Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রহস্য সমগ্র – অজেয় রায়

    লেখক এক পাতা গল্প543 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    খুনে বৈজ্ঞানিক অন্তর্ধান রহস্য

    খুনে বৈজ্ঞানিক অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনের আগে এই রহস্য সমাধানের নায়ক বাবলু ও সিরাজ কীভাবে গোয়েন্দাগিরিতে এল তা জানানো দরকার।

    বাবলু ক্লাস নাইনে পড়ে। সে ছিল অ্যাডভেঞ্চার কাহিনির ভক্ত। খেলাধুলায় চৌকস আর বেজায় ডানপিটে। গল্পের বই পড়ার ঝোঁক থাকলেও সময় বেশি পেত না পড়ার। ক্লাসের পড়াও যে রয়েছে! অন্তত মোটামুটি ভাবে পাস করা চাই। ডিটেকটিভ বই কিছু পড়লেও তাই নিয়ে আগে বিশেষ মাথা ঘামায়নি। কিন্তু তার পরমবন্ধু ও সহপাঠী সিরাজের কল্যাণে বাবলু পুজোর ছুটির সময় বেশ কিছু রহস্যময় গোয়েন্দা গল্প পড়ে ফেলে চমৎকৃত হয়। মনে ধরে যায় গোয়েন্দাদের ব্যাপার-স্যাপার। এরপর ক্লাসের বাৎসরিক পরীক্ষা হয়ে যেতে বাবলু চুটিয়ে গোয়েন্দা গল্প পড়ে, গ্রামের লাইব্রেরি থেকে এবং এর-ওর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে। মগজে গজগজ করতে থাকে গল্পের বইয়ের নানা গোয়েন্দাদের কীর্তিকলাপ। বিচিত্র সব অপরাধের বৃত্তান্ত এবং সেইসব কুকীর্তি ধরে ফেলার রকমারি কৌশল। শুধু বাঙালি গোয়েন্দাদের কথা নয়, অনুবাদের মাধ্যমে সে পড়ে ফেলে অনেক বিদেশি গোয়েন্দাকাহিনিও।

    পড়তে পড়তে বাবলুর শখ চাপল যে শুধুমাত্র ছাপার অক্ষরে অন্য গোয়েন্দাদের বাহাদুরি জেনে কী লাভ? হাতে-কলমে নিজেও কাজে নামব। থিওরি থেকে প্র্যাকটিস। মনের এই প্রবল বাসনা সে জানাতে চলল বন্ধু সিরাজের কাছে।

    সিরাজ লেখাপড়ায় দারুণ। ক্লাসে ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়। তবে সে গোবেচারি ভালোমানুষ নয় মোটেই। সে প্রচুর গল্পের বই পড়ে। ক্ষুরধার বুদ্ধি তার।

    ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে বাবলু-সিরাজদের গ্রাম পারুলডাঙা। সিরাজকে তার বাড়ি থেকে ডেকে এনে গ্রামে এক অশথ গাছতলায় বেদিতে নিরালায় বসে বাবলু ঘোষণা করল, ‘আমি ডিটেকটিভ হব। ঠিক করে ফেলেছি।’

    —‘অ্যা ডিটেকটিভ! তুই?’ সিরাজ চমকায়।

    —‘কেন, আমি পারব না?’ বাবলু ক্ষুব্ধ।

    —‘না না, তা বলছি না। মানে তোর তো অন্য অ্যাম্বিশন ছিল। হয় নামকরা ফুটবল প্লেয়ার হবি, নয়তো জাহাজের নাবিক। হঠাৎ মত বদলালি যে?’

    —‘এই লাইনটাই আমার বেশি পছন্দ হচ্ছে।’ বাবলু দৃঢ় স্বরে জানায়।

    —‘কার কোথায় প্রতিভা লুকিয়ে থাকে সবসময় কি আগে থেকে তা টের পাওয়া যায়? বুঝলি সুযোগ আর চেষ্টায় কত মানুষের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়…’

    গত বার্ষিক পরীক্ষার রচনার জন্য মুখস্থ করা কটা লাইন তাক বুঝে ঝেড়ে দেয় বাবলু।

    —‘হ্যাঁ হ্যাঁ তা তো বটেই।’ সায় দেয় সিরাজ।

    বাবলু বলে চলে, ‘এই যেমন ধর জগন্নাথপুরের ভোম্বল যে কোনোদিন মিলিটারি হয়ে ইউনিফর্ম পরে, বুট মশমশিয়ে গাঁয়ে ঢুকবে, ভেবেছিল কেউ? ওর চেহারাটা লম্বা চওড়া ছিল বটে, কিন্তু নেহাতই গোবেচারি ক্যাবলা। গাঁয়ের লিকলিকে ছোঁড়াগুলো অবধি ওর পেছনে লাগত, ওর ওপর মাতব্বরি ফলাত। সৎ মায়ের গঞ্জনায় বেচারা বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে আর্মিতে ঢোকে। কোনোমতে টিকেও যায়। আর এখন? গাঁয়ে ওর কী খাতির। ও নিজে ডেকে দুটো কথা বললে ওর সমবয়সিরা গদগদ হয়ে যায়। ছুটিতে বাড়ি এলে কতজন আসে ওর খোঁজখবর নিতে। ভোম্বলের এখন তলোয়ারের মতন মোচ। আর কী স্মার্ট চালচলন। বাংলা হিন্দি ইংরিজিতে বুলি ছোটায়। সত্যি সত্যি একটা যুদ্ধও নাকি লড়েছে। ভোম্বলের সৎ মা এখন একদম টাইট। ও বাড়ি এলে যেন কৃতার্থ। চা চাইলেই বানিয়ে দেয়।’

    সিরাজ মনে মনে ভাবে, ‘ইস গাদাগাদা গোয়েন্দা গল্প গিলে বাবলুর মাথাটি বিগড়েছে।’ বাইরে অবশ্য সে গাম্ভীর্য বজায় রেখে বলে, ‘তা কোনো ট্রেনিং নিবি নাকি এ লাইনে?’

    —‘কি দরকার নেই।’ বাবলু উড়িয়ে দেয় প্রস্তাব। বলে, ‘দেশি বিদেশি সব ডিটেকটিভ একটি মোদ্দা বাণী দিয়েছেন— চোখ কান খোলা রাখো। মগজের বুদ্ধিকে খেলাও। ব্যাস, তাহলেই বেশির ভাগ রহস্যের সমাধান মিলবে। আমি এই উপদেশই ফলো করব।’

    সিরাজ মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, ‘বেশ তবে কাজে নেমে পড়। আপিস কোথায় করবি? কলকাতায়?’

    —‘না। এখুনি কলকাতায় যাওয়া অসুবিধে, থতমত খায় বাবলু, ভাবছি আপাতত এখানেই।

    —‘রাইট।’ সিরাজ উৎসাহে দেয়, ‘এখানেই হাতেখড়ি হোক। পাড়াগাঁ বলে অবহেলা করিস না। আমাদের পারুলডাঙায় আর আশেপাশের গ্রামে কি রহস্যের অভাব? কত অপরাধ ঘটছে এখানে তার সব কি কিনারা হয়? বড়ো শহরে কিছু ঘটলেই খবরের কাগজে বেরোয়। তাই লোকে জানতে পারে। গ্রামদেশের বেশির ভাগ খবরই কাগজে ছাপে না। গ্রামের বহু রহস্যজনক ঘটনা রীতিমতো জটিল। অপরাধবিদ্যায় এখানকার লোকের এলেম কিছু কম? ট্রেনিং পিরিয়ডে সে সব রহস্যের কিছু সমাধান করতে পারলে তোর ভিত খুব মজবুত হবে।’

    —‘ঠিক বলেছিস।’ বাবলু ভারি খুশি।

    সিরাজ বলল, ‘তা অ্যাসিস্ট্যান্ট কাকে নিচ্ছিস?’

    —‘অ্যাসিস্ট্যান্ট!’

    —‘হ্যাঁ। একজন সহকারী না থাকলে কি গোয়েন্দাকে মানায়? বইয়ে দেখিসনি, দেশি বিদেশি প্রায় সব বাঘা বাঘা ডিটেকটিভের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে। নইলে যে গোয়েন্দার দর কমে যায়।’

    —‘তা বটে। কিন্তু আমি সহকারী পাব কোথায়?’ একটু দমে যায় বাবলু।

    —‘আমাকে দিয়ে চলবে?’ যেন দ্বিধাভরে জিজ্ঞেস করে সিরাজ।

    -–‘যা, ঠাট্টা করছিস?’

    —‘ঠাট্টা নয় রে। সিরিয়াসলি বলছি।’

    —‘তুই আমার সহকারী হবি? খেপেছিস? তোর যা বুদ্ধি, আর এ লাইনে পড়াশোনা, বরং আমার সহযোগী হতে পারিস। মানে আমরা হব জোড়া ডিটেকটিভ। পার্টনার।’

    —‘না ভাই, আমার সহকারী হওয়াই ভালো। পার্টনার হয়ে কাজ নেই। তোর নাম হলে আমার নামটাও জানবে লোকে। দরকার হলে আমি সাধ্যমতো বুদ্ধি জোগাব, হেল্প করব।’

    বাবলু মনে মনে হাঁপ ছাড়ে। কারণ সিরাজ পার্টনার হলে সে কি আর পাত্তা পেত? সিরাজ নামে সহকারী, আর কাজে সহযোগী হলেই তার সবচেয়ে সুবিধে। বাবলু বিপুল উৎসাহে রহস্য সন্ধানে নেমে পড়ে গোয়েন্দাগিরিতে হাত পাকাতে।

    .

    দিন কয়েক বাদে, এক ছুটির দিন সকালে বাবলু হাজির হল সিরাজের কাছে। তার চোখ মুখ থমথম করছে। সিরাজ বোঝে যে গুরুতর কিছু একটা ঘটেছে। কারণটা জানতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। বাবলু উত্তেজিত গলায় বলে, ‘জানিস গত পরশু আমাদের গ্রামের লাইব্রেরি থেকে একটা গল্পের বই হারিয়েছে। খুব সম্ভব চুরি হয়েছে। কেসটা আমি তদন্ত করব ঠিক করেছি। উদ্ধার করব বইটা।’

    —‘কী বই?’ জিজ্ঞেস করে সিরাজ।

    —‘নাম: খুনে বৈজ্ঞানিক। লেখক : মেঘনাদ। পড়েছিস বইটা?’

    —‘না।’

    —‘উঃ দারুণ বই। ছোটোদের রহস্য উপন্যাস। পড়তে পড়তে যেন দম বন্ধ হয়ে যায়। গা শিউরে ওঠে। মাত্র তিন মাস আগে কেনা হয়েছে বইটা। গ্রাহকদের মধ্যে, মানে আমাদের মতো ছেলেদের মধ্যে কাড়াকাড়ি লেগে গেছে বইটা নিয়ে। যে নিচ্ছে বইটা সে নিজে তো পড়ছেই কয়েকবার, তার বাড়ির অন্য সব ছোটোরাও পড়ছে। মায় সে-বাড়ির বেশির ভাগ বড়োরা অবধি বইটা না পড়ে ছাড়ছে না। ভজা তো আবার লুকিয়ে ভাড়া খাটিয়েছে বইখানা।’

    —‘ভাড়া? কী রকম?’ সিরাজ অবাক।

    —‘ভজা নিজে পড়ে, তার বাড়ির লোকদের পড়া হয়ে গেলে লুকিয়ে ওর পাড়ার কেষ্টকে বইটা পড়তে দিয়েছিল। শর্ত, বইটা মাত্র একবেলা রাখতে পারবে পড়তে। আর তার বদলে ভজাকে দুটো বেগুনি খাওয়াতে হবে, বদ্যির দোকানে গরম ভাজা। আর এ কথা কাউকে বলা চলবে না। বেচারি কেষ্ট তাড়াতাড়ি ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ পড়ার লোভে সেই শর্ত মেনে বেগুনি খাইয়েছে ভজাকে। লাইব্রেরি থেকে বইখানা পেতে তার তখনও ঢের দেরি। ওই বই নিয়ে লাইব্রেরির সামনে একদিন তুমুল ঝগড়া লাগে। তখনই কেষ্ট ফাঁস করে দেয় ভজার কীর্তি।

    লাইব্রেরিয়ান গোপালবাবু তাই নিয়ম করেছেন যে অন্য বই সাত দিন রাখতে পেলেও তিনদিনের বেশি রাখতে পারবে না ওই বইটা। নেহাত আমার সঙ্গে গোপালবাবুর একটু বেশি জানাশোনা আছে তাই লাকিলি বইখানা আসা মাত্র পড়তে পেয়েছিলাম। ফের পড়ব বলে ডিমান্ড দিয়ে রাখি চার দিন আগে। ভেবেছিলাম এবার পেলে তোকেও পড়াব।’

    —‘কী ভাবে হারাল বইটা?’ প্রশ্ন করে সিরাজ।

    —‘গতকাল একজন বইটা ফেরত দেয়। সেইদিনই বিজয়ের নেবার পালা। লাইব্রেরিয়ান ওঁর টেবিলের একপাশে রেখে দেন বইটা। ঘণ্টাখানেক বাদে বিজয় এসে চাইলে দেখা যায় যে নেই। উধাও। অনেক খুঁজেও আর বইটা পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে গোপালবাবু ওঁর খাতায় বইটার নামের পাশে লিখে দিয়েছেন— লস্ট। বললেন, অনেক বই-ই এমনি হারায়। বিশেষ করে যেগুলোর চাহিদা বেশি। কখন যে কে টুক করে তুলে নিয়ে যায়! আমি একা আর কত নজর রাখব? যা হোক আমি কিন্তু ছাড়ছি না।’

    —‘কীভাবে এগুবি ভেবেছিস?’ সিরাজের কৌতূহল।

    —‘শুধু ভাবিনি। কাজেও এগিয়েছি খানিকটা। গোপালবাবুর থেকে ‘খুনে বৈজ্ঞানিকে’র ডিমান্ড লিস্টটা চেয়ে নিয়েছি। ওটা দেখলেই বোঝা যাবে কার কার এই বইটা পড়তে বিশেষ আগ্রহ। খুব সম্ভব তাদেরই কেউ সরিয়েছে। এদের পেছনেই আমি তদন্ত করব। মানে ইনভেস্টিগেশন।’

    —‘কজন বইটা চেয়ে নাম লিখিয়েছে?’

    —‘গত পরশু অবধি তেরোজন ছিল ডিমান্ড লিস্টে। এর মধ্যে দুজনকে বাদ দিচ্ছি। বিজয় আর আমি। বাকি এগারোজন যে কেউ অপরাধী হতে পারে।

    —‘কীভাবে ইনভেস্টিগেশন করবি?’

    —‘উপায় একটা ভেবেছি।’ বাবলুর ঠোটে রহস্যময় হাসি ফোটে কিন্তু আর মুখ খোলে না। বোঝা গেল যে সে তার তদন্ত পদ্ধতি আপাতত গোপন রাখতে চায়।

    সিরাজও এই নিয়ে আর জোরাজুরি করে না। শুধু বলে, ‘বইটা ফেরত দেবার ঘণ্টাখানেক বাদে আবিষ্কার হয় যে বই উধাও। তাই তো?’

    —‘হুঁ।’

    —‘তাহলে ওই সময়ের মধ্যে যারা বই নিয়েছে তাদের মধ্যে একবার খোঁজ করে দেখতে পারিস। যদি কেউ ভুল করে বইটা নিয়ে গিয়ে থাকে।’

    বাবলু বলল, ‘ভুল করলে নিশ্চয়ই দু-একদিনের মধ্যেই ভুলটা ধরা পড়বে। তখন বইটা ফেরত দিয়ে যাবে।’

    –‘অত তাড়াতাড়ি ভুল ধরা নাও পড়তে পারে’, সিরাজের সংশয়, ‘অনেকে লাইব্রেরি থেকে বই এনে অনেক দিন স্রেফ ফেলে রাখে না-উল্টিয়ে।

    —‘বেশ তাদের কাছে খোঁজ করব।’ বাবলু সায় দেয়।

    এরপর দুই বন্ধুতে কয়েকদিন আর এ বিষয়ে কথা হয় না। বাবলুর সদাই কেমন ব্যস্তসমস্ত ভাব। সিরাজ জানে ও ঠিক নিজেই বলবে তদন্তের ফলাফল।

    পাঁচদিন বাদে স্কুল ছুটির পর বাবলু সিরাজের সঙ্গ ধরল। খানিক পাশাপাশি হাঁটে দুজন।

    —‘খোঁজ পেলি বইটার?’ সিরাজ নিজেই জানতে চায়।

    —‘নাঃ। বই চেয়ে যারা নাম লিখিয়েছিল তাদের এগারো জনকে বাজিয়ে দেখেছি। কিন্তু তেমনি কোনো ক্লু পাইনি। অবশ্য একটা কেস বাদে।’

    —‘কীভাবে বাজালি? সোজাসুজি জিজ্ঞেস করলি নাকি?’

    —‘খেপেছিস। আমি কি অতই বুদ্ধু। সোজাসুজি জিজ্ঞেস করলে কি চোর স্বীকার করবে? আমি অন্য কথা বলতে বলতে হঠাৎ ওই বইটার কথা তুলেছি। বইয়ের গল্পটা ওরা জানে কিনা পরখ করেছি। যে বইটা পড়েনি তার পক্ষে গল্পটা না জানাই স্বাভাবিক। তাই না?’

    —‘বটেই তো। তারপর?’

    —‘কারো সঙ্গে খেজুরে আলাপ করতে করতে ফট করে বলেছি, আচ্ছা ডক্টর মুস্তাফির কোন চোখটা জানি কাচের ছিল?’

    —‘ডক্টর মুস্তাফি কে?’

    —‘রতনগড়ের মালিক। আধা উন্মাদ নিষ্ঠুর অতি প্রতিভাবান এক সায়েনটিস্ট। ওই তো খুনে বৈজ্ঞানিক। যে মানুষ জাতটাকে নতুন করে গড়ার স্বপ্ন দেখে। একটার পর একটা মানুষকে সে রতনগড়ে নিয়ে যায় ভুলিয়ে-ভালিয়ে গোপনে। তাদের ওপর অদ্ভুত সব এক্সপেরিমেন্ট চালায়। তার ফলে বন্দি মানুষগুলোর প্রাণ বলি দিতেও তার বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা নেই। আবার কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, আচ্ছা ডক্টর মুস্তাফির সেই ভয়ংকর শিকারি কুকুরটার কী নাম যেন? এমনি সব ছোটোখাটো কিন্তু অব্যর্থ ফাঁদ-পাতা প্রশ্ন। গল্পটা ভালো করে না জানলে যার উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।’

    —‘বাঃ দিব্যি কৌশল করেছিলি। তা কী রকম উত্তর পেলি?’

    —‘দশজন আমার প্রশ্নের জবাবই দিতে পারেনি। তাদের ভেতর সাত জন বলেছে তারা গল্পটার কিছুই জানে না। তবে শুনেছে অন্যের মুখ থেকে। এখন নিজে পড়তে চায়। ডিমান্ড দিয়ে রেখেছে। কিন্তু লম্বু খোকা ঠিক উত্তর দিয়ে দিল।

    ‘অমনি ওকে চেপে ধরলাম। কী করে জানলি তুই? বইটা তো এখনও লাইব্রেরি থেকে পাসনি। তখন বলে কিনা, বইটা ও পড়ে ফেলেছে ছোটনের বাড়িতে বসে। খুব তাড়াহুড়ো করে লুকিয়ে। ও নাকি ছোটনের বাড়ি গিয়েছিল। দুজনে একসঙ্গে ট্যুইশনি পড়তে যাবে, তাই। ছোটন তখন চান করছে। তারপর ভাত খেল। ছোটনের খাটের ওপর বইখানা ছিল। দেখেই লম্বু খোকা বইটা পড়তে শুরু করে। গোগ্রাসে গিলে শেষ করে। কিন্তু নিজের বাড়িতে আনতে পারেনি বইটা। দেয়নি ছোটন। আর একবার ধীরেসুস্থে পড়ার তার ভারি ইচ্ছে। খোকা বলল, ও শুনেছে যে বইটা নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। লাইব্রেরি থেকে হারিয়েছে। খুব আপসোস করল তাই। আমার কিন্তু ধারণা ওটা ওর ভান। ওই কালপ্রিট। নইলে অত নার্ভাস হল কেন? ওই চুরি করেছে বইখানা। আমার প্রশ্নের জবাবটা বেফাঁস বেরিয়ে যেতে ওই সব বানিয়ে বানিয়ে বলল। আবার বলে কিনা লাইব্রেরিয়ানকে বলিস না আমি বইটা একবার পড়ে ফেলেছি। তাহলে বই খুঁজে পেলে আমায় আর দিতে চাইবে না। যারা মোটে পড়েনি তাদের আগে দেবেন।’

    সিরাজ ভেবে বললে, ‘খোকার কথাটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ছোটন তো নিয়েছিল বইটা। ওই ঘরেই তখন ছিল কি বইটা? ছোটনকে জিজ্ঞেস করিস। তুইও তো একবার পড়েছিস কিন্তু সাধ মেটেনি। তাই ফের পড়তে চাইছিস।’

    বাবলু জোর দিয়ে বলে, ‘উঁহু, খোকাটা মিটমিটে শয়তান! ও একবার জগনের স্ট্যাম্পের অ্যালবাম দেখতে দেখতে দুটো স্ট্যাম্প সরিয়েছিল। পরে ধরা পড়ে যায়। চুরিবিদ্যেয় বেটা পোক্ত। আমি ওকে নজরে রাখছি। সুযোগ পেলেই ওর ঘরে গিয়ে ওর বইটই সার্চ করে দেখব গোপনে। জানিস সেদিন বই হারানোর সময় ও লাইব্রেরিতে ছিল কিছুক্ষণ।

    —‘তাই নাকি?’ এবার সিরাজও সন্দিগ্ধ। সে বলে, ‘আচ্ছা যারা ওই দিন, ওই সময়ে বই ইস্যু করেছিল তাদের কাছে খোঁজ নিয়েছিলি? মানে যদি কেউ ভুল করে নিয়ে গিয়ে থাকে?’

    —‘হ্যাঁ নিয়েছি। মোট দশজনের কাছে। লাভ হয়নি। উল্টে বিমানস্যারের কাছে আচ্ছা ধ্যাতানি খেলাম এই নিয়ে।

    —‘বিমানস্যার? মানে আমাদের বাংলায় টিচার বিমানবিহারী বসু?’

    —’হ্যাঁ হ্যাঁ। আর কটা বিমানস্যার আছে পারুলডাঙায়।

    —‘কেন কী বলেছিলি?’

    —‘কী আবার। সবাইকে যা বলেছি— একটু দেখবেন স্যার খুঁজে, লাইব্রেরির একটা গল্পের বই, নাম ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’, আপনার বইয়ের সঙ্গে মিশে কি চলে এসেছে ভুলে? ব্যাস শুনেই উনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। এমনিই তো রাগি মানুষ। কড়া গলায় বললেন, আমি সেদিন ভুল করে কোনো বেশি ব‍ই আনিনি। বরং ভুল করে আমার একটা ইস্যু করা বই সেদিন ফেলে এসেছিলাম লাইব্রেরিতে। পরে গিয়ে নিয়ে আসি বইটা। বাংলা প্রবন্ধের বই। তোমায় কে পাঠিয়েছে? লাইব্রেরিয়ান? ওর তো যত সন্দেহ আমার ওপর। যত্ত সব—’

    —‘বাপরে। আমি তো পালিয়ে বাঁচি। কী মেজাজ!’

    —‘উনি বুঝি বই ফেলে এসেছিলেন ভুলে?’

    —‘হ্যাঁ। লাইব্রেরিয়ান গোপালবাবু বললেন, বিমানস্যার প্রায়ই বই ইস্যু করে লাইব্রেরিয়ানের টেবিলে রাখেন। তারপর পত্রিকা-টত্রিকা পড়ে বই ভুলে ফেলে রেখে চলে যান। উনি তো দুটো বই পান একসঙ্গে। কখনো একটা, কখনো বা দুটো বই-ই ফেলে রেখে গেছেন। পরে খেয়াল হলে এসে নিয়ে যান। এই নিয়ে গোপালবাবু একবার অনুযোগও করেছেন বই হারিয়ে যাবার ভয়ে। তাই বিমানস্যার গোপালবাবুর ওপর চটে ছিলেন। সুযোগ পেয়ে আমার ওপর ঝাল ঝাড়লেন। যাকগে, লম্বু খোকাকে আমি ওয়াচ করব। আর ভেবেছি, যেসব ছেলে সেদিন লাইব্রেরিতে ছিল তাদের মধ্যে কারো চুরিটুরি করার রেকর্ড থাকলে তাদের ওপরেও নজর রাখব। মোট কথা ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ অন্তর্ধান রহস্য আমি সল্ভ করবই।’ দৃঢ়স্বরে নিজের সংকল্প জানিয়ে বাবলু বিদায় নিল।

    .

    কয়েক দিন বাদে। সন্ধের পর গ্রাম নিঝুম হয়ে গেছে। সিরাজ পড়ছিল নিজের ঘরে বসে জানলার কাছে। বাবলুর ডাক শুনে বেরিয়ে এল। আজ স্কুলে বাবলুর সঙ্গে তার বিশেষ কথাবার্তা হয়নি। এমন অসময়ে হঠাৎ? সিরাজের ঘরে ঢোকে দুজনে। ফাঁকা ঘরে একটা চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ে বাবলু বলে ওঠে, ‘জানিস ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ পাওয়া গেছে।’ কিন্তু এমন একটা দারুণ খবর ঘোষণা করার সময়েও তার চোখে-মুখে ফোটে না কোনো উচ্ছ্বাস বা আনন্দ।

    —‘কী করে?’ সিরাজ উত্তেজিত।

    নিস্পৃহ বাবলুর জবাব, ‘বিমানস্যার নাকি নিয়ে গিয়েছিলেন ভুল করে। আজ বিকেলে লাইব্রেরিতে এসে ফেরত দিয়ে গেলেন।’

    —‘ভুল করে! কিন্তু তোকে যে বলেছিলেন…..

    —‘হ্যাঁ, সেদিন নিজের ইস্যু করা একটা বই ভুল করে লাইব্রেরিতে ফেলে গিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু গতকাল রাতে নিজের ঘরে টেবিলে বইপত্তর ঘাঁটতে ঘাঁটতে আবিষ্কার করেন ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’। কী করে যে বইটা ওখানে এল উনি নাকি বুঝেই উঠতে পারছেন না। তবে মনে করছেন ওঁরই ভুল। কারণ যে বইটা ফেলে এসেছিলেন সেটা আর ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’-এর সাইজ আর বাঁধাইয়ে ভীষণ মিল। দুটোর মলাটের রং-ও এক। হলদে।’

    –‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ বাঁধানো বই?’

    —‘হুঁ। মাস দুয়েকের ভেতর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বইটার মলাট ছিঁড়ে যায়, বাঁধাই আলগা হয়ে যায়। তখন বাঁধাতে হয়। মলাটের ওপর অবশ্য বড়ো বড়ো করে বইয়ের নাম লেখা আছে।’

    —‘কীভাবে হল ভুলটা?’

    —‘বিমানস্যার বলছেন যে লাইব্রেরির বইয়ের সঙ্গে আরও কয়েকটা বইখাতা নিজের বাড়ি ফিরে পড়ার টেবিলে নামিয়ে রেখেই উনি একবার মুদির দোকানে যান দেশলাই কিনতে। বাড়িতে বলে দিয়েছিল দেশলাই কিনে আনতে, ভুলে গিয়েছিলেন আগে কিনতে। বাড়ি ফিরেই মনে পড়ে। দোকান থেকে এসে লাইব্রেরির বই দুটো আলাদা করতে গিয়ে দেখেন দুটোর মধ্যে একটা বই রয়েছে। অন্য বইটার জন্যে তেমন খোঁজাখুঁজি না করে তক্ষুনি ছোটেন লাইব্রেরিতে। আগেও এমন কাণ্ড হয়েছে। বইটা পেয়েও যান লাইব্রেরিয়ানের টেবিলে। এখানে অবশ্য স্যারের মনে হচ্ছে, প্রথমবার বাংলা প্রবন্ধর বদলে ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ই এনেছিলেন। আর তাড়াহুড়ো করে রাখার সময় বাড়িতে টেবিলে ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ সরে গিয়ে অন্য বইয়ের ভিতর মিশে যায়। জানিস বিমানস্যার কৌতূহলী হয়ে কাল রাতে ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ পড়ে ফেলেছেন। আজ ফেরত দেবার সময়, এমন উদ্ভট যাচ্ছেতাই বাল্যশিক্ষার অনুপযুক্ত বই লাইব্রেরিতে রাখা উচিত নয়, এইসব উপদেশ ঝেড়ে গেলেন লাইব্রেরিয়ানকে। তবে বইখানা ভুল করে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে কিঞ্চিৎ লজ্জাও প্রকাশ করেছেন। তখন আমি লাইব্রেরিতে ছিলাম, তাই শুনলাম সব।’

    সিরাজ ভুরু কুঁচকে বলল, ‘বিমানস্যার প্রথমবারে ভুলে ‘খুনে বৈজ্ঞানিক নিয়ে গিয়েছিলেন হতে পারে। তাড়াতাড়ি রেখে বেরুনোর কারণে বইটা পাশে সরে গিয়েছিল, তাও সম্ভব। কিন্তু সাত দিনের মধ্যে বইখানা স্যারের নজরে পড়ল না? যখন ওটা ওঁর টেবিলেই ছিল। এটা কেমন জানি অদ্ভুত ঠেকছে। উঁহু, মনে হচ্ছে ব্যাপার অন্য কিছু।’

    —‘আচ্ছা বিমানস্যারের ছেলে নন্তু কি ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’-এর জন্যে ডিমান্ড দিয়ে রেখেছে?’

    —‘হ্যাঁ। ওর নম্বর ছিল সাত।’ জানায় বাবলু।

    —‘তুই ওর কাছে বইটার কথা পেড়েছিলি?’

    —‘হ্যাঁ।’

    —‘কী বলেছিল নন্তু?’

    —‘ও বলেছিল বইখানা ও দেখেছে, কিন্তু হাতে পায়নি। পড়াও হয়নি। গল্পটা ও জানে না। তবে শুনেছে দারুণ গল্প।’

    সিরাজ বলল, ‘বলছিস ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’-এর মলাটের ওপর নাম লেখা আছে। দুদিকেই?’

    —‘না, শুধু সামনের দিকে মলাটের ওপর।’

    সিরাজ বলে, ‘দ্যাখ, বাবলু, আমার মনে হচ্ছে নন্তু বইটা সরিয়েছিল স্যারের টেবিল থেকে। লাইব্রেরিয়ানের টেবিলে ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ নিশ্চয়ই উলটিয়ে রাখা ছিল। স্রেফ বইটার সাইজ আর মলাটের রং দেখে স্যার ওটা প্রবন্ধের বই ভেবে ভুলে নিয়ে আসেন। নামটা আর পড়েননি। লাইব্রেরিতে নির্ঘাত স্যারের বইখাতার গায়েই ছিল ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’। বিমানস্যার বাড়ি এসে বইটই নামিয়ে রেখে দোকানে যেতেই নন্তু ঠিক ওই ঘরে ঢুকেছিল। নন্তু ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’-এর চেহারা আগে দেখেছিল, মানে বাঁধাইয়ের পরে। তাতেই সন্দেহ হয় মলাট দেখে। স্যার ধপ করে বইটই নামাবার ফলে হয়তো ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ পাশে উলটিয়ে পড়ে। অর্থাৎ এবার সামনের দিকটা ওপরে। যেদিকে নাম লেখা আছে বইয়ের। যেভাবেই হোক ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ দেখে চিনে ফ্যালে নন্তু। বোঝে বাবা ভুল করে এনেছে। এমন ভুল তো হরদম হয় স্যারের। সঙ্গে সঙ্গে নন্তু বইখানা সরায়। নিয়ে কেটে পড়ে ঘর থেকে। তাই বিমানস্যার দোকান থেকে ফিরে আর বইটা দেখেননি। ভাবেন, আর একখানা বই ফেলে এসেছেন ভুলে। পড়া শেষ হয়ে গেলে কদিন বাদে নস্তু ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ ফের বাবার টেবিলে রেখে দেয়। তারপর স্যারের নজরে পড়ে বইটা।

    সিরাজ বলে, ‘শোন বাবলু তুই নন্তুকে চেপে ধর। দ্যাখ ও অপরাধ স্বীকার করে কিনা? করবে না হয়তো। তখন দরকার হলে ভয় দেখাবি। বলবি, নন্দপুরের সাধুবাবা গুণে বলেছিলেন যে একটা ছেলে ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ বইটা চুরি করেছে। বলবি, তুই সাধুবাবার কাছে গিয়েছিলি বইটা হারাবার পর হদিস জানতে। বইটা আর একবার পড়ার জন্যে খুব আশা করেছিলি কিনা। হারিয়ে যেতে মন ভারি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই সাধুবাবার কাছে গিয়েছিলি যদি চোরকে ধরে বইখানা উদ্ধার করা যায়, সেই মতলবে। সাধুবাবার এমনি অলৌকিক ক্ষমতা আছে শুনেছিলি। সাধুবাবা এই চোরের যে বর্ণনা দিয়েছেন তার সঙ্গে নন্তুর চেহারা বয়স অবিকল মিলে যাচ্ছে। আর কাউকে অবশ্য এখনও বলিসনি কথাটা। দ্যাখ, ও কী বলে?

    ‘আর এই অস্ত্রে যদি কাজ না হয়, ওকে বলবি, বিমানস্যারকে বলে দেব তুই ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ পড়ার জন্য নাম লিখিয়ে রেখেছিস। সব্বাই জানে বিমানস্যার রহস্য ডিটেকটিভ গল্পের ওপর কী ভীষণ খাপ্পা। আর নন্তু ওর বাবাকে যমের মতন ভয় করে।’

    .

    পরদিন বিকেলে নদীর ধারে বসে আছে সিরাজ। দেখল যে বাবলু হনহন করে আসছে। বাবলু সিরাজের কাছে এসেই উৎফুল্ল স্বরে জানাল, ‘তুই ঠিক ধরেছিস। তোর প্রথম অস্ত্রেই কেল্লা ফতে। নন্তুই হাতিয়েছিল বইখানা। বিমানস্যার বই রেখে দোকানে গেছেন, সেই ফাঁকে। নন্তু তখন ঢুকেছিল স্যারের পড়ার ঘরে। বইটার চেহারা দেখেই ওর সন্দেহ হয়। বইটা উলটে দ্যাখে স্বয়ং ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’। ব্যাস তক্ষুনি বইটা নিয়ে সরে পড়ে। বোঝে, বাবা এটা ভুল করে এনেছে অন্য বই ভেবে। নন্তু দু-দুবার পড়ে ফেলেছে বইটা।

    —‘আমি যখন ইনভেস্টিগেশনে গিয়ে ওর কাছে ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ হারানো মানে চুরি যাবার কথা তুলি, নন্তু নার্ভাস হয়ে সেদিনই বইটা রেখে দেয় ওর বাবার টেবিলে অন্য বইয়ের ভেতর গুঁজে। তবে বিমানস্যার ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’ আবিষ্কার করেন আরো তিনদিন বাদে।’

    —‘স্কুলে নন্তুকে জিজ্ঞেস করলি বুঝি?’ জানতে চায় সিরাজ।

    —‘হ্যাঁ টিফিনের সময় ধরেছিলাম ওকে। নন্দপুরের সাধুবাবার কথা বলতেই ঘাবড়ে গিয়ে সব কবুল করে ফেলল। জানিস, নন্তু কাল আমায় বদ্যির দোকানের ভেজিটেবল চপ খাওয়াবে বলেছে। মানে ঘুষ আর কি? আমার মুখ বন্ধ করতে। যাতে ওর বাবাকে না বলে দিই বা আর কাউকে।’

    —‘অ্যাঁ, ভেজিটেবল চপ! শুধু তোকে? আর অ্যাসিস্ট্যান্ট বাদ?’

    –‘আরে না না। তোকেও খাওয়াতে হবে বলে রেখেছি। বলেছি, আমি ছাড়া কেবলমাত্র তুই জানিস ব্যাপারটা। তোর মুখও বন্ধ করা দরকার।’

    —‘যাক এবার তোর গোয়েন্দাগিরি সাকসেসফুল।’ উৎসাহ দেয় সিরাজ।

    —‘ধুৎ।’ বাবলুর আপসোস, ‘আমি আর ধরতে পারলাম কই? বিমানস্যার ভুল করলেন। আবার নিজেই নিজের ভুল বুঝে বই ফেরত দিয়ে গেলেন। আমার ক্রেডিট কোথায়?’

    সিরাজ বলল, ‘তোর ক্রেডিট আছে বইকী। তুই তদন্তে নেমে নন্তুকে ওই বইটার কথা জিজ্ঞেস না করলে ও ঠিক গাপ মেরে দিত ‘খুনে বৈজ্ঞানিক’। মোটেই বাবার টেবিলে আর ফেরত রেখে আসত না।’

    —‘তা হতে পারে।’ বাবলু কিঞ্চিৎ প্রফুল্ল হয়।

    সিরাজ বাবলুর পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলে, ‘আর কেস করে তোর ফিজ ও মিলল।’

    —‘ফিজ? ফিজ আবার কী পেলাম?’ বাবলু ভুরু কোঁচকায়।

    —‘কেন ভেজিটেবল চপ। ওটা অবশ্য লাইব্রেরি কমিটিরও খাওয়ানো উচিত ছিল তোকে। যাকগে এবার ছেড়ে দে। পরে রেট বাড়াস।’

    —‘ঠিক বলেছিস।’ বাবলু একগাল হাসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleথানা থেকে আসছি – অজিত গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article গল্পসংগ্রহ – অজেয় রায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }