Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রবিনহুড – কাজী আনোয়র হোসেন

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প347 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬. নটিংহামের শূটিং ম্যাচ

    ৬. নটিংহামের শূটিং ম্যাচ

    রেগে আগুন হয়ে গেছেন নটিংহামের শেরিফ।

    পর পর কয়েকবার সশস্ত্র বাহিনী পাঠিয়েছেন তিনি শেরউডে রবিন হুডকে ধরে আনার জন্যে। ধরে আনা তো দূরের কথা, রবিন হুড ও তার দলবলের কাছে প্রতিবারই চরম নাজেহাল হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাদের। প্রথম বার পালিয়ে গিয়েছিল ওরা শেরউড ছেড়ে, কিন্ত এখন এতই শক্তিশালী ও সুশৃংখল দল গঠন করে নিয়েছে রবিন যে ওদের আস্তানার ধারে-কাছেও ভিড়তে পারেনি শেরিফের বাহিনী। বিচিত্র সব কৌশলে প্রতিহত করে দেয়া হয়েছে ওদের সমস্ত প্রচেষ্টা। অনেক টাকা পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে গুপ্তঘাতক পাঠিয়েছেন শেরিফ শেরউডে, হয় ধরে আনবে, নয়তো মেরে রেখে আসবে রবিনকে; কিন্তু নিজেরাই গায়েব হয়ে গেছে তারা। রাজার সীলমোহর দেয়া গ্রেফতারী পরোয়ানা হাতে পাঠিয়েছিলেন একজন টিংকার (ঝালাইকার)-কে। সেই লোক ফিরে তো আসেইনি, শোনা যাচ্ছে রবিন হুডের দলে যোগ দিয়েছে সে শেরউডে গিয়ে।

    এইসব বিফল প্রচেষ্টার ফলে শুধু যে তিনি জনসাধারণের সম্মান হারিয়েছেন তা নয়, লোকে হাসাহাসি কানাকানি করছে তাঁকে নিয়ে, টিটকারির পাত্র হয়ে উঠেছেন তিনি সবার কাছে। শেরিফের গাত্রদাহের এটাই প্রধান কারণ। হাসি তামাশার খোরাক হতে কে-ই বা পছন্দ করে?

    লোক-লস্কর নিয়ে রওনা হলেন তিনি রাজার কাছে নালিশ জানাতে। কিন্তু হিতে বিপরীত হলো তাতে। রাজা হেনরী তাঁর বক্তব্য শুনে উল্টে ধমক মারলেন তাঁকেই।

    ‘লজ্জা করে না তোমার এই সামান্য ব্যাপারে আমার কাছে নালিশ নিয়ে আসতে? তোমাকে রাখা হয়েছে কি করতে? সাধারণ এক ডাকাত ধরতে পারো না, ছুটে এসেছো আমার কাছে নালিশ জানাতে ছি, ছি, তোমার যোগ্যতা সম্পর্কেই সন্দেহ হচ্ছে এখন আমার। তোমার অধীনে যে বিরাট বাহিনী রয়েছে, তারা কি করছে-বসে বসে সরকারী বেতন নিচ্ছে, আর ঘাস কাটছে? যাও, তোমার কোন কথা আর শুনতে চাই না আমি, যেভাবে পারো গ্রেফতার করো ওকে; তা না পারলে নিজেই বরখাস্ত হয়ে যাবে তুমি অযোগ্যতার দায়ে।‘

    বকা খেয়ে বিমর্ষ বদনে ফিরে চললেন শেরিফ নিজের কাউন্টির দিকে। রাজার কাছে নালিশ করতে গিয়ে ভাল বিপদেই পড়া গেছে। নিজের চাকরি নিয়েই টানাটানি এখন। ফেরার পথে কারো সাথে একটি কথা বললেন না তিনি। মাথা নিচু করে গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে রইলেন। বেশ অনেকটা পথ আসার পর হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো তাঁর মুখ। ‘পেয়েছি!’ উরুর উপর জোরে এক চাপড় মারলেন তিনি। ‘জলদি চলো! দারুণ এক বুদ্ধি এসেছে মাথায়। দুই সপ্তাহের মধ্যে যদি শয়তান রবিন হুডকে হাজতে না পুরতে পারি, তাহলে আমার নাম নেই।’

    কি পেলেন শেরিফ যে এতো খুশি হয়ে উঠলেন?

    চলতে চলতে একের পর এক নানান ধরনের ফন্দিফিকির আসছিল তাঁর মাথায়। কিন্তু পছন্দ হচ্ছিল না, কোনটাই। কোন না কোন ত্রুটি থেকে যাচ্ছে প্রতিটি পরিকল্পনায়। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ একটা কথা মনে পড়লো তাঁর। তিনি খবর পেয়েছেন, প্রায়ই নটিংহাম শহরে আসে দুঃসাহসী রবিন হুড। যদি কোনভাবে ওকে আবার শহরের চার দেয়ালের মধ্যে আনার ব্যবস্থা করা যায়, সতর্ক থাকলে মোটেই কঠিন হবে না ধরা। কিভাবে আনা যায় ওকে? চট্ করে মনে পড়লো শূটিং প্রতিযোগিতার কথা। শেরউডের দস্যুরা নিজেদের মস্ত তীরন্দাজ বলে মনে করে। যদি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে একটা দারুণ লোভনীয় পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা যায়, তাহলে ঠিক ফাঁদে এসে ধরা দেবে দুঃসাহসী রবিন হুড। ঠিক, একটা বড়সড় শূটিং ম্যাচের আয়োজন করতে হবে নটিংহামে ফিরেই।

    শহরে ফিরেই উত্তর-দক্ষিণ-পুব-পশ্চিমে লোক পাঠালেন শেরিফ, ঘোষণায় বলা হলো বিরাট এক শূটিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে নটিংহাম শহরে, বিজয়ীকে পুরস্কার দেয়া হবে একটা সোনার তীর আর একটা পেনি ভর্তি রূপোর শিঙা।

    লিংকন শহরে কাজে গিয়েছিল রবিন, সেখানেই সংবাদ পেল সে প্রতিযোগিতার। খবর শুনে দ্রুত ফিরে এলো সে শেরউড জঙ্গলে। সবাইকে ডেকে জানালো খবরটা। তারপর বললো, ‘সারা দেশের যত বড় বড় তীরন্দাজ আছে, সবাই আসবে এই প্রতিযোগিতায়। আমাদের হাতের টিপ যাচাই করে নেয়ার এই এক মস্ত সুযোগ। আমি ঠিক করেছি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেব। তোমরা কি বলো??

    লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো দলের কনিষ্ঠতম সদস্য ডংকাস্টারের ডেভিড। ‘আগে আমার বক্তব্য শুনে নাও, তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো,’ বললো সে সবার উদ্দেশে। ‘এইমাত্র ব্লু বোর থেকে সংবাদ শুনে এলাম আমি। কেবল শূটিং ম্যাচের সংবাদই নয়, ঈডমের কাছ থেকে আরো কিছু জানতে পেরেছি আমি। ও জেনেছে শেরিফের খুবই ঘনিষ্ঠ এক লোক র‍্যালফের কাছ থেকে। শেরিফের ধারণা, এই বিরাট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লোভ সামলাতে পারবে না রবিন হুড। গোটা আয়োজনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে রবিন হুডকে নটিংহামের প্রাচীরের ভেতর আকর্ষণ করে নিয়ে গ্রেফতার করা। আমরা আমাদের প্রিয় নেতাকে হারাতে চাই না। কাজেই আমি মনে করি এতে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া মোটেই উচিত হবে না।’

    কথাটা শুনে ভ্রু কুঁচকে মাথা ঝাঁকালো রবিন, তারপর হাসি ফুটে উঠলো ওর মুখে। পিঠ চাপড়ে দিল ডেভিডের। মুখে বললো, ‘ধন্যবাদ, ডেভিড। চোখ-কান খোলা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, এটা আমাদের অস্তিত্বের জন্যেও জরুরী। তুমি যে খবর এনেছো তা যদি সত্যি হয় এবং আমার বিশ্বাস কথাটা পুরোপুরি সত্যি, তবুও আমি মনে করি আমার এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা একান্ত দরকার। লোকে বলবে, শেরিফের ভয়ে রবিন হুড আর তার সাত কুড়ি দুঃসাহসী অনুচর প্রতিযোগিতা বর্জন করে গর্তে সেঁধিয়েছিল, সাহসে কুলায়নি তাদের নটিংহামে আসতে-সেটা কেমন লাগবে তোমাদের শুনতে? ডেভিডের কথা শুনে আরও জেদ চেপে যাচ্ছে আমারঃ যেমন করে হোক ছিনিয়ে নিয়ে আসতে হবে ওই পুরস্কার। কিন্তু বোকার মত কিছু করে বসা ঠিক হবে না। কৌশল দিয়ে মোকাবিলা করবো আমরা কৌশলের। ছদ্মবেশ নিয়ে যাব আমি। তোমরাও, কেউ কৃষক, কেউ শ্রমিক, কেউ পুরোহিত, কেউ ভিখারীর ছদ্মবেশে কাছে পিঠেই থাকবে আমার। সবাই সাথে করে লুকিয়ে নিয়ে যাবে তলোয়ার, তীর- ধনুক। যদি প্রয়োজন পড়ে, যুদ্ধ করে আত্মরক্ষা করবো আমরা। আর যদি তার প্রয়োজন না পড়ে; তাহলে জিতে নিয়ে আসবো সোনার তীর আর রূপোর বিউগল। তীরটা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখব আমরা এই গাছের ডালে। তোমরা সবাই কি বলো?’

    সবাই একবাক্যে সায় দিল রবিনের কথায়।

    প্রতিযোগিতার দিন উৎসবের সাজে সাজানো হলো নটিংহাম শহর। প্রাচীরের কাছাকাছিই একটা মস্ত সবুজ মাঠে আয়োজন করা হয়েছে প্রতিযোগিতার। প্রাচীরের ধারে সারি সারি বেঞ্চ পাতা হয়েছে নাইট, জমিদার এবং শহরের সম্ভ্রান্ত ধনী লোক ও তাদের স্ত্রীদের বসার জন্যে। টার্গেটের কাছাকাছিই একটা মঞ্চ সাজানো হয়েছে রঙিন সিল্কের রিবন আর ফুলের মালা দিয়ে-শেরিফ আর তাঁর স্ত্রী বসবেন এখানে। প্রায় দেড়শো গজ দূরে মস্ত এক ডোরা কাটা তাঁবু ফেলা হয়েছে প্রতিযোগীদের জন্যে। তাঁবুর একটা খুঁটিতে টাঙানো হয়েছে নানান রঙের পতাকা। হরেক রকম নক্সা করা রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে তাঁবু। তাঁবুর ভেতর রাখা হয়েছে মস্ত এক মদের পিপে, প্রতিযোগীদের যার যত খুশি পান করবে বিনা মূল্যে।

    সম্ভ্রান্ত অতিথিবৃন্দের জন্যে যেখানে বেঞ্চ পাতা হয়েছে তার উল্টো দিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে সাধারণ গরীব দর্শকদের জন্যে জায়গা। বসার কোন ব্যবস্থা নেই, শুধু রেলিং দেয়া হয়েছে যাতে আগ্রহের আতিশয্যে মাঠের ভেতর ঢুকে পড়তে না পারে কেউ। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই আসতে শুরু করলো দর্শকবৃন্দ। কেউ ঘোড়ায় চেপে, কেউ গাড়িতে চড়ে আসছেন ভদ্রলোকেরা। দলে দলে পায়ে হেঁটে আসছে সাধারণ দর্শকেরা, রেলিঙের ওপারে বসে পড়ছে, শুয়েও পড়ছে কেউ কেউ।

    একজন দু’জন করে মস্ত তাঁবুতে এসে জড়ো হচ্ছে প্রতিযোগীরা। কেউ কেউ উঁচু গলায় নিজেদের বাহাদুরির গল্প শোনাচ্ছে অন্যদের, কেউ ছিলা টেনে টেনে পরীক্ষা করে দেখছে ধনুকে কোনও দোষ পাওয়া যায় কিনা, কেউ আবার এক চোখ বুজে আরেক চোখের সামনে তুলে ধরে পরীক্ষা করে দেখছে তীরগুলো

    দেশের নানান জায়গা থেকে এসেছে মস্ত সব নামজাদা তীরন্দাজ। লোভনীয় পুরস্কার ডেকে এনেছে তাদের অনেক দূর দূরান্ত থেকে। শেরিফের রক্ষী-বাহিনীর সেরা তীরন্দাজ রেড ক্যাপের গিল তো আছেই, লিংকন শহর থেকে এসেছে ক্রুইকশ্যাংক, ট্যামওয়ার্থ থেকে এসেছে প্রবীণ অ্যাডাম-উডস্টকের সেই বিখ্যাত প্রতিযোগিতায় সেকালের সেরা ধনুর্বিদ ক্রিমকে হারিয়ে যে বিজয়ীর শিরোপা কেড়ে নিয়েছিল, এছাড়াও রয়েছে লেসলির উইলিয়াম এবং আরো অনেকে।

    পদমর্যাদা অনুযায়ী সবাই যে যার জায়গায় বসে যাওয়ার পর দুধ-সাদা ঘোড়ায় চেপে এলেন শেরিফ, পাশে আরেকটা ঘোড়ায় তাঁর স্ত্রী। বেগুনী সিল্কের পোশাক পরেছেন শেরিফ, মাথায় বেগুনী মখমলের টুপি, পায়ে কালো মখমলের জুতো। শেরিফের স্ত্রী পরেছেন রাজহাঁসের পালক দিয়ে কারুকাজ করা নীল মখমলের পোশাক, আর মহামূল্যবান সোনার অলংকার। নির্দিষ্ট আসনে গিয়ে বসলেন তাঁরা, শোভা বর্ধনের জন্যে দু’পাশে দাঁড়িয়ে গেল বর্শা হাতে উর্দি পরা প্রহরী।

    নিজ আসনে বসে রাজকীয় ভঙ্গিতে এদিক-ওদিক চাইলেন শেরিফ, তারপর ইঙ্গিত করলেন ঘোষকের প্রতি। ইঙ্গিত পেয়েই রূপোর শিঙা মুখে তুলে নিয়ে পরপর তিনবার ফুঁ দিল ঘোষক। সংকেত পেয়ে তাঁবু ছেড়ে লাইনের উপর এসে দাঁড়ালো সব তীরন্দাজ। সোল্লাসে চিৎকার করে উঠলো জনতা। যার যার প্রিয় তীরন্দাজের নাম ধরে হাঁক ছাড়ছে অনেকে।

    হাত তুলে সবাইকে চুপ করার নির্দেশ দিল ঘোষক। সবাই চুপ করতেই শুরু করলো প্রতিযোগিতার নিয়ম বর্ণনা। একটা করে তীর ছুঁড়বে তোমরা সবাই দেড়শো গজ দূরের এই টার্গেট লক্ষ্য করে। তোমাদের মধ্যে থেকে সেরা দশজনকে বাছাই করে বের করে নিয়ে তাদের প্রত্যেককে দুটো করে তীর ছুঁড়তে বলা হবে। এরপর এই দশজনের মধ্যে থেকে বেছে বের করা হবে সেরা তিনজনকে। তিনটে করে তীর ছুঁড়বে এই শেষের তিনজন। এদের মধ্যে যে সর্বশ্রেষ্ঠ, তাকেই দেয়া হবে পুরস্কার।’

    খানিকটা সামনে ঝুঁকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে প্রতিযোগীদের মধ্যে রবিন হুডকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেন শেরিফ। সবার উপর চোখ বুলিয়ে নিয়ে একটু যেন দমে গেলেন তিনি। কই, সবুজ কাপড় পরা কাউকে তো দেখা যাচ্ছে না। মনে মনে ভাবলেন, ‘এত ভিড়ে চেনা যাবেও না। যদি এসে থাকে, দশজনের একজন সে হবেই; তখন ওকে চিনে নেয়া মোটেই কঠিন হবে না।’

    শুরু হলো প্রতিযোগিতা। সবাই ছুঁড়লো একটা করে তীর। এতজনের মধ্যে কেবল ছয়টা তীর লাগলো গিয়ে টার্গেটে তার মধ্যে চারটে বিধেছে কালো জায়গায়, বাকি দুটো মাঝখানের গোল চক্কোরের ধার ঘেঁষে। কাজেই শেষ তীরটা যখন একেবারে মাঝখানে গিয়ে বিধলো, তখন বিপুল হর্ষধ্বনি উঠলো দর্শকদের মধ্যে থেকে।

    দশজন রইলো, ছাঁটাই হয়ে গেল বাকি সবাই। এই দশজনের মধ্যে ছয়জন সারা ইংল্যাণ্ডে সুপরিচিত, বেশির ভাগ দর্শকই চেনে তাদের। এরা হচ্ছে, রেড ক্যাপের গিলবার্ট, ট্যামওয়ার্থের অ্যাডাম, ডিকন ক্রুইকশ্যাংক, লেসলির উইলিয়াম, ক্লাউডের হিউবার্ট, এবং হার্টফোর্ডের সুইদিন। এরা ছাড়াও দু’জন আছে ইয়র্কশায়ার থেকে আসা তীরন্দাজ, এছাড়া আছে লম্বা এক নীল পোশাক পরা তীরন্দাজ, এসেছে খোদ লণ্ডন শহর থেকে। কিন্তু সব শেষে যে লোকটা একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে লাগিয়েছিল তীর, কেউ চেনে না তাকে, পরনে জীর্ণ মলিন একটা শতচ্ছিন্ন লাল জামা, একটা চোখ কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা কানা।

    কাছেই বর্শা হাতে দাঁড়ানো এক লোককে ডাকলেন শেরিফ হাতের ইশারায়। লোকটা ঝুঁকে আসতেই কানে কানে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দেখতে পাচ্ছো? এই দশজনের মধ্যে চিনতে পারছো শয়তান রবিন হুডকে?’

    ‘না, হুজুর,’ বললো লোকটা। এদের মধ্যে ছয়জনকে ভাল করেই চিনি আমি। আর ইয়র্কশায়ার থেকে যে দু’জন এসেছে তাদের একজন রবিন হুডের চেয়ে বেশ অনেকটা লম্বা, অপরজন বেশ অনেকটা খাটো। কাজেই ওদেরকেও বাদ দেয়া যায়। আর ওই যে ছেঁড়া লাল জামা পরা ভিখারিটা ওকেও বাদ দিতে পারেন অনায়াসে, কারণ রবিনের দাড়ির রঙ সোনালী, কিন্তু এর দাড়ি দেখা যাচ্ছে খয়েরি রঙের, তাছাড়া দেখাই যাচ্ছে লোকটার একটা চোখ কানা। বাকি রইলো নীল পোশাক পরা লোকটা আমার ধারণা এর কাঁধের চেয়ে অন্ততঃ তিন ইঞ্চি বেশি চওড়া রবিনের কাঁধ।’

    ‘তাহলে সত্যিই এলো না শয়তানটা!’ ভুরু কুঁচকে উঠলো শেরিফের। ‘ওকে সাহসী বলেই জানতাম, কিন্তু আজ বোঝা গেল কতটা ভীরু আর কাপুরুষ! গলার স্বর শুনে বোঝা গেল খুবই হতাশ হয়েছেন শেরিফ। মনে মনে খুবই আশা করেছিলেন তিনি যে এত বড় একটা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের লোভ সংবরণ করতে পারবে না রবিন হুড।

    কিছুক্ষণ বিরতির পর বাছাই করা দশজন তীরন্দাজ আবার এসে দাঁড়ালো দাগের ওপর। দুটো করে তীর ছুঁড়লো প্রত্যেকে। অখণ্ড মেথমে নীরবতা বিরাজ করছে সারা ময়দানে। শ্বাস ফেলতেও যেন ভুলে গেছে সবাই। কিন্তু শেষের সেই ভিখারীটা তীর ছুঁড়তেই আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলো সবাই একসাথে, শূন্যে ছুঁড়ে দিল মাথার টুপি।

    আশ্চর্য! আশ্চর্য! সত্যিই আশ্চর্য!’ চেঁচিয়ে উঠলেন অশীতিপর বৃদ্ধ স্যার অ্যামিয়াস। শেরিফের কাছাকাছিই একটা আসনে বসে ছিলেন তিনি। ‘এমন শূটিং জীবনে দেখিনি আমি। গত ষাট বছর ধরে কত হাজার হাজার প্রতিযোগিতা যে দেখেছি তার ইয়ত্তা নেই। এমন ধনুর্বিদ চোখে পড়েনি আর আমার।’

    শেষ-মেষ টিকলো তিনজন : রেড ক্যাপের গিল, কানা ভিখারী, আর ট্যাম ওয়ার্থ শহরের অ্যাডাম।

    ‘এইবার, গিলবার্ট,’ চেঁচিয়ে বললেন শেরিফ। মান রাখা চাই। যদি জিততে পারো, পুরস্কার তো পাবেই, আরো একশোটা সিলভার পেনি দেব আমি তোমাকে নিজের পকেট থেকে।

    ‘চেষ্টার ত্রুটি করবো না, হুজুর,’ উত্তর দিল গিলবার্ট।

    ভাল দেখে একটা তীর বেছে নিয়ে সতর্কতার সাথে ছুঁড়লো গিলবার্ট। সোজা উড়ে গিয়ে কেন্দ্রবিন্দুর এক আঙুল ডাইনে লাগলো তীরটা। গিলবার্ট গিলবার্ট!’ চিৎকার উঠলো দর্শকদের মধ্যে থেকে। হাততালি দিয়ে উঠলেন শেরিফ, ‘বাহ, চমৎকার।’

    এবার ধনুকে তীর যোজনা করলো ছেঁড়া পোশাক পরা ভিখারী। তীর ছোড়ার পূর্ব মুহূর্তে কনুই উঁচু করতেই তার বগল তলায় মস্ত এক হলুদ তালি দেখতে পেল দর্শকরা। হাসির রোল উঠলো সবার মধ্যে। কিন্তু চোখের নিমেষে তীর ছুঁড়ে হাতটা নামিয়ে নিল ভিখারী। স্তব্ধ হয়ে গেল সবার মুখের হাসি। গিলবার্টের চেয়ে দুটো শরষের দানা পরিমাণ ভেতরে বিঁধেছে ভিখারীর তীর, কেন্দ্রবিন্দুর কাছে। নিজের অজান্তেই প্রশংসা বেরিয়ে এলো শেরিফের মুখ থেকে, ‘দারুণ, দারুণ!

    অতি সাবধানে তীর ছুঁড়লো এবার অ্যাডাম। গিলবার্ট ও ভিখারীর মাঝখানে গিয়ে বিধলো তার তীর। প্রথম দফায় প্রথম হলো ভিখারী, দ্বিতীয় অ্যাডাম, তৃতীয় গিলবার্ট।

    কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও বিরতির পর আবার তিনটে তীর ছুঁড়লো তিনজন। কিন্তু এবার অ্যাডামের তীরটা গিয়ে বিধলো কেন্দ্র থেকে বেশ কিছুটা দূরে। তার চেয়ে ভাল করলো গিলবার্ট, এবং তার চেয়েও ভাল করলো ছিন্নবস্ত্র ভিখারী। এবারেও প্রথম হলো সে। আবার কিছুক্ষণ বিরতির পর শেষ তীর ছোঁড়ার জন্যে দাগের ওপর এসে দাঁড়ালো তিনজন অতুলনীয় তীরন্দাজ। খুবই সতর্কতার সাথে বেশ অনেকক্ষণ লক্ষ্যস্থির করবার পর আশ্চর্য নৈপুণ্যের সাথে তীর ছুঁড়লো গিলবার্ট। দর্শকরা এতই জোরে হর্ষধ্বনি করে উঠলো যে ভয় পেয়ে উড়ে পালালো বুরুজের উপর বসে থাকা দাঁড়কাকগুলো। কেন্দ্রবিন্দু থেকে সামান্য এক সুতা ডাইনে গিয়ে বিধেছে ওর তীর

    ‘বেড়ে দেখিয়েছো, গিলবার্ট!’ আনন্দের আতিশয্যে আসন ছেড়ে লাফিয়ে উঠলেন শেরিফ। ‘কোন সন্দেহ নেই, তোমারই কপালে ঝুলছে পুরস্কার। কারো সাধ্য নেই এর চেয়ে ভাল কিছু করে। ছেঁড়া জামা পরা ভিখারীর দিকে ফিরলেন তিনি, ‘কি হে, আরও তীর ছোঁড়ার খায়েশ আছে, নাকি এখানেই হার মেনে ছেড়ে দেবে তীর- ধনুক?’

    কোন জবাব না দিয়ে দাগের ওপর গিয়ে দাঁড়ালো কানা ভিখারী। চুপ হয়ে গেল সবাই, সবার মনে কি হয় কি হয় একটা ভাব, দম আটকে রেখে চেয়ে রয়েছে ভিখারীর দিকে। ধনুকে তীর যোজনা করে কয়েক সেকেণ্ড পাথরের মূর্তির মত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো লোকটা, তারপর একটানে ছিলাটা কানের কাছে নিয়ে এসেই ছেড়ে দিল তীর। সোজা উড়ে গেল তীরটা, গিলবার্টের তীরের একটা পালক কেটে গাঁথলো গিয়ে তার পাশে…আশ্চর্য!…কেন্দ্রবিন্দুর ঠিক মাঝখানে। হর্ষধ্বনি করতেও ভুলে গেছে দর্শকবৃন্দ এই অবিশ্বাস্য পারদর্শিতা দেখে, বিস্ফারিত চোখে নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে সবাই।

    ‘নাহ্!’ লম্বা করে শ্বাস টেনে এপাশ ওপাশ মাথা নাড়লো ট্যামওয়ার্থের অ্যাডাম। দুই কুড়ি বছর ধরে তীর-ধনুক নিয়ে কারবার করছি আমি, বেশির ভাগ প্রতিযোগিতায় ছিনিয়ে নিয়েছি জয়ের মালা, কিন্তু আজ আর না- এতদিনের অভিজ্ঞতায় অন্ততঃ কখন হার মেনে নিতে হয় সেটুকু শিক্ষা হয়েছে আমার। কে লোকটা জানি না, কিন্তু আজ বিনা দ্বিধায় মেনে নিচ্ছি আমি ওর তুলনা হয় না।’ এই বলে হাতের তীর ঢুকিয়ে রাখলো সে তূণে, ধনুক থেকে ছিলাটা খুলে সরে গেল দাগের ওপর থেকে।

    পুরস্কার বিতরণ করলেন শেরিফ নিজ হাতে। বিপুল হর্ষধ্বনি আর করতালির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে এসে সবিনয়ে পুরস্কার গ্রহণ করলো কানা ভিখারী। ‘তুলনাহীন দক্ষতা দেখিয়ে জিতে নিয়েছো, ভিখারী, তুমি আজকের এই পুরস্কার। নামটা কি তোমার? বাড়ি কোথায়?’

    ‘লোকে আমাকে টেভিয়োডেলের জক বলে ডাকে,’ বললো লোকটা। ‘ওখানেই বাড়ি।’

    ‘বেশ, বেশ,’ বললেন শেরিফ। এর আগে এত ভাল তীর ছুঁড়তে দেখিনি আমি কাউকে। ভাল বেতন দেব, আমার বাহিনীতে যোগ দেবে তুমি? ভাগ্যিশ কাপুরুষ রবিন হুড আসেনি এই প্রতিযোগিতায়, এলে তাকেও হার মানতে হতো আজ তোমার কাছে। বলো, যোগ দেবে তুমি আমার রক্ষী বাহিনীতে?’

    ‘না,’ কর্কশ কণ্ঠে বললো ভিখারী। আমার মনিব আমি নিজে। কারো অধীনে চাকরি করি না আমি।’

    ‘তবে দূর হও!’ মুহূর্তে রেগে উঠলেন শেরিফ। ‘তোমার এই বেআদবির জন্যে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারতাম, কিন্তু মাফ করে দিচ্ছি। যাও, দূর হয়ে যাও আমার চোখের সামনে থেকে!’

    ‘যাচ্ছি,’ বললো ভিখারী, কিন্তু মনে রাখবেন, কারো মাফেরও তোয়াক্কা রাখি না আমি।’ বলেই পিছন ফিরে হাঁটতে শুরু করলো সে।

    ছিন্নবস্ত্র এক ভিখারীর মুখে এতবড় কথা শুনতে হবে স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি শেরিফ। হতভম্ব হয়ে গেলেন তিনি কয়েক মুহূর্তের জন্যে। যখন সংবিৎ ফিরে পেলেন, তখন গরীব দর্শকদের রেলিঙের কাছে পৌঁছে গেছে ভিখারী। ‘ধরো, ধরে আনো ওকে! হাঁক ছাড়লেন তিনি। ধরে নিয়ে এসো হারামজাদাকে!’

    একবার পিছন ফিরে চাইলো ভিখারী, আরো কয়েক পা এগিয়ে রক্ষীদের পায়ের শব্দ পেয়ে ঘুরে দাঁড়ালো। সাত আটজন সশস্ত্র প্রহরী ছুটে আসছে তার দিকে। বিদ্যুৎবেগে একটা তীর বের করে আনলো সে তূণ থেকে, সেটা ধনুকে পরিয়ে একটানে নিয়ে এলো ছিলাটা কানের পাশে। হাঁ হয়ে গেছে সবার মুখ। পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে সবাই ভিখারীর তীরের লক্ষ্য স্বয়ং শেরিফ।

    ‘খবরদার, শেরিফ! ফিরিয়ে নিন আপনার লেলিয়ে দেয়া কুত্তাগুলোকে!’ বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে প্রচণ্ড এক ধমক দিল ভিখারী। নইলে দুই চোখের ঠিক মাঝখানে ঢুকিয়ে দেব তীরটা।’

    দাঁড়িয়ে পড়লো রক্ষীরা, পিছন ফিরে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে শেরিফের পরবর্তী নির্দেশের। রাগে লাল হয়ে গেছে শেরিফের চোখ-মুখ। কিন্তু তাই বলে নিজের বিপদটা বুঝে নিতে কিছুমাত্র ভুল হলো না তাঁর। এখন গোয়ার্তুমি করতে গেলে ভিখারীর অব্যর্থ তাঁর বিধবে এসে ঠিক দুই চোখের মাঝখানে। ফলাফল, নির্ঘাৎ মৃত্যু।

    ‘ফিরে এসো!’ চিৎকার করে উঠলেন তিনি। যেতে দাও হারামজাদাকে। ফিরে এসো।

    আর এগুলো না বটে, কিন্তু ফিরেও গেল না রক্ষীরা। অপেক্ষা করছে, শেরিফ বিপদমুক্ত হলেই তাড়া করে ঘিরে ধরবে দুর্বিনীত ভিখারীকে।

    রেলিং টপকে ওপারে চলে গেল ভিখারী। কিছুদূর ভিড় ঠেলে এগিয়ে হঠাৎ শিঙাটা মাথার উপর তুলে শূন্যে ছুঁড়ে দিল সে ভিতরের মুদ্রাগুলো। চেঁচিয়ে বললো, ‘কুড়িয়ে নাও, ভাই। যে যা পারো কুড়িয়ে নাও।

    হুলস্থুল পড়ে গেল গরীব দর্শকদের মধ্যে। এই হুটোপুটি ডিঙিয়ে ইচ্ছে করলেও রক্ষীরা সহজে ধরতে পারবে না ওকে। নিশ্চিন্ত মনে পা বাড়ালো সে নগর-তোরণের দিকে। কোথা থেকে কে জানে, একদল মুখ্যুসুখ্যু গরীব দুঃখী ঘিরে ধরলো ভিখারীকে চারপাশ থেকে। সবাই মিলে বেরিয়ে গেল ওরা শহর থেকে।

    সেইদিন শেরউডের সেই বিখ্যাত গ্রীনউড গাছের নিচে জমায়েত হলো বিচিত্র পোশাক পরা একদল লোক। কেউ পরেছে ভিক্ষুকের পোশাক, কেউ সেজেছে মঠের সন্ন্যাসী, কেউ ঝালাইকার, কেউ নিরীহ নির্বোধ চাষী। তাদের মাঝখানে বসে আছে শতচ্ছিন্ন লাল পোশাক পরা সেই ভিখারী, তার এক হাতে একটা সোনার তীর, অপর হাতে রূপোর শিঙা। হাসাহাসি হৈ-চৈ-এর মধ্যে চোখের উপর থেকে কালো পট্টি খুলে ফেললো ভিখারী, দেখা গেল আসলে কানা নয় সে, খুশিতে হাসছে দুই চোখ। এবার শতচ্ছিন্ন পোশাকটা খুললো সে, দেখা গেল ছেঁড়া পোশাকের নিচে রয়েছে লিংকন গ্রীনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক। তারপর দাড়িতে হাত বুলালো ভিখারী। বললো, ‘কিন্তু এটা? আমার এত সাধের সোনালী দাড়ি থেকে ওয়ালনাটের কষের দাগ তুলবো কি করে?’

    কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলো সবাই। উঠে দাঁড়ালো রবিন হুড। পুরস্কার পাওয়া সোনার তীরটা ঝুলিয়ে দিল একটা ডালের সাথে। বললো, ‘এবার ভোজের ব্যবস্থা হওয়া দরকার। কি বলো তোমরা?’

    ভোজের পর শুরু হলো নাচ-গান গল্প-গুজব। এত ফুর্তির মধ্যেও রবিনকে একটু অন্যমনস্ক দেখে জানতে চাইলো লিটল জন, ‘কি হয়েছে তোমার, ওস্তাদ? কেমন যেন মনমরা মনে হচ্ছে?’

    ‘ঠিকই ধরেছো,’ বললো রবিন হুড। খারাপ লাগছে এই ভেবে যে শেরিফ জানলো না কিছুই। তার ধারণা কাপুরুষ রবিন হুড সাহসই পায়নি আজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে।’

    ‘ও, এই কথা?’ একগাল হাসলো লিটল জন। এ আর এমন কি সমস্যা?’ উইল স্টিউটলির দিকে ফিরলো সে, ‘উইল, একটা পদ্য বানিয়ে ফেলো তো চটপট, লিখে ফেলো একটা কাগজে।

    ‘কি করবে পদ্য দিয়ে?’ জানতে চাইলো রবিন।

    ‘দেখোই না কি করি!’ অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো লিটল জন। ‘হজমের বারোটা বাজিয়ে দেব আজ শেরিফের!’

    এদিকে নটিংহাম শহরে নিজ বাড়িতে বিশিষ্ট অতিথিবর্গের সাথে নৈশ ভোজে বসেছেন শেরিফ। খেতে খেতে মনের খেদ প্রকাশ করে ফেললেন শেরিফ। আমি ভেবেছিলাম রবিন হুড আজ আসবেই আসবে। ও যে এতবড় কাপুরুষ তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। বোধহয় কোন ভাবে টের পেয়ে গেছে ফাঁদ পেতে ধরা হবে আজ তাকে। ভয়ে ইঁদুরের গর্তে সেঁধিয়েছে গিয়ে। কিন্তু, ভাবছি ওই বেয়াড়া ভিখারীটার কথা কে ও?’

    কথা শেষ হবার আগেই ঘ্যাঁচ করে একটা তীর এসে বিঁধলো খাবার টেবিলে, শেরিফের ঠিক সামনে।

    ‘ব্যাপার কি! কি হলো? তীর এলো কোত্থেকে? খোলা ওই জানালা দিয়ে না?’

    ‘একটা কাগজ জড়ানো রয়েছে ওটার গায়ে,’ বললো একজন।

    ‘দেখি, দেখি কিসের কাগজ?’ হাত বাড়ালেন শেরিফ।

    ভাঁজ খুলতেই দেখা গেল ছোট্ট একটা পদ্য লেখা রয়েছে কাগজের মাঝখানে।

    “ভেবেছিলে ধরবে তাকে
    পড়বে ফাঁদে রবিন হুড।
    পুরস্কারটা কে নিল আজ?
    হাসছে তামাম শেরউড!”

    পরিষ্কার বুঝতে পারলেন শেরিফ, কানা ভিখারীর ছদ্মবেশে আজ পুরস্কার জিতে নিয়ে গেছে স্বয়ং দস্যু রবিন হুড।

    রাগে-দুঃখে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করলো শেরিফের চেহারা। খাবার ফেলেই এক লাফে উঠে দাঁড়ালেন তিনি, গটমট করে বেরিয়ে গেলেন ঘর ছেড়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৬৫ – কাউণ্ট কোবরা
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৮ – স্বর্ণলিপ্সা

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }