Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজনগর – অমিয়ভূষণ মজুমদার

    লেখক এক পাতা গল্প546 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. মাস দেড়েক চলে গিয়েছে

    ষোড়শ পরিচ্ছেদ

    তারপরে মাস দেড়েক চলে গিয়েছে। এতদিনে দুএক পশলা বৃষ্টি নেমেছে, কিন্তু এতবড়ো নদীর ধারে বর্ষাকাল এভাবে সাধারণত আসে না। ফরাসডাঙার টিলায় নতুন করে চার্চের ভিত বসেনি। দয়ালকৃষ্ণ ফরাসডাঙার লাট জমা দিয়েছে যেমন সে অনেকদিন থেকে দিয়ে আসছে। ওয়ারিশের প্রশ্ন এবারও ওঠেনি। ম্যাকফার্লান রেভেনু বোর্ডে কী লিখেছে জানা যাচ্ছে না।

    রাজনগরের লোকেরা কালক্রমে যে-গল্পটাকে মেনে নেবে তা এখনই কারো কারো মুখে শোনা যাচ্ছে : কী একটা গোলমাল আছে ফরাসডাঙার স্বত্বে, সেক্ষেত্রে দখলদারী প্রমাণ করতে রাজকুমারের স্বয়ং সেখানে থাকা ভালো। রানীর শিবমন্দিরই দখল প্রমাণ করে বটে, রাজকুমার নিজে থাকলে যা হয় তেমন কী করে হবে? রাজকুমারের স্বত্বটা হয় কীসে, সে প্রশ্ন তুললে বলতে হয়, পাল্টা স্বত্ব নিয়েই বা কে এগিয়েছে?

    দীঘিটা সব কাটা হয়নি। বিঘা পঁচিশেক কাটা হয়েছে উপর উপর, বৈশাখে জল আসেনি।

    নায়েবমশায় ইতিমধ্যে ফরাসডাঙায় পাল্কি থামিয়ে নেমেছিলেন। পত্তনিদারদের দুজনকেই প্রথম ধাপে ডাকিয়েছিলেন। বলেছেন, দয়ালকৃষ্ণ আসবে, তোমাদের নিয়ে আমার সেরেস্তায় যাবে। ভালো দিন দেখে নজর দিয়ে এসো।

    নায়েবমশায়ের গা-ঢাকা দেওয়ার গল্পটাকে কাছারির আমলারা হেসে উড়িয়ে দেয়। উনি তো বিলমহলের তসীল কাছারিতে তখন। বছরে একবার করে তো যেতেই হয়।

    তবে নাকি ডেপুটির পাল্কির বেহারা বদলে গিয়েছিলো মাঝপথে? তার উত্তরে সদর আমিন বলে, তোমরাও যেমন! বেহারা বদলালে কি হয়? ডেপুটির চার বেহারার পাল্কি ধিকিধিকি করছে তখন। ওদিকে তখন অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। বিলমহলের পথও তো সুবিধার নয়। সেজন্যই নায়েবমশায়ের আট বেহারার পাল্কিটা এগিয়ে এসেছিলো। কী? এত মশাল কেন? এই পাল্কি কেন পথে? হুজুর, রাত হয়, আপনার কষ্ট, নায়েবমশায় আপনার জন্য পাঠালেন। ডেপুটি সঙ্গের সিপাহীদের সতর্ক হয়ে আসতে বলে সেই বড় পাল্কিটায় উঠেছিলো। বেহারাদের ভুল। নায়েবমশায় কালেক্টরকে আশা করেছিলেন। ডেপুটি জানলে কি আর নিজের পাল্কি পাঠান? তো, তোমার তেলেঙ্গি সিপাহী কি বিলমহলের জঙ্গলে পথ চিনবে হাতে মশাল থাকলেই? সেদিন গোলমাল ছিলো,নায়েবমশায়ের বরকন্দাজরা ভালো মশাল জ্বালাতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মশাল নিবে গিয়েছিলো। কাজেই ডেপুটির পাল্কি আর তেলেঙ্গিরা গেল একদিকে, অন্যপথেনায়েবমশায়ের পাল্কিতে ডেপুটি। অন্ধকারে এরকম আকছার হয়ই। নায়েবমশায় যে কালেক্টরকে আশা করেছিলেন তার প্রমাণ কাহাররা বেদম ধমক খেয়েছিলো। আরে ছোঃ, এ কী? কাকে এনেছো?

    সদর আমিন চিরকালই কথায় লোক হাসাতে পারে। ডেপুটি ছো শুনে একটু তেড়ে উঠেছিলো। তা বাপু তখনও সে ক্ষুঃ শোনেনি। তখন নায়েবমশায় গড়গড়ায় মুখ দিয়ে খানিকটা টানলেন। ক্ষুঃ করলেন। পরে বললেন, বুড়ো হয়েছি, বাপু, কথার দোষ নিও না। তুমি তো সেই ঘোষ ছোকরা? তা বলি কুলীন কায়েত? নাকি শ্রীকৃষ্ণের জাত?

    ডেপুটি তবু মাথা নাড়া দেয়। তখন নায়েব বলেছিলেন, ছোটো হলেও জাত বটে। তাহলে তোমাকেই জামাই আদরটা দিতে হয়। এটাই গল্পের উৎপত্তি। সত্যি কি আর নায়েবমশায় তাকে কুলীন কায়েতের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে কায়েত করতে চেয়েছিলেন, না, বিল মহলের খাসের তহসীল তাকে বিনা-নজরে পত্তনি দিতে চেয়েছিলেন?

    (বিল মহলের খাস তহশীলের আধখানা নিয়ে এক ঘোষ পত্তনিদার বংশে কিছুদিন। আগেও ছিলো বটে। তাছাড়া ও গল্পের, যা নায়েবমশায়ের কাশীলাভের পরে কিছুটা চালু হয়েছিল, যে ঘোষ ডেপুটিকে আটন ফুট লম্বা, দু হাত চওড়া, হাত দুয়েক গভীর কালো একটা অন্ধকার খাদ নায়েবমশায়ের সামনের মেঝে থেকে গালিচা সরিয়ে দেখানো হয়েছিলো, নতুবা সেই বা কায়েত-কন্যাকে কেন শেষ পর্যন্ত বিবাহে রাজী হবে? তার কোনো প্রমাণ নেই)।

    একটা ধাঁধা আছে যা কখনো কখনো, বেশ কিছুদিন ধরে, মনে হতো হরদয়ালের। দশ হাজার রানী ভিক্টোরিয়ার মোহরের থলিগুলো ধীরে ধীরে জোগাড় করতে হয় বটে। কিন্তু সে রকম কিছু কিছু থলি তোষাখানায় আছে তা সে-ই যখন জানতো, রানী কি জানতেন না? ফরাসডাঙার দখল নিতে ম্যাকফার্লানকে ডেকে আগেই থলিটা দিলে হতো। এতসব ঘটার কি দরকার ছিলো? ভরসা–এই ডেপুটি মনোহর সিং-এর বাড়ির ব্যাপারটাকেই তদন্তের বিষয় করেছে। ছেলেটি বুদ্ধিমান, তদন্তটা বিলমহলের দিকে গড়িয়ে দিয়েছে। মরেলগঞ্জ ও ফরাসডাঙার তদন্তের ভার তোকালেক্টরের নিজের হাতেই। গত মাসে ছোকরা একবার এসেছিলো, নায়েবমশায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তখনই জানা গিয়েছিলো গজার বাড়িতে মনোহরের নাবালিকা স্ত্রীকে পাওয়া গিয়েছে। নায়েবমশায় হরদয়ালকে এসব বলেছিলো। পরে নিজেই আবার বললো, গজার বিপদের কথা তাই রানীমার কানে আনা যাবে না। হরদয়াল বলেছিলো, একদিক দিয়ে ফুটে বেরোবেই, ভালো উকিল দিয়ে কিছু করা যায়?

    কিন্তু আসল কথা, কেন এসব? বুদ্ধিমতী রানীর এটা আর-এক হিসাবের ভুল? সেই দশ হাজার তো দিতেই হলো।

    .

    রাজচন্দ্র এ বিষয়টাকে আর ভাবে না। সেই রাতেই কালেক্টর জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেই সে বলেছিলো, আপনাদের দেশে কী হয় জানি না। আমাদের দেশে নায়েব, দেওয়ান যখন যা করে রাজার হুকুমেই করে। আমার কোনো কর্মচারী কিংবা প্রজাবর্গ কোনো কিছুর জন্য দায়ী হয় না। হরদয়াল, কালেক্টরকে ইংরেজি করে বুঝিয়ে দাও। ন্যায়, অন্যায়, ভালোমন্দর। দায়িত্ব রাজবাড়ির একমাত্র সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হিসাবে আমারই।

    তার মনে বাগচী সম্বন্ধে একটা আশঙ্কা ছিলো। বাগচীকে তো নিজের চোখেই সে কালেক্টরের গুলি খেয়ে ঘুরে পড়তে দেখেছিলো। কয়েকদিন পরে যে দাসী ঘরের কাজ করে সে খুব নিচু গলায় বলছিলো, হৈমীদিদি বলেছিলেন শিবঠাকুরের পুরোহিতকে, পুরোহিত আমাকে জানালেন, বাগচীমাস্টার ক্রমশ ভালো হচ্ছেন।

    তবে কিছুই আর ভাবার নেই। বাগচী কোথায় তা জেনেই-বা কী হবে? নিজের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধেও সে কি ভাবছে? দিনরাত্রি মিলে বর্তমান একটা যেন স্তব্ধ তড়াগ। অতীতকে ভেবেই-বা কী লাভ? একদিন সে ভাবতে গিয়ে হেসে ফেলেছিলো, অতীতকে আমরা মনে আনি ভবিষ্যতের জন্য। বর্তমানের জন্য আদৌ নয়।

    একদিন তার ভৃত্য বলেছিলো, হুজুর, রূপকাকা পুরোহিতকে জিজ্ঞাসা করেছিলো, আপনার সকালে বিকালে বেড়ানো হয় কিনা। তা আমি তেলেঙ্গি দুটোকে জিজ্ঞাসা করলাম। তারাও বললো, হুজুরকে তারাও বেড়াতে দেখেনি। মন্দির দিয়ে, মাঠ দিয়ে, নদীর ধার দিয়ে কতই তো বেড়ানোর জায়গা!

    রাজচন্দ্র একসময়ে তার সেই নতুন ঘোটকীর কথা মনে করেছিলো। ছুটতে পারে বটে। একবার ছুটিয়ে আনলে শরীর ঝরঝরে হয়ে যায় সারাদিনের মতো। একদিন হঠাৎ তার পিয়ানোর কথা মনে হয়েছিলো। খুবই সত্য যে পিয়ানোর ঘাটে হাত রাখলে মন ফাঁকা থাকে না।

    পিয়েত্রোর বাংলোর জানলা দিয়ে নদীর বাঁধানো পার চোখে পড়ে। সে জানে পারের পরেই শুকনো খাত, তার অনেক পরে জল। একদিন বাংলোর বারান্দার রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তার মনে হয়েছিলো আলোতে নদীর জল কাঁপছে, মৃদু ঢেউ তুলছে। এমন যে চোখে ধাঁধা লাগে, চোখে আর দেখতে পায় না। সে কিন্তু চোখের ভুল, সেখান থেকে নদীর জল চোখে পড়ে না।

    কিন্তু রাজবাড়ি থেকেই তো তার আহার ও পরিচ্ছদের উপকরণ আসে। একদিন সেখানে খবর গেলো, রাজকুমার ইদানীং অর্ধেকও খাচ্ছেন না। শরীর কি শুকিয়েছে? রাজবাড়িতে কথা হলো ঝিয়ের বদলে একজন রাঁধুনি পাঠালে হয়। নায়েবের পরামর্শ চাইলে

    জানা গেলো, এক আসবে এক যাবে, তাতে তেলেঙ্গিদের আপত্তি কী?

    দু-চারদিনে রাজচন্দ্র একবার খেয়াল করলো রান্নার স্বাদে পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এ রকম অদ্ভুত ব্যাপার হলো, যে স্বাদের কথা তুলো আর যে পাত্রটাকে ঠেলে দিয়ে উঠে গেলো তারা এক লোক নয়। সে যখন খেতে বসে সামনে ভৃত্য থাকে, ঝি তার পিছনে। গগাড়া থেকেই তাই ব্যবস্থা। সেও কথা বলে না, তাদের সাহস কী কথা বলে? প্রথম কয়েকদিন তবু ভৃত্য এসে বলতো খেতে দেব, হুজুর? খেতে দেওয়া হয়েছে। এখন সে-ই নিয়মমতো গিয়ে বসে খাওয়ার জায়গায়।

    একদিন এক মুহূর্তের জন্য অসাবধানতার ফলে রাঁধুনি ভৃত্যের আগে দাঁড়িয়েছিলো। রাজচন্দ্রর মনে হলো জাল জাল কম দামের শাড়ির পায়ের কাছে কিছু একটা চক চক করছে। সোনার মল? যে সোনার মল দেখলো, যে আহারের স্বাদ নিচ্ছে তারা যেন দুজন মানুষ।

    একদিন আবার রাজচন্দ্রর মনে হলো সময় যদি স্রোত হয় তবে তার দহও থাকতে পারে। স্রোতটা বয়ে যেতে থাকলে উপর থেকে কোথায় দহ বোঝা যায় না। কিন্তু স্রোতের গতি কমলে জলটা দহে জমতে থাকে। দহের পার ছাপিয়ে আর বহতা থাকে না।

    কয়েকদিন থেকেই নদীর দিকে চেয়ে থাকলে, বিশেষ দুপুর যখন শেষ হতে থাকে, ধুলো ওড়ে। বাঁধের উপরে ঝুঁকে থাকা আকাশে ধূসর রং দেখা যায় হালকা নীলের নিচে নিচে। ইতিমধ্যে একদিন বিকেলে আকাশে একরকমের অদ্ভুত সজে মেঘ দেখা দিয়েছিলো। হলুদ, সবুজ, ধোঁয়ার রং মিলে একটা থমথমে ভাব। হতেই পারে। জ্যৈষ্ঠ শেষ হতে চলে, কালবৈশাখী হয়নি একঘণ্টার জন্যও।

    সেদিন দুপুরের পরপরই হঠাৎ নদীর দিক থেকে কয়েকটা ধুলোর ঝাপটা এলো। কিছুক্ষণ বাদে সেদিকের আকাশে খানিকটা কালো মেঘ দেখা দিলো। সেই কালো মেঘের মধ্যে দিয়ে কয়েকটা পাখি উড়ে গেলো। খানিকটা বাদে যেন বাতাস একদম বন্ধ। একদল কাক তাড়াতাড়ি ডেকে উড়ে পালালো। মিনিট দশেক গেলো না বিকেলের আকাশে সন্ধ্যা নেমে গেলো যেন। এমন যে নদীর উপরের আকাশটা বিদ্যুতে চিরছে মনে হলো।

    রাঁধুনি আর ভৃত্য জানলা দিয়ে দেখছিলো। ভৃত্য বললো, আলো জ্বালাতে হবে।

    ভৃত্য ঘরে ঘরে আলো জ্বালতে চলে গেলো।

    রাঁধুনি দেখলো রাজকুমার বাংলোর বারান্দায় এলো। খানিকটা সময় সেখানে দাঁড়িয়ে রাজকুমার বারান্দা থেকে মাঠে নামলো। মাঠে থেকে থেকে একটা বাদামী রং পড়ছে, যেন উপর থেকে। রাজকুমার মাঠে ঘুরে ঘুরে অবশেষে মন্দিরের সেই উঁচু চত্বর, যা প্রকৃতপক্ষে ফরাসী পিয়েত্রোর হাওয়া ঘরের ভিত, তার উপর গিয়ে দাঁড়ালো। হাঁটতে হাঁটতে একেবারে চত্বরের কিনারে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। দূর থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু দাঁড়ানোর ভঙ্গি থেকে বোঝা যায় যেন কৌতুকে আর কৌতূহলে কিছু দেখছে।

    আর এক ঝাঁক পাখি খুব ব্যস্তসমস্ত হয়ে উড়ে গেল। মাঠের উপরের বাদামী রংটা ছাই-এর রং নিলো এবার।

    এই দ্যাখো, নিজের মনে মন্তব্য করলো রাঁধুনি, রাজকুমার চত্বর থেকে নেমে ডানদিকে চলেছে! ওটা কি হাতিশুড়ো যা নিচে থেকে বাঁধ ছাড়িয়ে উঠলো এবার? রাজকুমার কিন্তু সেটাকে আমল দিলো না। দাঁড়িয়ে পড়ে শূন্যে দুহাত তুলছে। এত দূর থেকে বোঝা যায় না কিন্তু আকাশে কি কিছু আছে, যার দিকে হাত তুলছে?

    রাঁধুনি বারান্দায় এলো। সে দেখলো ডানদিকে বাঁধের উপরে একটা অদ্ভুত চেহারার কালো মেঘের টুকরো। সেটাই যেন রাজকুমারের লক্ষ্যে। কালো আর সাদায় মিশিয়ে তৈরী সেই মেঘ। তার জন্যই যেন হাত দুটো আকাশের দিকে তোলা।

    এ তো ঝড়, এ তো ঝড়, এই বললো– রাঁধুনি। মাটির উপরে সর সর খর খর করে, দরজা-জানালার ঝাপটা শব্দ দিয়ে, বাতাসটা বারান্দাতে ধাক্কা মারলো। নদীর ধারে-কাছে বাতাসে বালি থাকবেই। নাকি সেই হাতিশুড়োটা ভেঙে পড়লো? গাছপালা নেই, এত শোঁ শোঁ শব্দ কিসের?

    কিন্তু এ কী কাণ্ড! রাজকুমারকে দেখা যায়, যায়ও না। দ্যাখো, ঝড় উঠে এসেছে, ঝড়। পাক খাচ্ছে। অন্ধকার হয়ে গেলো। রাজকুমার সেই মেঘের সঙ্গে সঙ্গে চলেছে মুখটা এখনো উঁচুদিকে। হঠাৎ ভয় হলো রাঁধুনির, যেভাবে চলেছেন বাঁধের ধার থেকে নিচে পড়ে যান যদি!

    রাঁধুনি বারান্দা থেকে নেমে নিজেকে বললো, দাঁড়ানো যায় না দেখি। কিছু যেন তীক্ষ্ণ আর্তনাদ করে উঠলো। সে কি ডাকবে রাজকুমারকে? এই শব্দে তা কি শোনা যাবে?

    দাঁড়ানোই যায় না। চাদর খুলে গিয়ে পতাকার মতো উড়ছে। তার প্রান্তটাকে গুটিয়ে আনাও কঠিন, তা করতে গেলে পায়ের পাতার ওপরের শাড়ি হাঁটুর কাছে উঠে পাক খাচ্ছে। কিন্তু রাজকুমার? পড়ে গেলেন নাকি?

    রাঁধুনি ডাকলো, রাজকুমার! ডাকটা এক হাত দূরে গেলো কিনা সন্দেহ। রাঁধুনি ছুটতে ছুটতে ডাকলো, রাজু! তার পায়ের মলের শব্দ দূরের কথা, তার ফোঁপানোর শব্দও শোনা গেল না।

    নয়নতারা ছুটতে-ছুটতে ঘাটের মাথায় এসে দেখলো, দেখাই কি যায় চোখ মেলে, নিচে যেন তোলপাড় চলেছে, যেন বাঁধের কোলে নদীর খাত একটা প্রকাণ্ড মন্থন-ভড়। ধুলোর বাতাস ঘূর্ণি তুলে পাক খাচ্ছে। সে কি নামতে পারে? রাজকুমার হাত ধরে ধরে নামিয়েছিলো তাকে এই ভাঙাঘাটে। চুল এলো হয়েছিলো, হাত তুলে চুল জড়ো করতে গিয়ে চাদরটা গা থেকে উড়ে সিঁড়িগুলোর পাশ দিয়ে নিচে পড়ে অদৃশ্য হলো। কিন্তু রাজকুমার? তাকে তো দেখাই যাচ্ছে না!নয়নতারা চিৎকার করে ডাকলো, রাজুজু! ডাকটা বাতাসের শব্দে ডুবে গেলো না শুধু, যেন তার চাপে ফিরে এসে তার মুখে জড়িয়ে গেলো কান্নার মতো হয়ে। ঘাটের ধাপ বেয়ে নামতে নামতে, সে তো হাতে পায়েই চলা, শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে গেলো নিজের পায়ে জড়িয়ে।

    শেষ ধাপটা সে লাফিয়ে নামলো। কিন্তু রাজকুমার কোথায়? লাফিয়ে নামতে গিয়ে সে হামা দিয়ে পড়েছিলো। এ কী, জলও যে এখানে! এ কি বাতাসের তাড়ায় নদীর জলের উপরে উঠে আসা? উঠতে গিয়ে কাঁধের শাড়ি কোমরে নেমে পৎ-পৎ শোঁ-শোঁ করে উড়ছে। তা সত্ত্বেও সেই শব্দকে–সব শব্দকে ডুবিয়ে নয়নতারা হাহাকার করে উঠলো, রাজু, আমার রাজু।

    ঝড়ের গতির বিরুদ্ধে, প্রবাদ আছে, এই গঙ্গার বুকে যখন সেই ঝড়, হাজার পাঁচ হাজার মুণি হলেও, পাল নামিয়ে না দিলে পাল ছিঁড়ে রসাতলে যায় নৌকো। মাস্তুলসমেত পাল উড়ে যায়। বাতাসের ঝাপটায় নৌকোকে চরে তুলে দেয়। ধুলোর ঝাপটায় আলোর চোখ অন্ধ করে। নয়নতারার পক্ষে শাড়ি ধরে রাখাই কি সম্ভব! শেষবার বালিয়াড়িটার মাথায় উঠতে গেলে তা কোমর থেকে নেমে একপাকে হাঁটুর কাছ জড়িয়ে ছিলো। কে আর দেখছে সেসব দিকে? সে তো বালির উপরে কপাল চাপড়ে, আমার রাজু বলে কঁদছে তখন।

    আর তখন আকাশ থেকে তেরচা ধারে জলও নামছে। পায়ের তলে তখন মাঝে মাঝে অগভীর জল। বালিয়াড়িটার, তার মাথাও তো তখন ঝড়ে অনেকটাই উড়ে গিয়েছে, ওপারের গোন গায়ে প্রায়ান্ধকার সেই আলোতে নয়নতারা একটা স্তূপের মতো কিছু পড়ে থাকতে দেখলো বটে। সে কি বিশ্বাস করবে? সে ভয়ে ভয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে শেষে আতঙ্কে কেঁদে উঠে দৌড়লো আবার।

    ঝড়ে কি শোনা যায়? এই একটু সুবিধা, নয়নতারা তখন দু হাতে জড়িয়ে রাজুর মুখকে নিজের বুকের উপরে তুলে নিতে পেরেছে। রাজুর কান তার ঠোঁটের কাছে। সে বললো–রাজু! রাজু!

    রাজুর মন তার শরীরে ফিরলো। সে একবার জিজ্ঞাসা করলো–কে? নয়ন? নয়নতারা? কিন্তু সে-মনটা যেন অন্য কারোও। যেন ঘুমের ঘোরে সে-মন।

    নয়নতারা বললো–বা, ওঠো। চলো, আমরা চলে যাই।

    রাজচন্দ্র হঠাৎ সম্বিত পেয়ে উঠে বসে বললো–আরে ছি ছি, নয়নতারা, এই ঝড়ে এভাবে বার হতে হয়?

    নয়নতারা চোখ মুদলো না, দু হাতের বাঁধন একটু আলগা করে দিলো, নিজের অজ্ঞাতসারে নিজেরই ঠোঁট দুটিকে রাজুর কপালে ছোঁয়ালো।

    দুএক পা চলে রাজচন্দ্র বললো–ওমা, এ কী?

    নয়নতারা বললো–ওভাবে তাকিয়ো না, দেখো না কোথায় খসে পড়েছে। ঠাট্টা কোরো না।

    রাজচন্দ্র হাসলো-চাইবো কেন? অনুভবে ধরা পড়ে।

    তখন বাতাস কমেছে। বাঁকা বৃষ্টির ফলায় শীত লাগিয়ে দিচ্ছে। নয়নতারার পা ঠিকমতো পড়তে চাইছেনা। রাজচন্দ্র বললো–একেবারে অন্ধকার না-হলে বাংলোয় ফিরবে কী করে?

    গাঢ় অন্ধকার হলে তারা বাংলায় ফিরে থাকবে।

    তখন রাত হয়েছে। বললো–আলোটা? থাকবে?

    শেজের আলোতে সে ঘরের চারিদিকে চাইলো, যেন ঘরটা তার পরিচিত হওয়াতেই ভালো লাগছেনা। বলে–চলে যাবো, চলো। এখানে আসা তো সেই ফরাসডাঙাতে ফেরাই।

    কিন্তু নয়নতারা শয্যায় এলো। বললো–বা, আমাকে বুঝি দেখবে না?

    শেজের আলোয় নয়নতারা ঝিকমিক করে হাসলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহিষকুড়ার উপকথা ও একটি খামারের গল্প – অমিয়ভূষণ মজুমদার
    Next Article গড় শ্রীখণ্ড – অমিয়ভূষণ মজুমদার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }