যখের ধন – অভিষেক ঘোষ (শিবাঙ্গণ)
যখের ধন – অভিষেক ঘোষ (শিবাঙ্গণ)
মর্গে রাখা সুরঞ্জন সান্যালের ডেড বডিটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়েছিল তিলোত্তমা। কিছু একটা ভাবছিল খুব মন দিয়ে, আর ঠিক তখনই শর্বরীর কথায় চমকে ওঠে ও। দীর্ঘ একটা বাকরুদ্ধ করা কনকনে ঠান্ডা জমাট নিস্তব্ধতা মুহূর্তে সরব হয়ে ওঠে শর্বরীর মুখ দিয়ে।
শর্বরী : একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করেছেন ম্যাডাম, ডেডবডির পকেটে একটা চিরকুট, এমনিতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিটা চালানো হয়েছে। মনে তো হচ্ছে খুনটা অফিসেরই কেউ করেছে। নাহলে এভাবে অফিসের চেম্বারে, এত সিকিউরিটি চেকিং এড়িয়ে, বাইরের কেউ ঢুকবে কী করে, আর খুন করে বেরিয়েই বা যাবে কী করে? কেউ দেখবে না, কেউ সন্দেহ করবে না?
তিলোত্তমা বেশ অনেকক্ষণ ধরেই মিঃ সান্যালের খুনের ফটোগুলো দেখছিল। ব্লেজারের পকেটে রাখা চিরকুটটায় ওর দৃষ্টিটা আটকে আছে, সেটা যেন কেমন আলগা, বেমানান। যেন, ঠিক এমনভাবে রাখা, যাতে বাইরে থেকে ওটা সহজেই দেখা যায়।
শর্বরী কথাটা বলায় ওর দিকে তাকায় তিলোত্তমা, “হুমম ঠিকই বলেছ। পকেটের চিরকুটটা যেন এমনভাবেই রাখা আছে, যাতে বাইরের লোক সেটা দেখতে পায়। তাই না?”
শর্বরী : ভিক্টিম মিঃ সান্যাল সম্পর্কে আমি খোঁজ নিয়েছি ম্যাডাম, উনি এই কোম্পানিতে বেশ অনেকদিন ধরেই আছেন, আর কোম্পানিতে ওঁর বেশ সুনাম, টপ ম্যানেজমেন্টের খুব প্রিয়পাত্র হয়ে থাকায়, ওঁর পরপর প্রমোশন হয়েছে গত তিন বছর, আর সেইজন্য অফিসের ওঁর একই পদের কয়েকজন ওঁকে পছন্দ করতেন না, ঠিকই, কিন্তু বাকিরা খুবই রেসপেক্ট করত। কেউ সরাসরি না বললেও আমার কিন্তু, সেটাই মনে হয়েছে। ওঁরা মানে ধরুন প্রোডাকশন ম্যানেজার মিঃ সেমওয়াল বা মার্কেটিং ম্যানেজার মিঃ দিওয়ান।
আপাতত মর্গ থেকে বেরিয়ে তিলোত্তমা মিঃ সান্যালের অফিসে আসে, সঙ্গে শর্বরী। যেখানে মার্ডারটা হয়েছে, সেই জায়গাটা একটু দেখা দরকার।
তিলোত্তমা একমনে মিঃ সান্যালের কেবিনে এসে ওঁর বসার চেয়ারটা দেখতে থাকে, এই চেয়ারে বসে থাকা অবস্থাতেই ওকে গুলি করা হয়েছে। কেউ একদম সামনে থেকে দাঁড়িয়ে গুলিটা করেছে, সেটাও সন্ধে ৭.০০ টা থেকে ৭.১৫-এর মধ্যে, যেসময় অফিসে লোকজন একটু কম ছিল। এমনিতে একদম সাদামাটা কেস, তবে একটা ব্যাপার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তিলোত্তমা, চিরকুটটাই একমাত্র সন্দেহজনক, আর এটা পরিষ্কার যে, যে মার্ডার করেছে সে এই মেসেজটা খুব ক্লিয়ার করে দিতে চেয়েছে বলেই, চিরকুটটা মিঃ সান্যালের পকেটে রেখে দিয়েছে, খুব আলগা করে, যাতে পুলিশ সেটা দেখতে পায়। এখন প্রশ্ন হল, সেটা সে রেখেছে পুলিশকে সাহায্য করার জন্য নাকি ভ্রমিত করার জন্য, সেটা জানা যাবে তখনই যখন সেটা কে রেখেছে, সেটা জানা যাবে। আর তাতে যেটা লেখা, সেটাও এক হেঁয়ালি,
“বছর বছর পাচ্ছ তুমি ঝুড়ি ঝুড়ি প্রমোশন।
তবে সামলাও দেখি, এবার তোমার যখের ধন।।”
শর্বরী ইতিমধ্যেই খোঁজ নিয়েছে, উনি যে কর্পোরেট অফিসে ছিলেন, সেখানে লাস্ট তিন বছরে উনি তিনটে বড় প্রমোশন আর সঙ্গে প্রায় কমবেশি পাঁচলাখ টাকা করে প্রোডাকশন ইনসেনটিভ পেয়েছেন ফি বছর, যেখানে ওঁর সমগোত্রীয় বাকিদের ইনক্রিমেন্টের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তো দুই-এ দুই-এ চার, সবই মিলে যাচ্ছে। প্রফেশনাল রাইভালরিই এই খুনের কারণ, শর্বরী মোটামুটি নিশ্চিত।
শর্বরী : তাহলে ম্যাডাম, সেকেন্ড হাফে ওঁর অফিসের সবাইকে ইন্টেরোগেশনের জন্য ডাকছি, সবাইকে এক এক করে জেরা করলেই সত্যিটা সামনে এসে যাবে, বিশেষ করে মিঃ সেমওয়াল আর মিঃ দিওয়ানকে।
তিলোত্তমা তখনও কিছু একটা ভাবছে গম্ভীর মুখে…
শর্বরী : কী এত ভাবছেন, ম্যাডাম, এটা তো একটা সিম্পল কেস, ইন্টেরোগেশন থেকেই একটা আইডিয়া পেয়ে যাব, আমার ধারণা ওঁর সেম ডেজিগনেশনের যে আরও দু’জন আছেন, তাঁরাই প্রতিহিংসা থেকে এ-কাজ করেছে, প্রথমে জেরা করি, তারপর লোকাল থানায় নিয়ে গিয়ে থার্ড ডিগ্রি দিলেই সব কথা গর গর করে বলবে। আর কী?
তিলোত্তমা : আচ্ছা শর্বরী, একটা কথা বলো ‘যখের ধন’ কাকে বলে?’
একটু থতমত খেয়ে যায় শর্বরী, “না মানে, সাধারণত কোনও বড় মণিমানিক্যের ভাণ্ডার বা স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি সিন্দুক অনেকদিন ধরে কোথাও লুকিয়ে রেখে দিলে, তাকে… মানে ছোটবেলায় যেমন পড়েছি রূপকথার গল্পের বইয়ে। আর এই সব ধনসম্পত্তিকে রক্ষা করত হয় কোনও বিষধর সাপ, বা প্রেত, এই রকম, আর কী?”
“একদম ঠিক বলেছ, তবে বিমল কুমারের “আবার যখের ধন” তো আমি এখনও পড়ি, সময় পেলেই… যাই হোক, আসল কথা হল ‘যখের ধন’ হল লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল ধনভাণ্ডার, তাই তো?”
শর্বরী মাথা নাড়ে, “হ্যাঁ ম্যাডাম।”
তিলোত্তমা : বাহ, ভেরি গুড, কিন্তু এবার পরের প্রশ্ন, প্রোডাকশন ইনসেনটিভকে কি যখের ধন বলা যায়?
তিলোত্তমা কেমন একটা অদ্ভুত ভাবেই প্রশ্নটা করে, গলায় একটু রহস্য ভাব এনে। আচ্ছা, আমি মিঃ সান্যালের ফাইলটা বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আর ভিডিও ক্লিপিংসগুলো রাতে আর একবার ভালো করে দেখি। আমার যেন মনে হচ্ছে, রহস্যটা অন্য জায়গায়। তুমি যেমন চাইছ, একটা রুটিন ইন্টেরোগেশন করো, কিন্তু এখনই কাউকে কিছু বলতে যেয়ো না। আর আমি ফেরার পথে মিস্টার সান্যালের বাড়ি হয়ে ফিরব। ওঁর স্ত্রী আর বাড়ির বাকি লোকেদের সঙ্গে কথা বলাটা দরকার।
* * * * *
ভোর তখন প্রায় ৬.০০ টা, শর্বরীর ফোনটা বেজে ওঠে, তিলোত্তমার ফোন।
শর্বরী তখন সবে ঘুম থেকে উঠে যোগাসন করছে, সাধারণত ও খুব দরকারী ফোন না হলে যোগাসন করার মাঝে ফোন ধরে না। সেটা ওর অফিসের সবাইও জানে। কিন্তু তাও দু’-বার ফোনটা বাজতেই ও বোঝে নিশ্চয়ই কোনও গুরুতর দরকার। তাই ফোনটা ধরে শর্বরী।
শর্বরী : হ্যালো গুড মর্নিং ম্যাডাম। আমি আপনাকে রিপোর্ট করতামই। আসলে কাল বিকালে ওঁদের ইন্টেরোগেশন করে সেরকম…
তিলোত্তমা : দশ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নাও, আমি ফোর্স নিয়ে আসছি, তোমাকে বাড়ি থেকে পিক আপ করে নেব। খুনিকে অ্যারেস্ট করতে হবে, আমি স্যারকে বলে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট অ্যারেঞ্জ করে নিয়েছি।
শর্বরী বেশ হকচকিয়ে যায়, ‘কী… কিন্তু…’
‘আরে শর্বরী, বুঝলে না, অফিসের কেউ যদি জেলাসি থেকে মার্ডারটা করত, তাহলে সে কি চিরকুটটা পকেটে রেখে নিজেদের দিকে পুলিশের সন্দেহটা নিয়ে আসত? কর্পোরেট অফিসে কাজ করা লোকেরা অত কাঁচা কাজ করে না। আমার ওটা পাওয়া থেকেই মনে হচ্ছিল, ওটা আমাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে। যাতে আমরা ভাবি, অফিসের লোক এটা করেছে।’
শর্বরী : কিন্তু এটা কে রেখেছে, ম্যাডাম?
তিলোত্তমা : খুব সহজ উত্তর, যে খুনটা করেছে, সেই। আর মিসেস সান্যালের সঙ্গে আর ওঁর বাকি ফ্যামিলিতে খোঁজ নিয়েছি, ওর স্ত্রী ছাড়াও এখন ওর শালা আর তার স্ত্রী ওঁর কাছে বেড়াতে এসেছেন।
শর্বরী : কিন্তু এরা কারা, ম্যাডাম?
তিলোত্তমা : এদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল কালপ্রিট, বুঝলে শর্বরী? ওর শালার নাম রাহুল, আর তার স্ত্রী মন্দিরা নিজের বুটিক করার জন্য অনেক দিন চেষ্টা করছেন। এমনিতেই টুকটাক ব্যবসা করতে গিয়ে ওঁর প্রায় লাখ পঞ্চাশেক টাকা বাজারে ধার, একটা ব্যাঙ্ক থেকে উনি লোন করেছিলেন, আর তারা এখন টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে, বার তিনেক কিস্তির টাকা জমা দিতে পারেননি বলে। প্রায় লাখ দশেক টাকা সেই ব্যাঙ্কে লোন, তিন মাসের কিস্তি ডিউ।
শর্বরী : আচ্ছা, ম্যাডাম। কিন্তু এই সব ইনফরমেশন আপনি কোথায় পেলেন?
তিলোত্তমা : আমি গতকাল ফেরার পথে ওদের বাড়ি গেছিলাম। তখন সবার সঙ্গে কথা বলি। কথায় কথায় মিসেস সান্যাল, মন্দিরা দেবীর কথা বললে, আমি ফেরার পথে ব্যাঙ্কে গিয়ে ইনফরমেশনটা ভেরিফাই করি, ব্যাঙ্ক ম্যানেজারও আমাকে একই কথা বলেন।
শর্বরী : খুব সম্ভবত মন্দিরাদেবী টাকার জন্য সাহায্য চাইতেই মিঃ সান্যালের কাছে এসেছিল।
তিলোত্তমা : সেটাই তো, শর্বরী। আমি কাল রাতে মন্দিরা দেবীকে ফোন করেছিলাম, ব্যাঙ্কের কর্মী সেজে, লোনের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলতে। তাতে উনি একটা অদ্ভুত কথা বললেন, জানো?
শর্বরী : কী বললেন?
তিলোত্তমা : উনি বললেন, শোভাবাজার এলাকায় ওঁর স্বামীর নামে একটা পৈতৃক বাগানবাড়ি আছে, যার আজকের বাজার মূল্য কোটি টাকার কম নয়, উনি সেই বাড়িটা বিক্রি করে ব্যাঙ্কের টাকা শোধ করে দেবেন, তবে ওঁর মাস খানেক সময় লাগবে।
শর্বরী : ওঁর যদি বাড়ি থাকে তো, এতদিন সেটা করেননি কেন?
তিলোত্তমা : সেখানেই তো রহস্য, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, শোভাবাজারের যে বাগানবাড়ির কথা উনি বলেছেন, সেটা আদৌ ওঁর নামে নয়, সেটা মিসেস শ্রীরূপা সান্যালের নামে, আর খুব সম্ভবত কোনও পারিবারিক কারণে সেই সম্পত্তিতে ওঁর স্বামী, মানে মিসেস শ্রীরূপা সান্যালের ভাই রাহুলবাবুরও কোনও অংশ নেই।
শর্বরী : তার মানে, ওঁর নামে নয়, বাগান বাড়িটা আসলে শ্রীরূপা সান্যালের নামে, তাহলে উনি সেটা বিক্রি করে ব্যাঙ্ক লোন কীভাবে মেটাবেন?
তিলোত্তমা : দেখো আমার মনে হয়, শ্রীরূপা সান্যালের নামে যেহেতু ওঁদের পৈতৃকসম্মতি আছে, তাই ওই বাড়ির কাগজপত্রও ওর নিজের নামে ট্রান্সফার করার জন্যই এই একমাস সময় উনি চেয়েছেন। আর শ্রীরূপা যে সেটা স্বেচ্ছায় করে দেবেন, তো নিশ্চয়ই নয়।
শর্বরী : কিন্তু এই টাকাটা তো মিঃ সান্যালের কাছে কিছু নয়, উনি তো দিয়েই দিতে পারতেন মন্দিরা দেবীকে এই টাকাটা, তাই না?
তিলোত্তমা : সেটাই তো রহস্য, শর্বরী, পারতেন তো, কিন্তু দেননি। কথা বলার সময় শ্রীরূপা দেবী আকারে ইঙ্গিতে যেটা বোঝান সেটা হল, তিন মাস ধরে মন্দিরা টাকা চাইলেও মিঃ সান্যাল ওকে টাকা দেননি।
শর্বরী : আর তাই মন্দিরা দেবী টার্গেট করে বাগানবাড়ি, আর সেটাও নিতে বাধ সাধেন মিঃ সান্যাল। তাই তো ম্যাডাম?
তিলোত্তমা : একদমই তাই, আর একটা কথা, মার্ডারের টাইম যদিও সন্ধ্যা ৭.০০ টা থেকে ৭.১৫, আর তার একটু আগেই শ্রীরূপা ওর অফিসে দেখা করতে এসেছিলেন ৬.৪৫ নাগাদ, আর তখন ওঁর সঙ্গে ছিলেন মন্দিরা। ওঁরা চলে যায় ৭.০৫-এ। কিন্তু মিঃ সান্যালের অফিস বিল্ডিংয়ের সি সি টিভি-তে দেখেছি, ঠিক ৭.১০ নাগাদ একজন অনলাইন শপিং ডেলিভারি বয়, কিছু একটা প্যাকেট নিয়ে ঢুকছে, আর বেরিয়ে যাচ্ছে ঠিক ৭.১৩ মিনিটে। আর তারপর মেন অফিসের গেটে রাখা সিসিটিভি দেখাচ্ছে, শ্রীরূপা অফিস ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে বেরোচ্ছে ঠিক ৭.১৫ মিনিটে, আর তারপর প্রায় ৭.২o নাগাদ মন্দিরা একা বের হচ্ছে, কিন্তু গেট দিয়ে কোনও ডেলিভারি বয় বেরোচ্ছে না। শ্রীরূপা কথা বলার সময় বলেছিল, ওরা মিঃ সান্যালের অফিস থেকে বেরিয়ে আসার পর দেখে গাড়ির চাবিটা মিঃ সান্যালের কেবিনে ফেলে এসেছে, তাই শ্রীরূপা বাইরে ভিজিটর বক্সে অপেক্ষা করতে থাকে, আর মন্দিরা গিয়ে চাবিটা আনে। তারপর ওরা গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। আমি সিসিটিভি-তেও সেটা দেখেছি, মেন গেটের দিয়ে ওরা একসঙ্গে বেরোচ্ছে ৭.২৮ মিনিটে।
শর্বরী : আচ্ছা ম্যাডাম, ওই ডেলিভারি বয় মেন গেট দিয়ে কখন ঢুকেছে?
একটু হেসে চুপ করে থাকে তিলোত্তমা, তোমার কী মনে হয় বলো তো, শর্বরী?
শর্বরী : বুঝে গেছি ম্যাডাম, তার মানে শ্রীরূপা দেবীরা ওঁর হাজব্যান্ডের অফিস থেকে বেরিয়ে এলেও, ওঁরা মেন অফিস ক্যাম্পাস থেকে বেরোননি, শ্রীরূপা দেবী ভিজিটর বক্সে বসে থাকলেও মন্দিরা কোথাও লুকিয়ে ছিলেন, আর তারপর নিজেই আবার ডেলিভারী বয় সেজে ফিরে আসে অফিসে…
তিলোত্তমা : ভেরি গুড, শর্বরী। আর আমি ওই অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসের জোনাল অফিসে ভেরিফাই করেছি, ওদের গতকাল ওই অ্যাড্রেসে কোনও ডেলিভারি ছিলই না।
শর্বরী : কিন্তু ডেলিভারি বয়…
তিলোত্তমা : হ্যাঁ, মন্দিরা সবই মেকআপ করেছে, একটা ভুল করে ফেলেছে শুধু ঘাড়ের কাছের ট্যাটুটা কভার করতে ভুলে গেছে, হয়তো এক্সাইটমেন্টে।
শর্বরী : ম্যাডাম আপনি সিওর তো?
তিলোত্তমা : হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি সিওর, আর একটা জিনিস কী জানো তো, কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে এই প্রমোশন আর ইনক্রিমেন্ট নিয়ে জেলাসি খুব কমন, কিন্তু এরা খুব চাপে থাকে তো, তাই এই প্রমোশন, ইনক্রিমেন্ট এগুলো এদের কাছে ভীষণ পরিচিত, আর তার সঙ্গে জুড়ে থাকা ইচ্ছেপূর্তির আনন্দ বা না পাওয়ার হতাশা। যার হয় সে খুশি আর যার হয় না, সে নেক্সট ইয়ারের জন্য নিজেকে নিংড়ে আরও ভালো করে কাজ করার চেষ্টা করে, কিন্তু এর জন্য কাউকে খুন তারা করে না। আর প্রোডাকশন ইনসেনটিভকে এরা কখনও ‘যখের ধন’ বলে না।
“ইয়েস ম্যাডাম, বুঝলাম। আসলে ‘যখের ধন’ ওই শোভাবাজারের পৈতৃক বাগান বাড়ি, আর মিঃ সান্যালের জমানো বিপুল ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, তাই তো? যেগুলো ওঁর কাছে থাকলেও মন্দিরা দেবীর কোনও কাজে আসছিল না।”
“অ্যাবসলিউটলি রাইট, যাক বাকি কথা, যেতে যেতে বলব। তুমি রেডি তো? আমি তোমার বাড়ির কাছে পৌঁছে গেছি।”
শর্বরী হাসে, “ইয়েস ম্যাডাম, রিপোর্টিং মাই ডিউটি অন টাইম।”
.
অভিষেক ঘোষ (শিবাঙ্গণ)
তিনি চেষ্টা করেন কাগজে কলম দিয়ে কিছু আঁকিবুঁকি কাটতে। বেশিরভাগ পাতাই নষ্ট হয়, তার মধ্যে কোনও কোনওটা, কোনও বিমূর্ত আকৃতি পেলে সেটাই হয়ে যায় গল্প। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর, তারপর ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রি। বর্তমানে এক বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। লেখক বলেন, “তবু লিখতে ভালোবাসি বলে লেখা, মস্তিষ্কের পুষ্টির আশায়।”
