Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রহু চণ্ডালের হাড় – অভিজিৎ সেন

    লেখক এক পাতা গল্প358 Mins Read0
    ⤶

    ৬১-৬৩. ছয় ঘর মুসলমান হয়নি বটে

    ৬১.

    ছয় ঘর মুসলমান হয়নি বটে, কিন্তু ভোজ খেতে রূপা, শরমী এবং এরকম দু-চারজন বাদে আর সবাই গিয়েছিল। জীবনে ভোজ খাওয়ার সুযোগ বাজিকরের কটাই বা আসে।

    শারিবা এখনো হাসপাতালে। পলবি-হানিফের বিয়ে হয় উৎসবের পরদিনই বিশিষ্ট অতিথিদের সাক্ষী রেখে। পরদিন তারা হাসপাতালে শারিবার সঙ্গে দেখা করে।

    শারিবাকে আরো দশদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। সেই দশদিন হানিফ-পলবিও শহরে থাকে। শারিবা ছাড়া পেলে হানিফ ছুটি নেয় অফিস থেকে। সে পলবিকে নিয়ে মালদায় নিজের বাড়ি যাবে। যদিও খুব আপন বলতে সেখানে তার কেউ নেই, তবু তো স্বজন কিছু আছে।

    বাদা-কিসমৎ আর মোহরের যাবতীয় কথা শারিবা এদের কাছ থেকে শোনে। একদিন রূপা আসে। বলে, ঘরোৎ চল শারিবা।

    ঘরোৎ গিয়া খামো কি?

    হামি জিন্দা আছি, শারিবা।

    তুমু খাটবেন, আর হামি বসে খামো?

    এলা এটা কথা? শরীল সারলে নিজেই খাটবি।

    আসলে ভাঙা বাজিকরপায় এই মুহূর্তে শারিবার যেতে মন চাইছিল না। সে যে কোনো একটা ছুতো খুঁজছিল। শেষপর্যন্ত রূপাকে সরাসরিই বলে, তুমু ফিরা যান, বাপ। হামি হানিফ ভাইয়ের কাছে কেছুদিন থাকমো। এটাকাজ কী চাকরি যদি পাওয়া যায়, সি চেষ্টাই দেখমো।

    রূপা একটু শঙ্কিত হয়। বলে, তুই কি হামাক্ পর করি দিবার চাছিস, শারিবা?

    শারিবা উঠে এসে বাপের দু-হাত নিজের হাতে নেয়। বলে, এংকা ভাবেন ক্যান, বাপ? কাজ কাম তত খুঁজি নিবার হবে। হানিফ ভাই সরকারি লোক, ভালোও বাসেন হামাক্। কেছুদিন দেখবা দেন। শরীলটা এটু সুস্থ হলে দেখশ করি আসমমা সবার সাথে।

    একটু থেমে আবার বলে, আরেকটা কথা, হামার মাওরে বলেন, আমি তারই বেটা আছি, পর হই নাই।

    রূপা শারিবার কথার বাস্তব দিকটা মেনে নেয় অগত্যা। হানিফকে বলে, জামাই তুমার হাতে রাখি গেলাম হামার পরানের পরান। দেখভাল করবা আর ফিরোৎ দিবা।

    হানিফ তাকে অভয় দেয়। রূপা ফিরে আসে।

     

    ৬২.

    মালদায় যাওয়ার পরই হানিফ একত্রে দুটি চেষ্টা করতে থাকে। প্রথমত, শারিবার একটা গতি করা, আর তারপরে নিজের বদলির ব্যবস্থা। তার বিভাগীয় অফিস যেহেতু মালদাতেই, বদলির ব্যাপারে খুব একটা বেগ পেতে হয় না তাকে।

    শারিবাকে নিয়ে তারপর সে যায় একটা রাস্তার পাশের চালাওঠা মোটর গ্যারেজে। চার-পাঁচজন যুবক সেখানে নানা ধরনের কাজ করে। মোটরের চাকায় পাম্প করা থেকে ওয়েলডিং অবধি অনেক কিছুই সেখানে হয়। অথচ গ্যারেজ বা দোকানটি অত্যন্ত অগোছালো, যেন দু-দিনের জন্য ব্যবস্থা। এক বৃদ্ধ, গোলগোল কাচের চশমা নাকে, একটা বড় মাপের খাকি জামা গায়ে, যার দু-টো হাতাই বগলের কাছ থেকে নেই, তদারক করে যুবকদের। যতই অগোছালো থোক, কাজের ব্যস্ততা খুবই।

    হানিফ বৃদ্ধের কাছে গিয়ে বলে, চাচা আসলাম।

    সে একটা খাটিয়ায় বসে পড়ে বৃদ্ধের পাশেবৃদ্ধ চশমার মোটা কাচে ঠাহর করে বলে, কোন শালারে, সকালবেলা গলায় মধু।

    আমি হানিফ, চাচা। অনেকদিন তুমার গাল শুনি না, তাই কলজেটা কেমন ড্যাপ মারি গিছে। দাও, দুটাশুনাও তো!

    ওরে আমার শালারে, সক্কালবেলা, বিনিপয়সায় গাল শুনবে! ছাড় শালা, সিগ্রেট ছাড়, চা বল সব্বার জন্যে।

    চা, সিগারেট, খোশগল্প হয়। হানিফের বিয়ের কথা শুনে আরেক প্রস্থ গালি শোনায় চাচা হানিফকে। শেষে শারিবাকে দেখিয়ে বলে, ও গাঁওয়ার ধর্মেন্দরটা কুনঠি থিকা আনলি?

    ও শারিবা, আমার শালা।

    শারিবা! তুই কি হিঁদু বিহা করেছিস নাকি হানফ?

    আরে না না হিঁদু নয়, মুসলমানই। সিই তোমাদের উকিলবাবু আমিনুল সাহেব গেল না বাদা-কিসমতে মুসলমান করাতে, সেই মুসলমান।

    নুতন মুসলমান? কামাল কল্লিরে, শোরের ছাও।

    এখন কথাটা শোনো। শারিবারে কাম শিখাতে হবে, মেকানির কাম।

    পারব না, আমার লোকের দরকার নাই।

    তোমার পয়সা থোরাই খাবে ও। নিজে খাটে খাবে। এখন কামটা তো শিখাও।

    হ্যাঁ, ওই বলে আমার ঘাড়ে চাপায়ে, নিজে ফুরুৎ হবা। ওসব তাল আমি বুঝি না!

    শেষপর্যন্ত চাচার দোকানে শারিবার শিক্ষানবিশি শুরু হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, কখনো কখনো রাতেও কালিঝুলি মেখে শারিবা চাচার কাছ থেকে কাজ শেখে। ইঞ্জিন, চেসিস, কারবুরেটর, পেট্রল, ডিজেল এসব অদ্ভুত শব্দ শেখে। চেনে ক্লাচ, গিয়ার, ব্রেকের নিখুঁত কারিকুরি। চাচার কাছে গাল খায়, চড়চাপড়ও খায়। এইভাবে দিন মাস পার হয়ে বছর গড়ায়।

    দু-বছর পরে শারিবা বলে, হানিফ ভাই, একবার বাড়ি যামো।

    পলবি বলে, আম্মোও যামো। কতদিন বাপরে দেখি না, আপন মানুষ দেখি না।

     

    একবছরে বাদা-কিসমতে পরিবর্তন কিছু হয়েছে। রাস্তা আরো দীর্ঘ হয়েছে। মোহরের হাট আরো বড় হয়েছে, আরো অনেক স্থায়ী দোকান হয়েছে। এখন নিয়মিত বাসও আসে।

    বাজিকরপাড়ায় হিন্দু-মুসলমান পার্থক্য আবছা হলেও চোখে পড়ে। কিন্তু মানুষগুলো একইরকম রয়ে গেছে। সেই একই নিরম্ন হাঘরে সমাজ বহির্ভূত অসহায় বাজিকর।

    কেমন আছেন, মামা?

    ইয়াসিন দু-বছরে অনেক বৃদ্ধ হয়েছে। বলে, বাপ যেমন ছিলাম তেমনই আছি। তোর বাপই ঠিক বলিছিল, হামরা পাখমারা আর বাদিয়া মোছলমানের মতোই বেজাত মোছলমান হেই গেলাম।

    বেজাত মোছলমান!

    হাঁ! হাজিসাহেব কহেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, মোছলমানের কিরাকাম মানো, হাদিস মানো, তবিই তুমু সাচ্চা মোছলমান হবা। জাতে উঠবা। তা বাপ, সবই তো করি, কেন্তু জাতে তো উঠি না!

    জাতে উঠেন না!

    না বাপ, বেটিগুলার বিহা হয় না। মোছলমান হয়া হামরাদের ঘর তো ফের কমি গেল।

    হাজিসাহেরা একসাথ ওঠ বস করেন না?

    নামাজ পড়া যদি একসাথ ওঠ বস হয়, তো সিটা করে, আর কেছু লয়।

    খানাপিনা?

    ইয়াসিন মাথা নাড়ে।

    কাজ কাম দেয়?

    এনা দেয়, যেংকা ছিল।

    আধি জমি?

    আধি জমি রেকড হবার কথা শুনা যাচ্ছে। কাজিই এখন আর আধি লয়, এখন আলগা চুক্তি, মুনিষ-মাহির কি দিন-পাটা।

    শারিবা চুপ করে বসে থাকে।

    শা-জাদি বলে, ছাড় ইসব ছিড়া কথা, আন্ কথা ক’। টাউনোৎ খুব খাটনি তোর, না? তাই মুখটা এনা কালা হইছে?

    শা-জাদি বলে, বয়স কত হোই গেল রে শারিবা, ইবার বিয়া সাদি করবা না?

    শারিবা তখন অন্য কথা ভাবে। শারিবা ভাবে তার নানির কথা। তার নানি যেসব প্রাচীন কথা বলত, সেইসব পাপপুণ্যের কথা। বাজিকরদের নসিবের কথা। লুবিনি ধূসর চোখে পাতালু নদীর বাঁকের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকত জ্যোৎস্না রাতে। তারপর কাঁপা কাঁপা হাতে শাবিবাকে অলীক সব দৃশ্য দেখাত। লুবিনি বলত, হাঁই দেখ শারিবা, হাই দেখ রহু। ও

    রহু কি করে, নানি?

    রহু বাজিকরদের দেখে।

    হামি দেখশর পাচ্ছি নাই, নানি।

    নমনকুড়িতে পীতেম বলত, হাঁই দেখ লুবিনি, হাঁই দেখ রহু।

    রহু কি করে নানা?

    রহু বাজিকরদের দেখে।

    হামি দেখার পাচ্ছি নাই, নানা।

    রাজমহলের গাছের নিচে দাঁড়িয়ে অশরীরী দনু বলত, হাঁই দেখ পীতেম, হাঁই দেখ রহু।

    পীতেম দেখতে পেত রহুকে, দেখতে পেত জামিরও। কিন্তু সেই কিশোরী বয়সে লুবিনি রহুকে দেখতে পায়নি, অথচ মরার আগে সে বহুকে দেখত। আবার সে যখন শারিবাকে দেখাত, শারিবাও রহুকে দিশা করতে পারত না।

    এখন তার মনে হয় এদের সবার মতো সেও হয়ত একসময় রহুকে দেখতে শুরু করবে। এতে তার ভয় হয়। নানির বলা অসংখ্য কথা সে একসময় আবিষ্ট হয়ে শুনত এবং বিশ্বাস করত নানির বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দৃষ্টি দিয়ে। এখন যদিও শারিবা এসব কথার কোনো অর্থ পরিষ্কারভাবে ধরতে পারে না, তবুও কেমন ভয় হয় অন্য আর সবার মতো একদিন রহু তাকে দেখা দেবে। বিষণ্ণ মূর্তিতে।

    রহু বলবে, তুমি কে?

    আমি শারিবা।

    শারিবা কে?

    শারিবা বাজিকর।

    তবে তো তোমার খুব দুঃখ।

    শারিবা বলবে, হ্যাঁ আমার বড় দুঃখ, আমার দুঃখের আসান নেই।

    অথচ এখন তো শারিবা লুবিনির অসংখ্য গল্পকথার মধ্যে অন্য অর্থ খুঁজে বের করবার চেষ্টা করে। সমাজ তাকে কেন ত্যাগ করল? কেন এখনো গ্রহণ করে না। এখন এসব চিন্তা সে সূত্রবদ্ধ করার চেষ্টা করে। গ্যারেজে দুবছর শ্রমিকের কাজ করে তার হীনমন্যতা অনেক কেটে গেছে। শহরের জীবন যদিও অনেক জটিল কিন্তু তার বিস্তারও অনেক বেশি। মোহরের হাটখোলায় চায়ের দোকানে এখনো সম্প্রদায়িভিত্তিক কাপ ও কাচের গেলাস আছে, শহরে নেই। এখানে আর কিছু থাক আর নাই থাক, জাতের কথা গায়ে লেখা থাকে, শহরে অন্তত এরকম

    অশ্লীলভাবে থাকে না।

    ঘরে ফিরে এসে রূপা বলে, দেখে আসলি বেটা কেমন মোছলমান হয়েছে? আগে বলি নাই? তখন কেও হামার কথা শোনল না!

    শারিবা একথারও উত্তর দেয় না। রূপা ও শরমী আরো ধর্মপ্রাণ হয়েছে, আরো আবেগ দিয়ে তারা বিষহরির পাঁচালি গান করে, বিষহরির ঘটের জন্য আলাদা একখানা চালা তুলেছে সেখানে ফুল, বেলপাতা, ধূপদীপ দেয়। রূপা এবং শরমীর আরো উন্নতি দেখতে পায় শারিবা। দুজনের গলাতেই হলুদ রঙের নতুন তুলসীর মালা। সন্ধ্যাবেলা রূপাকে সে নতুন গানও গাইতে শোনে—

    শুনেছি রাম তারকব্রহ্ম
    নয় সে মানব জটাধারী,
    মহাপাতক হইয়াছ তুমি
    করি লক্ষ্মীকান্তের লক্ষ্মী চুরি।

    এবং পরদিন এক বৈরাগী ঠাকুর এলে শারিবা দেখে রূপা ও শমী বড় অকুণ্ঠ সেবা যত্ন করে তার। বৈরাগী তাদের ইহকাল পরকাল ও পাপপুণ্য নিয়ে অনেক রহস্যময় ও অজানা কথা বলে। তারা সেসব মনোেযোগ দিয়ে শোনে।

    সবচেয়ে আশ্চর্যজনক পরিবর্তন হয়েছে আকালুর। পাশী আকালু এখন আর নিজে গাছে ওঠে না। অসংখ্য তালগাছ ইজারা নেয় সে। তাড়ির গদি সরকারের কাছ থেকে ডেকে নেয়, দোকান খোলে। চৈত্র মাস থেকে তার ব্যবসা কয়েক মাদ রমরমা থাকে। সে ভালো টাকাই রোজগার করে। শীতের দিনে খেজুরগাছ ইজারা নেয় সে গৃহস্থের কাছ থেকে। রস নামিয়ে গুড় তৈরি করে। এতেও ভালো পয়সা থাকে তার।

    আকালু স্থানীয় একটি পোলিয়া মেয়েকে বিয়ে করেছে। বাজিকরপাড়ায় থাকলেও তার ঘরদোরেই লক্ষ্মীর শ্ৰী আছে। এত তাড়ি নামায়, কিন্তু নিজে কখনো এক চুমুক মুখে তোলে না। তার বউ খুবই কাজের মেয়ে, ভালো গুড় জ্বাল দেয়।

    শারিবা বলে, তবি তুই বাজিকরের বিটি বিহা করলু না।

    কথায় কি আকালু হারে। বলে, বাজিকরের বিটি হামি বিহা করমো, তো বাজিকরের বেটাগুলা যাবে কুন্‌ঠি?

    মোহর হাটখোলা এখন একযা বাজারের চেহারা নিয়েছে। আকালুর সেখানে একখানা মুদি দোকানও আছে। সে আজকাল লোককে টাকাও ধার দেয় সুদের বিনিময়ে। মোহর হাটখোলা এখন সরগরম জায়গা। সারাদিনে এদিকে ওদিকে চারখানা মোটর বাস যাতায়াত করে। লোজন হরদম শহরে যায়, শহর থেকে আসে। শারিবা শুনে অবাক হয় বাজিকরপাড়ায় কয়েকজন যুবক শহরে মাঝেমধ্যে সিনেমা দেখতে যায়।

    পাড়ার মধ্যে পথ চলতে শারিবা ওমরের ঘরখানার সামনে হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। ঘরের দাওয়ায় বছর তিনেকের একটি শিশু খেলছে। আসার দিনই রূপার কাছে সবার খোঁজখবর নিতে গিয়ে সে শুনছিল ওমরের মা বছরখানেকের হল মারা গেছে। এই শিশুটিকে দেখে সে কিছুই চিন্তা করত না যদি না পরক্ষণেই মালতী ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসত। মালতীকে দেখে শারিবা স্থাণু হয়ে যায়। যায়।

    মালতীকে এখন তপস্বিনীর মতো দেখায়। তার একমাথা রুক্ষ চুল, দিঘির মতো বিশাল চোখ ও সমস্ত শরীরে কৃচ্ছসাধনের জন্য একটা টানটান তীক্ষ্ণতা।

    মালতী শারিবাকে দেখে, কোনো কথা বলে না। খেলতে খেলতে শিশুটি উঠোনে নেমে এসেছিল। শারিবা তার মাথা স্পর্শ করে, শিশু অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়। তারপর শারিবা আবার রাস্তা ধরে চলতে শুরু করে।

    হাঁটতে হাঁটতে সে মোহরে আকালুর দোকানে আসে। আকাল তাকে মালতীর বৃত্তান্ত বলে।

    হ্যাঁ, শিশুটি ওমরেরই ছেলে। মালতীর বাপ-মা চেষ্টা করেও তার আর বিয়ে দিতে পারেনি। প্রথমত, বাজিকরের ছোঁয়া মেয়েকে বিয়ে করার লোকের অভাব। আর দ্বিতীয়ত, মালতী কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হয়নি। তারপর মালতীর বাপ মরে। এতদিন যদিবা কোনোমতে চলছিল, কিন্তু এখন ভাইদের সংসারে মালতী তার শিশুকে নিয়ে সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। তাছাড়া, মালতীর মতো মেয়ের কাছে পুরুষমানুষ গোপনে আসতে চাইবে, এও তো স্বাভাবিক। কিন্তু মালতী তার জীবনের প্রধান ঘটনাগুলোর কোনো স্বাভাবিক ব্যাখ্যা পায়নি কারো কাছ থেকে। কাজেই একদিন সন্ধার পর তিক্তবিরক্ত হয়ে সে এক ব্যক্তিকে দায়ের কোপ মারে।

    ঘটনাচক্রে সে ব্যক্তি বাইশ দিগরের অন্তর্ভূক্ত, যা মালতীর বাপ ছিল না।

    এতে ভীষণ গণ্ডগোল হয়। ভায়রো যদিও ছিল না, তাই বলে দিগর একবারে ভেঙে যায়নি। মালতীর ভাইদের উপর চাপ আসে নানারকমের। সুযোগ বুঝে ভাইবউরাও এই কাঁটা উপড়ে ফেলার ব্যবস্থা করে। মালতীর বড় ভাইয়ের মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়েছিল। কিন্তু দুই দুই ঘর পাত্রপক্ষ মালতীর অজুহাতে কথাবার্তা বেশিদূর এগোতে দেয়নি।

    কাজেই মালতীকে ঘর ছেড়ে আসতে হয়। কাউকে কিছু না জানিয়ে সে ওমরের জীর্ণ ঘরখানা দখল করে। খবর পেয়ে ইয়াসিন এসে তাকে বলেছিল, একি বেপার? তুমি এঠি থাকবা কেংকা?

    মালতী এ ঘর তার স্বামীর ঘর হিসাবে দাবি করেছিল, তাতে বাজিকরপাড়ায় বিস্ময়ের ঢেউ বয়ে যায়।

    কিন্তু ইয়াসিন আবার ঝামেলার ভয় করেছিল। সে মালতীর দাদাদের কাছেও গিয়েছিল। তারা এ সম্পর্কে ভালোমন্দ কোনো কথাই বলেনি। ইয়াসিন তারপর দিগরের মাতব্বরদের কাছে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানেও ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব ছুটকো ব্যাপার নিয়ে কেউ আর মাথা ঘামাতে বিশেষ রাজি ছিল না। মালতী সেই থেকে এখানেই আছে।

    শারিবা বলে আছে তো, খায় কি? খোয়ায় কি চেংড়াটা?

    ক্যান কাম করে। মালতী স্থাষের কাম জানে, খোলানের কাম জানে। আর খুব পয়-পরিষ্কার। যারোজগার করে মা-বেটা দুজনার চলি যায় কোনো মতে। আর সবাই যখন পাকুড়পাতা, নাজনাপাতা খায়, সেও তাই খায়।

    দোকান থেকে ওঠার সময় এক প্যাকেট বিস্কুট কেনে শারিবা।

    আকালু বলে, মালতীর কাছে যাবি?

    শারিবা বলে, আজ নয়, কাল।

    পরদিন শারিবা মালতীর বাড়ি যায়। মালতী ঘরে ছিল না। আগের দিনের মতো তার ছেলে দাওয়ায় খেলছিল।

    শারিবা দাওয়ায় একপাশে বসে তাকে কাছে ডেকে নেয়। অপরিচিত মানুষ দেখে শিশুর চোখে আতঙ্ক হয় একটু। তাছাড়া সে পুরুষমানুষের সাহচর্যে অভ্যস্ত নয়। শারিবা পকেট থেকে বিস্কুট বের করে তার মুখে দেয়।

    কি নাম তুমার?

    শিশুর ভয় কাটে না। এক অপরিচিত মানুষের কোলের মধ্যে বন্দী সে।

    শারিবা বলে ভয় কিরে বেটা? খা, বিস্কুট খা।

    মালতী পুকুরঘাট থেকে ফিরে দেখে তার ছেলে শারিবার কোলে বসে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। ছেলেকে আদর করলে কোন মা না সন্তুষ্ট হয়। কিছু না বলে সে ঘরে ঢুকে যায় এবং এক টুকরো খেজুরপাতার চ্যাটাই নিয়ে বেরিয়ে আসে।

    মাটিং বসলেন, দাদা?

    আরি ঠিক আছে।

    শারিবা চ্যাটাইটা মালতীর হাত থেকে নিয়ে তার উপরে বসে। বলে, ছেলা তো তুমার খুবই চালাক।

    মালতী হাসে। ঘাড় বেঁকিয়ে শারিবাকে তার দিকে তাকাতে হয়, কেননা মালতী দাঁড়িয়েছে দরজার কাছে, তার সঙ্গে কোনাকুনি, সামনাসামনি নয়।

    শারিবা তার পরেও ছেলের সাথেই কথা বলে, মালতীর সাথে কি যে কথা বলা যায়, তা সে ভেবেই পায় না, একটা অপরাধবোধ তার ভেতরে কাজ করে, যা সে কখনো ভুলতে পারে না। ওমরকে সে বাঁচাবে বলেছিল, কিন্তু বাঁচাতে পারেনি।

    ওঠার সময় মালতী নিয়মমতো আবার আসার কথা বলে। নিয়মমতো শারিবাও ‘আচ্ছা বলে।

    পরদিন শারিবা আকালুর দোকান থেকে আরার বিস্কুটের পাকেট কিনলে আকালু চোখ নাচিয়ে বলে, ক্যারে শারিবা?

    শারিবা আহত হয় ও লজ্জা পায় সে কোনো কথা বলে না, হাত বাড়িয়ে একটা বিস্কুটের প্যাকেট তুলে নেয় শুধু।

    আকালুই আবার বলে, মালতী কিন্তু হাঁসুয়ার কোপ মারে শারিবা, সে খ্যাল রাখে।

    শারিবা এবার বিরক্ত ও অপমানিতও বোধ করে। সে বলে, তোর অনেক পয়সা হচ্ছে নারে আকালু?

    কি কথায় কি কথা!

    ঠিক কথা। শারিবাক্ চেনো না তুই?

    ছাড় সে উসব কথা, মজা করলাম। কথাডা কি বিহাসাদি কি বুঢ়া বয়সে করবু? তোর বাপ বলিছিল—

    এভাবে পরপর তিন-চারদিন শারিবা বিস্কুট নিয়ে মালতীর বাড়ি যায়। মালতীর ছেলেটি তার খুব নেওটা হয় ও মালতীও খানিকটা সহজ হয় তার কাছে।

    এই দু-বছর বাজিকরপাড়াতেও যে কী বিপুল পরিবর্তন হয়েছে, তার খবর শারিবার পুরোপুরি জানা ছিল না। শুধু নমোশূদ্রদের লোভী পুরুষরাই মালতীকে জ্বালাতন করে না, বাজিকরদের জোয়ান ছেলেরাও করে। শারিবার ঘনঘন মালতীর ঘরে যাতায়াতে দু-একজন নজর রাখে এবং আকারে ইঙ্গিতে দু-চার কথা বলে। শারিবা সতর্ক হয়।

    তারপর তাকে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতে হয়। যে কটা সামান্য টাকা সে নিয়ে এসেছিল, তা খরচ হয়ে গেছে প্রায়।

    যাওয়ার আগের দিন সে মালতীর সঙ্গে দেখা করতে আসে।

    সে বলে, কাল চলি যামো, ঠিক করিছি।

    কাল?

    হাঁ।

    ফের কবে আসপেন?

    এখন কই কেংকা?

    মালতী চুপ করে থাকে।

    শারিবাই আবার বলে, এটা কথা ক-বার চাছি।

    ক-ন।

    কি বা আবার ভাবেন তুমি—

    ক-ন।

    ই চেংড়া ছাবাল নিয়া কতদিন এংকা একা থাকবা তাই ভাবি।

    করমো কি?

    ই ভাবে তো মেয়ামানষে থাকবা পারে না।

    রূপায় কি?

    রূপায় তো এটাই, বিহা কর।

    মালতী হাসে, ম্লান হাসি। তারপর তার চোখে জল আসে। মুখ আড়াল করতে সে ভেতরে ঢুকে যায়।

    শারিবা দ্বিধায় পড়ে যায়। কথাটা বলে কি ভুল করলাম? সে ভাবে। সে অনেকক্ষণ একা বসে থাকে। মুসলমানি ও হিন্দুয়ানিতে বিভক্ত বাজিকরেরা রহুকে বিস্মৃত হয়ে গেছে, একথা এবার সে গভীরভাবে ভেবেছে। হতাশার হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য সে আর রহু চণ্ডালের হাড় খুঁজবে না, একথা বোঝে শারিবা। অনেক চিন্তা করেও সে বুঝতে পারে না, এতে বাজিকরের ভালো হল কি খারাপ হল।

    শহরে হানিফের সহায়তায় সে একটা চাকরির দরখাস্ত করেছিল। সরকারি বাসের ক্লিনারের চাকরি। দরখাস্তের যে জায়গায় ধর্মের কথা লেখা আছে, সেখানে কি লেখা হবে সে নিয়ে বড় সমস্যা হয়েছিল। হানিফ পরামর্শ দিয়েছিল, যা হোক একটা লিখে দিতে হয়, হিন্দু নয় মুসলমান। কেন যেন শারিবা রাজি হয়নি। বলেছিল, লিখেন—বাজিকর। বাজিকর! এমন আবার ধর্ম হয় নাকি? হয় না? নাহলে কেন এত লাঞ্ছনা? দরখাস্ত লেখক বলেছিল, এতে চাকরি হবে না। হয়ও নি, সে যে-কোনো কারণেই হোক না কেন।

    এখন শারিবা এত তীব্র দ্বন্দ্বে ভোগে। রহুকে যারা রক্তের মধ্যে বাঁচিয়ে রেখেছিও সেই দনু, পীতেম, জামির এরা কি বাজিকরের পৃথক অস্তিত্ব রক্ষা করতে চেয়েছিল, না চেয়েছিল বাজিকর সবার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাক? রূপা কিংবা ইয়াসিন ঠিক কাজ করেছে, না পৃথক অস্তিত্বের দম্ভ নিয়ে শারিবা ঠিক কাজ করছে? এইসব সমস্যার সমাধান এখন খুবই জরুরি। তার বয়স এখন। বত্রিশ-তেত্রিশ হবে। এখনো পর্যন্ত সে বিয়ে করেনি, ঘরসংসার করেনি, তার সমাজে এবং পুরো গ্রামসমাজেই আশ্চর্যের বটে। লুবিনি তাকে বলত বুঢ়া’, বলত সে নাকি পীতেমের থেকেও বৃদ্ধ। অথচ এই বার্ধক্য লুবিনিই সঞ্চারিত করেছে তার মধ্যে। শারিবা শুধু বৃদ্ধ নয়, শারিবা প্রাচীন। তাই শারিবা আলোছায়ায় সঞ্চরমাণ বহুর মতো বিষণ্ণ। ৪)

    দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরে যখম মালতী ঘর থেকে বার হয় না, তখন শারিবা মনস্থির করে ফেলে। সে মালতীকে আঘাত করেছে, এতে সে স্থির নিশ্চয় হয়, দুঃখ ও লজ্জা পায়। সে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, মালতী আমি উঠি।

    মালতী দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়, তার চোখ সিক্ত। শারিবা তার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চিন্তা করে, আমার সঙ্কোচ বোধ করার কি আছে। আমি অত্যন্ত দরকারি একটা কথা বলেছি। সে সোজাসুজি তাকায় মালতীয় চোখে। বলে, যদি বেথা দিয়া থাকি তুমাক, তবি মাপ করি দিবা। কেন্তু যি কথাটা কলাম সিটা ভাববার।

    মালতীর চোখ আবার উপচে পড়ে। সে কিছুই বলতে পারে না, কোনো কথা নয়।

     

    ৬৩.

    সারাদিন শারিবা থাকে একটা ঘোরের মধ্যে। সে কাল শহরে চলে যাবে, আবার কি ফিরে আসবে এই মানুষগুলোর মধ্যে? বাজিকরদের সঙ্গে যোগসূত্র রাখার আর কি কোনো দরকার আছে? শা-জাদিও রূপাকে সে কী বলে যাবে? শরমীকে কী বলবে? শরমী তাকে বিয়ের জন্য বড় বেশি চাপ দিচ্ছে।

    রাতের অন্ধকার নামলে শারিবা পাতালু নদীর দিকে চলতে শুরু করে। আজ আকাশে চাঁদ আছে। পৃথিবী রহস্যময়। অনেকক্ষণ নদীর পাড়ে সে একা বসে থাকে। তারপর একসময় ফিরবার জন্য সে উঠে দাঁড়ায়, তারপর অন্যকিছু চিন্তা করে গ্রামে ফেরার বদলে নদীর বাঁওড়ের দিকে এগোয়।

    নিস্তব্ধ বাঁওড়ের চারপাশে একমাত্র হাওয়ার শব্দ। চাঁদের আলোয় দীর্ঘ গাছ এবং নিচের ঝোপঝাড়ে আলোছায়ার লুকোচুরি। নদীর পাড় থেকে ঘাসের জঙ্গল উঠে গেছে একদিকে। আধামানুষ সমান ঘাসের জঙ্গল। সেখানে সঞ্চরণশীল ছায়ার দিকে শারিবা একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। লুবিনি এই ছায়ার মধ্যে ঢুকে বসে আছে। এখন সে ভাবে, তবে কি রহু তৃপ্ত? বাজিকরদের আর কিছু না হোক স্থিতি হয়েছে। আর কোনো বাজিকর কোনোদিন এই গ্রাম ছেড়ে নতুন করে রাস্তায় বেরোবার কথা ভাববে না। এখন তার যা কিছু ভাবনা তা এই দরিদ্র হতশ্রী কুঁড়েঘরগুলোকে কেন্দ্র করে, এতে শারিবার আর কোনো সংশয় থাকে না। কিন্তু শারিবার রক্তের অস্থিরতা কাটে না কেন? কেন লুবিনির কঁপা কাঁপা হাত তাকে এখনো অনেক কিছু দেখাতে চায়? সে আলোছায়ার দিকে তাকিয়ে পীতেমের মার খাওয়া দেখে, পেমার আর্তনাদ শোনে, নমনকুড়ির বন্যার জল ক্রমশ বেড়ে উঠে সর্বনাশ হতে দেখে, নৌকার গলুইয়ের উপর রক্তাক্ত জামিরকে দেখে। সে দেখে লুবিনিকে ধর্ষিতা হতে, হাতির পায়ের চাপে ঘর ভাঙছে, শিশু মরছে। পলায়নপর বাজিকর গোষ্ঠীকে সে দেখে জল কাদা ভেঙে পাতালু নদীর তীর ঘেঁষে ছুটতে। সে দেখে সেই ভীবৎস রাত, যখন তার ভাই সাপের কামড়ে মারা যায়। আরো কত জানাঅজানা দৃশ্য সে সম্মোহিতের মতো দেখে। তারপর সবশেষে ওমরের ছিন্ন মুণ্ড যখন আকাশপথে তার দিকে ছুটে আসতে থাকে তখন সে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ে। দু-হাতে মুখ ঢেকেও রেহাই পায় না সে। ওমরকে সে বলতে শোনে, শারিবা তুই হামা বাচাবু বলিছিলি!

    এসবের কোনো উত্তর কি আছে শারিবার কাছে? সে চোখের থেকে হাত সরিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকায়। পীতেম থেকে শারিবার মধ্যেকার এই একশো বছরে বাজিকর স্থিতি পেয়েছে। এখন আর তাকে সহজে কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না, একথা এখন সব বাজিকরই বোঝে। আবার যদিও মাত্র কয়েক বছর আগেই ওমরের কবন্ধ যে অপরাধে এই নদীতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, আজ যদি, শারিবা সেই মালতীকেই বিয়ে করে তবে নিশ্চয়ই আর সেরকম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার প্রথম কারণ বাজিকরেরা স্থিতি পেয়েছে, আর দ্বিতীয় কারণ ভায়রো যে ব্যবস্থাকে প্রাণপণ শক্তিতে আঁকড়ে রেখেছিল, তার মৃত্যুর পর বড় দ্রুত ভেঙে পড়ছে সেই ইমারত। বিরোধ বাড়ছে দিগর এবং দিগরবহির্ভূত মানুষদের মধ্যে। সব দিগরবহির্ভূত মানুষেরা বাজিকরদেরও সমর্থন চায়। শারিবা কালই ইয়াসিনকে বলবে সেইসব মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যারা ভায়রো, আজুরা ও অন্যান্য ভূস্বামীর হিসাববহির্ভূত জমি দখলের চক্রান্ত করছে। এইভাবেই স্থায়িত্ব আসবে।

    শারিবা শান্ত হয়। কিন্তু তারপরেই তার ইন্দ্রিয় প্রখর হয়। ঘাসের জঙ্গলের কাছে একটি ঘনীভূত ছায়া শুধু ছায়াই নয়, মনুষ্য আকৃতি বিশিষ্ট। এই অত্যন্ত অনাবৃত প্রাকৃতিক পরিবেশে এই সঞ্চরণশীল ছায়া দেখে সে শিহরিত হয়। প্রথমেই তার লুবিনি বর্ণিত রহুর কথা মনে হয় সে স্থির হয়ে অপেক্ষা করে।

    ছায়াশরীর ঘাসের ঝোপের আবছা আড়াল ছেড়ে উন্মুক্ত বেলাভূমিতে আসে ও সমর্পণের ভঙ্গিতে মাটিতে বসে। শারিবা মালতীকে চিনতে পারে। মালতী এমন রুদ্ধ আবেগে কাঁদে যে শারিবার উঠে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিতে সাহস হয় না। মালতী এইভাবে দীর্ঘ সময় কাঁদে।

    তারপর একসময় শারিবা ধীরে ধীরে মালতীর কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, তার মাথায় হাত রাখে। মালতী আতঙ্কিত চিৎকারে নদীতীরের স্তব্ধতা খান খান করে।

    শারিবা তাকে দু-হাতে ধরে ও বলে, মালতী আমি শারিবা।

    মালতী বিস্ফারিত চোখে তাকে দেখে, থরথর করে দেহ কাঁপে তার, সে নিমজ্জমান মানুষের মতো শারিবাকে দু-হাতে আঁকড়ে ধরে।

    অনেকক্ষণ এভাবে থাকার পর শারিবা তাকে ঠিকভাবে বসায়। বলে, তুমি চিলালা ক্যান?

    ডর লাগিছিল। ভাবলাম সি বুঝি হামার মাথাৎ হাত রাখে।

    পাগল।

    মানুষ মরলে কুথায় যায়?

    মাটিৎ মিশা যায়।

    সাচা? আর কেছু থাকে না?

    থাকে, যি মানুষ মরে, অন্য মানুষের মনে থাকে সি। ইয়াই হামার জানা।

    তবি যি মানষে কয়—

    আর কিছু জানা নাই হামার।

    তাই!

    ইখানে আসিছিলা ক্যান?

    সকালে কথাডা ক-লেন, মন যে বড় উতলা হল। তাই ভাবছিলাম চেংড়ার বাপের মন বুঝি। জীবনটা তো কাটাবা হবে।

    সিটাই ভাববার কথা। ওমরকে তো ভুল কছি না। ওমর থাকুক মোসর মমানে।

    মালতী একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে।

    শারিবা বলে, আর কোনো কথা আছে মনে?

    মালতী বলে, আমার চেংড়া?

    শারিবা বলে, আমার চেংড়া হবে।

    শারিবা উঠে দাঁড়িয়ে মালতীকে হাত ধরে তোলে, তারপর দুজনে গ্রামের দিকে ফিরতে থাকে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅবিশ্বাসের দর্শন – অভিজিৎ রায় ও রায়হান আবীর
    Next Article রহস্য যখন রক্তে – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }