ানো… ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি!’

    ‘ওরা যে-পথে নটিংহামে যাবে, ওদের আগেই সেই পথের কোথাও পৌঁছানো সম্ভব?’ উইলের দিকে ফিরে জানতে চাইলো রবিন।

    ‘তা সম্ভব,’ বললো উইল। ‘কিন্তু লাভ কি তাতে? একদল জঙ্গল-রক্ষীর বিরুদ্ধে কি করতে পারবে তুমি একা?’

    ‘ঠিক কি করতে চাই তা আমি নিজেও জানি না এখনও,’ বললো রবিন। তবে ওদের সাহায্য করার জন্যে ভেতরটা ছটফট করছে। তীর-ধনুকে আমার হাত ভাল। যাই তো আগে, তারপর একটা না একটা উপায় বেরিয়ে যাবেই। তাছাড়া চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কি?’

    ‘ঠিক বলেছো, বন্ধু,’ বললো উইল। ‘চলো, আমি তোমাকে পথ দেখাবো। আব্বা, তুমি চলে যাও আমাদের সেই জায়গায়। সেই বুড়ো ওক গাছের নিচে দেখা হবে।’

    জঙ্গলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল বুড়ো, রবিন রওনা হলো উইলের পিছন পিছন অন্য এক পথে।

    মিনিট বিশেকের মধ্যেই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কোনাকুনি এগিয়ে সেই ছোট্ট গ্রামটার কাছে এসে পৌছলো ওরা অন্যদিক থেকে। রাস্তার ধারের একটা ঘন ঝোপের আড়াল থেকে উঁকি দিতেই দেখা গেল, ঠিক সময় মতোই পৌঁছেছে ওরা, বন্দী দু’জনকে সাথে নিয়ে মাত্র রওনা দিয়েছে রক্ষী-বাহিনী। টানাগাড়িটা পড়ে আছে যেখানে ছিল সেখানেই। ওর থেকে সামান্য কিছুটা দূরে রাস্তার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে হবের মৃতদেহ, যেমন ছিল তেমনি। লাশটার সৎকারের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামায়নি ওরা, যেন ওটা কুকুরের লাশ।

    মাথায় রক্ত চড়ে গেল রবিনের। চাপা গলায় শুধু বললো, ‘প্রতিশোধ!’

    রবিনের মুখের দিকে চেয়ে মাথা ঝাঁকালো উইল, কিন্তু কিভাবে সেটা নেয়া সম্ভব মাথায় ঢুকলো না ওর।

    ভুরু কুঁচকে কি যেন চিন্তা করলো রবিন, তারপর বললো, ‘এই রাস্তা কোথায় কিভাবে বাঁক নিয়ে কি ধরনের এলাকা দিয়ে শহরে পৌঁছেছে বর্ণনা করতে পারবে?’

    শুরু করলো উইল স্টিউটলি, কিন্তু একটু পরেই হাত তুলে থামিয়ে দিল ওকে রবিন। ‘ব্যাস, ব্যাস। পেয়ে গেছি আমার পছন্দসই জায়গা। সমতল খোলা জায়গা বললে না? ওইখানে নিয়ে চলো আমাকে। মনে রেখো, পৌঁছতে হবে ওদের আগেই।’

    জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দ্রুতপায়ে এগোলো ওরা। যখন পৌছলো তখন খোলা জায়গাটার ঠিক মাঝখানে পৌঁছে গেছে রক্ষী দল। জঙ্গলের মধ্যে উইলকে অপেক্ষা করতে বলে পরিষ্কার খোলা জায়গায় বেরিয়ে এলো রবিন।

    ‘খবরদার!’ হাঁক ছাড়লো সে, ‘বন্দীদের ছেড়ে দাও, নইলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে!’

    প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারলো না রক্ষী-প্রধান। দুঃসাহস আর কাকে বলে! খোলা জায়গায় একা দাঁড়িয়ে এতগুলো লোককে ধমক দিচ্ছে এক পুঁচকে ছোঁড়া! কোন জবাব দিলো না সে। ওর একমাত্র চিন্তা, জঙ্গলের আড়ালে আবার পালিয়ে যাওয়ার আগেই করতে হবে যা করার। পিঠ থেকে ধনুকটা নামালো সে, একটা তীর লাগিয়ে গায়ের সব জোর দিয়ে টানলো ছিলা, তারপর ছাড়লো। কিন্তু দূরত্বটা এতই বেশি যে রবিনের কাছে পৌঁছলো না তীর, গজ বিশেক বাকি থাকতেই বিধলো মাটির বুকে।

    বিশাল ধনুকটা চলে এসেছে রবিনের হাতে। তূণ থেকে একটা তীর বের করে পরালো ছিলায়। পরমুহূর্তে ভ্রমরের গুঞ্জন তুলে ছুটলো তীর। ভয়ানক এক আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো রক্ষী-প্রধান, দুই হাতে টেনে বের করার চেষ্টা করছে গলা দিয়ে ঢুকে ওপাশ দিয়ে আধ হাত বেরিয়ে যাওয়া তীরটা।

    দাঁড়িয়ে পড়েছে রক্ষীরা, তাজ্জব হয়ে দেখছে অবিশ্বাস্য ঘটনাটা, ছানাবড়া হয়ে গেছে চোখ। এমনি সময় আবার ভেসে এলো রবিনের উদাত্ত কণ্ঠ, ‘ছেড়ে দাও বন্দীদের! নইলে একে একে মারা পড়বে সবাই!’

    কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করে দ্বিতীয় তীর ছুঁড়লো রবিন। দু’জন রক্ষী একজন বন্দীকে ধরে রেখেছিল দু’পাশ থেকে, তীরটা সোজা এসে বিঁধলো ওদের একজনের কাঁধে। পরমুহূর্তে উড়ে এলো তৃতীয় তীর, বিধলো দ্বিতীয় রক্ষীর কাঁধে। বসে পড়লো দু’জন মাটিতে-চিৎকার করছে গলা ফাটিয়ে। সবাই বুঝে নিল, বন্দীদের ধরে রাখার চেষ্টা করলে কারো রক্ষা নেই আজ।

    অকুতোভয় যুবকটির অব্যর্থ লক্ষ্য আতঙ্কের সৃষ্টি করলো রক্ষীদের মধ্যে। যে দু’জন দ্বিতীয় বন্দীকে ধরে রেখেছিল এক লাফে সরে গেল তারা দু’জন দু’পাশে। ওদের এই আতঙ্ক সংক্রামিত হলো আরো দু’তিনজনের মধ্যে দৌড় দিল তারা। তাই দেখে গোটা দলের মধ্যে সঞ্চারিত হলো তীব্র প্রাণভীতি, যে যেদিকে পারলো, ছুটলো ওরা তীরবেগে। এছাড়া অবশ্য উপায়ও ছিল না ওদের, আওতার বাইরে দাঁড়িয়ে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করছে দুঃসাহসী যুবক, অথচ ওরা জানে, ওদের তীর পৌঁছবে না অতদূর।

    ‘পালাচ্ছে! পালাচ্ছে!’ ঝোপের আড়াল থেকে একলাফে বেরিয়ে এলো উইল স্টিউটলি। ‘আশ্চর্য, রবিন হুড! দারুণ তোমার হাত! এবার আমার কাজ সেরে ফেলি আমি।’ কোমর থেকে ছোরাটা টান দিয়ে বের করে নিয়ে ছুটলো সে বন্দীদের দিকে। অল্পক্ষণেই দৌড়ে ফিরে এলো সদ্য-মুক্ত বন্দীদের সাথে নিয়ে।

    মুক্তির আনন্দে উচ্ছ্বসিত দুই দস্যু হাজার বার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো রবিনের কাছে। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে খুশি আর ধরে রাখতে পারছে না কিছুতেই। কি বলে যে ধন্যবাদ জানাবে, খুঁজে পাচ্ছে না ভাষা, আরো কিছু বলা দরকার মনে করে পাগলের মত বকে চলেছে। চুমো খাচ্ছে ওর হাতে।

    ‘এবার? এবার কি করবো আমরা?’ জানতে চাইলো উইল। ‘জঙ্গল-রক্ষীরা আরো দলবল জুটিয়ে হন্যে হয়ে খুঁজবে আমাদের। ওদের হাতে ধরা পড়লে…’

    ‘ঠিক বলেছো,’ বলে উঠলো একজন দস্যু। ‘আমাদের সরে পড়া উচিত।’

    মাথা ঝাঁকালো রবিন। পা বাড়ালো সামনে। পথ দেখিয়ে নিয়ে চললো উইল। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে অনেকটা পথ পেরিয়ে একটা বিশাল ওক গাছের নিচে দেখা পেল ওরা বুড়ো স্টিউটলির। সব ঘটনা শুনে বৃদ্ধ বললো, ‘এই অঞ্চলে আর থাকা যাবে না। জঙ্গলের শেষে ওই ওদিকে আমার মেয়ের বাড়ি, ওখানেই লুকাবো আমি। তুমি কি ভাবছো, উইল?’

    ‘আমি জঙ্গলেই থেকে যাব,’ বলল উইল। ‘আজ থেকে দস্যু হয়ে গেল রবিন হুড। আমি তার অনুচর।’

    বিশাল ধনুকের ওপর ভর দিয়ে কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল রবিন চুপচাপ। দস্যু! দস্যু রবিন হুড! কথাটা চমকে দিল ওকে। ধক করে উঠলো বুকের ভেতরটা। পরমুহূর্তে কথাটার সত্যতা উপলব্ধি করলো সে। সত্যিই তো, আজ সে যা করছে তার ফলে তাকে দস্যু বলে ঘোষণা করবে শেরিফ। ওর মাথার দাম ধরা হবে কয়েকশো পাউণ্ড। জঙ্গল-রক্ষী খুন করেছে সে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই আর। এখন থেকে জঙ্গলে জঙ্গলে দস্যুর জীবন কাটাতে হবে ওর। চারপাশে চাইলো রবিন। বিশাল সব গাছের শাখা দুলছে মৃদু বাতাসে, রোদ লেগে চিকচিক করছে পাতাগুলো, এখানে ওখানে ঝোপ-ঝাড়-লতা, কোথাও ঘন, কোথাও হালকা- অপূর্ব সুন্দর লাগলো ওর সবকিছু। প্রজাপতির বিচিত্র রঙ, পাখির মিষ্টি শিস আশ্চর্য এক আনন্দের জোয়ার আনলো ওর মনে-মুক্তির আনন্দ। ‘বাহুবল আর বুদ্ধির জোরে রক্ষা করবো নিজেকে,’ মনে মনে বললো রবিন। ‘মুক্ত স্বাধীন প্রাণ-চঞ্চল জীবন। নটিংহামের কারাগার বা ফাঁসীকাঠের চেয়ে অনেক অনেক ভাল।’ মনটা হালকা হয়ে গেল ওর। আবার তাকালো চারপাশে কেমন হবে জীবনটা ওর এখানে?

    ‘আমার নাম মাচ,’ বললো দস্যুদের একজন। ‘চলো না, রবিন, আজ থেকে তুমি আমাদের একজন হবে?’

    ক্ষতি কি? একটা দলের সাথে থাকতে পারলে তো ভালই। রাজি হয়ে গেল রবিন রওনা হলো ওরা। ঘন্টা দুয়েক একটানা হাঁটার পর বিরাট এক ওক গাছের নিচে খানিকটা পরিষ্কার জায়গা দেখা গেল। দাঁড়িয়ে পড়লো মাচ। কোমরে ঝুলানো একটা শিঙা মুখে তুলে ফুঁ দিল তাতে। সাথে সাথেই উত্তর এলো কাছাকাছি কোথাও থেকে, কিন্তু দেখা গেল না কাউকে। আরো তিনশো গজ এগিয়ে গেল মাচ তার সঙ্গীদের নিয়ে। দেখা গেল, একটা পাথুরে দেয়ালের পাশে বেশ অনেকটা জায়গা ঝোপ-ঝাড় কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। দেয়ালের কাছাকাছি পৌঁছতেই থেমে দাঁড়াবার হুকুম দেয়া হলো, আড়াল থেকে জানতে চাওয়া হলো ওদের পরিচয়। জবাব দিল মাচ। মাচের গলার আওয়াজ পেয়েই আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো একজন দীর্ঘদেহী লোক, তার পিছনে তাগড়া জোয়ান ছয়জন দস্যু। সবার হাতে তীর-ধনুক।

    মাচ আর তার সঙ্গীকে দেখতে পেয়েই আনন্দে আত্মহারা হয়ে চেঁচিয়ে উঠলো সবাই। ওদের বন্দী হওয়ার খবর ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে ওদের কানে।

    ‘ফিরে এসেছে!’ চিৎকার করে উঠলো একজন। মার্চ আর ওয়াট ফিরে এসেছে!’

    ‘কিভাবে?’ চেঁচিয়ে উঠলো আরেকজন। ‘কিভাবে ছুটলে ওদের হাত থেকে?’

    ‘দাঁড়াও, দাঁড়াও, সব বলছি,’ দুই হাত তুলে সবাইকে থামতে বললো মাচ। ‘এই যুবক উদ্ধার করেছে আমাদের। এতবড় দুঃসাহসী বীর, আর এত নিপুণ তীরন্দাজ জীবনে দেখিনি আমি।’ এই বলে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো সে সবাইকে। রবিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলো প্রত্যেকে, বার বার করে ধন্যবাদ জানাল ওদের প্রিয় সঙ্গীদের উদ্ধার করার জন্যে।

    সেদিনই সন্ধ্যার পর আগুনের ধারে গোল হয়ে বসে সবাই হরিণের মাংস আর এল (এক ধরনের মদ) দিয়ে নৈশ ভোজন করছিল, গল্পগুজব আর হাসি তামাশা চলছিল এন্তার, এমন সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করলো মাচ। ‘তোমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, গতকালই আমাদের মধ্যে একজন নেতা নির্বাচনের কথা উঠেছিল। আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম যে নেতা ছাড়া কোন দলেরই নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় না।’

    ‘ঠিক, ঠিক,’ বললো একজন স্বাস্থ্যবান দস্যু। ‘তোমার ব্যাপারেই আমরা মোটামুটি একমত হয়েছিলাম, মাচ। তোমাকেই আমাদের নেতৃত্ব…’

    ‘উঁহু,’ এপাশ ওপাশ মাথা নাড়লো মাচ। ‘এখন আর সেটা হয় না। মাচ আজ তার প্রভুর দেখা পেয়েছে। আমি আমার বদলে আমাদের নতুন সদস্য রবিন হুডের নাম প্রস্তাব করছি।’

    ‘আমি এ প্রস্তাব সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করছি,’ বলে উঠলো ওয়াট। বলেই তার ছয় ফুট লম্বা লাঠিটা পাঁই পাঁই কয়েক পাক ঘোরালো মাথার ওপর। কারো যদি আপত্তি থাকে, এসো, হয়ে যাক এক হাত।’

    সবাই প্রায় রাজি হয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় লম্বা চওড়া গম্ভীর এক দস্যু মাথা নাড়লো। আমার যতদূর মনে আছে, গতকাল আমরা মোটামুটি ঠিক করেছিলাম যে আমাদের মধ্যে যে সেরা তীরন্দাজ সে-ই নেতা হওয়ার যোগ্য।’

    ‘সেরকম একটা কথা উঠেছিল বটে,’ বললো মাচ। ‘খুব সম্ভব তুমিই তুলেছিলে প্রস্তাবটা। তবে সে-ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। যাই হোক, সেদিক থেকেও আমার মনোনীত প্রার্থীর জুড়ি নেই। সারা ইংল্যাণ্ডের সেরা তীরন্দাজ রবিন হুড।’

    ‘শুনলাম, সেরা, গম্ভীর মুখে বললো লোকটা। কিন্তু জানছি কিভাবে?’

    তর্কটা খারাপ দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে দেখে মুখ খুললো রবিন। একটা হাত তুলে থামতে বললো সবাইকে।

    ‘শোনো, মাচ, নেতৃত্ব জিনিসটা অর্জন করে নিতে হয়, ওটা কারো ওপর চাপিয়ে দেয়ার কোন অর্থ নেই। এখানে কেন, কোথাও আমি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ না করে কিছুই প্রত্যাশা করি না। শ্রেষ্ঠ ধনুর্বিদকে তোমাদের নেতা বানাবে, এরকম কথা কি সত্যিই হয়েছিল?’

    ‘এই রকম একটা কথা সত্যিই উঠেছিল,’ বললো মাচ।

    ‘বেশ। তাহলে এই কথাই থাক,’ বললো রবিন হুড। ‘কাল সকালে আমরা একজন একজন করে প্রত্যেকে তীর ছুঁড়বো। যে জিতবে তাকেই মেনে নেব নেতা হিসেবে, রাজি?’

    সবাই একবাক্যে সায় দিল, ‘রাজি! রাজি!’

    খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার মত শুয়ে পড়লো অগ্নিকুণ্ডের চারপাশে। সকালে উঠেই একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে জড়ো হলো সবাই। যে দূরত্বে ওরা তীর ছুঁড়তে অভ্যস্ত ততটা দুরে একটা টার্গেট তৈরি করে রবিন হুডকে বললো ওরা, দেখাও তোমার দক্ষতা। ঠিক মাঝখানে লাগাও দেখি একটা তীর।’

    ‘এটা কোন পরীক্ষাই হলো না,’ মাথা নাড়লো রবিন’। ‘যে-কেউ ভেদ করতে পারে এই লক্ষ্য। দেখা যাবে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনই লক্ষ্যভেদ করেছে। তার চেয়ে এমন একটা লক্ষ্য স্থির করো, যাতে একবারেই চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে যায়।

    লম্বা-চওড়া গম্ভীর লোকটার নাম জন ফোর্ড। রবিনের প্রস্তাবে খুশিই হলো সে। বললো, ‘ঠিক আছে, টার্গেটটা কি হবে, কতদূরে হবে সেটা তুমিই নাহয় ঠিক করো, রবিন হুড।’

    ‘করতে পারি, যদি সবাই রাজি থাকে,’ বললো রবিন।

    ‘রাজি, রাজি। তুমিই ঠিক করো।’

    লতা-পাতা আর জংলী ফুল দিয়ে গোল একটা মালা তৈরি করলো রবিন সেটা উইল স্টিউটলির হাতে দিয়ে একেবারে শেষ মাথার একটা ওক গাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখে আসতে বললো। ছুটে গিয়ে ঝুলিয়ে দিল উইল মালাটা।

    ‘এবার এসো,’ বললো রবিন। ‘দেখা যাক পাতা বা ফুল স্পর্শ না করে কে ওই মালার মধ্যে তীর গাঁথতে পারে। যে পারবে তাকেই মেনে নেব আমরা আমাদের দলনেতা হিসেবে।’

    এ ওর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে দস্যু সবাই। অবাক হয়ে গেছে ওরা। ‘তীর লাগাবো কি, ভাল মত দেখতেই তো পাচ্ছি না মালাটা!’ বলে উঠলো একজন। ‘অতদূরে লক্ষস্থির করতে হলে ঈগলের চোখ চাই।’

    ওরেব্বাপ!’ দীর্ঘশ্বাস টানলো একজন। ‘ওখানে তীর পাঠাতে হলে ঘোড়ার মত গায়ে জোর চাই।’

    ‘আমি বাদ!’ চেঁচিয়ে উঠলো আরেকজন, আমার ধনুক টেনে ভেঙে ফেললেও অতদূরে যাবে না তীর।’

    শেষ পর্যন্ত টিকলো শুধু জন ফোর্ড। অতদূরে তীর পৌঁছবে কিনা সে-ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে তার, কিন্তু রণে ভঙ্গ দিল না সে, ধনুকে নতুন একটা ছিলা পরিয়ে সোজা দেখে তিনটে তীর বাছাইয়ে মন দিল। কে আগে তীর ছুঁড়বে তাই নিয়ে টস্ করা হলো। প্রথমে ছোঁড়ার সুযোগ পেল জন ফোর্ড।

    প্রথম তীরটা গজ দশেক আগেই মাটিতে গাঁথলো। বিরক্ত হলো জন ফোর্ড, খানিক গজ গজ করে আরো জোরে আরো উঁচু দিয়ে মারলো দ্বিতীয় তীর, কিন্তু এটাও পৌঁছলো না লক্ষ্যস্থলে। তৃতীয়বারে কোন মতে পৗঁছলো বটে, তবে মালা থেকে বেশ কিছুটা নিচে গিয়ে বিধলো তাঁর।

    ‘আমার যতটা সাধ্য আমি করেছি,’ বললো সে। ‘আমার বিশ্বাস কোন মানুষের পক্ষে এর চেয়ে ভাল কিছু করা সম্ভব নয়

    ‘এবার তুমি, এবার তুমি, রবিন হুড!’ চেঁচিয়ে উঠলো মাচ। ‘তিনটে তীর ছুঁড়তে দেখেছি আমি কাল তোমাকে। তিনটে অব্যর্থ তীর। দেখা যাক আজও হাতটা ঠিক আছে কিনা।’ গলার স্বরে বোঝা গেল, এত কঠিন পরীক্ষায় নেমেছে রবিন হুড যে দ্বিধায় পড়ে গেছে সে, খুব একটা ভরসা পাচ্ছে না মাচ আজ।

    বুক ফুলিয়ে দাঁড়ালো রবিন হুড। মস্ত ধনুকটা উঁচু করে ধরতেই চুপ হয়ে গেল সবাই। কিছুটা সামনে ঝুঁকে টান দিয়ে কানের পাশে নিয়ে এলো সে ছিলাটা। দম বন্ধ করে চেয়ে আছে সবাই ওর দিকে। মৃদু ঝংকার উঠলো ছিলায়। ছুটলো তীর। সোজা গিয়ে বিধলো ওক গাছের গুঁড়িতে একেবারে মালার ঠিক মাঝখানে। বিস্মিত উল্লাস ধ্বনি বেরিয়ে এলো সবার মুখ থেকে। এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ড জীবনে কখনো দেখেনি ওরা।

    ‘আবার মেরে দেখাও! আবার মেরে দেখাও!’ চেঁচিয়ে উঠলো জন ফোর্ড। ‘এটা হঠাৎ হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তিনটে তীর ছোঁড়ার কথা ছিল তোমার। দেখা যাক আরগুলো কোথায় লাগে।’

    ‘নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই,’ বললো রবিন হুড। হাসতে হাসতে আরেকটা তীর পরালো সে ছিলায়। ছুঁড়লো। তারপর আরেকটা। প্রত্যেকটা তীর গিয়ে ঢুকেছে মালার মধ্যে, অথচ ফুল বা পাতা স্পর্শ করেনি একটাও।

    হৈ-হৈ করে উঠলো সবাই। প্রত্যেকেই ওরা দক্ষ তীরন্দাজ, কাজেই কতবড় অবিশ্বাস্য, অসম্ভব কাণ্ড ঘটিয়েছে রবিন হুড মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছে সবাই, পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে এমন নৈপুণ্য অর্জন করা তাদের ক্ষমতার বাইরে। এ লোক ধনুকের জাদুকর।

    ‘রবিন হুড, জিন্দাবাদ!’ ধ্বনি তুললো সবাই।

    ‘এবার কি বলো তোমরা?’ জানতে চাইলো মাচ, ‘আমাদের নেতা হওয়ার যোগ্যতা আছে এই লোকের?’

    ‘একশো বার! একশো বার!’ ঘোষণা করলো সবাই। সবার চেয়ে বেশি জোরে শোনা গেল জন ফোর্ডের কণ্ঠ। ‘রবিন হুডের নেতৃত্ব মেনে নিলাম আমরা। এখন থেকে ওর কথায় বাঁচবো, ওর কথায় মরবো!’

    এবার শপথ অনুষ্ঠানের পালা। একে একে শপথ গ্রহণ করলো সবাই। প্রথমে মাচ, তারপর ওয়াট, তারপর জন ফোর্ড, তারপর উইল, তারপর আরো সবাই।

    ‘শোনো, বন্ধুরা,’ হাঁক ছাড়লো রবিন হুড। এই দলের নেতা হিসেবে আমি আমাদের নীতিমালা ঘোষণা করছি। তিনটে নীতি আজ থেকে মনে-প্রাণে মেনে চলবো আমরা। প্রথম, আজ থেকে আমরা অত্যাচারী নর্মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। আমাদের খেটে-খাওয়া স্যাক্সন ভাইদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাদেরকে ভিটে মাটি থেকে উৎখাত করেছে যারা, ছলে বলে কৌশলে তাদের ধন-সম্পদ কেড়ে নিয়ে নিজেদের আরো ধনী করে তুলছে যারা, তারা আমাদের জন্ম-শত্রু। দ্বিতীয়, আজ থেকে আমরা গরীব বা অভাবী কোন মানুষের কোন ক্ষতি করবো না। বরং নর্মান শেরিফ, ব্যারন, ব্যবসায়ী, আর নির্লজ্জ ধনী ধর্মযাজকদের কাছ থেকে সম্পদ কেড়ে নিয়ে এদের মধ্যে বিতরণ করবো, সবদিক থেকে সব রকমের সাহায্য করবো বিপদগ্রস্তকে। তৃতীয়, কোন নারী, ধনী হোক বা দরিদ্র, নর্মান হোক বা স্যাক্সন, যেন আমাদের দ্বারা কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’ সবার দিকে চাইলো রবিন, ‘তোমরা এই আইন মেনে চলতে রাজি আছো?’

    দুই হাত তুলে সমর্থন জানালো সবাই। রাজি আছি। অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবো তোমার নির্দেশ।

    ‘ধন্যবাদ।’

    অপূর্ব মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো রবিন হুডের মুখে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৬৫ – কাউণ্ট কোবরা
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৮ – স্বর্ণলিপ্সা

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }