Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রহস্য সমগ্র – অজেয় রায়

    লেখক এক পাতা গল্প543 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রতিশোধ

    প্রতিশোধ

    ট্রাকটা যখন সিউড়ি পৌছল তখন সন্ধ্যে নেমে গিয়েছে। শহরের মধ্যে ঢুকে একটা হােটেলের সামনে গাড়িটা থামিয়ে অর্জুন সিং বলল, মন্টু ভাই, আমরা এখানেই আস্তানা গাড়ব। আমার চেনা হােটেল। খানাপিনা ফাস ক্লাস। নাস্তা করে তুমি বেরিয়ে পড়াে তােমার দুশমনের খোঁজে।

    দোতলায় একখানা ডবল বেড ঘর নেওয়া হল অর্জুন সিং আর মন্টুর জন্য। ট্রাকের খালাসি রামপ্রসাদ থাকবে নিচে। ঘরে নিজেদের জিনিসপত্র রেখে মুখ হাত ধুয়ে, চা-টা খেল তারা। তারপর মন্টু পথে বেরলাে পায়ে হেঁটে। অর্জুন ট্রাক নিয়ে গেল কাছেই একটা গ্যারেজে রাখতে।

    প্রায় কুড়ি বছর বাদে মন্টু সিউড়ি এল। অনেক বদলেছে শহরটা। ধীরে ধীরে দেখতে দেখতে চলে মন্টু। অনেক পুরনাে বাড়ি ভেঙে বড় বড় হাল ফ্যাশানের বাড়ি তৈরি হয়েছে। অনেক কাচা রাস্তা পাকা হয়েছে। সরু রাস্তা চওড়া হয়েছে। দোকানপাটও বেড়েছে প্রচুর। বেড়েছে রাস্তায় যানবাহন ও পথচারীর ভিড়। অনেক বকা মাঠ গ্রাস করেছে ঘরবাড়ি। মন্টু সাবধানে দু’পাশে নজর রেখে চলে। পুরনাে কিছু কিছু বাড়ি, দোকান, গাছ ইত্যাদি খেয়াল করে এগােয়। নানান বাঁক ঘঘরে পথে। একটু একটু করে তারা গন্তব্যস্থলের কাছাকাছি হতে থাকে। তারপর থমকে দাঁড়ায় একটা ঝকঝকে তেতলা বাড়ির সামনে। সঙ্গে সঙ্গে তার মনে উথালপাতাল। মন্টু কাঠ হয়ে মােহাবিষ্টর মতাে ওই বাড়িটা দেখে। নিচের তলায় একটা মস্ত সাইকেলের দোকান। ওপরের দুটো তলায় মনে হল লােকের বাস।

    এইখানেই ছিল। তবে এই বাড়ি নয়। মন্টুর মনে ভেসে ওঠে একটা একতলা পুরনাে বাড়ির ছবি। পলস্তরা খসা দেওয়াল। বাড়ির সামনে ফালি জমিতে ফুলগাছের বাগান। মাঝখান দিয়ে সরু ইট বাধানাে পথ। লােহার শিকে তৈরি গেট। যেখানে কেটেছে তার ছোটবেলার অনেকগুলি বছর। মন্টু ব্যাকুল হয়ে আশেপাশে তাকায়। ওই তাে পলাশ গাছটা আজও রয়েছে। বসন্তে ওর ডালে ডালে যেন আগুন জ্বলতে। কাছাকাছি আরও কয়েকটা বাড়ি দেখছি আজও একই রকম আছে।

    প্রবল উচ্ছ্বাস চাপতে মাথা ঝিমঝিম করে মন্টুর। বহু আগেকার প্রায় মুছে যাওয়া কত ঘটনার স্মৃতি ক্রমে উজ্জ্বল হয়। কত আনন্দের স্মৃতি, কত বেদনার স্মৃতি তােলপাড় ঢেউ তুলে ধেয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে আর একটা স্মৃতি, যা এতকাল দূরে থেকেও কখনও ক্ষীণ হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই ঘটনাটা তার স্মৃতিপটে চাবুক মেরেছে। সেই প্রবল রাগ আর ঘৃণা ভরা স্মৃতিটা এখানে দাঁড়িয়ে মুহূর্তে লকলক করে শিখা তােলে। মাথার ভিতর ফের দল করে ওঠে প্রতিহিংসার আগুন। বিশ্বনাথ ওরফে বিশে গুন্ডার কদাকার আকৃতিটা ফুটে ওঠে মনে।

    বছর ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বয়স। মিশকালাে রং। মােটা গোঁফ। কড়া কালাে চুল। লােমশ ভুরুর নিচে নিষ্ঠুর দুটো চোখ। বিশাল দেহ। সর্বদা মচমচ করে পান চিবুচ্ছে আর কষে পিচ গড়াচ্ছে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। গলায় সােনার চেন। পরনে সদাই ধবধবে সাদা ফিনফিনে ধুতি পাঞ্জাবি। ওই মোষের মতাে চেহারায় তাতে রূপটা আরও খােলতাই হত।

    কোথায় সে? দমবন্ধ উত্তেজনায় মন্টু বিশ্বনাথকে দর্শনের আশায় চারধারে চায়। কিন্তু দেখতে পায় না। তারপরেই একটা কথা মনে হতে তার হুঁশ ফেরে।

    এতকাল বাদে বিশ্বনাথকে দেখলে সে কি চট করে চিনতে পারবে? মন্টুকে দেখলেই কি আর এখনকার পুরনাে লােকেরা চিনবে এক নজরে? বছর বারাের সেই রােগা পাতলা ভ্যাবলা ছেলেটা আর আজকের ছ’ফুট লম্বা, শক্তপােক্ত জোয়ান স্মার্ট যুবকটির মধ্যে কতটুকু মিল? তার সেই কিশাের মুখখানা কত ভেঙেচুরে গিয়েছে। টিকলাে নাক এখন খাড়া। তার সেই বয়সের ফ্যাকাসে ফর্সা রং আজ রােদে জলে ঘুরে তামাটে। পাট পাট করে একপাশে আঁচড়ানাে চুল ভােলা পাল্টে এখন ঘাড় ছোঁয়া, ঢেউ খেলানাে। নাঃ, নিজে থেকে পরিচয় না দিলে আগের মন্টুকে যারা দেখেছে তারা এখন চিনতে পারবে না মােটই।

    এই বাড়ি থেকে পাঁচখানা বাড়ি তফাতে একটা চায়ের দোকান ছিল। সেখানেই আড্ডা মারত বিশে ‘আর তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। কখনও দোকানের বেঞ্চি জুড়ে। কখনও সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে। হেন কুকাজ নেই তারা করত না। পাড়ার লোক তাদের যমের মতাে ভয় পেত।

    মন্ট পায়ে পায়ে সেই দোকানের দিকে যায়।

    আরে সেই দোকানটা যে এখনও টিকে আছে! তবে ক্যাশবাক্সর পিছনে বসা সাধুচরণের জায়গায় এখন অন্য লােক। দোকানের ছিরি কিছুটা পাল্টেছে। বলা যায়, উন্নতি হয়েছে। কয়েকটি খদ্দের বসে আছে ভিতরে। কিন্তু খুঁটিয়ে নজর করেও বিশ্বনাথ বা তার চ্যালাদের সঙ্গে মেলে, এমন কাউকে সেখানে আবিষ্কার করতে পারে না মন্টু। সে ওই দোকানে ঢুকে এক কাপ চা খেল বেশ সময় নিয়ে। নাঃ, গুভা প্রকৃতির লােকের কোনাে গুলতানি তার চোখে পড়ে না। নেহাতই নিরুপদ্রব পড়া।

    বিশে গুন্ডা কি তার আমার জায়গা বলেছে? চায়ের দোকানে বিশ্বনাথের হদিশ জিজ্ঞেস করতে ভরসা হল না মন্টুর। কী জানি, যদি অন্য কিছু সন্দেহ করে। ফলে তাদের সব প্ল্যান যদি ভেস্তে যায়!

    মন্টু ফিরে চলে হােটেলে। কত কথা ভাবতে ভাবতে—

    ওই বাড়িতে এখনকার তেতলা নয়—সেই একতলা পুরনাে বাড়িটায় জন্মেছিল মন্টু। ওইখানেই কেটেছে তার জীবনের বারােটি বছর। মন্টুর বয়স যখন সাত তখন তার মা চরম বিপাকে পড়েন। আত্মীয়স্বজন কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। কেউ আশ্রয় দিতে আহ্বান জানায়নি। হয়তাে মায়ের বাবা বেঁচে থাকলে সেটুকু জুটত। মন্টুর মায়ের আত্মসম্মানবােধ ছিল প্রখর। অনাহুতভাবে কারও আশ্রয়ে যেতে চাননি। ভালাে সেলাই জানতেন তিনি। সেলাইয়ের অর্ডার নিয়ে আর স্বামীর সামান্য জমানাে পুঁজি সম্বল করে কায়ক্লেশে সংসার চালাতে থাকেন। ছেলেকে পড়াতে থাকেন স্কুলে।

    কিন্তু তাও সইল না বরাতে। দুর্যোগ ঘনাল। মন্টুদের বাড়ির মালিক বাড়িটা হঠাৎ বেচে দিয়ে সিউড়ি ছেড়ে চলে গেলেন। বাড়িটা কিনেছিল বিশ্বনাথ ওরফে বিশে গুন্ডা। বাড়িটার মালিক হয়েই সে মন্টুর মাকে নােটিশ দিল—এক মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। এখানে সে দোকান করবে।

    মন্টুর মা বাড়ি খুঁজতে থাকেন। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তেমন কোনাে বাড়ি মেলেনি সুবিধা মতাে। ঠিক এক মাস বাদে বিশে দুই সাকরেদ নিয়ে হাজির হল তাগাদায়।

    মন্টর মা মিনতি জানিয়েছিলেন, আর ক’টা মাস সময় দিন। কম ভাড়ায় এখানে বাড়ি পাইনি কাছাকাছি। এই পাড়ায় একজন কথা দিয়েছেন, তার বাড়িতে একটা ঘর খালি হবে ছ’মাস বাদে। সেটা আমায় দেবেন অল্প ভাড়ায়। আমার সামর্থ্য তাে জানেন। কম ভাড়ায় পেলেও, বেশি দূরে যেতে সাহস হয় না। দূরে গেলে ছেলের ইস্কুলে যাওয়া আসা মুশকিল। তাছাড়া আমি প্রায়ই সেলাইয়ের অর্ডার নিতে, কাপড়-সুতাে কিনতে বাইরে ঘুরি। ছেলেকে চেনাশােনা প্রতিবেশীদের ভরসায় একা রাখি। আর ক’টা মাস অপেক্ষা করুন।

    নির্দয় বিশে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি না দেখিয়ে এক চোট গালিগালাজ দিয়ে জানিয়েছিল, “ওঃ, আরও কটা মাস? আবদার! আর পনেরাে দিনের মধ্যে বাড়ি খালি করে দিতে হবে। নইলে কেস খারাপ হবে বলে দিচ্ছি।”

    মন্টুর মা তেজি মানুষ ছিলেন। এমন অভদ্র ব্যবহারে রুখে উঠে বলেছিলেন, “আমি নিয়মিত ভাড়া দিচ্ছি। এমন জবরদস্তি করে আমাদের বাড়িছাড়া করতে পারেন না। দেশে আইন আছে।”

    “বটে, আইন দেখানাে হচ্ছে? দে ঘর ফাঁকা করে। দেখি কে কী করতে পারে?”

    খেপে গিয়ে বিশে হুকুম করতেই তার দুই সাকরেদ টপাটপ ঘরের বাক্স বিছানা চেয়ার বইপত্তর তুলে বাইরে ছুড়ে ফেলতে শুরু করে।

    মন্টুর মা কয়েক মুহুর্ত হতভম্ব থেকে হাঁ হাঁ করে এগিয়ে গিয়েছিলেন বাধা দিতে। কিন্তু তার আগেই বিশের হাতের এক ঝটকা মন্টুর মাকে আঘাত করে পাশে খাটের ওপর ফেলে দেয়। মন্টু আর থাকতে পারেনি। সে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিশের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে বিশের হাতের এক প্রচণ্ড থাপ্পড় খেয়ে লুটিয়ে পড়েছিল মেঝেয়। ক্ষণকালের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিল রােগা-দুবলা ছেলেটা।

    বিশ্বনাথ নির্মম হেসে কর্কশ স্বরে মন্তব্য করেছিল, “উচ্চিংড়েটার তাে আস্পর্ধা কম নয়! যাকগে, আর পনেরাে দিনের মধ্যে বাড়ি না ছাড়লে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব। আইন-আদালত করলে কিন্তু ওই ছেলের লাশ পাওয়া যাবে মাঠে, এই বলে রাখছি।”

    হুমকি দিয়ে ঘরের ছত্রাকার জিনিসে বারকয়েক লাথি মেরে ছিটকে ফেলে গটগট করে বেরিয়ে গিয়েছিল বিশে। পাড়ার লােক দূর থেকে ব্যাপারটা দেখেছিল। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।

    অপমানটা বড্ড বেজেছিল মন্টুর মায়ের বুকে। তবু তিনি ভয়ে পিছু হটার পাত্রী ছিলেন। হয়তাে কোর্টে যেতেন সত্যি সত্যি। কিন্তু একমাত্র সন্তানের প্রাণনাশের আশঙ্কায় সিউড়ি ছাড়লেন দিন কয়েক বাদে।

    এই কদিনও রেহাই পায়নি মন্টুরা। সে বা তার মা বিশ্বনাথের আড্ডাখানা চায়ের দোকানটার সামনে দিয়ে গেলেই শুনতে হয়েছে তাদের উদ্দেশে কটুক্তি। সব তারা বুজে সরে গিয়েছে, না শােনার ভান করে।

    সিউড়ি ছেড়ে মা ছেলে হাজির হয়েছিল মন্টুর বড়মামার কাছে হুগলিতে।

    হুগলিতে পাঁচটা বছর বড় অনাদরে কেটেছিল মন্টর।

    মন্টুর বড়মামা ছাপােষা মানুষ। বাসা ছােট। মন্টুদের আগমনে বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন। বিশেষত বড়মামি। সােজাসুজি চলে যেতে না বললেও, আকারে ইঙ্গিতে ক্রমাগত বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে এই উটকো আপস বিদায় হলেই বাঁচি। মন্টুকে কেবলই উপদেশ দিতেন চটপট কোনাে রােজগারের চেষ্টা করে। মন্টুর মা অবশ্য সেখানেও সেলাই করে যথাসম্ভব নিজেদের খরচ জোগাতেন। মাধ্যমিক পাশ করেই তাই মন্টু মামারবাড়ি ছাড়ে রােজগারের ধান্দায়, মায়ের অমতেই।

    প্রথমে একজন ট্রাক ড্রাইভারের হেল্পার হয়ে বেরিয়ে পড়ে। বছর দুই নানা জায়গায় ঘােরে, নানান কাজ করে, যখন যা জুটেছে। তারপর কানপুরে থিতু হয়। সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে একটা মােটর গ্যারেজে মােটর গাড়ির কলকজার কাজ শিখতে থাকে।

    বহু কষ্ট সহ্য করে প্রচণ্ড অধ্যবসায়ে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সে একজন পাকা মােটর মেকানিক হিসাবে নাম কেনে। রােজগারও অনেক বাড়ে। এতদিন যখন যেটুকু পেরেছে মাকে অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছে। তবে মামারবাড়ি গেছে কদাচিৎ। এবার সে মাকে নিজের কাছে কানপুরে এনে রাখে।

    মন্টুর মা কিন্তু আর বেশিদিন বাঁচেননি। দুঃখে কষ্টে তার শরীর ভেঙে গিয়েছিল। শেষ জীবনে মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছিল ভেবে, মন্টুর হৃদয় ভারি তৃপ্তি পায়। তবে একটা ব্যাপারে মন্টু নিশ্চিত—সিউড়ি থেকে ওভাবে অপমানিত হয়ে চলে আসার দুঃখময় স্মৃতি কোনােদিন ম্লান হয়নি মায়ের মনে।

    মা মুখে কিছু প্রকাশ করতেন না বটে, কিন্তু কখনও তাদের সিউড়ির জীবনের শেষ কটা দিনের প্রসঙ্গ তুলতেন না। যেন ওই দিন ক’টা ভুলে যেতে চাইতেন জোর করে। মন্টু সেকথা তুললেও কঠিন মুখে চুপ করে থাকতেন। যােগ দিতেন না কথায়।

    একবার মন্টু উত্তেজিত হয়ে বলে ফেলেছিল, “জানাে মা, ইচ্ছে করে একবার সিউড়ি যাই। গিয়ে শয়তান বিশের মাথাটা ডান্ডা মেরে ভেঙে দিয়ে আসি।”

    শুনে আঁতকে উঠেছিলেন মা- “না খােকা, অমন মতলব করিসনি। ওখানে গিয়ে ওসব করলে তুই খুন হয়ে যাবি। অনেক কষ্টে দাঁড়িয়েছিস। তুচ্ছ কারণে একটা বাজে লােকের ওপর শােধ তুলতে গিয়ে কেন নিজের জীবন নষ্ট করবি? সে আমি সইতে পারব না।” মা তারপর একটুক্ষণ চুপ করে থেকে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, “একদিন ওরা পাপের শাস্তি ঠিক পাবে। আমি বিশ্বাস করি।”

    একা সিউড়ি গিয়ে বিশ্বনাথের ওপর ভালাে মেটানাের হঠকারিতা করেনি মন্ট। কিন্তু সেই অপমানের কারণে দুরন্ত প্রতিশােধের ইচ্ছেটা তুষের আগুনের মতাে তার নিরুপায় বুকে নিয়ত ধিকিধিকি জ্বলেছে। এতদিনে বুঝি বা সেই আশঙক্ষা মিটবে অর্জুন সিংয়ের দৌলতে।

    হরিয়ানাবাসী অর্জুন সিং। বয়স চল্লিশের কিছু বেশি। বিশাল জোয়ান। দুর্ধর্ষ প্রকৃতি। এক ট্রান্সপাের্ট কোম্পানির পার্টনার সে। সারা ভারত চষে বেড়ায় ব্যবসার কাজে। দরকারে নিজেও ট্রাক চালায়। দিব্যি বাংলা জানে। মন্টুর সঙ্গে পরিচয় কানপুরে। সরল পরিশ্রমী। যুবক মন্টুকে ভালাে লেগেছিল অর্জুনের। কানপুরে এলেই সে মন্টুর সঙ্গে আড্ডা দেয়।

    মন্টু একদিন কথায় কথায় অর্জুন সিংকে বলে ফেলেছিল, সিউড়িতে বিশে গুণ্ডার হাতে তাদের লাঞ্ছনার কাহিনি।

    অর্জুন ফুসে উঠেছিল, “এখনও তার বদলা নাওনি কেন?”

    মন্টু সখেদে জানায়, “কী করব? সিউড়িতে একা গিয়ে শােধ তুলতে গেলে লাইফ রিস্ক। মায়ের বারণ। ইচ্ছে কি আর হয় না?”

    সিংজি টেবিলে দড়াম করে এক ঘুসি বসিয়ে গর্জন ছেড়েছিল, “দোস্ত, আমায় আগে বলােনি কেন? আরে, কত আচ্ছা আচ্ছা গুন্ডা বদমাশের সঙ্গে আমার খাতির আছে। ওই বিশের মতাে পাতি গুন্ডাকে সিউড়ি থেকে বেমালুম হাপিস করে এনে তােমার পায়ের নিচে ফেলার বন্দোবস্ত করে দেব। তখন বেটাকে যাে খুশ কোরাে। কোনাে ডর নেই। এমন জায়গায় এনে ফেলব কেউ পাত্তা পাবে না। থানা পুলিশ হলে আমি সামলাব। সে হিম্মত আছে।” অর্জুন গোঁফ চোমড়াতে চোমড়াতে গম্ভীর বদনে প্রশ্ন করে, “তা দুশমনটাকে হাতে পেলে কী করবে? আমি বলি, একদম খতম করে দাও।”

    “না না, খুন নয়।” আপত্তি জানিয়েছিল মন্টু। ইচ্ছে হয় একা একা খালি হাতে একবার ওর টক্কর নিই। তারপর যে-হাতে ও আমায় চড় মেরেছিল, যে হাতে ও আমার অসহায় মাকে ধাক্কা মেরেছিল, সেই হাতখানা মুচড়ে ভেঙে দিই।” বলতে বলতে মন্টু নিজের দুই পেশিবহুল হাত দু’খানায় চোখ বােলায়। উত্তেজনায় ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলে।

    অর্জুন সিং মন্টুর পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলেছিল, “বহুত আচ্ছা। এবার যখন সিউড়ি লাইনে যাব, তােমায় সাথ নেব। সেই বেতামিজ বিশেটাকে চিনিয়ে দিও। পরে ওকে তুলে এনে তােমার সঙ্গে লড়িয়ে দেব।”

    সেই উদ্দেশ্যেই সিউড়ি এসেছে অর্জুন সিং আর মন্টু। হােটেলের কাছাকাছি এসে মন্টুর হঠাৎ মনে হল, ভরতের সঙ্গে একবার দেখা করি। ও কি এখনও বাসায় আছে?

    ভরত সাইকেলরিকশা চালাত। মুলুক থেকে সদ্য আসা সহায়হীন যুবক ভরতকে মন্টুর বাবা কিছু সাহায্য করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতা ভােলেনি ভরত। মন্টুদের খুব ভালােবাসত। মন্টুর মাকে রিকশায় ঘুরিয়ে অনেক সময় ভাড়া নিতে চাইত না। আর নিলেও নামমাত্র। যখন মন্টুর সিউড়ি তখন ভরতের বয়স বছর তিরিশ। স্টেশনের কাছে বউ-বাচ্চা নিয়ে বাস করত সে। গােপনে বিশ্বনাথের খবর জানতে ভরতই সব চাইতে নিরাপদ।

    মন্টু হােটেলে ফিরল রাত ন’টা নাগাদ।

    অর্জুন সিং অপেক্ষায় ছিল। জিজ্ঞেস করল, “খবর মিলল?”

    “মিলেছে।” জবাব দেয় মন্টু। সংক্ষেপে ভরতের পরিচয় দিয়ে মন্টু বলে, “ভরতের কাছে জেনেছি, বিশে গুল্ডার এখন হাল বেশ খারাপ। ওর গ্যাং ভেঙে গিয়েছে। টাকাপয়সাও উড়ে গিয়েছে। এখন থাকে শহরের সীমানায় একটা ছোট্ট বাড়িতে। আমাদের আগের বাড়ি, সে বাড়ি অবশ্য এখন আর নেই, ভেঙে তিনতলা নতুন বাড়ি হয়েছে দেখলাম। সেটাও নাকি বিশের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। মালিক অন্য লোক। ও এখন শহরের ভেতর মােটে আসে না। হয়তো পুরনাে শত্রুদের ভয়ে। চার-পাঁচ বছর ওকে চোখে দেখেনি ভরত। শুনেছে এসব। আমি ভরতকে ভার দিয়ে এসেছি বিশ্বনাথের গতিবিধির খোঁজ করতে। ও কাল আমায় জানাবেন।”

    সারাদিন হােটেল ঘরে কাটিয়ে, পরদিন বিকেলে মন্টু গেল ভরতের আছে। রাতে ফিরে অর্জুনকে রিপাের্ট করল—“বিশ্বনাথ নাকি বাড়ির বাইরে বেরােয় কদাচিৎ। তার কাছে লােকজন আসে খুব কম। একদম একা, নেহাতই নিরীহ জীবন কাটাচ্ছে। ওর দুই ছেলে বাইরে চলে গিয়েছে। তারা কখনও আসে না। বউ মরে গিয়েছে। এক বুড়ো ওর কাজ করে। ওই বুড়াে প্রত্যেকদিন সন্ধের সময় বাড়ির বাইরে যায়। আড্ডাফাড্ডা মেরে ঘন্টা দুই কাটিয়ে ফেরে। রাতে ওই বাড়িতেই থাকে।

    অর্জুন তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, “আরে এ আমি তাে একদম ফালতু। তুমি সি লােকটাকে আমায় দেখিয়ে দাও। বাইরে না বেরােলে ওর কোঠিটা চিনিয়ে দাও। ব্যস, কাম ফতে। ‘আমার লােক ঠিক ওকে গায়েব করবে।”

    মন্টু একটুক্ষণ গুম মেরে থেকে লল, “দেখাে সিংজি, বাইরে নয়, আমি এখানেই বিশ্বনাথের সঙ্গে মােলাকাত করব ঠিক করেছি। ওর বাড়িতেই। ও আমাদের বাড়ি এসে আমায় আর মাকে অপমান করেছিল। আমিও ওর বাড়িতে গিয়ে সেই অপমানের শােধ নেব।”

    সিংজি চমকে বলল, “আরে ভাই, এ কেয়া বাত?”

    “হ্যা, তাই করব। ওর দলবল যখন নেই, এ বিশ্বনাথের সঙ্গে মােকাবিলাটা এখানেই হয়ে যাক। বাড়িটা আমি দেখে এসেছি। বেশ নির্জন। পাশে ঝােপঝাড়, বড় বড় গাছ। রাতে পাড়াটা একেবারে অন্ধকার নিঝুম হয়ে যায়। ওর বাড়িতে ইলেকট্রিক লাইট আছে, কিন্তু সামনে কাঁচা রাস্তায় এখন স্ট্রিট লাইট যায়নি। ওর কাজের লােকটা বেরিয়ে যাওয়ার পর, অন্ধকার হলেই ওর বাড়িতে ঢুকব। ভরতের রিকশায় যাব। বিশ্বনাথের বানির কাছাকাছি নেমে, হেঁটে গিয়ে ওর দরজায় নক করব। দরজা না খুললে জানলার শিক বাঁকিয়ে ঢুকব। শিকগুলাে পলকা, দেখে এসেছি। বিশ্বনাথের উপর হাতের সুখ করে, ফের ভরতের রিকশায় চেপে চলে আসব। আমি বেরােলেই, তুমি ট্রাক নিয়ে হােটেল ছাড়বে। আমার লাগেজ নিও। স্টেশনের কাছে লালজির ধাবায় অপেক্ষা করবে। আমি কাজ সেরে ফিরলেই, গাড়ি স্টার্ট দেবে। তারপর ওয়েস্ট বেঙ্গলের বাইরে যে কোনাে জায়গায় সুবিধে মতাে আমায় নামিয়ে দিও। কটা মাস এদিক সেদিক লুকিয়ে থেকে কানপুরে ফিরব। ভরত ছাড়া এখানে কেউ আমায় চিনতে পারেনি। আমার কানপুরের ঠিকানাও কেউ জানে না। পরে জানাজানি হলেও, আমায় কেউ ধরতে পারবে না। আর ভরত কাউকে বলবে না। তেমন বুঝলে না-হয় কানপুরে ফিরব না কয়েক বছর। হ্যাঁ, একটু ছদ্মবেশ ধরতে হবে। মাথায় টুপি, চোখে গগলস, ফলস দাঁড়ি-মােচ—এতেই হবে। যাতে পরে পুলিশ পিছনে লাগলেও, বিশ্বনাথ আমায় না শনাক্ত করতে পারে। গানটা কী রকম?”

    অর্জুন সিং এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল। এবার বলল, “প্ল্যান ঠিক আছে। লােকন হামভি তুমার সাথ যাব।”

    “কেন?” মন্টু অবাক।

    সিংজি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, “মন্টু ভাই, এইসব গুন্ডা বদমাশ বহত খতরনাক। তুমি তাে খালি হাতে বদলা নিতে চাও। লেকিন ওই বদমাশটার কাছে অস্ত্র থাকতে পারে। পিস্তল, চাকু। ও যাতে সেটা না চালায়, আমি খেয়াল রাখব। ট্রাক রেডি থাকবে। কাম ফতে করে এসেই আমরা স্টার্ট দেব।”

    মন্টু খুঁত খুত করে, “কিন্তু পরে তুমি যদি ঝামেলায় পড়াে?”

    অর্জুন সিং ধমক দিল, “ব্যস ব্যস, সে আমি ম্যানেজ করব।”

    পরদিন রাত নামতেই, মন্ট ও অর্জুন সিং শহরের সীমানায় এক জায়গায় ভারতের রিকশা থেকে নামল। জায়গাটায় সবে বসতি গড়ে উঠছে! অঘ্রানের অল্প পাতলা কুয়াশা জমেছে। আশপাশ শুনশান। শুধু খানিক দূরে একটা মুদির দোকানে মিটমিটে আলাে দেখা যাচ্ছে।

    একটা ছােট অন্ধকার মাঠ পেরল দু’জনে। মাঠের গা ঘেষে কাঁচা রাস্তা। রাস্তার ধারে তফাতে কিছু বাড়ি। তবে লােক নেই পথে। একটা ছােট একতলা বাড়ির সামনে গিয়ে মন্টু দেখাল—“এই বাড়ি।”

    নিঃশব্দে দু’জনে বাড়িটার দরজায় কান পাতে। কোনাে শব্দ নেই ভিতরে। তবে মৃদু আলাের রেখা কপাটের ফাঁক দিয়ে নজরে আসে। অর্জুন সিং একটা বড় রুমাল বেঁধে নিল তার মুখে। চোখের নিচ অবধি ঢেকে। তার চোখেও মন্টুর মতাে কালাে গগলস। সে পাগড়ি পড়ে না। কিন্তু আজ বেঁধেছে। মন্টু দরজায় টোকা দেয় খটুখ।

    “কে?” ভিতর থেকে প্রশ্ন হয়।

    “আজ্ঞে দশরথ।” জবাব দেয় মন্টু।

    বিশ্বনাথের বাড়িতে যে বৃদ্ধ কাজ করে তার নাম দশরথ। বাড়ির মধ্যে থেকে অস্পষ্ট আওয়াজ কানে আসে। দরজাটা খুলতে বেশ দেরি হচ্ছে। কিছু সন্দেহ করল নাকি? হঠাৎ ছিটকিনি খােলার শব্দ হয়। পাল্লা ফাঁক হতে হতে ভাঙা ভাঙা গলায় প্রশ্ন হয়, “তুই এত তাড়াতাড়ি?”

    মুহুর্তে কপাট ঠেলে ঘরে প্রবেশ করে মন্টু। ভিতরের লােকটির বুকে ছুরি ঠেকিয়ে, সে চাপা হিংস্র ষ্ঠে গজায়, “খবরদার। চেঁচালেই মরবে।”

    মন্টুর পিছন পিছন ঘরে ঢুকে কপাটে ছিটকিনি তুলে দেয় অর্জুন সিং। “আঁ আঁ..” আর্তস্বর বের হয় বিশ্বনাথের গলায়।

    “চোপ্।” ফের ধমকায় মন্টু।

    ভয়ে স্তব্ধ হয় বিশ্বনাথ। সিংজি খপ করে বিশ্বনাথের হাত দুটো পিছন থেকে বঙ্গমুষ্টিতে চেপে ধরে, তাকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় ঘরের মাঝখানে। তার সারা গায়ে হাত চালিয়ে পরখ করে নেয় যে ওর কাছে কোনাে অস্ত্র আছে কিনা। এরপর মাথা নেড়ে মন্টুকে বােঝায় নেই কিছু।

    সিংজি এবার বিশ্বনাথকে ছেড়ে দিয়ে কয়েক পা পিছু হটে স্থির হয়ে দাঁড়ায়। তার নজর রাখে বিশ্বনাথের ওপর। মন্টু ও বিশ্বনাথ এখন মুখোমুখি। ক্রুদ্ধ চোখে বিশ্বনাথ ওরফে বিশে গুন্ডার দিকে চেয়ে থাকে মন্টু।

    সিংজির বিদ্রুপ ভরা কথা শােনা যায়, “এ ভাই, বুঢডা কো থোড়া কম জোর  সে পিটো। নেহি তাে মার্ডার হােয়ে যাবে।”

    মন্টু তখন এক চরম বিস্ময়ের মাঝে! আরে, সামনে এই লােকটা কে? এত বছর যে লোকের মূর্তি মন্টুর হৃদয়ে প্রতিনিয়ত জ্বালা সৃষ্টি করেছে, যার ওপর প্রতিশােধের কামনায় অস্থির হয়েছে, এ তো সেই লােক নয়!

    হ্যাঁ, সেই লােকই বটে, কিন্তু কুড়ি বছর আগের সেই বিশে গুণ্ডা নয়। বরং বলা উচিত—এ বিশে গুন্ডার প্রেত! একে এখন মন্টুর দেখা বিশ্বনাথ বলে চেনাই কঠিন। কুড়ি বছর বড় কম সময় নয়। তবু এতখানি পরিবর্তন ভাবা যায় না!

    কিঞ্চিৎ স্থল সেই বিরাট লম্বা চওড়া বপুটা যেন শীর্ণকুৎসিত পােড়া কাঠ হয়ে গিয়েছে। ভাঙ পড়া চোপসানো গাল। কণ্ঠ বের করা সরু গলা। মাথায় আধপাকা পাতলা চুল। গোঁফ উধাও। মুখে অন্তত দু’দিন না-কামানৈ দাঁড়ি। শরীর ধনুকের মতাে বেঁকে ঝুঁকে পড়েছে সামনে। একদা উদ্ধত চোখ দুটো কোটরে বসা, ঘােলাটে। আতঙ্কে বিস্ফারিত। থরথর করে কাঁপছে দেহ। বুঝি এখুনি পড়ে যাবে হাঁটু ভেঙে। বিশ্বনাথের পরনে ঢলঢলে আধময়লা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি। পায়ে রবারের চটি।

    মন্টু থ হয়ে তাকিয়ে থাকে।

    বিশ্বনাথ কাতর কণ্ঠে মিনতি জানায়, আমার কিছু নেই। আমায় মেরাে না। নিয়ে যাও যা আছে। দয়া করাে।

    এই কটা কথা বলেই সে মুখ হাঁ করে ভীষণ হাঁপাতে থাকে। আরও কুঁজো হয়ে যায়। দু’হাতে চেপে ধরে নিজের বুক। বােঝা গেল যে—শুধু ভয়ে নয়, প্রচণ্ড। হাঁপানির টানে তার বাকরােধ হয়ে গিয়েছে। নিচু হতে হতে বুকি সে পড়েই যেত মেঝেতে। মন্টু ঝপ করে ওর কাঁধ আঁকড়ে টেনে নিয়ে বসিয়ে দেয় একটা চেয়ারে। মরণ ফাঁদে পড়া জীবের মতাে উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টি মেলে বিশ্বনাথ সশব্দে লম্বা লম্বা নশ্বাস টানে আর ফেলে।

    মন্টু ঘরের ভিতর একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। নিতান্ত অভাবের ছাপ গােটা ঘরে। একটা নেড়া তক্তপােশ, কাঠের দুটো চেয়ার ও একটা টেবিল। দেয়াল-তাকে ডাঁই করা একগাদা পুরনাে খাতা। দেয়ালে পেরেকে ফুলছে একটা রঙ-চটা ছাতা—এমনই সব জিনিস। সবই ধুলােমলিন।

    খানিক ধাতস্থ হয়ে মন্টু আবার বিশ্বনাথের দিকে চোখ ফেরায়। অর্জুন সিং ইতিমধ্যে বিশ্বনাথের চেয়ারের পিছনে সরে গিয়ে, গোঁফে তা দিতে দিতে লক্ষ করছে মন্টুর হাবভাব।

    কঠিন চোয়াল মন্টুর তীব্র দৃষ্টিতে বিদ্ধ হয়ে, বিশ্বনাথ অসহায় ভঙ্গিতে ছটফট করে ওঠে। ওর গলা দিয়ে অস্ফুট গােঙানির আওয়াজ বেরােয়। ছুরিটা খাপে পুরে প্যান্টের পকেটে রেখে, চাপা কড়া গলায় মন্টু প্রশ্ন করে প্রাক্তন বিশে গুন্ডাকে, “আমায় চিনতে পারছ?”

    “না না।” বিশ্বনাথ ঘাড় নাড়ে।

    “অনেক বছর আগে। কুড়ি বছর। বাড়ি দখলের নামে একটা ছােট ছেলে আর তার, মাকে তাদের বাড়ি গিয়ে অপমান করেছিলে, মনে আছে?”

    “না না।” হয়তাে সত্যিই বিশের মনে নেই, অথবা সে মিথ্যে ভান করছে।

    “অসহায় ছেলেটাকে মেরেছিলে। তার মাকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলে। ঘরের জিনিসপত্র ছুড়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলে। মনে আছে?”

    হাঁপাতে হাঁপাতে বিশ্বনাথ ঘাড় নাড়ে, “না না, আমি না।”

    মন্টু এবার তার কোটের পকেট থেকে একটা ফোটোগ্রাফ বের করে বিশ্বনাথের চোখের সামনে ধরে বলল, “দেখাে, একে চিনতে পারাে?”

    ফোটোটা মন্টুর মায়ের। কুড়ি-পঁচিশ বছর আগেকার ছবি। সযত্নে ফ্রেমে বাঁধানাে এই ফোটোর বড় এক কপি মন্টুর কানপুরের বাসায় আছে।

    বিশ্বনাথ বােধহয় আজকাল চোখে ভালাে দেখে না। বেশ কিছুক্ষণ সে ছবিটা দেখে খুব কাছে ঝুঁকে। তারপর চিনতে পারে। কারণ মহাভয়ে তার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। হাঁপানির টানও বেড়ে যায়। ফ্যাসফেসে গলায় বলে ওঠে, “কে, কে তুমি?”

    ‘আমি সেই ছােট ছেলেটা। আমার মায়ের এই ফোটো। মায়ের ওপর সেই অত্যাচারের আজ শােধ নিতে এসেছি। ব্যঙ্গ মেশানাে হিসহিসে গর্জন ছাড়ে মন্টু, এবার? সে ঘুসি বাগিয়ে ডান হাত তােলে বিশ্বনাথকে আঘাত করার জন্য।

    মন্টুর ভয়ঙ্কর আক্রোশের আঁচে বিশ্বনাথ আরও কুঁকড়ে যায়। মরিয়া চেষ্টায় সে দু’হাত মেলে আত্মরক্ষার তাগিদে।

    মন্টু কিন্তু অদ্ভুত আচরণ করে। তার উদ্যত হাত সহসা থমকে যায় শূন্যে। সে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয় হাত। তারপর দু’পা পিছিয়ে গিয়ে চোখ কুঁচকে তাকিয়ে থাকে বিশ্বনাথের দিকে। তার ঠোট বেঁকে যায়, যেন চরম বিতৃষ্ণায়। এমন খানিকক্ষণ একদৃষ্টে চেয়ে থেকে হঠাৎ সে অর্জুন সিংয়ের উদ্দেশে উত্তেজিত ভাবে বলে ওঠে, আরে দূর, একে কী মারব? এ লােকটা তাে আধমরা। এর গায়ে হাত দিতে আমার ঘেন্না হচ্ছে। থাক এটা। তিলে তিলে মরুক। মা ঠিকই বলেছিলেন চলাে। সে পায়ের বুট দিয়ে বিশ্বনাথের গায়ে একটা ঠোক্কর মেরে ঝটিতে পিছু ফেরে।

    “ঠারাে।” সিংজির নির্দেশ শুনে আবার ঘুরে দাঁড়ায় মন্টু।

    হুঁশিয়ার অর্জুন সিং পকেট থেকে কয়েক টুকরাে কাপড় আর খানিকটা দড়ি বের করে। বিশ্বনাথের মুখে কাপড় গুজে দিয়ে তার মুখ বাঁধে। দড়ি দিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বাঁধে তাকে। তারপর ভীষণ গলায় হুমকি দেয়, “লেকিন এ নিয়ে ঝামেলা পাকালে, ফির এসে একদম খতম করে দেব। সমঝা?”

    মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস আটকে যাওয়ায় বিশ্বনাথের তখন শােচনীয় অবস্থা। চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসছে। কোনাে রকমে নাক দিয়ে টেনে টেনে শ্বাস নিচ্ছে, ফেলছে। তাকে নজর করতে করতে সিংজি মিচকে হেসে বলল, “না, বুড়া মরবে না। যবতক দশরথ না আসে, বাবা বিশসােনাথ থােড়া আরাম করুক।”

    ঘরের দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে, মন্টু ও সিংজি বেরিয়ে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleথানা থেকে আসছি – অজিত গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article গল্পসংগ্রহ – অজেয় রায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }